ষোড়শীর প্রেমের মায়ায় পর্ব -১৯

#ষোড়শীর প্রেমের মায়ায়!
#লেখিকাঃতামান্না
#পর্ব_উনিশ
[#চা বাগান]

–” আমার বউ কই?”

–” হুহ! বরের একদম সইছে না। তোর বউ ঘুমায় রে পাগলা! কেন এসেছিস কিছু বলবি?”

শ্রাবণ মাথা চুলকে, লাজুক হেসে বলল-
–” কিছু না, এমনি। কোন সমস‍্যা হলে বলিস!”

–” তোকে বলতে হবে কেন? হোটেল সার্ভিসম‍্যানরা আছে না।”

–” বেশি কথা বলিস না, যা ঘুম দে। আর দরজা ভালো করে লক করে ঘুমিয়ে নিস।”

–” আচ্ছা,”
_____________________________

ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছে স্নিগ্ধার, পরপর দুবার মোবাইলে রিং হতেই মোবাইল তুলে নিয়ে দেখল শ্রাবণের ফোন তাও মহিমার ফোনে। মহিমাকে জাগিয়ে ফোন ধরিয়ে দিল সে।
ঘুম জড়ানো কন্ঠে মহিমা ফোন ধরতেই অপাশ থেকে শ্রাবণ বলল–

–” কিরে, এখন ও ঘুমিয়ে আছিস? আহ তোর মত বউ যার কপালে থাকবে তার কপাল খুব খারাপ। আনরোমান্টিক বউ হবি তুই, ও শালার কপাল পুড়ে কয়লা হয়ে যাবে।”

–” চুপ কর শ্রাবইন‍্যা! ঘুম ভাঙ্গিয়ে ডায়লোগ দিচ্ছিস।”

–” তাড়াতাড়ি নিচে আয় স্নিগ্ধাকে নিয়ে।”

–” কেন?”

–” এত প্রশ্ন করিস না। কিসের জন‍্য তোদের এনেছি ভুলে গিয়েছিস? তাড়াতাড়ি দুজনে মিলে নিচে আসবি। আমি তাশদীদ নিচে আছি।

মহিমা আর স্নিগ্ধা রেডি হয়ে নিচে নেমে গেল। শ্রাবণ আর তাশদীদ দুজন বাইরে দাড়িয়ে কথা বলছে।
শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে বলল

–” তুই তোরটারে নিয়ে ঐদিকে দাড়াবি, আমি আমার টারে নিয়ে ঘুরে আসবো। কেউ যদি আসে তাহলে ফোন করে জানিয়ে দিবি।”

স্নিগ্ধা আর মহিমা সামনে আসতেই শ্রাবণ স্নিগ্ধার হাত ধরল। স্নিগ্ধা মহিমার দিকে তাকালো আড়চোখে একবার তাশদীদের দিকে তাকালো। স্নিগ্ধার কেমন লজ্জা করে উঠলো। স্নিগ্ধা শ্রাবণের হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইলে শ্রাবণ বলল

–“কি সমস‍্যা?”

–” এমন করছেন কেন? দেখেছেন আপু আর ভাইয়া চেয়ে আছে। কি ভাববে দুজনে?”

–” ওদের ভাবা-ভাবি দিয়া আমি কি করমু? আমার বউয়ের হাত আমি ধরছি, তুই এত চিন্তা করিস না।হাট আমার সাথে।”

–” আরে ওনারা তো জানে আমরা কাজিন!”

–” কে বলেছে তোকে? ওদেরকে আমি জানিয়েছি আমরা বিবাহিত শুধু অন‍্যরা জানেনা। উৎপল, মহিমা, তাশদীদ ওরা সব জানে।”

–” ও, আপনারা সব জানেন আর আমাকে জানাননি।”

–” সব তোকে জানাতে হবে? চল বলেই স্নিগ্ধার হাত ধরে পাশের একটা চা বাগানে হাটতে লাগল তারা। শ্রাবণ স্নিগ্ধার হাত ধরে হাটতে হাটতে এসে পরল চা বাগানের ভিতর।

স্নিগ্ধা পাহাড়ের টিলায় চড়ে উঠছে শ্রাবণের হাত ধরে। নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে ঘেরা চায়ের বাগান।
স্নিগ্ধার হাত ধরে শ্রাবণ বলল-

” তুমি বাগানের ধোয়া উঠা
কচি পাতার চায়ের মত!
তোমার গন্ধে আমার রন্ধ্রে
আর শিরদাড়াঁয় শীতলতা বয়ে যায়!
তুমি শ্রাবণের স্নিগ্ধ সন্ধ‍্যার মত,
এক কাপ সুবাসিত চা!”

-[তামান্না]

স্নিগ্ধা শ্রাবণের দিকে অবাক হয়ে চেয়ে আছে, স্নিগ্ধার দিকে চেয়ে আছে শ্রাবণ মুচকি মুচকি হাসি তার মুখে।
স্নিগ্ধার মুখ পুরো হা হয়ে গেছে। শ্রাবণ স্নিগ্ধার সামনে তুড়ি মেরে বলল –

–” তা মিসেস স্নিগ্ধা কোথায় হারিয়ে গেলেন আপনি?”

–” আমি ভাবছি এই কবিতাটা কার?”

–” যার কবিতাই হোক, এমন মুহূর্তে এমন একটা কবিতায় তুই আমি দুজনই আছি সেই কবিতাই তো স্মরণ করবো বল!”

–” উমম, এত এত রোমান্টিক যে আজ। “স্নিগ্ধা অন‍্যদিকে ফিরে কথাটা বলল।

–” রোমান্টিকতা কে দেখিস না, উপভোগ কর এই মুহূর্তটাকে। চল আয় আমার সাথে, দুজনে হাটতে হাটতে বাগানে মধ‍্যে এসে দাড়ালো শ্রাবণের হাতে রাখা স্নিগ্ধার হাতটাকে আরও জোড়ে আকড় ধরে বলল –

–” ভালোবাসার মানুষটাকে সবচেয়ে অনুভব করা যায় কখন জানিস?
নিরব নির্জন জায়গায় যখন তুই কোন গভীর জঙ্গলে হারিয়ে গেলি তখন বারবির সেই স্মৃতিগুলো মনে পরবে।
স্নিগ্ধার চোখে হাত দিয়ে বলল –

–” এখন চোখটাকে চুপচাপ বন্ধ কর, অনুভব কর আমি তোর সামনে বা এই চোখ দুটোও ধরিনি একদম একা তুই এই টিলায়!
ভাবতে থাক এতটা বছরের কোন মুহুর্তটা তোর জীবনের শ্রেষ্ট?কোন মানুষটার মুখ বারবার তোর সামনে আসে?

স্নিগ্ধা কিছুটা চোখ বন্ধ করলে ও পরবর্তী সময় পারলো না। তার কিছুই মনে পরছে না তেমন বিশেষ মুহূর্ত!
শ্রাবণের সঙ্গে কাটানো কিছু মুহূর্ত, মামির সঙ্গে বা তার নানা- নানীর সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত। শ্রাবণের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত গুলো খুব দুষ্টু মিষ্টি ছিল হেসেদিল স্নিগ্ধা।
শ্রাবণ হাসি দেখে চোখ থেকে হাত সরাতেই স্নিগ্ধা শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল

–” আপনি ও না, কোথায় তেমন কিছুই তো দেখলাম না!”

–” সত‍্যিই কি দেখিসনি?”
স্নিগ্ধা পাশে থাকা একটা জঙ্গলি ফুল শ্রাবণের কানে গুজে দিয়ে। ফুল নিয়ে শ্রাবণের সামনে নেড়েচেড়ে বলল

–” না দেখিনি তো, এমন কোন সুন্দর মুহূর্ত তো পাইনি।”

–” পাসনি?”

–” না,”

–” তুই এখন আমার সামনে থেকে যা!”
শ্রাবণের মাথা খারাপ হয়েগেছে, কি সুন্দর একটা পরিবেশ এই সময়টা সে খুব আশা করেছিল স্নিগ্ধার মনে যদি তার জন‍্য কোন অনুভূতি থাকে তা হয়তো সে বের করতে পারবে কিন্তু স্নিগ্ধার মনের জায়গাই তো সে পায়নি।
স্নিগ্ধা শ্রাবণের গাল দুটো টেনে বলল

–” এখন আপনাকে কেমন লাগছে জানেন?
জঙ্গলি ফুলবানু! থুক্কু জঙ্গলি ফুলবাবু!”
পাহাড়ের ছোট ছোট টিলার ভাজে
চা বাগানের মধ‍্যে গহীন অরণ‍্য
হতে একটা জঙ্গলি ভুলক্রমে পথ হারিয়ে লোকালয় এসে পরেছে। কানে তার জঙ্গলি ফুল!”

–” তবে রে!” বলেই শ্রাবণ স্নিগ্ধার পিছনে ছুট লাগালো।
স্নিগ্ধা দৌড়ে দৌড়ে একদম নিচে নেমে যাচ্ছে।
শ্রাবণ দৌড়ের গতি কিছুটা কমিয়েছে। কারন স্নিগ্ধা তার সাথে পারবে না। ছুট লাগাতে গিয়ে আঘাত পেয়ে শেষে আরেক বিপদে পরতে হবে।

কিছুটা দৌড়ে শ্রাবণ স্নিগ্ধার হাত ধরে বলল –

–” আর দৌড়াতে হবে না,” দুজনে কিছুটা পথ হেটে সামনে এগুতেই দেখল একটা ছোট্ট চায়ের দোকান।
এমন চায়ের বাগানে ঘেরা পথে ছোট্ট টঙ্গের দোকানটা দেখে শ্রাবণের খুব হলো সকালে ধোয়া উঠা চা টা সে এখানেই পান করবে।

দু কাপ চা অর্ডার করে এক চা স্নিগ্ধাকে দিয়ে আরেক কাপ চা সে নিয়েনিল। স্নিগ্ধা একটু চা টাকে খুব মজা করেই খেলো। না আজ আর তার খুব একটা খারাপ লাগল না অথচ অন‍্যসময় সে বাইরের দুধ চা টা তেমন খেতে পারতো না। একদম লালরঙ্গা লেবু চা তার পছন্দের তালিকায় চা হিসেবে। সকালটা দুজনে মিলে রওনা দিল রিসোর্টে। রিসোর্টের কাছাকাছি এসে দেখল তাশদীদ আর মহিমা দুজনই দুই প্রান্তে দাড়িয়ে আছে।
স্নিগ্ধা আর শ্রাবণ সামনে যেতেই দুজন দুদিক থেকে কাছাকাছি এসে দাড়ালো। স্নিগ্ধা বা শ্রাবণ কারোরই বোধগম্য নয় দুজনের মধ‍্যে কি হয়েছে। খুব তো দুজন কথা বলছিল নিজেদের মধ‍্যে।
রিসোর্টের ভিতর যাওয়ার পরই দেখল স্বর্ণা রিসেপশন থেকে দৌড়ে আসছে।
শ্রাবণের সামনে এসে দাড়িয়ে বলল –

—” শ্রাবণ কোথায় গিয়েছিলে তুমি?আমি তোমাকে কোথায় না খুজেছি!”

–” এমনি বাইরে গিয়েছিলাম।”

–” বাইরে গিয়েছিলে আমায় নিলে না কেন?”

–” স্বর্ণা তোমাকে কি করে নিয়ে যাই বলো তো? স্নিগ্ধার মন খারাপ ছিল, কাজিন হিসেবে আমার দায়িত্ব ওর মন ভালো করা।”

–” সঙ্গে ওরা ও গিয়েছে?”

–” হ‍্যা,”

–” ওরা ও গিয়েছে সঙ্গে তুমি, তোমরা সবাই মিলে বাইরে গেলে আমাকে নিলে না সঙ্গে! কি সমস‍্যা হতো শ্রাবণ আমাকে নিলে? সব সময় তুমি আমাকে অবহেলা করো। ”

শ্রাবণ মনেমনে বলছে প্রথম থেকেই তুমি আমার জীবনে এমনি প্রবেশ করেছো। অবহেলা করার মত বা তোমাকে প্রায়োরিটি দেওয়ার কোন ইচ্ছাই ছিল না আমার।
তুমিই শরীরে আঘাত করে অসুস্থ হয়ে আমার কাছে ভালোবাসার দাবি নিয়ে এসেছিলে। এসব ভাবতে ভাবতে শ্রাবণ জবাব দিল –

–” এরপর ঘুরতে গেলে নিয়ে যাবো তোমাকে।”

–“প্রমিস?”.

–” প্রমিস!”

আয়মান স্নিগ্ধার সামনে দাড়িয়ে বলল –

–” হাই কিউটি!”

–” হাই!

–” সকাল সকাল মানুষ হেসে দিন শুরু করে আর তুমি কিনা সকালটা মন খারাপ দিয়ে শুরু করলে।”

–” মন যা ভালোছিল তা আপনাকে দেখে খারাপ হয়েগেছে।

চলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here