হৃদয়ের প্রতিশ্রুতি পর্ব ১৭+১৮

🌸#হৃদয়ের_প্রতিশ্রুতি🌸

#লেখিকাঃআদিলা
#পর্বঃ১৭_১৮
__________________________🌸
পিচধালা রাস্তার দু পাশে সাড়ি সাড়ি করে গাছ বাতাসের গতিতে এদিক ওদিক হেলে পড়চ্ছে।নির্জন রাস্তা। আমির গাড়ি ড্রাইভ করচ্ছে। ইশিতার জন্য মেজাজটা খারাপ থাকলেও আমিরের এখন মনটা বেশ ফুরফুরে। ইয়ামিনা খুব চকলেট পছন্দ করে তাই আমির এত গুলা চকলেট নিয়েছে তার মিষ্টিপাখির জন্য সাথে এক গুচ্ছ সাদা গোলাপ।।

ইয়ামিনা বারান্দায় গ্রিল ধরে দাড়িয়ে আছে। সারাদিন পানির নিচে থাকার কারনে মাথা ঝিম ধরে আছে। কান্নার কারনে চোখ গুলো ফুলে আছে। নিচে আমিরের গাড়ি দেখতে পেয়ে ইয়ামিনা রুমে চলে আসে আমিরের মুখটাও দেখতে ইচ্ছে করছে না ইয়ামিনার। এতে ইয়ামিনার কষ্ট যেন আরও বেড়ে যাচ্ছে।।ইয়ামিনার নিজের কাপর গুলো ভাজ করে আরমারিতে রাখছে৷
আমির রুমে দরজায় হেলান দিয়া দুহাত ভাজ করে দাড়ায়। একটু সময় নিয়ে ইয়ামিনাকে দেখচ্ছে। মন ভরে দেখে নিচ্ছে৷ ইয়ামিনাকে দেখে একটা প্রশান্তির হাসি দেয়। এছাড়া তো ইয়ামিনাকে দিকে ভালো ভাবে তাকাতে পারে না সারাদিন এদিক ওদিক ছুটে বেড়ায়।তাই আমির মন ভরে তার মিষ্টি পাখিকে দেখে নিচ্ছে৷

আমির ইয়ামিনার সামনে গিয়ে দাড়ায়। ইয়ামিনা বুঝতে পেরে নিজের কাজ করে চলচ্ছে। একবারে জন্য পিছে ফিরে তাকায় নি।

আমির মিষ্টি হাসি নিয়ে বলে…. কি হলো আমি এতক্ষন ধরে দাড়িয়ে আছি দেখতে পাও নি।আহ পাবে কি ভাবে ম্যাডাম যে সারা কাজে ব্যাস্ত থাকে। এই নিরীহ মানুষের দিকে তাকানোর সময় আছে।

ইয়ামিনা শুনেও না শুনার মত নিজের কাজ চুপচাপ করে যাচ্ছে। আমিরের দিকে তাকাতেও তার ইচ্ছে করচ্ছে না।

কি হলো আমি কিছু বলচ্ছি শুনছো৷ বলে আমির ইয়ামিনার কাধে হার রাখে.. কি হয়েছে শরীর খারাপ তোমা…বলতে না বলতেই ইয়ামিনা রাগে এক ঝাটকা মেরে হাতটা সরিয়ে ফেলে আমির দিকে ঘুড়ে রাগি দৃষ্টিতে তাকায়।
আমির অবাক হয় ইয়ামিনার এমন আচরণে তার থেকে বেশি অবাক হয় ইয়ামিনার মুখের অবস্থা দেখে চোখ মুখ ফুলে একদম লাল হয়ে আছে। বুঝাই যাচ্ছে অনেক কান্না করেছে…. ইয়ামিনাকে এমন ভাবে দেখে আমিরের বুকটা ছেদ করে উঠেছে।

আমির কিছু বলতে নিবে…তার আগে ইয়ামিনা বলে… সমস্যা কি আপনা গায়ে হাত দিয়া ছাড়া কি কথা বলা যায়না ।নাকি নিজেকে ঠিক রাখতে পারেন না। দেখছেন না কাজ করছি তো এসে ডিস্টার্ব করচ্ছেন কেন।।

আমির অবাক হয়ে আছে। মিষ্টিপাখি তোমার এই অবস্থা কেন কি হয়েছে কেউ কিছু বলেছে বলো শরীর খারা…প্লিজ আপনি যান তো আমার ভালো লাগচ্ছে না আপনার মুখ দেখতে। আমাকে আমার কাজ করতে দিন। প্লিজ যান৷

আমির হতভাগ হয়ে দাড়িয়ে আছে ইয়ামিনার এমন আচরনে একটু কষ্ট হচ্ছে কিন্তু ইয়মিনার চোখে সেটা পড়ে নি। ইয়ামিনাকে আমির কখনো এইভাবে কথা বলতে দেখে নি। যা কিছু হয়ে যাক না কেন সবসময় মুখে একটা হাসি ঝুলিয়ে কথা বলত। যা আমিরের সব কষ্টকে ভেঙে ঘুর ঘুর করে দিতো।

আমিরকে এইভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে ইয়ামিনা বলে উঠে… থাকেন আপনি আমি চলে যাচ্ছি রুম থেকে বলে ইয়ামিনা রুম থেকে বের হয়ে যায়।আমির এখনো বাকরুদ্ধ হয়ে দাড়িয়ে আছে।।

রাতে খাওয়ার টেবিলে ইয়ামিনা আমিরে দিকে ফিরে তাকায়নি খাবার বেড়ে দিচ্ছে কিন্তু একবারের জন্য আমিরের দিকে চোখ তুলে তাকায় নি।

আমির এক দৃষ্টিতে ইয়ামিনার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ গুলো লাল হয়ে আছে। আর প্লেটে আঙুল ঘুড়াচ্ছে।

পাশ থেকে জাফরা ভাবি ইয়ামিনাকে বলে… ইয়ামিনা দেখতো আমির তো কিছুই নেয় নি প্লেট খালি হয়ে আছে। তরকারিটা বেড়ে দাও।

ইয়ামিনা চুপ করে বেরে দিতে নিলে
আমার ক্ষিধে নেই বলেই আমির চোয়াল শক্ত করে সেখান থেকে উঠে যায়।

জাবির জাফরা অবাক হয় আমিরের এমন আচরণ দেখে। কি হলো না খেয়ে উঠে গেলো কেন

ভাবি চিন্তা করেন না উনার হয়তো ক্ষিধে নেই।ক্ষুধা লাগলে নিজে খেয়ে নিবেন।আপনারা খেয়ে নেন৷

আর কিছু না বলে সবাই চুপচাপ খেয়ে নেয়। ইয়ামিনা খেতে বসলে খেতে পারিনি। কোনো রকম উঠে রুমে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে।শরীরটা ক্লান্ত লাগচ্ছে। সারাদিন শাওয়ারের নিচে থাকার কারনে শরীরটা একদম নেতিয়ে পড়েছে জ্বর জ্বর লাগছে।

আমির বারান্দায় দাড়িয়ে আছে ভেবেছিল না খেয়ে উঠা আসার ফলে ইয়ামিনা আসবে জোর করে আমিরকে নিয়ে যাবে খেতে। কারন আগে আমির খেতে না চাইলে ইয়ামিনা জোর করে খাইয়ে ছাড়ত আমিরকে। আমির আকাশের দিকে কিচ্ছুক্ষন তাকিয়ে থাকে।
এমন কেন করছো মিষ্টিপাখি আমার যে খুব কষ্ট হচ্ছে দেখতে পারচ্ছো না। তোমার ইগনোর আমার সাথে কথা না বলা আমাকে যে খুব পুড়াচ্ছে তুমিকি দেখতে পাও না ।। কেন এমন করচ্ছো?
আমার যে ভীষণ ভাবে তোমাকে চায়। তোমার ভালোবাসায় চায়।তোমার কেয়ার চায় আমার ছোট জিনিস গুলোর প্রতি খেয়াল রাখা। পুরো তুমিটাকে আমার চায় মিষ্টিপাখি।

তোমার এই কেয়ার আর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য হাজার বার এক্সিডেন্টে করতে রাজি আছি কিন্তু তোমার অবহেলা আমি নিতে পারচ্ছি না। আমির নিজের মনের সাথে কথা গুলো বলচ্ছে।

আর কিছুক্ষন থেকে আমির রুমে যায়। গিয়ে দেখে ইয়ামিনা এলোমেলো ভাবে শুয়ে আছে। পেট থেকে সাড়িটা অনেক খানি সরে গেছে পা থেকে সারিটা হাটু পর্যন্ত এসে পড়েছে যার কারনে ইয়ামিনার ফর্সা শরীরটা ভালো ভাবে দেখা যাচ্ছে।
আমির একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ইয়ামিনার কাছে যেয়ে পেটের দিকে সারিটা ভালো করে টেনে দেয়। পায়ের কাছে যেয়ে সারিটা ঠিক করতে নিলে ইয়ামিনার ঘুম ভেঙে যায় চোখ বড় বড় করে তাকায়।।।

করছেনটা কি পায়ের নিচে কি। কিছু বলছিনা দেখে কি আমার উপর চড়ে বসবেন। নাকি নিজেকে ঠিক রাখতে পারচ্ছেন না আমাকে এইভাবে দেখে। নিজের পুরুষত্ব খাটাতে চান কোনটা৷

আমির চোখ দুটো লাল হয়ে আসে। ভাবতেই পারচ্ছে না ইয়ামিনা এসব কথা বলবে ইচ্ছে করচ্ছে গালে চড় বসিয়ে দিতে।।
আমির ঝাজালো কন্ঠে বলে… পাগল হয়ে গেছো কি সব বলছো।আমি কখনো এসব চিন্তা মাথায়ও আনিনি। আর তুমি আরে সুযোগ যদি নেওয়ারই হতো তাহলে অনেক আগে নিতাম।বলে আমির উঠে চলে যায়। পাশে টেবিলে গোলাপটা আগের মত পড়ে আছে নেতিয়ে গেছে একদম।আমির রাগে গোলাপ আর চকলেট গুলো ফ্লোরে ছুড়ে মেরে সোফায় এসে শুয়ে পড়ে।

ইয়ামিনার খুব কান্না পাচ্ছে। এসবের উপর অতিষ্ঠ হয়ে গেছে।এইভাবে আমিরকে কখনো বলতে চায় নি। কিন্তু দুপুরের ঘটনা মনে হতে ইয়ামিনার সব কিছু চুর মার হয়ে যায়। কাদতে কাদতে ইয়ামিনা কখন ঘুমিয়ে গেছে খেয়ালি নেয়।।।
.
.
.
.
কারো গোঙানির আওয়াজে মাঝ রাতে আমিরের ঘুমটা ভেঙে যায়। অন্ধকারে বুঝা যাচ্ছে না কিছু।আমির উঠে বসে ভালো করে দেখার চেষ্টা করে ইয়ামিনার কিছু হয়েছে কিনা। না কিছুই বুঝা যাচ্ছে না আওয়াজটা এখনো হচ্ছে আমির লাইট অন করে ইয়ামিনার পাশে দাড়ায় গায়ে হাত দিয়ে যেন সড়িয়ে নেয় ইয়ামিনার বলা কথা গুলো এখনো আমিরের কানে ভাসচ্ছে।। আমির একটা লম্বা শ্বাস ছেড়ে সব দিধাদন্ড ভুলে ইয়ামিনার কপালে হাত রাখে….

হাত রেখে আমির ঘাবড়ে যায়। ইয়ামিনার প্রচন্ড জ্বর উঠেছে।জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। জ্বরে বার বার বির করচ্ছে। আমির অস্থির হয়ে ইয়ামিনার পাশে বসে । ইয়ামিনাকে কয়েকবার ডাকে কিন্তু ইয়ামিনার কোনো হুসই নেয় বললে চলে।।
আমির কি করবে বুঝতে পারচ্ছে না। উঠে গামলাতে করে পানি নিয়ে এসে ইয়ামিনা কপালে রুমাল পানিতে ভিজিয়ে বার বার দিচ্ছে। জ্বর মেপে দেখেছে একশর উপরে জ্বর। আমির একটু পর পর ইয়ামিনার কপালে রুমাল ভিজিয়ে দিচ্ছে।

মিষ্টিপাখি খুব কষ্ট হচ্ছে৷এত জ্বর কিভাবে হলো।

হঠাৎ ইয়ামিনা জ্বরের ঘোরে আমিরকে জড়িয়ে ধরে হুর হুর করে কেদে দেয়।আমির অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে মিষ্টিপাখি কেউ কিছু বলেছে আমাকে বলো।আমির ইয়ামিনাকে জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে আরও শক্ত করে৷

ইয়ামিনা আমিরের টিশার্ট আরও খামচে ধরে আরো জোরে জোরে কেদে দেয়। এমন ভাবে ধরে রেখেছে যে ছাড়লে আমির হারিয়ে যাবে।

আপনি কেন আমার হবেন না বলেন না।। এত কিছু করার পর আপনাকে কেন নিজের করে পায় না। বলেন না আমাকে কি ভালোবাসা যায় না। আমি যে আর পারচ্ছিনা কষ্ট হয় আপনার বুকে ওই ইশিতাকে দেখলে। বলেন না আমি এতটাই খারাপ যে আমি কারো ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য নই।।।ইয়ামিনার গলা ধরে আসচ্ছে… আ…আ..আমি সব কিছু সইতে পারবো কিন্তু আপনাকে অন্য কারো সাথে মেনে নিতে পারবো না। বলেন না ওই ইশিতার মধ্যে কি আছে যা আমার মাঝে নেই। বলেন না!!!ইয়ামিনার নিজের নিজেই বির বির করে চলচ্ছে…

তার মানে ইশিতার সাথে দেখে আমিরকে ভুল বুঝেছে ইয়ামিনা। আমিরের যা বুঝা বুঝে নিয়েছে। আমিরের চোখে পানি তার মিষ্টিপাখি তার ভালোবাসা চায়। আমির ইয়ামিনার আরও নিজের সাথে চেপে ধরে…

এই তাকায় আমার দিকে কে বলেছে খারাপ তুমি তো আমার মিষ্টিপাখি। আমার মিষ্টিপাখি কখনও খারাপ হতে পারে৷

ইয়ামিনা ঠোট উল্টিয়ে ফেলে… না আপনি আমাকে ভালোবাসেন না। একটু ভালোবাসলে কি হয়।।

অনেক ভালোবাসি মিষ্টিপাখি তুমি ছাড়া আমি শুন্য। আমি নিজেকে কল্পনা করতে পারিনা ভাবতে পারি না। তুমি আমার অভ্যাস আমার ভালোবাসা মিষ্টিপাখি। খুব খুব ভালোবাসি।।আমির ইয়মিনার মুখে ছোট ছোট করে অজস্র চুমুতে ভরিয়ে দেয়। চোখের পানি গুলো আমির নিজের ঠোঁট দিয়ে শুষে নেয়।ইয়ামিনা জ্বরের মধ্যে বির বির করেই চলচ্ছে।।।
আমির ইয়ামিনারকে শুইয়ে দেয়। বুঝতে পারচ্ছে ইয়ামিনা হুসে নেই৷ আমির ভালো করে জানে রাতে জ্বর আরও বারবে। ইয়ামিনা আমিরকে যেতে দিচ্ছে না পাগলামি করছে। আমির জোর করে ছাড়িয়ে অনেক কষ্টে ইয়ামিনাকে খাবার খাইয়ে ওষুধ খাইয়ে দেয়।

ফ্লোর থেকে চকলেট গুলো তুলে টেবিলের উপর রাখে ফুল গুলো ডাস্টে ফেলে দেয়। আমির ইয়ামিনার শাড়ির আচল সড়িয়ে সমস্ত শরীর মুছে দেয়৷ ইয়ামিনা একহাত দিয়ে আমিরের শার্ট টেনে ধরে রেখেছে। আমির ইয়ামিনার কান্ড দেখে মিটমিট হাসচ্ছে ইয়ামিনার কপালে গভীর চুমু দেয়। সব কিছুঠিক করে ইয়ামিনাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ে৷। ভোরের দিকে ইয়ামিনার জ্বর অনেকটা ছেড়ে আসে।।।
.
.
.
.
.
.

#পর্বঃ১৮🌸
____________________________🌸
সকালের মিষ্টি কড়া রোদ আমিরের মুখে পড়তেই ঘুমটা ভেঙে যায়৷ ঘুম থেকে উঠে আমির ইয়ামিনাকে পাশে দেখতে না পেয়ে লাফ দিয়ে উঠে অস্থির হয়ে সব জায়গায় খুজে আমির একটু ভয় পেয়ে যায় কোথায় গেল এত সকাল সকাল সারা ঘরে খুজে পরে আমির ইয়ামিনাকে আরুশির রুমে দেখতে পায়। ইয়ামিনাকে দেখে আমিরের দেহে যেন প্রান ফিরে আসে৷ অনেক বেশি ভয় পেয়ে গেছিলো। একটা স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ে৷৷ এই মেয়েটা আমাকে জানে মেরে ফেলতো আরেকটু হলে। ইয়ামিনাকে দেখে মনে হচ্ছে জ্বর নেই কমে গেছে৷
.
.
.
শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে আমির সিড়ি দিয়ে নামচ্ছে। সকাল ধরে ইয়ামিনার সারা পাচ্ছেনা। আজ অনেক বড় একটা মিটিং আছে তাই আরলি বের হচ্ছে।নিচে ইহান কে দেখে আমির কিছুটা অবাক হয়।।ব্রুটা কিছুটা কুচকে ইহানের সামনে যায়।

ইহান চায়ের কাপে সবে মাএ চুমুক দিবে আমিরকে দেখে উঠে দাড়ায়।হাসি হাসি মুখে সালাম দেয়…
আমিরও সালামের জবাব দেয়..

ইহান বলে উঠে… কেমন আছে ভাইয়া

আমির বেশ হেসে বলে… জি আলহামদুলিল্লাহ।। হটাৎ এখানে কিছু না জানিয়ে এসে পরলে। বলে আসলে হয়তো আজ সারাদিন শালা সাহেবের সাথে আড্ডা দিতাম। কিন্তু আমার মিটিং পরে গেছে যেতে হচ্ছে।।

সমস্যা নেই ভাইয়া। আরেক দিন একসাথে গল্প করবো। আজকে এমনি একটু তারা আছে। ইয়ামিনা আসতে বলেছে তাই কাজ ফেলে আসতে হয়েছে…

দেখেছো তোমার বোনের কান্ড তুমি এসে বসে আছো অথচ তার কোনো খবর নেই। মেয়েটা কে নিয়ে যে কই যায়। তুমি বস আমি ডেকে দিচ্ছি।

না ভাইয়া ও হয়তো বিজি ব্যাগ গুছাচ্ছে। আরলি যেতে হবে। সমস্যা নেই আমি ওয়েট করছি।।

আমির কিছুটা অবাক হয়…ব্যাগ গোছাচ্ছে মানে?

কেন ভাইয়া আপনাকে বলে নি।সকাল থেকে জেদ ধরে বসে আছে বাসায় যাবে বার বার বলছে নিয়ে যেতে তাই সব কাজ ফেলে আসতে হয়েছে৷

আমিরের দাত চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। আমিরের আর বুঝতে বাকি নেই ইয়ামিনা কেন যেতে চাচ্ছে।নিজেকে কোনো রকম শান্ত রেখে বলে… আচ্ছা তুমি বস আমি আসচ্ছি….. বলে আমির রুমের দিকে যায়।



আমির রুমে ভেতর যেয়ে দেখে ইয়ামিনা চুপচাপ ব্যাগ গোছাচ্ছে। আমিরের বুঝতে বাকি নেয় ইয়ামিনার কাল রাতে কথা কিছুই মনে নেয়।।। রাগে আমাইরের কপালের রগ ফুলে উঠেছে ইয়ামিয়ানার সামনে যেয়ে ইয়ামিনার কুনুই ধরে টান দিয়ে নিজের দিকে ফিরায়….. কোথাও যাবে না তুমি। শুনেছো!! আমার পারমিশন নিয়েছো যাওয়ার জন্য.. যাও না বলে দিয়ে আসো ইহানকে।

আহ!!!ছাড়ুন লাগচ্ছে আমার।।

আমির ইয়ামিনার কুনুই ধরে আরও নিজের কাছে নিয়ে আসে… আমি কি বলেছি শুনতে পাওনি।কোথাও যাবে না তুমি। এক পাও এ বাড়ি থেকে বের করবে না।।শুনেছো তুমি।।

ইয়ামিনা ঝটকা মেরে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়।ভেবেছেন কি আমাকে আপনার হাতের পুতুল।যা বলবেন তাই শুনবো। কেন সব সময় সব কিছুতে আপনার পারমিশন নিতে হবে কেন। আমার কি নিজের কোনো চাওয়া পাওয়া নেই। বলুন না বলচ্ছেন না কেন।।আমি তো চলে গেলে আপনারা খুশি। তাই তো হচ্ছে। তো কেন এত নাটক করচ্ছেন।
ইয়ামিনার চোখ দিয়ে পানি পড়চ্ছে। কান্নার কারনে ইয়ামিনার সারা শরীর কাপচ্ছে। ফোপাচ্ছে ইয়ামিনা।।
আমির যথাসম্ভব নিজেকে শান্ত করে ইয়ামিনার কপালের সাথে নিজে কপাল চেপে ধরে। আমির চোখ বন্ধ করে নেয়।
শান্ত হও। এত উত্তেজিত হওয়া তোমার শরীরের জন্য ঠিক না। তোমার শরীর দুর্বল একটু রেস্ট নাও।

ইয়ামিনা রাগে আমির জোরে ধাক্কা মারে।। আমির কয়েক পা পিছিয়ে পড়ে৷

সমস্যা কি আপনার কি বোঝাতে চান এসব করে।অনেক মহান আপনি। কারো দোয়া পাএ হওয়ার ইচ্ছে আমার নেই শুনেছে আপনি। আপনি যান তো এখান থেকে আপনার চেহারা টুকু দেখতে ইচ্ছে করছে না আমার।

আমির রাগে নিজের ফোনটা ফ্লোরে আছার মারে৷ ইয়ামিনার দু বাহু ধরে চিৎকার দিয়ে দাত চোয়াল শক্ত করে বলে….. এত ঘৃণা!!! আরে মেয়ে কোনো দিনও কাউকে মন দিয়ে ভালোবেসেছো। তুমি কি কোনো দিনও আমার ভালোবাসা বুঝবে না। নাকি চোখে দেখেও দেখছো না। আরে ভালোবাসতে হলে বিশ্বাস করা লাগে। যদি বিশ্বাসই না থাকে তাহলে ওইটাকে ভালোবাসা বলে না।। এই বাসা থেকে এক পা বের করো এই আমির বলছে আমাকে কোনো দিনও দেখতে পাবে না। আমার চেহারা টুকূ দেখতে চাও না ওকে ফাইন… কোনোদিন আসবো না তোমার সামনে। না আসলে তো খুশি থাকো।।
বলেই ওয়ালে জোরে ঘুশি মেরে রুম থেকে বের হয়ে যায়৷ ইয়ামিনা ফ্লোরে বসে পড়ে।। ডুকরে কেদে ওঠে।।
.
.
.
বিকেল হয়ে গেছে ইয়ামিনা বারান্দায় দাড়িয়ে আছে কান্নার কারনে চোখ গুলো ফুলে গেছে৷ইহান অনেক আগে চলে গেছে ইয়ামিনা নিজেই মানা করে দিয়েছে যাওয়ার জন্য। আমিরকে একটা ফোন দিবে তাও পারচ্ছে না।।ইয়ামিনার ভয় হচ্ছে রাগের বসে না আমির আবার উল্টা পাল্টা কিছু করে না ফেলে৷ ইয়ামিনা বুঝতে পারচ্ছে তখন এসব বলা উচিত হয়নি।আমির যাওয়ার সময় কিসব বলে গেলো না ইয়ামিনা ভাবতে পারচ্ছে না।।
হটাৎ ইয়ামিনার ফোনটা বেজে উঠে… ফোনটা হাতে নিয়ে ফোনের স্কীনে তাকাতেই ইয়ামিনার সারা শরীর কাপচ্ছে। হাত থেকে ফোনটা পরে যায়।।

আজ এত দিন পর দিহান কল দিয়েছে। ইয়ামিনা ভাবতে পারচ্ছে না। এদিক দিয়ে ফোনটা বার বার বেজে অফ হয়ে যাচ্ছে। আবার বাজতে ইয়ামিনা কাপা কাপা হাতে ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরতে ওপাশ থেকে দিহানের কন্ঠ ভেসে আসে….ইয়ামিনা চোখটা বন্ধ করে নেয় কয়েক ফোটা জল গড়িয়ে পড়ে।।

অতীতে ডুব দেয় ইয়ামিনা….

সেদিন এক্সসিডেন্টের সময় ইয়ামিনা বেশ গুরুতর আহত হয়। সুস্থ হতে দুই সপ্তাহ মত লেগে যায়। অবশ্য দিহান সারাদিন ইয়ামিনার পাশে ছিল ইয়ামিনার যত্নে কোনো কমতি রাখে নি। কিন্তু সেদিনটা ইয়ামিনার জীবনে ঝড় নিয়ে আসে৷ ইয়ামিনা বাসায় এসে এত সাজসজ্জা দেখে বেশ অবাক হয় পরে জানতে পারে দুই দিন পর ইয়ামিনার বিয়ে হবে। লোকটা কে ইয়ামিনা তাও জানতো না।পরে ঘটনাক্রমে জানতে পারে যে গাড়ির সাথে এক্সসিডেন্ট হয়েছে তার মালিক বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে সাথে শর্তও ছিল। এই দুদিনের মধ্যে বিয়ে করতে হবে নয়তো দশ কোটি টাকা দিতে হবে৷ আর না পারলে পুলিশ কেস করে দিবে। ইহান অনেক চেষ্টা করেছে বিয়ে আটকানোর জন্য কিন্তু কিছুতেই পারি নি এত টাকা দুদিনে কিভাবে জোগার করবে তাই বাধ্য হয়ে ইয়ামিনার বাবা মা বিয়েতে রাজি হয়ে যায়।।

এটা শুনার পর ইয়ামিনার পায়ে থেকে যেন মাটি সরে যায়। দিহানকে ছাড়া কোনো ছেলের কথা সে মাথায় আনতে পারে না৷ কোনো দিন একটা ছেলের দিকে তাকিয়ে সেভাবে কথা বলেনি শুধু তার দিহানজি ছাড়া। কিন্তু কিভাবে একটা অন্য লোকের সংসার করবে ভাবতে ইয়ামিনার শরীরের কাটা দিয়ে ওঠে।।

ইয়ামিনার চোখ দিয়ে অজর ধারায় পানি গড়িয়ে পরছে। কিছুতেই মেনে নিতে পারচ্ছে না।রুমে যেয়ে ইয়ামিনা দিহানকে ফোন দিয়ে সবটা বলে….
ইয়ামিনার এমন অস্থিরতা দেখে দিহান ভয়ে পেয়ে।। ইয়ামিনাকে স্বাভাবিক করতে দিহান ইয়ামিনাকে আসস্ত করে।

প্লিজ ইয়ুমনি কান্না করো না আমি দেখছি কি করা যায়৷ কার এত সাহস তোমার থেকে আমাকে আলাদা করবে। তুমি তো আমার ব্রেভ গার্ল। এত সহজে হাল ছেড়ে দিলে হবে।।।

ইয়ামিনা কাদতে কাদতে হেচকি তুলে ফেলেছে…. ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলে…আমি কিছু জানি না প্লিজ যেভাবে পারেন আমাকে এখান থেকে নিয়ে যান। আমি আপনাকে ছাড়া এক মিনিট থাকতে পারি না সেখানে আমি অন্য কারো সংসার… বলতেই ইয়ামিনা জোরে কেদে দেয়..

আরে বোকা মেয়ে কাদছো কেন। এই যে আমার ইয়ুপরি তাহলে আপনার দিহানজি কি করতে আছে। অবশ্যই একটা রাস্তা বের করবো। তুমি টেনশন করো না।। এখন একটু ঘুম দাও।।

সেদিনের পর থেকে দিহানের টেনশনের মাএা যেন আরও বেড়ে যায় ইয়ামিনা কে বুঝতে দেয়নি তাহলে আরও টেন্স করবে। দিহানের মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। যে মেয়েটাকে সব দিয়ে ভালো বেসেছে তাকে এত সহজে কিভাবে অন্যের হতে দিবে। না কিছুতেই না ভাবতে দিহানের সাড়া শরীর কাটা দিয়ে উঠে।।
যায় হয়ে যাক ইয়ুপরি শুধু তার এবং তারই থাকবে।।। দিহান সেদিন সব কিছু ভুলে হার ভাঙা পরিশ্রম করে টাকা জোগার করতে লেগে যায় দিহান যত সেভিংস ছিল সব ভেঙে ফেলে। এমন কোনো মানুষ আত্নিয় বাধ রাখেনি দিহান যাদের কাছ থেকে টাকা ধার নেয় নি। কিন্তু তারপর এই দুদিনে দশ কোটি টাকা জোগার করা বিশাল দায় হয়ে পড়েছে। এদিক দিয়ে সময় সময়ের মত অতিবাহিত হচ্ছে।

দিহানের টেনশন আরও রেবে গেছে।।। শুধু একটাই ভয় হচ্ছে তার ইয়ুপরিকে সারা জীবনের জন্য হারিয়ে ফেলবে না তো।

সেদিন দিহান সব চিন্তা করে একটা সিদ্ধান্ত আসে তারা পালিয়ে যাবে দুরে কোথায়। সেদিনে দুজনে পুরো পৃথিবীর কথা ভুলে শুধু নিজেদের কথা ভেবেছিল। এতে তাদের পরিবারের কি হবে তাও ভাবে নি।কিন্তু নিয়তি তা মানতে নারাজ ছিল।।

দিহান ইয়ামিনাকে ফোন করে বলে দেয় কিভাবে পালিয়ে বাসা থেকে আসবে। সেসবে অবশ্য ইহান তাদের সাহায্য করে ছিল। কারন তার বোনের খুশি তার কাছে সব থেকে বড়। ইয়ামিনা একপায়ে রাজি হয়ে যায়।।।

পরদিন বিয়ে ইয়ামিনা সকাল সকাল বাসাব থেকে পালিয়ে আসে। ইহানকে ধরে সেদিন অনেক কান্না করেছিল সেদিন। হয়তো সেদিনের পর থেকে ইহানকে আর নাও দেখতে পারে।

.
.
.

চলবে…..🌸🌸

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here