চাঁদ হয়ে রবো পর্ব ১৭

“চাঁদ হয়ে রবে”
~খাদিজা বিনতে হক
পর্ব-১৭
সেই দিন তো এসেছিলো।দু দুবার।মা হয়েছে।
একটা বারও বুজতে পারলো না।
কেমন মেয়ে আমি।আদো আমার মাঝে কোনো মাত্তৃত্বের ছাপা আছে না নেই।তাইতো নিজের মধ্যে থাকা প্রানে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া বুজতে পারিনি।
এটুকু লিখেই খান্ত দিলো।পৌষী।
হাত চলছে না লেখার জন্য।
তবুও লেখবে।লিখেওছে।সাদা কাগজে।
সেগুলো দুমরে মুচরে বৃষ্টির পানিতে ছুরে মেরেছে
বিলিন হয়ে গেছে ওর অনুভুতি।
তারপর কিছুখন কাদলো।আবার হাসলো।
পাগলের মতো।না হাসার অভিনয় করলো সকলের সামনে।
লিজা বেগম।অদো এ্যটাক করেনি।
প্রেশার। সুগার ডাউন করেছে।
তাই অসুস্থ হয়ে পরেছে।
পৌষী আগ বারীয়ে বলল।
“মাকে আমাদের কাছে নিয়ে আসুন”
তুষার আশ্চর্য ভঙ্গিতে তাকালো।
“না উনি ওখানেই থাক।তাছারা ওনার কাছে বিথী আছেন।যাকে বউ করতে চেয়ে ছিলেন।হয়ে গেছে।এবার ওরাই দেখা শুনা করুক।তাছাড়া…”
বাকি কথা গুলো আর বলতে হলো না।পৌষী বুজে গেলো।
দরকারের থেকে একটু বেশি বুজতে শিখেছে মেয়েটা।
,
তনয় আর বিথীর বিয়ে হয়ে গেছে আজ।তিন মাস।সকলের থেকে ওরা আলাদা।আজ পাঁচ মাস।তেমন একটা দরকার না পরলে কারো সঙ্গে দেখা করতে যায় না ওরা।
পৌষীকে দেখলে।লিজা বেগমের মতো সমাজে বসবাস করা আর ও অনেকের গল্পের পিছনের গল্প হয়ে যায় ও।তাই তুষার নেয় না ওকে।ভাবে মেয়েটা কষ্ট পাবে।
কিন্তু পৌষীর ধারনা ওকে ছাপিয়ে গেছে।
ওর মতে।তুষার সমাজে প্রশ্নবৃদ্ধ হওয়া থেকে নিজেকে লুকতে চায়।ওর মনের ভিতর সমাজে মানুষ গুলোর থেকেও বড় প্রশ্ন জেগে ওঠে তখন।
,
পৌষীর বলাতে লিজা বেগম কে এবাড়ীতে নিয়ে আসা হলো।
তনয় যে কম্পানিতে জব করে ওখান থেকে কয়েক দিনের জন্য দেশের বাহিরে গেছে।
তনয়ও এখন কাজে মনোযোগ দিয়েছে।
মাঝে মাঝে দু একটা থিয়েটার করে।
ওর মতে এটা ওর পেশা নয় নেশা।তাই সব পারলেও থিয়েটারটা ছারতে পারেনি।
ওর মতে এখান থেকেই ও অনেক দূর যেতে পারবে।
,
পুরো বাড়ী লোক বলতে বিথী।লিজা বেগম।পৌষী।অনেকক্ষণ বসে বিকেলের আসর জমিয়ে কথা বলে।নাস্তা করে পৌষী।কিচেনে রাতে খাবারের জন্য কাজ করছিলো।হঠাৎ বিথীর চিৎকারের শব্দে পৌষী দৌড়ে এঘরে এসে দেখে অবাক হয়ে গেলো।
লিজা বেগম সেন্সলেস হয়ে মেজেতে পরে।
দৌড়ে ওনার কাছে গিয়ে বিছানায় তুলে শুয়িয়ে দিলো।
,
তুষারকে অনেকবার ফোন করাতে রিসিভ করছে না।এপর্যন্ত সাতাশটা মিসড কল।দিয়েছে।
পাঁচটা ভয়েস কল।বারো থেকে তেরোটা ম্যসেজ।
অদভুত ছেলেটা কোনো রেসপন্স করেনি।
বাদ্ধ হয়ে ও আর বিথী লিজা বেগমকে হসপিটালে নিয়ে গেলো।
,
প্রথম দিন যেহতু শুধু রাতটুকু।ইন্টার্নি ডক্টররা চেক আপ করলো।পর দিন সকালে।ডক্টর এসে চেকআপ করেছে।
তুষার পৌষীর মেসেজ চেক করে সোজা হসপিটালে চলে এসেছে।
লিজা বেগম ডান হাত ও পায়ে একটু সমস্যা হয়েছে।দুদিন পরই ওনাকে রিলিজ করে দিলো।
ঘরোয়া ভাবে ট্রিটমেন্ট আর থেরাপি চলছে।
পা টা ঠিক হলেও হাতে এটু প্রবলেম হয়েছে।
থ্যরাপি দিতে দিতে ঠিক হয়ে যাবে ডক্টর বলেছে।
,
ডক্টরের কাছ থেকে এসেছে।পৌষী।
এতো দিন তুষার অপেক্ষা করতে পারবে না।
তার অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হচ্ছে।
একটা বাচ্চা কি সব অপেক্ষা। হতে পারে ওটাতো আল্লাহর দান।পৌষী কিভাবে পাবে।
ওর ধারনা আগে দুবার মিস যাওয়ায় সমস্যাটা হচ্ছে।
বুকটা মোচর দিয়ে উঠলো ওর।
মিস করার জন্য যদি আর কোনো দিনও মা হতে না পারে।
কি নিয়ে বাচবে ও।
তুষার কি তাহলে,,,না।
মাথাটা ভার হয়ে আসছে পৌষীর।আর পারছে না।
এই ছোট্টো মাথায় এতো চিন্তা কিভাবে আসে।
,
অবস্য তার পিছনে লিজা বেগমের সব থেকে বড় অবদান।সে তুষারকে বলেছে।
“ও মেয়ে আদো মা হতে পরবে।নিজের সব কিছুতো অন্য মানসের হাতে খুইয়েছে।তুই ওকে ছেড়ে দে”
তুষার কিছুই বলে না।ওর ও হয়তো মনে হয়।
,
লিজা বেগম প্রতিদিন কান্না করে সে তার স্বামীর ঘরে তার শেষ নিঃশ্বাস ছারতে চায়।
তাই আবার ফিরে এলো ওরা ওদের আগের বাড়ীতে।
,
ঋতু খচখচ করছে তার ছেলে রেশের সাথে।
এটা রেশের ধারনা।তবে।ঋতুর ধারনা।সে
ছেলেকে অনুনয়বিনয় করছে তার সঙ্গে।
নিচে যাওয়ার জন্য।মানে।লিজা বেগমের ফ্লাটে জাওয়ার জন্য।
রেশ এক দমে জানিয়েছে।সে জাবে না।
যে দিন থেকে জানতে পেরেছে।
তুষার পৌষীর হাসবেন্ড।সেদিন থেকে ওকে এভয়েট করে।
ও প্রথমে ভেবেছিলো।তুষার ওর কাজিন।
তাই যেতে চাইছেনা।ঋতু ওকে নিয়েই ছারবে।
সে নাছোড় বান্দা।
মায়ের জোরাজুরি তে শেষমেশ বাদ্ধ হয়ে যেতে হলো।ওকে।
,
কলিং বেল বাজতে।বিথী দরজা খুলে দিলো।
এতোদিনের একাকিত্য তে।দুজনের বেস বন্ধুত্ব হয়েছিলো লিজা বেগম আর ঋতুর।
তাই লিজা বেগমের অসুস্থতার কথা শুনে হসপিটাল পর্যন্ত গিয়েছিলো।
আজ বাড়ী ফিরেছে শুনে দেখতে এসেছে।
,
ঋতু লিজা বেগমের সাথে নানান কথায় ব্যস্ত।
রেশ বারবার দু হাত কচলাচ্ছে।আর বারবার চারো দিকে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে।
কোথাও পৌষীকে দোখলে ও যে নিজেকে ঠিক রাখতে পারবে না।তখন পৌষীকে না পাওয়ার ব্যর্থতা ওকে ঘিরে আসবে।
আাচ্ছা কাউকে পাওয়ার মাঝেই কি সব প্রাপ্তি।
সে সুখি আছে জেনে নিজে সুখি থাকা তো বড় প্রাপ্তি,
,
পৌষী ভুল করেও এখন বসার ঘরে যাবে না।
তাই নিজেকে।রুমে আটকে রেখেছে।
দরজার ফাক দিয়ে কয়েকবার রেশকে দেখেছে।
,
,
চলবে,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here