হৃদয়ের প্রতিশ্রুতি পর্ব ১৩

🌸#হৃদয়ের_প্রতিশ্রুতি🌸

#লেখিকাঃআদিলা
#পর্বঃ১৩
_________________________🌸
ইয়ামিনার চোখ যেন বন্ধ হয়ে আসছিলো।। কিন্তু তারপর ও গুলি করা লোকটাকে দেখার আগ্রহ ইয়ামিনার মনে যেন বেড়ে চলচ্ছে। ঝাপসা চোখে সারা শরীর রক্তে রাঙানো শুধু আমিরের মুখটাই অস্পষ্ট ভাবে দেখতে পায়।।তারপর ইয়ামিনার আর কিছুই মনে নেই।

আমিরের সমস্ত শরীর কাপছে। হিংস্রভাবে রুহানের দিকে তাকিয়ে আছে। রাগে মুখ চোয়াল দাত সব শক্ত হয়ে আসে। রুহান পা হাত বেয়ে রক্ত পুরো ফ্লোরে মেখে গেছে। রুহানের উঠার শক্তি যেন নেই শুধু মাথা তুলে সামনের দিকে তাকাতেই রুহান আতকে উঠে স্বয়ং আমির পিস্তল হাতে নিয়ে রুহানের সামনে দাড়িয়ে আছে। লাইসেন্স করা পিস্তল সব সময় আমির সাথে রাখে।

রুহানেত বুঝতে বাকি নেই আর আমিরের হাত থেকে আজ সে রেহাই পাবে না। রুহানের সাড়া শরীর শির শির করে উঠে। রুহান কোনো রমক ফ্লোরের সাথে হিচড়ে হিচড়ে যাওয়ার চেষ্টা করচ্ছে৷ আমিরে রুহানের পা ধরে হেচকা টান দেয়। রুহান ছিটকে গিয়ে কাচের টেবিলে ভারি খায়। কাচ ভেঙে রুহানের হাতে শরীর ঢুকে যায়।

আমির রুহানের সামনে হাটু গেরে বসে পিস্তলটা কপালে ঘেঁষে বেশ গম্ভীর গলায় বলে… কি বলছিলি বাসর..ও হ্যা বাসর । বাসর করার খুব শখ তাই না। তোর বাসর আজ আমি জন্মে মিটিয়ে দিব।আমির চোখ খুলে তাকাতেই রুহানের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসে। গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হচ্ছে না।

আমির রুহানের কলার চেপে ধরে দেয়ালের সাথে ভারি দিয়ে হুংকার দিয়ে বলে কিরে জাওনোয়ার এখন কথা বলিস না কেন। বল বাসর করবি। তুই আমার কলিজা আমার ভালবাসার গায়ে হাত দিয়েছিস এই হাত দিয়ে তাই না এই হাত বলে হাতে কয়েকটা লাথি দেয়।
রুহান ব্যাথা কুকরিয়ে উঠে… প্লিজ ভাই আমাকে ছেড়ে দেও ভুল হয়ে গেছে বুঝতে পারি নি ছেড়ে দাও আমিরের পা ধরে বলে.. আমির রুহানের গলা চেপে ধরে… ও তো তোকে এইভাবে মিনতি করেছিল শুনেছিলি রেহাই দিয়েছিলি। তোকে নিজের ভাইয়ের থেকেও বেশি ভালো বেশেছি। আমার গায়ে আঘাত করতি কিছুই বলতাম না কিন্তু তুই….বলেছিলাম না ঘুমন্ত সিংহকে কখনো জাগাতে নেই। বলেই রুহানকে আছার মেরে দেয়ালে ছুড়ে মারে ইচ্ছে মত লাথি দিতে থাকে। রুহানের শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
আমির বিছানায় বসে পড়ে হাতের উল্টো পিট দিয়ে রক্ত মুছতে মুছতে বলে জানোয়ার….

আমিরের হুস হতেই দৌড়ে ইয়ামিনার পাশে যায়। ইয়ামিনার এই অবস্থা দেখে আমিরের ফোলা লাল চোখ থেকে কয়েকফোটা জল গরিয়ে পড়ে। ইয়ামিনা জামার অনেক অংশই ছিড়ে গেছে। জামার হাতা পেটের ঘাড় রক্তাক্ত হয়ে আছে।চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আশেপাশে চুল ছিড়ে পড়ে আছে৷ আমির চোখট বন্ধ করে মুখটা অন্য দিকে ফিরে দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে ইয়ামিনার বাসে ধপ করে বসে পড়ে। পাশ থেকে চাদর টেনে ইয়ামিনার সাড়া শরীরে মুড়িয়ে সাদা চাদরে আবদ্ধ করে নেয়। ইয়ামিনাকে টেনে আমির নিজের বুকে জড়িয়ে ধরে৷

চোখের জল যেন বাধা মানচ্ছে না। আমির ইয়ামিনার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। কি নিষ্পাপ মুখ। ইয়ামিনাকে আরও শক্ত করে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে আমির।আমির চেয়ে কাদতে পারচ্ছে না। ছেলেদের যে কাদতে নেই। এই নিষ্পাপ মেয়েটাকে অপবিত্র করতে চেয়েছে ভাবতেই আমিরের শরীর কেপে উঠচ্ছে। রাগে মাথা ধরে গেছে৷ আল্লাহ রমহতে আজ ইয়ামিনাকে বাচাতে পেরেছে যদি একটু দেরি হয়ে যেত ভাবতেই আমিরের চোখ দুটো বন্ধ করে নেয়।অনেক কষ্ট সহ্য করছো । অনেক কষ্ট দিয়েছি তোমাকে তাই না আর না। আর কষ্ট দিব না শুধু ভালো বাসবো। ভালোবাসা দিয়ে সব ঠিক করে দিব। এতএত ভালো বাসবো যে তোমার সব কষ্ট ভুলিয়ে দিব। ভালোবাসি আমার মিষ্টি পাখি। অনেক অনেক বেশি ভালো বাসি। আমার রাজ্যের রাণী করে রাখবো মিষ্টিপাখি আমার। ইয়ামিনাকে আরও নিজের কাছে টেনে নেয় আমির। তুমি শুধু আমার। তুমি চাইলেও আমার না চাইলেও আমার। তুমি আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে গেছো ইয়ামিনা তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না।

অন্যদিকে গার্ডসরা দরজা ধাক্কিয়ে চলচ্ছে৷ দরজা এমন ভাবে তৈরী করা হয়েছে ভাঙা তো দুরের কথা পিন কোড ছাড়া দরজার লকও খোলা যাবে না। এতক্ষন জাবির আর জাফরা এসে পড়ে গার্ডসরা দৌড়ে যেয়ে গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে তারা নেমে পড়ে।

জাবির ব্রু কুচকে বেশ বিরক্ত নিয়ে বলে…. সমস্যা কি এখানে কি সার্কাস চলচ্ছে আপনারা দরজার সামনে দাড়িয়ে কি করছেন।
একজন গার্ডস বেশ হাপিয়ে বলে… স্যার দরজা ভেতর থেকে লক করা কিন্তু ভেতর থেকে অনেক ভাঙচুরের আওয়াজ আসচ্ছিল তাই আমরা সবাই খোলার চেষ্টা চালাচ্ছিলাম।

জুবির বুঝে গেছে আমির আবার হয়তো ইয়ামিনার উপর রাগ করত দেখাচ্ছে। দ্রুত যেতে দরজার লক খুলে ভেতরে ঢুকতেই জাবির আর জাফরা অবাক এইভাবে ভাঙচুর কে করলো ফ্লোরে এত রক্ত কেন। জাফরা ভয় পেয়ে যায় এত রক্ত দেখে। জাবির অবাক হয়ে বলে… এত রক্ত কিভাবে আসলো
রক্ত রুম বরারব চলে গেছে জাবির জাফরা রুমের দিকে ছুটে চলে…

আমির চোখ দুটো লাল হয়ে ফুলে আছে।সাদা পাঞ্জাবীতে রক্তের দাগ লেগে আছে। আমির ইয়ামিনাকে ওইভাবে বুকের মধ্যে জড়িয়ে রেখেছে।তার কিছুদুরে রুহানের নিথর দেহটা পড়ে আছে।

জাবিরের যেন সব কিছু মাথা উপর দিয়ে যাচ্ছে। জাবির বেশ রাগ মিশ্রিত কণ্ঠে বলে…. আমির এসব কি হচ্ছে ঘরের এই অবস্থা কেন।।

আমির লাল লাল চোখ নিয়ে জাবিরের দিকে তাকায়। তারপর ইয়ামিনাকে কোলে তুলে নেয়৷ জাবির আর জাফরার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে আমিরকে এইভাবে দেখে। আমির চিৎকার দিয়ে গার্ডসদে ডাক দেয়….

গার্ডসরা আসলে আমির বেশ গম্ভীর কন্ঠে বলে…. আমি এসে এই নদর্মার কীটাকে এখানে না দেখি ইশারা করে বলে জাস্ট ফিনিস।।
গার্ডসদের ভয়ে কাপাকাপি শুরু হয়ে গেছে আমিরকে এইভাবে দেখে আগের ফর্মে এসে পড়েছে আমির।। এখন আমির কতটা ভয়ংকর হতে পারে কারো কোনো ধারনা নেই।

আমির রুমে এসে ইয়ামিনাকে শুয়ে দেয় বিছানায়। ইয়ামিনার কপালে গভীর ভাবে নিজের ঠোট ছোয়ায়।আমার মিষ্টিপাখি আজ থেকে শুধু ভালোবাসবো তোমাকে। একবার সুস্থ হয়ে নাও।কোনো কষ্ট তোমাকে স্পর্শ করতে দিবো না।আমির রুম থেকে বের হয়ে জাফরা ভাবিকে ডাক দেয়।জাফরা যে এখনো শকডে আছে। সামনে আমিরকে দেখে বিশ্বাস হচ্ছে না। এটা আসলে আমির নাকি।

ভাবি আমি আপনাকে কিছু বলছি…. আমিরের কথায় জাফরার ধ্যান ভাঙে… ও হ্যা কি বলছিলে

ভাবি ওর শরীরের অবস্থা তেমন ভালো না আপনি ওর কাপড় চেঞ্জ করে দিন আমি ডক্টরকে কল করে আসতে বলচ্ছি…

জাফরাকে কিছু না বলতে দিয়ে আমির চলে আসে।
________________________🌸🌸🌸
ড.আবির গালে হাত দিয়ে বসে আছেন। তার সামনে কি সুন্দর করে আমির হেটে চলচ্ছে। আবির বেশ অবাক হাটতে পারবে জানতো কিন্তু ভাবতে পারে নি এত আরলি আমির স্বাভাবিক ভাবে হাটতে পারবে।

আমির হাত বাজ করে আবিরের সামনে দাড়ায়…. তো মি.আবির দেখলেন তো এখন বলেন আর কোনো ফ্যাকচার আছে বা প্রবলেম।

ড.আবির বেশ ফুরফুর মন নিয়ে বলে… নো স্যার আর কোনো প্রবলেম নেই। তবে এখন মাএই সেড়ে উঠেছেন পায়ে প্রেসার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এত বেশি প্রেসার দেওয়া যাবে না। আসলে আল্লাহ রহমত ছাড়া এত দ্রুত সুস্থ হওয়া পসিবল ছিল না। ক্রেডিট কিন্তু আপনার বউয়ের সবচেয়ে বেশি দেওয়া চলে।মেয়েটা আসলে দিনরাত পরিশ্রম করে আপনার সেবা করেছে। আমাকে বার বার ফোন দিয়ে সব ইনফরমেশন নিতো।
ইয়ামিনার নামত শুনতে আমিরের মুখে হাসি রেখা চলে আসে।
আচ্ছা আমি আসি তাহলে আপনি একটু আমার চেম্বারে আসবেন চেক আপ করা বেশ দরকার। ড.আবির চলে যায়।

কিছুক্ষন আগে ইয়ামিনারকে চেক আপ করে ড.রাবেয়া ব্যথার কিছু মেডিসিন আর মলম দিয়ে যায়। আমির রুমে ঢুকে দেখে ইয়ামিনা এখনো ঘুমিয়ে আছে। আমির পাশে বসে ইয়ামিনার হাতটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ইয়ামিনার দিকে কিছুক্ষন চেয়ে থেকে ইয়ামিনার দুচোখে চুমু দেয় আমির মাথায় হাত বুলিয়ে। কিছুক্ষন পর উঠে দাড়িয়ে বারান্দায় যায় আমির।
.
.
.
চলবে…..🌸🌸

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here