অদ্ভুত সম্মোহনী পর্ব ২

#অদ্ভুত_সম্মোহনী ♥
#PART_02
#FABIYAH_MOMO 🍁

🍁
গত কালকের ঘটনার পর বাসায় একদম থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আম্মু সেই সকাল থেকে আমার রুমে শুয়ে বসে কাটিয়ে সন্ধ্যার একটু পরে নিজের রুমে প্রস্থান করেছেন। রূপ আপুর প্র‍্যাক্টিক্যাল কমপ্লিট হয়নি তাই ভাইয়া শুভা আপুর বাসায় উনাকে দিয়ে আসতে গিয়েছেন। সাদ ভাইয়া চলে যাওয়ার পর পড়ায় ব্যস্ত ছিলাম। এখন একটু ফুরসত।। আমি রুমে একা। রাত প্রায় আটটা বাজে। ‘এবং হিমু’ বইটা পড়ছি এবং ঘরময় হাটছি। হাটছি বললে ভুল হবে…খুড়েখুড়ে চলছি। পায়ের বুড়ো আঙ্গুল কাটার পর থেকে তেমন ভাবে ভর দিয়ে হাটতে পারিনা। গভীর মনোযোগ দিয়ে বইয়ের একটা পৃষ্ঠা উল্টাতেই ফট করে কারেন্ট টা গিয়ে সারাবাড়ি অন্ধকার করে দিলো। আমি বইটা বন্ধ করে খুড়িয়ে খুড়িয়ে অন্ধকারের মধ্যেই আমার টেবিলের কাছে গেলাম। ভাঙা জানালার অংশ দিয়ে একটুআধটু আলো আসছে,তার সুবাদেই অন্ধকারে টেবিলটা ধরতে পেরেছি। টেবিলের ড্রয়ার থেকে লাইট খুজতেই হঠাৎ মনে হলো কেউ রুমের মধ্যে হাটছে।। আমি ব্যাপারটা গায়ে মাখলাম না। আগের মতোই আলতো ঝুকে লাইট খুজতে লাগলাম। লাইটটা হাতে নিয়ে সুইচ টিপবো হঠাৎ মনে হলো আমার কানের কাছে কারোর ঘনঘন নিশ্বাস নেওয়ার শব্দ অনুভব হচ্ছে। আমি পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গেছি! অটোমেটিক আমার নড়াচড়া অফ হয়ে গেছে! আমার অনৈচ্ছিক পেশির দায়িত্বে থাকা হৃৎপেশিটা অস্বাভাবিক হারে ধুকপুক করছে। হৃৎপিন্ডের মাংশলটা এই বুঝি বাপাশ থেকে ছিটকে পড়লো! আমি কি এখন চিৎকার দিয়ে আম্মুকে ডাকবো?? আম্মুকে ডাকা উচিৎ !! আম্মুকে ডাকা উচিৎ!!গলা ভিজিয়ে মুখ খুললাম! আমি একফোটাও চিৎকার করতে পারছিনা!! অনেক চেষ্টা করছি নাহ্ ভয়ের কারনে গলা জড়িয়ে আটকে আসছে!! আমি চিৎকার দিতে পারছিনা!!! নিজেকে এই বিকট পরিস্থিতিতে একটু শান্ত করার জন্য জোরে জোরে শ্বাস ছাড়তেই হঠাৎ পেছন থেকে কেউ ধাক্কা দিয়ে সোজা দেয়ালে চেপে ধরলো! তৎক্ষণাৎ আমি চোখ খিচে পায়ের ব্যথায় কুকড়ে উঠি! সেই ব্যক্তিটা আমার কাছে আরো ঘন হয়ে এলো! দূরত্ব মিটিয়ে সে আমার দুবাহু দেয়ালে ঠেসে তার মুখ কাছে আনতে লাগলো। বুকের ধুকধুকনি আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে!! আমি ফুপিয়ে কেদে উঠি কে এমন করছে! কে করছে পৈশাচিক আচরন ! সে আমার নাকের সাথে তার নাক লাগাতেই প্রকৃতির কি চমৎকার লীলা হলো জানিনা! হুট করে পুরো রুমসহ পুরো বাড়ি আলোকিত করে কারেন্টটা চলে আসলো! আমি সাথে সাথে চোখ খুলে দেখি সামনে তরুণ ভাইয়া! উনার চোখে ঘোর লাগা ভয়াবহ নেশা! আমি ঠোট কুচকে সজোরে দেই ধাক্কা। তরুণ ভাইয়া ধাক্কার তাল সামলাতে না পেরে বিছানার কাছে যেয়ে উল্টে পড়ে মাথায় আঘাত পান! পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে আম্মু রুম থেকে চেচিয়ে ছুটে আসেন, এসে দেখেন আমি ঢোক গিলে মাথা ধরে বেগতিক হারে নিশ্বাস ছাড়ছি। অন্যদিকে তরুণ ভাইয়া ফ্লোরে মাথায় হাত দিয়ে ব্যথায় চোখমুখ কুচকে আছেন। আম্মু অবাকের শেষ প্রান্তে পৌছে গেছেন আমার রুমে তরুণ ভাইয়াকে দেখে! উনি তরুণ ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে আমার উদ্দেশ্যে তোতলানো সুরে বলে উঠলেন,

— সাইফা..তরুণ তোর রুমে ককি করে….

আম্মুর দিকে তাকিয়ে আমি উত্তর দিতে পারছিনা। চোখ লাল করে আমি হু হু করে কাদছি। তন্মধ্যে ভাইয়া বাসার এক্সট্রা চাবি দিয়ে দরজা খুলে উপস্থিত! উনি সোজা আমার রুমের হালচাল দেখতে ভেতরে এসে পা থমকে হতভম্ব হয়ে যান! ভাইয়া চোয়াল ঝুলিয়ে একবার আমার দিকে…আরেকবার তরুণ ভাইয়ার দিকে তাকান। পরক্ষনে রাগে ফুসতে ফুসতে এক ঝটকায় তরুণ ভাইয়ার কলার ধরে ঠাসস করে চড় মারেন! তরুণ ভাইয়া ছিটকে ফ্লোরে পড়েন!

— শালা ***! নিমোকহারাম! তুই আমার বন্ধু হয়েও কেমনে পারলি আমার বোনের দিকে নজর! শালা ****! তোরে যদি আমি খুন না করছি রে! এক বাপের এক পোলা না!

শাকিল ভাইয়া রাগে চড়ঘুষি মারতে লাগলেন তরুণ ভাইয়াকে! আম্মু কোনোভাবেই ভাইয়াকে থামাতে পারছেন না। প্রচুর মারছেন তরুণ ভাইয়াকে! তরুণ ভাইয়া হলো শাকিল ভাইয়ার স্কুলজীবনের কলিজার বন্ধু! একসাথে স্কুল থেকে শুরু করে ভার্সিটি লাইফের সম্পর্ক! তরুণ ভাইয়া শাকিল ভাইয়ার সবচেয়ে কাছের আর বিশ্বাসযোগ্য মানুষ! এমনকি আমাদের দুবোনের থেকেও তরুণ ভাইয়াকে শাকিল ভাই বেশি মান্য করেন! সেই ভাইয়া আজ আমার সাথে কুকর্ম করতে চেয়েছেন! তরুণ ভাইয়াকে মেরে কুপোকাত করে শাকিল ভাই ওকে জিজ্ঞেস করেন,

— বল তুই বদ মতলব কবে থেকে পুষেছিস! বল!!! তোকে আমি আমার নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস করি! তুই বিশ্বাসের আস্থাটা শেষ করে দিলি?? এই সাইফার সাথে তুই খারাপ কাজ করতে চেয়েছিলি না…এই সাইফার চেয়েও তোকে বেশি মানতাম ! আর তুই আমার সাথেই এতো বড়ো ধোকাবাজি করলি! ছি! আর না…আর তোর মতো ধোকাবাজির খপ্পরে পড়বোনা! তোকে এখন ভালো করেই বোঝাবো শাকিলের বোনের দিকে কুনজরে তাকানোর মজা কেমন!

— হা হা…তোর বোনের হিসাব আলাদা বন্ধু…তোর বোনের হিসাব আলাদা…বিদেশি চামড়া না হলেও গায়ের সুগন্ধি ওয়ালা চামড়া যেই নেশা … আহহহ বন্ধু তুমি বুঝবানা…

উগ্র কথা শুনেই শাকিল ভাইয়া হুমড়ি দিয়ে মারতে মারতে তরুণ ভাইয়ার নাক মুখ দিয়ে রক্ত ছুটিয়ে ফেলেন। রক্তারক্তি অবস্থা দেখে আম্মু আর আমি দুজনেই ভাইয়াকে দোহাই দিয়ে থামতে বলি। ভাইয়া থামেন। তরুণ ভাইয়ার আব্বু আম্মুকে ডেকে কঠিন বিচার দেন! এবং নিজহাতে তরুণ ভাইয়ার সাথে সব বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক ছিন্ন করে দেন!

আমার সাথে এমন আচরনের পর থেকে আমি ভাইয়ার কোনো বন্ধুবান্ধবের সামনে যাইনা। আগেও যেতাম না। শুধু তরুণ ভাইয়ার আসা-যাওয়া খুব বেশি ছিলো বিধায় বড় ভাইয়ের মতোই তাকে দেখতাম। কিন্তু মানুষটার হাসির আড়ালে বীভৎস ভয়ঙ্কর চেহারা লুকিয়ে থাকবে আমরা কেউই আশা করতে পারিনি। শাকিল ভাইয়া মনমরা হয়ে যান। আমার সাথে টুকটাক কথা বললেও আম্মু, আব্বু, আপুর সাথে কথা বলা টোটালি বন্ধ। প্রয়োজনীয় কথা হু হা তে জবাব দেন। আজ অনেকদিন পর রূপ আপুর ভার্সিটির ফ্রেন্ড আড্ডা দিতে এসেছেন। বলা প্রয়োজন, রূপ আপু উনার নামের মতোই অতি রূপে রূপবতী। কেউ উনাকে একবার দেখলে বারবার তাকানোর জন্য উপায় খুজতে থাকবে। রাস্তায় বেরুলে এটাই একটা সমস্যা আপুকে দেখে ছেলেরা মুগ্ধ হবেই! উনার ভার্সিটির ফ্রেন্ডগুলো সবাই স্টাইলিশ, সুন্দরী এবং একেকটার চেয়ে কোনোটা এক চুল দেখতে কম না। সবাই আমরা আপুর রুমে গোল হয়ে বিছানায় বসে আছি। সবাই যেকোনো একটা কথা তুলেই হাসাহাসি করছে। ইশা আপু(আপুর সবচেয়ে ক্লোজ বান্ধুবী) বলে উঠলেন,
— রাইফা? তোর বোন কিন্তু সামনে ইয়ার!! বুঝেশুনে কথা বলিস আন্টিকে লাগিয়ে দিলে কিন্তু শেষষষ!!

কথাগুলো বলেই ইশা আপুর সাথে সিমা আপু, রুশা আপু, তানিয়া আপু হাসতে লাগলেন। আমার ভ্রুকুচকে এলো কথা শুনে।। রূপ আপু ওদের থামিয়ে দিয়ে বলে উঠলেন,
— আব্বে অফ যা ! ও আমার বোন। দুশমন না!! আর ওর পেট পাতলা না যে কথা পাচার করবে! সো চিল বেব্স! আমি আমার বোনকে তোদের চেয়েও বেশি বিশ্বাস করি!

জোর গলায় কথাগুলো বলতেই আপু আমাকে আগলে ধরেন। সবার মধ্যে নিরবতা! কেউ কিছু বলছেনা.. আমাদের দুবোনের দিকে ড্যাবড্যাবে তাকিয়ে আছে সবাই।।হঠাৎ নিরবতা ঠেলে সিমা আপু তাচ্ছিল্যের সুরে বলে উঠলেন,

— রাইফা একটা কথা বলি প্লিজ মাইন্ড করিস না!!
— আরে মাইন্ডের কি আছে?? বল।।
— তোকে একটা ক্রিমের নাম বলবো, দাম পড়বে সম্ভবত তিন-চারশো টাকার মতো পড়বে। সুপার মার্কেট গেলেই পাবি। ক্রিমের নাম ‘গোল্ডেন স্টার’। অস্থির একটা ওয়ার্কফুল ক্রিম! নো সাইড ইফেক্টস!
— (অবাক হয়ে) গোল্ডেন স্টার?? এটা আবার কিসের ক্রিম? কিসের জন্য ইউজ করে সেটাই তো জানি না সিমু!! শুধুশুধু কিনবো?
— আরে না! শুধুশুধু কেন কিনবি! ওটা ইউজ করবি!! ওটা হোয়াইটিনিং ক্রিম। সাত দিনের কয়েক শেড পাল্টে ফর্সা করে দিবে!! ওই যে আফসানা আছে না? ‘কালিঝুলি’ বলে যে চেতাতাম!! ওই কালিঝুলির ফর্সা হওয়ার রহস্য কি ছিলো জানিস? ওই কালিভূত এই গোল্ডেন স্টার ক্রিম মাখতো। আর এখন দেখ্…ফকিন্নির চামড়া কেমন ধবধবে হয়ে গেছে।।
আপু সিমা আপুর মাথায় চাট্টি মারলো। সিমাপু ‘আউউ’ করে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে উঠলো,
— এই গাধি মারলি কেন!
— তোকে মারবো না তো কি করবো!! আমি কি ওর মতো কালি যে হোয়াইটিনিং ক্রিম ইউজ করতে যাবো?? তোর মাথার তার বুঝি ছিড়ে গেছে সিমু!! কি উদ্ভট কথা বলছিস!!
— তুই ফর্সা না কে বললো? আমি কি কোথাও বলেছি তুই কালো? আমি তোর বোন সাইফার জন্য সাজেস্ট করেছি। এখন পযর্ন্ত তোর বোনকে কেউ সামান্য প্রেমপত্র দিলো না!! ছেলের প্রোপ্রোজাল কবে পাবে!! বিয়েটিয়ে দিতে পারবি???
সিমুর সাথে সঙ্গ যোগ দিলো রুশা আপু,
— হ্যা রে রাইফা। সিমুর কথা গড় করে দেখিস। তোর পেছনে ছেলেদের লাইন ধরে থাকে আর তোর বোনের পেছন কেউ তাকা-ই না! তাহলে বুঝ! সামনে এইচএসসি দিবে অথচ মেয়ের আদৌ কোনো প্রস্তাব আসেনি!!…
রুশা আপু মুখের বানী ছিনিয়ে নিয়ে তানিয়া আপু শেষমেশ বলে উঠলো,
— সাদা হওয়ার ক্রিম মাখলে দোষের কিছু নেই। ছেলেরা কালো না, ধলা পছন্দ করে!! তোর বোন কিন্তু কালো না আবার ফর্সাও না। দেখতে শ্যামলী। এই মেয়েদের জন্য ছেলেদের টাইম থাকেনা বুঝলি!!

সবাই আপুকে ক্রিম কিনার ফায়দা বুঝাচ্ছে। মনটা আমার ছোট হয়েষগেছে। ছোট মন নিয়েই আমি আস্তে আস্তে আপুর হাত সরিয়ে সেখান থেকে কেটে পড়ি। আপু উনাদের আলোচনায় এতোই ব্যস্ত আমি যে চলে এসেছি সেটাও উনি খেয়াল করেননি। আরেকটু দেরি করলে চোখের পানি সামলাতে পারতাম না। আমি যে কালো, কালো মেয়েদের সবকিছুই কি কালো? ভাগ্য কালো? মন কালো? যত্ন, আদর, সম্মান সব কালো? গায়ের রঙ দিয়ে কি মানুষের সব বিবেচিত হয়?? কেনো আমি হোয়াইটিনিং ক্রিম মাখবো? কেনো নিজের আল্লাহ প্রদত্ত রূপ নষ্ট করবো? যদি এই রঙটা দেখতে এতোই বাজে হতো সৃষ্টিকর্তা তাহলে রঙটা কিছু মানুষকে দিতেন না। সবাইকে সাদা চামড়ার অধিকারী করতেন। মানুষ সাদা চামড়ার ফর্সা সুন্দরী মেয়েকে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ মনে করে। তাহলে কালো চামড়ার শ্যামবতী মেয়েকে কেনো অভিশাপ ভাবে?? আমার শ্যামবতী চামড়াই কি আমার জন্য অভিশাপ??? কন্টক বিরোধের মতো পথ আটকানো অভিশাপ??টুপ করে অজান্তেই চোখের দুকোণা থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো আমার। নিশব্দে চোখের পানি ফেলে কাদতে থাকি আমি। কিচ্ছু ভালো লাগছেনা আমার…কিচ্ছু সহ্য হচ্ছেনা…সবাই আমাকে খোটা দেয়…কথা শোনায়…আমি কি ইচ্ছে করে নিজের গড়ন এমন করেছি??

হঠাৎ কেউ অস্থির গলায় বলে উঠলো,

— রাহা! তুমি কাদছো কেনো?? কি হয়েছে?
আমি চোখ তুলে মাথা উঠিয়ে তাকিয়ে দেখি সাদ ভাইয়া! উনি দরজায় দাড়িয়ে আমার দিকে প্রশ্নসূচকে উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন। আমি তাড়াতাড়ি চোখ মুছে বিছানা থেকে উঠতে নিলে ভাইয়া হাত দিয়ে বসতে ইশারা করেন। সাদ ভাইয়া চেয়ার টেনে বেডের পাশে বসলেন। নরম গলায় বলে উঠলেন,
— আমার স্টুডেন্ট কাদঁছে কেনো?
আমি বিছানায় বসে মাথা নিচু করে আছি। চোখ থেকে এখনো টপটপ করে পানি পড়ছে। সাদ ভাইয়া কেশে বলে উঠলেন,
— রাহা? এইদিকে তাকাও । তাকাও। রাহা তুমি টিচারের আদেশ অমান্য করতে পারো না। তাকাও, কি হয়েছে বলো?
অশ্রুভেজা চোখ দুটো তুলে সাদের দিকে তাকালো রাহা। ভেতরে কান্নার সাগর জমাট বাধলেও ঠোট কুচকে হাত দিয়ে ওড়না মুচড়াচ্ছে সে। রাহার কান্না দেখে সাদের অস্থির লাগছে প্রচুর! সব তছনছ করে রাহাকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে, কি হয়েছে প্লিজ বলো! আমাকে বলো প্লিজ! আমি নিজের প্রাণটুকু দিয়ে সব ঠিক করে দিবো! ভরসা করো আমায় প্লিজ!! বারবার অস্থিরতায় ঠোট নেড়েচেড়ে বলার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছেনা সাদ। ভিতরের জড়তা তাকে বলতে দিচ্ছেনা! দুজনের মধ্যে নিরবতার ব্রত চলছে। একজন চুপচাপ কাদছে। অন্যজন ক্রমাগত ভেতরে পুড়ছে। দুজনের মনে কষ্ট! প্রচণ্ড কষ্ট!কেউ কাউকে বলতে পারছেনা! কথা বলেও মন হালকা করতে পারছেনা! একদম না! ভারী পাহাড় বুঝি কষ্ট হয়ে বুক ভারী করে তুলছে! সাদ কাচুমাচু করে আবার প্রশ্ন করে বসলো,
— তুমি অনেকক্ষন যাবৎ কাদছো রাহা। দেখতে কি ভালো লাগে?? কেউ সামনে এভাবে কারন ছাড়া কাদঁলে চলে??

রাহা কান্নামাখা মুখ উঠিয়ে সাদকে একবার দেখলো। রাহার বড় বড় চোখ দুটি কান্নার মিশ্রনে লাল হয়ে ফুলে উঠেছে। চিকন নাকটাও লাল টকটকে হয়েছে বটে কিন্তু শ্যামবতী চামড়া হওয়ার কারনে লালচে ভাব কম বোঝাচ্ছে! নাকের ডগাও ফুলে উঠেছে বৈকি । সাদ তার পকেট থেকে রুমাল বের করে রাহার দিকে এগিয়ে দিলো। ইতস্তত রাহার মন রুমালের দিকে তাকিয়ে থাকতেই পরক্ষনে রুমালটি নিলো। রুমাল দিয়ে চোখ মুছে, গালে ছোয়াতেই গড়গড় করে বলে উঠলো রাহা,

— আপুর বান্ধুবীরা এসেছে, উনারা আমাকে কালো বলে খোচা দিয়েছেন…আমাকে সাদা হওয়ার ক্রিম ব্যবহার করতে বলেছেন। আমার নাকি বিয়ে হবে না ভাইয়া…কখনো কোনো ছেলে আমায় পছন্দ করবেনা…

সাদের মাথায় রাগ চটে এলো! সে রাগের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শক্ত গলায় বলে উঠলো,

— খবরদার! খবরদার ! এই কথা আর কক্ষনো মুখে তুলবেনা ! যারা এসব বলে তারা অবশ্যই সুস্থ মানসিকতার মানুষ না ! সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কক্ষনো অন্যকে খোচা মেরে চলে না !
রাহা সাদের রাগীরাগী চেহারা দেখে চুপসে গেলো। সে কান্না ভুলে সাদের দিকে পিটপিট করে তাকিয়ে থাকে।

— মানুষের মধ্যে দুটা মহামূল্যবান জিনিস থাকে রাহা! এক. রূহ , দুই. রূপ ! যে তোমার রূহ দেখলো, সে তোমার ভালো চরিত্র বুঝে গেলো। যে তোমার রূপ দেখলো মনে করো সে ধ্বংস! মানুষকে ” রূহ বা soul” হিসেবে চেনা উচিত! “রূপ বা beauty” দিয়ে নাহ্ রাহা! রূপ দিয়ে অর্জন করা শ্রদ্ধা, মমতা, ভালোবাসা টিকে না! রূপ is not capable, রাহা! Actually its absolutely nothing! But Soul is everything! ইফ ইউ হেভ এ্যা নাইস সউল, ইউ আর দ্যা মোস্ট আমেজিং পার্সন ইন ইউর বিউটিফুল ওয়াল্ড! প্লিজ অন্যের কথায় নিজেকে জাস্টিফাই করবেনা। এতে ওদের লাভ হবে! তোমার লস! তো? মুডটা অন করো!! প্রচুর পড়া বাকি!! তোমার পড়ার টেনশানে আমি এদিকে পাগল হয়ে যাচ্ছি।।

-Fabiyah_Momo🍁

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here