গ্যাংস্টার লাভ -২ পর্ব -০৭

#গ্যাংস্টার_লাভ (সিজন 2)
#নুসরাত_জাহান_অংকুর
||পার্ট_৭||

রিহা আনমনে বসে ভাবছে ওর আব্বুর সাথে আজকের ব্যাবহার কি ঠিক হয়েছে।সব কিছু গুলিয়ে যাচ্ছে কিন্তু ওর ও তো খারাপ লাগা ভালো লাগা আছে। বিয়ে দিলেই কি পর হয়ে যাবে বিয়ের পর একবারও খোজ নিলো।মনের গহীনে একরাশ অভিমান জমা হয়ে আছে।

বেশ কিছুক্ষণ পর রিহা উকি দিয়ে দেখে কেউ আছে কি না।এক পর্যায়ে হটাৎ নিচ থেকে রেহানের ডাক পড়ে।রিহা তাড়াতাড়ি বিছানায় গিয়ে বসে।

বেশকিছুক্ষণ ডাকাডাকির পর সব কিছু নিরিবিলি।রিহা আরো কিছুক্ষন বসে থেকে হটাৎ রেহান এসে রিহার পাশে বসে।রিহা মনে মনে নিজেকে ধাতস্থ করে নেয় রেহানকে কিছু কড়া কথা শুনানোর।রিহাকে বলতে না দিয়ে রেহান বলে

_” দেখো রিহা এটা তোমার আব্বু আর তোমার ব্যাপার ।আর আমি তোমাদের মধ্যে ঢুকতে চাই না এটা ঠিক দেখাবে না তবুও আমি বলবো শত্রু হলেও বাড়ি আসলে ফিরিয়ে দিতে নেই।আজ যে তোমার আব্বু চলে গেলো এতে কি আমাদের সম্মান থাকলো

রেহানের শেষের কথা শুনে রিহা উঠে দাড়িয়ে অস্থির কণ্ঠে বলে

_”আব্বু চলে গেছে মানে কি? আমার সাথে দেখা করলো না আর আপনারা কি করছেন

রিহা অস্থির হয়ে বাইরে যেতে গেলে হাতে টান অনুভব করে।রিহা ভ্রু কুচকে জানতে চায় হাত ধরলেন কেনো।রেহান স্মৃত হেসে বলে

_”রাগ,জেদ মানুষকে ধ্বংস করে দেয়।রাগ জেদের বশে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ভুল হয় আর হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত ভুল হয়।তাই কোনো কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটু ভেবে নিতে হয়। যখনই রাগ হবে তুমি মাটির দিকে তাকাবে।তাও রাগ না কমলে পানি পান করবা।তবুও যদি কাজ না হয় তাহলে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বে।

রিহা চুপ করে রেহানের কথাগুলো শুনছে।সত্যি এইসব কথা এইভাবে কেউ বুঝিয়ে দেয়নি।রিহা নিজেকে স্বাভাবিক করে রেহানের দিকে তাকিয়ে বলে

_”আমি আব্বুর সাথে কথা বলতে চাই।

রেহান হালকা হেসে মাথায় হাত বুলিয়ে বলে

_”কাল সকালে কথা বলে নিও।উনি হয়তো অনেক ক্লান্ত।নিচে চলো সবাই অপেক্ষা করছে।

_”আমি একটু একা থাকতে চাই প্লিজ ।

রেহান আর কিছু না বলে চলে যায়।রিহা ভাবতে থাকে

_” সত্যি তো রাগের বশে আজ আমি আব্বুর সাথে খারাপ ব্যাবহার করেছি। আম্মু মারা যাওয়ার পর আব্বুই তো আমার সব।কোনো সম্পর্কের মধ্যে যদি এগো চলে আসে তাহলে সেই সম্পর্ক নষ্ট হতে বেশিদিন লাগে না।আমি আর আব্বুর সাথে এমন করবো না।আমি যেমন ভুল করলে আব্বু ক্ষমা করে দিতো তেমনি আব্বু ভুল করলে আমারও তো দায়িত্ব আছে ।

রিহা নিজে নিজে বিড়বিড় করছে রেহান দরজার পাশ থেকে সরে নিচে চলে যায়।

রেহান কে নামতে দেখে বাঁধন আর লামিয়া বলে

_”কিহলো?রিহা কই?

রেহান সোফায় বসতে বসতে বলে

_”ওকে একটু একা ছেড়ে দেওয়া ভালো।নিজের সাথে বোঝাপড়া করার দরকার।এমন অনেক সত্যি আছ যেগুলো ওকে জানার দরকার আর সেই সত্যি জানার জন্য ওকে মেন্টালি প্রিপেইড থাকতে হবে।

লামিয়া রেহানকে বলে

_”আমার ছোট বোনরে মাথায় এত প্যাচ দেওয়া কি ঠিক হচ্ছে ।

লামিয়ার কথায় রেহান বাকা হাসি দিয়ে বলে

_”ছোট মাথা কাকে বলছো ?মাথা ছোট কিন্তু মাথার মধ্যে সারাক্ষণ জিলাপির প্যাচ থাকে।এটা শুনলে আজ রাতের খাওয়া শেষ।

সবাই হাসিতে ফেটে পড়ে।অনেকক্ষণ আড্ডা দিয়ে রেহান রিহাকে ডাকতে আসলে দেখে ঘুমিয়ে গেছে।রিহার কপালে ভালোবাসা দিয়ে রেহান পাশে শুয়ে পড়ে।

সকাল

রিহা ভার্সিটিতে যাবে কিন্তু রেহান যেতে দেবে না।রিহা তো নাছোড়বান্দা ও যাবেই মানে যাবেই।

রেহান রিহাকে বুঝাতে ব্যার্থ হলে ধমক দেয় তখন থেকে রিহা বারান্দায় বসে আছে দরজা লাগিয়ে।রেহান ও ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বাঁধনের সাথে কাজ করছে ।

বেশকিছুক্ষণ যাওয়ার পর রিহা একটা ফুলদানি আছার মারে কিন্তু এতে রেহানের কোনো মনোভাব নেই।রিহা এবার জোড়ে চিৎকার দেয়।

রেহান বাঁধন দুইজনে ছুটে আসে ।রিহাকে ডাক দিচ্ছে কিন্তু রিহার কোনো শব্দ নেই। রেহান ধাক্কা দিয়েই যাচ্ছে।

রেহান জোড়ে বাধনকে বলে

_”যা তো কিছু একটা নিয়ে আয় আজ দরজা ভাঙবো।

রেহানের বলতে দেরি বাধন চলে যায়।রেহান আবার বলে

_”বাধন গেছে।এবার দেখি তুমি কি করে ওখানে থাকো

রিহা আস্তে আস্তে দরজা খুলে দূরে দাড়িয়ে থাকে।রেহান ভিতরে ঢুকে দেখে রিহা কাচুমাচু হয়ে দাড়িয়ে আছে।

রেহান এক হাত বাড়িয়ে বলে

_”অনেক হইছে এখন তাড়াতাড়ি আসো।দেখি কোথায় লেগেছে ?

রিহা ঐভাবে দাড়িয়ে আছে ।রেহান ভাঙ্গা ফুলদানিতে জোড়ে একটা লাথি দেয়

_”দেখো আমার রাগ উঠিয়ে দিও না কেমন

রিহা আস্তে করে বলে

_”আমি ভার্সিটিতে যাবো

রেহান কপালে হাত দিয়ে বলে

_”তুমি কি বাচ্চা ?আমার তো মনে হচ্ছে একটা ছোট বাচ্চা অসুস্থ্য তাই তাকে স্কুল যেতে বারণ করছি আর সে জেদ করছে।রিহা একদিন না গেলে কি এমন হবে ?

রিহা ও জোর গলায় বলে

_”আজকে গেলে এমন কি হবে ?সবসময় আপনার কথা মত চলতে হবে আপনি আমার কোনো কথা শুনেন।

রিহার চোখ ভরে আসছে এক্ষুনি পানি পড়বে পড়বে ভাব।রেহানের খুব হাসি পাচ্ছে

_”হায়রে কপাল এখন এই বাচ্চাকে সামলাতে হবে।রেহান তুই তো গেছিস (মনে মনে)

রেহান নিজের মাথা চুলকিয়ে রিহার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলে

_”আচ্ছা এবার থেকে তোমার কথামত সব হবে।এখন তো আসো

রিহা গুটিগুটি পায়ে রেহানের কাছে এসে দাড়াতেই রেহান চেক করতে থাকে কোথায় লাগছে।

_”কোথায় লাগছে তোমার?বলো আমাকে এভাবে চিৎকার দিলে কেনো ?

রেহান ভালোভাবে দেখে কিছু না পেয়ে রিহার দিকে চোখ স্থাপন করে।রিহা ছলছল চোখে হাত দিয়ে বাম পাশে দেখিয়ে বলে

_”এখানে লেগেছে আমার ।

রেহানের খুব হাসি পাচ্ছে রিহাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে আর চোখের পানি ছেড়ে দেয়। রেহানের মুখে হাসি ।রিহা চোখের পানির মাধ্যমে সব অভিযোগ প্রকাশ করছে ।

রিহা ভার্সিটির জন্য বের হবে সেই সময় রেহান রিহাকে দাড়াতে বলে

রিহা বিরক্ত নিয়ে বলে

_”লেট হয়ে যাবে তো

রেহান কিছু না বলে ফোন বের একটা ছবি দেখায়।ছবিতে একটা ছেলে দাড়িয়ে আছে বেশ হ্যান্ডসাম।মুখে চাপ দাড়ি ।

রিহা ভ্রু কুচকে বলে

_”এটা কে ?

রেহানের মুখে হাসি ফুটে উঠে।রেহান রিহার চোখে হাত দিয়ে বলে

_”তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।চলো সামনে

রিহা কিছু বুঝতে পারছে না রেহানের হাত ধরে সামনে যেতে থাকে।

রেহান একটা জায়গায় এসে থামে।রিহার চোখের থেকে হাত সরিয়ে কিছুটা পিছিয়ে পকেটে হাত দিয়ে দাড়িয়ে থাকে।রিহা চোখ ডলতে ডলতে সামনে তাকিয়ে স্তব্ধ।

রিহা হা করে দেখছে সব যেনো ওর স্বপ্ন মনে হচ্ছে ।পিছনে তাকিয়ে রেহানকে দেখছে

রিহার চোখের ভাষা হয়তো রেহান পড়তে পেরেছে তাই মুচকি হেসে বলে

_”তোমার জন্য।পছন্দ হয়েছে ?

রিহা একবার ইসকুটি আর একবার রেহানের দিকে তাকাচ্ছে।রিহার হটাৎ মনে পড়ে কলেজে পড়ার সময় রিহা ওর আব্বুর কাছে আবদার করছিলো কিন্তু ওর আব্বু না করে দেয়।রিহার অনেক ইচ্ছা ছিল ।

সব মেয়েদের স্বপ্ন পূরণ তার আব্বু করে কিন্তু কিছু কিছু মেয়েদের স্বপ্ন পূরণ তাদের স্বামী করে।

রিহা দৌড়ে রেহানকে জড়িয়ে ধরে।রেহান নিজের ভালোবাসাকে বাহুডোরে আবদ্ধ করে বলে

_”কি ম্যাডাম পছন্দ হয়েছে ?এটা আপনার বাসরঘরের গিফট।সরি দেরি করে দেওয়ার জন্য

রিহা জড়িয়ে ধরেই বলে

_”খুব খুব খুব পছন্দ হয়েছে। আপনি কি করে জানলেন আমার ড্রিম ছিলো

রিহার মাথায় চুমু দিয়ে বলে

_”ভালোবাসি যে আর ভালোবাসার মানুষের এই টুকু আবদার জানবো না সেটা কেমন করে হয়।

পিছন থেকে কাশির আওয়াজ আসলে রিহা রেহান দুইজন ছেড়ে দেয়।

লামিয়া আর বাঁধন দাড়িয়ে আছে।লামিয়া হেসে বলে

_”যদি আপনাদের শেষ হয়ে থাকে তাহলে কি

রিহা চোখ রাঙিয়ে তাকাতেই লামিয়া চুপ হয়ে যায়।রেহান পকেট থেকে চাবি বের করে রিহার দিকে এগিয়ে দেয়।

রিহা চাবি নিয়ে লামিয়া কে বলে

_”যদি আপনাদের হয়ে থাকে তাহলে কি যেতে পারি

_”শয়তান আমার কথা আমাকেই ফেরত দিচ্ছিস।

দুই বান্ধুবী চলে যায় ।রেহান আর বাধন ওদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রুমে চলে যায়।

কাল রেহানের অনেক বড় একটা মিটিং।এই মিটিং ঠিক ভাবে হতে পারলে ওর কোম্পানির জন্য অনেক লাভ।নিজের বাবা দাদার কোম্পানির এত সহজে ডুবে যেতে দেখতে পারবে না।রেহান যখন পড়াশুনা করতে দেশের বাইরে যায় তার কয়েকবছর পর রেহানের আব্বু মারা যায়।রেহান তখন সব কিছু ছেড়ে ওর আব্বুর ব্যাবসা সামলায়।প্রথমে অনেক অসুবিধা হলেও সবার হেল্প করাতে রেহান ওর বাবার সাফল্য বজায় রেখেছে।

রিহা ভার্সিটিতে গিয়ে জানতে পারে ওদের নতুন প্রফেসর আজকে আসবে।সব স্টুডেন্ট তো সেই খুশি ।

অলরেডী সবাই সাজগোজ শুরু করে দিয়েছে নতুন প্রফেসর নাকি অনেক হ্যান্ডসাম।রিহা আর লামিয়ার ওইসব দিকে কোনো মাথা ব্যাথা নেই।ওদের লাইফে এমনি হ্যান্ডসাম আছে।

সব স্টুডেন্ট ক্লাসে বসে আছে।নতুন প্রফেসর কে ওয়েলকাম করার জন্য ক্লাস থেকে ৫জন স্টুডেন্ট নিয়েছে যারা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করবে।২জন ছেলে আর ৩জন মেয়ে।ভাগ্যক্রমে রিহা ওই ৫জনের মধ্যে পড়ছে ।রিহার খুব বিরক্ত লাগছে কোথায় পিছনে বসে সেলফি তুলবে।

রিহা বিরক্ত নিয়ে দাড়িয়ে আছে আছে একটু পর প্রফেসর আসলো।সবাই এক এক করে মালা পরিয়ে দিচ্ছে ।এদিকে রিহা লামিয়ার সাথে চোখে চোখে ঝগড়া করছে ।

হেডস্যার রিহাকে ডাক দিলে রিহা সামনে তাকিয়ে ভেবাচেকা খায়

রিহা তাকিয়ে আছে। লোকটার মুখে বাকা হাসি সে রিহার হাত ধরে নিজের গলায় মালা পরিয়ে দেয়।

রিহার হুস ফিরলে সে লজ্জায় পায়।স্যারদের দিকে তাকিয়ে দেখে স্যার খাইয়া ফেলামু লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে ।

হেডস্যার এখন নতুন প্রফেসরের নাম বলতেই সবাই হাত তালি দেয়।কিন্তু রিহা শুধু অবাক হয়ে আছে

চলবে

(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here