ছুয়ে দিলে মন পর্ব ৮+৯

#ছুঁয়ে দিলে মন ❤️
#লেখিকা:- তানজিনা আক্তার মিষ্টি ❤️
#পর্ব:-৮

মেঘ আর নুপুর যে রেস্টুরেন্টে গেছিল মিটিং করতে । ওরা বের হতেই সেই রেস্টুরেন্টে মিষ্টি ঢুকে সাথে সবগুলা বাচ্চা কে নিয়ে।
বাচ্চাগুলো পথশিশু মিষ্টির সাথে গল্প করার মাঝে একজন বলে ওঠে তার নাকি খুব খিদে পেয়েছে। মিষ্টি সে একজনকে কিছু টাকা দেয় কিনে খাওয়ার জন্য কিন্তু একেএকে সবাই হাত পাতে সবারই নাকি খিদে পেয়েছে ।
সবাইকে আর টাকা না দিয়ে মিষ্টি ডিসিশন নিল ওদের রেস্টুরেন্টে খাওয়াবে। সামনে একটা রেস্টুরেন্টে চোখে পড়েছে ও বাচ্চাদের নিয়ে একবার পেছনে তাকিয়ে দেখি ওরা সবাই কি জানি আলোচনা করছে হয়তো পার্কে যাবে তাই ভাবে রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবার অর্ডার করে টাকা দিয়ে আসবে।

মিষ্টির কাছে 1000 টাকার একটা নোট আছে খুচরা মনে হয় দেড়শ টাকার মতো আছে। বেড়াতে আসবে বলে টাকা বেশি করে নিয়ে আসছে। এখন আর এগুলো মিষ্টির কাজে লাগবে না। এখানেই শেষ হবে মিষ্টি রেস্টুরেন্ট এর বিল মিটিয়ে বেরিয়ে আসে।

—এই বাবা সব গুলো গেল কই?

রেস্টুরেন্টে বাইরে এসে পার্কের সামনে দাঁড়িয়ে আছে মিষ্টি। ওরা কি ভিতরে চলে গেলো আমাকে রেখে ই
—চাচা আমার মতো ড্রেস পরা কয়েকটা মেয়ে আর কয়েকটা ছেলে কি ওরা কি পার্কের ভেতরে চলে গেছে?

–দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করল মিষ্টি,, দারোয়ান কতক্ষণ তাকিয়ে থেকে কি যেন ভেবে বলল না?

—না মানে ওরা তো পার্কে যাওয়ার কথা তাহলে কোথায় গেল?

—যেতে চাইছেন আমি যেতে দেয়নি?

–মানে?

—স্কুল ড্রেস পরা স্টুডেন্টদের পার্কে যাওয়া নিষেধ একমাত্র পিকনিক ছাড়া।

–এ্যা

ওনার কথা শুনে বোঝা গেল যে স্কুল ড্রেসের গাড ছাড়া ভেতরে ঢোকা যায় না।

আর এসব গুলা গেল কই বাইরে এসে গেটের বাইরে গাড়ি ছিল সেটাও নাই।

মহা ঝামেলায় পড়ে গেল তো।
—সবগুলা আমারে রাইখা গেলো ক‌ই।

কি আর করার মিষ্টি কোন দিকে যাওয়া বুঝতে পারতেছেনা। কিছুই চেনে না ফিরবে কিভাবে আকাশের কাছে ফোন আছে আর কারো কাছে ফোন নাই। কিন্তু ওর নাম্বার তো ব্যাগে আছে আর ব্যাগটাই তো আমার কাছে নাই। ব্যাগ তো গাড়িতে আছে।

,,

মেঘ গাড়িতে অপেক্ষা করছে।20 মিনিট হয়ে গেছে এখনো ফিরে নাই‌ নুপুর । রেগে গাড়ি স্টার্ট দিতে যাবে এমন সময় ফোন বেজে উঠল,,,
একে তো রেগে আছে তার ওপর ফোন গাড়ি স্টার্ট দেওয়া বাদ দিয়ে। ফোন হাতে নেয় পরিচিত কেউ না দেখে ফোন কেটে দেন। অনবরত কল আসছেই যতবার কেটে দিচ্ছে ফোন আসছে। তাই বিরক্ত হয়ে রিসিভ করে,,,

মুখে কিছু বাজে কথা এনে বকা দিতে যাবই তার আগে ওপাশ থেকে মিষ্টির কন্ঠস্বর শোনে মেঘের রাগ কমে আসে। অচেনা নাম্বার থেকে মিষ্টি কেন কল করেছে। ওর তো এখন স্কুলে থাকার কথা,,,

চিন্তিত হয়ে ফোন কানে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করে,,
–হ্যালো মিষ্টি কই তুই এটা কার নাম্বার?

—ভাইয়া তুমি কই আছো?

—কেন? তুই ঠিক আছিস তো কিছু হয়নি তো তোর তোর গলাটা এমন শোনাচ্ছে কেন?

—ভাইয়া তুমি একটু ( পার্কে ঠিকানা দেয়) এখানে আসতে পারবা আমি এখানে আটকা পড়ে গেছি।

–তুই ওখানে কি করছিস তোর তো এখনই স্কুলে থাকার কথা।

অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে মেঘ।
—সেসব দেখা হলে বলব আগে তুমি এখানে আসো। আগেই বলেছি বকবে না কিন্তু।

—মেঘ হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারতাছিনা এখনও বকার চিন্তা নিয়ে বসে আছে।
আর কিছু না বলে মেঘ ফোন কেটে দেয় । ওর তো পার্কে যেতে দুই মিনিট লাগবে কারণ পার্কের পাশে এই রেস্টুরেন্ট

এখন একটু দূরে আছে শপিংমলে আছে। তাই যাইতে কয় মিনিট লাগবে।

নুপুর দৌড়ে বের হয়ে আসে হিজাব টা পেতে লেট হইছে। পেয়ে দৌড়ে বেরিয়ে আসে না জানিস স্যার কতটা রেগে আছে। বের হতে দেখে মেঘের গাড়ি চলে যাচ্ছে।

সত্যি রেখে চলে গেল আজকে আমার খবর আছে।

,,

—থ্যাংক ইউ সো মাচ।সেদিন আপনার উপর খুব রাগ হয়েছিল কিন্তু আজকে আপনি আমাকে হেল্প করলেন এজন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

বলে একটা মিষ্টি হাসি দিলো মিষ্টি।
আরাফ ফোন নিয়ে একটা হাসি দিল।
–ইটস ওকে । আপনি চাইলে আমার সাথে যেতে পারতেন। আমি না হয় পৌঁছে দিতাম।

—আপনি আমাকে পৌঁছে দিতেন?

অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল মিষ্টি,,,,
—হ্যাঁ যদি বলতেন তাহলে।

—ইশশ আগে কথাটা কেন বললেন না। আগে যদি আমার মাথায় এই কথাটা আসতো তাহলে কি ভাইয়া জানত যে আমি স্কুল মিস দিয়েছি।

—স্কুল মিস দিয়ে এখানে আসছেন কেন?

—এইতো ঘুরতে আসছি লাম কিন্তু বেরানো তো আর হইল না সবগুলো আমারে রাইখা চলে গেছে!

বলে মিষ্টি রেগে উঠলো।
আরাফ কিছু বলতে যাবে ওমনি গাড়ি এসে থামে ওদের সামনে।

—এ ভাই আইসা পড়ছে! আল্লাহ জানে আমারে কত না জানে বকা দিব।

অসহায় মুখ করে একবার আরাফের দিকে তাকালো,,,
মেঘালী থেকে নেমে আসে হন্তদন্ত হয়ে,,
মিষ্টি আর একটা ছেলে দাড়িয়ে আছে ও ভ্রু কুঁচকে সে দিকে তাকায়। ছেলেটাকে চেনা চেনা লাগছে
হ্যাঁ এত আরাফাত হোসেন জয়। জয় সাথে একবার সাক্ষাৎ হয়েছিল মেঘের জয়ের বাবা বিজনেস করেছে।জয় বেশিদিন ধরে এই বিজনেসও নয় কিন্তু কিছুদিনের ভালো নাম করে ফেলেছে। একবার সাক্ষাৎ হয়েছে তিনি এখানে কি করছে ‌মিষ্টির সাথে।

মেঘে মিষ্টি সামনে দাঁড়ালো। আরাফমেয়েকে দেখেই চিনতে পারে হাসি মুখে হাত বাড়িয়ে দেয়।
—মিস্টার মেঘ আপনি এখানে?

—মেঘ ও হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করে। আমি কিছু বলার আগে মিষ্টি বলে ওঠে,,,

—এটাতো আমার ভাইয়া আমাকে নিতে এসেছে আপনি কি আমার ভাইয়া কে চিনেন?

আরাফ মাথা নেড়ে জানায় সে চেনে..

—এবার মেঘ বলে,,,,—মিষ্টি তুই ওনাকে কিভাবে চিনিস। আর মিস্টার জয় আপনি এখানে?

—এই দিক দিয়ে আমি চাইছিলাম হঠাত আপনার বোনের সাথে দেখা হয়ে গেল। তাই নেমে পরলাম।

—আপনি মিষ্টি কে কিভাবে চিনলেন?
অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
–মিষ্টি দুজনের কথায় কেড়ে নিয়ে বলল,,,ঐতো ভাইয়া একদিন আমাদের দেখা হয়েছিল । তেমন পরিচিত না আজকে ওনার দিকে ফোন নিয়ে তোমাকে কল করেছিলাম।

—আচ্ছা গাড়িতে উঠ।
এখানে আমি কি জিজ্ঞেস করল না কি জন্য এসেছে বাসায় গিয়ে জিজ্ঞেস করবে।

মিষ্টি মেঘের দিয়ে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে মেঘ আর দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকান। মা দেখে আর কিছু বলার সাহস করে না মিষ্টি। এইবার আরাফের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বাই বলে গাড়িতে উঠে বসে।

মেঘ আর আরাফ কি যেন বলছে। মিষ্টি ভয়ে ভয়ে তাকে আছে ভাই আবার ওনাকে কিছু বলবে না তো।কিন্তু দুজন কি হাসেখুশি ভাবে কথা বলছে শেষ আবার হ্যান্ড শিপ করে ভাইয়া চলে এলেন।

—বাসায় যাবি নাকি স্কুলে যাবি।

—স্কুলে চলো আমার ব্যাগ আছে ওখানে?

ভাই আর কিছু বলল না আমি চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে আছি‌। একবার ভাইয়ের দিকে তাকাচ্ছি আর একবার বাইরের দিকে তাকাচ্ছি। না জানি কত বকা আজকে খেতে হয় শয়তানের দলের জন্য আজকে আমি এরকম ফেঁসে গেলাম।

ভাইয়া আর রাস্তায় আর একটা কথা বলল না স্কুলের সামনে গাড়ি থামাতে আমি নেমে কিছু বলব তারা আগেই শো করে ভাইয়ার গাড়ি চলে গেল। আমি হাঁ করে সেদিকে তাকিয়ে আছি।

,,

নুপুর অফিসে চলে এসেছে অনেকক্ষণ হলো। অদ্ভুত বিষয় স্যার এখন ও আসে নাই‌।
স্যারের তোমার আগে আসার কথা সে এখন আসছে না কেন। চিন্তিত আশেপাশে স্যার আসে কিনা।

হঠাৎ গটগট পায়ে কেউ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে মেঘ। হ্যাঁ যাওয়ার আগে একবার অবশ্য আমার কেবিনেট দিকে তাকিয়েছেন আমির জড়োসড়ো হয়ে বসে আছি এই না বকা দিয়ে বসে।

যেতে একটা বড় শ্বাস ফেলে ল্যাপটপে কাজ করতে লাগল নুপুর। কিন্তু সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না ভয় আবার ঢুকে গেল ম্যানেজার এসে বলে গেল স্যার নাকি আমাকে ডেকেছে।

আমি ভয়ে ভয়ে নক করলাম হাতের ইশারায় যেতে বলল ভেতরে যেতে।
—স্যার বিশ্বাস করেন আমি না পাচ্ছিলাম না তাই একটু লেট হয়ে গেছে। আমি এসেছিলাম কিন্তু ততক্ষন আপনার গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে আমি দৌড়ে আসতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারি নাই সরি ।

মেঘ এমনিতেই মিষ্টি কে নিয়ে রেগে আছে। তারকা এইসব কথা আর রেখে চিৎকার করে উঠল,,,
—আপনাকে আমি কৈফত দিতে বলেছি!

—না স্যার কিন্তু,,
কথা কেড়ে নিয়ে,

—যে ফাইলটা দিয়ে মিটিং করেছে ফাইল টা নিয়ে আসুন যান আপনার সাথে আমার ফালতু কথা বলার সময় বা ইচ্ছা কোনটাই নাই।

মেঘের চিৎকার শুনে ভয়ে কেঁপে ওঠে,, ভয়ে থরথর করে কাঁপছে । সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিনা তাড়াতাড়ি নিয়ে আসে ফাইল মেঘের কেবিনে।সাইন দিয়ে ইমিগ্রেশনে থেকেই গ্লাস নিয়ে টকটক করে এক গ্লাস পানি শেষ করে ফেলে।মেঘকে এমনিতেও প্রচন্ড ভয় পায় তার উপর চিত্কার করলে তো একদমই শেষ হয়ে যায়।

,,

মিষ্টি স্কুলে এসে সব গুলোর সাথে তুমুল ঝগড়া শুরু করে দিয়েছে। ওকে কিভাবে সবাই এভাবে একা রেখে চলে আসতে পারলো সবাই বললো কি খুঁজেছে কিন্তু উপায় নাই। আসোলেই সবার অনেক চিন্তিত ছিল চারপাশে খুঁজে যখন পায় তখন বাধ্য হয়ে ফিরে আসে।কিন্তু সবাই আসে নাই আকাশ শান্ত আলিম ওরা এখনও আসে নাই ওরা ঐ দিক দিয়ে মিষ্টি কে খুঁজছে?

আকাশ শান্ত খুঁজছে শুনে মিষ্টি রাগ একটু কমে আসে নয়তোএকেক টার কি অবস্থা করতো নিজেও জানেনা।

তারপর কণার কাছে ফোন আছে আজকে নিয়ে আসছিল আমি তো জানতামই না। কন আকাশকে ফোন দিয়ে বলে যে মিষ্টি ফিরে এসেছে করা যাতে চলে আসে।

ক্লাস হলোনা ঘুরা হল না মন মেজাজ খারাপ হয়ে আছে। বিশেষ করে মিষ্টির সবচেয়ে বেশি রাগের একটার পর একটা চকলেট খাচ্ছে। আর একটু পর পর একজনকে বকে যাচ্ছি ওরাও কম না বকে যাচ্ছে তুই এভাবে আমাদেরকে না বলে চলে গেলি কেন। রেস্টুরেন্টে যার যেখানে যা আমাদেরকে বলে যাবি তো। আমাদের কি চিন্তা হয় না। সবাই সবাই দোষ দিচ্ছে একে একে।
#ছুঁয়ে দিলে মন ❤️
#লেখিকা:- তানজিনা আক্তার মিষ্টি ❤️
#পর্ব:-৯

আজকে ছুটির দিন।
তাই সকাল বেলা উঠেই নুপুর ভালো মন্দ রান্না করতে লেগে পড়েছে। রান্না করতে খুব ভালোবাসে নুপুর। বাবার পছন্দের ভুনা খিচুড়ি রান্না করবে আজকে। আম্মুকে রান্নাঘর থেকে আগেই বিদায় করেছে অফিসে থাকার জন্য অনেকদিন হলো রান্না ঘরে ঢোকা হয়না। বাবা ওর হাতের খিচুড়ি অনেক পছন্দ করে। নিশা নুপুর এর ছোট বোন। ক্লাস নাইনে পড়ে হাতে হাতে এগিয়ে দিচ্ছে। দুবোন মিলে জমিয়ে রান্না করছে।

বাইরে থেকে এসেই দৃশ্য একজন দেখছে। (নুপুরের মা নাইমা বেগম।)এই কম বয়সী মেয়েটাকে দিয়ে কাজ করাতে তার খুব কষ্ট হয় সারা সপ্তাহ অফিসে পিছনে খাটাখাটি করে মেয়েটা। কিবা বয়স এই বয়সে মেয়েরা আনন্দ আড্ডা মাস্তি নিয়ে থাকে। কিন্তু মেয়েটা তার সেগুলো কিছুই পায়নি। সংসারের হাল ধরেছে।সংসার টা ভালই চলছিলো কিন্তু হঠাৎ ওর বাবার স্টক করে একদম বাসায় বসে পরে। যা টাকা জমা ছিল সব ওর বাবার পেছনে খরচ করতে চলে গেছে। আঁচল দিয়ে চোখ মুছলো কষ্ট হলে কিছু করতে পারেনা।

আজকে জোর করে রান্না করে খেতে রান্না করতে শুরু করে দিয়েছে। তার কথা শুনলে তো সব কাম কাজ করে একদিন অফ সেদিনও কাজ করতে হবে তার।
কত রোগা হয়ে গেছে কত সুন্দর দেখতে ছিল মেয়েটা কাজ করতে করতে চেহারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যে কেউ তারই মেয়েকে এক দেখাতে পাগল হয়েছে সবার মুখে কথা নাইমা তোর মেয়েটা এত সুন্দর হলে কী করে রে। দেখে মনে হয় না এটা তোর মেয়ে। আমার গায়ের রঙ ময়লা নিশা হয়েছে আমার মতন কিন্তু নিশার বাবা টা খুব সুন্দর ছিল সেটাই পেয়েছি নুপুর। মেয়েটার মুখে হাসি দেখলেই সমস্ত দুঃখ ভুলে যাই। আমি তো আমার ঘরে শোভা পায় না। কোন দিক দিয়ে নে মনে হয় রাজকন্যা। রাজকন্যা দিয়েছিল আমাকে কিন্তু তার কদর করতে পারলাম না। খেটে গেল মেয়েটা।

রান্না শেষ করে খাবার টেবিলে রেখে রুমে যাচ্ছিল নুপুর ।মাকে ধ্যান মগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে,,,

—কি হবে কিছু হয়নি ? যা ফ্রেস হয়ে আয় খাবি তার বাবাকে আমি দিয়ে আসি।

—তোমার দিতে হবেনা আমি নিয়ে আসছি বাবা কে।

—আচ্ছা।

নুপুর ফ্রেশ হয়ে এসে প্লেটের খিচুড়ি বেড়ে বাবার রুমে যায়। বাবা হাতে পত্রিকা পড়ছে চোখে চশমা খাটে আধ বাসা হয়ে আছে।

—বাবা,,,

মেয়ের ডাকে মফিজ আহাম্মেদ মাথা তুলে তাকালো। চোখের চশমাটা নাকের উপর থেকে ভালো করে দিয়ে চোখে পত্রিকা টা পাশে রেখে মুখে হাসি ফুটিয়েছে কাছে যেতে বলল,,,,

—আয় মা আমার কাছে আয়।

—সারপ্রাইজ,

–কষ্ট করে আবার তুই রান্না করতে গিয়েছিস কেন মা?

—ধুর কি যে বলোনা কষ্ট কেন হবে?আমি তো খুব খুশি হয়েছি যে তোমাকে রান্না করে খাওয়াতে পারছি! তাড়াতাড়ি খেতে বসে যাও খেয়ে বল কেমন হয়েছে?

—কি হলো বাবা ওই ভাবে তাকিয়ে আছো কেন? খাবেনা!

ভিতর থেকে কষ্ট দলা পাকিয়ে গলায় আটকে আছে।এই বয়সে মেয়েটা এত কষ্ট করে পুরোটা সমস্যার নিজে চালাচ্ছে ভাবতে তার ভেতরটা হু হু করে কেঁদে ওঠে। এর থেকে তো স্ট্রোক করে মরে গেলে ওরা ভালো থাকতো আমার জন্য নিজের সব বিলাসিতা ছেড়ে দিয়েছে মেয়েটা। তাকানো যাচ্ছে না মেয়েটার দিকে কত ক্লান্তি মুখটা জোরে।

—বাবা (জোরে ডাক দিতেই মুফিজ আহমেদের ধ্যান ভাঙ্গে) কি হলো খাবেনা এই ভাবে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকবে।

—আমার জন্য তোর খুব কষ্ট হচ্ছে নারে মা! খুব কষ্ট দিয়ে ফেলেছি চায়না ঘরে বসে থেকে খালি তোদের খাটিয়ে মারছি।আমি খুব খারাপ বাবা তাইনা যে এই ছোট্ট মেয়েটাকে দিয়ে কষ্ট করিয়ে নিজে আরামে বসে বসে খাচ্ছি।

–এসব কি কথা বলছো বাবা তুমি। পাগল হয়ে গেলে নাকি?

—এভাবে বেঁচে থাকতে চাই নারে আমি মরে গেলি তোরা ভালো থাকতে পারতি বেঁচে থেকে ঝামেলা বারিয়ে দিচ্ছি।

—এসব কথা আমি আরেকটু শুনতে চাই না বাবা!তুমি আমাদের ঝামেলা বেড়াবে তুমি আমাদের কাছে বেশি হবে তা তুমি ভাবলে কি করে? কি তুমি কি আমাদের এতিম করে রেখে মরে যেতে চাও। তুমি মরে গেলে আমাদের কি হবে জেনে আমরা বেঁচে থাকব। কি আমাকে সাহস যোগাবে এখন তো তুমি আমাদের ওপর ছায়া হয়ে আছো তুমি না থাকলে সেটা কিভাবে থাকবে আমার কখন এমন কথা বলবে না।

মফিজ আহমেদ মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে মেয়েটা বড় হয়ে গেছে কথা কত কথা বলতে পারে।

,,

—দোস্ত তুই এটা করতে পারিস না। তুই ছেলে হয়ে মেয়ের পক্ষ নিলি এটা কিন্তু একদম ঠিক হলো না। তুই এখনই আমাদের বাড়ি চলে আয়।

–সো সরি দোস্ত আমার আমি কিছু করতে পারবোনা! একেতে তোর আগে আমাকে নেহা ফোন দিছে। আর ওকে আমি কথা দিয়ে ফেলেছি যে বিয়েতে আমি কনে পক্ষ থাকবো।
আরও কিছুক্ষণ দুজনের মধ্যে তর্ক বিতর্ক চলল,,
—ধুর শালা তোর সাথে কথা নাই।

বলেই সায়ন ফোন কেটে দিল।

আরাফ ফোন বিছানার উপর রেখে লাগেজ গোছাতে লাগল,,,

তিন চার দিন থাকা হবে। এজন্য ড্রেস লাগেজে ভোরের নিচে এল লাঞ্চ করতে। কালকে নেহার গায়ে হলুদ সকাল থেকে নেহা আর সায়ন দুজন মিলে আমাকে কতোবার ফোন দিয়েছে হিসাব নেই। সে সাধারণত ফারাক করে কেটে দিলে এখন আর নেহাত আজকে না গেলে রাগ করে বসে থাকবে। এজন্য আজকে বিকালে রওনা দেব।

বাসার সবাইকে ইনভাইট করেছে সবাইকে বলেছি কিন্তু আব্বুকে বললাম সে বলল বিয়ের দিন যাবে আরুশি নিয়ে।

কিন্তু আমার তো আজকেই যেতে হবে।

লাঞ্চ শেষ করে উপরে রেডি হতে লাগল,
নিজের গাড়ি নিয়ে যেতে চাইছিলো কিন্তু এত দূর ড্রাইভ করা কষ্ট হয়ে যাবে । ফ্লাইটে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু আজকে ফ্লাইট নাই এইজন্য ট্রেনে যেতে হবে ‌।

যারা আরাফের জন্য খুব‌ই কষ্ট কর। কিন্তু কিছু করার নেই ফ্রেন্ড এর জন্য আমাকে করতেই হবে এইটুকু। নেহার বাসা চিটাগাং।

ট্রেন ছাড়বে সাড়ে পাঁচটা নাগাদ এখান থেকে আমার স্টেশনে যেতে সময় লাগবে আধাঘন্টা এখন বাজে সাড়ে তিনটা একটা ঘুম দেওয়া যায়।
আরাফ বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করলো।

—ভাইয়া ওই ভাইয়া,

আরুশি একমনে আরাফকে ঢেকে যাচ্ছে। ঘুমানের আগে আরাফ আরুশিকে বলেছিল এক ঘন্টা পর ডাক দিতে।

—আরুশি তা তো আমি এখন ঘুমাবো।

—ও ভাইয়া তুই যাবি তুই যাবি না নেহা আপু বাসায়?

এবার আরাফ আস্তে আস্তে চোখ খুললাম ওই দিকে তাকিয়ে দেখে 4:30 তাড়াতাড়ি উঠে বসে!
বাথরুমে চলে যায় ফ্রেস হতে।

পাঁচটায় ড্রাইভারি কে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে স্টেশনের উদ্দেশ্যে,,

নিজের জন্যএকটি ভিআইপি কেবিন বুক করেছে আরাফ। পুরো চারটা কেবিন বুক।
কারো সাথে শেয়ার করা ও মেতে পারবে না।

একটু আগেই ট্রেন চলতে শুরু করেছে। আরাফ কানে ইয়ারফোন দিয়ে ফেসবুক ইউজ করছে। চোখটা লেগে আসছে ঘুমে এখনো যায়নি এক ঘন্টায় কারো ঘুম শেষ হয়।ফোন অফ করে এক সিটে কার মাথায় ব্যাগ রেখে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়। চোখ বন্ধ করে মাথায় হাত দিয়ে আছে আরাফ ঘুম ঘুম লাগছে এমন সময় দরজায় করাঘাত পরলো।

ভাগ্যটা বেশি আসছে রেগে চোখ মেলো আরাফ। ঘুমের ডিস্টার্ব একদমই পছন্দ করে না ও। ডিসটাপ হবে বিধায় একটা কেবিন বুক করেছে। তাও ডিস্টার্ব রেগে দরজা খুলে কিছু বলতে যাবে।

—হোয়াট দা,,,আর কিছু বলতে পারলো না সামনের মানুষটাকে দেখে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। কল্পনা করতে পারিনি এই মানুষটাকে এইখানে দেখবে তাও চোখের সামনে।

আরাফ এর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কন্টাকটারের কথায় ধান ভাঙ্গে তার দিকে দৃষ্টি দেয়।

—স্যার একটু হেল্প করুন প্লিজ। এই কেবিন টা পুরো আপনার পুরো কেবিনটা আপনি বুক করেছেন। আপনাকে ডিস্টার্ব করছি তার জন্য হয়তো আপনি বিরক্ত হচ্ছেন কিন্তু আমরা বিপদে পড়ে এসেছি এখানে। এখনো 4 টা সীট আছে আপনাকে একটা সিট লাগবে আর কত বাকি পড়ে থাকবে যদি একজনকে এখানে বসার অনুমতি দিতেন তাহলে খুব ভালো হতো।এটা অন্যায় আবদার হয়ে যাচ্ছে বুঝতে পারছি কিন্তু কিছু করার নাই যদি একটু জায়গা দেন তো এনারা যেতে না হলে নেমে যাবে।

চলবে ❤️
চলবে ❤️

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here