এক ঝাঁক জোনাকির আলো পর্ব ১

#একঝাঁক~জোনাকির~আলো~🍁
#writer~হাফসা~আলম 🍂
.
১.
স্যার মেয়েটার জ্ঞান এখনো ফিরে নি।তবে ভালো হয়ে যাবে বলেছে..আপনি একটু বসেন.. অনেক সময় থেকে এভাবে দাড়িয়ে থাকার ক….
.
আর বলতে না দিয়ে হাতটা বাড়িয়ে চুপ করতে বলা হল।পাশের আর একটা ছেলে এগিয়ে এসে চেয়ারটা আর একটু টেনে দিল।আশেপাশের পরিবেশ দেখে মনেই হচ্ছে না এটা হস্পিটাল। কম করে হলেও শত ক্ষানেক লোক দাড়িয়ে আছে।কিছু লোকের হাতে রাইফেল রয়েছে।হসপিটালের সবাই কাঁপাকাঁপি করছে। ডাক্তার নার্সরা জড়সড় হয়ে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।সবার মধ্যেই উত্তেজনা। না যানি কি হয়।সবার ভয় একজনকে নিয়ে সে হল নিভ্রনীল সাখাওত চৌধুরী…নিভ্র এবার ভ্রুতে আঙ্গুল দিয়ে হালকা উঁচু করে বলে উঠে…
.
মেয়েটার জ্ঞান ফিরলেই আমাকে কল করবে..
.
তার সাথে সাথে সবাই হ্যাঁ বলে উঠে..নিভ্র সোজা হয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে হাটা ধরে।তার পিছনে পিছনে তার দশ বারো বডি গার্ডস.. কিছু দুর যাওয়ার পরে আবার ফিরে এসে কাঁচ ভেদ করে শুয়ে থাকা অচেতন মেয়েটাকে দেখতে তাকায় কিন্তু এবারো মেয়েটাকে দেখা হল না। এলোমেলো চুলে মেয়েটা মাথাটা অপর দিকে ঘুড়িয়ে শুয়ে আছে।হাতে তার সেলাইন আর রক্তের নল..গায়ে তার সাদা চাদর জড়ানো..নিভ্র বিরক্তি মার্কা মুখ করে হাটা ধরে আবার।দুই ঘন্টা আগের কথা মাথায় আসতেই তার মেজাজ প্রচণ্ড ভাবে ক্ষিপ্ত হয়……..
.
২ঘন্টা আগের ঘটনা…….🍁
.
নিভ্রনীল সাখাওত চৌধুরী.. সাখাওত চৌধুরীর একমাএ ছেলে..বাবা নাম করা বিজন্যাস ম্যান.. দাদা নাম করা মন্ত্রী.. তার বাবারা দুই ভাই একজন বিজন্যাস ম্যান আর একজন মন্ত্রী এক কথায় মন্ত্রীর গুষ্টি.. তার বড় চাচার দুই ছেলে মেয়ে একছেলে অভ্রনীল আর মেয়ে রাফানীলি….এই যুগেও তারা সবাই জয়েন্ট ফ্যামিলি থাকে।নিভ্র বাড়ির ছোট কর্তা.. পেশায় হার্টসার্জেন। ডাক্তার হওয়ার সাথে নাম করা মডেল..দুটো মিলেই বিশাল নাম ডাক তার।এত কম বয়সে এত নাম চোখে লাগার মত।ছবির দুনিয়ায় পা দিতে চায় না বলে সে মুভি টুভি করে না।কিন্তু তুখড় রাজনীতি করে.. এটা তার ভালো লাগে..সবই ঠিক ঠাক কিন্তু জেদ, রাগ, আর রগ চটা টাইপের সভাব,প্রচণ্ড কম কথার মানুষ।একদম কথা বলে না বললেই হয়।সবাই তাকে ভদ্র বলেই জানে।বইয়ের মাঝে মুখ গুঁজে থাকা ছেলে সে।কিন্তু মারামারিতে ওস্তাদ। তবে এটা সে তেমন একটা করে না।যাদের উপড় রাগ বেশি তাদের সাথে এমনটা করে।এই যেমন আজ তার বিরোদী দলের এক লোককে ক্যাম্পাসের মাঠে পিটিয়েছে। যদিও ও মারে নি তার লোকেরাই মেরেছে।কিন্তু শেষ বাড়িটা নিজে দিবে বলে হকস্টিক নিয়ে চেয়ার ছেড়ে দাড়িয়ে পড়ে সে.. যেই না সে বাড়িটা দেয় সাথে সাথে কোথা থেকে এক মেয়ে এসে হাজির আর বাড়িটা মেয়েটার মাথায় লাগে..সাথে সাথে মেয়েটি সেন্সলেস হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে..যদিও এসব ব্যাপারে নিভ্র বেশি নাক গালয় না কিন্তু তবুও সে মেয়েটিকে দেখতে যায় কিন্তু এলোমেলো চুলের কারনে আর এক সাইডে রক্তের কারনে সে ভালো ভাবে মেয়েটিকে দেখার আগেই কোলে তুলে হাটা দেয়.. আগেই বুঝতে পারে ব্যথাটা ভালোই পেয়েছে মেয়েটা…. তাই নিজের ভুলের জন্যে এর ভালো টিকমেন্টের ব্যবস্থা করেছে..কিন্তু কেন যেন তার একনজর।মেয়েটাকে দেখার ইচ্ছে হয় তাই সে আবার আসবে বলে ঠিক করে………..
.
.
টিপটিপ চোখে চারপাশে তাকিয়েই এক ভিন্নতা পরিবেশের সাথে আলাফ হয় সাফার.. ভালো ভাবে পর্যবেক্ষন করে বুঝতে পারে সে হসপিটালে আছে.. হাতে তার রক্তের নল,আর এক হাতে সেলাইনের নল..ব্যাপারটা তার মোটেও পছন্দ হল না..হঠাৎ কি মনে করে সে মাথায় হাত দিয়ে উঠে বসে.. সামনে তাকাতেই এক চিৎকার…..
.
আপনি…ওই মাস্ক আলা..আপনিইত আমার মাথা ফাটিয়েছেন তাই না??আপনার সাহস তো কম না??আপনাকে আমি জেলে দিব..আর আমাকে হসপিটালে কেন আনা হয়েছে হুম…এই এই আপনাদের আবার আমার কিডনির দিকে লোভ নাইত..হতে পারে আমার কিডনি বিক্রি করে আইফোন কিনার ধান্ধা আছে না??আল্লাহ বাচাও..এই এগুলো খোল আমি যাব।আর এই মাস্ক আলা ভূত আমি আপনার নামে কেইস দিমু.. আমার বাবা একজন উকিল।তাও নাম করা।.. সে এ পর্যন্ত একটা কেইসও হারেনি.. আমি আপনাকে জেলের ভাত খাওয়াবো।জানেন কত মোটা চালের ভাত হয় সেখানে??যানতে হবে না গেলেই বুঝবেন এই এসব সুই টুই খলেন.. ওই গরুর ডাক্তার এগুলো খোলেন বাবাকে কল করেন আমি বাসায় যাবো।
.
নিভ্র এত সময়ের বকবকানি শুনে এই মাএ ম্যাগাজিন থেকে মুখ তুলে সামনে তাকায়।সে একপ্রকার বিরক্তি মুখেই তাকায় কিন্তু মাস্কের কারনে তার মুখ দেখা যাচ্ছে না।নিভ্র সামনে তাকিয়ে একটু থমকে যায়।সে ভাবতে পারছে না এই শান্ত কিউট চেহারার পিছনে এত বাচাল এবং ঝগড়ুটে টাইপের মেয়ে এটা সে মানতে পারছেনা।যেখানে তার নিজের মাই তার সাথে উঁচু গলায় কথা বলেনা সেখানে এই মেয়ে অনায়াসে চিৎকার করে কথা বলছে..সাউন্ড পলিউশান তার একদম পছন্দ না..তবুও সে এই মেয়েটাকে কিছু বলতে কেন পারছেনা কে যানে।তার মোটেও একে কিছু বলতে ইচ্ছে করছেনা।গোলগাল মুখের সাদা বিড়াল ছানার মত মুখ..নীলাভ চোখের আড়ালে রাগ রয়েছে,চোখা নাকের ডগা লাল হয়ে আছে,ফুলাফুলা গালের দুইপাশে লাল আভা রয়েছে ।মাথার ব্যান্ডেজের উপড় দিয়ে অবাদ্ধ চুলগুলো ক্রমশ উড়াউড়ি করছে আর মেয়েটা বিরক্তি নিয়ে কোমল হাতে তা সরিয়ে দিচ্ছে। মেয়েটাকে এভাবে স্কেনিং করে দেখার পড় নিভ্র নিজের ভ্রু গুলো কিঞ্চিৎ উঁচু করে নিজের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে।সে মোটেও এভাবে মেয়েদের দেখার ছেলে না।সাফা আবার চেঁচিয়ে মাথা ঝাঁকা দিয়ে উঠে…
.
এই মাস্ক ওয়ালা আমাকে নিজের মোবাইলটা দেন তো বাবাকে কল করব…আপনারা যে আমার কিডনির পিছনে লাগছেন এটা বাবাকে বলতে হবে না.. চোর কতগুলি..
.
এই মেয়ে পাগল না কি তুমি এত কথা কেন বলছ?আর জানো কার সামনে বসে আছ???..স্যার রেগে গেলে সমস্যা আছে বুঝলে??জীবন নিয়ে টানাটানি হবে..(পিএ আরিফ)
.
আমাকে প্রকাশে হুমি ধমকি দিচ্ছে আল্লাহ ভাবা যায়? কত ডেয়ারিং পার্সোন আপনাকে ত সবার আগে পুলিশের কেলানি খাওয়াবো মিস্টার ক্যাবলাকন্ত…

.
নিভ্র এবার প্রচণ্ড বিরক্ত..এই মেয়ে কখন থেকে কিসব পাগলের মত বলছে..সে তার পিএ…আরিফকে ইশারায় ডাকে আর বলে উঠে….
.
মেয়েটার বাবার নাম্বারে কল কর..আর ওর চিকিৎসার খরচ দিয়ে দেও..গাড়ি বেড় করো আমি যাবো….
.
বলেই নিভ্র উঠে দাড়াঁতেই সাফা চিৎকার করে বলে উঠে…
.
এই চোর পালাছেন কেন?? দাঁড়ান বলছি..দাঁড়ান…
.
নিভ্র এবার নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে ঝড়ের গতিতে সাফার কাছে গিয়ে তার দুইপাশের গাল চেপে ধরে গম্ভীর গলায় বলে উঠে….
.
এই মেয়ে অনেক্ষন থেকে তোমার বকবকানি শুনছি..আমার সাথে কেউ উঁচু গলায় কথা বলে না আর তুমি দেখছি আমাকে চোর বানিয়ে দিচ্ছ।সাবধান.. আমার সামনে দ্বিতীয় বার আর যেন তোমাকে না দেখি..মাটিতে পুতে দিলেও কেউ খোঁজ পাবে না।তাই দূরে থাকবে….
.
একপ্রকার ছুড়ে দিয়েই নিভ্র বেড়িয়ে পড়ল আর তার সাথে তার দলবল.. সাফা এখনো শক্ট হয়ে বসে আছে।তাকেও ত কেউ জীবনে এভাবে ব্যথা দেয় নি.. কথাটা ভাবতেই তার চোখ জ্বলজ্বল করে উঠেছে..একপ্রকার কেঁদেই দিয়েছে সে..আবার কি ভেবে খিলখিল করে হেসেঁ উঠে..তার সেকেন্ডে এভাবে পরিবর্তন দেখে ডাক্তারা সবাই একবেলা ভয় পেয়ে উঠে..না যানি পাগল হয়ে গেছে না কি এটা ভেবে….সাফা আবার গম্ভীর মুখ করে পাশের এক ডাক্তারকে বলে উঠে…
.
—মোবাইল আছে??
—হুম
—তো দাড়িয়ে আছেন কেন বাবাকে কল করেন।আবুল নাকি পেসেন্ট কে এডমিট করতে গার্ডিয়ান লাগে যানেন না??নাকি ফালতু হসপিটাল এটা??নাম কি এই হসপিটালের??
—এপেলো হসপিটাল।
—বাবা গো এই পোলাতো দেখি আমার লাখ পতি বাপরে ফোকির করার ধান্ধা আছে।কত টাকা বিল হয়েছে??
—স্যার পেমেন্ট করে দিয়েছে।
—কি?? এত বড় সাহস আমাকে দয়া দেখানো এই সাফাকে দয়া শালা মাস্ক আলা তোরে তো দেখে নিবো।কুচিকুচি করে আমি নিজেই চ্যান্ডুইজ বানাই খামু…হু..হ।তাকিয়ে আছেন কেন এলিয়েন নাকি আমি??কল করেন বাবাকে….
.
ডাক্তারা মনে মনে সিউর এই মেয়ের মাথায় গোল মাল আছে।কিন্তু নিজের চাকরি বাঁচাতে হবে। এই মেয়েকে কিছু বললে যদি ডা.নিভ্রনীল তাদের চাকরি খায়??যদিও মেয়েটা নিভ্রনীলের কি হয় তারা যানে না।তবে গুরুত্বপূর্ন কেউ হবে হয় তো তা না হলে নিভ্রনীলের মত মানুষ এই মেয়েকে কোলে নিয়ে এই হসপিটালে আন তো না।
.
.
#চলবে………….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here