গোধূলী_বেলার_স্মৃতি পর্ব ৪০+৪১

#গোধূলী_বেলার_স্মৃতি
#পর্ব-৪০
#Jannatul_ferdosi_rimi (লেখিকা)

গুলির শব্দ কানে আসতেই আমরা পিছনে তাঁকিয়ে দেখি, ইশানি ম্যাম রুদ্রিকের দিকে বন্ধুক তাক করে আছে। ইশানি ম্যাম উপরে ফায়ারিং করেছেন। গুলি গিয়ে সোজা ছাদের দেয়াল বেঁধ করে চলে গেছে। ইশানি রুদ্রিকের দিকে বন্ধুক তাক করেই বলল,
–“রুদ্রিক মাহিরকে ছেড়ে দে নাহলে কিন্তু আমার থেকে খারাপ কেউ হবে নাহ। ”

ইশানির কথা শুনে মাহির কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়।
ইশানির কথায় সবাই ঘাবড়ে যায়। আমি রুদ্রিকের কাছে যেতে নিলে,রুদ্রিক আমাকে থামিয়ে দিয়ে, ইশানি শেখের দিকে তাঁকিয়ে বললো,

—“ইশানি শেখ আপনি কী ভেবেছেন? এইসব করে আপনি মাহির আহমেদকে বাঁচাতে পারবেন? তাহলে আপনি ভূল ভাবছেন। ”

আমি রুদ্রিককে উদ্দেশ্য করে কান্নামাখা গলায় বললাম,

—“রুদ্রিক উনার মাথা ঠিক নেই। তুমি সরে এসো। উনি তোমাকে গুলি করতেও একটিবার ভাব্বে নাহ।”

সিথিও ভয় পেয়ে বলে উঠলো,

—“ভাইয়ূ তুমি সরে এসো। ”

—-“রুদ্রিক আমি কিন্তু সত্যি গুলি করে দিবো যদি মাহিরকে ছেড়ে না দাও। ”

কথাটি বলে ইশানি শেখ বন্ধুকের ট্রিগারটা আরো চেপে ধরে।

আমি বুঝে গেলাম আমাকেই কিছু একটা করতে হবে। আমি লুকিয়েই ইশানি শেখের পিছনে গিয়ে, উনার হাত থেকে বন্ধুকটা নিয়ে নিলাম। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ মহিলারা ইশানি শেখকে ধরে ফেললো।

মাহির পালাতে নিলে, পুলিশরা ধরে ফেলে।

রুদ্রিক আমার কাছে এসে আমার গালে হাত রেখে বলে,

—“তুই ঠিক আছিস তো কাজল বল আমাকে? ”

আমি মাথা নাড়িয়ে রুদ্রিককে জড়িয়ে ধরলাম।

ইশানি শেখ নিজেকে ছাড়ানোর চেস্টা করলেই আফজাল শেখ এসে ইশানিকে ঠাটিয়ে চর বসিয়ে দেয়।

ইশানি শেখ নিজের গালে হাত দিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে।

আফজাল শেখ রাগে ফোস করে উঠলেন। ইচ্ছে করছে আরো কয়েকটা থাপ্পড় বসিয়ে দিতে। আফজাল শেখ রাগ নিয়েই বললেন,

–“এতোটা খারাপ হয়ে গেলে তুমি? এতোটা ভালোবাসয়ে অন্ধ হয়ে গেলে যে নিজের বোনের খুনিকেও পর্যন্ত বাঁচানোর জন্যে উঠেপড়ে লেগেছো। ছিহ ইশানি ছিহ। ”

ইশানি শেখ আফজাল শেখের চোখের দিকে চোখ রেখে বলল,

—“ভাইয়ূ তুই আগে বল কুঞ্জ কী আদোও আমার আপন বোন। ”

ইশানি শেখের কথায় অফিস রুমে যেনো আরেকদফা উত্তেজনা শুরু হয়ে গেলো।

রুদ্রিক বলে উঠলো,

—“মানে কী? ”

—-“তা ভাইয়ূকেই জিজ্ঞাসা করো। ”

ইশানি কথায় আফজাল শেখ নিজের চশমা খুলে আকাশপানে তাঁকিয়ে বললো,

—“হুম কেউ জানে নাহ কুঞ্জ আমাদের নিজের বোন নাহ। আমার বাবার বন্ধুর মেয়ে। কুঞ্জের মা মারা যাওয়ার পরে কুঞ্জের বাবা আমার বাবার কাছে তার মেয়ের দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছিলো। কেননা কুঞ্জের সৎ মা কুঞ্জকে সহ্য করতে পারতো নাহ। ছোট্ট কুঞ্জ আমাদের বাড়িতে বড় হতে লাগলো। আমার বাবা কিংবা আমরা কুঞ্জকে কখনো বুঝতে দিতাম না যে সে এই বাড়ির সন্তান নাহ। আমরা তাকে সবসময় আগলে রাখলাম। খুবই ভালোবাসাতাম। বাবা মারা যাওয়ার আগে বাবা কুঞ্জের দায়িত্ব আমাকে এবং ইশানিকে দিয়ে গিয়েছিলো।আমি ভেবেছিলাম ইশানিও হয়তো কুঞ্জকে নিজের বোন মনে করে,কিন্তু ইশানি আমার ধারণা ভূল প্রমাণ করে দিলো। ”

সবাই নীরব হয়ে রইলো।

ইশানি ম্যাম বলে উঠলেন,

—“তো কী করবো? কুঞ্জ আমার আপন বোন নয়, কিন্তু মাহির আমার স্বামী যাকে আমি ভালোবাসি।”

আমি রুদ্রিককে ছেড়ে ইশানি ম্যামকে উদ্দেশ্য করে বললাম,

—“ভালোবাসা খারাপ নয় ইশানি ম্যাম, কিন্তু ভূল মানুষকে আকড়ে ধরা কিংবা ভালোবাসাটা অন্যায়।
ভূল মানুষকে ভালোবেসে শুধু জীবনের কষ্টটাই পাবেন। দেখুন নাহ সেই কষ্ট কিন্তু আপনি ঠিকই পাচ্ছেন। আজকে আপনার পরিবার আপনাকে ঘৃণা করছে। ”

আমাকে থামিয়ে রুদ্রিক এগিয়ে এসে বললো,

—“কাকে কি বলছিস কাজল? এদের কাছে নিজেদের স্বার্থ ছাড়া আর কোনো কিছু বড় নয়।
মানলাম ফুপিয়াম্মু ইশানি শেখের আপন বোন নয়,কিন্তু ফুপিয়াম্মু এই ইশানি শেখকে কী কম ভালোবাসতো? আমি তো সবকিছুই নিজের চোখে দেখেছি। ”

আফজাল শেখ ইশানি শেখের দিকে তাঁকিয়ে কঠোর
গলায় বললো,

—“ইন্সপেক্টর ইশানি ও মাহিরকে এখুন গ্রেফতার করুন এবং দেখবেন ওদের যেনো কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি হয়। ”

আফজাল শেখের কথা শুনে পুলিশ ইশানি ও মাহিরকে ধরে নিয়ে যায়৷ যাওয়ার আগে মাহির সকলের দিকে তাঁকিয়ে বললো,

—“সবাইকে সে দেখে নিবে। ”

________________

আমরা শেখ বাড়িতে ঢুকতেই বড় ম্যাম সাহেব ছুটে এসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,

—“কাজল মা তোরা ঠিক আছিস তো? ”

আমি হাঁসিমুখে বললাম,

—“আমরা একদম ঠিক আছি। ”

সাদি ভাইয়া ও লাজুক আংকেল ও ঢুকলো।

সাদি ভাইয়া রুদ্রিকের কাঁধে চাপড়ে বলল,

—“সত্যি তুই রুদ্রিক আজকে তুই কি করছিস বুঝতে পারছিস তো? তোর জন্যে আজকে মাহিরের মতো লোক ধরা পড়লো। ”

বড় সাহেব ও রুদ্রিকের কাছে গিয়ে বললো,

—“সত্যি রুদ্রিও তুমি না থাকলে কি যে হতো? তুমি আমাকে কিংবা তোমার মাকে তুমি যতই ঘৃণা করো নাহ কেনো? একটা কথা তো তুমিও মানবে রুদ্রিক। এই শেখ পরিবারের প্রতি তোমারাও ভালোবাসা রয়েছে। ”

রুদ্রিক ছলছল চোখে তার বাবা ও মায়ের দিকে তাঁকিয়ে বললো,

—“আপনারা আমার বাবা-মা। আপনাদের জন্যে আমি এই পৃথিবীর আলো দেখেছি। আপনাদের কী করে ঘৃণা করতে পারি আমি? আজ তো সবকিছুই আমার কাছে পরিষ্কার। আজ আমি বড় হয়েছি এবং বুঝতে শিখেছে যে আমি যদি আপনাদের জায়গা থাকতাম, তাহলে হয়তো আমিও হয়তো এইরকমই রিয়েক্ট করে ফেলতাম। ”

সিথির দিকে তাঁকিয়ে কথাটি বললো রুদ্রিক।

সাদি ভাইয়া সিথিকে উদ্দেশ্য করে বললো,

—“সিথি তুমি এখনো বুঝতে পারলে নাহ? রুদ্রিক বলতে চাইছে তুমি যদি কুঞ্জ পিপির মতো ভূল একটি কাজ করতে তাহলে হয়তো রুদ্রিকও এইরকম রিয়েক্ট করতো। ”

সিথি সাদির কথা শুনে কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরেই বলল,

—“আমাদের সম্পর্ক কী আর পাঁচটা ভাই-বোনের মতো? ভাইয়ূ তো আমাকে সহ্য করতে পারেই নাহ। ”

সিথির কন্ঠে তীব্র অভিমান প্রকাশ পাচ্ছে। যা রুদ্রিকের ভিতরের কষ্ট দ্বিগুন বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সাদি খানিক্টা হেঁসেই বলল,

—“হাইরে পাগলি তুমি শুধু তোমরা ভাইয়ের বাইরেরটাই দেখলে? ভিতরে দেখার চেস্টা করলে নাহ? জানো তোমার ভাইয়ূ তোমাট ব্যাপার নিয়ে কতটা পসিসিভ ছিলো? ভার্সিটিতে কোন ছেলে তোমার দিকে চোখ তুলে তাঁকানোর সাহস পেতো না কেন? শুধুমাত্র রুদ্রিকের জন্যে। কেউ যদি ভূলেও তোমার দিকে চোখ তুলে তাঁকাতো তাহলে তো রুদ্রিক তাকে সোজা হসপিটালেই পাঁঠিয়ে দিতো। রুদ্রিক বেশিরভাগ সময় তোমার জন্যই মারামারি করতো,তাও তোমরাই চোখের আড়ালে। এরপরেও বলবে রুদ্রিক তোমাকে সহ্য করতে পারেনা?”

সাদি ভাইয়ার কথা শুনে সিথি রুদ্রিকের কাছে ছুটে গিয়ে, রুদ্রিককে জড়িয়ে ধরে।

—-“ভাইয়া সরি।”

কান্নার সুরে কথাটি বললো সিথি।

—“ডোন্ট সরি। আম সরি। আমি আসলে বাবা-মায়ের প্রতি অভিমানের জন্যে তোকে সবসময়
দূরে সরিয়ে রেখেছি। আমি সত্যি সরিরে বোন। ”

রুদ্রিকের কথা শুনে সিথি এইবার কেঁদেই দিলো।

বড় মেমসাহেব এইবার বলে উঠলেন,

—“সব দোষ আমার। আমি সবসময় রুদ্রিককে অবহেলা করেছি। আমি ভেবেছি রুদ্রিক ছেলে ও নিজেকে ঠিক সামলাতে পারবে কিন্তু আমি ভূল
আমি ভেবেই দেখেছি আমার ছোট্ট ছেলেটারও তার মাকে প্রয়োজন। তার শাস্তি ও পেয়েছি আমি। ”

জেসমিন শেখ কেঁদে দিলেন। রুদ্রিক এইবার তার মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে বলল,

—“মা আমিও খুব সরি৷ বাবা সরি৷ ”

নিজের ছেলের মুখে এতোবছর পর বাবা এবং মা ডাক শুনে, রুদ্রিকের বাব-মা তাকে জড়িয়ে ধরে। সিথিও জয়েন করে।

আমার চোখ যেনো জুড়িয়ে যাচ্ছে। এতোবছরের অভিমান অবশেষে শেষ হলো তবে।

দিয়া পিপি এইবার কোমড়ে হাত দিয়ে বলল,

—“আজকে এতোটা খুশির দিনে একদম কান্নাকাটি না ওকে? চলো আমরা সবাই মিলে একটা সেল্ফি তুলে। সাদি এন্ড নাঁকবোঁচা এ্যাসিস্টেন্ট তোমরাও আমাদের সাথে জয়েন হও। ”

দিয়া পিপির কথা শুনে সবাই হেঁসে উঠলো।

সবাই একসাথে অনেকগুলো সেল্ফি তুললাম।

🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼

________

আমি আয়নায় দাঁড়িয়ে চুল মুছে যাচ্ছি। তখনি পিছন থেকে রুদ্রিক আমাকে জড়িয়ে ধরে, আমার ঘাড়ে চুমু খায়। আমি কেঁপে উঠলাম। রুদ্রিক আমার আরো কাছে আসতে যাবে তখনি আমি তার পেটে গুতা মেরে বললাম,

—“সবসময় দুষ্টুমি তাইনা? রাতে তো কম দুষ্টুমি করোনা। ”

রুদ্রিক এইবার কিছুটা বিরক্ত হয়েই বলল,

—“কাজল তোর মনে হয় আমার রোমান্টিক মুডের বারোটা না বাজালে ভালো লাগে নাহ।”

আমি মুখ বেঁকিয়ে বললাম,

–“বেশ করেছি। ”

রুদ্রিক কিছু বলতে যাবে তার আগেই রুদ্রিকের ফোন বেজে উঠে। রুদ্রিক ফোনের স্ক্রিনে তাঁকিয়ে দেখে ‘পুলিশ স্টেশন ‘ নামটি।#গোধূলী_বেলার_স্মৃতি
#পর্ব- ৪১
#Jannatul_ferdosi_rimi (লেখিকা)

রুদ্রিকের ফোনে হঠাৎ ‘পুলিশ স্টেশন’ নামটি দেখে আমরা দুজনেই কিছুটা চিন্তিত হলাম। রুদ্রিক ফোনটা রিসিভ করে আড়ালে চলে গেলো। আমার বড্ড চিন্তা হচ্ছে পুলিশ স্টেশন থেকে আবার কেন ফোন করলো? আমার ভাবনার মাঝেই রুদ্রিক শুকনো মুখ নিয়ে এসে বলল,
–“মাহির আহমেদকে কোর্টে নিয়ে যাওয়ার সময়;মাহির আহমেদ পালিয়েছে। ”

রুদ্রিকের কথা শুনে আমি ভীতু গলায় বললাম,

—“কি বলছো কী? কীভাবে হলো এইসব? ”

—-“এতো ভয় পাচ্ছিস কেন? ”

—“ভয় পাবো না? মাহির আহমেদ কি বলে গিয়েছিলো শুনো নি? সে নিশ্চই এইবার আমাদের পরিবারের ক্ষতি করতে চাইবে। ”

রুদ্রিক আমাকে চিন্তিত হতে দেখে শুকনো হেঁসে বলল,

—-“কাজল তুই এতো চিন্তা করিস না। পুলিশ মাহির আহমেদকে ঠিক ধরে ফেলবে। মাহিরকে তার যোগ্য শাস্তি পেতেই হবে। আমার ফুপিয়াম্মুর খুনিকে এতো সহজে আমি ছেড়ে দিবো নাহ। তাছাড়া তোর রুদ্রিক আছে নাহ? আমার উপর একটু ভরসা রাখ। ”

আমি রুদ্রিকের হাত ধরে চুমু খেয়ে বললাম,

—“তুমিই তো আমার সব রুদ্রিক। তোমার উপর আমি সবথেকে বেশি ভরসা করি এন্ড সবথেকে বড় কথা কী জানো? তোমাকে যতটা ভরসা করি হয়তো নিজেকেও এতোটা ভরসা করিনা। ”

রুদ্রিক আমার দিকে ঝুঁকে বলল,

—“ভালোবাসা এমনই। ভালোবাসলে মানুষ নিজের ভালোবাসার মানুষকে ভরসা করে।নিজের থেকে অনেক বিশ্বাস করে। নিজের সকল দায়িত্ব সেই ভালোবাসার মানুষটির হাতে তুলে দেয়। তাইতো ভালোবাসাটা সুন্দর। ”

রুদ্রিকের কথা শুনে আমি মুঁচকি হাঁসলাম। সত্যি ভালোবাসা সুন্দর।

_____

ইশানি চুল খামছে ধরে লকাপে বসে আছে। মাহির কী তাকে ছেড়ে পালিয়ে গেলো? নাহ নাহ মাহির ফিরে আসবেই। ইশানির জন্যে হলেও মাহির ঠিক ফিরবে। ইশানির মাথায় শুধু একটাই কথা ঘুড়ছে পুলিশ যদি মাহিরকে ধরে ফেলে তাহলে কী হবে?

___________

আমাদের কথার মাঝেই বড় মেমসাহেব নীচ থেকে ডেকে বললেন,

—“রুদ্রিক-কাজল, কোথায় তোরা? তাড়াতাড়ি নীচে আয় তো। ”

বড় মেমসাহেবের ডাক শুনে আমি ও রুদ্রিক দুজনেই নীচে গিয়ে দেখি, বড় ম্যামসাহেব দিয়া পিপির দিকে সরু চোখে তাঁকিয়ে আছে। সিথি মিটিমিটি হাঁসছে।

আমি বলে উঠলাম,

—“বড় ম্যামসাহেব কি হচ্ছে এখানে?

বড় ম্যামসাহেব তেড়ে এসে বললেন,

—“তোর কি এখন থাপ্পড় খেতে ইচ্ছে করছে? একটা কথা বললে কানে যায়না? কতবার বলেছি মা বলে ডাকতে? ”

আমি কান ধরে কিছুটা কিউট ফেস করে বলে উঠলাম,

—“সরি মা। আর এমনটা হবে নাহ। ”

আমার কিউট ফেস দেখে মা এইবার হেঁসেই দিলো।

—“আচ্ছা আমাকে কেউ বলবে? এখানে আসলে হচ্ছে টা কী? ”

রুদ্রিকের প্রশ্নে সিথি দিয়া পিপিকে মৃদ্যু ধাক্কা দিয়ে বলল,

—“আমাদের দিয়া পিপি যে ডুবে ডুবে জল খায় সেই খবর রাখো তোমরা? ”

—“মানে? “( রুদ্রিক বলল)

মা হাঁসিমুখে এগিয়ে এসে বলল,

—” মানে আমাদের দিয়ার জন্যে লাজুকের মা বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। কেননা লাজুক এবং দিয়া একে অপরকে ভালোবাসে।
তিনি চাইছেন অতিশ্রীগয় লাজুক এবং দিয়ার বিয়েটা দিয়ে দিতে।”

মায়ের কথা শুনে আমি ও রুদ্রিক দিয়া পিপির কাছে গিয়ে বলে উঠলাম,

–“কনগ্রাচুলেশন। ”

রুদ্রিকও দিয়া পিপিকে জড়িয়ে ধরে বলে,

—“দিয়া পিপি আজকে আমি সত্যি হ্যাপি। প্রথমেই একটা কথা বলে রাখি বিয়ের সব দায়িত্ব কিন্তু আমার। ”

রুদ্রিকের কথার মাঝেই বাবা নীচে নামতে নামতে বললেন,

—” তা বলতে? শুধু তুমি কেনো? কাজল মাকেও সব দায়িত্ব নিতে হবে। কি মা পারবে তো? ”

আমি মাত্র নাড়িয়ে বললাম,

—“একশোবার পারবো।”

সিথি দিয়া পিপিকে আবারো ধাক্কা দিয়ে বলল,

—“কি পিপি এই খুশিতে সেল্ফি তুলা হয়ে যাক? যত যাই হোক তোমার বিয়ে বলে কথা। ”

সিথির কথা শুনে দিয়াপিপি একপ্রকার লজ্জায় ছুটে পালিয়ে যায়। আমরা সকলে হেঁসে উঠি।

মা এসে সিথির মাথায় হাল্কা করে গাট্টা মেরে বলে,

—“সত্যি তোকে নিয়ে আমি পারিনা। দেখেছিস মেয়েটা কীভাবে লজ্জায় পড়ে গেলো। ”

সিথি মাথায় হাত বুলিয়ে রুদ্রিককে উদ্দেশ্য করে বলল,

—“ভাইয়ূ দেখো মা আমাকে মেরেছে। ”

রুদ্রিক সিথির মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,

—“বেশি লেগেছে তাইনা?
কথাটা বলে রুদ্রিক সিথির মাথায় আরো জোড়ে গাট্টা মেরে দিয়ে দৌড় দেয়।

সিথি ঠোট ফুলিয়ে বলে,

—“ভাইয়ূ তুই দাঁড়া আমি তোকে দেখাচ্ছি মজা।”

কথাটি বলে সিথিও রুদ্রিকের পিছনে ছুটতে থাকে।

মা বললেন,

—“এই দুইটোকে নিয়ে আমি সত্যি পারিনা। এই দুজনে থামবি একটু? ”

বাবা খবরের কাগজ পড়ে হাঁসছেন। মা বাবার দিকে তাঁকিয়ে বলে,

—“তুমি হাঁসছো? ”

—“হাঁসবো নাহ? মনে হচ্ছে বাড়িতে যেনো প্রান ফিরে আসছে। ”

মা ও বাবার কথা শুনে হেঁসে দিলেন।

আমার চোখ যেনো জুড়িয়ে যায়, এই পরিবারটিকে দেখলে। প্রায় ১মাস হতে চলল এই পরিবারে রয়েছি। কি হাঁসিখুশি মিষ্টি একটি পরিবার। আল্লাহর কাছে দোয়া করি আমার পরিবারের যেনো নজর না লাগে।

__________

রুদ্রিক আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কিছু একটা ভেবে চলেছে। তার মাথায় শুধু ঘুরপাক খাচ্ছা মাহির কীভাবে পালালো? নাহ আজকেই পুলিস স্টেশনে যেতে হবে।

রান্নাঘর থেকে আমি এসে দেখি রুদ্রিক আয়নায় দাঁড়িয়ে টাইটা কোনোরকম পেঁচাচ্ছে।

আমি রুদ্রিকের কাছে গিয়ে, রুদ্রিকের টাইটা ভালো করে লাগিয়ে বললাম,

—“কি এতো ভাবছেন শুনি? ”

—-“তেমন কিছু নাহ। ”

—“আজকে তো তোমার জন্যে স্পেশাল দিন। শেখ গ্রুপ অফ ইন্ড্রাস্টির নিউ এমডি বলে কথা। বেস্ট ওফ লাক।”

রুদ্রিক কিছুটা দুষ্টু হেঁসে বললো,

—“আমার অন্যরকমভাবে বেস্ট অফ লাক চাই। ”

কথাটি বলে রুদ্রিক আমার কোমড় জড়িয়ে ধরে আমাকে কাছে টেনে নিয়ে,ঘোর লাগা কন্ঠে বলে,

—“জানিস কাজল? আই জাস্ট লাভ ইউর লিপস!”

আমি ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলি। রুদ্রিক আমার আরেকটু কাছে আসবেই তখনি নীচ থেকে বাবা ডেকে উঠেন,

—“ভাইয়া কোথায় তুমি? আমাদের অফিসের জন্যে লেট হয়ে যাচ্ছে তো? ”

রুদ্রিক বিরক্ত নিয়েই আমাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে বলল,

—“আমার বোন একটা বোন না। আমার রোমান্সের শত্রু। ”

আমি হেঁসে উঠলাম।

রুদ্রিক আমার দিকে চোখ পাঁকিয়ে বলল,

—“তোকে তো আমি পরে দেখে নিবো। ”

কথাটি বলে রুদ্রিক চলে যেতে নিলে আমি রুদ্রিকের হাত ধরে নিজের কাছে এনে, রুদ্রিকের কপালে আলতো করে চুমু খেয়ে বললাম,

—“অল দ্যা বেস্ট ডিয়ার। এখন থেকে বিসনেজ এন্ড নিজের স্টাডি দুটোই তোমাকে হ্যান্ডেল করতে হবে। আমি জানি তুমি পারবে। ”

রুদ্রিক মুঁচকি হেঁসে বলে,

—“তুই থাকলে আমি সবকিছুই পারবো। বায়। ”

কথাটি বলে রুদ্রিক বেড়িয়ে যায়।

রুদ্রিক বেড়িয়ে যেতেই আমি বিছানায় বসে পড়ি। কয়েকদিন ধরে শরীরটা বেশ খারাপ যাচ্ছে। রুদ্রিককে বললাম নাহ। শুধু শুধু টেনশন করবে। আমাকেও এখন ভার্সিটি যেতে হবে। নীচে সিথি ওয়েট করছি।

আমি ও সিথি ভার্সিটিতে প্রবেশ করতেই, কোথা থেকে সাদি ভাইয়া এসে বললেন,

—“সিথি তোমার সাথে একটা কথা আছে। ”

সিথি মুখ বেঁকিয়ে বলল,

—“আমার কোনো কথা নেই। হুহ। ”

সাদি ভাই এইবার সিথির হাত ধরেই টেনে নিজের সাথে একেবারে মিশিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন,
—“তুমি আমার সাথে যাবে মানে যাবে। ”

সাদি ভাইয়া আমার দিকে একপলক তাঁকিয়ে বললেন,

—“কাজল,তোমার বান্ধুবিকে নিয়ে যাচ্ছি। আপাতত ক্লাসটা তুমি একাই করো। ”

আমি সিথির দিকে দাঁত কেলিয়ে বললাম,

—“নিয়ে যান ভাইয়া সমস্যা নেই। ”

সিথি আমার দিকে চোখ পাঁকিয়ে তাঁকালো। সাদি ভাইয়া সিথিকে একপ্রকার টেনেই নিয়ে গেলো।

বুঝলাম দুজনের মধ্যে মান-অভিমান এর পালা চলছে। এইসব আর নতুন কী? এই একমাসে আমি বুঝে গিয়েছি। সিথি ও সাদি ভাইয়া একে অপরকে ভালোবাসে,এখন শুধু প্রকাশ করাটাই বাকি।

হুট করে আমার কি হলো কে জানে? মাথাটা মনে হয় ঘুড়াচ্ছে আমার। আমি পড়ে যেতে নিবো, তখনি কেউ আমাকে আকড়ে ধরে। আমি কোনোরকম চোখ খুলে দেখি রুদ্রিক।

______

ডক্টরের চেম্বারে আমি ও রুদ্রিক বসে আছি। রুদ্রিক একপ্রকার আমার দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাঁকিয়ে আছে। আমি ভিতু চোখে রুদ্রিকের দিকে তাঁকিয়ে আছি।
রুদ্রিক এইবার আমাকে ধমক দিয়ে বলল,

—“তোর শরীর খারাপ করছে আমাকে বলিস নি কেনো? ”

—“আসলে…

—“তোর ফালতু এক্সকিউজ রাখ তোর কাছে।
তুই বেশি বেশি করছিস কাজল। আজ যদি তোর কিছু হয়ে যেতো তাহলে কী হতো বুঝতে পারছিস? ”

রুদ্রিকের কথার মাঝেই একজন বয়স্ক ডক্টর মহিলা এসে বললেন,

—“আপনার স্ত্রীকে আমি ভালো করে চেকাপ করেছি। এইসময়ে এইরকম একটু-আকটু হবেই।”

রুদ্রিক ভ্রু কুচকে বলে,

—“এইরকম সময় মানে? ”

—“এমা আপনার বউ তো প্রেগন্যান্ট। ”

প্রেগন্যান্ট! কথাটি শুনে আমরা দুজনেই যেনো চোখ বড় বড় করে ফেললাম। যেনো আমরা প্রস্তুতই ছিলাম নাহ। এর মাঝে রুদ্রিক এমন কান্ড করে বসলো,যা ছিলো আমার কল্পনার বাহিরে।

বাকীটা আগামী পর্বে….
চলবে কী?

[এইযে কিপটামি না করে কমেন্ত করে ফেলুন ওকে?]

বাকীটা আগামী পর্বে…

চলবে কী?

[জানি আজকের পার্ট বেশ অগাছালো হয়ে গেছে। আসলে সারাদিন এক্সাম দিয়ে আমি ভীষণ টায়ার্ড। তার মধ্যে ঘরভর্তি মেহমান]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here