স্বামী পর্ব -১৪

###__স্বামী__###
পর্ব-১৪
#Nirzana(Tanima_Anam)

-অনুর বিষয়ে সবটা জানে অ্যান্টি??

সিমির কথায় নির্ঝর একবার সিমির দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে আবার ড্রাইভিং-এ মনযোগ দেয়।

নির্ঝর সিমি একসাথে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছে।
-নির্ঝর সায়ন জানে অনুর সাথে তোর বিয়ের কথা….

নির্ঝর কোনো উওর করছে না।
নির্ঝরকে নির্বাক দেখে সিমিও চুপ করে যায়।
গাড়ি নিজ গতিতে চলছে।হাটৎই সিমি চিৎকার করে গাড়ি থামিয়ে দেয়….
-কি??
-নির
-হুম্ম
-হাওয়াইমিঠা খাবো!!
-কিহ্??
-হুম্ম প্লিজ প্লিজ….নির এনে দে না….!!

নির্ঝর প্রথমে বিরক্ত হলেও কি মনে করে গাড়িটা সাইড করে দাড় করিয়ে নেমে যায়….

সিমি তো খুশিতে আত্মহারা।নির্ঝর এক ছুটে রাস্তার উপা থেকে তিনটে হাওয়াইমিঠা কিনে আনে।
সিমিকে একটা দিয়ে দুটো গাড়ির পেছনে রেখে দেয়।
-নির এই দুটো কার??
-অনুর
-মানে?
-আরে অনু খুব ভালোবাসে তাই অনুর জন্য নিলাম।
-ওওও

হুট করেই সিমির মুখটা কালো হয়ে গেল…..।।

অনু রাগে গজ গজ করতে করতে বাড়ি চলে এলো।সকালে সিমির সাথে কথা বলার পর কি মনে করে অনু একা একাই শ্বশুড় বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যায় হটাৎই চোখে পড়ে রাস্তায় নির্ঝরের গাড়ি।গাড়ির দিক ভালো করে লক্ষ করতেই অনুর চোখে পড়ে নির্ঝর সিমির হাতে গোলাপী রঙ্গের হাওয়াইমিঠাই ধরিয়ে দিচ্ছে আর সিমি অন্যরকম দৃষ্টিতে নির্ঝরের দিকে তাকিয়ে আছে।ব্যাস একেই তো অনু মাথা গরম ছিলো এদৃশ্য দেখার পর যেইটুকু বাকি ছিলো তাও গরম হয়ে গেল।

অনু বাড়িতে ঢুকতেই দেখে নীরা সোফায় ঘুমিয়ে আছে।বাড়ির কাজের লোক দরজা খুলে দিয়েছে অনু আসে পাশে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই বোধয় সবাই দুপুরের খাবার খেয়ে দেয়ে রেস্ট নিচ্ছে।অনু কোনো কথা না বলে সোজা ঘরে চলে যায়।
ইমেগ্রেশান ক্রস করে বিমান্দরের অন্দরমহল থেকে ধীর পায়ে বেরিয়ে আসছে সায়ন।

যদিও আরো দুদিন আগে তার বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিলো কিন্তু বিদেশের পাঠ চুকিয়ে দেশে আসতে দেরী হয়ে গেল।আবহাওয়া ভালো থাকায় প্লেন এক ঘন্টা আগে দেশে ল্যান্ড করেছে।

বাহিরে বারিয়ে সায়ন সরাসরি গাড়ি ওঠে যায় উদ্দেশ্য নিজের বাড়ি যাবে।তবে সায়নের মায়ের কড়া কথা সে যেন যতো দ্রুত সম্ভব তার খালার বাসায় ওঠে কিন্তু তবুও সায়ন নিজের বাড়িই যাবে।

সায়নকে নিতে সায়নের খালাতো ভাই নির্ঝর আর বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি আসছে তবে দুঘন্ট পর।সায়ন ইচ্ছে করেই সবাইকে দুঘন্টা পরের ফ্লাইটের কথা বলেছিলো না হলে ওরা জোড় করেই সায়নকে ধরে বাড়ি নিয়ে যেত।।

গত কালই সায়নের বোন সায়নকে ফোন করে জানিয়েছে অনু নাকি বাড়ি চলে এসেছে।মানে অনুর বর নাকি অনুকে রেখে গেছে।তাই সায়ন ও সোজা বাড়ি চলে যাচ্ছে।

অনুর সাথে অন্তত একবার দেখা করা খুব জরুরি।নিজের দোষে মেয়েটাকে বড্ড কষ্ট দিয়ে ফেলেছে সে।তবে আর কোনো ধোয়াশা নয় এবার সায়ন সরাসরি অনুকে সব সত্যি বলবে কেন সে অনুর সাথে এমন করেছিলো। শুধু যে সত্যি বলবে তা নয় অনু যদি চায় সব অতীত ভূলে গিয়ে অনুকে নিজের করে নিবে সে।অনুকে নিয়ে এ দেশ এই পরিচিতি সব ছেড়ে চলে যাবে।কিন্তু “অনু কি ক্ষমা করবে আমাকে??”
“করবে অনুতো আমায় ভালোবাসে আমি চাইলে অনু সব ছেড়ে চলে আসবে আমার কাছে”

এরকম কিছু চিন্তা ভাবনা নিয়ে সায়ন গাড়ি রওনা হয়ে গেছে বাড়ির উদ্দেশ্যে।

অনুদের বাড়ির পেছনের পথটায় সায়নদের বাড়িতে যাওয়ার পথ।গাড়িটা যখন অনুদের বাড়ির পেছনের দরজাটা ক্রস করছিলো সায়ন গাড়ির জ্বানালা দিয়ে উকি দেয়..

ওই তো বাড়ির পেছনের সেই বকুল তলা।ঠিক তার পাশেই একটা ইয়া বড় তেতুল গাছ।অনুর গায়ে হলুদের দিন অনু সায়নকে এখানেই দাড়াতে বলেছিলো কিন্তু সায়ন সেদিন আসেনি।
“অনু কি এসেছিলো??সে কি সেদিন অপেক্ষা করেছিলো সায়নের জন্য??হয়তো করেছিলো।মেয়েটা যে আস্ত একটা পাগলি!!”

যদি সেদিন আসতো তাহলে আজ হয়তো বুক ভরা আফসোস নিয়ে বাঁচতে হতো না।হয়তো অনু এখন তার বুকে থাকতো
কিন্তু কি করে আসতো সে মা যে তাকে……

কথাগুলো ভাবতেই অনুর চোখ বেয়ে দুফেটা পানি বেয়ে পড়লো…
সব কেমন হুট করেই পাল্টে গেল…..

বাড়িতে পৌছাতেই সাবই সায়নকে দেখে অবাক।ছেলে ফেরায় মা যতো না খুশি হয়েছে তার বেশি রেগে গেছে সরাসরি এখানে ওঠায়।

সায়নের মায়ের বড্ড ভয় করছে।ছেলে আবার ঐ খুদওয়ালা মেয়েতে মজবে না তো??
কে জানে একেই তো মেয়েটির একটা বড় খুদ রয়েছে তার উপর আবার বিয়ে করে চার মাস সংসার করেছে এমন মেয়ে যদি আবার না না আর কিছু ভাবতে পারছে না সামিয়া বেগম।একমাত্র ছেলে সায়ন। কলিজার টুকরা সে ছেলেরর ক্ষতি ওনি কখনো ভাবতেই পারেন না।

যতো দ্রুত সম্ভব সায়নের বিয়েটা দিতে হবে….
যদি সম্ভব হয় আজ কালের মধ্যেই।পুরুষ মানুষের মন গলতে কতোক্ষন!!

নির্ঝর আর সিমি বেশ অনেকটা সময় বিমান্দরে অপেক্ষা করেছে সায়নের কোনো খবরই নেই।
পরে অবশ্য খালামুনি ফোন করে বলে দিয়েছে সায়ন নাকি একাই বাড়ি চলে গেছে।
তাই আর অপেক্ষা না করে নির্ঝরও বাড়ি চলে এসেছে…!!

ফিরে এসেই বিছানায় গা এলিয়ে দেয় নির্ঝর।হুট করেই নির্ঝরের মাথায় অনুর কথা চলে আসে।আচ্ছা অনুকেও তো বাড়ি রেখে এসেছে সে আর সায়নও তো বাড়িতে যদি দুজনের…
না না এমন হতে পারে না।।

কথাটা এতোক্ষন কেন মাথায় আসে নি।নির্ঝর হুট করে ওঠতে যাবে তখন হটাৎই কেউ একজন নির্ঝরেরর মুখে বালিশ চাপা দিয়ে দেয়।
হুট করে এমন কান্ডে নির্ঝরের দম বন্ধ হয়ে আসে….
নির্ঝর গায়ের সব শক্তি দিয়ে ধাক্কা মারে।অপর পক্ষ ধপ করে মেঝেতে পড়ে যায়
-ও মা গো কোমড়টা ভেঙ্গে গেলো গো আমাকে মেরে ফেল্লো গো….কে কোথায় আছো গো!!

অনুর এমন চিৎকারে নির্ঝর দম নেওয়ারও সময় পায় না!!!
অনুকে হটাৎ এভাবে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে যায় নির্ঝর!!
-তুমি
-হ্যা আমি!!
-তুমি কখন এলে??
-কেন আমি আসাতে সমস্যা হবে বুঝি??
-মানে?
-মানে আবার কি আমি থাকলে আপনার পিরিতের সিমির সাথে ডুবে ডুবে জ্বল না না হাওয়াইমিঠায় খাওয়া হবে না তাই তো আমাকে বাড়ি রেখে এসেছেন!!

অনু রাগে দাত কড়মড় করছে….
নির্ঝর অবাক চোখে অনুর দিকে তাকিয়ে আছে…
-কি হলো আমাকে তুলুন দেখতে পাচ্ছেন না আমি ব্যাথ্যা পেয়ে উঠতে পারছি না??সিমি হলে তো

নির্ঝর ঝটপট গিয়ে অনুকে কোলে তুলে নেয় তার পর বিছানায় শুয়ে দিয়ে অনুর উপর শুয়ে পরে…
-তুমি কখন দেখলে আমি সিমিকে হাওয়াইমিঠায় কিনে দিয়েছি??
-কেন কি ভেবেছিলেন লুকিয়ে লুকিয়ে মিষ্টি খাবেন না না খাওয়াবেন আমি দেখতে পাবো মা হুম্ম….সরুন তো সরুন আপনার সিমির কাছে যান আমার কাছে কেন এসেছেন….
-উফ্ এতো সিমি সিমি করো কেন??
-একবার ও তো খবরও নিন না আমি ফোন দিলে ফোন ধরে সিমি…
-ওওও কোথাও পোড়া পোড়া গন্ধ পাচ্ছি…বোধয় কিছু একটা পুড়ছে!!

অনু দুম করে নির্ঝরের নাকে একটা ক্লিপ লাগিয়ে দেয়
-আউউউচ্
-এখন আর পাবেন না!!

অনু নির্ঝরকে ধাক্কা দিয়ে উঠে যায়।টেবিলে নির্ঝরের ফোনটা বাজচ্ছে আর নির্ঝর বিছানায় বসে নাক ডলছে।ক্লিপটা লেগে নাক লাল হয়ে গেছে।
অনু ফোনটা হাতে নিতেই দেখে ফোনের স্ক্রিনে বড় বড় করে লিখা
“SHAYON”
কলটা সায়ন করেছে………

চলবে………

(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here