সে আমার মায়াবতী পর্ব -১৯+২০

#সে_আমার_মায়াবতি
#লেখনিতে_ঈশা_ইসলাম
#পর্ব_১৯
কালকের আর আজকের স্ট্রেস এর কারনে আমি বসে থেকেই উনার বাহু খামছে ঘুমিয়ে গিয়েছি। কিন্তু উনি নিজের মতো বকবক করতে করতে আমার কোমড়ে মলম লাগিয়ে মাথা তুলে তাকাতেই দেখে আমি গভির তন্দ্রায় রয়েছি৷ লোকটা আমাকে আরেকটু কাছে টেনে এনে৷ গালে হাত দিয়ে সামনের চুলগুলো ঠিক করতে করতে বললেন —

— কি সুন্দর নিজের ঘুমে মত্ত তুমি। কিন্তু এদিকে যে আমি তোমার দ্বহনে জ্বলে পুরে ছাড়খার তার খবর কি আছে তোমার কাছে। তোমার মধ্যে এমন কি আছে জান, যা আমাকে নেশালো করে তোলে? আমার ঈশু পাখি সৌন্দর্যে পরিপূর্না। আমার শ্যমলতা। সে আমার মায়াবতি, খুব যতনে কাছে আগলে রাখবো তোমায়। কিন্তু এখন তোমার ড্রেস চেঞ্জ করা জরুরি পাখি৷ নয়তো আরও রেস হবে।

উনি আমার গালে হালকা চাপড় দিয়ে বলে বলে উঠে-

— জান ওঠো। চেঞ্জ করে নাও। নাহলে শরির খারাপ করবে। ঈশু পাখি তুমি কিন্তু আমাকে এবার ইচ্ছে করে জ্বালাচ্ছো।তুমি জানো আমি শুধু তোমাতেই দূর্বল তাই সুযোগ নিচ্ছো জান। ঈশা জান ওঠো –

আমি পিটপিট করে চোখ খুলে ওনার হাতের ওপর হাত রেখে ঘুম ঘুম কন্ঠে বললাম –

— মিঃ চৌধুরী প্লিজ আমাকে একটু ঘুমোতে দিন। প্লিজ প্লিজ। আমার খুব ঘুম পাচ্ছে।

বলেই ওনার বুকে মুখ গুজে দিলাম। সাথে সাথে চোখের পাতায় ঘুমের পরি ভর করেছে। এদিকে উনি আমাকে জড়িয়ে ধরে জোড়ে শ্বাস নিয়ে বলতে শুরু করে,

— উফফ, এই মেয়েটা দেখি মেরে ফেলবে আমাকে। এই ঘুম ঘুম কন্ঠে আমাকে সিডিউস করছো তুমি? ঘুমোও জান, এমনিতেই সারাদিন অনেক স্ট্রেস গিয়েছে।গুড নাইট আমার পাখিটা।

লাস্টের কথাটুকু বলতে বলতে উনি আমার কপালে চুমু খেলেন। আমাকে ঠিক ভাবে রেখে নিজে চেঞ্জ হতে গেলেন।

—————————————-

আবার একটা নতুন দিনের সূচনা হলে। সেই একি দিনের মতো মিঃ চৌধুরীকে জড়িয়ে ধরা অবস্থায় আবিষ্কার করলাম৷ আমি অপলক তাকিয়ে আছি লোকটার দিকে, এত পারফেক্ট কিভাবে উনি হতে পারে?আচ্ছা আমি কি ওনার জোগ্য হতে পারবো।ভাবতে ভাবতে যে আমার হাত কখন ওনার গালে চলে গেলো আমি টের পাই নি। ধ্যন ভাংলো ওনার ঘুম ঘুম কন্ঠে —

— শেষ এ কিনা আমার ঘুমের সুযোগ নিচ্ছিলে ঈশু। এটা কিন্তু ঠিক না। এমন ভোলাভালা ছেলেটার ইজ্জত এর সুযোগ নিচ্ছো?

আমি হাবলার মতো তাকিয়ে ভাবছি আমি কি করলাম। শেষ এ নিজের হাতের দিকে তাকাতেই চমকে উঠলাম। এমা আমি ওনার গাল স্পর্শ করলাম কখন? ভাবনার মাঝেই উনি আমাকে ঘুরিয়ে আমার ওপর ঝুঁকে গেলেন। তারপর আমার গালে নিজের গাল ঘষতে ঘষতে বলে উঠলেন–

— প্রতিটা সকাল যেন তোমায় ঘিরে হয়। আমার পূর্নতার প্রাপ্তি যেন তোমার কাছে বাধা পরে। আমার সব সুখ তোমার হোক মিসেস চৌধুরী।

একে তো ওনার এত কাছে আসা। তার ওপর ওনার গালের চাপ দাড়ির খোচায় হালকা ব্যথা পাচ্ছি। আমি অস্ফুটোস্বরে বললাম —

— কি করছেন কি। দে দেখুন!

— দেখছি তো জান, লুক আমি দেখছি আমার ঈশু কে।

–আপনি দিন দিন কে কেমন হয়ে যাচ্ছেন। প্লি প্লিজ ছাড়ুন আমার অসস্তি হচ্ছে।

— এই টুকুতেই এই অবস্থা তাহলে বাকি আমাদের বাস!

— মিঃ চৌধুরী আমি নামাজ পরবো। ছাড়ুন না!

— আম ইমপ্রেস জান। তার আর কত গুন আছে আমার অজানা? ( গালে চুমু খেয়ে)

উনি সরে যেতেই আমি উঠতে গেলে খেয়াল হয়, আমি তো এই ড্রেসে ছিলাম না? একটা কূর্তি পরা। আমি তো কাল লেহেঙ্গা, আর ভাবতে পারলাম না চোখ বড় বড় করে পিছনে তাকিয়ে দেখলাম মিঃ চৌধুরী মিটমিটিয়ে হাসছে। বাকা চোখে তাকিয়ে বললো –

— কি হয়েছে? আই নো আম ডেসিং, হ্যন্ডসাম, তাই বলে নিজের বড়কে এইভাবে নজর দিবে?

— আ আমার ড্রেস কে চেঞ্জ করেছে? আ আপনি?

— জামাইটা আমি তাহলে কে করবে শুনি? (উনি দুষ্টু হেসে বললেন)

— আমি লজ্জায়, অভিমানে নিচে তাকিয়ে আছি, ভাবছি ওনার বলা কথা গুলো, উনি তো কাল প্রমিস করেছে আমাকে অনুমতি বিহিন ছোঁবে না। তাহলে? সব কি মিথ্যা ছিলো-
ভাবনায় থাকা কালীন উনি এসে আমার চুল ঠিক করতে করতে বললেন –

— সম্পর্ক যেমনি হোক তার জন্য চাই বিশ্বাস। আমি কথা দিয়েছি তোমাকে তাই যা কিছুই হোক কথার নরচড় হবে না। আর কাল যদি ড্রেসটা না চেঞ্জ করতে তাহলে তুমি কষ্ট পেতে। এত ভারি ড্রেসে তোমার ঘুম হতো না। আর আমি তোমাকে ডেকেছিও কিন্তু তুমি গভির ঘুমে ছিলে তাই আমি!

— তাই আপনি আমার ড্রেস চেঞ্জ! ( কাদো কাদো ফেসে)

— সসস না জান, আমি না মায়া তোমাকে চেঞ্জ করে দিয়েছে। ( ঠোঁটে আঙুল দিয়ে)

আমি অবাক চোখে তাকিয়ে ভাবছি সত্যি মানুষটা কত সুন্দর। আচ্ছা কেউ কি এতটা সময় দেয় ওনার মতো। আমি জানি না, কিন্তু আমি বুঝে গিয়েছি আমি ভাগ্যবতি বড় ভাগ্যবতি লোকটাকে পেয়ে।
ভাবতেই মুচকি হাসি দিলাম। উনি আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠে –

— এই মেয়ে এভাবে হাসবে না। এখানে ঝড় বয়ে যায় ( বুকে হাত দিয়ে)

আমি একটু সাহস নিয়ে দু- পা পিছিয়ে গিয়ে বললাম,

— তাহলে আমি আরও হাসবো মিঃ চৌধুরী। এখন থেকে আপনাকে জ্বালানোর অস্ত্র আমি পেয়েছি চৌধুরী সাহেব।

বলেই আমি একটা হাসি দিয়ে দৌরে ওয়াস রুমে চলে গেলাম। উনি আমাকে ধরার আগেই আমি ধরাম করে দড়জা মেরে দিয়ে বড় বড় শ্বাস নিতে লাগলাম।
উনি মাথা চুলকে বিরবির করে বললেন –

— আমি জানি জান একটু একটু করে তুমি আমার প্রতি দূর্বল হয়ে যাচ্ছো। বেশ আমি অপেক্ষায় থাকলাম তোমার মুখে ভালোবাসি শব্দটা শোনার জন্য। ভালোবাসি পাখি।

আমি ফ্রেশ হয়ে ওজু করে নিলাম। এবার ভয় হচ্ছে আচ্ছা উনি কি আমাকে তখনকার জন্য বকবেন? না আপাদত এসব ভাবার সময় নেই নামাজটা শেষ করতে হবে। এমনিতেই বিয়ের ঝামেলায় কদিন নামাজ পরতে পারি নি। তাই আস্তে আস্তে দড়জা খুলে উঁকি দিয়ে দেখলাম না নেই। তাই বের হয়ে ঘরে এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখলাম নেই উনি। নামাজে দাঁড়িয়ে গেলাম। নামাজ পড়া শেষ হতেই পিছনে ফিরতেই দেখি উনি দাড়িয়ে টুপি খুলছে। জিনিসটা দেখে খুশি হলাম যে উনিও নামাজ পরে৷ আমাকে
হুট করেই টেনে এনে কপালে চুমু খেলেন। আমিও চোখ বন্ধ
নিলাম। তারপর কিছু মনে পরতেই বললাম –

— শুনছেন?

— হুম বলো জান।

— আমরা কি চাচ্চুর বাসায় যাবো না?

— যাবো। কালকে যাবো।কেন জান?মিস করছো?

— হুম খুব।

— আচ্ছা তাকাও এদিক। তুমি এবাড়ির বড় বউ৷ আমার রানি। তোমার যখন মন খারাপ হবে যেতে পারবে কিন্তু!

— কিন্তু কি?

— রাতে কোথায় থাকতে পারবে না।

— কেন?

— কারন আমি যে আপনাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। তাই।

এটা শুনে কিছু বলার আগেই ওনার কল এলে কথা বলতে যায় বেলকানিতে। আমি সুযোগ বুঝে ঘরের বাহিরে চলে আসি। নাহলে এই লোকটা আমাকে জ্বালাতন করবে। নিচে নামতেই দেখি মেইডরা কাজ করছে। আপু আর আম্মু হেল্প করছে। আমি গেলে আমাকে কাজে হাত দিতে দেয় না। সায়ন ভাইয়া আর আব্বু গল্প করছে। আমি গিয়ে সালাম দিতেই মুচকি হেসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। খাবার টেবিলে বসার সময় মিঃ চৌধুরী ও বসে। আমি বসার আগে এনা এসে মাঝখানে বসতে নিলে আমি বসে পরি। আর যাই হোক আমি আমার মিঃ চৌধুরীর সাথে কাউকে ভাগ নিতে দিবো না। সে যেই ফ্রেন্ড হোক আর যা হোক। খাওয়ার মাঝেই মিঃ চৌধুরী বলে উঠে!

— ড্যড কাল অফিস যেতে হবে। কাল সিলেকশন মিটিং আছে মিঃ রয় এর সাথে।

—কাল আমি সামলে নিতে পারবো। আর তোমার মাত্রই বিয়ে হলো, আপাদত আমার আম্মুটাকে সময় দাও। ( আব্বু)

— হ্যা ভাইয়া তুমি গেলে যাও। আমি আমার বউ কে ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না। ( সায়ন ভাইয়া)

ভাইয়ার কথায় সবাই হেসে দিলেও আপু ভিসন লজ্জা পেলো। মায়া বলে উঠলো-

— তাহলে কি ঈশা ভার্সিটি যাবে না? ও না গেলে আমার ভালো লাগবে না। ( অসহায় মুখ করে)

— একদম না। আমার বউ যতটুকু চাইবে ততো পরবে।এই সংসার সামলানো লাগবে না এখন। বুঝেছো জান।

ওনার কথায় মিঃ চৌধুরীর প্রতি সম্মান আরোও বেড়ে গেলো।আমার ইচ্ছা ছিলো অনেক পরবো।কিন্তু বিয়ের পর ভেবেছি যদি পরতে না দেয়। ওনার কথায় আমি মুচকি হেসে খাওয়া শুরু করি।এর মাঝেই আংকেল বলে ওঠে –

— আজকে দুপুরে রহমান সাহেব আর তার ফ্যমিলি আসবে। আম্মুরা তোমরা তো চিনো না রহমান সাহেব আমার ছোট বেলার বন্ধু আর বিসনেস পার্টনার। আর আমার দুই আম্মুকে দেখতে আসবে। ওর মেয়েটাকে তো হারিয়ে ফেললো তাই আমার মায়াটাকে অনেক ভালোবাসে। আজ থেকে দেখো আম্মুরা ওরা তোমাদের দু-জনকেও আপন করে নিবে।

আমি কিছুতেই কিছু বুঝলাম না। তাই চুপ করে সায় জানালাম। খাওয়ার এক পর্যায়ে মেইড কফি নিয়ে মিঃ চৌধুরীর দিকে এগিয়ে আসার সময় এনা পা বারিয়ে দিলে মেইড এর হাতে থাকা কফি পুরোটা আমার হাতে পরে যায়। আমি আর্তনাদ করে ওঠি। ঘটনার আকস্মিকতায় কেউ বুঝে উঠতে পারে নি।সবাই দাঁড়িয়ে যায়। হাত লাল হয়ে ফুলে গিয়েছে। আমি কান্না করে দিয়েছি। মিঃ চৌধুরী উত্তেজিত হয়ে আমার হাত টেনে নিয়ে পাগলের মতো পানি খুজছে। পানি দেয়ার সাথে আরও জ্বলে উঠলে আমি হাত ধরে কেঁদে উঠি। আপুও অস্থির হয়ে যায়৷ আব্বু ডা. কল করে দেয়। মিঃ চৌধুরী একটা মলম হাতে লাগিয়ে দিলে আমি বলে উঠি –

— খুব জা জ্বালা করছে মিঃ চৌধুরী। আমি এটা দিবো না প্লিয। ( কেঁদে দিয়ে)

— না জান বেশি লাগবে না। এইতো দেখ। প্লিয পাখি ডোন্ট ক্রাই।

বলেই ফু দিতে দিতে মলম লাগিয়ে দিচ্ছেন। আমি সহ বাড়ির সবাই অবাক। ওনার আচরনে সায়ন ভাইয়া, আম্মু, আব্বু সহ মেইডরা অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। তাদের জানামতে মিঃ চৌধুরী কারো জন্য এত পজেসিভ নয়। আর এদিকে এনা সয়তানি হাসছিলো। কিন্তু মিঃ চৌধুরীর এত পাগলামি আর কেয়ার দেখে, রাগে ফুসছে আর বিরবির করে বলছে-

— ছাড়বো না। আমি তোমায় ঈশা। আমার কত বছরের ভালোবাসা তুমি এক নিমিশে কেড়ে নিবে? হবে না। এই তো সবে শুরু, এর পরের গুলো নিতে পারবে তো? হয় ওর লাইফ থেকে সরাবো নয়তো এই পৃথিবি থেকে সরিয়ে দিবো, আরাভ ইস মাই। শুধু আমার। ( সয়তানি হেসে)
#সে_আমার_মায়াবতি
#লেখনিতে_ঈশা_ইসলাম
#পর্ব_২০
সেই কখন থেকে উনি নিজের চুল খামছে ধরে পাইচারি করছে।আমি বেডে বসে দেখছি আমার এতটুকু ব্যথায় লোকটার কেমন পাগল পাগল অবস্থা। যদিও ডা. আমাকে চেকাপ করেছে। আমি ওনার কাছে যতবার যেতে চেয়েছি, ততোবার উনি আমাকে ধমকে বসিয়ে রেখেছেন।তাই কিছু একটা ভেবে একটু সাহস নিয়ে বললাম —

— মিঃ চৌধুরী শুনছেন? আ আপনি এমন করছেন কেন। আমি এখন ঠিক আছি। শুনুন না-

উনি হুট করেই থেমে গিয়ে, আমার দিকে এক পলক তাকিয়ে দ্রুত মেইড কে খবর দিলো। ওনার চিৎকারে বাড়ির সবাই হাজির হয়। আমি দড়জায় তাকাতেই দেখলাম সেই মেইডটা যে সকালে হাতে গরম কফি ফেলেছিলো। অবশ্য উনি ইচ্ছে করে সেটা করে নি। তার ভয় পাওয়া মুখটা দেখেই বলা সম্ভব। উনি ভয়ে ভয়ে মিঃ চৌধুরীর সামনে এলে উনি হুংকার ছেড়ে বললেন-

— মিস শেফালি, আপনি এতটা ইরেন্সপসেবল কিভাবে হলেন। আজ আপনার জন্য ওর হাতের কি অবস্থা দেখতে পারছেন। স্পিক আপ। ইউ সি দ্যট? ( চিৎকার করে)

আমি ওনার রাগ দেখে বিছানার চাঁদর খামছে ধরি। আচ্ছা আমি কখনো ভুল করলে উনি কি আমার সাথেও এমন করবেন? এসব ভেবে সামনে তাকাতেই দেখলাম, সেই মেইড হাজির। উনি কাপতে কাপতে বললেন-

— স্য স্যার আর হ হবে না। আমি ম্যম এর থে থেকে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।( মাথা নিচু করে)

— সরি? আপনি সরি বললেই কি ওর হাত ঠিক হয়ে যাবে? নাকি ওর ব্যথা কমে যাবে৷ স্পিক আপ৷ আই সোয়ের আজ জদি আপনি মেয়ে না হয়ে ছেলে হতেন তাহলে আমি আপনাকে এর জন্য একচুল ছাড় দিতাম না। আজ থেকে আপনি আর এখানে জবের জন্য আসবেন না। আপনার পেমেন্ট নিয়ে আপনি চলে যেতে পারেন। ( মিঃ চৌধুরী)

— আহ আরাভ শেফালি বুঝতে পারে নি। এইভাবে ওকে তাড়িয়ে দিও না। ( আম্মু)

— নো মম , আমি এক রিসক্স আর নিতে চাই না। সো লিভ হার।

আমি ভাবতেও পারছি না। সামান্য কারনে ওনি এত রিয়েক্ট করবে। কিন্তু আমার জন্য একজন নিরঅপরাধ মানুষ না খেতে পাক, আমি চাই না। ওনার তো কোন দোস নেই, তাহলে শুধু শুধু উনি কেন শাস্তি পাবে? উনি যে এক কথার মানুষ সেটা সবাই জানে। কেউ বাধা দিবে না৷ তাই যা করার আমাকেই করতে হবে। আমি জানি না এই তেজ আর অধিকার আমার কোথায় থেকে জন্ম নিলো। মিস শেফালি ঘুরে চলে যাবার আগেই আমি বলে উঠি –

— দাড়ান আপনি!

আমার কথায় উনি সহ বাকি সবাই অবাক হয়ে তাকায়। মিঃ চৌধুরী ভ্রু কুচকে আমার দিকে তাকাতেই আমি আস্তে করে দাঁড়িয়ে ওনার কাছে গিয়ে মাথা নিচু করে বলি –

— আপনি তো বলেছেন মিঃ চৌধুরী, যে এই বাড়ি, সংসার আর প্রতিটা মানুষ আমার নিজের। তাহলে নিজের মানুষ ভুল করলে কি বাড়ি থেকে বা মন থেকে মুছে ফেলা যায়?

— কি বলতে চাও জান৷ ( হাত ধরে)

আমি ওনার চোখের দিকে তাকিয়ে বলি –

— আচ্ছা আজ যদি আমি কোন ভুল করি আপনি কি আমাকেই বের করে দিবেন?

— ঈশু পাখি তুমি আমার জিবন। আমার দিকে তাকিয়ে বলো তো আমাকে কি মনে হয় আমি তা করবো? না জান বাকি সবার কাছে এই আরাভ চৌধুরী একজন স্ট্রেট ম্যন হলেও তোমার কাছে সম্পুর্ন সে একজন দূর্বল মানুষ। প্লিজ জান ডোন্ট সে এগেইন।

আমি বুঝলাম আমি এবার ও তার জিদের উর্দ্ধে। তাই মুচকি হেসে বললাম —

— তাহলে ওনি থাকুক প্লিজ। আই প্রমিস আমিও শান্ত হয়ে চলবো। নিজের খেয়াল রাখবো। প্লিজ মিঃ চৌধুরী!

— সসস পাখি,।তুমি যা বলবে তাই হবে। ( গালে হাত দিয়ে)

ওনার এই আচরনে আমি লজ্জা পেয়ে সামনে তাকাতেই দেখি মেইডরা সহ, আপু আম্মু মায়া হা করে তাকিয়ে আছে।তাই আমি হালকা হেসে, মিস শেফালির কাছে গিয়ে বললাম-

— আমি দুঃখিত আন্টি। আসলে আমার জন্য আপনার এত কিছু সাফার করতে হলো। আন্টি আপনি কোথাও যাবেন না প্লিজ। আপনার হাতের কর্ন স্নেস্কটা আমার খুব ভালো লাগে। আপনি চলে গেলে আমি খুব মিস করবো। ( মুচকি হেসে)

মিস শ্যফালি কান্না করে দিলেন। আমার মাথায় হাত দিয়ে বললেন –

— আই উইস তুমি খুব ভালো থাকো। আমি জানি এই বাড়ির সবাই খুব ভালো। বড় স্যার ও ভালো। আমি ভুল করেছি তাই আমাকে চলে যেতে বলেছে। কিন্তু আমি এ বাড়িতে ১১ বছর আছি। বাড়ির প্রত্যকটা মানুষ খুব ভালো মা। আমি দোয়া করি তুমি সুখি হও। (মিস শেফালি)

— আন্টি এ বাড়ির মানুষ গুলো সত্যি অনেক ভালো। আল্লাহ সত্যি আমার কপালে খুব সুখ লিখে দিয়েছে। কিন্তু এবার আমার খুব ক্ষিদে পেয়েছে। ( ঠোঁট ফুলিয়ে)

আমার কথায় সবাই হালকা হাসলেও, মেইড রা মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমিও মুচকি হাসলাম। এর মাঝেই মায়া আর আপু আমাকে বেস্ট অফ লাইক জানালো। আম্মু কাছে এসে কপালে চুমু দিয়ে বললেন –

— আমি জানি না মা কি ভালো কাজ আমি করেছি যার জন্য এমন লক্ষি একটা মেয়ে পেয়েছি। আমার যে ছেলে কাজ ছাড়া থাকতে পারতো না। সে আজকাল সময় পেলে কাজ করে। সবচেয়ে বড় কথা এত মেয়েদের ছবি দেখিয়েছি, কত মেয়েরা বিয়ে করতে চেয়েছে সে ফিরেও তাকায় নি। আজ তোমার এক্সিডেন্ট এ আমরা বুঝতে পেরেছি আমার রাগি ছেলেটাও কারো প্রতি দূর্বল।যার কথায় শেষ কথা হয় তার কথা আজ তুমি পালটে দিলি মা। তুই যে পাথরের বুকে ফুল ফুটিয়েছিস রে। আমার ছেলে যে তার ঈশু পাখিতেই মুগ্ধ। ভালো থাকিস তোরা আজিবন।

আম্মুর কথায় লজ্জা পেলাম। আসলেই তো এই ঘারতেরা লোকটা এত নরম হয়ে যাচ্ছে কেন দিন দিন? আস্তে আস্তে সবাই চলে গেলো। একটু পর যেহুত গেস্ট আসবে তাই যে যার কাজে গিয়েছে। আচ্ছা উনি কি আমার ওপর রাগ করেছে? তাহলে আমার সাথে কথা বলছে না কেন? নিজের ভাবনায় নিজেই অবাক হলাম, আমি কি সত্যি ওনার প্রতি দূর্বল নাকি ভালোবাসতে শুরু করেছি মিঃ চৌধুরী কে?

আমি আর কিছু না ভেবে ওনার সামনে গিয়ে দাড়াতেই উনি ল্যপটপ নিয়ে সোফায় বসে গেলেন। আমি কি সত্যি ওনাকে আমার অজান্তে কষ্ট দিয়ে ফেললাম? তাহলে আমার সাথে কথা বললো না কেন?আমি গুটিগুটি পায়ে ওনার সামনে গিয়ে শাড়ির আচল পেচাতে পেচাতে বলি–

— শুনছেন? আপনি কি রাগ করেছেন আমার ওপর?

——–

— আব আমি আসলে চাই নি ওনি আমার জন্য কষ্ট পাক। মিঃ চৌধুরী শু শুনছেন।

এবার আর মানতে পারলাম না, চোখের কার্নিস বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পরলো।
তাই আবার বলে উঠলাম —

— আমি কি খুব বি বিরক্ত করি আপনাকে? আচ্ছা আ আপনার কথা শুনি নি তাই রাগ করেছেন? আ আচ্ছা আমি চলে যাবো চাচ্চুর কা কাছে।

——————

এদিকে এনা দড়জার বাহিরে দাঁড়িয়ে সব দেখছিলো। সবাই আমার প্রশংসা করাতে সহ্য না করতে পেরে জ্বলে উঠে। কিন্তু মিঃ চৌধুরীর করা ব্যবহারে তার চেহারায় সয়তানি হাসি ফুটে ওঠে। নিজেই বলতে লাগে –

— বাহ এক ঢিলে দুই পাখি। আহারে বেচারি ঈশা, সবার কাছে প্রশংসার রানি হলেও নিজের রাজার কাছে যে কিছুই না গো? ইশ আফসোস হচ্ছে তোমার জন্য, আহারে শেষ এ কিনা বাড়ির সকলের চোখে ভালো হওয়ার জন্য নিজের স্বামীর কাছেই হেরে গেলে? ঠিক এই ভাবেই এভাবেই তোমার থেকে আরাভ মুখ ফিরিয়ে নিবে দেখে নিও। ( সয়তানি হেসে)

আমি আর কিছু না বলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় কেউ হেচকা টানে তার বুকে নিয়ে ফেলে। আমি হাতে ব্যথা পেলেও দাত চেপে সহ্য করে নেই। সেই চিরচেনা মানুষটার স্পর্শ পেয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলাম – উনি খুব যতনে আমাকে আগলে নিলেন। কপালে চুমু দিয়ে বললেন –

— হ্যা জান রাগ করেছি আমি। খুব রাগ করেছি, কারন কি জানতে চাও তবে শোনো এই পিচ্চি মেয়েটা আমার রাগের কারন। সে আমাকে প্রতি মুহুর্তে একটা নতুন ঈশু পাখির প্রতিবিম্ব দেখায়। আচ্ছা বলো তো আমি তো একজনকেই ভালো বাসি। তাহলে এত ঈশু পাখিকে সামলানো যে বড্য দায় গো পরি। আজ আমার জান নিজে থেকে অধিকার দেখিয়েছে। সে তার প্রেমিক পুরুষ এর মনে আরেক অনূভুতির বেড়াজাল সৃষ্টি করেছে। প্রেমে পরেছি জান আমি আবার প্রেমে পরেছি।

আমি হ্যবলার মতো লোকটার দিকে তাকিয়ে আছি। কি বলে উনি? এদিকে আমি অভিমানে হারিয়ে ফেলেছি নিজেকে আর উনি আমাকে নিয়ে কাব্য রচনা করছেন। উনি ঠোঁট কামরে হেসে আমাকে উচু করিয়ে ঠোঁটে গভির চুমু দিলেন আর আমি বরফ হয়ে জমে আছি। উনি কি করলো আমার সাথে?
আমি তাকাতেই বললো-

— এই মেয়ে এভাবে তাকাবে না বললাম? নাহলে কিন্তু!

— না নাহলে ( ভয় পেয়ে)

— আবার জড়িয়ে ধরে চুমু খাবো ( চোখ টিপ দিয়ে)

লোকটা আমাকে ফ্লাইং কিস ছুড়ে দিয়ে ল্যপটপ নিয়ে বারান্দায় চলে গেলো –
আমি ভাবছি উনি এমন বাচ্চামো করছেন কেন? নিজের ভাবনায় হেসে দিলাম। একটু পর যেহুত গেস্ট আসবে রেডি হতে হবে। এমনিতেই শাড়ি পড়তে পারি না তার ওপর হাতের এই অবস্থা তাই চাই না লোকটা আর আমাকে জ্বালাতন করুক এজন্য কাবার্ড থেকে শাড়ি নিয়ে আপুর রুমে চলে গেলাম।
আমি চলে যাওয়ার পর পর্দার পেছন থেকে এনা বেরিয়ে এসে রাগে ফুসতে লাগলো।আমাকে মিঃ চৌধুরীর ইগনোর করা দেখে যেই না হেসেছিলো ওমনি ওনার সব আশাকে জল ঢেলে দিয়ে মিঃ চৌধুরীর আমাকে কাছে টেনে নেয়াতে উনি রেগে ফুসে ওঠেন। আমাকে বকতে বকতে চলে যান নিজের রুমে৷
আপুর রুমে যাওয়ার পর মায়া আর আপু মিলে আমাকে সাজিয়ে দিয়েছে। সাথে নিজেরাও রেডি হয়ে নিয়েছে। একটা অফ হোয়াইট কালার শাড়ি স্টোন পাথরের গহনা পরিয়েছে৷ এবার ডাক এলে নিচে নেমে যাই। নিচে নামতেই দেখি উনি বুকে হাত দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ওনার এই অবস্থা দেখে হাসি পেলেও চেপে রেখেছি। এর মাঝেই কেউ আমাকে টেনে গালে হাত দিয়ে বলতে শুরু করলেন –

— আমার পরি মা। তুই কেমন আছিস। আমার মা। আমার পরি তো তুই রে!

আমি ওনাকে চিনি না, তাই এদিক সেদিক তাকাতেই দেখলাম একটা লোক এগিয়ে এসে বললো –

— আহ শাহানা কি করছো। ও আমাদের মেয়ে তবে তোমার পরি নয়। বোঝার চেষ্টা করো।( মিঃ রহমান)

— ওহহ আসলে মা আমাকে ক্ষমা করবে, জানো আমারও তোমার মতো একটা মেয়ে ছিলো। কিন্তু হারিয়ে ফেলেছি( কেঁদে দিয়ে)

আমি বুঝলাম ওনার কথাই আব্বু সকালে বলেছেন। তাই আমি আন্টির হাত ধরে বললাম –

— আমি আপনার মেয়ে আন্টি। এই তো মায়া আর সামিয়া আপু ওরাও আপনার মেয়ে৷ কে বলেছে আপনার মেয়ে হারিয়ে গিয়েছে।

আন্টি হেসে দিলেন। আংকেল ও সায় জানালেন। আম্মু আব্বু ও খুশি হলেন। আমাকে আর আপুকে নিয়ে বসালে, আন্টি আমাকে আর আপুকে কতগুলো গিফট বক্স দিলেন। আমি ধন্যবাদ দিলে আমার দিকে আন্টি অনেক টাইম তাকিয়ে থেকে বলে ওঠে

— আমি কি তোমাকে পরি বলে ডাকতে পারি মা।!

আমি মিঃ চৌধুরীর দিকে তাকালে উনি চোখ দিয়ে ইশারা দিলেন। আমিও সায় জানালাম।
তখন একটা ছেলে এসে বললো – আমিও আমার বোনটাকে তাহলে পরি বলবো। আমি তাকাতেই বললেন

আমি ফায়াজ। আর
উনারা আমার বাবা মা। আসলে, আমার বোন পরি ছোট বেলায় হারিয়ে যায়। খুব আদরের ছিলো। তাই বাবা মা শোক কাটাতে পারে নি।অনেক খোজার পরে যখন পায় নি তখন আমাকে নিয়ে পারি দেয় আমেরিকায়। তাই মাঝে মাঝে বিডি এলে আংকেল এর বাড়ি আসি। আব্বু আর আংকেল ক্লোজ ফ্রেন্ড৷ আমার পিচ্চি বোন আর তোমার মাঝে খুব মিল। তাই মা গুলিয়ে ফেলেছে। আমাকে কি ভাইয়া বলা যায় না?

যারা নিজেদের মেয়ে বোনের জন্য এত কষ্ট পাচ্ছে তাই আমি চাই নি তাদের নিরাশ করতে। আমিও হাসি মুখে বললাম —

— ভাইয়া৷ ফায়াজ ভাইয়া৷

ওনার চোখ থেকে দুই ফোটা অশ্রুকনা ঝরে পরলো।বাকিদের ও সেইম অবস্থা।
আবার ফায়াজ ভাইয়া বলে ওঠলো,-

— সরি রে বোন, বিয়েতে আসতে পারি নি। কারন একে বারেই বিডিতে সেটেল্ড হয়ে যাচ্ছি। বিসনেস ওয়ার্ক সব এখানেই হবে তাই আমার বোনের বিয়েতে থাকতে পারি নি৷ তবে তার জন্য এইসব এনেছি। আর তোমাদের জন্য ও৷ চকলেট , গিফট সব আমাদের হাতে দিয়ে দেয়। আমরাও গ্রহন করলাম। তারপর খাবার পালা আরম্ভ হলে, সবাই খেয়ে নিলো।এর মধ্যে মিঃ চৌধুরী লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে সবার সামনে আমাকে খায়িয়ে দিয়েছেন। সবাই ব্যপারটা স্বাভাবিক ভাবে নিলেও এনার মুখে আমি আমার জন্য রাগের সংবরন স্পষ্ট দেখেছি।খাওয়া শেষ হতেই মেইড গিফট নিয়ে রাখার জন্য আমাকে ডেকে আনলে, দেখিয়ে দেই। কিন্তু বিপত্তি বাধে যাওয়ার সময়। উনি সামনে এগিয়ে আমাকে কোলে নিয়ে হুট করেই ওনার কোলে বসিয়ে দেয়। আমাকে অবাক করে দিয়ে শাড়ি ভেদ করে পেট জড়িয়ে ধরে৷ ওনার স্পর্শতে আমার সাড়া শরির কেপে ওঠে। আমার কাধে মাথা রেখে ছোট ছোট চুমু দিতে থাকে।ওনার এই স্পর্শে আমার অস্বস্তি আরও বেড়ে গেলো। আমি ওনার হাতের ওপর হাত দিয়ে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও উনি হাত চেপে ধরে। ধির কন্ঠে বলে ওঠে —

— জান আমি তোমাকে বারন করেছিলাম না – সাদা ড্রেস পরবে না।

— কে কেন আমাকে কি খারাপ লাগছে? ( মন খারাপ করে)

উনি হেসে আমার ঘারে চুমু খেয়ে বলে ওঠে

— মোহনিয় মায়াবতি কি জানে তার এই রুপ আমাকে কতটা পাগল করে তোলে। আমি যে প্রেমিক পুরুষ তার দ্বহনে শেষ হই। আর সাদা ড্রেসে তাকে যে আমার একদম ছুতে ইচ্ছা করে। সে কেন এত বাচ্চা ( চুমু দিতে দিতে)

আমি ওনার চুমু তে কেপে কেপে বলে ওঠি

— আ আমি মোটেও বাচ্চা নই।

— আচ্ছা তাহলে তো তাকে ভালোবাসতে কোন মানা নেই তাই না মায়াবতি?

— আব মিঃ চৌধুরী প্লিজ ছাড়ুন না প্লি প্লিজ আমার

বাকি কথা শেষ করার আগেই এনা হুট করেই নক না করেই আমাদের ঘরে ঢুকে যায়। আর চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। আমি ওনাকে দেখে প্রথমে অবাক হলেও ঠোঁট টিপে হাসি। আর কেউ না জানুক আমি বুঝতে পেরেছি ওনার আমার বড়ের ওপর নজর আছে। আমি সেটা কিছুতেই মানতে পারছি না। আর যাই হোক আমার মিঃ চৌধুরী কে অন্য কাউকে কেড়ে নিতে দিবো না। আচ্ছা এটাই কি পবিত্র বন্ধন। মাত্র ক- দিনেই ওনার প্রতি দূর্বল হয়ে গিয়েছি। আর যাই হোক এই মানুষটা আমার শুধুই আমার।

(২৫০০+ দিয়েছি। অনেক বড় করে দিয়েছি কিন্তু)

#চলবে____________

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here