অন্ধকার পল্লী পর্ব ১৯

#অন্ধকার_পল্লী
#Tabassum_Riana
Part:১৯
,
,
,
,
অফিস থেকে বেরিয়ে রহমত সাহেবের বাসার রাস্তা ধরে আফিন।এতো দিন অবনীর বাসায় গিয়ে ও ওর সাথে কথা বলতে পারেনি আফিন।অবনী কি বোঝে না আফিন কতো কষ্ট পাচ্ছে অবনীকে ছাড়া?ওর হৃদয়ের হাহাকার গুলো কি অবনীর কান পর্যন্ত পৌছায় না?ও অবনীকে খুব বেশি চায় আকাশ যেমন বৃষ্টিকে চায়,রোয়েন যেমন রুহীকে চায়,জয় যেমন সানা কে চায়,আরিয়ান যেমন প্রীতি কে চায় ঠিক তেমনি আফিন ও অবনীকে খুব বেশি চায়।অবনীর বাসার সামনে গাড়ি পৌছাতেই আফিন কিছুটা অবাক হলো।কালো একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে ওদের বাসার সামনে।আফিন গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ালো।আর কখনো দেখেনি গাড়িটাকে?কার এটা?কথা গুলি ভাবতে ভাবতে অবনীদের বাসার গেইটে ঢুকে পড়ে আফিন।কলিংবেল দিতেই আফসানা এসে দরজা খুলে কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়ে।আফসানার এমন দুঃশ্চিন্তার কারন কিছুই বুঝতে পারছেনা আফিন।কি হলো আফসানা? ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো আফিন।
না মানে ভাইয়া আসুন।কিছুটা ভয়ে ভয়ে বলল আফসানা।ঘরে ঢুকেই বিস্ময়ের চরম সীমানায় চলে যায় আফিন।ইসলাম সাহেব বসে আছেন সোফায় আর তার সামনে রহমত সাহেব মাথা নিচু করে বসে আছেন।দরজায় শব্দ হতেই রহমত সাহেব মাথা উঁচু করলো।আফিন বাবা তুমি?
,
,
,
,
এই লোক টা এখানে কেন আঙ্কেল?ইসলাম সাহেবের দিকে দাঁতে দাঁত চেপে প্রশ্ন করলো আফিন।আফিন বাবা ওনার ছেলে মামুনের সাথে অবনীর বিয়ে ঠিক হয়েছে।অবনী ও রাজী।বিয়ের কথায় আফিনের ভিতরের সব কিছু যেন ভেঙ্গে চুড়ে যাচ্ছে।অবনীর রাজী হওয়ায় ওর কপালের রগ খাড়া হয়ে গেলো।হাত জোড়া শক্ত করে মুঠ করে নিলো আফিন।চোখ দুটো লাল হয়ে এসেছে ওর।আমি ওর সাথে কথা বলতে চাই গম্ভীর গলায় বলল আফিন।
,,,,,,,,,,,,,,,,কথা বলো ঠিক আছে।তার আগে তোমার সাথে কিছু কথা আছে আফিন।সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন রহমত সাহেব।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,ঠিক আছে চলুন।বলে রহমত সাহেবের পিছু নিলো আফিন।যাওয়ার সময় পিছনে ফিরে ইসলাম সাহেবের দিকে রাগী চোখে তাকালো আফিন।
ইসলাম সাহেব আফিনের দিকে শয়তানি হাসি দিয়ে রইলো।আফিনকে নিয়ে একটা খালি রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দিলেন রহমত সাহেব।আফিন সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।মাথা জ্বলছে ওর।অবনী কি করে গুন্ডাটার সাথে বিয়েতে রাজি হতে পারে? Oboni is only mine!!!!! only mine!!!!only mineকথা গুলো ভাবতে থাকে আফিন।
,,,,,,,,,,,,বাবা জানিনা অবনী কেন এই বিয়েতে রাজি হচ্ছে?কিছুই বুঝতে পারছিনা।ওদের প্রস্তাবটা ও ভালো ঠেকছেনা।আমি ও একজন পুলিশ অফিসার ছিলাম আমার ও অনেক এক্সপেরিয়েন্স আছে।অবনীর মনে কি চলছে বুঝতে পারছিনা।এই দুই সপ্তাহ মেয়েটা কারোর সাথে কথা বলেনি ঠিকমতো।রুম থেকে ও বের হয়নি।বুঝতে পারছিনা ও কি নিজের ইচ্ছায় রাজি হলো নাকি কারোর প্রেসারে এসে।কথা গুলো বলেই খাটের ওপর ধপ করে বসে পড়লেন রহমত সাহেব।
,
,
,
,
আফিন কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে এসে অবনীর রুমের সামনে এসে দাঁড়িয়ে দরজা নক করতে থাকে জোরে জোরে।অবনী!!!অবনী প্লিজ দরজা খুলো। অবনী!!!! প্লিজ ওপেন দা ডোর ড্যাম ইট!!!!!!অবনী দরজা যদি না খুলেছো খুব খারাপ হয়ে যাবে I swear!!! চিৎকার করে বলতে থাকে আফিন।আফিন প্লিজ গেট আউট!!আপনার সাথে কোন কথা বলতে চাইনা।প্লিজ চলে যান,,,অপর পাশ থেকে চিৎকার করে বলছিল অবনী।না আমি যাবো না।কি পেয়েছো টা কি তুমি?জানোনা ভালোবাসি তোমায়?অবনী এই বিয়ে করতে পারোনা তুমি।চিৎকার করে বলছিলো আর দরজা ধাক্কাচ্ছিলো আফিন।আফিন আপনার সাথে আমার যাই ছিলো সব শেষ।এখন আমি আপনার কেউ না আপনি ও আমার কেউ না।বের হয়ে যান!!!আপনার চেহারা দেখতে চাইনা আমি!!!বলেই চুপ হয়ে গেলো অবনী।থমকে গেলো আফিন।এই কি শুনছে সে?অবনী ওর চেহারা দেখতে চায় না?ভাবতেই মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে আফিনের।সোফার ওপর বসে থাকা ইসলাম সাহেব শয়তানি হাসি দিয়ে আফিনকে চলে যেতে ইশারা করলো।আফিন ইসলাম সাহেবের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বেরিয়ে পড়লো।
আফিন চলে যাওয়ার কিছুক্ষন পর অবনী বেরিয়ে এলো রুম থেকে।ওর চোখ জোড়া লাল হয়ে আছে।রহমত সাহেব আমেনা বেগম আর আফসানা ওর দিকে অবাক চোখে চেয়ে আছে।আমার আর মামুনের বিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যেই হবে।বলেই ভিতরে ঢুকে গেলো অবনী।
,
,
,
,
ইসলাম সাহেব খুশি মনে বেরিয়ে গেলো বাসা থেকে।সেদিন রাতে আর ঘুমোতে পারেনি আফিন।সারাটা রাত একটা অজানা অস্থিরতার মাঝেই কেঁটে গেলো।অফিস থেকে বেরিয়ে অবনীর কলেজের গেটের সামনে গাড়ি নিয়ে বসে আফিন। কিছুক্ষন পর অবনীকে গেট থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেলো।অবনীর চেহারার মাধুর্যতা হারিয়ে গেছে।বাসে উঠতে নিবে ঠিক তখনই কে যেন হাত টেনে ধরলো অবনীর।গাড়ির সামনে এনে জোর করে গাড়িতে বসিয়ে দিলো আফিন অবনীকে।রাগী চোখে আফিনকে দেখছে অবনী।আফিন গাড়ীতে বসে গাড়ি স্টার্ট দিলো।গাড়ি থামান!!!আমি নামবো!!!চিৎকার করে বলল অবনী।
আফিন চুপচাপ গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে। আরে থামান বলছি স্টিয়ারিং ধরে টানা টানি করতে লাগলো অবনী।অবনীকে হালকা ধাক্কা দিয়ে সরালো আফিন।তোমার সাথে কথা আছে আমার।বলে উঠলো আফিন।আপনার সাথে কোন কথা নেই আমার। চিৎকার করে বলল অবনী।আফিন অবনীর কোন কথায় কান দিলোনা।শেষমেষ গাড়ি থামলো একটা লেকের সামনে।আফিন গাড়ি থেকে নেমে অবনীর হাত জোরে ধরে নামিয়ে লেকের কাছে আনলো।কেন এমন করছো?অবনীর হাত জোরে ধরে বলল আফিন।কি করছি আমি?হাত ছাড়াতে চেষ্টা করতে করতে বলল অবনী।মামুনকে কেন বিয়ে করছো?এতো দিন তোমার সাথে যা হয়েছিলো সে সব মামুন করিয়ে ছিলো।তারপর ও কেন বিয়ে করছো ওকে?চিৎকার করে বলল আফিন।আমার ইচ্ছা যাকে বিয়ে করবো আমি।আর কখনো আমার সামনে আসবেননা।আই হেট ইউ।বলে বেরিয়ে গেলো অবনী।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here