সমাপ্তিতে তুমি পর্ব -০৩

#সমাপ্তিতে_তুমি
পর্ব-০৩
#খেয়া

চোখ খুলেই নিজের সামনে আবিষ্কার করলাম রুদ্ধ স্যারকে।তার সাথে একজন মহিলাও আছে।হয়ত তার ওয়াইফ হবে।আমি নিজে থেকেই উঠার চেষ্টা করতেই মহিলাটি আমাকে ধরে বসিয়ে দিলেন।মহিলাটি রুদ্ধ স্যারের দিকে তাকিয়ে বললেন

—- এসব কী রুদ্ধ। রাত এখানে কীভাবে।ওতো ৪বছর আগেই,,,

মহিলাটি আর কিছু বলার আগেই রুদ্ধ স্যার তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল

—- ও রাত না।ও তানহা,আমার স্টুডেন্ট।

আমি প্রচন্ড অবাক হলাম উনি আমাকে রাত বললেন কেন?আমি রুদ্ধ স্যারকে জিঙ্গেস করলাম

—- আমি এখানে কী করে এলাম স্যার।

—- সেটা তোমার না জানলেও চলবে।আগে বলো তুমি আমার বাসার ঠিকানা কেন খুঁজছিলে।কী দরকার ছিল তোমার আমার সাথে।

—- আপনি কাল আমাদের বাড়ি কেন গিয়েছিলেন স্যার।

—-ওটা তোমার বাড়ি ছিল না।তোমার বাড়ি অন্য কোথাও।

—- মানে, আমি ওখানে থাকি আর আপনি বলছেন ওটা আমার বাড়ি না,আমার বাড়ি অন্যকোথাও।আমার অন্য একটা বাড়ি আছে আর সেটা আমি জানিনা।

—- তোমার এখনো নিজের ব্যাপারে অনেক কিছু জানার বাকি আছে।শুধু খুব অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখো।

রুদ্ধ স্যারের কথাটা কর্ণপাত হতেই মাথাটা ঘুরে উঠল আমার।এটা কী বলে গেলেন রুদ্ধ স্যার।উনি কোন ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকতে বললেন।এত রহস্য কেন এই মানুষটার মাঝে।আর তার সাথে আমারই সম্পর্ক কী?

” এত কী ভাবছ চিন্তামণি। ”
পাশের মেয়েটির কথা শুনে তার দিকে ঘুরে তাকালাম আর বললাম

—-আপনি?

—- আমি নিহা।দুনিয়ার সামনে রুদ্ধ ওয়াইফ কিন্তু আসলে,,,,,
আচ্ছা বাদ দাও। তুমি ফ্রেশ হয়ে এসো। আমি তোমাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসবো।

—-আচ্ছা।

আমি এবার সত্যি পাগল হয়ে যাবো।রুদ্ধ স্যারের ওয়াইফ এটা কেন বলল যে উনি দুনিয়ার সামনো স্যারের ওয়াইফ কিন্তু আসলে কী?তবে কী রুদ্ধ স্যার বিবাহিত নন।না তা কীভাবে হয়।এত রহস্য কেন এই লোকগুলোর মাঝে।আর এই রাতটাই কে?

—-নিজের ছোট মাথায় এতচাপ দিয়ো না।মাথা ফেটে যাবে।

—-হুম।

——————

বাসায় এসেছি অনেকক্ষণ।রুদ্ধ স্যারের ওয়াইফ আমাকে বাসায় রেখে গেছে।কোনোভাবে মামনি -বাবাইকে ম্যানেজ করলেও আরহাকে ম্যানেজ করতে পারিনি।তবে রুদ্ধ স্যারের ওয়াইফ যখন আমাকে রাখতে এসেছিল তখন তাকে দেখে মামনি-বাবাই বেশ অবাক হয়েছিল।তারা স্বীকার না করলেও আমি ঠিক বুঝেছি যে তারা একে অপরকে আগে থেকেই চিনে কিন্তু কীভাবে?

—-এই তানহা,এত কী ভাবছিস বলতো।

—- আচ্ছা আরহা তুই কী জানিস মামনি বা বাবাই রুদ্ধ স্যার বা তার ওয়াইফকে আগে থেকে চিনে কি না?

—-সেটা তো আমি জানিনা বাট তুই একটা কথা বলতো তুই রুদ্ধ স্যারের ওয়াইফকে কোথায় পেলি।সত্যি করে বল।

—-রুদ্ধ স্যার কেন কাল এবাড়িতে এসেছিল সেটাই জানতে আমি উনার বাড়িতে যাচ্ছিলাম আর তখনই রাস্তায় ছোট একটা এক্সিডেন্ট হয়ে যায়।

—-ওহ।আচ্ছা তুই রেস্টনে আমি আসছি।

—- আচ্ছা।

আরহা চলে গেলে আমিও ঘুমিয়ে পড়ি আমার একটু রেস্ট সত্যি দরকার

———————

আমাকে বাঁচাও রুদ্ধ ভাইয়া।প্লিজ আমাকে বাঁচাও। ওরা আমাকে মেরে ফোলবে।

তোর কিছু হবেনা রাত।আমি তোর কিছু হতে দিবোনা।একটু অপেক্ষা কর।আমি আসছি।

” আচমকা ঘুমটা ভেঙো গেলো।আজ আবার এমন একটা স্বপ্ন দেখলাম। তবে আমার কেন জানি এবার মনে হচ্ছে যে এটা শুধুই একটা স্বপ্ন নয়,আমার সাথে সত্যি কখনো এমন হয়েছিল। কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব।”
তবে কী রাত আর আমার মাঝে এমন কিছু আছে যা আমার অজানা।

উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।এখন আর ঘুম ধরবেনা।

নিচে গিয়ে আরহার সাথে কিছুক্ষণ গল্প করে আবার রুমে চলে এলাম।

,,,

সকালবেলা রেডি হয়ে আরহাকে নিয়ে ভার্সিটির জন্য বেরিয়ে গেলাম।কালকের ব্যাপারটা নিয়ে মামনি হয়ত রেগে আছে আমার ওপর। তবুও মামনির সাথে বেশি কথা বললাম না।জানি মামনির রাগ এমনি কমে যাবে।

আজ হাতে অনেক টাইম থাকায় আমি আর আরহা হেঁটে হেঁটেই যাচ্ছিলাম।কিছুদূর যেতেই রুদ্ধ স্যারের ওয়াইফকে দেখলাম একটা লোকের সাথে। আরহা আমাকে বলল

—– এই তানহা, ওটা রুদ্ধ,,,,,

—- আরহা প্লিজ, আমি জানি তুই কী বলবি। কিন্তু প্লিজ এটা উনাদের পার্সোনাল বিষয়।আমাদের এটা নিয়ে কথা বলা উচিত না।

—- আচ্ছা।শোন না তানহা,আমি আজ ছুটির পর রাহাতের সাথে দেখা করতে যাবো তুই একটু বাসায় ম্যানেজ করে নিস প্লিজ।

—- আচ্ছা।

আজ ভার্সিটির ক্লাসগুলা ভালোই কাটলোৃআজ রুদ্ধ স্যারের ক্লাস ছিল না।লাস্টের ক্লাসটাও আজ হবে না।

তাই একটু আগেই ভার্সিটির থেকে বেরিয়ে এলাম।আরহাও চলে গেছে।আজ রিক্সা পায়নি বলে হেঁটেই এগোচ্ছিলাম। কিছুদূর গিয়েই দেখি একজন বয়স্ক মহিলা অঙ্গান হয়ে রাস্তায় পড়ে আছে।অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে দেখছেন ঠিকই কিন্তু কেউ হেল্প করছেনা।
আমি কিছু মানুষের সাহায্য নিয়ে উনাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।

বেশ খানিকক্ষন পর মহিলার জ্ঞান ফিরল।বিপি লো হয়ে গিয়েছিল। আমি উনাকে দেখার জন্য উনার কেবিনে গেলেই উনি আমার দিকে তাকিয়ে কেঁদে উঠেন।
উনার এমন বিহেবে বেশ অবাক হলাম।আমি উনার দিকে এগিয়ে যেতেই উনি আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন।তখনই উনার বাড়ির লোক এলো।তারা কীভাবে খবর পেয়েছে জানিনা।তবে আরো অবাকের বিষয় হলো উনারা সবাই আমার দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন যেন আমি তাদের কত বছরের পরিচিত,কত আপন তাদের।
তাদের মাঝের একজন মহিলার চেহারা অনেকটা রুদ্ধ স্যারের সাথে মিল ছিল। হয়ত এরা রুদ্ধ স্যারের আত্মীয় হবে।উনি আমার দিকে এগিয়ে এসে কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন ” রাত”।

আমি এবার একদম সিউর যে উনারা রুদ্ধ স্যারের আত্মীয় হবে।উনি হয়ত স্যারের মা।আমি উনার দিকে তাকিয়ে বললাম

—- আপনাদের কোথাও ভুল হচ্ছে।আমি রাত না আমার নাম তানহা।

ওখানে উপস্থিত সবার মুখ দেখে মনে হলো তারা আমার কথা মানতে নারাজ।তখনই ওষধ নিয়ে একটা লোক প্রবেশ করল।লোকটা আমার বয়সি হবে।হয়ত একটু বড় হবে।উনি কেবিনে ঢুকেই বলল

—- তোমরা কী শুরু করেছে বলোতো। কোথায় মেয়েটাকে ধন্যবাদ দিবে তা না করে,,,

আমি এবার বললাম

—– আমার মনে হয় এবার যাওয়া উচিত।ভালো থাকবেন।

—- চলুন আমি আপনাকে এগিয়ে দেয়।

লোকটাকে না করব ভেবেছিলাম কিন্তু আবার মনে হলো এই লোকটার থেকেই রাতের ব্যাপারে জানা যাবে।

—– হুম চলুন।

করিডরে হাঁটার সময় লোকটাকে প্রশ্ন করলাম

—- আচ্ছা কে এই রাত বলুনতো আর তার সাথে আমার কী সম্পর্ক।

—- হয়ত আপনি রাত আবার হয়ত না।মানে,,,,

( চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here