অনুভূতির_জোয়ার পর্ব ৪

#অনুভূতির_জোয়ার (রম্য পর্ব)
#পর্ব_০৪
Wohad Mahmud

আর সে জন্যই সবাই বলে তোমাকে হালিমার মতো হতে হবে মাহমুদা। এক বাসায় থাকো হালিমার কাছে একটু পড়বে আর বুঝে নিবে। তাহলে তোমার জন্য ভালো হবে। একটু মেধাবী হতে পারবে।

সব সময় এসব কথা শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়ে যায় মাহমুদা আর সে জন্যই ইদানিং হালিমাকে একদম সহ্য করতে পারে না। হালিমার সাথে একসাথে টিউশনিতে যায় না। হালিমা যেতে চায় কিন্তু মাহমুদা যেতে চায় না‌।

কালকে রসায়ন পরিক্ষা। মাহমুদা মনে মনে শপথ করেছে আজ যে-ভাবেই হোউক হালিমার থেকে বেশি নাম্বার পেতে হবে। আর সবাইকে দেখিয়ে দিতে হবে আমিও হালিমার থেকে ভালো পারি।

মাহমুদা মনে মনে ভাবে এটা সম্ভব না, হালিমার ধারের কাছেও যাওয়া সম্ভব না। একটা বুদ্ধি বাহির করতে হবে। অনেকক্ষণ ভেবে ভেবে একটা বুদ্ধি বাহির করে সেটা হলো রসায়ন বই লুকিয়ে রাখতে হবে।

কিন্তু কীভাবে ভাবে লুকিয়ে রাখব। ভাবি তো সারাদিন রুমের মধ্যে থাকে।

ভাবতে ভাবতে তখন মাহমুদার মা এসে বলে, মাহমুদা তোর ভাবিকে ডেকে নিয়ে আই।

কেন মা কী হবে?

রান্না করতে হবে। বল, মা ডাকছে রান্নার কাজে সাহায্য করার জন্য।

হালিমা ভাবে বই লুকিয়ে রাখার জন্য এটাই সুযোগ।

মাহমুদা হালিমার রুমে গিয়ে দেখে হালিমা বসে আছে । গিয়ে বলে মা আপনাকে ডাকছে ভাবি।

কেন কী হয়েছে?

বিকাল হয়ে গেছে। রাতের খাবার রান্না করতে হবে। মাকে সাহায্য করার জন্য আপনাকে যেতে বলল,

হালিমা বলল, আচ্ছা যাও মাহমুদা তুমি আমি এখনি আসছি। ঘুমিয়ে ছিলাম ফ্রেশ হয়ে আসছি।

হালিমা রান্না ঘরে চলে যায় শ্বাশুড়ির রান্নার সাহায্য করতে। এই সুযোগে মাহমুদা হালিমার রসায়ন বই সাথে করে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখে।

রান্না শেষে হালিমা রুমে এসে পড়ার জন্য বই খুঁজে পায় না। হালিমার আর বুঝতে বাকি রইল না এটা মাহমুদার কাজ। হিংসা করে এমন করছে।

কিন্তু হালিমা সব সময় সবকিছু পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকে। মাহমুদার এসব কান্ড দেখে হাসতে হাসতে শেষ হালিমা। হালিমা ভাবে মাহমুদার উপস্থিত বুদ্ধি অনেক কম।

হালিমা হাসতে হাসতে ব্যাগ থেকে নোট খাতাটা বাহির করে রিভাইস দিতে থাকে।

হালিমা মনে মনে একটা বুদ্ধি আঁটে। মাহমুদার সাথে একটু মজা করা যাক। হালিমা মাহমুদার রুমে গিয়ে বলে একটা সমস্যা হয়ে গেছে যে মাহমুদা।

কী সমস্যা হয়েছে ভাবি?

আমার রসায়ন বই খুঁজে পাচ্ছি না। কোথায় যে রাখলাম মনে করতে পারছি না।

কী বলেন ভাবি এসব। কালকে পরীক্ষা আর আজকে বই খুঁজে পাচ্ছেন না। তাহলে পরীক্ষা কীভাবে দিবেন।

হালিমা বলল, মনে হয় ভুল করে টিউশনিতে রেখে চলে এসেছি। কী আর করার আছে না পড়েই কালকে পরীক্ষা দিতে হবে। কিন্তু বই টা কোথায় যে রেখে দিয়েছি খুঁজতে হবে।

কিন্তু ভাবি পরীক্ষা তো ভালো হবে না। কারণ পড়তে পারবেন না। আপনি এক কাজ করেন ভাবি আমার বই নিয়ে গিয়ে পড়েন।

হালিমা মনে মনে বলে, বই টা নিয়ে চলে যায় তাহলে বুঝবে কত ধানে কত চাউল। কিন্তু এমন করলে আসল মজা নষ্ট হয়ে যাবে। সামনে আরো অনেক কিছু বাকি আছে। তারপর বলে, না না থাক মাহমুদা। আমি চাই না আমার জন্য তোমার পরীক্ষা খারাপ হোক।

এটা বলে চলে যায় হালিমা। অনেকদিন পর আজ দুজন একসাথে টিউশনিতে যাচ্ছে। মাহমুদা একটু করে পরীক্ষা দিচ্ছে আর হালিমার দিকে তাকাচ্ছে। মাঝে মাঝে মাহমুদার এসব কাহিনী দেখে কিছু না লেখার ভান ধরে বসে আছে। মনে হচ্ছে যেন, কিছু পারছে না।

পরীক্ষা শেষ একসাথে বাসায় যাচ্ছে। মাহমুদার সামনে কিছুটা মন খারাপ করে আছে হালিমা।

মাহমুদা বলে ভাবি আজকে পরীক্ষা কেমন হয়েছে?

হালিমা কিছুটা মন খারাপ করে বলে কেমন আবার হবে। তুমি বলো তুমি যদি না পড়ে পরীক্ষা দিতে তাহলে তোমার পরীক্ষা কেমন হতো?

অবশ্যই অনেক খারাপ হতে ভাবি। সবাই যেখানে পড়ে এসে পরীক্ষা দিচ্ছে আর আমি যদি না পড়ে দিতাম তাহলে সবার থেকে কম নাম্বার আমি পেতাম।

হালিমা বলে, তাহলে বুঝো আমার পরীক্ষা এমন হয়েছে। তোমার পরীক্ষা কেমন হয়েছে সেটা বলো মাহমুদা?

আমার পরীক্ষা তো অনেক সুন্দর হয়েছে ভাবি। মনে হচ্ছে এবার আমি ফার্স্ট হবো। কালকে সারারাত অনেক পড়েছি কিন্তু আপনার জন্য খারাপ লাগছে। আপনাকে বললাম আমার বই নিয়ে গিয়ে পড়তে কিন্তু আমার কথা শুনলেন না।

পরেরদিন সকালে দুজন টিউশনিতে যাচ্ছে হালিমা আর মাহমুদা। মাহমুদা অনেক খুশি কারণ আজকে পরীক্ষার রেজাল্ট দিবে।

মোট দশজন পরীক্ষা দিয়েছে। প্রথমেই মাহমুদার নাম ডেকেছে।
মাহমুদা?

ইয়েস স্যার

তোমার পরীক্ষার মোট নাম্বার ১০০ এর মধ্যে ৭৫

তারপর এক এক করে সবাইকে ডাকছে। আর সবাই মাহমুদার থেকে কম নাম্বার পেয়েছে। এসব দেখে মাহমুদা তো সেই খুশি। সবার থেকে বেশি নাম্বার পেয়েছে।

দশ জনের মধ্যে নয় জনের ফলাফল ঘোষণা হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও হালিমার নাম ডাকেনি। মাহমুদা মনে মনে ভাবছে সবার লাস্টে যখন ডাকছে তাহলে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সবথেকে কম নাম্বার পেয়েছে। এসব ভেবে পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছে মাহমুদা।

হালিমা?

ইয়েস স্যার।

তোমার রেজাল্ট ১০০ এর মধ্যে ৯০। সবাই হালিমার জন্য একটা তালি দেও। আর সবাই একটু হালিমার মতো হওয়ার চেষ্টা করব। হালিমার মতো পড়াশোনা করবে। তার ধারের কাছেও কেউ নেই।

মাহমুদা তো পুরাই অবাক। হালিমার রেজাল্ট দেখে হা হয়ে আছে। হালিমার সাথে এতো ষড়যন্ত্র করছো পেরে উঠতে পারলো না মাহমুদা।

হালিমার উপর দ্বিগুণ রাগ বেড় যায় মাহমুদার। মাহমুদা রাগ কন্ট্রোল করে বলে, ভাবি আপনি না পড়ে এতো নাম্বার কীভাবে পেলেন?

হালিমা মনে মনে ভাবে সত্যি বলা যাবে না। সত্যি বলে দিলে পরবর্তীতে আমার নোট খাতার উপর হামলা চালাবে। হালিমা বলে আমিও জানি না কীভাবে এতো নাম্বার পেলাম মনে হয় স্যারে ভুল করে দিছে।

হালিমা বাসায় বসে ব্যাগের মধ্যে হাত দিয়ে দেখে রসায়ন বই ব্যাগের মধ্যে আছে। আর মনে মনে বলে হায়রে মাহমুদা তুই যদি এই চুরি বুদ্ধিটা পড়াশোনার কাজে ব্যবহার করতিস তাহলে আমার জায়গায় তুই থাকতিস।

চলবে,,,,,

বি.দ্র: ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আগের পর্ব কমেন্টে বক্সে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here