গোধূলি বেলায় তুমি পর্ব -০৩

#গল্প_গোধূলি_বেলায়_তুমি
#Writer_Ritu_Bonna
#পর্ব_৩

আদ্রিজার মুখে আবারও সাফিনের নাম শুনে আভিয়ানের রাগ উঠে গেলো৷ সে ক্রোধের দৃষ্টিতে আদ্রিজার দিকে তাকিয়ে বললো,আর একবার যদি সাফিনের নাম মুখে আনো তবে কিন্তু অনেক খারাপ হবে,,,

আদ্রিজা আভিয়ানের দৃষ্টি আর রাগ উপেক্ষা করে তাচ্ছিল্য করে বলে, এর থেকে আর কি খারাপ হওয়ার আছে।আমি একবার নয় হাজার বার বলবো,,, সাফিন, সাফিন, সাফিন দেখি আপনি কি করতে পারেন।

আদ্রিজার কথা শুনে আভিয়ানের রাগটা আরোও বেড়ে যায়। রাগে তার চোখ- মুখ পুরো লাল হয়ে যায়।সে চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে আদ্রিয়ার মুখ চেপে ধরে। আভিয়ানের চেপে ধরায় আদ্রিজার গাল পুরো লাল হয়ে যায়। ব্যাথ্যায় তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরে। আদ্রিজার চোখের পানি দেখে আভিয়ানের বুকের ভেতরটা ছ্যাঁট করে উঠে। সে সাথে সাথে তার হাত সরিয়ে নেয়। অপরাধী স্বরে বলে,, তোমাকে না করেছিলাম আমাকে রাগিও না। তুমি ভালো করে জানো রেগে গেলে আমি তখন আর নিজের মাঝে থাকি না তবে কেন রাগাও আমাকে।আদ্রিজা কিছু না বলে ঘৃণায় নিজের চোখ সরিয়ে নেয়।

আভিয়ান আদ্রিজার জন্য খাবার নিয়ে আসে। টেবিলের উপর খাবার রেখে সে আদ্রিজার হাত আর পায়ের বাঁধন খোলে দেয়। আদ্রিজা নিজেকে মুক্ত অবস্থায় দেখে খুশি হয়। আভিয়ান খাবারের প্লেটটা আদ্রিজার সামনে দিয়ে বলে,,, খেয়ে না।

আদ্রিজা প্লেটটা হাত দিয়ে দূরে সরিয়ে রুক্ষ স্বরে বলে,, খাবো না। আমাকে যেতে দিন।

আভিয়ান শান্ত স্বরে বলে, ‘ ভালো করে বলছি খেয়ে নাও নয়তো আমি জোর করে খাওয়াবো।’

আদ্রিজা জোরে চিল্লিয়ে বলে আমি যখন বলছি খাবো না তো খাবো না।আপনার মতো লোকের কোন বিশ্বাস নেই। হয়তো খাবারের ভিতরে কিছু মিশিয়ে রেখেছেন যাতে পরে আমার সুযোগ নিতে পারেন। আমাকেও অন্য মেয়েদের মতো ভোগ করতে পারেন৷

আদ্রিজার কথা শুনে আভিয়ানের চোখের কোনায় অশ্রু ছলছল করতে লাগলো। সে অন্যদিকে ফিরে হাত দিয়ে তা মুছে নিল। পরে হাত ধুয়ে নিজেই খাবার মেখে আদ্রিজার মুখের সামনে ধরলো। আদ্রিজা অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিল।আভিয়ান শান্ত স্বরে বললো খেয়ে নাও। আভিয়ান জোর করে আদ্রিজাকে এক লোকমা খাইয়ে দিলো। হঠাৎ এমন হবে তা আদ্রিজা বুঝতে পারে নি। সে মুখ থেকে থু করে খাবার ফেলে দিলো আর খাবারের প্লেটটা মেঝেটে ফেলে দিলো।

আদ্রিজার এই কাজে আভিয়ান আর চুপ করে থাকতে পারলো না। সে আদ্রিজার গালে চর বসালো৷ আদ্রিজা ব্যাথ্যায় আর অপমানে কাঁপতে লাগলো। সে রাগে চিল্লিয়ে বললো আগে তো শুধু চরিত্রহীন ছিলেন এখন তো কাপুরষও হয়ে গেছেন। ছিঃ কথায় কথায় মেয়েদের গায়ে হাত তুলতে লজ্জা করে না। কি ক্ষতি করেছি আমি আপনার। কিসের প্রতিশোধ নিচ্ছেন আমার থেকে।

আভিয়ানের নিজেরই খারাপ লাগছে আদ্রিজার গালে চর মেরে। আসলে সে এমনটা করতে চায়নি কিন্তু রাগটা কন্ট্রোল করতে পারেনি।কেউ এক বেলা খাওয়ার জন্য কত পরিশ্রম করে। সারাদিন খেতে পর্যন্ত পায় না।আর কেউ পেয়ে তা নষ্ট করে। যা সে পছন্দ করে না। সে কিছু না বলে চুপচাপ রুম থেকে বেরিয়ে যায়।

আভিয়ানকে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে দেখে আদ্রিজা স্বস্তির নিশ্বাস নেয়। সে এখান থেকে পালানোর রাস্তা খুঁজতে থাকে। সে বসা থেকে উঠে এসে দরজার কাছে আসে। দরজা খোলার অনেক চেষ্টা করে কিন্তু আভিয়ান দরজা বাহির থেকে বন্ধ করে যায় তাই খোলতে পারে না। সে চিল্লিয়ে বলে,,, বাহিরে কেউ আছেন??? দরজাটা খোলে দিন প্লিজ,,, কিন্তু বাহির থেকে কোন আওয়াজ আসে না সে ইচ্ছে মতো পা দিয়ে দরজায় লাঠি দেয় কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয় না। অবশেষে কোন পথ না পেয়ে সে কান্ত হয়ে আবার আগে জায়গায় এসে বসে। তার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়তে লাগলো। তিন বছর আগের পুরোনো ক্ষত আবারও তাজা হয়ে উঠলো। আভিয়ানের উপর তার রাগ আর ঘৃণাটা আরোও বাড়তে থাকে।

৬.
রাতের আধার কেটে চারিদিকে ভোরের আলো ফোঁটেছে। কিন্তু আদ্রিজার পরিবারে এখনো আমাবস্যার ঘন কালো অন্ধকার বিরাজ করছে। নিজের আদরের মেয়েকে হারিয়ে আদ্রিজার মা অসুস্থ হয়ে গেছে। সারারাত কান্না করতে করতে ওনার চোখ-মুখ অনেকটা ফোলে গেছে। আহসান হোসেন নিজেকে শান্ত রাখার অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু পারছেন না। অনেকবার পুলিশ স্টেশনে ফোন করেছেন কিন্তু পুলিশ কোন খবর দিতে পারে নি। শুধু চেষ্টা করছি বলেই তারা ফোন কেটে দেন।

আয়ানও নিজের আদরের বোনকে খোঁজার অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু কোথাও তাকে খোঁজে পাচ্ছে না। নিজেকে এখন তার বড্ড অসহায় বলে মনে হচ্ছে। কেমন ভাই সে যে নিজের একমাত্র বোনের খেয়াল রাখতে পারলাম না। এখন যদি তার কিছু হয়ে যায় তবে মাকে মুখ দেখাতে পারবো না। পারবে না নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে।

সাফিন অনেক চেষ্টা করেও এখনো আদ্রিজা আর আভিয়ানের কোন খোঁজ পাচ্ছে না।এখন তার নিজের উপরই অনেক রাগ হচ্ছে। কি লাভ হলো তার এতো ক্ষমতা আর টাকা দিয়ে যখন একটা মেয়ের খোঁজই করতে পারছে না।

আহসান হোসেন সাফিনকে কল দেয়। দুই-তিনবার
কল দেওয়ার পরে সাফিন কল রিসিভ করে।

,,,আহসান হোসেন চিন্তত হয়ে জিজ্ঞেস করে কোন খোঁজ পেয়েছো আদ্রিজার????

সাফিন কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলে খোঁজ পেলে আপনাকে জানাবো আঙ্কেল। আমি এখন ব্যস্ত আছি বলে ফোন কেটে দেয়।

আহসান হোসেন কিছুটা অপমানিত বোধ করেন সাফিনের আচরণে। পরে তিনি ভাবেন এটা স্বাভাবিক।আদ্রিজার কোন খোঁজ পাচ্ছে না তাই চিন্তায় হয়তো এভাবে কথা বলেছে।

৭.
দরজা খোলার আওয়াজে আমার ঘুম ভাঙলো। রাতে ফ্লোরে ওইভাবে শুয়ে ছিলাম কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি তার খেয়াল নেই। চোখ খোলার চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না। না খেয়ে আর কান্না করে মাথাটা অনেকটা ভারী ভারী লাগছে। তখন বুঝিনি এখন ভালো করেই বুঝতে পারছি পাও ব্যাথ্যায় ফোলে গেছে। উঠার বিন্দু পরিমাণ শক্তি পাচ্ছি না। তবুও অনেক কষ্ট করে উঠে বসলাম।
.
.
.
চলবে,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here