কৃষ্ণচূড়ার রং লাল পর্ব ২২+২৩

কৃষ্ণচূড়ার রং লাল-২২.🎈
@হাফসা আলম
_____________________
রিঝ পাশের ড্রাইভার কে বলল,
“ আপনি একটু পিছনে গাড়িটা নেন।বেশি যাওয়া যাবে না আই নো তবে একটু হলেও জায়গা হবে।”

ড্রাইভার চেঁচিয়ে উঠে বলল,
“ পাগল হলেন না কি?আমি যদি গাড়ি একটু সরাই আপনাদের গাড়ি একদম নিচে।এতো ফুট উপর থেকে পড়ে রেকর্ড করতে চান না কি?”

রিঝ তুতুলের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল,
“ আপনি বুঝার চেষ্টা করছেন না।এভাবে থাকাও তো যাবে না।একটু রিস্ক নেওয়াই লাগবে।তাই এর চাইতে ভালো কোনো রাস্তা নেই আমাদের কারো কাছে।”
“ এই ছেলে মরার সখ হইছে না কি?মরার যদি এতোই ইচ্ছে থাকে নিজে লাফিয়ে মরেন।আমি এসব পারবো না।”

ড্রাইভার নাঁকচ করে মুখ গাড়ির ভিতরে ঢুকিয়ে নিলো।রিঝ রাগে চোয়াল শক্ত করে।কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
“ দড়ি আছে কোনো গাড়িতে??”

একদম কোণার গাড়ি থেকে কথা ভেসে এলো।কেউ একজন বলল,
“ আমার ব্যাগে আছে।আমি একজন ট্রাভেলার।তাই এসব ব্যাগে নিয়ে ঘুড়ি।চাইলে কাজে লাগাতে পারেন।”

রিঝ ডান হাত নাচিয়ে বলল,
“ ধন্যবাদ ভাই।দড়ি ছুঁড়ে দেন।আর যারা নিচে আছেন তারা প্লিজ এদিকে এসে দাড়ান।”

রিঝ তিনটা গাড়িই দড়ি দিয়ে বাঁধতে বলল।কিন্তু মাঝের ড্রাইভার বলল,
“ কোনো দরকান নাই।পড়লে যাতে সবাই এক সাথে পড়ে এমনটাই প্লান করছেন না কি??”
“ আপনার সমস্যা থাকলে বাঁধবেন না।এতো কিছু বলার তো প্রয়োজন নেই।যতসব।বয়স্ক বলে তো আর যা খুশি তাই বলতে পারে না।পাগল একটা।”রামিমের কন্ঠে বিরক্তি।
“ রামিম চুপ।” রিঝ সাবধান করে।

লোকটি শুনতে পায়।রাগে চিৎকার করে বলে,
“ কি বলেছেন আপনি??”

রিঝ শান্ত করার জন্য বলল,
“ তেমন কিছু না আঙ্কেল।স্যরি।”

বাকি দুই গাড়িই ভালো করে বেঁধে দেওয়া হয়েছে।তারপর সামনের ছোট ব্রিজের সাথে ভালো করে দড়িটা বেঁধে দিতে বলল।নিচে থাকা ছেলেরা তার কথা মতই করলো।এবার রিঝ গাড়ির সবার দিকে তাকিয়ে বলল,
“ রামিম মেয়েদের এক এক করে নিচে নামা।সেফলি।ওই দিক দিয়ে নামাবি।খাদের সাইড দিয়ে নয় অপর পাশ দিয়ে।”

রামিম এক এক করে সব মেয়েদের হাত ধরে নামিয়ে দেয়।আসমা নামার সময় চিন্তিত গলায় বলল,
“ তোরাও নেমে আয়।”

রামিম ভ্রু নাচিয়ে বলল,
“ কেয়ার করছিস??”
“ কার??তোর??মাই ফুট।যা ভাগ।”

আসমা নেমে যায়।রামিম হাঁসে।নীল জ্যাকেট খুলে আসমার দিকে ছুঁড়ে মারে।বলে,
“ এটা রাখ।যত্ন করে।অনেক দামি কিন্তু।”

আসমা ছুড়ে মারার ভঙ্গী করে।রামিম ধমকে বলল,
“ ভুলেও না।মাইরা হালামু কইতাছি।”

গাড়িতে মেয়েদের মধ্যে শুধু তুতুল আছে।সে আগের মতই আছে।রিঝের বুকে মুখ লুকিয়ে।রিঝ শান্ত কন্ঠে চুল ঠিক করে দিতে দিতে বলল,
“ তুতুল এবার তুমি নামো।”

গাড়ি তখন ঢুলছিলো।তুতুল কাঁপছিলো।যেনো শরীরের মাঝে ভূমিকম্প হচ্ছে।ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প!রিঝ হেঁসে উঠে বলল,
“ আমি আগেই জানতাম তুমি ভীতুর ডিম একটা।”
“ মোটেও না।” তুতুলের কন্ঠ মৃদু।

রিঝ আকাশকে ইশারা করে বলল,
“ আকাশ তুই নেমে যা।আর হিমেল তুই ও।তুতুলকে আমি বুঝিয়ে নামাচ্ছি।রামিম থাক।ভার্সাম্যের প্রয়োজন আছে।”

আকাশ নাকঁচ করে বলল,
“ পাগল না কি?তোরে রেখে আমি নাম্মুনা।”

রামিম ক্ষেপা গলায় বলল,
“ আমারে ফেলে নেমে যাবি তাই তো?”
“ সেটা কখন বললাম।দেখ বাঁচলে এক সাথে মরলে এক সাথে।ফ্রেন্ডশিপের সময় এটাই কথা হয়েছিলো।যদিও তোরা আমারে রেখেই মিঙ্গেল হয়ে ঘুরে বেড়াছ।তাতে আমার কি আমি বন্ধু হিসেবে একদম সৎ।”

হিমেলও বলল,
“ না নামলে সবাই এক সাথে তা না হলে কেউ না।”
“ পাগল হয়ে গেলি না কি সবাই?” রিঝের কন্ঠ কঠিন।
“ হয় তো।” আকাশ এক পাশে বসতে নেয়।গাড়ি নড়ে উঠে।আকাশ ভয়ে চোখ বুজে।রামিম রিঝ হিমেল এক সাথে হেঁসে উঠে।আকাশ ভয়ে ভয়ে বলল,
“ মৃত্যু সত্যিই ভয়ংকর!”

রিঝ বলল,
“ সেটা তো চিরন্তর সত্য।তাই তো বলছি নেমে যা।বাঁচার চাঞ্চ আছে।”

আকাশ ভয়কে দমিয়ে ঢোক গিলে বলল,
“ আমি ভয় পাই না।”

আবার একটু থেমে নিচের দিকে তাকায়।ভয়ে তার আত্না শেষ।বিড়বিড় করে বলল,
“ নিচে পড়লে কি আমরা ব্যথা ট্যাথা পামু দোস্ত??”

রিঝ উচ্চ শব্দে হেঁসে উঠে বলল,
“ না।পাওয়ার তো প্রশ্নই উঠে না।আকাশ আল্লাহর খুব প্রিয় বান্দা।নামাজকালাম খুব করে করে।খারাপ সব কাজ থেকে দূরে থাকে।মেয়েদের মা বোন ছাড়া অন্য কোনো চোখে দেখেনা।প্রেম তো সে করবেই না।হারাম বলে কথা!এতো ভালো মানুষের জন্য আল্লাহ নিচে বিছানা পেতে রেখেছে।পড়লেও ব্যথা পাবি না।”

রিঝ দু’ই ঠোঁট একের উপরে আর এক চেপে হাসি থামায়।রামিম মুখ চেপে রেখেছে।আকাশ বোকা বোকা চোখে তাকিয়ে আছে।তুতুল এখনো মুখটা উপরে তুললো না।রিঝ এবার সিরিয়েস।গাড়ির একটা চাকা পাশে হেলে পরেছে।তুতুলকে ঝাড়ি দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে নেয় সে।তারপর কড়া গলায় বলল,
“ নিচে নামো।রামিম হাত ধরে নামিয়ে দিবে।”

তুতুল চোখ বুজেই আছে।তার মনে হচ্ছে চোখ খুললেই সে নিচে পড়ে যাবে।ভয়ে সর্বাঙ্গ ঝনঝন করে কম্পিত হচ্ছে।রিঝ মুখের উপরে তুড়ি বাজিয়ে বলল,
“ হয়েছে আর কাঁপাকাঁপি করতে হবে না।যাও নিচে নামো।”

তুতুল চোখ খুলে তাকায়।সে একা মেয়ে আছে।রিঝ আকাশ আর হিমেলকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দেয়।দু’জনেই হাতের পিঠে ব্যথা পায়।গাড়ি একদম ঝুঁকে যাচ্ছে।রিঝ তুতুলের হাত ধরে নিচে নামতে বলছে।তুতুল বলল,
“ আর আপনি??”
“ আমি পরে নামবো।তুমি নেমে যাও।তারপর রামিম তুই নামবি।”

তুতুল শক্ত কন্ঠে বলল,
“ কখনো না।একসাথেই নামবো।একা আমি নামবো না।”

রিঝ হাসলো।সিরিয়েস মুহূর্তেও তার এমন হাসি পাচ্ছে দেখে তুতুলের রাগ হয়।তেজি গলায় সে বলল,
“ আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন না কি?এমন হাসছেন কেনো??যতসব।”
“ তুমি কেয়ারি হয়ে উঠছো!!কারণ কি??”
“ এমন কিছুই না।আমারে কি পাগল মনে হয়??যে আপনার মত ছাগলের কেয়ার করবো??হুহ!”

কপাল কুঁচকে তাকায় রিঝ।কাঁটা ভ্রু বেঁকে যায়।এই মুহূর্তে রিঝকে অদ্ভুত সুন্দর মনে হচ্ছে তুতুলের কাছে।মনে হচ্ছে কাঁটা ভ্রুর এই ছেলেটা আসলেই মারাত্নক সৌন্দর্যে মণ্ডিত।যেনো স্নিগ্ধ বাতাস তার উড়ন্ত চুলে এসে খেলে যাচ্ছে।সাথে জড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে রূপ।তুতুলের বড় বড় ডাগড় চোখ দিয়ে সে তাকিয়ে আছে রিঝের দিকে।মুখে একটা মুগ্ধ ভাব।যেনো সে কিছু দেখে মুগ্ধ হয়ে আছে।রিঝ তুতুলের বাম গালটা আগে টেনে দেয়।তারপর ডান গাল।তারপর নাকটা।তুতুল গাল ঘঁষে মুখ ফুলিয়।ছোট থেকেই রিঝ এমন গাল নাক টানে।তুতুলও মুখ কুঁচকে গাল মুছে।নাকটা টেনে রিঝ বলল,
“ নেমে যাও।তর্কবিতর্ক করতে পারবো না এখন।”

রিঝের ঠান্ডায় জমে যাওয়া হাতের স্পর্শ তুতুলকেও হিমশীতল করে তুলেছে।হুট করে রিঝের বাহু চেপে বলল,
“ না।আপনার সাথে নামবো।”
“ কেনো??”

রিঝ দুই আঙ্গুল দিয়ে নিজের কাঁটা ভ্রু ঘঁষে।তুতুল বুঝতে পারে রিঝের রাগ এখন তুঙ্গে।রিঝের যখন প্রচন্ড রাগ হয় তখনই সে এই কাজটা করে।তুতুল অবশ্য মোটেও পাত্তা দেয় না।সে আরো শক্ত করে হাতের বাঁধন রেখে বলল,
“ আরে বাবা আমি যদি নেমে যাই আর আপনার যদি কিছু হয় তখন কি হবে??”

রিঝ সচকিত হয়।নিচু গলায় বলল,
“ কি হবে??”

তুতুল বুঝে সে একটু বেশিই বলছে।তাই কাটকাট করে বলল,
“ আরে আমাকে বাড়ি কে নিয়ে যাবে???ভুলে যাবেন না আপনি ভাইয়াকে কি কথা দিয়েছেন।”
“ আমি ভুলবো না।তুমি নামো।”
“ না আমি নামবো না।আর আপনি জোর করে নামাতেও পারবেন না।”
“ আমি কি করবো না করবো তোমাকে জিজ্ঞেস করে করবো না।নামো।”
“ না।আমি একা নামবো না।”
“ কেনো?কেনো?”
“ ইচ্ছা।”

তুতুল এক পাশে বসে পরে।গাড়ি দুলে উঠে।রিঝ ধমক দিয়ে বলল,
“ কি করছো এগুলো।মরার সখ আছে না কি??”

তুতুল নিজের বুকে ডান হাত চেপে ধরে।ভয়ে হৃৎপিন্ড বেড়িয়ে আসবে আসবে ভাব।কোথা থেকে যে এতো সাহস তুতুলের মধ্যে ভর করেছে তুতুল নিজেও জানে না।রিঝের বাহুটা আবার শক্ত করে ধরে বলল,
“ এক সাথে নামবো।রামিম ভাইয়া আপনি নেমে যান।”

রিঝ ভাবী আশ্চর্য হয়ে তুতুলের দিকে তাকায়।তুতুল মুচকি হাসি দেয়।রামিম হতবাক কন্ঠে বলল,
“ ভুলেও না।তুমি নামো।আমি আর রিঝ এক সাথে লাফিয়ে নামতে পারবো তুমি কি পারবে লাফ দিতে??”
“ অবশ্যই পারবো।মেয়ে ভেবে কম মনে করবেন না।”
“ তুতুল পাগলামির ও সীমা থাকে।এসব কেমন পাগলামি?ফাইজলামি পাইছো??” রিঝের কন্ঠে রাগ।
ইনোসেন্ট মুখ করে তুতুল বলল,
“ এমন চিল্লান কা??”
“ তো কি করবো তোমাকে বাহ বাহ দিবো??”
“ অবশ্যই দিবেন।দেখেন আমি কত ভালো নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে আপনার সাথে থাকতে চাইছি।বুঝেন কত বড় মন।”
“ আমি অতো ভালো না যে তুমি আমার সাথে ভালো হতে যাবে।”
“ কেনো??আপনি তো অনেক ভালো।”
“ চোখের দেখা সত্যি হয় না।আমি সত্যিই ভালো না।তাই আমাকে নিয়ে ভাবা উঁচিত না তোমার।”
রিঝ থামে।শ্বাস দ্রুত চলছে তার।কি সব করছে সে??তুতুল কিছুই বুঝলো না।প্রশ্ন করলো,
“ কি করেছেন??”
রিঝ জোড়ে জোড়ে শ্বাস নেয়।রামিম বুঝতে পারে।তাই তুতুলকে বলল,
“ আমি জানি তুমি মহান।এবার নামো।

তুতুল মাথাটা উঁচু করে ভাব নেয়।রিঝ ফঁস করে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে তুতুলের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে।রামিম তাড়া দিয়ে বলল,
“ তুতুল প্লিজ নামো।”
“ না।” তুতুলের কন্ঠে জিদ।
“ আমার এখন ইচ্ছে করছে তোমাকে ধাক্কা মেরে একদম খাঁদে ফেলে দিতে।ইডিয়েট মেয়ে একটা।”

রিঝ চোখ লাল করে তুতুলকে ধমকাচ্ছে।তুতুল পাত্তাই দিচ্ছে না।কেনো যেনো তার একা একা নামতে ইচ্ছে করছে না।মনে হচ্ছে এক সাথে নামলেই বাঁচা যাবে।তা না হলে সে চিন্তায় চিন্তাই মারা যাবে।রিঝ কথা বাড়ায় না।ঠেলে ঠুলে তুতুলকে নামায়।আকাশ কোলে তুলে নেয়।তুতুল হাত পা ছড়াছড়ি করছিলো।সামলাতে আকাশের বারোটা বাজে।আকাশ তুতুলকে নামিয়ে দিয়ে বলল,
“ চড়ুই পাখির মতো এতো তিড়িংবিড়িং করো কেনো??
আল্লাহ আমি শেষ।সব শক্তিও শেষ কি আর ঘুরমু।”

তুতুলও চেঁচিয়ে উঠে বলল,
“ আকাশ ভাইয়া একটা কি হলো!!আপনাকে কে বলছে আমাকে কোলে নিতে??”
“ রিঝ।”
“ উনি বললেই তুলতে হবে??যতসব।এখন উনারা কিভাবে নামবে??”

রিঝ উপর থেকে বলল,
“ তুমি কি ভাবছো তুমি স্পাইডারওমেন হয়ে আমাদের নামাবে???তাই নামছিলে না??”
কিঞ্চিত হেসে আবার বলল,
“ আসলেও পাগল তুমি।”

রিঝ আর রামিম নামার সময় গাড়ির একপাশ ঝুঁকে যায়।নামতে চেয়েও পারে না।সবার মাঝে আতঙ্ক।তুতুল আসমার হাতটা শক্ত করে ধরে চোখ বুঝে আছে।ডাইভ্রার দুঃখ করে বলল,
“ আমার গাড়িটা মনে হয় এবার যাবে।”

আসমা ধমকে বলল,
“ ওই শালা তোর কি নিজের গাড়ির জন্য বেশি চিন্তা হইতাছে??তাইলে তুই ও যা তোর গাড়ির লগে।দুইডা মানুষের জীবন ঝুঁকিতে আছে আর তোর নিজের গাড়ির চিন্তা!”

মায়শা আসমাকে শান্ত করতে বলল,
“ আসমা চুপ কর।তুই তাঙ্গারী করতাছস ক্যান??”
“ তো কি করমু।শালা কখন থেকে ঘ্যান ঘ্যান কইরাই যাইতাছে।বিরক্ত লাগতাছে।”
“ তবুও চুপ থাক একটু।”

কোনো মতে লাফিয়ে নামে দু’জনেই।সবার মাঝে একটা টানটান উত্তেজনা ছিলো।ড্রাইভারের চিন্তাও দুর করে দেয় সবাই মিলে।সবাই মিলে গাড়ি ঠেলে এপাশ ওপাশ করে।ভিতরে কেউ ছিলো না।ফলে কোনো মানুষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো না।একটা ছেলে এগিয়ে এসে বলল,
“ আজকের হিরো আপনি।”

রিঝ হাসলো।আকাশ হিমেল মিলে রিঝ রামিমকে কিছুক্ষণ ধুয়ে দিলো।মারতে মারতে বলল,
“ তোরা প্রতারক শালা।দোস্ত না।”
রামিম নিজেকে বাঁচাতে বাঁচাতে বলল,
“ আরে বাবা কি করলাম আবার??”
“ শালা ধাক্কা দিলি ক্যান??”
“ তাহলে কি তোদেরও নিজেদের সাথে নিয়ে এক সাথে মরতাম??” রিঝ সোজা হতে পারছে না।আকাশ পিঠে মারছে।আকাশ মারতে মারতে বলল,
“ মরলে এক সাথে মরতাম তোর বাপের কি রে? “
“ আচ্ছা এখন তো এক সাথেই বেঁচে আছি ছাড় এবার।”
রিঝ নত হয়ে বলল।ছেড়ে দিয়ে সবাই এক সাথে একে অপরকে জড়িয়ে নিলো।আসমা মাঝে এসে মাথা ঢুকিয়ে জড়িয়ে ধরলো।রামিম ঝাড়ি মেরে বলল,
“ এতো ঘেঁষা ঘেঁষি করছ কা??”
“ আমার ইচ্ছা তোর বাপের কি? যা ভাগ।”

সবাই হেঁসে উঠে।রামিমও হাতটা বড় করে আসমা সহ সবাইকে জড়িয়ে নেয়।

তুতুল সবাইকে অবাক করে একটা অদ্ভুত কান্ড করে ফেলেছিলো তখন।রিঝ যখন জিপ থেকে নামলো তখন সে ঘামে ভিজে চুপ চুপ হয়ে গেছিলো।টেনশন করলে মানুষকে ঘামায়।রিঝের অবস্থাও তেমন হয়েছিলো।সবাই প্রকাশ করতে পারলেও সে পারছিলো না।তাই চাপটা বেশি পড়েছিলো।কপালে লেপ্টে আছে সিল্কি চুলগুলো।তুতুল খুশিতে উত্তেজনায় আঙ্গুলের উপর ভর দিয়ে পা তুলে রিঝের গলা জড়িয়ে ধরে শক্ত করে।রিঝ বিস্মিয়ে কিংকর্তব্যবিমুঢ়!হয় তো তুতুল এই পরিস্থিতিতে ভয় পেয়েছিলো কিন্তু তার জন্য এতোটা ভয় পেয়েছে সে ভাবতে পারেনি।কল্পনায়ও আসেনি তার ব্যাপারটা।শীতে শরীর ঠান্ডা হয়ে এসেছে।জ্যাকেট আগেই খুলে ফেলেছিলো।ঘামের কারনে আরো শীত শীত লাগছিলো।তুতুল জড়িয়ে ধরাতে সর্বাঙ্গে গরম উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ে।মেয়েটা কি সত্যিই তাকে জড়িয়ে আছে? রিঝের বিশ্বাস হচ্ছে না।কিছু ঘটনা এতোই প্রিয় হয় যে স্বপ্নের মত লাগে সব।

প্রায় মিনিট খানিক পরে তুতুলের খবর হয় সে খুশিতে উত্তেজনায় রিঝকে জড়িয়ে ধরেছে।তাও সবার সামনে।বিজলির গতিতে ছুটে এসে যেভাবে জড়িয়ে ধরেছিলো ঠিক একুই ভাবে বিজলির গতিতে দ্রুত সরে যায়।রিঝের দিকে তাকায়।রিঝ কিছু বুঝে উঠার আগেই জ্যাকেট মুখের উপরে ছুড়ে মারে।রিঝ হকচকিত!মেয়েটা এমন পাগল কেনো?পরক্ষণেই হেসে উঠে কাজে লেগে যায় রিঝ।
_________________
বান্দরবান জেলা সদর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণে পূর্ব দিকে বান্দরবান-থানছি সড়কে পাহাড় চূড়ায় নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত।সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে এর উচ্চতা ২ হাজার ২ শত ফুট।এখনকার প্রকৃতির কারুকাজ মানুষকে সহজেই মুগ্ধ করে।এই রোদ, এই বৃষ্টি, আকাশে মেঘের গর্জন সেই সাথে রংধনুর হাসিমাখা আলোর এক রাশ্মি, বাতাসের সাথে ছন্দ আর তাল মিলিয়ে প্রকৃতির বৈবিত্র্যময় পরিবর্তনের এই দৃশ্যগুলো সত্যিই আকৃষ্ট করার মত।বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্যাটালিয়ন কর্তৃক চিম্বুক-থানছি সড়কটি নির্মাণের সময় ম্রো জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত বান্দরবান থানছি সড়কের কাপ্রু পাড়া এলাকায় প্রথমে নিরাপত্তা চৌকি হিসেবে এটি নির্মিত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা নিজেদের পরিকল্পনায় এটি একটি পর্যটন কেন্দ্রের পূর্ণতা লাভ করে। এখানে মেঘদূত, আকাশনীলা, নীলাঙ্গনা, মারমা হাউজসহ নানা নামের আকর্ষীয় কটেজ রয়েছে। আছে একটি ক্যাফেটেরিয়া।আর রয়েছে গাছের ,ফুলের সমারহ।

গাড়ি এসে থেমেছে নীলগিরির প্রবেশ পথের সামনে খোলা জায়গায়।ভিতরে ঢুকতে হলে আবশ্যকিয় ভাবে টিকেটের প্রয়োজন।তাই ছেলেরা টিকেটের জন্য কাউন্টারে যোগাযোগ করতে গেলো।মেয়েরা একটু হাঁটা হাঁটি করছে।উপরে সেই প্রতিক্ষিত স্থান।টিকেট কাটার সময় সবাই একটা অদ্ভুত সমস্যার শিকার হলো।কাউন্টারের লোকেরা জিজ্ঞেস করেছিলো তারা কত জন।রিঝ বলল,
“ আটজন।জন প্রতি ১০০ করে মনে হয় তাই তো??”
লোকটি বলল,
“ হ্যাঁ স্যার।”
“ তাহলে আটজনের টিকেট দেন।”
“ স্যার টিকেট।”
টিকেট এগিয়ে দিলো।রিঝ টাকা দিতে যাবে লোকটি আবার বলল,
“ টাকা দিতে হবে না স্যার।

সবাই অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ কিন্তু কেনো??”
“ আসলে আপনাদের টিকেট আগেই করা হয়েছে।আপনারা যেতে পারেন।”

এই অদ্ভুত ব্যাপারটা বুঝলো না কেউই।আকাশ মহা খুশি।একশতটাকা বেঁচে গেছে।ওয়াও এটা তার জন্য অনেক কিছু।রেয়ানার হিল একটু ঢুকতেই ভেঙ্গে গেছে।পায়েও হালকা ব্যথা পেয়েছে সে।জুতো এক হাতে আর হিলের নিচের অংশ আর এক হাতে।ব্যাপারটা খুবই হাস্যকর দেখাচ্ছে।প্রবেশ পথ সুন্দর খুব।উপরে লতার তৈরি গোল প্রবেশ পথ।যেনো রূপ কথার রাজ্যের মত বরণ করছে।এভাবেই তৈরি করা হয়েছে পথটি।পাহাড়ের উপরে তৈরি করা হয়েছে লাল নীলগিরি।লাল বলার কারন কটেজ গুলো।নীলগিরির কটেজ গুলো লাল।চারপাশে মানুষের ছোট খাটো ভির।উপরে উঠেই চোখে পড়লো ব্রিগেডিয়ারকে।নীলগিরি আর্মিদের দখলে।তারাই এর পরিচালনা করে।তাই নিরাপত্তার দিক থেকে এটা একদম সুরক্ষিত।রিঝ এগিয়ে গেলো।সবাই একটু অবাক হলো।আর্মিদের ভির থেকে উনি এসে রিঝকে জড়িয়ে ধরলো।রিঝ ও জাপ্টে ধরেছে।তুতুল চিনতে পেরেছে।রিঝ মৃদু চেঁচিয়ে বলল,
“ চাচ্চু তুমি এখানে??”
“ হুম।আমি এখন বান্দরবানে আছি।কালই শুনেছি তুমি এখানে আছো তাই দেখা করতে চলে এসেছি।”
“ শুধু আমার সাথে দেখা করতে এতো কাজ রেখে এখানে এসেছো??”

রিঝ ভ্রু নাচিয়ে হাসলো।তিনিও হাসলেন।অন্য সময় হলে বন্ধুর মত পিঠে হাত রেখে অনেক কথা বলতো।এখন তো তেমনটা করা যাবে না।তাই একটু ঝুঁকে রিঝের কানের কাছে ফিঁসফিস করে বলল,
“ বউকে দেখতে এসেছি।”
“ হোয়াট??তুমি বিয়ে করবে??”
“ আরে ওই বউ না।তোমার জন।”
“ বরাবরের মতো একুই জন।”

রিঝের বুকের এক পাশে পাঞ্চ মেরে বলল,
“ ব্রেকাপ!!”
রিঝ হাসিতে মাখামাখি হয়ে বলল,
“ তুমি বেশি বলছো।এখনই চুপ করো।”
“ ওকে ওকে।তা তুতুলপাখি কই??”
“ আছে।পাশেই।চোখ পাশে নিলেই দেখতে পাবে।

তুতুল এগিয়ে আসে।রফিক আদুরি গলায় বলে,
“ কেমন আছে আম্মা??”
“ ভালো।তুমি এখানে?আমি তো ভাবতেই পারিনি দেখা হবে।”
রফিক এক হাতে তুতুলকে জড়িয়ে ধরে।দু’জনের মধ্যে আরো কিছুক্ষণ কথা হয়।ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ রফিকের সাথে সবাই পরিচিত হয় এক এক করে।যদিও অনেকেই তাকে চিনে।উনি রিঝের ছোট চাচা।আর্মি হওয়ায় ঘুড়ে বেড়াতে হয় অনেক জায়গায়।তাই পরিবার থেকে দূরে থাকে।রিঝের সাথে সম্পর্ক চাচা ভাতিজার মত নয়।বন্ধুর মতো।এই ৪২ বছর বয়সী সুঠাম দেহের পুরুষের জীবনে নারী সঙ্গ নেই।সে এখনো বিয়ে করেনি।তুতুল ব্যাপারটায় বিস্মিত হয় মাঝে মাঝে।তার জানা মতে পুরুষরা প্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করে সংসার করতেই বেশি পছন্দ করে।কিন্তু রফিক চাচ্চু একদম অন্যরকম।কিন্তু কেনো সে জানে না।এতো বয়স হয়েছে এখনও বিয়ে করলো না।রামিম হেঁসে উঠে বলল,
“ চাচ্চু বিয়ে কি আর করবেন না??এমনেও আপনি মেয়ে পাবেন না এখন আর।আর্মি দেখে কি মেয়েরা বিয়ে করার জন্য লাইন দিয়ে দিবে??মোটেও না বুড়া হয়ে গেছেন।”

আসমা আগে আগে বলল,
“ চাচ্চু রাজি হলে আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারি।এখনো যা জোস দেখতে ওয়াও।”

রফিক হাসলো।বলল,
“ বিয়ে করার চাইতে না করা উত্তম।”
“ কিভাবে??” আকাশ বলল।
“ বিয়ে না করে অনেক কাজ করা যাবে জীবনে।সফলতা আর সফলতাই হাতের মুঠোয় থাকবে।বয়সও ঠিক থাকবে।দেখো তোমাদের চাইতে আমাকে বেশি স্মার্ট আর ইয়াং লাগছে।”
“ এটার সাথে বিয়ের সম্পর্ক কি?” আকাশ দারুন মনোযোগি।
“ দেখো তোমরা গার্লফ্রেন্ড,প্রেমিকা,প্রিয়তমা,প্রিয় নারীর পিছনে চিন্তা এবং সময় ব্যয় করে নিজেদের চুল সাদা করে ফেলছো।আমি এসব ফালতু চিন্তা করতে চাই না।তাই বিয়েও করতে চাই না।বিয়ে না করলে সত্যিই জীবনে অনেক কিছু করা যায়।আমাকে দেখেই শিখতে পারো।”

রিঝ ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
“ তাহলে তুমি বলতে চাও আমারও যাতে বিয়ে না কি?”

উত্তরে রফিক সাহেব হাসলেন।তুতুল উৎফুল্লো হয়ে বলল,
“ কথাটা সত্যি।আমিও বিয়ে করবো না।আপনার মতই।আপনার সাথে সহমত আমার ও।”

রিঝ মাথাটা বাঁকিয়ে তুতুলের দিকে একবার তাকায়।সাথে সবাই তাকায়।তুতুল কানের পাশে চুল গুঁজে দিতে দিতে বলল,
“ এভাবে দেখার কি আছে?আমি সত্যিই বিয়ে করবো না।”
“ সিরিয়েসলি??” রামিমের কন্ঠে বিস্ময়।আসমাও বলল,
“ সত্যি??”
“ হুম এতে এতো বিস্মিত হওয়ার কি আছে??”

সবাই আবার সোজা হয়ে হাঁটে।কিছু দূরেই উথৈয়ের সাথে দেখা।গায়ে তারও আর্মি ড্রেস।দেখতে মারাত্নক লাগছে।ফর্সা গায়ে সবুজ ড্রেস।এগিয়ে আসে।সে একজন আর্মি অফিসার।তুতুল আসমা সহ অনেকেই জানতো না।তাই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।উথৈয় কাছে এসে দাড়ায় সবার সাথে কথা বলে একে একে।আসমা রামিমের পাশে ছিলো।খুশিতে আত্নহারা হয়ে রামিমের হাত চেপে ধরে।রামিম বুঝে না।আসমা বলে,
“ ওয়াও কি জোস দেখতে।আমি তো এই পোলারে চাই চাই।দোস্ত কিছু কর।”

রামিম ভারী কন্ঠে বলল,
“ আমি কি করমু??”
“ জানি না।শুধু প্রেম করাই দে।দেখ কত হট দেখতে।তার উপরে আমার প্রিয় আর্মি ড্রেস!!ওহ গড ওহ গড আমি তো এখনই জ্ঞান হারামু মরেই যামু।প্লিজ কিছু কর।প্লিজ।”
রামিমের ইচ্ছে করছে আসমার গালে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিতে।রাগি চোখে একবার তাকিয়ে নিজেকে সামলে নেয় সে।কিছু না বলে সামনে হেঁটে যায়।

রিঝ তুতুলের পাশ ঘেঁষে হাঁটে।তুতুল পাশে তাকায় তারপর আবার হাঁটে।সবার আশেপাশে আর্মিরা হাঁটছে।ঘুড়তে আসা বাকি মানুষের চোখে ওরা ভি ভি আই পি মানুষ।তুতুলের মনে হচ্ছে আহা মরি কিছুই নেই এখানে।সব সৌন্দর্য পাহাড়ের মাঝেই লুকিয়ে।এসব জিনিস তুতুলের ভালো লাগছে না।সে একদম পাহাড়ের কিনারে এসে দাড়ায়।নিচু নিচু হয়ে দেখতে লাগে।সে জানতে চায় নিচে কি আছে!শুধু ঘন বন।সবুজ আর সবুজ।রিঝ ডান হাতটা টেনে ধরে।আঙ্গুলের সাথে আঙ্গুল ঠেকিয়ে বলে,
“ সাবধানে।”

তুতুল তাকায়।রিঝের চোখে একটা চিন্তার ছাপ থাকে সব সময়।কিছু একটা আছে এই চোখে।খুজে পায় না সে।নরম গলায় তুতুল বলল,
“ আপনি আমার সাথে কেনো থাকেন??কেনো এতো কেয়ার করেন??”
“ আমি যখনই তোমাকে একা ছেড়েদি তুমি কোনো না কোনো প্রবলেমে পড়ে যাও।”
“ আমি প্রবলেমে পড়ে যাই তাই আপনি সব সময় আমার সঙ্গ দেন??”
“ সেটা নয় তুতুল।আমি সঙ্গদি তোমার এই বড় বড় চোখের।এই চোখের জন্য!এই কোঁকড়া চুলের জন্য।তোমার এই চোখ আমাকে গোলাম বানিয়ে দিয়েছে।কেনো??কিভাবে??আমি জানি না।শুধু জানি এই চোখ আমাকে কোথাও যেতে দেয় না।দূরে সরতে দেয় না।আমাকে স্বাধীন করতে চায় না।সব সময় ধরে বেঁধে আটঁকে রাখতে চায়।যেনো আমি মুক্ত হয়েও মুক্ত না।আমি বন্ধী।তোমার এই বড় বড় কালো চোখের মধ্যমনিতে।”

তুতুল হকচকিয়ে গেল।রিঝ তুতুলের বড় বড় চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলছে।আশেপাশে সাঁ সাঁ করে বাতাস বইছে।হিমেল শীতল বাতাস।তুতুল দূরে সরে আসে।রিঝ ও হকচকিয়ে যায়।রিঝের কি হলো সে জানে না।ঘোর যেন চেপে বসেছে।কিসব কথাবার্তা বলছিল সে।পাগলের মত কি বলছে এগুলো?নিজের অজান্তে কিছু গোপন কথা বলে ফেলেছে।প্রেম এমন কেনো??এতো আবেগে মোড়ানো কেনো এই প্রেম?কেনো কঠিন মানুষটিও এই আবেগে দগ্ধ হয়।না চাইতেও মনের মধ্যকার সব আবেগ-অনুভুতি-ভালোবাসা অজান্তেই ঠেলে-ঠুলে বেড়িয়ে আসে।তুতুল এখনো তাকিয়ে আছে।এমন কিছু বলবে সে ভাবেনি?কল্পনাও করেনি।কি বলল উনি??এতো আবেগ??তাও রিঝের মতো মানুষের মাঝে??কি করে??
প্রেমের যেন একটা নিজস্ব শক্তি আছে।সে সুখ দিতে পারে।জ্বালাতে পারে।পুড়িয়ে আঙ্গার করতে পারে।আবার আনন্দের জোয়াড়ে ভাসিয়ে দিতে পারে।কখনো সেই জোয়াড়ে ডুবিয়েও দিতে পারে।
কৃষ্ণচূড়ার রং লাল-২৩.🎈
@হাফসা আলম
_____________________
উথৌয় এগিয়ে এসে তুতুলের পাশে বসল।তুতুল চমকে দাড়িয়ে পড়ল।ঠোঁটে হাসি ঝুলিয়ে উথৌয় বলল,
“ আরে ভয় পাচ্ছেন কেনো??কিছুক্ষণ আগেই তো পরিচয় হয়েছে।পরিচিত ব্যক্তিকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।চাইলে বসতে পারেন।”

তুতুল কপাল কুঁচকে নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল।তারপর আস্তে করে পাশে বসল।উথৌয় হাসছে।তুতুল চোখ ছোট করে বলল,
“ হাসছেন কেনো??”
“ আপনি ভয় পাচ্ছেন কেনো??”
“ কই ভয় পাচ্ছি?”

উথৌয় আবার হাসল।তুতুল ভারী অবাক।লোকটার কি হাসির ব্যামো ট্যামো আছে না কি??আশ্চর্য!!আর্মিদের মাঝে আবার পাগলও আছে বুঝি?তুতুল আগের মত সামনে তাকাল।সামনে নদী।সবুজের বুক ঘেঁষে বয়ে চলেছে সাঙ্গু নদী।পানিতে ভাসছে কিছু ডিঙ্গী নৌকা।সারি সারি বাঁশের তৈরি নৌকাও ভাসছে।এতো উপর থেকেও সেই দৃশ্য মারাত্নক সুন্দর দেখাচ্ছে।নীলগিরিকে দার্জিলিং শহরের সাথে তুলনা করা হয়েছে।বরফটা পড়লে তুলনা করার প্রয়োজন ছিলো না দার্জিলিং বলা চলত।
“ আপনার সম্পূর্ন নাম কি জানতে পারি??”

তুতুল হালকা নড়ে উঠে।প্রকৃতির রূপে সে ডুবে ছিল।হঠাৎ এমন কথায় সে ভয় পেয়ে গেছে।উথৌয় ব্যাপারটায় আবার হাসলো।এ কে তুতুলের এসব উপজাতিদের কেমন যেনো লাগে।চোখ ছোট,চেপা নাক,সাদা শরীর,একদম ভিন্ন তারা।তার উপরে এই লোক হেসেই চলেছে।যতসব আবুল।তুতুল আরো সরে বসে বলল,
“ সিদ্রাতুল হূরায়রা।”

উথৌয় মুগ্ধ হওয়া গলায় বলল,
“ অসাধান নাম।কিন্তু তাহলে এই তুতুল কে??”
“ ওটা আমার ভাইয়া আদর করে নাম দিয়েছে।তাই বাসার সবাই এই নামে ডাকে।”
“ তুতুল নামটা অনেক কিউট।”
“ ভাইয়া আদর করে ডাকে।তার মতে আমি না কি ছোট বেলায় খুব তুলতুলে ছিলাম তাই এই নাম দেওয়া।আপনার নামের রহস্য আমি বুঝলাম না।উথৈয় আবার ইসলামও কেনো??আর আপনারা কি মুসলিম??”

তুতুল কনফিউজ হয়ে বলল।উথৌয় নিজের সবুজ আক কালো আর্মি ক্যাপ ঠিক করে বলল,
“ এত প্রশ্ন এক সাথে??ওরে বাবা।আমি তো ভেবেছি আপনি কথাই বলতে পারেন না তেমন।”

তুতুল রাগল।কিন্তু সেটা প্রকাশ না করে বলল,
“ আপনার কেনো এমন মনে হলো??”
“ ওই যে তখন আপনার সাথে হাই করতে হাত বাড়িয়ে ছিলাম তখন আপনি কথাই বললেন না।উল্টা এড়িয়ে চলে গেলেন।আমি কিন্তু বুঝতে পেরেছি।”

উথৌয় নিচু হয়ে হাসল।তুতুল খুব অস্বস্থিতে পরে গেল।সত্যিই সে এড়িয়ে চলেছে।কারণটা আসলে উথৈয় অপরিচিত ছেলে বলে।তুতুল সবার সাথে মিশতে পারে না।তাই তার কাছে সবচাইতে ভালো অপশন ইগ্নোর করা।তুতুল একটু হাসার চেষ্টা করে বলল,
“ আসলে ব্যাপারটা তেমন না।”
“ তাহলে কেমন??”
“ আরে বাদ দেন না।বলেন আপনি মুসলিম কি না??”

তুতুলের তাড়া।উথৌয় পিছনের পকেট থেকে একটা টুপি বের করে বলল,
“ অবশ্যই আমি মুসলিম।”
“ তার মানে কি আপনি মুসলিম হয়েছেন??না কি আপনার বাবা বা মা হয়েছে?”
“ আমাদের ব্যাপারটা একটু অন্যরকম।আমার বসতির আমরা সবাই মুসলিম।কিন্তু আগে ছিলাম না।মানে আমার বাবাদের আমলে তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে।”
“ কিভাবে??”
“ সেটা জানতে হলে তো তোমাকে আমার বসতিতে যেতে হবে।”

তুতুল কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
“ আপনার বসতি কোথায়??”
“ পাহাড়ে।”

তুতুল ভারী অবাক হওয়া গলায় বলল,
“ সিরিয়েসলি??”

উথৌয় হাসছে।তুতুল ভাবল হয় তো মজা করছে।একজন আর্মি অফিসার হয়ে পাহাড়ে থাকবে?এটা সম্ভব না।কিছুসময় পরে উথৌয় নিজে থেকেই বলল,
“ আমার বাসা সত্যিই পাহাড়ে।”

খুশিতে আত্নহারা হয়ে তুতুল বলল,
“ ওয়াও।তাহলে আমি যাবো।কোথায় আপনার বাসা ওই যে পাহাড় দেখা যাচ্ছে ওই দিকে??”

তুতুল সামনে থাকা অসংখ্য পাহাড়ের দিকে নিজের হাত তাক করে।উথৌয় আবার হাসে।তুতুলের মনে হলো উপজাতিদের হাসলে ওতোটাও খারাপ লাগে না।আবার মনে হলো লোকটা খারাপ না।তাই হয় তো ভালো মনে হচ্ছে।উথৌয় তুতুলের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ আরে না।এই পাহাড় গুলোতে আমাদের বসতি বা পাড়া কোনোটিই নেই।”
“ তাহলে পাহাড়ে কেনো বললেন??” তুতুলের কন্ঠে একরাশ বিরক্তি।সাথে হতাশা। উথৌয় নিজের হাসি অব্বাহত রাখলো।তুতুল এবার বিরক্তিতে মুখটা কালো করে বলল,
“ আপনি এতো হাসেন কেনো??প্রতি কথায় হাসেন।লোকে তো পাগল বলবে।”
“ লোকে বলতে হবে না তুমি যে মনে মনে পাগল বলছ আমি বুঝতে পেরেছি।ও স্যরি তুমি বলে ফেলেছি।”
“ সমস্যা নেই পরে থেকে আপনি ডাকলেই হবে।একবার দুবার ভুল হতেই পারে।”

উথৌয় বুঝল মেয়েটা ধানী লঙ্কা।কথায় একটা ঝাঁঝ আছে।সে ধীরে ধীরে বলল,
“ আপনি তো দেখছি রেগে যাচ্ছেন।আমি কি রাগার মত কিছু বলেছি?”
“ না।” তুকুলের সত্যিই রাগ হচ্ছে।পাহাড়ে বাড়ি একবার বলে আর বলছে পাহাড়ে না।মিথ্যুক! এসব মানুষকে তার পছন্দ হয় না একদম।”
“ আমার বাড়ি কিন্তু সত্যিই পাহাড়ে।”
“ মজা করার মত কিছু হয় নি।সো মজা করবেন না।সব হচ্ছে মেয়েদের সাথে কথা বলার ধান্দা।”

তুতুল মুখ ঘুরিয়ে নিলো।উথৌয় নম্র সরে বলল,
“ সত্যি কথাই বলছি।মজা না।আমার বাড়ি পাহাড়ে।কাঁটা পাহাড়ের কিং মৌরকো পাড়া।এটা আদি নাম।অনেকে নব মুসলিম পাড়াও বলে।আর আমি মেয়েদের সাথে কথা বলার ধান্দা খুঁজি এটা সত্যি নাও হতে পারে।”
তুতুল লজ্জিত হয়ে বলল,
“ স্যরি।

আবার কৌতুহল নিয়ে প্রশ্ন করল,
“ কেনো?কেনো??”
“ সে অনেক কাহিনী।তোমাকে দাওয়াত করলাম।প্রথম দাওয়াতই তোমাকে করলাম।আমার বোন উমের বিয়ে দুই দিন পরে।তোমরা সবাই আসবে কিন্তু।স্যরি আবার তুমি বলে ফেলেছি।”

তুতুল হঠাৎ বেহায়ার মত বলল,
“ আরে বাদ দেন।বিয়ে!!যাবো মানে অবশ্যই।পাহাড়ের উপরে বাড়ি!!আর আমি যাবো না দেখতে?এটা হতেই পারে না।”

উথৌয়কে হাসতে দেখে তুতুল কিঞ্চিত লজ্জিত বোধ করল।ইনভাইট করার আগেই যেনো তুতুল চলে যাচ্ছে।নিজেকে পাগল মনে হচ্ছে তার।নিচু গলায় আবার বলল, স্যরি আমি পাহাড়ের প্রেমে এমন ভাবে পড়েছি যে পাহাড়ের বাসা দেখার লোভ সামলাতে পারিনি তাই বেশিই এক্সাইটেড হয়ে গেছি।”
“ আমি কিছু মনে করিনি।তবে আমার হাসিতে তোমার মনে হয় অনেক সমস্যা?”
“ না এখন আর সমস্যা নেই।”
“ তার মনে আগে ছিলো?”
“ আপনি খুব কথা প্যাঁচান।”

দু’জনেই এক সাথে হেসে উঠে।কথা হয় অনেক।আশেপাশের পরিবেশ থাকে মূখ্যে।হাসাহাসির শব্দ,দু’জনের মাঝের মহল জমে উঠে।দূর থেকে দাড়িয়ে সব চোখের নিমিশে গিলে নিচ্ছে রিঝ।একটা সময় অধৈর্য্য হয়ে তুতুলের সামনে এসে বলল, চলো।
উথৌয় কয়েকদিন আগে দার্জিলিং থেকে ঘুরে এসেছে।সেই গল্পই তুতুলকে শুনাচ্ছিলো।বরফ পাহাড়ের গল্পে তুতুল মেতে ছিলো।রিঝের কথা তুতুলের কানে গেলো না।দাঁত কিড়মিড় করে রিঝ ধমকে উঠে বলল, তুতুল তোমাকে উঠতে বলেছি।”
তুতুল চমকায়।পিছন ফিরে তাকিয়ে বলে,
“ আস্তেও তো বলা যায়।”
“ প্রথমে আস্তেই বলেছি।উঠো।”
রিঝ শক্ত করে হাত ধরে।তুতুল ভারী আশ্চর্য!একটা পাশে নিয়ে দাড় করিয়ে রিঝ বলল, একদম ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দিতে কিন্তু আমার বেশি পরিশ্রম করতে হবে না।তবে তোমাকে ফেলতে আমার সত্যিই খুব কষ্ট হবে।”

রিঝের চোখ গুলো জ্বলজ্বল করে উঠেছে।হিংস্র দেখাচ্ছে।তুতুল হঠাৎ এমন আক্রমনাত্বক কথায় সত্যিই হতবাক!পাহাড়ের নিচে তাকানোর সময় হয়ে উঠেনি তার।রিঝের শরীর কাঁপছে!তুতুল কিছুই খুঁজে পেলো না যা সে করেছে আর রিঝের এমন ভয়ঙ্কর রাগ উঠছে।তুতুল ওভাবেই দাড়িয়ে আছে।রামিম ব্যাপারটা খেয়াল করে।তুতুলের কাছে এসে বলে, তুতুল তুমি ঠিক আছো??”
“ রিঝ ভাইয়া কেমন আজব ব্যবহার করেছে??আপনি দেখলেন??উনি আমাকে পাহাড় থেকে ফেলে দিবে বলেছে!মানে কি?”
“ আরে ব্যাপারটা তেমন না।ও মজা করে বলেছে বোধ হয়।”
“ মজা আমি বুঝি।”
তুতুল ভাবে।সবাইকে ক্যাপেতে ডাকা হলো।খাওয়াদাওয়ার সাথে গল্পও হলো।রিঝ নিশ্চুপ হয়ে ছিলো।সে কোনো কথাই বলেনি।নিঃশব্দে খেয়ে উঠে পরেছে সে।তুতুল মাঝে মাঝে আড়চোখে তাকিয়ে ছিলো।কিন্তু পাত্তাই পায়নি।রিঝ তো একবারো তাকায় নি।আসমা ছবি তুলতে ব্যস্ত।রামিমের কপাল খারাপ।কারন সে ফটোগ্রাফার।সব ছবি তাকেই তুলে দিতে হচ্ছে।পিচঁঢালা রাস্তায় বসে,এপিঠ,ওপিঠ হয়ে সে অনেক ছবি তুলছে।নিচের রাস্তার দুপাশেই গাছ।জানা অজানা গাছে ভরিয়ে রেখেছে রাস্তার পাশ।পাহাড়ের নিচে ঢালু পথ।পিঁচঢালা করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।ধাপে ধাপে নিচু পাহাড়।পাহাড়কে কেঁটে কেঁটে তৈরি করা হয়েছে সব।এক ধাপ পরের পাহাড়ে আবার কটেজ।লাল রঙ্গের কটেজ। তুতুল হাঁটছি একা একা।রিঝ কোথা থেকে যেনো দ্রুত ছুটে এসে হাতটা ধরে।তুতুল একবার তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নেয়।হাতটা সরিয়ে নিতে চায়।রিঝ হেঁসে উঠে বলল,
“ আমি কিন্তু সত্যিই পাহাড় থেকে ফেলেদিবো।”
“ আমি কি ভয় পাই না কি?
“ ফেলে দেওয়ার সময় কিন্তু ঠিকই পাবে।”
“ পড়লে একা না আপনাকে নিয়ে পড়বো।”
“ কেনো?”
“ আপনাকে ছাড়া উপরে গিয়েও ভালো লাগবে না।”
তুতুল থামলো।রিঝ হাতটা আর একটু শক্ত করে বলল,
“ তাই তো ছাড়ি না।আমি তো জানি।”
“ আপনি কি আমার সাথে ফ্লাটিং করছেন ভাইয়া??”

তুতুল ভ্রু কুঁচকে আছে।রিঝ গালের দুপাশ শক্ত করে বলল, থাপ্পড় খাবে?বেয়াদপ মেয়ে একটা।”

তুতুল হেসে উঠে।রিঝের মুখটা দেখার মত।চিকন ঠোঁটের হাসি।মুগ্ধ করার কোনো ব্যাপার কারো কাছে না থাকলেও তার কাছে খপব গুরুত্বপূন্য।রিঝ তবুও মুগ্ধ হয়।যখন কারো মনটাকে ভালো লেগে যায় তার দুনিয়াই সুন্দর মনে হয়।ঠোঁটের কোন ঘেঁষে সেই তিল!প্রথম ভালোবাসায় একটা যাদু আছে।সব কিছু নিখুঁত ভাবে চোখে ভাসে।ছোট ছোট জিনিস হয়ে উঠে আহামরী।মনে হয় তার হাঁটা সুন্দর,হাসি সুন্দর,কান্না সুন্দর,ঝগড়া সুন্দর।সে নিজেই সুন্দর।তার সবই সুন্দর।এটাই হয় তো ভালোবাসা।

”সৌন্দর্য থাকা নয় সৌন্দর্য খুঁজে নেওয়াই ভালোবাসা।”

তুতুলের গলার পাশ ঘেঁষে তিন চার লাইন নীল ,হালকা সবুজ রগ।কথা বললে ঘাড় নাড়ালে সেই রগ উঠানামা করে।তখন রিঝের বাধ্য মন অবাধ্য হয়ে ডানা ঝাপটায়।হয় তো একটু ছুঁয়ে দেখার প্রবল ইচ্ছায়।পৃথিবীতে খুব কম মানুষ এক মানুষের প্রেমে বার বার পরে।রিঝ বার বার তুতুলের প্রেমে পড়ে।ঠিক এখনের মত।এই সবুজের বুক ঘেঁষে চলন্ত সেই মেয়ের প্রেমে পড়ছে সে।খুব কম প্রেমে বিরক্তি শব্দ বিলিন থাকে।রিঝের প্রেমটা ঠিক কম সংখ্যক মানুষের ভীরে একটা।রামিম সে প্রেমের প্রেমেও পরে যায় মাঝে মাঝে।ভালোবাসা হয়।অনেকেই বাসে।কিন্তু নিখুঁত যেনো তার চোখে রিঝ।নিখুঁত ভালোবাসা!পাগল করা ভালোবাসা!পাগল!সত্যি কারের পাগল!

সবাই সোজা হেঁটে হেলিপেড মাঠের উপরে এসে দাড়ায়।২২০০ ফুট নিচের দৃশ্য দেখার জন্য।আঁকাবাঁকা,উঁচু নিচু পথ।দু’পাশে সবুজের নির্জন আলাপ।পর্যাপ্ত হিমশীতল বাতাস শরীর ও মন সব উজ্জীবিত করে দিচ্ছে।পৃথিবীর সকল যাবতীয় বাতাস যেনো এখানেই সংসার পেতেছে।সকল রূপের ঠাই হয়েছে এই শহরের পাদস্পর্শে।শুধু সবুজের রূপ আর সবুজের রূপ।চারপাশে বাতাস,বাতাস আর অবিশ্রান্ত বাতাস।পাহাড়ের বুক জুড়ে রং বেরঙের ফুলের আবাসভূমি।রূপের এই বিহৎ সৌন্দর্যের রূপ সবাই হা করে দেখছে।সামনে রাজার মত মাথা উঁচিয়ে দাড়িয়ে আছে সবুজের পাহাড়।সব মিলিয়ে অঙ্গ অঙ্গ খুশিতে উত্তেজিত হয়ে উঠছে সবার।আকাশের মনে হচ্ছে টাকাগুলো এই সৌন্দর্যের কাছে কিছুই না।রামিমের মনে হচ্ছে প্রিয় একটা আনন্দ।হিমেল মুগ্ধ।রিঝের চোখ উড়ন্ত প্রজাপতির মতো চুলের খাঁজে।সে সবার থেকে ভিন্ন চিন্তায় উড়াল দিচ্ছে।শুধু একা না।রামিমও যেনো আজ উড়ছে।এক অদ্ভুত খেয়ালে!!এটাই কি প্রেম??যা নেশার মত কাজ করে।সব কিছুই রঙ্গীন মনে হয়?সব কিছু ভালো লাগে।
_____________________
ভোরের আলো ফুটেনি।অন্ধকার চারপাশে।রিঝ নামাজ পড়ে।তারপর তুতুলের রুমে আসে।তুতুল ঘুমে নিশ্চয়ই বিভোর।রিঝ দরজায় টোকা দেয়।রুম নিশ্চুপ।রিঝ আবার কড়া নাড়ে।বার বার দরজা ধাক্কা দেয়।তুতুল বেহুশের মত ঘুমাচ্ছে।কালকের কড়া জার্নিতে তার হাত ,পা,পিঠ সব ব্যথা হয়ে আছে।দরজার তুমুল বাড়িতে সে প্রচন্ড বিরক্ত হচ্ছে।মুখশ্রী কুঁচকে নিয়ে নরম বালিশটা মুখে আরো চেপে ধরে।এবার ফোন বাজে।তুতুলের ইচ্ছে হয়,ফোন ছুঁড়ে ভেঙ্গে ফেলতে।কিন্তু ভাইয়া বাবা খুঁজে না পেলে অনেক সমস্যা হবে তাই ফোন রিসিভ করে কানে দেয়।বিপরীত পাশে কঠিন পুরুষালী কন্ঠ!তুতুল চমকে উঠে।ঘুমে ঠোলুঠোলু হয়ে উঠে বসে।ঘুমে শুকনো কন্ঠে বলে,
“ কে ভাই!!এখন আমি ঘুমাই।ডিস্টার্ব করেন কা??”
“ কারণ তুমি যদি আর এক মিনিটের মাঝে দরজা না খোলো আমি ভেঙ্গে ফেলবো।”

তুতুল হকচকিয়ে যায়।চোখ দু’হাতে কচলে নাম্বার দেখে।বাংলা অক্ষরে লেখা” জ্ঞানী বাবা” তুতুল ধপ কর শুয়ে পরে।বিরক্তির উপরে তার রাগ লাগছে।সকাল সকাল জিনা হারাম করতে চলে আসছে।রিঝের কন্ঠ কানে আসে অনেক।কিন্তু সে পাত্তা দেয় না।ফোন কানেই নেয় না।রিঝ কল কেটে আবার করে।তুতুল ধরে না।ঘুম যখন আসি আসি ম্যাসেজবক্স টুন টুন করে শব্দ করে।তুতুল দেখে,লেখা “ দরজা না খুললে তোমার আব্বুরে কল করতে বাধ্য হবো।”

সব ফেলে দ্রুত উঠে দৌড় দেয় তুতুল।কম্বল ছুড়ে মারে একদিকে।জুতা পায়ে দেয় একটা।বাকিটার খবর নাই।দরজা খুলে দেয়।ক্যাজুয়াল স্নিকার,হুডি,ব্লাক জিন্সে রিঝকে হিরো হিরো লাগছে।তুতুলের ঘুম উড়ে যায়।মনে মনে বিড়বিড় করে,
“ এতো জোস দেখতে কা এই পোলা!!”
পরক্ষনেই জিভ কেটে বলে,
“ শরম কর তুতুল শরম কর।ভাই হয় তোর।”

কিন্তু তুতুলের বিড়বিড় করা কথা রিঝের কানে এসে বাড়ি খায়।ভ্রু বাঁকিয়ে তুতুলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“ কি বললা তুমি??”

ধরা পরে তুতুল আবার জিভ কামড়ে ধরে।দ্রুত প্রশ্ন করে,
“ কিছু না।কিন্তু কি হয়েছে??এতো সকালে এখানে কি??”

রিঝ জবাব দেয় না।ভেতরে ঢুকে যায়।তুতুলের বিছানায় জায়নামাজ মেলে দিয়ে বলে,
“ নামাজ পড়ো।এসেছো থেকে কয় ওয়াক্ত পড়েছো??”
“ ভুলে গেছি।”
“ মিথ্যা বলা বন্ধ করে যাও।”

রিঝের কথায় আর কাজে তুতুল বিরক্ত হলেও নামাজের উপরে কথা নেই।তাই সে ওযু করে আসে।রিঝ বারান্দায় দাড়ায়।তুতুল ভাবে চলে গেছে।নামাজ পড়ে দ্রুত ঘুমাতে যায়।বিছানায় প্রায় শুয়ে পড়েছে পড়েছে ভাব।রিঝ এসেই কম্বল টেনে নেয়।তুতুল রাগি চোখে তাকায়।বিরক্তির সুর টেনে বলে,
“ এমন করেন কেনো??ঘুমাই প্লিজ।”
“ না ।উঠো।একটা অসাধারন জিনিস দেখাবো।জ্যাকেট নেও সাথে শালও নেও।অনেক ঠান্ডা বাহিরে।”

তুতুল অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে থাকে।এখনো সকাল হয় নি।রিঝ আলমিরা খোলে।কালো জ্যাকেট টি-শার্ট,জিন্স বের করে দেয়।তুতুল শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে।রিঝ ভাই দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে।অদ্ভুত ভাবে!!পাগল টাগল হলো না কি?রিঝ জামা হাতে দিয়ে তুতুলকে বলল,
“ যাও দ্রুত ফ্রেশ হয়ে রেডি হও।”

তুতুল ঠাস করে টেনে জামাগুলো নিয়ে বলল,
“ যদি আমার সেই অসাধারন জিনিস ভালো না লাগে তাহলে সত্যি আপনার সব চুল তুলে ফেলবো এই আমি বলেদিলাম।”

রাগে গিজ গিজ করে তুতুল ওয়াসরুমে গেলো।পরে আসে সব।কালো জিন্স,সাদা টি-শার্ট,কালো লেদারের জ্যাকেট।পায়ে সাদা কনভার্স।লম্বা কোঁকড়া চুল খোলা।বাঁধতে বাঁধতে রুমের বাহিরে আসে সে।রিঝ আগেই বাহিরে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছে।তুতুল রুম নক করে।বাহিরে এসে চুল ঠিক করতে করতে চারপাশে রিঝকে খুঁজে।পিছন থেকে গায়ে শাল পেচিয়ে দেয় রিঝ।তুতুল চমকায়।পিছনে তাকিয়ে স্বস্থির শ্বাস নিয়ে বলল,
“ ভয় দেখান কেনো সব সময়??”
“ তুমি ভয় পাও??”

রিঝের কন্ঠে কনফিউশন।তুতুল নিজেই কনফিউজড হয় ভাবে।তারপর বলে উঠে,
“ না তো পাই না।”

রিঝ হাসে।হাঁটতে হাঁটতে বলে,
“ চলো।”
“ কোথায় যাবো??”
“ গেলেই দেখতে পাবে।”
“ বললে কি হয়??পরে দেখা যাবে আমাকে আপনার পছন্দের পাহাড় থেকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দিবেন।”
“ আমি??”
“ আপনি নয় তো কে??আপনার যেমন এই সারা পৃথিবীতে একজন শত্রু আছে।আমারও।”
“ তা আমার শত্রুটা কে??”
“ আমি ছাড়া আর কে!ফেলে তো দিতেই পারেন।”

রিঝ তর্কে গেলো না।তুতুল হাঁটে রিঝের একদম বা পাশটা ঘেঁষে।হোটেলের বাহিরের পথ ফেলে রিঝ পিছনের দরজার দিকে যায়।তুতুল পিছনে পিছনে যায়।তুতুল নিরব নীরব থাকতে একদমই পারে না।তার উপরে রিঝের সাথে তো আরো না।রিঝ খুব চুপ।সে চুপ থেকে অনেক দিন পার করে দিতে পারবে।কথা বলা তার বেশি পছন্দ না।কাজের কথা হলে চলে।কিন্তু কাজ না থাকলে কথা বলার কোন মানে খুঁজে পায় না সে।তুতুল রিঝের গায়ের সাথে ধাক্কা খায়।একদম লেগে লেগে চলছে।রিঝ চোখ বাঁকা করে তাকায়।তুতুল সরে হাঁটে।একটা গেট খোলা।এতো সকালে!তুতুলের মনে হচ্ছে রিঝের জন্যই খোলা।তুতুল হাঁটছে কম প্রশ্ন করছে বেশি।রিঝ উত্তর দিচ্ছে কম হাঁটছে বেশি।মাঝে মাঝে দাড়িয়ে যাচ্ছে।তুতুল বেশি পিছিয়ে যাচ্ছে তাই।একটা জায়গায় এসে দাড়ায় দু’জনেই।তুতুল চারপাশে দেখে।হালকা অন্ধকার অন্ধকার।ধৌয়ার মত উড়ছে সাদা কিছু।ঠান্ডার সাথে কি মিষ্টি একটা গন্ধ!!তুতুল বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করে,
“ কিসের ঘ্রান রিঝ ভাই??”
“ ফুলের,মেঘের,কুয়াশার আর পাহাড়ের।”

তুতুল আরো অবাক হলো।নাক টেনে ঘ্রান নিতে নিতে বলল,
“ পাহাড়ের আবার ঘ্রান আছে নাকি??আর মেঘ কই??এগুলো তো সব কুয়াশা।”

রিঝা হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“ এগুলো সব মেঘ।এটা মেঘের রাজ্য।কুয়াশার তেমন পাত্তা নেই এই দিকে।হাতটা ধরো।”
“ কেনো??”
“ কারণ এখন নিচে নামবো।”

তুতুল আঁতকে উঠে।বলে,
“ কি বলেন??নিচে তো গর্ত!!একবার পড়লে কবরে!”
“ সেটা আমি দেখবো।হাত না ধরলে সত্যি কবরে চলে যাবে।”

তুতুল জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিয়ে রিঝের বাড়িয়ে দেওয়া হাতে নিজের হাত রাখে।রিঝ হাতটা শক্ত করে ধরে।হাঁটতে হাঁটতে বলে,
“ নামার সময় নিচের দিকে তাকাবে না।”
“ কেনো??”
“ তাকাবে না মানে তাকাবে না।হাত শক্ত করে ধরবে।ছাড়বে না।চলো।”

তুতুলের নিচে তাকাতে ইচ্ছে করে।রিঝের কথায় আর তাকায় না।রিঝ চিকন একটা রাস্তা ধরে হাটে।মাটির ছোট পাহাড়ি রাস্তা।তুতুল চারপাশ দেখে।সবুজ আর সবুজ।দুনিয়ার সব সবুজ রং বুঝি এই শহরের বুকেই ঢেলে দিয়েছে কেউ।দূরে দূরে পাহাড় দেখা যাচ্ছে।ছোট ছোট ঢেউ খেলানো পাহাড় দেখে তুতুল বিস্ময়ের সাথে মুগ্ধ।এই পাহাড় গুলো আরো সুন্দর।পাহাড়ের রূপ বুঝি এতো সুন্দর হয়!!একটু নিচে একটা জায়গায় এসে রিঝ হাত ছেড়ে দেয়।ঘাসের সমতল ছোট পাহাড়।তুতুল হা করে এক জায়গায় দাড়িয়ে ঘুরে ঘুরে দেখে।পাগল করা দৃশ্য।সবুজের বুকে সাদা।ঘন সবুজে চারপাশ ঢেকে আছে।স্তুপের মতো সবুজ।তুতুল পাগল হয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের রূপে।পূর্ব পাশের পাহাড় থেকে লাল লাল আভা আসছে।সূর্য উঠছে।ঘন সাদা হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো মেঘ ধীরে ধীরে জমছে পাহাড়ের মাথায়।কালছা সবুজের মাথায় সাদা মুকুট।ঘ্রান আসছে চারপাশ থেকে।পাহাড়ি ফুলের ঘ্রান।তুতুল আরো নিখুত ভাবে দেখে।পাশেই সাদা সাদা ঝুমকো ঝুমকো ফুল।নাম জানে না তুতুল।বন্য ফুল।এদের গন্ধ এতো মধুর!!তুতুল হতবাক হয়ে শুধু দেখে।নয়নজোড়া মুগ্ধতার চরমে আছে।সারা শরীরে ঠান্ড হওয়া।দূর দূর পাহাড়ে একটা দুইটা মাচাং ঘর।কি সুন্দর লাঠির উপরে তৈরি ঘর।কিভাবে সম্ভব??দূরে পাহাড়ের মাঝ ঘেঁষে বয়ে চলছে নদী।সাঙ্গু নদী।সবুজের মাঝে সে যেনো আরো সুন্দর হয়ে বয়ে চলছে।তুতুল হুট করেই রিঝকে জড়িয়ে ধরে।রিঝ ভারী অবাক।কিন্তু হাসে।কিছু বলে না।ধরেও না।তুতুল নিজেই ছেড়ে দেয়।খুশিতে আত্নহারা হয়ে বলে,
“ চমৎকার সব।

রিঝ মৃদূ হেসে বলল,
“ হুম।তাই তো এর প্রেমে আমি পাগল।”

তুতুল ঘুরে ঘুরে দেখে রিঝের হাত চেপে বলল,
“ আমিও পাহাড়ের প্রেমে পড়ে যাচ্ছি রিঝ ভাই।”

রিঝ হাসলো।কিছু বলল না।তুতুল দেখছে প্রান উজাড় করে দেখছে।সাদা সবুজে অদ্ভুত সুন্দর সব।যেনো মুহূর্তে মানুষকে নিজের রূপে পাগল করতে পারবে।এতোটাই গভীর এর ক্ষমতা।পায়ের নিচে সবুজ ঘাস।সামনে সবুজ পাহাড়।মাথার উপটা সাদা।সব মিলিয়ে তুতুল ফিদা।ধপ করে বসে পরে সে।রিঝ ঘাসে শুয়ে পড়ে।পিছনে হাত দিয়ে সেখানে মাথা রাখে।চোখ রাখে দূরের পাহাড়ে।তুতুল দ্রুত বলে উঠে,
“ জ্যাকেট ভিজে যাবে তো।”

রিঝ মৃদু হাসলো।তুতুলের চোখে সব সবুজ।হাসি দেখার সময় কই।রিঝ বলল,
“ পাহাড়ের বুকে ভিজতে না পাড়লে আসল আনন্দই তো পাওয়া হবে না।মেঘ ভিজিয়ে দিবে এটাই স্বাভাবিক।মেঘ ধরবে??”

তুতুল বিস্মিত হয়ে তাকালো।বলল,
“ কিভাবে??”
“ হাতটা বাড়াও।”

তুতুল সত্যিই হাতটা বাড়িয়ে দিলো শূন্যে।গরম তালুতে ঠান্ডা পরশ!কি আশ্চর্য!সত্যিই তো !!তাহলে কি সে মেঘের রাজ্যে ভাসছে!
“ এবার ঘাসে হাত দেও।”

তুতুল দেখলো ঘাস ভিজে চুপ চুপ হয়ে আছে।রিঝ হাসলো।প্রথম যখন সে এসব দেখেছিলো সে তো আরো পাগলামি করেছিলো।উত্তেজনায় পাগল পাগল লাগছিলো নিজেকে।রিঝ হাসির রেখা দীর্ঘ করে বলল,
“ এবার উপরে তাকাও।”

তুতুল উপরে তাকাতেই বিন্দু বিন্দু পানি তার মুখে পড়া শুরু করে।তাদের মাথার উপরে বিশাল গাছ।নাম না জানা গাছ।গোলাপি ফুল।তুলোর মত ফুল।ঝড়ে পড়ছে একটা দুইটা করে।তুতুলের মুখের উপরে।গালে।চুলে আটঁকা পড়ছে সেই ফুলের কমল পাঁপড়ি।তুতুল চেঁচিয়ে উঠে,
“ মেঘ! সত্যি আমি মেঘ ছুঁয়ে দিতে পেরেছি!!ওয়াও আল্লাহ্!!আমিও ভিজবো।”

রিঝ মাথার নিচে হাত রেখে শুয়ে পরে অন্ধকার একটু একটু করে কেঁটে যাচ্ছে।রিঝ শুয়ে থেকে বলল,
“ কাল বৃষ্টি হবে।”

তুতুল ভারী অবাক!উনি কি সর্বজান্তা??রিঝ চোখ বুজে নিয়ে বলল,
“ ধারণা করছি হবে।মেঘ যেহেতু এসেছে বৃষ্টিও আসবে।”
“ কাল কেনো??আজ নয় কেনো??”
“ মেঘ হালকা।আজকে অল্প হলেও হতে পারে আবার নাও হতে পারে।আমি অনেক আগে থেকে এখানে আসি তাই জানি।”

তুতুল চারপাশে দেখে।ঘাসের বুকে ছোট ছোট ফুল।তুতুল কুড়িয়ে নেয় সেই ফুল।রিঝকে দেখাতে আসে।এসে সে অবাক!রিঝ ঘুম!!সূর্য তখন লাল হয়ে উঠছে।তুতুল সামনে তাকায়।রক্তাক্ত সূর্যের আগমন দেখে সে চমকিত হয়ে তাকিয়ে থাকে।এমন দৃশ্য সে আগে দেখেনি।এতো সুন্দর সূর্যের আগমন হতে পারে??তার তো জানাই ছিলো না।লাল সূর্যের কিরন এসে পড়ছে রিঝের মুখমন্ডলে।ঘুমন্ত রাজপুত্র মনে হচ্ছে তাকে।তুতুল কিছুক্ষণ অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে থাকে।তারপর গুটিশুটি মেরে রিঝের পাশে শুয়ে পড়ে।শালটা রিঝের মুখের উপরে দেয়।মেঘেরা যাতে তার মুখে বর্ষণ হতে না পারে।তুতুলও চোখ বুঝে।কেমন যেনো শান্তি শান্তি অনুভব হচ্ছে!দুনিয়ার কোনো চিন্তা নেই।ভয় নেই।শুধু শান্তি।শীতলতা!ঘুম যেনো আবেশে চোখে এসে ধরা দিচ্ছে!ঠান্ডা,নরম, তুলতুলে অনুভুতি হচ্ছে।তুতুল নিজের অজান্তেই রিঝের শক্ত বাহুতে মাথাটা রাখে।বালিশের মত নরম না হলেও তার আরাম অনুভব হচ্ছে।যেন, খুব যত্নের,কোমল,নিরাপদ জায়গায় তার স্থান হয়েছে।এটাই কি সেই না পাওয়া ভালোবাসার স্থান?ভালোবাসা কি নিরাপত্তা দেয়?

#

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here