তুই আমার প্রেমময় নেশা পর্ব -১১

#তুই_আমার_প্রেমময়_নেশা
#মিফতা_তিমু
১১.

কেটে গেছে পাঁচদিন।এই পাঁচদিনে নিদ্রা একবারের জন্য তালুকদার হোসেন বাড়ি ফিরে নী কিংবা ওই বাড়ির কারোর সঙ্গে কোনো কথা বলেনি।সকলে এ নিয়ে বেশ চিন্তিত কারণ আজ নিভ্র আসবে আর ও এসে যদি শুনে যে নিদ্রা পাঁচদিন ধরে বাড়ি নেই তাহলে পুরো বাড়ি মাথায় উঠিয়ে ফেলবে যেটা অনেক বড় সাংঘাতিক ব্যাপার।কিন্তু কিছুই করার নেই কারণ নিদ্রা নাকি বলেছে ও আপাতত সাবার বাড়িতে থেকেই পড়ালেখায় মন দিতে চায় আর ওর সাথে কেউ যেন যোগাযোগ করার চেষ্টা না করে তাতে মারাত্মক কিছু হয়ে যেতে পারে।

নিদ্রা নিজেকে কিছু করে ফেলতে পারে সেই ভয় কেউ ওর কথার অমান্য হয়নি।মিস রামিসা ওরফে নিদ্রার মা অনবরত দিনরাত কেঁদেই চলেছেন আর বিলাপ করছেন এ কি হয়ে গেল আমার মেয়ের, নিদ্রার নিশ্চই কিছু হয়েছে নাহলে নিদ্রা এমন করার মেয়ে নয়।সকলেই জানে তাদের এক ধাপ অনেক কিছু ঘটিয়ে ফেলতে পারে কারণ নিদ্রা এক কথার মানুষ। ও যখন বলেছে যোগাযোগ না রাখতে তখন জোর করে রাখলে যা তা হতে পারে।

বাড়ির সদর দরজার কলিং বেল বেজে উঠতেই মিসেস নাদিরা গিয়ে দরজা খুলে।পাঁচদিন পর ছেলেকে দেখে উনার চোখের অশ্রু বাঁধ ভাঙ্গে।উনি ছেলেকে জড়িয়ে ধরার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যান কিন্তু ছেলে মাকে হাত দিয়ে থামিয়ে দিয়ে বলে,
নিভ্র: মা আগে ফ্রেশ হয়ে নী নাহলে জার্মস লেগে যাবে।তুমি আমার ব্রেকফাস্ট রেডি করো আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

ছেলের কথায় মিসেস নাদিরা নিঃশব্দে মাথা নেরে সায় দেন।চলে যান রান্নাঘরে ব্রেকফাস্ট রেডি করতে।তন্দ্রা আর অভ্রর জন্যও ব্রেকফাস্ট রেডি করে টেবিলে সাজায়।এইদিকে নিদ্রার মাও মিস্টার মেহেরান হোসেন আর মিস্টার আজিজ তালুকদারের জন্য ব্রেকফাস্ট লাগান।এখন ব্রেকফাস্টের সময়। ব্রেকফাস্ট করে যে যার যার মত নিজেদের কর্মস্থলে চলে যাবে।

মিনিট পঁচিশ পরে নিভ্র রেডি হয়ে নিচে নেমে আসে। ওর পরনে ব্ল্যাক সুট। হাতে সুন্দর রোলেক্স ওয়াচ। নিভ্র একেবারে ফিটফাট হয়ে রেডি হয়ে এসেছে কারণ ওর উদ্দেশ্য ও নিদ্রা,তন্দ্রা আর অভ্র কে কলেজে দিতে যাবে।তাছাড়া এটা ওর নিত্যদিনের কাজ ।

নিজের সিটে বসে সবার দিকে একবার তাকাল।নিদ্রা কে ওর জায়গায় না দেখে নিভ্রর ভ্রু কুচকে এলো। গম্ভীর কণ্ঠে তন্দ্রার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিল,
নিভ্র: নিদ্রা কই তন্দ্রা?

নিভ্রর প্রশ্নে তন্দ্রা ঘাবড়ে গেল। ওর জানা ছিল এমনই কিছু একটা হবে।এখন কি উত্তর দিবে? নিভ্র ভাই যদি জানতে পারে যে নিদ্রা পাঁচদিন ধরে বাড়ি নেই আর কারোর সঙ্গে ওর কোনো যোগাযোগ নেই তখন ভাই খুব রেগে যাবে।কিন্তু উপায়ও তো নেই।ভাই কে না বললে নিদ্রা কে তো ফেরানো যাবে না।নিদ্রা তো একমাত্র ভাইয়ের কথাই শুনে।তাই যে করেই হোক ভাইয়া কে বলতে হবে।

তন্দ্রা উত্তর দিচ্ছে না দেখে নিভ্র রাশভারী কণ্ঠে বলল,
নিভ্র: কি হয়েছে তন্দ্রা? তোকে আমি কিছু জিজ্ঞেস করছি তো? বল নিদ্রা কোথায়?
তন্দ্রা: না মানে ভাই….নিদ্রা…. নিদ্রা….নিদ্রা….
নিভ্র: কি নিদ্রা নিদ্রা করছিস? সরাসরি বল নিদ্রা কোথায়? তোর তোতলানো শোনার সময় আমার নেই।
তন্দ্রা: না মানে ভাই….ভাই…

তন্দ্রার কথায় এবার নিভ্র রেগে গিয়ে টেবিলে হাত বারি দিয়ে এক ধমক দিয়ে বললো,
নিভ্র: ভাই ভাই মানে মানে কি করছিস? সরাসরি উত্তর কি দেওয়া যাচ্ছে না?
নিভ্রর এরকম গলা শুনে তন্দ্রা ভয়েতে কেঁদে দেয়। অভ্র ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে। মেহেরান ছেলের এহেন ব্যবহারে গম্ভীর গলায় বলেন,
মেহেরান: আঃ নিভ্র। খাওয়ার সময় এরকম চিৎকার করছো কেন?
নিভ্র: তাহলে তোমার মেয়ে বলছে না কেন নিদ্রা কোথায়? নিশি তুই চুপ করে আছিস কেন? উত্তর দেওয়া যায় না।
নিশিও ভয়ে কেদে দেয়।দুই মেয়ের কান্নাকাটি দেখে নিভ্র প্রচন্ড পরিমাণে বিরক্ত হচ্ছে।এবার তন্দ্রা কোনমতে নিজের কান্না আটকে কান্না মিশ্রিত গলায় বলে,
তন্দ্রা: ভাই নিদ্রা তো নেই…

তন্দ্রার কথায় নিভ্র অত্যধিক পরিমাণে অবাক হয়ে বললো,
নিভ্র: নেই মানে?
তন্দ্রা: ভাইয়া তুমি যেদিন শুভ্র ভাইয়ের রিসেপশন থেকে কাজের কারণে চলে গেছিলে সেদিনই নিদ্রা সাবুর বাড়ি গেছে।বলেছিলো কিছুদিন থেকে চলে আসবে।বড় বাবাও অনুমতি দিয়েছিল কিন্তু একদিন পর যখন ফোন দিলাম তখন বলল ও এখন কোনো যোগাযোগ রাখতে চাচ্ছে না কারোর সাথে।এই বাড়ির কেউ যেন ওর সাথে দেখা কিংবা কথা বলার চেষ্টা না করে নাহলে এর ফল অনেক খারাপ হবে।ভাই তুমি তো জানো নিদ্রা যেটা বলে সেটাই করে।তাই আমরা রিস্ক নেই নী।

তন্দ্রার কথা নিভ্রর কানে যেতেই নিভ্রর চোখ লাল হয়ে উঠলো। নিভ্রর কপালের রগও ফুলে উঠেছে। বুঝাই যাচ্ছে অনেক রেগে গেছে। নিভ্র তবুও নিজেকে কন্ট্রোল করে বলল,
নিভ্র: কলেজে দেখা হয়?
তন্দ্রা: হ্যাঁ হয় কিন্তু নিদ্রা সাবু ছাড়া কারোর সঙ্গে কথা বলেন। নিহান আর নিরামকেও এড়িয়ে যায়।
নিভ্র: তুই অভ্রর বাইক দিয়ে যেতে পারবি?
তন্দ্রা ওর কথায় মাথা নেড়ে সায় দেয় তারমানে ও যেতে পারবে। নিভ্র আর কিছু না বলেই বেরিয়ে যায়। গাড়ির হর্ন বাজিয়ে দ্রুত বেগে গাড়ি নিয়ে ছুটে জাহাঙ্গীর নগর ভার্সিটির উদ্দেশ্যে।

অনেক দ্রুত বেগে গাড়ি চালাচ্ছে। নিভ্রর রাগ আকাশচুম্বী এখন। ও এতটাই দ্রুত চালাচ্ছে যা ও এর আগে কখনো চালায়নি।এসব মুলত করছে নিজের রাগ কে কন্ট্রোল করার জন্য। ও চায়না কোনমতে নিদ্রার সঙ্গে এত মানুষের সামনে খারাপ ব্যবহার করতে। যা করার ঠান্ডা মাথায় করতে হবে।নিদ্রা কে বাড়ি ফিরিয়ে এনে ঠান্ডা মাথায় বুঝাবে।সবসময় সবকিছু রাগ দেখিয়ে কন্ট্রোলে আনা যায়না।কখনো কখনো ঠান্ডা মস্তিষ্কেও করতে হয়।

নিভ্র বেরিয়ে যেতেই সকলের মুখে চিন্তার ভাঁজ ফুটে উঠে।নীলা ভয় মিশ্রিত গলায় শুভ্র কে বলে,
নীলা: শুভ্র নিভ্র ভাইকে আটকালে পারতেন।আপনি জানেন তো ভাইয়া এখন কি করতে পারে।ভাইয়া যদি ভুল করেও এত মানুষের সামনে কিছু একটা করে বসে তাহলে কিন্তু সেটার প্রভাব পুরো পরিবারের উপর পড়বে।আমাদের ফ্যামিলি ভেঙে যাবে শুভ্র।

নীলার কথায় মিস্টার তালুকদার আর মিস্টার হোসেন আরও চিন্তিত হয়ে পড়েন কারণ উনারা চাননা সামান্য এক ঘটনা কে ঘিরে উনাদের মধ্যে ঝামেলা হোক।মিষ্টার আজিজ চিন্তিত হয়ে উঠে যান।উনি চাচ্ছেন না উনার আর উনার বন্ধুর মধ্যে কোনো জড়তা আসুক।এখন একমাত্র নিদ্রাই পারে সবটা বাঁচাতে।

ভার্সিটিতে ঢুকতেই আমার ফোনে ফোন এলো।আমার পাশে থাকা সাবু বললো,
সাবু: দেখ কে ফোন করেছে?
আমি হূ বলে জিন্সের পকেট থেকে ফোন বের করলাম।ফোনের স্ক্রিনে থাকা কলদাতার নাম দেখে আমার ভ্রু কুচকে এলো।আমি ফোন রিসিভ করে কানে দিতেই ঐপাশ থেকে কেউ একজন কিছু একটা বললো আর তার উত্তরে আমি শুধু হ্ন বললাম আর কল কেটে দিলাম।এত তাড়াতাড়ি ফোনে কথা বলা শেষ করায় সাবু অবাক হলো না আর কিছু বললোও না।

ফোনে কথা বলা আমার পছন্দ না।বরাবরই আমি একটু বেরসিক ধরনের।কেউ ফোন দিলে আমি কখনোই রিসিভ করিনা কারণ ফোন কানে দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা অন্তত আমার স্বভাবে নেই। আমি ফেস টু ফেস কথা বলাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি তাই কেউ আমায় সারাদিন তেমন ফোন দেও না।

সাবু কিছু না বলেই মুচকি হেসে আমার হাত ধরে এগিয়ে গেলো।আমিও মুচকি হয়েছে ওর সঙ্গে সাথ দিলাম।

পশ্চিমে সূর্য অস্ত যাচ্ছে।আকাশে ফুটে উঠেছে লাল আভা।সেই আভা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে যা আকাশের কোলে সৃষ্টি করেছে এক নতুন অপার দৃশ্যের। সূর্যাস্তের দিকে তাকিয়ে ফোনে ক্যামেরা বন্দী করলাম দৃশ্যটা।সবেমাত্র ক্লাস শেষ হলো।ক্লাস থেকে সাবুর সঙ্গে বের হতেই যাকে দেখলাম তাকে দেখে ঠোঁটে মলিন হাসি ফুটে উঠল।

পরণে থাকা নেভি ব্লু শার্টের ইনক নষ্ট হয়ে গেছে।মায়াবী চোখ দুটো লাল হয়ে এসেছে,চেহারা বিদ্ধস্ত লাগছে আর চুলগুলো উষ্কখুষ্ক লাগছে।সারাদিন রোদের মধ্যে দাড়িয়ে থাকার কারণে নিভ্রর ঘর্মাক্ত চেহারার সেই জৌলুসও হারিয়ে গেছে আর গায়ের ব্লেজার হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে।সারাদিন অপেক্ষা করে অবশেষে এখন দেখা মিলল নিদ্রার।

আমি নিভ্র ভাইয়া কে দেখতেই উনাকে না দেখার ভান করে সাবুর সঙ্গে কথা বলতে বলতে বেরিয়ে যাচ্ছিলাম। নিভ্র ভাইয়া যখন দেখলেন আমি উনায় দেখার পরও কোনো রিয়াকশন দিলাম না তখন উনি আমার দিকে এগিয়ে গেলেন। ততক্ষণে আমি কলেজ ইয়ার্ডের মাঝে চলে এসেছি।কলেজের সব স্টুডেন্ট নিভ্র ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে আছে কারণ এত সুদর্শন ছেলের দেখা পাওয়া চারটিখানি কথা নয়।

আমি তখন সাবুর হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ নিভ্র ভাই আমার সামনে এসে দাড়ালেন।আমি শান্ত ভঙ্গিতে বললাম,
নিদ্রা: আপনি এখানে কেন এসেছেন নিভ্র ভাই?
নিভ্র ভাই বিদ্ধস্ত ভঙ্গিতে ক্লান্ত গলায় বললেন,
নিভ্র: তোকে নিতে এসেছি নিদ্রা। বাড়ি চল… রাজশাহী থেকে এসে তোকে চোখের সামনে দেখতে না পেয়ে আমি খুবই নিরাশ হয়েছি।
নিদ্রা: আপনি ফিরে যান নিভ্র ভাই।আমি যাচ্ছি না আর না কোনোদিন ফিরবো ওই বাড়িতে।
নিভ্র: তুই যা বলবি তাই শুনবো তবুও তুই বাড়ী চল।
নিদ্রা: আমার কথা আমি আপনাকে শুনতে বলিনি।প্লিজ চলে যান এখান থেকে।এটা আমার কলেজ।আমি এখানে কোনো সিন ক্রিয়েট চাইছি না।আপনি যাওয়ার রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ান।

এবার নিদ্রার এত বাড়াবাড়ি তে নিভ্র রেগে গেলো আর রেগে গিয়ে দ্বিতীয়বার কিছু বললো না।কিছু না বলেই নিদ্রার হাত আকড়ে ধরলো আর নিদ্রা কে টেনে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো।

নিভ্র ভাই আজ চাইলেও আমায় নিয়ে যেতে পারবেন না কারণ আজ আমার উপর উনার কোনো জেদ মানব না আমি।আমি ঠায় দাড়িয়ে আছি দেখে নিভ্র ভাই আমার দিকে গরম চোখে তাকিয়ে বললেন,
নিভ্র: তুই কি এখন আমার সঙ্গে যাবি নাকি সবার সামনে আমার হাতে থাপ্পড় খাবি।

আমি এবার উনার হাত ঝটকা দিয়ে ছেরে দিলাম।উনি হতভম্ব দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন।আমি উনাকে উদ্দেশ্য করে জোর গলায় চিৎকার দিয়ে বললাম,
নিদ্রা: আপনি নিজেকে কি মনে করেন? প্রধানমন্ত্রী নাকি আপনি বাংলাদেশের যে আমি আপনার সব কথা শুনতে বাধ্য?আপনি শুধু বাংলাদেশের বড় বড় ব্যবসায়ীদের মধ্যে টপ ওয়ানে তার মানে এই নয় যে আপনি আমার মাথা কিনে নিয়েছেন।আপনি যত বড় মানুষই হন না কেন এই জান্নাতুল তিরানা নিদ্রা আপনার কথা শুনতে বাধ্য নয়।আর এতই যদি জোর দেখানোর ইচ্ছা থাকে তাহলে আপনার গার্লফ্রেন্ড নিরা আপু কে গিয়ে দেখান।ওর উপর অধিকার দেখাতে পারেন না। ও তো আপনার গার্লফ্রেন্ড ওর উপর দেখান।আমার উপর আপনার এত কিসের অধিকার? আমি কে হই আপনার?

হই তো আমি আপনার কাছের কেউ অবশ্যই।আমি আপনার বন্ধুর বোন তারমানে আপনারও বোন। তো একজন ভাইয়ের দায়িত্ত্ব পালন না করে আমার প্রেমিক হওয়ার দায়িত্ব কেন পালন করছেন?কিছু হলেই আমার উপর রেগে গিয়ে চোটপাট করেন,আমায় মারেন।আপনার এত অফেন্সিভ ব্যবহার আমি জাস্ট নিতে পারছিনা।আপনি জানতে চাইছিলেন তো আমি বাড়ি কেন যাচ্ছিনা? তাহলে শুনুন আমি বাড়ি কেন যাচ্ছি না।আমার বাড়ি না যাওয়ার একমাত্র কারণ আপনি।

উনি নিজেই আমার বাড়ি না যাওয়ার একমাত্র কারণ শুনে নিভ্র ভাই আমার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছেন।উনার দৃষ্টি নত আর শান্ত।উনার চোখে আজ আমার জন্য কোনো অস্থিরতা নেই।উনার দৃষ্টি দেখে ভিতর থেকে শান্তি পেলাম।তাহলে অবশেষে আমার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।আমি পেরেছি উনার পাগলামি খানিকটা থামাতে।এটা তো হওয়ারই ছিল।আজ নাহোক কাল তো উনি আমার থেকে দূরে যেতেনই । এখন নাহয় আরও কিছুদিন আগে দূরে সরে যাবেন।উনি আমার প্রতি ঝুঁকে পড়লে নিরা আপুর সাথে অন্যায় করা হবে সেই সাথে আমার সাথেও।আমি উনাদের মধ্যে তৃতীয়জন হবো আর আমি চাইনা আমার জন্য কেউ কষ্ট পাক।

আমি নিভ্র ভাইয়ের অবাক দৃষ্টি দেখে আবারও বললাম,
নিদ্রা: কি অবাক হচ্ছেন তো? হওয়ারই কথা।আপনি যখন কোনো ভুল কিছু করেন তখন তো একবারও কিছু ভেবে করেন না।মনে যা আসে তাই করেন।সত্যি বলতে নিভ্র ভাই আমি আপনার আমার উপর করা এই অত্যাচার আর নিতে পারছিনা।সত্যি বলতে আমি ফেড আপ হয়ে গেছি।আমি আপনার জন্য না কোনো ছেলের সাথে কথা বলতে পারি আর না আমার কোনো বন্ধুর সাথে মিশতে পারি।আপনার জন্য শান্তিতে খেতে অব্দি পারিনা আমি।ওই বাড়ি ফিরে গেলে আমাকে আবার আপনার এসব জোর দেখানো,অধিকার খাটানো সহ্য করতে হবে যেটা আমার পক্ষে আর সম্ভব না।সবকিছুর একটা লিমিট আছে।বিগত দশ বছর ধরে আপনার জেদ সহ্য করছি।আমার পক্ষে আর সম্ভব না সহ্য করা…. শেষ কথাগুলো বলে খান্ত হলাম।

খানিক বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে নিভ্র ভাইয়ের দিকে চোখ দিলাম।উনি আমি তাকাতেই আমার চোখ থেকে চোখ সরিয়ে নিলেন তারপর নিচের দিকে তাকিয়ে শান্ত ভঙ্গিতে বললেন,
নিভ্র: আমার জন্য ওই বাড়িতে তুমি যাচ্ছ না তাইতো? আমি যদি না থাকি তাহলে যাবে?
উনার কথায় আমি অবাক হওয়ার ভান করে বলি,
নিদ্রা: মানে? আপনি আবার কোথায় যাবেন?
নিভ্র: সেটা তোর না ভাবলেও চলবে।তুই বাড়ি ফিরে যা।মেঝ বাবা,বাবা তোর জন্য অপেক্ষা করছে।মেঝ মা কান্নাকাটি করছে।তোকে আর আমার অফেন্সিভ ব্যবহার সহ্য করতে হবে না।আজ থেকে তুই আর আমার চেহারা দেখবি না এটা মেহেরহান হোসেন নিভ্রর প্রমিজ বলেই নিভ্র ভাই কলেজ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যান।

আমি এখনও ভাবতে পারছি না উনি এরকম কিছু একটা বলবেন।আমি তো শুধু উনার মনে আমার প্রতি ঘৃণা তৈরি করতে চেয়েছিলাম কিন্তু খেলাতো ঘুরে গেছে।উনি আবার বাড়ি ছেরে চলে যাওয়ার প্ল্যান করছেন নাতো? উনার তো মাথার দুই একটা তার ছেরা।উনি পারেন না এমন কিছুই নেই।আমার খেলায় আমিই ফেঁসে গেছি।আমি চাইনা উনি কিছুতেই আমার জন্য বাড়ি ছাড়া হন।

এতক্ষণ আমার আর নিভ্র ভাইয়ের ঝগড়া সাবু গোগ্রাসে গিলছিল কিন্তু যেই দেখলো ঘটনা বিগড়ে যেতে শুরু করেছে ওমনি আমায় গুতো দিয়ে বললো,
সাবু: এই নিদ্রা…. নিভ্র ভাই তো বাড়ি ছেরে চলে যাওয়ার প্ল্যান করছে।ওকে আটকা….

সাবুর কথা কানে যেতেই আমি চিৎকার করে পিছন থেকে বলি,
নিদ্রা: নিভ্র ভাই কোথায় যাচ্ছেন সেটা তো বলে যান?আপনার গার্লফ্রেন্ড নিরা আপুর বাড়ি নাকি? আপনার আদরের মেঝ মা যদি জানতে পারে যে আমার কারণে আপনি বাড়ী ছেরে চলে গেছেন তাহলে মা আমায় মেরে ফেলবে। বাড়ি ছেড়ে যাবেন না নিভ্র ভাই।ক্ষমা চাইছি… আর এরকম কথা বলবো না।ভাইয়া তোমার চর থাপ্পড় সহ্য করে নিবো তবুও যেও না। বড় মা, বড় বাবা কষ্ট পাবে।

আমার কথায় নিভ্র ভাই পিছন ফিরে আমার দিকে তাকালেন অতঃপর মলিন হাসি দিয়ে চলে গেলেন।আমি দাড়ানো থেকে ধপ করে বসে পড়লাম। মানুষটা কে যে আজ বড্ড কষ্ট দিয়ে ফেলেছি।ভাইয়া কি কখনো আমায় ক্ষমা করতে পারবে?ভাইয়া তো চলে যাচ্ছে।এখন কি হবে?

সাবু বারবার আমায় ধাক্কা দিয়ে বলছে নিদ্রা ভাইয়া কে আটকা কিন্তু আমার মুখ দিয়ে যে কোনো শব্দই বের হচ্ছে না।চেষ্টা করে টু শব্দ করতে পারছিনা।পুরো কলেজের সব স্টুডেন্ট আমার দিকে তাকিয়ে আছে।কেউ কেউ কানাঘুষা করছে আমাদের ঝগড়া নিয়ে।আমি পাথরের ন্যায় শক্ত হয়ে বসে আছি।কিছুক্ষণ পর অনেক কষ্টে প্রচন্ড শক্তি দিয়ে চিৎকার দিয়ে নিভ্র ভাই বলে আর্তনাদ করে উঠলাম কিন্তু আপসোস আমার ডাক নিভ্র ভাইয়ের কানে হয়তো পৌঁছালই না।

~ চলবে ইনশাল্লাহ্

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here