গোধূলি বেলায় তুমি পর্ব -০৮

#গল্প_গোধূলি_বেলায়_তুমি
#Writer_Ritu_Bonna
#পর্ব_৮

ফোন অন করতেই দেখে পাসওয়ার্ড দেওয়া। আর সে তো আভিয়ানের পাসওয়ার্ড জানে না তাই আবারও তার মন খারাপ হয়ে যায়। সে ফোন হাতে নিয়েই এক ধ্যানে বাহিরের দিকে তাকিয়ে থাকে।হঠাৎ করে তার আভিয়ানের বলা একটা কথা মনে পরে,,,,

আভিয়ানের আমার প্রতি করা পাগলামি গুলো দেখে আমিও ধীরে ধীরে তার প্রতি দুর্বল হয়ে যাই। তাকে অন্য কোন মেয়ের সাথে হেসে হেসে কথা বলতে দেখলে একদম সহ্য করতে পারতাম না। একদিন এই নিয়ে তার সাথে আমার ঝগড়া হয় আর আমি তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেই। সেও প্রথমে রাগ করে আমার সাথে কথা বলে নি। পরে একদিন,,,,,,

অতীত,,,,,,

ক্লাস শেষ কলেজ থেকে আমি আর ইকরা ( আমার বেস্টু) কথা বলতে বলতে বাড়িতে যাচ্ছি। হঠাৎ করে পিছন থেকে আভিয়ান আমাকে ডাক দেয়৷ আমি শুনেও না শুনার ভান করে চলে যেতে থাকি। আমাকে চলে যেতে দেখে ইকরা একটু মজা করে বলে,,,, কি হলো তুই চলে যাচ্ছিস্ কেন?তোর বর তো তোকে ডাকছে।বেচারা তো তোর সাথে কথা বলার জন্য ছটছট করছে।।

আমি রাগে বলি,,, কিসের বর , হুমম। আমার সাথে কারো কোন সম্পর্ক নেই। আর একদিন যাকে তাকে আমার বর বলবি তবে তোর একদিন কি আমার একদিন।

ইকরা মুচকি হেসে বলে,,, হইছে বাবা। যা কথা বলে সব কিছুিটমাট করে নে,,, এখন রাগটা একটু কমা।একটা সামান্য বিষয় নিয়ে সম্পর্ক নষ্ট করা ঠিক না। আভিয়ান সত্যিই তোকে অনেক ভালোবাসে। তার চোখে তোর জন্য আমি সত্যি ভালোবাসা দেখেছি।

আমি রেগে রুক্ষ স্বরে বলি,, তোর কাছে এটা একটা সামান্য বিষয় হতে পারে আমার কাছে না। তুই একদম আমাকে উপদেশ দিতে আসবি না।

আমি আরোও কিছু বলতে যাবো তার আগেই আভিয়ান আমার সামনে এসে দাঁড়ায়। আমি তার পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলে সে আমার হাত ধরে ফেলে আর ইকরাকে ইশারায় বলে চলে যেতে। ইকরা চলে যেতে নিলে আমি তাকে বাঁধা দেই। কিন্তু ইকরা মুচকি হেসে বলে তোদের ঝামেলার মাঝে আমি নেই। তোরা থাক আর কিছু না বলে সে চলে যায়।

আমি রাগে রুক্ষ স্বরে বলি,,, হাত ছাড়েন। এটা কি ধরনের অসভ্যতামি। যখন তখন হাত ধরেন। আপনার সাথে আমি কোন কথা বলতে চাই না।

তুমি এতটা অবুঝের মতো আচরণ করছো কেন?? তুমি তো জানোই আমি শুধুই তোমাকে ভালোবাসি তবুও আমাকে নিয়ে ইনসিকিউর ফিল করো কেন?? তুমি কি আমাকে একটুও বিশ্বাস করো না বলো?? তোমার কি মনে হয় আমি শুধু তোমার সাথে টাইম পাস করছি??

আভিয়ানের কথা শুনে আমি তার দিকে তাকাই। তার চোখের দিকে তাকিয়ে আমি বুঝতে পারি তার কথাগুলো সত্যি। তার চোখে শুধু আমার জন্য ভালোবাসাই দেখতে পাচ্ছি। আমি কিছু না বলে চুপ করে আছি।

আমাকে চুপ করে থাকতে দেখে আভিয়ান কিছুটা গম্ভীর স্বরে বলে,,, কি হলো উত্তর দাও?? তোমার এই চুপ করে থাকা। তেমার এই অবহেলা আমি সত্যিই আর মেনে নিতে পারছি না। এই কয়দিন তোমার সাথে কথা বলতে না পেরে আমি বুঝতে পেরেছি আমি ঠিক কতটা তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। বিশ্বাস করো তোমার এই অবহেলা আমাকে ভিতর থেকে একদম শেষ করে দিচ্ছে।

আভিয়ানের কথা শুনে আমার চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। আমারও যে খুব কষ্ট হয়েছে এই কয়দিন তার সাথে কথা বলতে না পেরে। আমিও যে ভিতরে ভিতরে শেষ হয়ে যাচ্ছি তা কি করে বলবো৷ আমি কিছু না বলে তাকে জড়িয়ে ধরে বলি। আমি বিশ্বাস করি আপনাকে। কিন্তু মাঝে মাঝে আমার খুব ভয় হয় যদি আপনাকে হারিয়ে ফেলি। তখন আমি কিভাবে বাঁচবো। আপনি যদি আমার থেকে দূরে সরে যান তবে হয়তো আমি বেঁচে থাকতে পারবো কিন্তু কখনো আমি ভালো থাকতে পারবো না। হয়তো জীবিত লাশ হয়ে যাবো।বলেন কখনো আমাকে ছেড়ে যাবেন না। কাঁদতে কাঁদতে আমার হেঁচকি উঠে গেছে আমি আর কোন কথা বলতে পারছি না। শুধু কেঁদেই যাচ্ছি। আভিয়ানও কোন কথা বলছে না। আমাকে তার দুই হাত দিয়ে আগলে রাখছে। কান্না শেষ হতে যখন আমার খেয়াল হয় আমি এতক্ষন তাকে জড়িয়ে ধরে ছিলাম আমি তাড়াতাড়ি ওকে ছেড়ে দেই। লজ্জায় আমি এদিক – সেদিন তাকিয়ে আঙুলে উড়না পেচাতে থাকি।

আমার অবস্থা দেখে আভিয়ান মুচকি হেসে বলে,, লজ্জায় যখন তোমার গাল লাল হয়ে যায় মন চায় টুপ কামড় বসিয়ে দেই।

তার কথায় আমি আরোও লজ্জা পেয়ে যাই। পরে বলি,,,, ছিঃ। অসভ্য একটা। মুখে কিছুই আটকায় না।

আভিয়ান বাঁকা হেসে বলে,,, এখনো তো অসভ্যের মতো কিছুই করি নি তাতেই অসভ্য বলছো তবে তো কিছু করতে হয়।

আমি রাগ দেখিয়ে বলি,,, ভালো হচ্ছে না কিন্তু।

আচ্ছা আর মজা করবো না। এখন বলো আমাকে ক্ষমা করেছো??

আমি একটু মজা করে বললাম,,, না।

আমার কথা শুনে তার মুখ গম্ভীর হয়ে গেলো।চোখে পানি ছলছল করছে। তাকে এভাবে দেখে আমার মায়া হতে লাগলো। তাই হেসে বললাম আমি আপনাকে ক্ষমা করতে পারি একটা শর্তে??

আমার কথা শুনে তার মুখে চিন্তার বাজ পরে।সে মুচকি হেসে বলে,,, তোমার যে কোন শর্তে আমি রাজি। বলো কি শর্ত???

কথা দেন আমাকে কখনো ছেড়ে যাবেন না। সব সময় আমাকে এভাবেই ভালোবাসবেন,,,,

আমি কথা দিলাম তোমাকে কখনো ছেড়ে যাবো না। সারাজীবন শুধু তোমাকেই ভালোবাসবো। তুমি ছাড়া আমার জীবনে অন্য কেউ ছিল না আর আসবেও না।
আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি বন্যা। আজ থেকে আমার ফোন, ফেসবুকের পাসওয়ার্ড থাকবে আভিয়ানের বন্যা।

আমি হেসে বললাম,,,ওহ তাই।

আভিয়ান শান্ত স্বরে বলে,,, জি মহারানী। সারা জীবনের জন্য এটা থাকবে।

,,,,,,,,,,,,,

আমার মনের ভিতরে একরাশ ভয় আর অস্থিরতা কাজ করছিল।পাসওয়ার্ডটা যদি তা না হয় তবে আমার মনের ভিতরে যেটুকু আশা আর বিশ্বাস আছে তাও শেষ হয়ে যাবে। মনে মনে এটাই দোয়া করছি ফোন যাতে ওপেন হয়। আমি কাঁপা কাঁপা হাতে পাসওয়ার্ডটা দিলাম।পাসওয়ার্ডটা দিতেই ফোন ওপেন হয়ে গেলো। অদ্ভুত এক ভালো লাগা কাজ করছে মনের মাঝে। তবে কি সত্যিই আভিয়ান কোন ভুল করে নি। সত্যিই কি সে আমাকে ঠকায় নি?? কিন্তু নিজের চোখের দেখা, নিজের কানে শুনা কি করে ভুল হতে পারে। আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না। মাথাটা ধরে আসছে,,,,

আমি আর কিছু না ভেবে বাড়িতে ফোন দিলাম। সাথে সাথেই আব্বু ফোন রিসিভ করে বললো,,, কে বলছেন??

আব্বুর আওয়াজ শুনে আমি নিরবে কাঁদতে লাগলাম। আমার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না।

ওই পাশেও নিরবতা। কিছুক্ষন পরে আব্বু বললো,,,, কেমন আছিস্ মা???

আমি এবার জোরেই কেঁদে দিলাম। আব্বু ব্যস্ত হয়ে বলে,,, তোর কি হয়েছে?? তুই কোথায় আছিস্?? জানিস্ তোর মা তোর জন্য না খেয়ে সারাদিন কান্না করে অসুস্থ হয়ে গেছে। তুই কোন বিপদে পরেছিস্???

আমি কান্না থামিয়ে বলি,,, আব্বু আমি তোমাদের ছেড়ে একটুও ভালো নেই। এখানে প্রত্যেকটা মুহূর্ত শুধু তোমাদের কথাই মনে পরে। মাকে বলো আমার জন্য চিন্তা না করতে আমি খুব তাড়াতাড়ি তোমাদের কাছে চলে আসবো। আমি ফোনে তোমাকে সব কিছু এখন বলতে পারবো না?? সবার আগে বলো আমাকে তুমি বিশ্বাস করো তো???

আমি বিশ্বাস করি তোকে। আমি জানি তুই জেনে কোন ভুল করবি না। ইচ্ছে করে কখনো এমন কাজ করবি না যে আমাদের সম্মান নষ্ট হয়। এখন বল্,, তোকে কে জোর করে নিয়ে গেছে??? কি করে সব কিছু হলো??? তুই এখন ঠিক আছিস্???

সাফিন তোমাদের কিছু বলে নি???

না। সাফিন তো আমাদের কিছু বলে নি। সেকি জানে তুই কোথায় আছিস্??

আব্বুর কথা শুনে আমি কিছুটা অবাক হই। আমি ভেবেছি সাফিন হয়তো মা – বাবাকে আমার কথা বলেছে। কিন্তু সে তো কিছুই বলে নি।

আমাকে চুপ থাকতে দেখে বাবা আবার বলে,,, কি হলো কথা বল?? জানিস্ কাল তোকে খুঁজতে আয়ান বেড়িয়েছে এখনো ফিরে নি। আমি যে কি করি। পুলিশকে বলেছি তারাও কিছু করতে পারছে না।

আব্বুর কথা শুনে আভিয়ানের প্রতি আবারও ঘৃণা হতে লাগলো। সে এখনো আমার ভাইকে ছাড়ে নি। আমি আব্বুকে বললাম চিন্তা করো না। ভাইয়াকে খুব তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবে। আমাকে একটু সময় দাও আমি তোমাদের সব কিছু বলবো,,,,
এখন মাকে ফোনটা দাও,,,,

আব্বু মাকে ফোন দিলে আমি মার সাথে কথা বলি। আমার আওয়াজ শুনেই মা কান্না করে। কিছুক্ষন কথা বলে পরে বললাম ,, তুমি নাকি ঠিক মতো খাচ্ছো না?? আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েছো??

..
.
চলবে,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here