সমাপ্তিতে তুমি পর্ব -০২

#সমাপ্তিতে_তুমি
পর্ব-০২
লেখিকা-#খেয়া

কী বলবে মামনি,বলোনা।

“মামনি খানিক চুপ থেকে বলল”

—– না কিছুনা। তুই রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়।আজ আরহার বাবা এসেছে। দুপুরে খাবারটা নাহয় আজ সবাই একসাথেই খাবো।

—- আচ্ছা মামনি।

আমি রুমে দিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।মনটা আজ সত্যি খুব ভালো লাগছে।আরহার বাবাকে আমি বাবাই ডাকি।এই মানুষটা আমাকে একদম নিজের মেয়ের মতো আগলে রাখেন।বাবাই এসেছে শুনে মনটা একদম ভালো হয়ে গেলো।

দুপুরের খাবারটা সবাই একসাথেই খেলাম।কিন্তু মামনি কী বলতে গিয়েও বললনা সেটা নিয়ে মনটা একটু অস্থির হচ্ছে।

দুপুরে একটু ঘুমিয়েছিলাম।আজানের শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো।উঠে নামাজ পড়ে এক কাপ কফি নিয়ে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম।তখনই আরহা এসে বলল

—- কাজটা কী ঠিক হলো তানহা।তুই কী কাজটা ঠিক করলি।

—- আমি আবার কী করলাম।

—- রুদ্ধ স্যার যে বিবাহিত সেটা আমাকে কেন বলিসনি।

—-বলা উচিত ছিল বুঝি।

—-তানহা,আমি কিন্তু এখন মজা করার মুডে নেই।

—- আমিও না

আমাট কথায় আরহা যেন তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল।আমার দিকে তাকিয়ে বলল

—- দেখিস পেত্নী তোর কপালে বর জুটবে না।

কথাটা বলেই আরহা চলে গেলো।আমিও আর নিজের হাসি ধরে রাখতে পারলামনা।

রুমে এসে সেই উপন্যাসের বইটা খুললাম। বইয়ের প্রতিটা পাতা জুড়ে শুধুই অনুভুতির প্রকাশ।অবশ্য ওখান থেকে একটা লাইন আমার ভালোলেগেছে।লেখাটা এমন ছিল
“সেই মানুষটা তোমার হোক, যাকে ঘিরে তোমার সব অনুভূতি।”
মন ভালো করার জন্য বইটা সত্যি খুব উপকারী।

——————-

ভার্সিটি এসে থেকেই বোর হচ্ছি।আজ সবগুলো বোরিংক্লাস একসাথে হচ্ছে নাকি আমি সবকিছুতে বোর হচ্ছি বুঝতে পারছিনা।

খুব বিরক্তি নিয়ে আজকের ক্লাস গুলো শেষ করে বাসায় যাচ্ছিলাম।অর্ধেক রাস্তা যাওয়ার পর মনে হলো রুদ্ধ স্যার দেখা করতে বলেছিল।আরহাকে মাঝরাস্তায় নামিয়ে দিয়ে রিক্সা নিয়ে আবার ভার্সিটিতে গেলাম।

লাইব্রেরিতে গিয়ে দেখি রুদ্ধ স্যার ওখানেই আছেন।আমি গিয়ে স্যারকে বললাম

—- সরি স্যার,আমি না একদম ভুলে গিয়েছিলাম।তাই একটু লেট,,,

—-ইট’স ওকে।বসো ওখানে।

—- জ্বী স্যার।

স্যার কয়েকটা নোট আমাকে দিয়ে বলল

—-এখান থেকে ইমপর্টেন্ট টপিকগুলো মার্ক করে এই শীটে লিখে দাও।আমি একটু পর এসে এগুলো নিয়ে যাবো।

—- ওকে স্যার।

বেশ খানিকক্ষণ পর স্যার এসে নোটগুলো দেখতে চাইলে আমি তার দিকে আমার করা হ্যান্ডনোটটা এগিয়ে দিলাম।উনি একবার নোট টার দিকে তাকিয়ে আবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল

—- তোমার হাতের লেখাটা আমার খুব পরিচিত একজনের লেখার সাথে মিলে যায়।একচুয়েলি শুধু লেখা না তুমি পুরোটায় তার সাথে মিলে যাও।

—- মানে?

—- না কিছুনা।তুমি যেতে পারো।

—- আচ্ছা স্যার।

আমি আর কোনো কথা না বলে ওখান থেকে চলে এলাম।রুদ্ধ স্যার এমন কথা কেন বললেন? না উনি আমাকে আগে থেকে চিনেন না আমি উনাকে চিনি।কিন্তু কেন জানি উনাকে দেখলে আমার মনে হয় যেন উনি আমায় কতকিছু বলতে চান।
চারিদিকের এত রহস্য আর নিতে পারছিনা আমি।

বাসায় এসে কারো সাথে কোনো কথা না বলে সোজা রুমে চলে গেলাম।এখন আমার একটু রেস্ট দরকার নাহলে মাথাটা সত্যি ফেঁটে যাবে।

বিকেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে আরহাকে নিয়ে একটু হাঁটতে বের হয়েছিলাম।প্রায় ঘন্টাখানেক পর ফিরে এলাম।বাসার সামনে এসে দেখি বাসা থেকে একটা লোক বের হলো।আমি যদি খুব ভুল না করি তাহলে এটা রুদ্ধ স্যার।কিন্তু উনি এখানে কেন?

—- তানহা, আমি যা দেখি তুই ও কী তাই দেখিস।

—- হ্যা রে আরহা, ওটা রুদ্ধ স্যার ছিল না।

—- হুম বাট উনি আমাদের বাসায় কেন?

—- চল ভেতরে গিয়ে দেখি।

—- হুম চল।

——————-

বাসায় গিয়ে দেখি মামনি আর বাবাই চুপচাপ বসো আছে।তাদের মুখে স্পষ্ট ভয়।

আমি তাদের কিছু বলার আগেই বাবাই বলল

—- আমাদের কোনো প্রশ্ন করিসনা মামনি।শুধু জেনে রাখ আমরা তোর ভালো চাই।কখনো আমাদের ভুল বুঝিস না প্লিজ।

আমি শুধু তাদের কথায় হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।সবকিছুই আমার মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে।
রুদ্ধ স্যার কেন এসেছিলেন এখানে? আর বাবাই এমন কথা বলল কেন?

—- কী হলো বলতো তানহা।বাবা- মায়ের হটাৎ কী হলো বলতো।

—- জানিনা রে,,,,,আমি রুমে যাচ্ছি।আমাকে আর ডাকিস না প্লিজ।

—- যাহ, বাবা।তোর আবার কী হলো।

রুমে এসে বসে আছি অনেকক্ষণ।প্রচন্ড বিরক্ত লাগছে সবকিছু।রুদ্ধ, এই রুদ্ধ কেন আমার পিছু ছাড়ছেনা।আমার জীবনটাকে দুর্বিসহ করে দিয়েছে এই নামটা।আচ্ছা আমার এই স্বপ্ন আর রুদ্ধ স্যারের ব্যাপারটা কী শুধুই কাকতালীয় নাকি এদের মাঝে কোনো সম্পর্ক আছে।সেটা এবার আমাকেই খুঁজে বের করতে হবে।

সকালবেলা মামনিকে কিছু না বলেই বাড়ি থেকে বেড়িয়েছি।আজ ভার্সিটি ছুটি।তাই ঠিক করেছি আমি নিজেই রুদ্ধ স্যারের বাসায় গিয়ে নিজেই রুদ্ধ স্যারের থেকে জানতে চাইবো উনি কেন কাল আমাদের বাসায় গিয়েছিলেন।

অনেক খুঁজে ভার্সিটির একজনের থেকে রুদ্ধ স্যারের বাসার খোঁজ পেয়েছি।বাট ঠিকানাটা বেশ অপরিচিত। এই লোকেশনে কখনো গেছি বলে মনে হয়না।

অনেকক খোঁজাখুজির পর রুদ্ধ স্যারের বাড়ির কাছাকাছি এলাম।কিন্তু আশেপাশে একটা লোকও দেখলাম না যাকে ঠিকানা জিঙ্গেস করব। বুঝতেও পারছিনা কী করব।

একটু সামনে গিয়ে একটা লোকের দেখা পেলাম।লোকটাকে দেখতে সুবিধার মনে হলোনা।কিন্তু কিছু করার নেই।বাধ্য হয়ে উনাকেই ঠিকানাটা দেখালাম।উনি বললেন উনি নিয়ে যাবে।আমি বারবার বললাম যে আমাকে ঠিকানাটা বলে দিলেই হবে।বাট উনি রাজি হলেন না।

লোকটা আমাকে বেশ অন্ধকার একটা গলিতে নিয়ে গেলেন।রুদ্ধ স্যার যে এদিকে থাকেনা সেটা পরিষ্কার।খুব ভালোমতোই বুঝলাম যে আমি নিজের বিপদ নিজেই ডেকে এনেছি।
দৌড়ে পালানোর আগেই মাথায় বেশ ভারী একটা আঘাত অনুভব করলাম।কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের সামনে সব ঝাপসা দেখলাম।আজই বুঝি আমি নামক সত্তাটা বিলীন হয়ে যাবে।আর বুঝি
রুদ্ধ -রাতের রহস্য জানা হলোনা আমার।

(চলবে)

( ছোট হওয়ার জন্য দুঃখিত।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here