অজানা অনুভূতি পর্ব -২৭+২৮

#অজানা_অনুভূতি
#পর্বঃ ২৬
#লেখিকাঃ আদ্রিতা খান অদ্রি

সাজ্জাদ আনমনে বলে উঠলো,

মানুষ কন্ঠের ও প্রেমে পড়ে!

কি কিছু বললি তুই? ( স্বাধীন)

আরে না কিছু বলি নি। (সাজ্জাদ)

ও আদ্রিতার গানটি কিন্তু অনেক সুন্দর হয়েছে। তুই কি বলিস কেমন হয়েছে? ( স্বাধীন)

হুম ভালোই। (সাজ্জাদ)

সাজ্জাদ চিন্তা করছে আরিয়ান কেনো শুধু স্টেজের দিকে তাকিয়ে ছিলো। তার মানে কি সাজ্জাদের ধারণা সঠিক। আরিয়ান ও কি আদ্রিতাকে পছন্দ করে? সাজ্জাদ এসব ভাবনায় ডুবে আছে।

******

আলো তুই প্রোগ্রামে অংশ নে (আদ্রিতা)

না আমি কোনোকিছুতে অংশগ্রহণ করবো না (আলো)

আমি করবো ভাবতেছি (তানহা)

তোর গান শুনলে সবাই পালাবে। (আবির)

উফফ সবসময় এতো ডিস্টার্ব করিছ কেন? এই আলো আর আদ্রিতা বল না আমি কি অংশ গ্রহণ করবো নাকি করবো না? ( তানহা)

আরে হ্যাঁ অংশেগ্রহণ কর। ( আদ্রিতা)

আচ্ছা ঠিকাছে আমি যখন স্টেজে উঠবো তোরা কিন্তু স্টেজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকবি। (তানহা)

ওরা দাঁড়িয়ে থাকুক আমি পারবো না এতোক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পা ব্যথা হয়ে গেছে। (আদ্রিতা)

আমি ও পারবো না দাঁড়াতে তোর এই বক বক শোনার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। ( আবির)

তানহা আবিরের হাতে একটি ঘুসি দিয়ে বললো আর কেউ না দাঁড়ালে ও তোর দাঁড়াতে হবে আর না দাঁড়লে দেখিস কিভাবে তোকে মারি (তানহা)

তুই মেয়ে নাকি গুন্ডারে? (আবির)

আমি দুইটাই। ( তানহা)

সবাই হেঁসে উঠলো।

আচ্ছা আদ্রিতা তুই যেয়ে বস। আমি আর আবির থাকবো স্টেজের পাশে থাকবো ( আলো)

আচ্ছা ঠিক আছে (আদ্রিতা)

*******

সময় এসে পড়েছে। (নওশিন)

আমার ভয় করছে। যদি ধরা খেয়ে যায়।( রিজভী)

আদ্রিতা বেঁচে ফিরবে নাকি সেটা আগে দেখ (নওশিন)

এতো রিস্ক নিয়ে কি ঠিক করেছিছ? (রাইসা)

আমি বুঝেই এটি করেছি। এতো চিন্তা করতে হবে না। একবার ওকে শেষ করে দিতে পারলেও বাঁচি। আর বাবা শুনেছি বাবার নেক্সট ডিল সাজ্জাদের সাথে। তাহলে সাজ্জাদের নাম্বার পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে আমার জন্য। ( নওশিন)

হুম ঠিক বলেছিছ। (রাইসা)

তুই যা তোর কাজটি করে আয় (নওশিন রিজভীর উদ্দেশ্য বললো)

ওকে (রিজভী)

******

আদ্রিতা গিয়ে একটি চেয়ারে বসে পড়লো । আলো আবির স্টেজের দিকে কারন এখন তানহা গান পেশ করবে। সাজ্জাদ আর স্বাধীন আদ্রিতার সামনের সিটে। আদ্রিতা কিছুটা পিছনে বসা। হঠাৎ রিজভী এলো,

আদ্রিতা একটু শুনো (রিজভী)

হুম বলো (আদ্রিতা)

যেই রুমে প্রধান অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিলো সেখানে একটি গিফট বক্স ছিলো তাদের দেওয়ার জন্য তুমি একটু নিয়ে আসো আরিয়ান স্যার চাচ্ছে। আমি এইদিকে যারা যারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে তাদের লিস্টটা একটু চেক করছি তাই তোমাকে বলছি একটু যেয়ে গিফটটা নিয়ে আসো।(রিজভী)

আচ্ছা আমি যাচ্ছি। (আদ্রিতা)

[ রিজভী হাসলো গিফট ঠিকিই রাখা আছে আরিয়ান স্যার চেয়েছে এইটা ও সত্যি। কিন্তু সেই রুমে না অন্য রুমে রাখা হয়েছে। ]

আদ্রিতা রুমে গিয়ে গিফটটি খুঁজছে। হঠাৎ রুমে কারোর শব্দ পেয়ে পিছনে তাকালো দেখলো কেউ একজন একটি গ্যাসের মতো রুমে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। আদ্রিতা দ্রুত গেয়ে দেখে দরজা বন্ধ। এর মধ্যে গ্যাসের জন্য শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। কোনোমতে দরজা ধাক্কালো তাও কেউ এসে খুলছে না। আদ্রতার শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে। ইতোমধ্যে এই অবস্থায় শ্বাস কষ্ট শুরু হয়ে গিয়েছে। আদ্রিতার শরীর খারাপ হয়ে আসছে দাঁড়ানোর শক্তি পাচ্ছে না। আদ্রিতা দরজা ধাক্কাচ্ছে তাও কেউ খুলছে না। এদিকে ঠিকমতো শ্বাস ও নিতে পারছে না। একসময় আর দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে বসে পড়লো।

*****

তানহা গান শেষ করে নেমেছে স্টেজ থেকে।

কিরে কেমন দিলাম? (তানহা)

হ্যাঁ ভালো হয়েছে। (আলো)

দুর কিসের ভালো হয়েছে। মনে হয়েছে কোনো হাঁস স্টেজে উঠে প্যাক প্যাক করেছে। (আবির)

কথাটি শুনে আলো ও মুখ টিপে হাঁসলো। তানহার গান আসলে ও সুন্দর হয়েছে কিন্তু আবির সবসময় ওর পিছনে বেজে থাকে।

আদ্রিতা কোথায়? ওর কেমন লাগলো আমার গান?(তানহা)

আদ্রিতা ত সবার সাথে বসে ছিলো এখন ত দেখতে পারছি না। (আবির)

কিন্তু এখন ত আদ্রিতাকে দেখতে পারছি না? (আলো)

কি জানে মনে হয় একা একা ঘুরছে। (আবির)

হ্যাঁ তাই হবে। (আলো)

**** কিছুক্ষণ পর *****

অনুষ্ঠান প্রায় শেষের দিকে কিন্তু এখনো তারা আদ্রিতাকে খুঁজে পাচ্ছে না।

অনেক্ক্ষণ হয়ে গেলো তাও আদ্রিতা আসতেছে না আমার অনেক ভয় করছে ( তানহা)

হুম অনেকক্ষণ হয়েছে ওর কোনো খোঁজ নেই। (আবির)

দাঁড়া আমি দেখছি। আলো এই কথা বলে সাজ্জাদের দিকে আগাতে লাগলো।

অনুষ্ঠান প্রায় শেষ সাজ্জাদ আর স্বাধীন চলে যাবে এখন প্রিন্সিপাল স্যার সাজ্জাদের সাথে কথা বলছে এমন সময় সেখানে আলো আসলো,

ভাইয়া আপনি কি আদ্রিতাকে দেখেছেন? (আলো)

না। কেনো কি হয়েছে? (সাজ্জাদ)

ভাইয়া অনেকক্ষণ হয়েছে কিন্তু আদ্রিতাকে পাওয়া যাচ্ছে না।(আলো)

কথাটি শুনে সাজ্জাদের মনে একটি ভয় ঢুকে গেলো।

এখন এই কথা বলছো ফাস্ট ওকে খুঁজতে শুরু করো।
(সাজ্জাদ)

সাজ্জাদ চোখে মুখে ভয় দেখে প্রিন্সিপাল স্যার ও বললেন, হ্যাঁ কলেজের সব জায়গায় দেখো ও কোথায় আছে।

********

হঠাৎ কেউ দরজা খুললো আদ্রিতার মনে কিছুটা আশা দেখা দিলো। কিন্তু দরজা খোলার পর যাদের দেখলো তাদের দেখার জন্য আদ্রিতা মোটেও প্রস্তুত ছিলো না। কালকে বাস স্ট্যান্ডের সামনে দেখা ছেলেগুলো। চোখে মুখে ভয়ংকর হাসি। বোঝায় যাচ্ছে উদ্দেশ্য খারাপ। আদ্রিতা দেখে ভয়ে জমে গেলো। এমনি এতোক্ষণ ধরে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছিল আবার এখন ওদের দেখে আর ও অবস্থা খারাপ। রুমে ৩ জন ছেলে প্রবেশ করেছে। ৩টি ছেলের মধ্যে একটি ছেলে বাইরে গিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে চলে গেলো। যেনো কেউ সন্দেহ না করতে পারে। ২টি ছেলে আদ্রিতার দিকে এগোচ্ছে। মুখে ভয়ংকর হাসি আদ্রিতার সাথে খারাপ কিছু হতে যাচ্ছে তা আদ্রিতা বুঝতে পারছে। আদ্রিতার কথা বলতে ও কষ্ট হচ্ছে তাও কোনোমতে বলে উঠলো,

কারা আপনারা দরজা বন্ধ করছেন কেনো? বের হন রুম থেকে। (আদ্রিতা)

ছেলেগুলো হেসে উঠলো। একজন এসে হাঁটু গেড়ে আদ্রিতার সামনে বসলো। আদ্রিতার ঠোঁটে হাত দিয়ে লিপস্টিক নষ্ট করে দিলো।

১ম ছেলেটি ২য় ছেলেটিকে বলে উঠলো, আরে এ মেয়ে দেখি সেই একটি মা*ল অনেক মজা হবে। কথাটি বলে বিশ্রী হাসি দিয়ে উঠে।

আদ্রিতা মনে প্রাণে চাচ্ছে কেউ আসুক সাহায্য করার জন্য। ঠিকমতো কথা বলার অবস্থা ও এখন আদ্রিতার নেই।

২য় ছেলেটি বলে উঠলো হ্যাঁ আজকে ভালোই উপভাগ করা যাবে। মেয়েটির শরীর দেখ মনে হয় তুলার মতো নরম।

১ম ছেলেটি বললো তাইলে আর দেড়ি করবো কেনো? চল উপভোগ করি একে।

আদ্রিতা ভয়ে কুঁকড়ে উঠলো।

২য় ছেলেটি আদ্রিতার হাত শক্ত করে ধরলো আদ্রিতার হাতের কাঁচের চুরি গুলো ভেঙে গেলো। হাত থেকে রক্ত পড়ছে।

১ম ছেলেটি আদ্রিতার হিজাবটি টান দিয়ে খুলে ফেললো। চুল গুলো খুলে ফেললো।

২য় ছেলেটি আদ্রিতার শাড়ির আঁচলে হাত দিতে নিলো আর ঠিক তখনই……..
#অজানা_অনুভূতি
#পর্বঃ ২৭
#লেখিকাঃ আদ্রিতা খান অদ্রি

ছেলেটি আদ্রিতার শাড়ির আঁচলে হাত দিতে নিলো আর ঠিক তখনই কেউ দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলো।

এই কে ভিতরে আসলি? একটি ছেলে বলে উঠলো।

আদ্রিতার মনে কিছুটা হলে ও আশার আলো দেখা দিলো।

হঠাৎ সেই আগন্তুক ছেলেটি রুমের ভিতরে থাকা ছেলেগুলোর উপর গুলি চালিয়ে দিলো। সাথে সাথে ওরা দু’জন মারা গেলো।

এমন ঘটনার জন্য আদ্রিতা মোটেও প্রস্তুত ছিলো না। আকস্মিক এমন ঘটনায় আদ্রিতার মুখ থেকে কোনো শব্দ ও বের হলো না। আদ্রিতার দু’পাশে এখন দু’টি লা*শ। আদ্রিতা ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললো।

********

সাজ্জাদ আর বাকিরা বিভিন্ন রুমে আদ্রিতাকে খুঁজে চলেছিলো। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে সাজ্জাদের পা যেন বরফের ন্যায় জমে যায়। সাজ্জাদ নিজেই কতোবার বন্দুক ব্যবহার করেছে তার ঠিক নেই। কিন্তু এখন ভয় পাচ্ছে। একটি ভয় আদ্রিতাকে হারিয়ে ফেললো নাকি। আলো, তানহা আবির ওরা ও ভয় পেয়ে যায়। আরিয়ান স্যার ও শব্দটি শুনে। কলেজে এরকম শব্দের জন্য মোটেও কেউ প্রস্তুত ছিলো না। যেই রুম থেক৷ শব্দটি আসে সেই রুমের দিকে সবাই দ্রুত এগিয়ে যায়। সাজ্জাদ দ্রুত সেই রুমের দিকে যাওয়া শুরু করলো। কলেজের বাকিরা ও ভয় পেয়ে গেলো৷

********

সাজ্জাদ রুমে ঢুকে দেখতে পারে, আদ্রিতার বিধ্বস্ত দেহটি নিচে পড়ে আছে। হাত কাঁচের চুড়ি গুলো ভেঙে হাত থেকে রক্ত পড়ছে। লিপস্টিক লেপটে আছে। হিজাব খুলে গিয়েছে। শাড়িটা এলোমেলো। আর তার পাশেই দু*জন এর লা*শ পরে আছে। বাকিরা ও রুমের এ অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে যায়। সাজ্জাদ এমন অবস্থার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না।

সাজ্জাদ দ্রুত গিয়ে আদ্রিতাকে সেখান থেকে তুলে একটি বেঞ্জে শুইয়ে দেয়।

আলো, তানহা, আবির আর আরিয়ান স্যার রুমে ঢুকে স্তব্ধ হয়ে গেলো।

আলো আদ্রিতা এই কথাটি বলেই ওর মাথা ঘুরে উঠে। আদ্রিতার এই অবস্থা তারপর আবার দু’টি লা*শ। আলো হঠাৎ পড়ে যেতে নিলে আরিয়ান ধরে ফেলে। আরিয়ান নিজেই কলেজের মধ্যে এরকম ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিলো না। স্বাধীন যেয়ে ছেলেদের চেক করে সাজ্জাদের উদ্দেশ্য বললো,

মারা গিয়েছে। (স্বাধীন)

আদ্রিতার জ্ঞান না ফিরা পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না কি হয়েছে রুমে। (সাজ্জাদ)

হুম। (স্বাধীন)

কিন্তু কেউ আদ্রিতার সাথে খুব খারাপ করার চেষ্টা করেছে। আমি ছাড়বো না কথনো ও ( সাজ্জাদ)

সাজ্জাদের চোখে মুখে রাগ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে যারা আদ্রিতার ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে তাদের এখন সামনে পেলে খুন করতে ও দ্বিধা বোধ করবে না।
আরিয়ান আলোকে একটি চেয়ারে বসিয়ে দিলো। তানহার হাত পা ও যেনো শক্ত হয়ে আসছে। আবির তা বুঝতে পেরে ওকে ধরে ও একটি চেয়ারে বসিয়ে দিলো।

ভাইয়া কলেজে খু*ন কে করবে? (আবির সাজ্জাদের উদ্দেশ্য বলে উঠলো)

এর জবাব আদ্রিতাই ভালোভাবে দিতে পারবে।(সাজ্জাদ)

কিন্তু আদ্রিতার জ্ঞান ফিরলে কি ওকে এগুলো জিজ্ঞেস করা ঠিক হবে? (আবির)

জিজ্ঞেস ত অবশ্যই করতে হবে। কে এগুলো করেছে তা জানতে হবে। (সাজ্জাদ)

স্বাধীন তুই গাড়ি বের কর আদ্রিতাকে এখন বাসায় নিয়ে য়ায়। ওর রেস্টের প্রয়োজন আবার হাত থেকে ও রক্ত পড়ছে। আরিয়ান তুই পুলিশদের কল দে। এই জায়গার ঘটনা খুলে বল। আর আদ্রিতার সাথে সরাসরি পুলিশদের কথা বলার প্রয়োজন নেই যা কথা বলার আমি বলবো। (সাজ্জাদ)

আচ্ছা স্বাধীন গাড়ি বের করতে চলে গেলো। আরিয়ান পুলিশকে কল করে জানিয়ে দিলো। কলেজ যারা ছিলো সবাইকে থাকতে বলেছে পুলিশ।

আবির তানহা আর আলোকে নিযে অন্য রুমে যাও। (সাজ্জাদ)

ভাইয়া এই অবস্থা দেখে আলো জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে ওকে কিভাবে নিবো……. (আবির)

আরিয়ান আলোকে একটু অন্য রুমে নিয়ে যা। আর কোনো স্টুডেন্ট যেনো এখন এই রুমে আসতে না পারে। (সাজ্জাদ)

ওকে (আরিয়ান)

আবির আর তানহা চলে গেলো রুম থেকে।

আরিয়ান কিভাবে আলোকে নিবে নিজে ও বুঝতে পারছে না। ইচ্ছা না থাকা শর্তে ও আলোকে কোলে তুলে নিলো। আলোকে নিয়ে অন্য রুমে গেলো।

সাজ্জাদ আদ্রিতার হিজাবটি কোনো মতে একটি বেঁধে দিলো। শাড়ির আঁচলটি ঠিক করে দিলো। মৃত ছেলেগুলোর দিকে তাকালো সাজ্জাদ চিনতে পারলো এটি কালকের বাস স্ট্যান্ডের সামনে থাকা ছেলেগুলো।সাজ্জাদ কিছু একটা ভাবলো কোনোভাবে বুঝতে পারছে না কি থেকে কি হয়ে এখানে দু’টি পক্ষ রয়েছে তা সাজ্জাদ নিশ্চিত। এ সমস্যা সমাধানের জন্য আদ্রিতার জ্ঞান ফিরে আসা জুরুরি। সাজ্জাদ আদ্রতাকে কোলে তুলে নিলো তারপর আদ্রিতাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লো।

********

দোস্ত এটা কি হলো? ( রাইসা)

নওশিনের ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। রিজভীর অবস্থা ও একই। তারা ত চেয়েছিল ওই ছেলেদের দিয়ে আদ্রিতাকে ধর্ষ*ণ করাবে। কিন্তু আদ্রিতার ত কিছু হলো না বরং ওরা নিজেরাই মারা গেলো।

দোস্ত ওদের কে মারলো? ( নওশিন)

কিছুই বুঝতে পারছি না কি হয়ে গেলো। আদ্রিতার জ্ঞান ফিরলে ও যদি বলে দেই রিজভী যেতে বলেছিলো সেখানে তখন আমাদের অবস্থা কি হবে ভাবতে পারছিছ? ( রাইসা)

কিছু বুঝতে পারছি না কি করবো? (নওশিন)

আমি? আমি কি করবো তোদের জন্য আমি ফেঁসে গেলাম। (রিজভী)

মাথা ঠান্ডা করে কাজ করতে হবে। এমন ভাব করতে হবে যেনো আমরা কিছু করি নি। ( রাইসা)

হুম আর নিয়মিত কলেজে আসতে হবে। এখন না আসলে সবাই সন্দেহ করবে আমাদের। (নওশিন)

হ্যাঁ। সবাইকে শান্ত থাকতে হবে। ( রাইসা)

******

সাজ্জাদ আদ্রিতাকে গাড়িতে বসিয়ে দিলো। নিজে ও বসলো। স্বাধীন আগে থেকেই গাড়িতে বসে ছিলো।

জ্ঞান এসেছে? ( স্বাধীন)

না। (সাজ্জাদ)

কলেজে এইরকম কে করতে পারে? ( স্বাধীন)

গাড়ি চালানো শুরু কর। এইসব কথা এখন শুনতে চাচ্ছি না। ( সাজ্জাদ)

স্বাধীন বুঝতে পারলো সাজ্জাদ রেগে যাচ্ছে। তাই আর কথা বাড়ালো না।

সাজ্জাদ গাড়িতেই আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরলো। যেনো গাড়ি চালানোর সময় পরে না যায়।

আনমনে বলে উঠলো,

সরি আদুরি আমার খেয়াল রাখা উচিত ছিলো। আমার তোমার প্রতি একটু খেয়াল থাকলে আজকে তোমার এ অবস্থা হতো না। জানি না কে ওই ছেলেদের খু*ন করেছে। কিন্তু আজকে ওই লোকটি না থাকলে তোমার আর ও ক্ষতি হয়ে যেতো। কথাগুলো বলে সাজ্জাদ দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

[

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here