ও আমায় ভালোবাসেনি পর্ব ১৬

#ও আমায় ভালোবাসেনি
১৬,
.
বর্তমান_
এক ফালি রোদ জানালার ফাঁক দিয়ে এসে মিথির মুখের উপর পড়ছে ।
মিষ্টি রোদের তেমন তীব্রতা নেই । রাইদ বসে আছে মিথির বিছানার পাশে , ঘুমন্ত অবস্থায় ওকে দেখতে ভালো লাগছে ।
মিথিকে নিয়ে রাইদের মনে অভিযোগ নেই আছে শুধু অভিমান , মানুষকে সাফাই দেয়ার সুযোগ দিতে হয়৷
শেষ মুহুর্তে ওকে ধোকা দিয়ে চলে যায় মিথি , যার জন্য চলে গেছিলো সে তো প্রাক্তনকে নিয়ে সুখী হচ্ছে ।
রাইদ ভাবতে পারেনি এতো ভালোবাসার পরেও মেয়েটা ওকে ছেড়ে যাবে ।
আসলে ভুলটা ওরই টিনেজার মেয়ের সাথে রিলেশনে জড়ানো একদমই উচিৎ হয়নি ।
ব্যাপারটা একটা এক্সপেরিমেন্ট এর মতো।
এই সময় স্বভাবতই কাউকে ভালো লেগে যায় ।
অধিকাংশ মেয়েই এইসময় দেখে ছেলেটার লুক , ছেলেটার ক্লাস এবং লয়ালিটি ।
নাইন-টেনে পড়ুয়া মেয়ে অধিকাংশ সময়ই পরিপাটি, স্টাইলে আর সুঠাম দেহের অধিকারী ছেলেদের উপরে ক্রাশ খায় আবার অনেকের দূর্বলতা থাকে গায়ক ছেলেদের প্রতি ।
হালকা পাতলা গান টান গায় , গিটার নিয়ে ঘোরাফেরা করে এমন ছেলেদরও ভালো লেগে যায় ।
এই সময়টা আসলে রিলেশনে জড়ানোর মতো না কারণ এই সো কলড্ রিলেশনে সিরিয়াস হলে একজনকে কষ্ট পেতেই হবে মাস্ট ।
অবশ্যি সবার ক্ষেত্রে এরকম না , ছেলেরা যদি এই নিব্বিকে ঠিকঠাক হ্যান্ডেল করতে পারে তাহলে এটা নিঃসন্দেহে পরিণতি পর্যন্ত এগোবে ।
৯৫% রিলেশন গুলো এই স্টেজে ভেঙে যাওয়ার পর কিছু ছেলেমেয়ে হয় দেবদাস টাইপ , কথাবার্তা বলা কমিয়ে দেয় , প্রাঞ্চচলতা হারায় , মজা করতে ভুলে যায় , ড্রাগ আ্যডিক্টেড হয় , লেখাপড়া ছেড়ে দেয় এন্ড মোস্ট ইম্পর্টেন্ট ফ্যামিলির থেকে দূরে সরে যায় ।
ট্রাস্ট মি নিব্বি’স এগুলা কিছুই না । ইট ওয়াজ আ মিসটেক । তোমার প্রতিনিয়ত করা ভুল গুলোর মধ্যে এটাও একটা ভুল যে ছেলের প্রপোজাল পেয়ে তুমি নাচতে নাচতে রাজি হইছো ।
ছেলে ডাম্ব করলে অফকোর্স তুমি ব্যাপারটা ভুলে যাবা এন্ড মোস্ট ইম্পর্টেন্ট কাজ তুমি ঐ ফ্রেন্ডটাকে ত্যাগ করবা যে তোমাকে ইনফ্লুয়েন্স করেছিলো এই সময় যে “হ্যাঁ ভাইয়াটা ভালোই , রিলেশন কর দোস্ত” অমুক তমুক!
সে আসলে নিজে মস্তিষ্ক শূন্য একজন মানুষ তোমাকে কি বোঝাবে?
তুমি এটলিস্ট ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে ওঠার পর থেকে বুঝতে পারবা মানুষের মাঝে খোঁজা হ্যাপিনেস টা আসলে কি?
তার আগে তোমার লাইফ অবুঝ বাচ্চাদের খেলনা পাবার মজার মতো ।
আর ছেলেদের ক্ষেত্রে একটাই কথা আপনি ভার্সিটিতে পড়েন অথচ যারে লাইক করছেন সে ক্লাস টেনে ।
তাহলে অফকোর্স আপনি তার আগুপিছু ঘুরে মাথা খারাপ করে দিবেন না । তার ইন্টার লেভেল শেষ করা অবধি ওয়েট করবেন৷
আপনার ধৈর্য ক্ষমতা এবং ব্যক্তিত্ব একটা মেয়েকে ইমপ্রেসড করে নট মাচো স্টাইল ।
মাচো থাকলে ঐ নিব্বির ছ্যাকা খেয়ে দেবদাস হয়ে যাইতে হবে!
,
রাইদ ভাবছে ওর ভুল একটাই মিথির সামনে তখনি জাহির করা । ও ভুলে গেছিলো মেয়েটার জন্য অপেক্ষা করলেই সে পুরোটাই পেত ওকে!
খুব অশান্তি শুরু হলো রাইদের মনে ।
ফোনটা বের করে শব্দর নাম্বারে ডায়াল করলো ।
এই একমাত্র বন্ধু যে শুরু থেকে ওর সাথে থেকেছে ।
ফোনটা কানে লাগিয়ে উঠে চলে গেলো রাইদ ।
,
ঘুমটা আচমকা ভেঙে গেলো একটা বুনো পারফিউম এর সুবাসে ।
রাইদ ভাই এসেছিলো কি?
উঠে বসে আশেপাশে খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম , হয়তো বেরিয়ে গেছে ।
তবে এসেছিলো যে এটা শিওর!
আড়মোড়া ভেঙ্গে দেয়াল ঘড়িটায় চোখ গেলো ।
সাড়ে আটটা বাজে ।
উঠে বিছানা গুছিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম ।
ব্যস্ততার শুরু , আজ আবার ভার্সিটিতেও যেতে হবে একবার!
,
ঘর থেকে বেরুতেই দেখা গেলো সবাই ডাইনিং টেবিলে বসে আছে , রিহা খাবার বেড়ে দিচ্ছে , বাবা ওকেও বসতে বললেন পরিবার নিয়ে একসাথে খাবেন।
বাহ্!
বাবাও বসে আছেন দেখছি! ভালোই হলো বাবা থাকলে মা রিহাকে আরো জলদি মেনে নিবেন ।
মনটা খুশি হয়ে গেলো ।
আমাকে এগোতে দেখলেন বাবাই ।
হেসে কাছে ডাকলেন ।
আমি গিয়ে বাবার পাশে দাঁড়াতেই বাবা বললেন_ আমার মেয়েটাকে কতদিন দেখিনি । কেমন আছে মেয়েটা?
আমিও হেসে বললাম_ ভালো । তুমি কেমন আছো বাবা? আর আমার আইসক্রিম কই?
— আইসক্রিম ফ্রিজে আছে মা । পরে খেয়ো আগে নাশতা খাও বসো ।
বাবার পাশের চেয়ারটা অলওয়েজ আমার জন্য ফাঁকাই থাকে , আজও এর ব্যতিক্রম হয়নি ।
আমিও বাবার পাশে বসে পড়লাম ।
বাবা খেতে খেতে আমাকেও একবার তুলে খাওয়াচ্ছেন , ইশশ এই ভালোবাসা কি আর কেউ দিতে পারবে কখনো?
বাবার দেখাদেখি ভাইয়াও আমাকে খাইয়ে দিলেন ।
আমিও খাইয়ে দিলাম ওদেরকে ।
বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গল্প চলছিলো এবং তারই এক ফাঁকে ভাইয়া হঠাৎ বললেন_ বাবা একটা কথা ছিলো যে?
আমরা সবাই আগ্রহী হয়ে তাকালাম ভাইয়ার দিকে , বাবাও বললেন হ্যাঁ বলো?
সবাইকে অবাক করে দিয়ে ভাইয়া বললেন_ মিথির স্কলারশিপ হয়ে গেছে বাবা ।
সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে ওকে আর সিমিকে হায়ার এডুকেশন এর জন্য ডাকা হয়েছে ।
,
এই নিউজটা মুহুর্তে বিস্ফোরণের কাজ করলো , উপস্থিত সবাই আমার দিকে অবাক চোখে তাকালো ।
বাবা খুব খুশি হয়ে গেলেন । উঠে দাঁড়িয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেই ফেললেন ।
আবেগী কন্ঠে বললেন_ আমার মা টা এতো বড় হয়ে গেছে? আলহামদুলিল্লাহ এতো খুশির একটা খবর! কবে যাবে মা তুমি??
ভাইয়া এটার রিপ্লাই করলেন_ বাবা আমি আজ খোঁজ নিচ্ছি , ওর কিছু এক্সাম’স আছে তো । আর ভিসা ক্লিয়ার আছে কি না সব দেখতে হবে!
— হ্যাঁ দেখো তুমি । আর মিথি মা আজ থেকেই ক্লাস আ্যাটেন্ড করো তুমি । এতো বড় একটা খুশির সংবাদ আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করে আসি ।
বাবা আমায় মাথায় হাত বুলিয়ে ঘরের দিকে চললেন ।
আমি বাবার খুশি দেখে অবাক হয়ে গেলাম ।
না চাইতেও আমার চোখ রাইদের দিকে গেলো ।
সেও আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো , আমি তাকাতেই মাথা নিচু করে খাওয়ায় মনযোগী হলো কিন্তু আমি তার চোখে স্পষ্ট জল দেখতে পেলাম ।
এই জল কিসের??
,
রিহা তো খুশির চোটে কি বলবে না বলবে ভেবে পাচ্ছে না , ফুপ্পিও সেম ।
শুধু একজনের মনযোগ সম্পূর্ণ খাওয়ায় আর সে আমার মা ।
তাকে তো আর চেইঞ্জ করা পসিবল না । এটাই আমার নিয়তি!
,
ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে সব খোঁজ খবর নিয়ে নিলাম ।
সবাই আমাকে আর সিমিকে কংগ্রাচুলেট করলো

একজন ম্যাম তো দাওয়াতই দিয়ে বসলেন ।
আমরা যেতে চাইছিলাম না বাট উনি এমনভাবে ডিনারে ইনভাইট করলেন যে আর না বলা পসিবল হলো না ।
,
ক্লাসগুলো করে সিমিসহ একবার নিউ মার্কেটে ঢু মেরে আসলাম ।
ম্যামের বাসায় তো আর খালি হাতে যাওয়া যায় না!
মার্কেটে গিয়েই চমৎকার একটা ফ্লাওয়ার ভাস পছন্দ হয়ে গেলো ।
ডিসিশন নিয়ে ওটাই কিনে ফেললাম সাথে সিমি আরো কিছু নিলো ।
কথা হলো সন্ধ্যায় ও আমায় বাসা থেকে পিক করবে ।
তখনকার মতো যে যার বাসায় চলে গেলাম ।
প্রচন্ড টায়ার্ড থাকার দরুণ বাসায় এসে ফ্রেশ হয়েই একটা ঘুম দিয়ে দিলাম ।
এক ঘুমে বিকেল ।
ঘুম থেকে উঠে সবার আগে বাবার কাছে গিয়ে পারমিশন টা নিয়ে নিলাম ।
তারপর তৈরি হবার পালা ।
আজ ভার্সিটি থেকে আসার পর ফুপ্পি বা রাইদের সাথে একবারও দেখা হয়নি ।
হাহ্ হয়ে যাবে!
এখন রেডি হবার পালা ।
ম্যাম আজ শাড়ি পরে যেতে বলেছেন , গুরুজনের কথা কি আর ফেলা যায়?
আলমারিতে একটা লাল আর একটা কালো-আ্যাশ কম্বিনেশনের শাড়ি ছাড়া আর কোনো শাড়ি নেই ।
লাল শাড়ি পরে যাওয়াটা কিরকম ব্যাপার!
আর কালোটা রাইদের দেয়া । কিছুই বুঝতে পারছি না কি করবো!
আমার মা তো সেরকম না যে তার থেকে চাইবো!
বড্ড চিন্তাভাবনা করে কালোটাই পরতে হলো ।
সাথে হালকা সাজগোজ করে আ্যাশ কালারের হিজাব পরে নিলাম ।
হাতে যখন চুড়ি পরছি ঠিক ঐ সময়ে রাইদের ভয়েস ভেসে আসলো_ শাড়ি ঠরকিয়ে কোথায় যাওয়া হচ্ছে??
আমি পেছন ঘুরলাম না , রাইদ দরজায় দাঁড়িয়ে আছে তার প্রতিবিম্ব আয়নায় ভাসছে ।
চুড়িগুলো পরতে পরতে বললাম_ ম্যামের বাসায়।
— ম্যামের বাসায় শাড়ি পরে? ক্যান ম্যাম তোর শ্বাশুড়ি হয়? তার ব্যাটার লগে বিয়া বসবি?
,
এর জবাব আমি দিলাম না ।
সে আবার বললো_ তা কোন ম্যামের বাসায় যাওয়া হচ্ছে?
আমার ততক্ষণে রেডি হওয়া শেষ । ব্যাগটা হাতে নিয়ে সিমির নাম্বার ডায়াল করে ওনাকে বললাম_এতোকিছু জেনে তো আপনার কাজ নেই রাইদ ভাই ।
তারপর বেরিয়ে আসলাম কানে ফোন ঠেকিয়ে ।
ভেতর থেকে একটা কাঁচ ভাঙ্গার শব্দ আসলো কিন্তু ফিরে দেখতে মন চাইলোনা আমার ।
,
সিমিসহ গাড়ি করে ম্যামের বাসায় পৌঁছুলাম ।
বসুন্ধরায় ম্যামের বাসা , বাসা দেখে রীতিমত মুগ্ধ আমরা ।
বিশাল জায়গা জুড়ে একটা ডুপ্লেক্স বাসা , বাসাটা সম্পূর্ণ টাই মার্বেল পাথরের , লাইটের আলোয় শুধু ঝলমল করছে চারিদিক ।
গেইট দিয়ে ঢুকতেই হাতের ডান সাইডে বিশাল এক বাগান আর বামে সুইমিংপুল ।
সুইমিংপুল এর সোজাসোজি দোতলায় একটা বিশাল বেলকোনী আর বেলকোনীটাও রঙ্গিন আলোয় ঝলমল করছে ।
আমার একবার মনে হলো কেউ আমাকে দেখছে , আমি বেলকোনীতে একবার তাকালাম কিন্তু কাউকে দেখা গেলো না ঐ মুহুর্তে ।
সব চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে সদর দরজার দিকে এগিয়ে গেলাম ।
ম্যাম নিজে রিসিভ করলেন আমাদেরকে ।
তার সেই কি আন্তরিকতা!
ম্যাম নিজে পুরো বাড়িটা ঘুরে দেখালেন ।
জানা গেলো ওনার দুই ছেলে একজন বাইরে সেটেলড্ আর একজন সেনাবাহিনী তে ।
ম্যাম সিঙ্গেল মাদার , হাজবেন্ড এর সাথে ডিভোর্স পর বেচারি একা হাতে দুই সন্তানকে মানুষ রকরেছেন , এই পথটা যদিও কঠিন ছিলো তবে তাকে পথ সহজ করে দিয়েছিলেন মহান আল্লাহ পাক আর পুঁজি ছিলো পড়াশোনা ।
পড়াশোনার জোরে , পরিশ্রমে আর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসে তার ভালো জব , লাক্সারিয়াস লাইফ!
ম্যামের সাথে আমাদের অনেক গল্প হলো ।
আমাদের অনেক আ্যাডভাইস দিলেন তারপর খাওয়াদাওয়ার পার্ট ।
ডিনারের সময় অবশ্যি আমরা ওনার ছেলের খোঁজ করছিলাম কিন্তু উনি বললেন ছেলে নাকি কোন কাজে বাইরে গেছেন ।
অগত্যা আমাদের একাই খেতে হলো ।
খাওয়া দাওয়ার পাট চুকিয়ে আমরা দ্বিতীয় দফা বাড়িটা ঘুরে দেখছিলাম ।
স্টাডি রুমের সামনে আসতেই ম্যামের হঠাৎ ফোন আসলো আর ম্যাম ফোনটা রিসিভ করতে নিচে নেমে গেলেন ।
সিমি বললো সেও এই ফাঁকে ওয়াশরুমে যাবে , আমাকে সাধলো কিন্তু আমি স্টাডি রুম দেখায় বেশি আগ্রহী ছিলাম ।
ও যাওয়ার পর একা একাই স্টাডি রুমে ঢুকে গেলাম ।
বিশাল বিশাল বুক শেলফ গুলিতে অজস্র বই ।
একটা একটা করে বই ছুঁয়ে দেখছিলাম মুগ্ধ নয়নে হঠাৎ লাইট অফ হয়ে গেলো ।
হালকা ভয় পেয়ে আমি নড়াচড়া করবার চেষ্টা করলাম কিন্তু তার আগেই কেউ একজন আমায় টেনে কিসের সাথে হেলানি দিয়ে চেপে ধরলো এবং একহাতে আমার দু’হাত চেপে ধরে অন্যহাতে আমার মুখটা চেপে ধরলো ।
ব্যাপারটা এতটাই তাড়াতাড়ি হয়ে গেলো যে আমি কিছুই করতে পারলাম না ।
প্রচন্ড ভয়ে গলা শুকিয়ে আসছিলো আমার ।
লোকটা আমাকে পেছন করে হাত মুড়ে চেপে ধরেছিলো , আমি ছাড়াতে পারছিলাম না ।
তবুও প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছিলাম ।
সম্ভবত দুই মিনিট পর আমার কানের কাছে লোকটার নিঃশ্বাস অনুভব করলাম ।
সে ফিসফিস করে বললো_ আমার মায়াবতী কতদিন পর এই মুখটা দেখার সৌভাগ্য হলো বলোত?
তোমায় শাড়িতে দেখে আমি ডেস্পারেট হয়ে যাচ্ছি , নিয়ন্ত্রণ হারালে কিন্তু দায়ভার তোমার ।
আমাকে এভাবে পাগল করে দেবার কি খুব দরকার ছিলো বলো?
শব্দ করে আমার হিজাবের উপরই ঘাড়ে চুমু খেলো লোকটা আর মাথার পেছন সাইডেও চুমু খেলো ।
আমি সুপরিচিত একটা পারফিউমের স্মেল পাচ্ছিলাম কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না পূর্বে কোথায় এই স্মেল পেয়েছি ।
আমি তো জোর জবস্তি করে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছি কিন্তু এতে লোকটা আরো জোরে চেপে ধরছে । মুখ চেপে ধরার দরুণ আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে আর মুখ দিয়ে শুধু উমম উমম শব্দ আসছে এর বেশি কিছু নয় ।
হাল ছেড়ে আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলাম এবং প্রায় সাথেসাথেই সিমি আমার নাম ধরে ডেকে উঠলো ।
ও স্টাডি রুমের দিকে আসছে বুঝতে পেরে আমিও বুদ্ধি পেয়ে ফাঁকা কিক দিলাম , পাশেই কিছু একটা ছিলো যেটা আমার পায়ের ধাক্কায় পড়ে গেলো এবং মোটামুটি জোরে শব্দ হলো ।
এতেই কাজ হয়ে গেলো সিমি স্টাডি রুমের ভেতরে এসে বললো_ মিথি তুই কি এখানে? তুই ঠিক আছিস?
লোকটা এবার আমাকে ছেড়ে দিলো এবং মুহুর্তেই আমিও চিল্লিয়ে বললাম সিমি লাইট জ্বালা ।
সিমি লাইট জ্বালালো ফোনের আলো দিয় খুঁজে কিন্তু ততক্ষণে দেরী হয়ে গেছে , কারো হদিস পাওয়া গেলো না আর ।
সিমি চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো_ কি হইছে মিথি এনি প্রবলেম?
আমি মাথা নেড়ে বললাম হঠাৎ লাইট অফ হয়ে যাওয়ার ভয় পেয়ে গেছিলাম , নাথিং এলস্ ।
— আর ইয়ূ শিওর?
— হুউউ ..
আমাদের কথার মাঝে ম্যাম চলে আসলেন ।
তাকে আর কিছু বললাম না তবে বুঝতে পারলাম না ব্যক্তিটা কে কিন্তু পারফিউমের স্মেল বড্ড পরিচিত মনে হলো আমার ।
বিশাল এক চিন্তা মনজুড়ে ঘুরপাক খেতে লাগলো , ম্যামের বাসায় এসে হ্যানস্তা কে করতে পারে আমাকে?
,
চলবে,
sinin tasnim sara

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here