সমাপ্তিতে তুমি পর্ব -০৪

#সমাপ্তিতে_তুমি
পর্ব-০৪
(আংশিক রহস্য উন্মোচন)
লেখিকা -#খেয়া

জানতে চান রাতের পরিচয়।আর রাতের সাথে আপনার কী সম্পর্ক জানতে চান?

—-হুম।অবশ্যই।

—- তার জন্য তো আপনাকে আমার সাথে একটা জায়গায় যেতে হবে।

—- আমি যাবো চলুন।

—- রাতের পরিচয় জানার পর একমুহূর্ত যদি আপনার এটা মনে হয় যে আপনিই রাত। তখন কী করবেন?নিজের আসল পরিচয়টা ফিরে চাইবেন নাকি,,,,

—- আপনি এতটা সিউর কী করে যে আমিই রাত।আমি তো রাত নাও হতে পারি।হয়ত বা আমাদের চেহারা মিলে যায় কিন্তু আমরা তো দুজন আলাদা মানুষও হতে পারি,সম্পূর্ণ আলাদা দুটি মানুষ।

—- হতেই পারেন আলাদা দুটো মানুষ কিন্তু রাতের শিরা-উপশিরা আমি চিনি।আর আমি একদম নিশ্চিত আপনি রাত।আমার যদি সাধ্য থাকত না তাহলে আপনাকে একবার জড়িয়ে ধরতাম।নিজের সেই পিচ্চি বোনটাকে জড়িয়ে ধরিনি কতদিন।

—– আপনি রাতের ভাই?

—- হয়ত নিজের না। রাত আমার মামাতো বোন ছিল।আমি ওকে সবসময় নিজের বোনের নজরে দেখলেও রুদ্ধ ভাইয়া কখনো দেখতো না।রুদ্ধ ভাইয়ার রাতের প্রতি খুব অদ্ভুত একটা টান ছিল।

—- মানে?

—- চলুনই না আমার সাথে। তারপর সবমানের অর্থ বুঝে যাবেন।

—- হুম।কিন্তু আপনার নামটা?

—- আমি দীপ্ত।

———————

দীপ্ত আমাকে একটা বাড়ির সামনে নিয়ে এলো।বাড়িটা দেখেই বুঝলাম যে এই বাড়ির মানুষগুলো অতিমাত্রায় সৌখিন।তবে আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আমি এখানে আগেও এসেছি।
বাড়ির ভেতরে ঢুকলে উনি আমাকে একটা রুমে নিয়ে গেলেন।রুমটা খুব সুন্দর সাজানো গোছানো।পুরো রুম জুড়েই রাতের ছবি লাগানো।মেয়েটা হুবহু আমার মতো দেখতে এমনকি তার হাতের কাটা দাগটাও একদম আমার সাথে মিলে যায়।এটা কী করে সম্ভব।

—- কী ভাবছেন,এটা রাতের রুম তাই তো?কিন্তু না, এটা রুদ্ধ ভাইয়ার রুম।

দীপ্তর কথায় বেশ অবাক হয়েই বললাম

—-রুদ্ধ স্যার বুঝি রাতকে খুব ভালোবাসতো।

—- হুম।হয়তো একটু বেশিই ভালোবাসত।

—- কিন্তু উনি তো বিবাহিত,,,,

—- এই বিয়েটা একটা এক্সিডেন্ট। না ঠিক তাও না।কারণ আসলে তো রুদ্ধ ভাইয়া আর নিহা আপুর বিয়েটা হয়নি। দুনিয়ার সামনে হয়ত নিহা আপু রুদ্ধ ভাইয়ার ওয়াইফ কিন্তু আসলে সে অন্যকারে ওয়াইফ।

—- মানে?

—- নিহা আপু যাকে ভালোবাসতো তার বাড়ির লোক তাকে পছন্দ করেনি। তারা পছন্দ করেছিল ভাইয়া কে।এজন্য নিহা আপু তার বড়ফ্রেন্ড মিলে এমন একটা কিছু করে যাতে রুদ্ধ ভাইয়া নিহা আপুর সাথে বিয়ের নাটকটা করতে রাজি হয়।কিন্তু এখন সবটা আমাদের কাছে পরিষ্কার হলেও ভাইয়া কেন এখনো নিহা আপুকে নিজের ওয়াইফ বলে পরিচয় দেয় তা সত্যি আমাদের অজানা।হয়ত অনেক বড় কোনো কারণ আছে এর পিছনে।

—- রাত কী মারা গেছে?

—- হয়ত হ্যাঁ আবার হয়ত না।এই বিয়েটাকে কেন্দ্র করে রাত আর রুদ্ধ ভাইয়ার মাঝে বেশ দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল।রুদ্ধ ভাইয়া রাতকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু রাত কিছু শুনতে প্রস্তুতই ছিলনা।
একদিন রাগারাগি করে সে গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে গিয়েছিল।
তার কিছুক্ষণ পর খবর পেয়েছিলাম রাতের গাড়িটা এক্সিডেন্ট করেছিল।খুব বাজে ভাবে আঘাত লাগায় গাড়িটা ব্লাস্ট হয়েগিয়েছিল।অনেক খুঁজেও সেখানে রাতের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
ওরকম একটা পরিবেশে রাতের বাঁচাটা দূুষ্কর হলেও এখনো এ বাড়ির প্রতিটা মানুষের মনে একটা আশা আছে যে রাত হয়ত অন্যকোথাও অন্য কোনো পরিচয়ে বেঁচে আছে।
একটু ভেবে দেখুনন প্লিজ।যদি আপনি রাত হন তাহলে আপনার কিছু তো মনে পড়বে।

দীপ্ত কিছুক্ষণ চুপ থেকে আমারও বলতে শুরু করল। তার চোখের জলরাশি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি আমি।

—- জানেন তো আপনার হাতের লেখা দেখার পর ভাইয়া আমাকে বলেছিল হয়ত আপনি রাত হলেও হতে পারেন।আপনার আর রাতের হাতের লেখাও একদম এক।
ঔ টেবিলে কিছু ডাইরি রাখা আছে। সেখানে দেখতে পারেন।আমি আর কৌতুহল দমিয়ে রাখতে না পেরে একটা ডাইরি খুললাম।ডাইরিটার প্রথম পৃষ্ঠায় লেখা ছিল

“তুমি মেয়েটা বড্ড ছোঁয়াছে জানোতো।খুব সহজেই যে কাউকে তুমি নামক রোগে আক্রান্ত করতে পারো।
জানোতো আসক্তি শুধু কোনো জিনিসে হয়না।আসক্তি মানুষেও হয়।যেমন তুমি নিজেকে আমার আসক্তি করে তুলেছো।এখন এভাবে আমায় ছেড়ে দিলে আমি বাঁচবো কী করে বলো?
কে সারাবে আমার তুমি নামক রোগটা? কে কাটাবে আমার তুমি নামক আসক্তিটা?
তোমাকে খুনি বলার সাধ্যি আমার নেই তবে বলবো,যে কারো মনটাকে মেরে ফেলতে তুমিই যথেষ্ট।তুমি নামক এই রোগটা যে এবার মহামারী আকার ধারণ করেছে।
এবার একটু নিজেকে লুকিয়ে রেখে প্রিয়।আমি যে চাইনা এই মহামারীতে আমার মতো আরো কেউ শহিদ হোক।এবার নিজেকে একটু গুটিয়ে নাও প্রিয়।”

কথাগুলো দেখে মনের মাঝে এক অদ্ভুত খারাপলাগা সৃষ্টি হলো।কত আবেগ মিশিয়ে লেখা কথাগুলো।কিন্তু হাতের লিখাটা একদমই আমার লেখার মতো না।আমি দীপ্তর দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবো তার আগেই উনি বললেন

—- ওটা ভাইয়ার ডাইরি।আপনি পাশের ঔ নীল ডাইরিটা দেখতে পারেন।

আমি এবার নীল ডাইরিটা খুললাম। অবিকল আমার হাতের লেখা।কিন্তু আমি যদি রাত হয়েও থাকি আর আমি যদি সব ভুলে গিয়েই থাকি তবে হুবহু একদম আগের মতো হাতের লেখা কীভাবে সম্ভব?

—- আমি জোর দিয়ে বলব না যে আপনি রাত।তবে এটুকু বলব যে নিজের পরিচয়টাকো একটু ভালোমতো জানার চেষ্টা করবেন।

—-অনেক দেরি হয়ে গেছে। এবার আমাকে বাড়ি ফিরতে হবে।

—- হুম।

———————-

বাড়ি এসে থেকে একটা কথায় মাথায় ঘুরছে। কে আমি?কী আমার পরিচয়? সত্যি বলতে তো ছয়-সাত বছর আগের কোনো স্মৃতিও আমার নেই।মামনি এ নিয়ে বললে প্রতিবারই এড়িয়ে গিয়েছে।আর আমি যদি সত্যি রাত হয়েই থাকি তাহলে মামনি কেন আমাকে এখানে তানহা পরিচয়ে রেখে দিয়েছে।এতো তাদের কী লাভ?
এবার সত্যি আমাকে সবটা জানতে হবে।

—-এই তনহা,কী হয়েছে বলতো তোর।এমন মন খারাপ করে বসে আছিস কেন?

—-না কিছুনা।তুই কখন এলি।

—- এইতো একটু আগেই। আচ্ছা শোন বাবা-মা তোকে নিচে ডাকছে।

—- হুম।যাচ্ছি।

,,,,,

—-কিছু বলবে মামনি?

—- তানহা,,,আমি বা তোর বাবাই সবসময় তোর ভালোই চাই।তোকে আমরা খুব ভালোবাসি। তাই তো তোকে দূরে কোথাও পাঠানোর কথা ভাবতেও পারিনা।
তাই আমরা তোর বিয়ে ঠিক করেছি।

—- বিয়ে? কিন্তু কার সাথে।

—- আমার ছেলে আরিশ এর সাথে।

—- তোমার ছেলে মানে? আমাকে আগে কেন বলোনি যে তোমার একটা ছেলে আছে।আর এতদিন যে আমি তোমাদের সাথে আছি আমাকে তো কখনো বুঝতে দেওনি যে তোমাদের একটা ছেলেও আছে।

—-সেসব অনেক বড় কাহিনী।তোকে পড়ে কখনো বলল।আজ রাতেই আরিশ বাসায় আসবে। তুই নাহয় তখনই সব জানিস।এখন বরং তুই বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নে।

“আমি আর কিছু না বলেই রুমে চলে এলাম।মামনি এটা কীভাবে করল।আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলল আর আমাকে একবার জানালো না।আর আরহাও তো কখনো বলেনি যে ওর একটা ভাই আছে।”

—————

বিকেল থেকে মন খারাপ করে রুমেই বসে ছিলাম।সন্ধ্যাবেলা হইচই শুনে বাইরে গিয়ে দেখলাম একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে।হয়ত এটাই আরিশ হবে।আমি আর ওদিকে না গিয়ে আবার রুমে চলে গেলাম।

খানিকক্ষণ পর মামনি ডাকলে আমি রান্নাঘরে গেলাম।মামনি আমার হাতে এককাপ কফি ধরিয়ে দিয়ে বলল এটা আরিশের ঘরে দিয়ে আয়।আমি না করলেও মামনি শুনল না।

আমিও কফি নিয়ে উনার ঘরে নক করতেই উনি দরজা খুলে দিলেন।উনাকে দেখে একটু অবাক হলাম।উনি সেই লোক যাকে সকালে রুদ্ধ স্যারের ওয়াইফের সাথে দেখেছিলাম।আমি কিছু না বলে কফিটা উনাকে দিয়ে চলে এলাম।উনিও তেমন কিছু বলল না।

আমি সোজা আরহার রুমে চলে গেলাম।গিয়ে ওকে বললাম

—- সকালের ওই ছেলেটা যে তোর ভাই ছিল বলিসনি কেন?

—- আরে,,,, তখন তো এটাই বলতে চেয়েছিলাম।কিন্তু আপনি বলতে দিলেন কই।
আসলে বাবা মার সাথে ঝামেলা করে ভাইয়া গত তিনবছর বাইরে ছিল।আর মা-বাবাও আমাকে নিষেধ করেছিল তোকে ভাইয়ার ব্যাপারে না বলতে।

—- ওহ।

আমার মাথায় একটা কথায় ঢুকছেনা যে আরহার ভাইয়ের কথা আমাকে জানালে কী এমন হতো।আর রুদ্ধ স্যারের ওয়াইফের সাথেই বা তার কী সম্পর্ক।

আমি আরর বেশি কিছু না ভেবে সরাসরি মামনির কাছে গিয়ে বললাম

—- আমি কে মামনি। কী আমার পরিচয়।আমার নিজের পরিবার কোথায়।আজ আমার সব প্রশ্নের উত্তর তোমাকে দিতে হবে।

—- তানহা,,,,এসব কী বলছিস।তোর আসল পরিবার মানে।তোর বাবা মা মারা গেছে।সেটা তুই ভালো করেই জানিস।আর তোর কোনো আত্মীয়ের ব্যাপারে আমি জানিনা।আর আমার ফ্যামিলি তো তোর আসল পরিবার।

—- মামনি,,, আমি জানি আমার আরো কোনো পরিচয় আছে।প্লিজ আমাকে আজ সত্যি সবটা বলো।

—- শুনতে চাস তোর আসল পরিচয়।তবে শোন,,,,,

মামনির কথা শোনার পর আমার মাথা ঘুরে গেলো।মামননি এটা কী বলল। তবে কী আমি সত্যি,,,,,,,

(চলবে)

( আশানুরূপ রেসপন্স পাচ্ছিনা। গল্পটা কী দ্রুতই শেষ করে দিবো?)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here