হৃদয়ের প্রতিশ্রুতি পর্ব শেষ

🌸#হৃদয়ের_প্রতিশ্রুতি🌸

#লেখিকাঃআদিলা
#পর্বঃ২৯ (অন্তীম)
__________________________🌸🌸
মেইন রোড সো সো করে গাড়ি গুলো নিজ গতিতে ছুটচ্ছে। এত এত গাড়ি থাকার সত্ত্বেও কেউ কারো জন্য থামচ্ছে না নিজ গতিতে চলচ্ছে। এমন একটা জাগায় এসে সেএঞ্জি ইয়ামিনাকে নামিয়ে দিয়ে যায়। ফোনের দিকে তাকিয়ে ইয়ামিনা দেখে সেম এড্রেস কিন্তু পুরোনো ময়লায় স্তুপ জোরানো দোতলা বিল্ডিং। আশেপাশে জোপঝাড়। বাড়ির দেওয়াল গুলোতে ঘেষ বেয়ে শিকল গুলো অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠেছে। ইয়ামিনার বুঝতে আর বাকি নেই তাকে ট্রেপে ফেলা হয়েছে। ইয়ামিনার কপাল বেয়ে বিন্দু বিন্দু গড়িয়ে গলা ভিজিয়ে দিচ্ছে। হার্টবিট অসম্ভব রকমের ভাবে ওঠা নামা করচ্ছে। ইয়ামিনা হাতের উল্টো পিট দিয়ে ঘাম মুছচ্ছে কি করবে বুঝতে পারচ্ছে না। এদিক ওদিক তাকিয়ে পা আগে বাড়াতে নিলে হটাৎ কারো কন্ঠে থেমে যায়।

ইয়ামিনা ঘাড় গুড়িয়ে মানুষটাকে দেখে আরও বেশি ভয় পেয়ে যায়। ভয়ে ইয়ামিনার শরীর কাপচ্ছে অনবরত।।
আ…আ…আপনি।
কেন অন্য কাউকে আশা করেছিলে বুঝি সুন্দরী।উফফফফ কত দিন পর তোমাকে এত কাছে থেকে দেখচ্ছি। কিন্তু সে দেখাটা আর ভালো করে হয়ে উঠলো না ক্লাইন্টরা ওয়েট করছে সুন্দরী তোমাকে এক নজর দেখার জন্য।

এদিক দিয়ে আমির ফোন দিয়ে চলচ্ছে অনবরত ইয়ামিনাকে। ইয়ামিনা কোন মতে ফোনটা রিসিভ করে হাতেই রাখে যাতে আমির সব শুনতে পারে।।
এদিক দিয়ে আমিরের অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে ইয়ামিনাকে ভার্সিটির কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। হটাৎ ইয়ামিনার নাম্বার থেকে মেসেজ পেতে আমির সেটা ওপেন করে দেখে একটা এড্রেস। আমর এক হাতে গাড়ি ড্রাইভ করছে আর ইয়ামিনার ফোনে ফোন দিয়েই চলচ্ছে। এইবার ফোনটা লেগেছে আমির হেলো বলতে ওপাশ কারো কন্ঠ শুনে থমকে যায়।।

ইয়ামিনা ভয় পেলে একটু জোরে গলায় বলে…শ…শি..শিহাব আপনি।আমি আপনাকে ভাইয়ার চোখে দেখেছি আর আপনি এসব কি বলচ্ছেন ভালোই ভালো আমাকে যেতে দিন না হলে উনি আপনার এমন অবস্থা করবে মুখ দেখানোর সাহস থাকবে না।
__এই কাকে ভয় দেখাও এই শিহাবকে তোমার মত এরকম অনেক মেয়েকে গুম করেছে কেউ তার শরীরের চিহ্ন টুকূ খুজে পায়নি।

__ওপর পাশ দিয়ে আমির কথা বলেই যাচ্ছে…মিষ্টিপাখি একটু শান্ত হও আমি এখুনি আসচ্ছি তুমি ভয় পেও না হেলো মিষ্টিপাখি শুনতে পারচ্ছো…
__এখন আমার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের দিকে….বলতে শিহাব থেমে যায় কারন ইয়ামিনার হাতে চাপ লেগে ভুলবশত ফোনটা লাউডে চলে যায়।

আর তখন শিহাব আমিরের কন্ঠ শুনতে পায়। শিহাব ইয়ামিনার হাত থেকে একটানে ফোন ফোনটা নিয়ে
আছড় দিয়ে মাটিতে ফেলে। আর সাথে সাথে লাইনটা কেটে যায়।

কিরে কি ভেবেছিস তোর চালাকি ধরতে পারবো না আমাকে অনেক দৌড়িয়েছিস এখন চুপচাপ ভদ্র মেয়েত মত আমার সাথে চল নইতো আজ তোর কি অবস্থা করবো তুই নিজেও জানবি না বলে শিহাব ইয়ামিনার হিজাবের উপর দিয়ে চুলের মুঠি ধরে। ইয়ামিনা নিজেকে ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেই যাচ্ছে কিন্তু কোনো ভাবে নিজেকে ছাড়াতে পারছে না। এক পর্যায় ইয়ামিনা শিহাবের পায়ে জোড়ে একটা পা দিয়ে লাথি দেয়।শিহাবের হাত কিছুটা আলাদা হয়ে আসতে ইয়ামিনা শিহাবকে জোড়ে ধাক্কা দিয়ে মেইন রোদের দিকে দৌড় দেয়।।
_
_
_
_

“ইয়ামিনার সারা শরীর ঘেমে ভিজে একাকার হয়ে গেছে। তারপর ইয়ামিনা থেমে নেই তার পেছন শিহাব ও তার লোকেরা দৌড়াচ্ছে। এদিকে আমির দুর থেকে দেখে কেউ একজন অগোছালো ভাবে দৌড়ে এদিকে আসচ্ছে। আমির জোরে ব্রেক কষে গাড়ি থেকে বের হয়। ভালো করে তাকিয়ে দেখে সেটা আর কেও নয় ইয়ামিনা। ইয়ামিনা আমির কে দেখে যেন হাফ ছাড়ে পিছে তাকিয়ে দেখে শিহাব ও তার লোকেরা নেই ইয়ামিনা হাটুতে হাত রেখে হাফাতে হাফাতে আমিরের দিকে তাকায় ঠোটে প্রস্তুত একটা হাসি দেয়। আমির ইয়ামিনার নাম ধরে জোরে চিৎকার দেয়।হটাৎ আমির থেমে যায় ইয়ামিনাকে হাত দিয়ে ইশারা করছে সাইডে সরে যাওয়ার জন্য। আমিরের থেকে দূরে থাকায় ইয়ামিনা বুঝতে পারচ্ছে না আমির কি বুঝাচ্ছে। ইয়ামিনা ঠিক ভাবে দাড়িয়ে আমিরের দিকে হেসে আসতে নিলে হটাৎ পিছন থেকে একটা গাড়ি ইয়ামিনাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। ছিটকে পড়ে ইয়ামিনা রাস্তার ওপাশে। কিছুক্ষনের জন্য আমির স্তব্ধ হয়ে গেছে।আমিরের পুরো দুনিয়া উল্ট পাল্ট হয়ে গেছে। আমির ওখানে বাকরুদ্ধ হয়ে দাড়িয়ে আছে।
ইয়ামিনার মৃদু মৃদু চোখ মেলে কোনো মতে রক্তে মাখা হাতটা উপরে ওঠাতে যেয়েও পারে না তার আগে ইয়ামিনা আমিরের মুখটা অস্পষ্ট হয়ে আসে সব কিছু অন্ধকার হয়ে যায়।

আমিরের টনক নড়তে ইয়ামিনা বলে জোরে চিৎকার দেয়। নিরব জন মানবশুন্য রাস্তা আমিরের আর্তনাদ শোনার মত কেউ নেই। ইয়ামিনার মাথা নিজের কোলে মধ্যে রেখে পাগলের মত ইয়ামিনাকে ডেকে চলচ্ছে আমির। ইয়ামিনার রক্ত আমিরের সাদা শার্টে পুরো মেখে গেছে। আমির জোরে জোরে চিৎকার করে চলচ্ছে।
ম..ম..মিষ্টিপাখি তাকাও আমার দিকে এই মিষ্টিপাখি কি হলো তাকাও আমির ইয়ামিনার গাল হাল্কা চাপড়ে অস্থির হয়ে পাগলের প্রলাপ বলচ্ছে।আমির কোনো রকম ইয়ামিনাকে গাড়িতে তুলে হসপিটালের নিয়ে যায়।।
_
_
_

ওটিতে লাল লাইট এখনো জ্বলচ্ছে। বেশ অগোছালো হয়ে আছে আমির কোনো রকম দেওয়ালে ঠেস দিয়ে দাড়িয়ে আছে। সব কিছু যেন অন্ধকার লাগচ্ছে আমিরের কি থেকে কি হয়ে গেলো। আমিরের সাদা শার্টে ছোপ ছোপ রক্তের দাগে লাল হয়ে আছে।

এতক্ষনে জাবির জাফরা আরুশিও হসপিটালের এসে পড়ে। তাদের খবর অনেক আগে দেওয়া হয়েছিল।। জাফরা শরীর ভালো না তেমন একটা তাই জাবির মানা করে দিয়েছিল কিন্তু জাফরা জেদ ধরেছিল যাবে তাই নিয়ে এসেছে৷ জাবির আমিরের ঘাড়ে হাত রাখে…করুন গলায় বলে উঠে…

___এখন কি অবস্থা।।

অশ্রুসিক্ত চোখে আমির তাকায় জাবিরের দিকে। মনে হচ্ছে আমিরের কলিজা কেউ ধুমরে মুচরে দিয়েছে। অসহ্য যত্ননা হচ্ছে তা জাবির আমিরের চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারচ্ছে।। আমিরের আরুশি দিকে চোখ যেতে রাগ যেন আরও বেড়ে যায়। আরুশির সামনে যেয়ে ঠাসসসসসস করে একটা চড় বসিয়ে দেয়।
হঠাৎ এমন হওয়াও আরুশি কেদে ওঠে। জাফরা ভাবি সামনে এসে দাড়ায়… কি করছো কি আমির ও গায়ে হাত তুলেছো কেন।
__ভাবি প্লিজ তুমি সাইডে যাও আরুশি সাথে আমার বোঝাপড়া আছে। বল শিহাব কে। শিহাবের ব্যাপারে তুই আগে জানতি না ও কতটা নিচু মাইন্ডের ছেলে আমাকে কেন বলিস নি এসব ব্যাপারে।
আরুশি কাদো কাদো অবস্থা সবকিছু বলে দেয়।
ডাক্তার অটি থেকে বের হয়ে বলে…এক্সকিউজ মি

আমির অস্থির হয়ে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে…আ..আ..আমার বউ ঠিক আছে ওর কিছু হয়নি তো।।

ডাক্তার মৃদু শ্বাস ছেড়ে আমিরের কাধে হাত রাখে…আমরা যথা সম্ভব চেষ্টা করচ্ছি মি.আমির।আসলে উনার অনেক জায়গায় ফ্যাকচার হয়েছে আর মাথায় বেশি আঘাত পাওয়ার কারনে কমায় চলে যেতে পারে। দু’জনের অবস্থা এখন আঙ্গক্ষাজনক।

দুজন শুনে আমির ডক্টরের দিকে তাকায়..দুজন মানে!!
ডাক্তার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে……উনি দু মাসের অন্তসস্তা। এখন দুজনেরই লাইফ রিস্কে আছে। আমরা সর্বচ্চ চেষ্টা করছি বাকিটা আল্লাহর হাতে বলে ডাক্তার চলে যায়।।

আমির যেন এখনও স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে আছে। ধপাস করে মাটিতে হাটু ঘেরে বসে পরে। আমিরের সব কিছু মনে হয় অন্ধকার হয়ে গেছে। কথাবলার সাধ্যটুকু নেই। জাবির এসে আমিরকে সামলায়।

এদিক দিক দিয়ে বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা থেকে রাত হতে চলচ্ছে কিন্তু ডাক্তারা কিছুই বলছে না।সারাদিন আমির না খেয়ে বসে আছে জাফরা ভাবি অনেক জোর করেছি কিন্তু কোনো লাভ হয়নি৷ হসপিটালের করিডোরে নিস্তব্ধ হয়ে একপাশে বসে আছে আমির তার পাশে জাবির আমিরকে শান্তনা দিচ্ছে আর অন্য দিকে জাফরার পাশে আরুশি বসে আছে।।
সময় যেন অতিবাহিত হচ্ছে নিজের মত আমির আর না পেরে উঠে দাড়ায় চুপচাপ ওযু করে হসপিটালের নামাজ ঘরে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজে দাড়িয়ে যায়।।।

সালাম ফিরিয়ে মোনাজাত শেষ করতে হঠাৎ আরুশি দৌড়িয়ে রুমে আসে কিছুক্ষন হাপিয়ে আওয়াজ করে বলে উঠে….ভাইয়া ভাবীর জ্ঞান ফিরেছে।

শোনা মাএ আমির দেরি না করে এক দৌড়ে ইয়ামিনার কেবিনে সামনে দাড়ায়। দেখে ডক্টর বেশ হেসে জাবিরের সাথে কথা বলচ্ছে।।

___ড…ড..ডক্টর আমার মি..

রিলাক্স মি.আমির আপনার বউ এখনআউট অফ ডেঞ্জার এবং একটা গুড নিউজ আছে। আলহামদুলিল্লাহ আপনার বউয়ের সাথে বেবিটা ঠিক আছে কিন্তু উনাকে একমাস সম্পুর্ন বেড রেস্টে থাকতে হবে।

___আমি কি ওর সাথে দেখা করতে পারবো ডক্টর।
__ইয়াহ মি.আমির বাট রোগীর যেন ডিস্টার্ব না হয় বলে ডক্টর চলে যায়।।

“আমির আলতো করে দরজা ঠেলে ইয়ামিনার কেবিনে প্রবেশ করে। ইয়ামিনা চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। হাতে পায়ে মাথায় বেন্ডিজ করা। হাতে ক্যানেল লাগানো। আমিরের চোখে অবাধ্য কিছু জল। ইয়ামিনার সামনে দাড়িয়ে কপালে আলতো করে ঠোঁট ছোয়া আমির। ইয়ামিনা চোখ মেলে তাকায়। আমির ইয়ামিনার দুচোখের পাতাতে ঠোট ছোয়ায়।
ইয়ামিনার কানের সামনে মুখ এনে ফিসফিসিয়ে বলে…. কংগ্রেস মিষ্টিপাখি। থেং ইউ সো মাচ আমাদের দুজনকে পরিপূর্ন করার জন্য।

ইয়ামিনা হাল্কা হেসে আমিরের হাতের উপর হাত রাখে। আমির ইয়ামিনার কপালের সাথে কপাল ঠেকে নরম গলায় বলে…. ভালোবাসি মিষ্টিপাখি এবং সারাটাজীবন বাসতে চায়। ইয়ামিনা আমিরের হাতটা শক্ত করে ধরে।।

সমাপ্ত__________________🌸

“ঠাসসসসসসসসসস।পুরো হল রুম কাপিয়ে একটা শব্দ হলো। সারা গালে হাতদিয়ে রেখেছে চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়চ্ছে। পুরো হল রুম জুরে মানুষ সারার দিকে তাকিয়ে আছে। সামনে থাকা ব্যাক্তিটি বেশ অগোছালো হয়ে আছে। চুল গুলো বেশ এলোমেলো হয়ে আছে। পুরো মুখ জুড়ে ক্লান্তির ছাপ।সামনে থাকা ব্যাক্তিটি একটা চেয়ার টেনে পায়ের ওপর পা তুলে চেয়ারে আরামসে বসে। সামনে আসা সিল্কি চুল গুলো পিছনে ঠেলে দিয়ে কিছুক্ষন মাথায় বৃদ্ধা আঙুল ঘষে বেশ গম্ভীর কন্ঠে বলে…

____কে ছিল ছেলেটা।

সারার চোখ দিয়ে অনবরত পানি পরছে। এমন ঘাতক কন্ঠে সারার কাপাকাপি অবস্থা।এক গালে হাত দিয়ে সারা অনবরত কেদেই চলছে। কিন্ত হল রুমে এত মানুষ থাকতে কেউ সারার ধারের কাছে আগাচ্ছে না সামনে থাকা ব্যাক্তিটির কারনে। কারন তার রাগ আর তার কাজে বাধা দেওয়া কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা সবাই জানে।

_____আমি কিছু জিজ্ঞেস করেছি তোকে। এন্সার মি কুইক!

সারা কাদো কাদো অবস্থায় হাল্কা মাথা উচু করে কিছুটা দূরে মার দিকে তাকায় তারপর চাচা চাচী খালা খালু মামা মামীর দিকে এক এক করে চোখ বুলায়। আজ কেউ তাকে এই ব্যাক্তি থেকে বাঁচাতে পারবে না সেটা তাদের চাহনি বলে দিচ্ছে।। সে আশা করা নিরাশ।

সমাপ্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here