অন্ধকার পল্লী পর্ব ১১

#অন্ধকার_পল্লী
#Tabassum_Riana
Part:১১
,
,
,
,
ম্যাচ জ্বালিয়ে মোমবাতি গুলো ধরালো আফিন।অন্ধকার রুমে মোমবাতি গুলো বাতাসের তালে তালে হেলে দুলে নৃত্য করছে।পুরো পরিবেশ টা রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে।মোমবাতির আলোটাই আফিনে পাওয়া না পাওয়ার কথা গুলো বলে দিচ্ছে।টেবিলে খাবার গুলো সার্ভ করে গিটারটাকে স্ট্যান্ডে দাঁড় করিয়ে রেখে দিলো আফিন।আজ ওর জলপরীর জন্য কিছু স্পেশাল রেডি করে রেখেছে আফিন।হঠাৎ জানালা ভেদ করে দমকা বাতাসে মোমবাতি গুলো নিভে যাওয়ার যোগাড়।আফিন দৌড়ে পর্দা সরিয়ে জানালা গুলো আটকাতে শুরু করলো।জানালা বন্ধ শেষে আফিন ডাইনিং টেবিলের দিকে এগোতেই ওর চোখ আটকে গেলো।পৃথিবী থমকে গেলো আফিনের।হার্টবিট দ্রুত গতিতে চলছে আফিনের।আফিনকে এভাবে থেমে যেতে দেখে মোমবাতি গুলো থেকে হাত সরালো অবনী।আরে দাঁড়িয়ে আছেন যে?মুচকি হেসে বলল অবনী। এবার ঘোর কাঁটলো আফিনের।মোমবাতির আলোয় অবনীর নাকের সাদা পাথরের নাকফুলটা জ্বলজ্বল করছে।কি এক অপরুপ দৃশ্য তা বর্ননা করার ভাষা আফিনের জানা নেই।কালো গাউন,চুল গুলোকে পিঠের মাঝে এলোমেলো করে ছড়িয়ে রাখা।চোখে একটু কাজল,ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক।সব মিলিয়ে অপরুপ লাগছে অবনীকে। পলকহীন ভাবে দেখে নিলো আফিন তার জলপরীকে।একটু একটু করে অবনীর দিকে এগুতে শুরু করলো আফিন।অবনী সোজা মুর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে।আফিন এসে অবনীর জামার কলারের ওপর থেকে কানের দুলটা হাতে নিলো।অবনী অাফিনকে দেখে যাচ্ছে।আজ যে অবনী চোখ সরাতে পারছেনা অাফিন থেকে।কালো কোট, লাল টাই উফ অসাধারন লাগছে আফিনকে।আফিন মুচকি হেসে অবনীর কানে কানের দুলটা পরিয়ে দিলো।
,
,
,
,
অাফিন সরে আসতেই অবনী একটু নড়ে উঠে ওর কান ধরে দেখলো।কানের দুলটা পাচ্ছিলো না জামা টা পরার পর।কিন্তু আফিন কোথায় পেলো বুঝতে পারছেনা অবনী।অাফিন অবনীর হাত ধরে চেয়ারে বসিয়ে দিলো।অাফিন অবনীর সামনের চেয়ারে বসে খাবারের ডিশের ওপর থেকে ঢাকনা সরালো।চাইনিজ খাবার গুলো থেকে ধোঁয়া উঠছে।অবাক চোখে সব কিছু দেখছিলো অবনী।এতসব কখন করলেন?প্রশ্ন করে উঠলো অবনী।যখন রুমে বসে আমাকে ভাবছিলে তখন।বলে নেশা যুক্ত হাসি দিলো আফিন।অবনী লজ্জায় মাথা নিচু করে মুচকি হাসছে।বাসায় যতো পারো হাসো।এখানে জড়িয়ে ধরে চুমো দিলে ও কেউ দেখবেনা।কথা গুলো বলে খাওয়ায় মন দিলো আফিন।আফিনের কথা শুনে হালকা কেশে উঠলো অবনী।কি বলে এই লোক?মাঝে মাঝে আফিনের কথা শুনে অবাক হবে নাকি লজ্জা পাবে কনফিউজড হয়ে যায় অবনী।খেতে খেতে অবনীর দিকে তাকায় আফিন।কি হলো এভাবে লজ্জা পেতে থাকবা নাকি খাবাও?বলে উঠলো আফিন।আফিনের কথায় পুরো একটা মোমো মুখে ঢুকিয়ে দিলো অবনী।আফিন থ হয়ে তাকিয়ে আছে অবনীর কান্ডকারখানায়।অবনী মোমোটিকে ধীরে ধীরে কামড়ে খেয়ে নিলো।এবার আফিন হেসে দিলো।গড়াগড়ি খাচ্ছে আফিন হাসতে হাসতে।অবনী অসহায় ভঙ্গিতে আফিনের হাসি দেখছে।আফিন এবার থামলো অবনীর দিকে তাকিয়ে।গ্লাসে কিছু ড্রিংক ঢালতে লাগলো আফিন দুজনের জন্য।আ আমি এগুলো খাইনা।আস্তে করে বলল অবনী।এগুলো লো এলকোহলিক।খেতে পারবে।অবনীর দিকে একটা গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলল আফিন।অবনী গ্লাসটা হাতে নিয়ে একটু চুৃমুক দিয়ে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলল।আফিন হেসে অবনীর দিকে তাকিয়ে আছে।কেমন? অবনীকে প্রশ্ন করলো আফিন।
,
,
,
,
মুখ খানিকে স্বাভাবিক করে নিলো অবনী।খারাপ না,আঙ্গুরের জুসের মতো লাগলো।বলে উঠলো অবনী।হুম বলে টেবিলের ওপর রাখা অবনীর হাতের ওপর হাত রাখলো আফিন।অবনী আফিনের দিকে তাকালো।চোখ জোড়া জ্বলজ্বল করছে ওর।অবনীর হাত উঠিয়ে সেখানে আফিন আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়াতেই অবনী হাত সরিয়ে নিলো।বুক ধুকপুক করছে ওর।আফিন চেয়ার ছেড়ে উঠে গিয়ে গিটারটা নিয়ে অবনীর সামনের ছোট্ট টুলটায় বসলো।অবনী আফিনকে দেখছে মুগ্ধ চোখে।আফিন গিটার বাজিয়ে গান ধরলো।
Muskurane ki wajah tum ho
Gungunane ki wajah tum ho
Jiya jaaye na, jaaye na, jaaye na..
O re piya re..
Jiya jaaye na, jaaye na, jaaye na..
O re piya re..
O re lamhe tu kahin mat jaa
Ho sake toh umr bhar tham jaa
Jiya jaaye na, jaaye na, jaaye naa..
O re piya re..
Jiya jaaye na, jaaye na, jaaye naa..
O re piya re.. piyaa re..
Dhoop aaye toh, chhaanv tum laana
Khwahishon ki baarishon mein
Bheeg sang jaana
অবনীর মুখে মলিন হাসি ফুটে উঠেছে কিন্তু চোখজোড়া জলে ভরে গেছে।আফিন অবনীর গালে হাত রাখলো।আমার জলপরী,কেন এতো মায়া লাগাস তুই?তোর মায়া জালে জড়িয়ে পড়েছিরে।বলতে লাগলো আফিন।অবনী আফিনের হাতের তালুতে গাল রেখে কাঁদতে লাগলো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে।অবনীকে দাঁড় করিয়ে আফিন ওর গালে ঠোঁট রেখে চোখের পানি গুলোকে শুষে নিলো।আফিনের কোটের কলার খামচে ধরে চোখ খিচে বন্ধ করে আছে অবনী।অবনীর গাল থেকে সরে এলো আফিন।অবনী এখনো আফিনের কোটের কলার ছাড়েনি।আরো জোরে আফিনকে ধরে রেখেছে অবনী।অাফিনের কেমন যেন অবনীর নেশায় ডুবে যাচ্ছে আফিন।আজকের দিনটা হয়ত আর কখনো ফিরে আসবেনা।অবনীকে এভাবে আবার পাবেনা হয়ত,হয়ত কোন এক অতল সাগরে ওর জলপরীকে হারিয়ে ফেলবে আফিন।আজকের দিনটা দুজনের জীবনে স্মরনীয় হয়ে থাকুক।কথা গুলে ভেবে অবনীর ঠোঁট জোড়ায় আলতো করে চুমু দিলো আফিন।আরো দুএকবার আলতো করে অবনীর ঠোঁটজোড়ায় উষ্ণ পরশ দিয়ে অবনীর ঠোঁটজোড়ায় ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো আফিন।শুষে নিতে থাকলো অবনীর রসালো ঠোঁটজোড়াকে।অবনী ও আজ আফিনের উষ্ণ ভালোবাসায় সাড়া দিচ্ছে।
,
,
,
,
অবনীর কলেজের সামনে এসে থামলো আফিনের গাড়ি।চোখ মুখ লাল হয়ে আছে অবনীর।মাথা নিচু করে আছে অবনী।আফিনের চোখের দিকে তাকাতে পারছেনা অবনী।আফিনের ব্যাপারে দূর্বল হয়ে পড়েছে অবনী।কলেজে যাও বলে উঠলো আফিন।আফিনের দিকে একনজর তাকিয়ে গাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লো অবনী।সামনে ফিরে চোখ মুছে নিয়ে দৌড়ে কলেজ গেটে ঢুকে পড়লো অবনী।অবনীর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো আফিন।অন্তরার সামনে বসে আছে অবনী।অবনীর দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে অন্তরা।অবনীকে দেখেই বুঝাগেছে সারারাত কান্না করেছে ও।সারারাত কান্না করেছিস মনে হচ্ছে?বলে উঠলো অন্তরা।জানি না কেন তার অনুপস্থিতি সহ্য করতে পারছিনা,কেন তার সাথেই থাকতে চাই শুধু?আমার না প্রত্যেকটা সময় নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে চায় তাকে ছাড়া।কাঁদতে কাঁদতে বলছিলো অবনী।কে সে? অবনীর হাতে হাত রেখে বলল অন্তরা।অন্তরা সব বলে দিলো অন্তরা।আফিনের সাথে ওর প্রথম দেখা হতে শুরু করে সব কিছু।ওনি তোকে ভালোবাসে?প্রশ্ন করে উঠলো অন্তরা।জানি না বলে মাথা নিচু করলো অবনী।ক্লাশ শেষে আফিন নিতে এলো অবনীকে।গাড়িতে বসে আছে অবনী।দুজনেই চুপচাপ,কারোর মুখে কোন কথা নেই।তোমাকে আজ তোমার বাসায় দিয়ে আসবো।আমার বাসায় প্যাকিং করতে হবে,একটু রেস্টের ও প্রয়োজন আছে বলে উঠলো আফিন অবনীর দিকে একনজর তাকিয়ে।আমি ও আপনার সাথে যাবো,আপনাকে প্যাকিংয়ে হেল্প করবো।প্লিজ না করবেননা।বলে উঠলো অবনী।অবনীকে না করতে পারলো না আফিন।বাসায় নিয়ে এলো অবনীকে।আফিন প্যাকিং করছে আর অবনী এটা ওটা এগিয়ে দিচ্ছে অাফিনকে।অবনীর ফোন বেজে উঠায় ফোন নিয়ে অন্যরুমে চলে এলো অবনী।
,
,
,
,
হ্যালো অবনী!!!!অপরপাশ থেকে বললেন রহমত সাহেব।
জি বাবা।বলে উঠলো অবনী।
কই তুই?কবে আসবি?জিজ্ঞেস করলেন রহমত সাহেব।
বাবা আজ বিকেলে চলে আসবো।মলিন মুখে বলল অবনী।
আজ তোর ফ্রেন্ড আফিন চলে যাবে।ওকে বাসায় চলে আসতে বল।এখানে খাওয়া দাওয়া করে একসাথে বেরিয়ে যাবে এয়ারপোর্টের জন্য।একনাগাড়ে কথা গুলো বললেন রহমত সাহেব।
জি বাবা,বলবো। বলে উঠলো অবনী।
কান থেকে ফোন সরিয়ে আফিনের কাছে এলো অবনী।বাবা বলছিলো আমাদের বাসায় যেতে।ঐখান থেকে এয়ারপোর্ট যাবেন।
অবনীর কথা শুনে হাসলো আফিন। ওকে বলে লাগেজের চেইন লাগালো আফিন।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here