অন্যরকম তুই ২১ এবং শেষ পর্ব

#অন্যরকম তুই💘
#পর্বঃ২১ [ শেষ পর্ব ]
#লেখিকাঃDoraemon
অনন্তের কথা শুনে অহনা থমকে যায়। অহনা অনন্তকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই পেছন থেকে কেউ একজন বলে উঠল
–কোনো দেড়ি হয় নি। আমি তোকে বাঁচাবোই বাবা। তোর কিছু হবে না।
অনন্ত এবং অহনা দুজনেই পাশ ফিরে দেখে অনন্তের বাবা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে। অনন্ত তার বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলল
–এসব তুমি কি বলছো বাবা? আমার বাঁচার আশা নেই বললেই চলে। তাহলে তুমি কেন আমাকে মিথ্যা আশার আলো দেখাচ্ছো?
অনন্তের বাবা অনন্তের কাছে এসে অনন্তের কাঁধে হাত রেখে বলল
–কোনো দেড়ি হয় নি বাবা৷ আমার বন্ধু আমেরিকার অনেক বড় ভালো ডাক্তার। আমি তার সাথে তোর ব্যাপারে সব কথা বলেছি। সে আমাকে বলেছে একটু রিস্ক নিয়ে ব্রেইন অপারেশন করালে তুই ঠিক হয়ে যাবি বাবা। এতে তোর মৃত্যুর ঝুঁকি আছে কিন্তুু তিলে তিলে শেষ হয়ে যাওয়ার চেয়ে তোকে বাঁচানোর শেষ চেস্টা করাটা অনেক ভালো। তুই কালই আমার সাথে বিদেশ যাবি। আমি তোকে সুস্থ করে তুলবোই। তুই সুস্থ হয়ে যাবি।
অনন্তের বাঁচার আশার কথা শুনে অহনার চোখ দিয়ে খুশিতে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল। অনন্ত অহনাকে কাঁদতে দেখে অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল
–কি হলো আবার কাঁদছিস কেন?তুই চাস না অহনা আমি আবার তোর কাছে বেঁচে ফিরে আসি?
অহনা অনন্তকে জড়িয়ে ধরল। অহনার মুখে কোনো কথা নেই শুধু কেঁদেই যাচ্ছে। এটা দেখে অনন্তের বাবা মনে মনে বলল
–মেয়েটা সত্যি আমার ছেলেটাকে বড্ড ভালোবাসে।
অনন্তের বাবা রুম থেকে চলে গেল।
পরেরদিন অহনা অনন্তের সাথে এয়ারপোর্টে এসে অনন্তকে বিদায় জানাতে আসে। অহনা অনন্তকে কিছুতেই ছাড়তে চাইছে না। এয়ারপোর্টের সবার সামনে অহনা অনন্তকে জড়িয়ে ধরে অনবরত কেঁদেই যাচ্ছে। অহনার কান্না দেখে অনন্তের বুকটাও কস্টে ফেটে যাচ্ছে। অনন্ত অহনাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে অহনার কপালে এবং গালে চুমু দিয়ে এক প্রকার কেঁদে দিয়েই অনন্ত অহনাকে বলল
–ভালো থাকিস রে পাগলী। যদি আমার ভাগ্যে আবার তোর জীবনে ফিরে আসা লেখা থাকে তাহলে আমি ঠিকই ফিরে আসব। আর যদি আমি বেঁচে না ফিরে আসতে পারি তাহলে কখনো নিজের ক্ষতি করবি না। মন দিয়ে পড়াশোনা করবি। নিজের খেয়াল রাখবি। অনন্তের কথা শুনে অহনা অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
–আপনার কিছু হবে না৷ আমার ভালোবাসা যদি সত্যি হয় তাহলে আপনি ঠিক আমার কাছে ফিরে আসবেন। আপনাকে ফিরে আসতেই হবে স্যার।
অনন্ত অহনার কথা শুনে একটু মুচকি হেসে অহনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল
–তাই যেন হয় অহনা। আমি তাহলে আসি রে। ভালো থাকিস।
অনন্ত চলে গেল। অহনা এয়ারপোর্টে দাড়িয়ে এখনো কাঁদছে। বিমান পারি দিল আকাশপথে। বিমানের জানালার পাশের সিটে বসে অনন্ত বাইরের প্রকৃতির দৃশ্য দেখছে। অনন্ত মনে মনে বলল
–জানি না ব্রেইন অপারেশন করার পর আমি বাঁচব কিনা! কিন্তুু আমার যে বেঁচে থেকে অহনার কাছে ফিরে আসার খুব ইচ্ছা। আমি যে অহনাকে ভীষণ ভালোবাসি। জানি পাগলীটা এখনো নিশ্চয়ই এয়ারপোর্টে বসে বসে কাঁদছে।
অনন্ত কপালে এক হাত দিয়ে চোখের জল ফেলতে লাগল। অনন্তের বাবা অনন্তের কাঁধে হাত রেখে অনন্তকে সান্তনা দিতে লাগলেন। অনন্ত নিজের চোখের জল মুছে ফেলল৷
ছয় মাস কেটে গেল। অহনা এখন তার নিজের বাসায় থাকে। অহনার মা বাবা অহনাকে এত দেড়িতে বাসায় ফিরে আসতে দেখে অনেক বকাঝকা করেছিল। অহনা এই ছয়মাস অনন্তের কথা মনে করে কেঁদেছে। কিন্তুু অনন্তের খোঁজ খবর এখনো অহনা পায় নি। অনন্ত এখন কেমন আছে তা অহনা জানে না। অহনা নিরবে ঘরের দরজা বন্ধ করে কেঁদেই যায়। অহনা কলেজে যায় কিন্তুু পড়াশোনায় অহনার মন বসে না। অহনা ধীরে ধীরে আবারো আগের মতো অসুস্থ হতে থাকে। অহনার আবারো হার্টের সমস্যা দেখা দিতে থাকে। অনন্তের জন্য কাঁদতে কাঁদতে অহনার শ্বাস কস্ট হতে থাকে৷ কিন্তুু অহনা এখনো অনন্তের জন্য অপেক্ষা করে। অহনা প্রতিদিন কলেজ থেকে বের হয়ে কলেজের গেটের সামনে অনন্তকে খুঁজে বেড়ায় কারণ অনন্ত সবসময় অহনার জন্য কলেজের গেটের সামনে অপেক্ষা করত। অনন্তকে দেখতে না পেয়ে অহনার মনটা খারাপ হয়ে যায়। আজ অহনার পরীক্ষা ছিল। কিন্তুু পরীক্ষায় অহনা মনোযোগ দিতে পারে নি৷ হাতে ফাইল বোর্ড নিয়ে অহনা কলেজ থেকে বের হয়ে দেখতে পেল অনন্ত কলেজের গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে। অনন্তকে দেখতে আগের থেকেও সুন্দর লাগছে। এবং অনেকগুলো মেয়ে অনন্তের সাথে কথা বলতে চাইছে আর অনন্ত তাদের সাথে ধমকি দিয়ে বিদায় করে দিচ্ছে। অহনার হাতে থাকা ফাইল আর বোর্ড মুহূর্তের মাঝেই মাটিতে পড়ে যায়। অহনা খুশিতে দৌড়ে গিয়ে সবার সামনে অনন্তকে জড়িয়ে ধরে। সবাই অহনার কান্ডে হা হয়ে থাকে। কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এমনকি শিক্ষকেরাও অহনার এ কান্ড দেখে অবাক। অহনা অনন্তকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
–আপনি ফিরে এসেছেন স্যার! আমি জানতাম আপনি ফিরে আসবেন। আপনার কিছু হতে পারে না। আমার ভালোবাসা কখনো মিথ্যে হতে পারে না।
অনন্ত মুচকি হেসে অহনার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল
–তোর ভালোবাসার টানে আমি মৃত্যুর পথ থেকে বেঁচে ফিরে এসেছি অহনা। আমি নিজেও কখনো ভাবতে পারি নি যে আমি বেঁচে তোর কাছে কখনো ফিরে আসতে পারব। নিয়তি আমাদের দুজনকে আলাদা করে নি অহনা।
অহনা অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
–আপনি জানেন এই ছয়মাস আমি আপনাকে কতটা মিস করেছি? আপনার রাগী কথাগুলো, আপনার শাসনগুলো, আপনার ভালোবাসাগুলো আমি কত মিস করেছি আপনি জানেন? আপনাকে ছাড়া থাকতে আমার কত কস্ট হয়েছে তার কোনো ধারণা আছে আপনার? আমি এই কয়েকদিন বেঁচে থেকেও জীবন্ত লাশের মতো জীবনযাপন করছিলাম। আমি শুধু বেঁচে ছিলাম আপনার জন্য কারণ আমি জানতাম আপনি আমার কাছে ফিরে আসবেন। দেখেছেন আমার কথাই সত্যি হলো।
অনন্ত একটা মুচকি হেসে অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল
–আমাকে বিয়ে করবি অহনা?
অহনা লজ্জায় অনন্তের বুকেই মুখ লুকালো। সবাই অনন্ত আর অহনার প্রেম দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। তাদের মুখে আর কোনো কথা থাকে না। কারণ তারা সবাই জানে অনন্ত এবং অহনার ভালোবাসার কথা।
বেশ কিছুদিন পর খুব ধুমধাম করেই অনন্ত এবং অহনার বিয়েটা হয়ে যায়। অনন্তের মা-বাবা এবং অহনার মা-বাবা তাদের ভালোবাসাটা মেনে নেয়। অহনা বাসর ঘরে বসে আছে। অহনার বুকের ভিতর ভয়ে ধুকপুকানি হচ্ছে। একটু পরেই অনন্ত দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করল। এবার তো অহনার ভয়ে হাত পা কাঁপছে।
সবার আগে আমার গল্প পড়তে চাইলে “নীল ক্যাফের ডায়েরী ” পেজে পাবেন।
অনন্ত ধীরে ধীরে অহনার কাছে এসে বসে অহনার ঘোমটা সরিয়ে দেয়। অহনা এখনো লজ্জায় অনন্তের দিকে তাকাতে পারছে না।
অনন্ত অহনার লজ্জা মাখা চেহারা দেখে মুচকি হেসে অহনাকে কোলে তুলে নিল। অহনা ভয় পেয়ে অনন্তের গলা জড়িয়ে ধরল।
অনন্ত অহনাকে কোলে তুলে ছাঁদে নিয়ে গেল। ছাঁদে নিয়ে অনন্ত অহনাকে দোলনায় বসিয়ে দিল। অনন্ত অহনার হাতে একটা ডায়মন্ড রিং পড়িয়ে দিল৷ আকাশের চাঁদের আলোয় অনন্তের মুখটা আলোকিত হয়ে আছে সেটা অহনা বুঝতে পারছে। অনন্ত অহনার পাশে দোলনায় বসে অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল
–জানিস অহনা এই ছয়মাস তোকে ছাড়া থাকতে আমারো ভীষণ কস্ট হয়েছে। কিন্তুু কি করব আমি যে ব্রেইন অপারেশন করার পর টানা পাঁচ মাস অসুস্থ ছিলাম।
অহনা অনন্তের কথা শুনে নিরবে কাঁদতে থাকে। অনন্ত এটা দেখে অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল
–এই অহনা তুই একদম কাঁদবি না। তোর কান্না আমার সহ্য হয় না৷ এখন তো আমি সুস্থ হয়ে গেছি। কান্না থামা বলছি। আমি যে তোকে খুব ভালোবাসি।
অহনা কাঁদতে কাঁদতে অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
–আমিও আপনাকে খুব ভালোবাসি স্যার৷ খুব ভালোবাসি।
অনন্ত এবার দোলনায় বসা থেকে উঠে অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল
–অহনা তুই আমাকে এই স্যার স্যার ডাকাটা কি বন্ধ করবি? মরা থেকে কি আমি ফিরে এসেছি তোর মুখে স্যার ডাক শুনার জন্য?
–তাহলে কি বলে ডাকব?
–আমাকে তুই অনন্ত বলে ডাকবি। আর এই আপনি আপনি বলা বন্ধ করে তুমি বা তুই করে বলবি।
অহনা অবাক হয়ে অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
–তুই করে বলব! স্যার আপনিও না কি যে বলেন! আপনি আসলেই খুব আলাদা, একদম অন্যরকম।
অনন্ত মুচকি হেসে অহনার মুখের একদম কাছাকাছি এসে বলল
–এই কথাটা আমাকে তুই করে আমার নাম ধরে বলতে পারবি?
অহনা লজ্জা মাখা মুখে অনন্তের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল
–অনন্ত আমার কাছে আসলেই #অন্যরকম তুই।
অনন্ত মুচকি হেসে অহনাকে আর কিছু বলতে না দিয়ে অহনার ঠোঁটজোড়া নিজের ঠোঁটের সাথে মিলিয়ে নিল।



~[সমাপ্তি]~
[অন্যরকম তুই গল্পটা কিছুটা বাস্তব এবং কিছুটা কাল্পনিক নিয়ে রচিত। প্রিয় পাঠক/পাঠিকা আমার গল্পটা কেমন লাগল বলবেন🙂।ধন্যবাদ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here