শালিক পাখির অভিমান পর্ব -০১

আজ বড় ভাইয়ের বৌভাত। বাড়িতে তুমুল হইচই। গান বাজনা বাজছে৷ আমি বসে আছি ঘরের এক কোণে৷ ঠিক বসে নেই৷ নিজেকে এক প্রকার চক্ষু আড়ালে রেখেছি৷ জন্মের পর থেকে শুনে আসছি আমি অপয়া। আমার মুখ দেখলে কোন শুভ কাজ হয় না৷ অপয়া কথাটা সকলের বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে ডিভোর্সের পর৷ যৌতুকের টাকা পরিশোধ করতে না শ্বশুর বাড়িতে উঠতে বসতে অপমান সহ্য করতে হতো৷ বাবার একের পর এক টাকা দেওয়ার তারিখ দিয়েছেন। বাড়ির পাশের জমি বিক্রি করে যৌতুকে কিছু টাকা দেন৷ শুধু যৌতুকে আমার শ্বশুর বাড়ির লোক সন্তুষ্ট ছিল না৷ ঘর সাজানোর সকল ফার্নিচার আমার বাবাকে দিতে হবে।দিতে রাজি না থাকায় আমাকে ডিভোর্স দেয়৷

মেয়ে পক্ষের লোকদের থেকে যথারীতি নিজেকে দূরে রেখেছি৷ মেয়ে পক্ষের লোক যদি জানতে পারে আমি তাদের বাড়ির একজন মেয়ে সারা জীবনের জন্য বাপের বাড়িতে খুঁটি গেড়ে বসে থাকব৷ বাড়িতে বেশি ননদ থাকলে মেয়ে বিয়ে দিতে চাননা৷ সকলের ধারণা ননদ বাড়িতে থাকলে নিজের মেয়ে শ্বশুর বাড়িতে শান্তিতে সংসার করতে পারবে না৷

চোখের কোণে জল ভারী হয়। নতুন বউ যখন জানতে পারবে তার ননদ বাড়িতে আছে৷ তখন কি বিয়ে ভেঙে দিবে? আমার ভাইকে রেখে চলে যাবে! বিয়ে ভাঙা ভালো লক্ষণ নয়৷ আমার মতো লোক সমাজে ভাইকেও শুনতে হবে অপয়া৷ অবাধ্য চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে৷ বুকের গহীনে চিনচিন ব্যথা করছে৷ মাকে বলেছিলাম আমি ছলনার আশ্রয় নিব না৷ নতুন বউ যখন আমার বিষয়ে জানতে পারবে তখন বাড়িতে অশান্তি হবে৷ মায়ের চোখ রাঙানো দেখে বাধ্য হয় নিজেকে আড়াল করতে৷

শীতের ঠান্ডা হাওয়া বইতে শুরু করছে৷ হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে৷ কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লাম৷ দাদি পাশে এসে বসলেন। আমার কাপাল ঠান্ডা হাত দিয়ে স্পর্শ করলেন৷ মুচকি হেঁসে বললেন,

“কি গো দিভাই! সবাই বাড়িতে কতো মজা করছে তুই ঘরে শুয়ে আছিস কেন?”

“দাদী আমি বাহিরে যাব না৷ আমার ভালো লাগছে না৷”

দাদী চোখের চশমা টেবিলের উপর রেখে আমার পাশে পুনরায় বসলেন৷ মলিন কন্ঠে বলল,

“শালিক আমার পা ভীষণ ব্যথা করছে৷ একটু তেল গরম করে পায়ে মালিশ করে দে৷”

“তোমাকে আর বাহিরে যেতে হবে না৷ তুমি শুয়ে থাকো৷ ভাইয়া নতুন বউ নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে চলে গেলে তোমার জন্য তেল গরম করে আনবো৷ এখন আমাকে একটু ঘুমাতে দাও৷”

বড় খালার ডাকে ঘুম ভাঙে৷ আঁখি মেলে তাকিয়ে দেখি তিনি পান চিবাচ্ছেন আর দাদীর সাথে কথা বলছেন৷ আমাকে দাদীর ঘরে দেখে কিছুটা অসন্তুষ্ট। তিনি বলেছেন আমি যেন উনার সামনে না যায়৷ স্কুল জীবন থেকে শুনে আসছি মায়ের বোন মাসী হয়৷ মায়ের থেকে মাসীর দরদ বেশি৷ আমার ক্ষেত্রে উল্টো। আমি খালার দু-চোখর বিষ৷ বড় খালা আমাকে সহ্যই করতে পারেন না৷ আমাকে দেখলেই তেলে বেগুলে জ্বলে উঠেন৷ বিছানা থেকে নেমে চপল খুঁজতেছি৷ বড় খালায় আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

“কিরে শালিক বিছানায় নিচে জামাই খুঁজিস৷ তোর মতো অপয়ার কপালে কোনদিন জামাই জুটবে না৷ আমার বোনের সংসারে বোঝা হয়ে আছিস কেন? কোথাও যেতে পারিস না৷”

আমি চপল পায়ে দিতে দিতে বললাম,

“খালা আমার কথা না ভাবলেও হবে৷ আমার বাবার আমাকে যেদিন ফেলে দিবে সেদিন দু’চোখ যেদিকে যাবে সেদিকেই চলে যাব৷ তার আগে আমাকে এসব কথা বলার তুমি কে?”

আমার কথা খালার হজম হলো না৷ তিনি রাগে চোখে আমার দিকে তাকালেন৷ চোখে ঘৃণা মুখে বিষ নিয়ে বললেন,

“দুই পাতা পড়া জানিস বলে মুখের উপর কথা বলতে শিখে গেছিস৷ আমি আগেই বলেছিলাম মেয়ে মানুষকে না পড়াতে৷ আমার কোন কথাই শুনতে চাইনা৷ বইয়ের দুই পাতা পড়ে অসভ্যতা শিখেছে৷”

দাদী অসহায় দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। খালার কথার কোন প্রতিবাদ করলেন না৷ দাদী অসহায় কন্ঠে বলল,

“শালিক তুই বাহিরে যা৷ খাইছিস কিছু? খাস নাই, না৷ তোর চোখ মুখ দেখে শুকনা লাগছে৷ বিয়ে বাড়িতে সবাই যে যার মতো উদর ভরছে৷ তোর পেটে একটা দানাও পড়েনি৷”

আমি মুখ কালো করে বললাম,

“সকালে তোমারই সাথেই তো খেয়েছি৷ আমার ক্ষুধা নেই৷ ক্ষুধা লাগলে পড়ে খেয়ে নিব৷ তোমার ক্ষুধা লাগছে। কাউকে ডাক দিয়ে খাবার দিতে বলি৷”

খালা গম্ভীর কন্ঠে বলল,

“পোড়া কপালীর ভাত বিয়ে বাড়িতেও জুটে না৷ আমি ওদিকে যায় অনেক কাজ পড়ে আছে৷ নবাবজাদি একটা কাজের হাত লাগাবে না৷ হাত লাগাবে কিভাবে সুন্দর চেহারা নষ্ট হয়ে যাবে না?”

বড় খালার কথা বিষের তীরের মতো লাগল৷ তিনি সব সময় আমাকে এমন কথা বলেন৷ আমার প্রতি সবার রাগের মুল কারণ আমি কালো৷ লোক সমাজের শুনে আসছি আমি শালিক পাখির মতোই কালো৷ সেজন্য আমার নাম রেখেছে শালিক। মা বাবা দু’জনেই ফর্সা। ফর্সা মায়ের গর্ভ থেকে কালো মেয়ের জন্ম; মানে অপয়া হয়ে জন্ম নেওয়া৷ বিজ্ঞান বইয়ে পড়েছি মানুষের গায়ের রং জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাহলে কেন আমাকে অপয়া বলে? খালা ঘর থেকে বের হতেই পিসি খাবার নিয়ে ঘরে আসেন৷ একমাত্র পিসিই আমাকে মন থেকে ভালোবাসেন৷ ভাইজি বলে দূরে ঠেলে দেননি৷ অন্য কেউ হলে দূরে ঠেলে দিত৷ খাবার টেবিলে রাখতে রাখতে বলল,

“আর কতো লুকিয়ে থাকবি৷ এবার ঘর থেকে বের হু৷”

“না পিসি। আমি বাহিরে যেতে পারব না৷ মেয়ে পক্ষের লোক আমাকে দেখে ফেললে সমস্যা হবে৷ আমার ভাইকে কথা শুনাবে৷”

আমার মাথায় হাত রেখে অবাধ্য চুলগুলো কানের কাছে গুছে দিলেন৷ স্নেহময় ভালোবাসার কন্ঠে বললেন,

“ওরা চলে গেছে৷ তোর ভাই আর নতুন বউকে নিয়ে তার বাপের বাড়ির লোকেরা চলে গেছে৷ ভয়ের কিছু নেই৷”

চোখ বন্ধ করে জোরে একটা নিঃশ্বাস নিলাম৷ বহু বছর পর যেন প্রাণ খুলে শ্বাস নিলাম৷ মাথার উপর থেকে অনেক বড় বোঝা নেমে গেছে৷ পিসি মুচকি হেঁসে বললেন,

“তোর ভাবীর মুখ দেখেছিস৷ তোর ভাবী অনেক সুন্দর দেখতে৷ কিন্তু আমার ভাইজির থেকে সুন্দর নয়৷”

আমি মাথা নিচু করে মিহি কন্ঠে বলল,

“সুযোগ হয়নি৷”

বুকের কোণে সূক্ষ্ম এক ব্যথা অনুভব হলো। নিজের ভাইয়ের বউকে দেখার সুযোগ হলো না৷ মহল্লার সকলে দেখতে পেল আমি দেখতে পেলাম না৷ টিনের ঘরের কাঠের জানাল খুলে দিলাম। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে৷ একটু পরেই অন্ধকার ছেঁয়ে যাবে ধরবীর বুকে৷ আমি রুমের লাইট জ্বালালাম। সারাদিন কিছু খাওয়া হয়নি৷ পেটে অনেক ক্ষুধা৷ কিছুই খেতে ইচ্ছা করছে না৷ দাদী খেতে শুরু করছে৷ দাদী খাবার খেতে খেতে বলল,

“ওই মাইয়া! এক গ্লাস পানি দে৷ তুই খাবার খেয়ে নে৷ সারাদিন থেকে কিছু খাসনি৷”

দাদীকে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিলাম৷ না চাওয়া সত্ত্বেও অল্প পরিমাণ খাবার খেয়ে নিলাম৷ খাবার উদরে যাচ্ছেই না৷ মুখের মাঝে ধলা পাকিয়ে আসছে৷

——‘ বাডিতে আজ সবাই আছে৷ অর্ধ চাঁদের আলোতে সবাই বসে গল্প করছে৷ আমিও সেখানে উপস্থিত হলাম৷ পিসি আমার হাত ধরে উনার পাশে বসালেন৷ বড় খালার এই আছে,সেই আছে, তার বউমা লক্ষী, এতো টাকা যৌতুক নিছে৷ পিসি সবার উদ্দেশ্য বলে উঠল,

“আমার শুধু একটা মেয়ে৷ তার বিয়ে হয়ে গেছে৷ ঢাকায় থাকে৷ শ্বশুর তাকে কলেজে ভর্তি করিয়ে দিছে৷ নভেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা দিবে৷ আমার বড় ছেলে থাকলে শালিককে আমার বাড়ির বউ করে নিতাম৷”

লজ্জামাখা দৃষ্টিতে তাকালাম পিসির দিকে৷ পিসি আমার হাত শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছেন৷ ছেড়ে দিলেই কোথাও যেন হারিয়ে যাব৷ পিসির ভালোবাসা দেখে চোখ থেকে দুই ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল।
পিসির কথা শুনে বড় খালার ঘা পিত্তি জ্বলে উঠে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আমার দিকে নিক্ষেপ করে বললেন,

“সাদমান আমি তোমার ছোট মেয়ে শাকিলাকে আমার ছোট ছেলের বউ বানাতে চাই৷ তোমার ছোট মেয়ে রুপে অপ্সরা গুনে লক্ষী৷”

বাবা মুচকি হেঁসে বললেন,

“দেখেন আফা আমার ছোট মেয়ের বয়স বয়স কম৷ আমি এতো তাড়াতাড়ি তার বিয়ে দিতে চাইনা৷সে সংসারের কি বুঝবে?শাকিলাকে এখন বিয়ে দিলে শালিককে আবার বিয়ে দিতে কষ্ট হয়ে পড়বে৷ সবাই বলবে বড় মেয়ের বিয়ে না দিয়েই ছোট মেয়ের বিয়ে দিয়ে ফেলছে৷”

“আমার তো দশ এগারো বছরে বিয়ে হয়েছে৷ শালিককে তো বিয়ে দিলে কিছুই হলো না৷ যৌতুক নেওয়ার পর তাকে তালাক দিছে৷ এমন কালো মেয়ে না থাকায় ভালো ছিল৷ আমি তোমার কোন কথা শুনতে চাইনা। আমি শাকিলাকে আমার বাড়ির বউ বানাতে চাই৷”

বাবা বড় খালার মতামতে সায় দিলেন৷ খালার ছোট ছেলে সাদাফ ভাইয়া ঢাকা কোম্পানিতে চাকরি করেন৷ সাদাফ ভাইয়াও শাকিলাকে পছন্দ করেন। শাকিলাও সাদাফ ভাইয়াকে পছন্দ করেন৷ সাদাফ ভাইয়া বাড়িতে আসলেই আমাদের এখানে আসেন৷ সারাদিন শাকিলার সাথে কথা বলেন৷ আমাকে একটুও দেখতে পারেন না৷ আমার নেত্র নোনা জলে ভরপুর করছে৷ আঁখি বন্ধ করলেই জল টুপ করে গড়িয়ে পড়বে৷ তাদের বাকি কথাগুলো শোনার ইচ্ছা হলো না৷ রুমে চলে আসলাম৷ শাকিলা ফোনে সাদাফ ভাইয়ার সাথে কথা বলছে৷ আমি আসতেই সতর্ক হয়ে গেল৷ বুঝতে পেরে বললাম,

“লুকিয়ে কথা বলতে হবে না। তোর বিয়ে সাদাফ ভাইয়ার সাথেই ঠিক হয়ে গেছে।”

শাকিলা আমার কথা শুনে আমাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে। খিলখিল হেঁসে বলল,

“সত্যি আপু৷ আমার বিয়ে সাদাফ ভাইয়ার সাথে হবে৷”

জানালার কপাট খুলে অর্ধ চাঁদের দিকে তাকালাম৷ মলিন আহত কন্ঠে বললাম,

“হুম৷ বড় খালা নিজ থেকে তোর বিয়ের কথা বলছে৷”

ফোনের অপর পাশ থেকে আমাদের কথোপকথন শুনে যাচ্চে সাদাফ ভাইয়া৷ শাকিলা ফোন কানে গুছে বলল,

“তোমার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে৷”

তাদের প্রেম আলাপ একদম শুনতে ইচ্ছা করছে না৷ মাথা ব্যথা করছে
ভীষণ। বাড়ির বড় মেয়ের কোন কদর নেই৷ কালো বলে আজ মানুষ নয়৷ আমার থেকেও তো অনেক কালো আছে৷ আমাদের গ্রামে অনেক ছেলেই তো কালো৷ কই তাদের নিয়ে কেউ তো কথা বলে না? বিছানার এপাশ ওপাশ করছি চোখে ঘুম নেই৷ দিনের বেলা দাদির ঘরে ঘুমিয়েছি৷ কখন চোখ লেগে আসছে জানি না৷ ফজরের আজান কানে আসতেই ঘুম ভেঙে গেল৷ সালাত আদায় করে উঠান বাড়ি ঝাড় দিলাম৷ গুটি গুটি পায়ে পুকুর তলায় বসে আছি৷ বড় খালা হাক পেয়ে বাড়িতে আসলাম৷ বড় সবার সামনে বলল,

” সাদাফ কাল রাতে বাড়িতে আসছে৷ সাদাফ আর শাকিলার বিয়ে সামনে শুক্রবারে।”

সকলের মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠল৷ সকাল বেলা মিষ্টি মধুর খবর শুনে মনটা ভালো হয়ে গেল৷ বাড়িতে আবারও বিয়ে৷ আবার গান বাজনা বাজবে৷ হইচই হবে৷ বড় খালার আমার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই আমার হাসতে ভুলে গেলাম৷ গম্ভীর গলায় বলল,

“আমি কোন যৌতুক নিব না৷ সবাই তো আর অমাবস্যা নয়৷ ত…বে আমার একটা শর্ত আছে?”

বড় খালার শর্তের কথা শুনে মা বাবার মুখটা কেমন যেন বিষিয়ে গেল৷ বাবা মলিন কন্ঠে বলল,

“আপনি কি চান? আমাদের দেওয়ার মতো তেমন কিছু নেই৷”

“সাদাফের বিয়ের আগ পর্যন্ত শালিক অন্য কোথাও থাকবে৷ আমি তাকে এ বাড়িতে দেখতে পারব না৷ শালিক বিয়ের আগে বাড়িতে থাকলে এ বিয়ে হবে না৷”

বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি উত্তরের আশায়৷ ভাইয়া বাড়িতে থাকলে আমার সাথে এমন অন্যায় হতে দিত না৷ ভাইয়া আমাকে খুব ভালোবাসে৷ শাকিলা কিছু বলতে নিলেই বড় খালার শাকিলার হাত ধরে বলতে মানা করে৷ শাকিলার সাথে নতুন জামা নিয়ে কতো মা*রা*মা*রি করেছি। তাকে ছাড়া আমার একদম ভালো লাগে না৷ আমার একমাত্র খেলার সাথী সে। শাকিলার দিকে তাকিয়ে দেখলাম তার চোখ ছলছল করছে৷
সবার সামনে বাবা এমন কথা কিভাবে বলল?

চলবে….

#শালিক_পাখির_অভিমান
#সূচনা_পর্ব
#অধির_রায়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here