খড়কুটোর বাসা ২ পর্ব -১০

#খড়কুটোর_বাসা_২
#পর্বঃ১০
#Jhorna_Islam

এইই যুথি কি হয়েছে তোমার?

যুথি ইরহানের বুকে মাথা ঠেকিয়ে পরে আছে। হাত পা কাঁপছে।

কি হয়েছে বলোতো? খারাপ লাগছে? এমন করে কাপছো কেনো? যুথি কে ইরহান প্রশ্ন করে পরমুহূর্তেই কিছু একটা মনে পরে যাওয়ার ভঙ্গিতে বলে উঠে,, তুমি কি আমাকে দেখে কাপছো?

আমাকে দেখে কি হুট করে ভ’য় পেয়েছো? শান্ত হও আমিই তো। আচ্ছা বাবা আমি না হয় চলে যাচ্ছি তবুও এমন করে মৃ/গী রোগীর মতো কাঁপা কাঁপি বন্ধ করো।

যুথি এবার ইরহানের পিছনের শার্ট খা’মচে ধরে। নন-না কোথাও যাবেন না আপনি।এখানেই থাকবেন।

ইরহান যুথি কে নিয়ে বিছানায় বসে। এর মধ্যে মাগরিবের আজান দিয়ে দেয়। যুথি নিজেকে ঠিক করার চেষ্টা করে উঠে দাঁড়ায়।

আরে উঠছো কেন? চুপচাপ এখানে বসো।স্বাভাবিক হওনি এখনো পরে যাবা।

রোজা রেখেছি।আজান দিয়ে দিয়েছে ইফতার করবো তো।অন্তত পানি তো খেতে হবে।

কিহ? রোজা রাখছো? কিন্তু এখন কিসের রোজা?

যুথি এবার কিছু টা লজ্জা পেয়ে গেলো।মিনমিনিয়ে বলল আসলে আপনি যেন ঠিক ঠাক ভাবে আসতে পারেন তার জন্য ঐ ইয়ে মানে রেখেছি আর কি।

বাহ বউ আমার সহি সালামত আসতে পারি সেজন্য রোজা রেখেছে। কিন্তু আমাকে দেখে আবার কাঁপতে কাঁপতে অজ্ঞান ও হয়ে যেতে নিয়েছিলো।

মো-মোটেও না।

থাক, এবার তারাতাড়ি পানি খাও। আর তোমার খাবার কই? ফল-টল কেটে রাখোনি?

হ্যা রেখেছিতো।পানি খেয়ে যাচ্ছি তারপর খেয়ে নিবো।

আর যেতে হবে না। কোথায় আছে বলো আমি নিয়ে আসছি।

আপনাকে আনতে হবে না।আপনি জামা কাপড় বদলে হাত পা ধুয়ে বিশ্রাম নিন।

তুমি চুপ থাকো। পানি খাও আমি আসছি। বলেই ইরহান দরজা খুলে বের হতে নেয়। এরই মধ্যে দেখতে পায় দিনা আসছে।ইরহান হাসি মুখে কিছু বলতে নিবে তার আগে দিনাই বলে উঠে,, দুলাভাই এটা আপুর জন্য দাদি দিয়েছে। প্লেট টা ইরহানের হাতে ধরিয়ে দিয়েই দিনা দৌড়ে চলে যায়।

ইরহান আর কিছু না ভেবে প্লেট টা এনে বিছানায় রাখে।যুথি কে চুপচাপ বসে খেতে বলে ইরহান বাথরুমে ঢুকে যায়।

হাত মুখ ধুয়ে এসে ইরহান বসার ঘর এসে দেখে তাছলিমা বানু আর লিমা লাগেজ গুলো নাড়াচাড়া করছে। খোলার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না।

কি করছো তোমরা? জানতে চায় ইরহান।

ইরহানের গলা শুনে লিমা বেশ ঘা’বড়ে যায়।সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।আমতা আমতা করে বলে কিছু না ভাইয়া। আসলে লাগেজ গুলো দেখছিলাম আরকি হেহে।

ইরহান ওদের আর কিছু না বলে বসার ঘর থেকে নিজের লাগেজ টা নিয়ে আসে।ঐ লাগেজ গুলো ইশান কে বলে যেন এনে ইরহানের রুমে দিয়ে যায়। ইশান কথা মতো সবগুলো লাগেজ ইরহানের রুমে দিয়ে যায়।

তাছলিমা বানু, লিমা,ইরহানের বাবা সকলেই লাগেজ খোলার অপেক্ষায় বসে ছিলো।কিন্তু ইরহানের করা এমন কান্ডে সবারই মন ক্ষুন্ন হয়। ওরা মুখিয়ে আছে ওদের জন্য কি এনেছে তা দেখার জন্য। আর ইরহান কি না সব লাগেজ তার রুমে নিয়ে রাখতে বলছে।

কিছু বলতে নিবে তাছলিমা বানু তার আগেই ইরহানের দাদি আটকে দেয়। এতো তারা কিসের তাছলিমা? মুখ দেখে মনে হচ্ছে সহ্য হচ্ছে না। এতোগুলা লাগেজ যখন এনেছে নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য এনেছে। আমার নাতির সব দিকেই ন’জর থাকে। এতোসময় অপেক্ষা করতে পেরেছো আর একটা রাত অপেক্ষা করতে পারবে না?

গিয়ে হাতমুখ ধোও। তারপর এসে খাবার দাও সকলকে।আজ একটু তারাতাড়ি ই খেয়ে নিবো সকলে।এমনিতেই সকলে খুব ক্লান্ত।

ইরহান রুমে এসে নিজের লাগেজ খুলতে থাকে
যুথি সেটা দেখে বলে,, দিন আমি খুলে জামা বের করে দেই।

এটুকু আমিই পারবো।তারপর ইরহান একটা টি-শার্ট আর টাউজার পরে আসে।এসে দেখে যুথি এখনো প্লেট নিয়ে বসে আছে।

এখনো এই কয়েক টুকরো ফল নিয়েই বসে আছো?

খেতে পারছি না।

এটা পারবে কেন? পারো তো শুধু কাঁপা-কাঁপি করতে।

আপনি খান না আমার সাথে।

সেটা তো খেতেই পারি।যদি কেউ খাইয়ে দেয়।কিন্তু আবার না খাইয়ে দিতে গিয়ে একটু আগে যতটুকু বাকি ছিল ততটুকু শেষ করে।

কি?

অজ্ঞান হওয়া।একটু আগেতো হতে হতে হও নি।এখন আবার খাইয়ে দিতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাবে না তো?

ধ্যাত আপনি আমার সাথে মজা নিচ্ছেন?

ইরহান আর কথা না বাড়িয়ে নিজেই প্লেট থেকে দুই টুকরো ফল নিয়ে খায়।তারপর রুম থেকে বের হয়ে দাদির রুমে চলে যায়। অনেক সময় ধরে দাদির সাথে আড্ডায় মশগুল হয়।সাথে গিয়ে ইশান আর দিনা ও যুক্ত হয়।

রাত আটটার দিকে যুথি গিয়ে সকলকে ডেকে আনে খাওয়ার জন্য। খেতে বসে ইরহান খাবারের আইটেম দেখে পুরাই অবাক। তার উপর সব তার পছন্দের।

বুঝলি দাদু ভাই সব কিন্তু তোর বউ তার ভালোবাসা দিয়ে রান্না করেছে তোর জন্য। ইরহান চোখ উঠিয়ে যুথির দিকে তাকায়। তখন যুথি ও ইরহানের দিকে তাকিয়ে ছিলো।দুইজনের ই চোখাচোখি হয়ে যায়। ইরহান গলা খেঁকারি দিয়ে বলে সবই ঠিক আছে। কিন্তু যুথি তুমি এতোকিছু রোজা রেখ কেন করতে গেছো?

খান আপনি। আমার করতে কোনো সমস্যা হয় নি। তাছলিমা বানু, লিমা,ইমন,দিনা,ইশান সকলেই বসে পরেছে খাওয়ার জন্য। যুথি নিজ হাতে বেড়ে দিচ্ছে।

ইরহান যুথি কে ও ওদের সাথে বসে পরতে বলে,যুথি সম্মতি জানিয়ে বসতে যাবে।এমন সময় তাছলিমা বানু বলে উঠে বেড়ে দিচ্ছে দিক না।আর তাছাড়া নিজের স্বামী খেয়ে বেশি হলে বউদের খাওয়া উচিত। তাছলিমা বানু ভাবছে ইরহান হয়তো উনার কথা শুনে খুশি হবে। কিন্তু ইরহানের কথা শুনে তাছলিমা বানুর গলায় খাবার আঁটকে যায়।কাশতে থাকে।

তাই নাকি? তো আপনি আর ইমনের বউ কেনো বসে পরেছেন নিজেদের স্বামীর সাথে খেতে। নাকি আমার বউয়ের জন্য শুধু কথাটা বলেছেন?

তাহলে শুনে রাখুন আমার বউ কে আমি খেয়ে বেশি হলে তারপর খেতে হবে না। তার গুরুত্ব আমার কাছে সব সময় আমার ও উপরে থাকবে।যদি কখনো দরকার হয় তাহলে আমার বউ খেয়ে বেশি হলে তবেই আমি খাবো।

ইরহানের কথা শুনে যুথির মনটা ভালো লাগায় ভরে গেছে।
সকলেই চুপচাপ খাওয়া শেষ করে। ইরহান ফাঁক বুঝে যুথির হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বলে আজ বহু বছর পর নিজের পরম আপন জনের ভালোবাসা দিয়ে রান্না করা খাবার খেলাম।মন আর পেট দু’টোই তৃপ্তি তে ভরে গেছে। বলেই ইরহান নিজের রুমে চলে যায়। যুথি ইরহানের যাওয়ার দিকে তো আরেকবার নিজের হাতের দিকে তাকায়।

সব কিছু গুছিয়ে রাখতে রাখতে কিছু টা রাত হয়ে যায়। এরমধ্যে যুথি ইচ্ছে করেই একটু দেরি করে কাজ সম্পন্ন করেছে। বু’কে থু থু দিয়ে রুমের দিকে এগিয়ে যায়। আস্তে করে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে দেখে ইরহান ঘুমিয়ে গেছে। কতোটা পথ জার্নি করে এসেছে। তাই হয়তো যুথির জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে ও পারে নি। যুথি মুচকি হেসে ইরহানের পাশে শুয়ে পরে। ইরহানের মাথার এলোমেলো চুল গুলো তে হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।

—————————-
তাছলিমা বানু আর লিমার মুখ দেখে যেকেউ বলে দিতে পারবে রাতে তাদের ঘুম হয়নি।আর বাড়ির লোকজন এটা খুব ভালো করেই জানে তাদের ঘুম না হওয়ার কারণ।

ইরহান সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়েই তাই সকলকে নিজের রুমে ডেকে পাঠায়।

তারপর একটা লাগেজ খুলে ঐখান থেকে স্বর্ণের বক্স বের করে। প্রথমে ইরহানের দাদি কে একটা মোটা চেইন দেয়।উনি অবশ্য নিতে চায় নি বুড়ো বয়সে এসবের কি দরকার? ইরহান তবুও জোর করে নিজের হাতে দাদি কে পরিয়ে দেয়।তারপর তাছলিমা বানু আর লিমা কে ও একটা করে চেইন দেয়। দিনা কে ও বাদ দেয়নি।

তাছলিমা বানু আর লিমা চেইন পেয়ে খুশি হলেও মুহূর্তের মাঝে মুখটা চুপসে যায়।যখন ইরহানের হাতে বড় একটা বাক্স দেখে স্বর্ণের, ঐটা পুরো সেট হাতের বালা থেকে শুরু করে গলার হার,কানের দুল সবই আছে।

লিমা,আর তাছলিমা বানু লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তাছলিমা বানু মনে মনে চাইছে এটা যেনো উনাকে দেয় ইরহান।

#চলবে,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here