তুই যে শুধুই আমার পর্ব ১৯

#তুই_যে_শুধুই_আমার [ ❤You are only mine❤ ]
#সিজন_2
#Part_19
#Writer_Asfiya_Islam_Jannat

সায়রা আরুশকে সারা বাড়ি খুঁজে না পেয়ে ওর রুমে যায়। যেই না রুমে যেতে নিবে কেউ ওকে হেচকা টান দিয়ে ভিতরে নিয়ে আসে আর সোফায় ফেলে ওর হাত দুটো চেপে ধরে। সায়রা সামনে তাকিয়ে ভয়ে একদম জমে যায়।
আরুশ ওর দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে। সায়রা ভয়ে ঢোক গিলে আর পিন পিন করে বলে।

সায়রাঃ আব তেরা কেয়া হোগা কালিয়া থুক্কু সায়ুপাখি। আবতো তু গেয়া।

আরুশঃ আমায় মিথ্যা কেন বলেছিলে?? শপিং করতে করতে কি এয়ারপোর্ট পৌঁছে গিয়েছিলে!! ধমকের সুরে।
[[ আসলে সায়রা মিথ্যা বলে এয়ারপোর্ট গিয়েছিল। সে বলেছিল সে মার সাথে শপিং এ যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো আরুশ কিভাবে জানলো তাই তহ!! আরুশ সর্বদা সায়রার পিছে দুইটো বডিগার্ড রাখে যারা সায়রাকে সবসময় আড়াল থেকে রক্ষা করে যায়। আর সায়রা কোথায় যাচ্ছে কি করছে তার সব খবর আরুশকে দেয়। সায়রা অবশ্য এই বিষয়ে জানে বাট মাঝে মাঝে ভুলে যায়। যেমনটা আজ। ]]

সায়রাঃ আব। আমি আসলে!!😅

আরুশঃ তুমি আসলে কি?? স্পিক আপ।। জোরে চিল্লিয়ে।

সায়রা এইবার ভয়ে কেঁপে উঠে আর তোতাপাখির মত সব বলে দেয়। সব শুনে আরুশ রাগে সায়রার বাহু দুটো আরো জোরে চেপে ধরে বলে।

আরুশঃ একটা কথা মাথায় একদম গেথে রাখ #You_are_only_mine. তুই আমার বাদে আর কাউরো না। আমাদের মাঝে যদি কেউ আসে বা আসার চেষ্টাও করে তাহলে তাকে আমি শেষ করে দিব। তোর আর আমার মাঝে আমি কোন বাঁধা সহ্য করতে পারবো না। তোকে আমি না পেলে সব ধ্বংস করে দিব।

এই বলে আরুশ সায়রাকে ছেঁড়ে দিয়ে দূরে গিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে।

আরুশঃ যদি তোমার বাবা মা আমায় না মানে আর আমাদের আলাদা করার চেষ্টা করে তাহলে তাদেরকেও আমি ছাড়বো না। সব শেষ করে দিব আমি।

সায়রাঃ কি সব বলছো তুমি!!

আরুশঃ ঠিক বলছি। আমি তোমায় দূরে যেতে দিব না। কোন মতেই না। তুমি আমার থেকে দূরে গেলে তোমাকেও শেষ করে দিব আমি।।

সায়রা বুঝতে পারে আরুশ প্রচন্ড রেগে আছে তাই এইসব উল্টা পাল্টা কথা বলছে। সায়রা জানে আরুশের রাগ কিভাবে কমাতে হয়। সে ধীর পায়ে আরুশের সামনে এসে নিজের দুই হাত ওর গালে রেখে বলে।

সায়রাঃ আমাদের কেউ আলাদা করতে পারবে না। কেউ না। আমি তোমারই। #I_am_only_your’s . আর বাবা মা ঠিক বুঝবে আমাদের কথাটা। ব্যাস তুমি মাথা গরম করো না। আর হ্যাঁ শুরুতেই বাবা মাকে বিয়ের কথা বলতে হবে না। যদি দেখ কথা সব হাত থেকে বেড়িয়ে যাচ্ছে তাহলেই বিয়ের কথাটা বলো নাইলে না।

আরুশঃ ঠিক আছে। বাট তুমি জানোই তহ আমি তোমায় হারাতে পারবো না। কিছুতেই না। বড্ড ভালবাসি তোমায়।

এই বলে আরুশ সায়রাকে জরিয়ে ধরে। সায়রাও ওকে জড়িয়ে ধরে।


✴✴– এক রুমের মধ্যে একজন পায়ের উপর পা তুলে টেবিলের উপর হাত রেখে তা মাথায় চেপে বসে। আর বলতে থাকে
— ” আরুশ আর সায়রা এক হবে। দুইজন দুইজনের হবে। নো নো। কখনোই না। এরা এক হলে যে আমার প্লেন যে সব ভাস্তে যাবে। সায়রাকে আরুশ থেকে দূর করতে হলে কিছু বড় ভাবতে হবে। তা না হলে এই আরুশই আমার পথের সবচেয়ে বড় কাটা হয়ে দাড়াবে। দুইজনের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করতেই হবে।
আর তা খুব জলদিই এই হবে”
বলেই অট্টহাসিতে ফেটে উঠে সে। ✴✴


🍁
ইমা বেগম আর আমিনুল সাহেবের সামনেই জরোসরো হয়ে বসে আছে আরুশ। পাশেই সায়রা আর জান্নাত। ইমা বেগম আর আমিনুল সাহেব বেশ পরোক্ষভাবেই আরুশকে জাচাই করে চলেছে। এতে আরুশের একটু অস্বস্তি বোধ হলেও পরক্ষণেই নিজেকে সামলিয়ে নেয় সে। আমিনুল সাহেব নিজের চশমার ফ্রেম ঠিক করে বলে।

আমিনুল সাহেবঃ আমি যদি ভুল না হই তুমি তহ সায়রার অফিসের বস তাই না?

আরুশঃ জ্বি। সায়রার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে।

আমিনুল সাহেবঃ তা আমাদের বাসায় আসার কারণ টা কি জানতে পারি!!

আরুশঃ আসলে আঙ্কেল আপনার আর আন্টির সাথেই আমার কিছু কথা ছিল।

আমিনুল সাহেবঃ আমাদের সাথে!! তা কি কথা শুনি।

আরুশ এক দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বলে।
আরুশঃ আমি সায়রাকে ভালবাসি। ওকে বিয়ে করতে চাই!! তাই আপনার কাছে ওর হাত চেতে এসেছি।

আমিনুল সাহেব চোখ পিটিপিটি করে আরুশের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে।

আমিনুল সাহেবঃ এইটা সম্ভব না। তোমার সাথে আমি ওর বিয়ে দিতে পারবো না।

আরুশঃ বাট কেন!!

আমিনুল সাহেবঃ ওর আগে থেকেই বিয়ে ঠিক হয়েছে তাই।

আরুশঃ বিয়ে ঠিক হয়ে আছে বিয়ে তহ আর হয়নি তাই না!! এমনকি এনগেজমেন্টও হয় নি তাহলে তহ বিয়ে ভাঙতে অসুবিধাও নেই।

আমিনুল সাহেবঃ আমি শুধু এই বিষয়ের জন্য আমি অমত করছি না অন্য কারণও আছে!!

আরুশঃ আমি কি সেই কারণ জানতে পারি।।

আমিনুল সাহেবঃ কারণটা তুমি..

আরুশঃ আমি!!

আমিনুল সাহেবঃ হ্যাঁ তুমি। তোমার মত ছেলের সাথে আমি আমার মেয়ের বিয়ে কিছুতেই রাজি নই।

তখন সায়রা আর আরুশ এক সাথে বলে উঠে।
— ” মানে”

আমিনুল সাহেবঃ সেইদিন হসপিটালে ঠিক কি কি হয়েছিল তা আমি ভালো করেই জানি। সায়রার সেই অবস্থার জন্য যে শুধু তুমি দায়ী ছিলে তাও আমি জানি। ওকে কষ্ট তুমিই দিয়েছিলে। আর এইসবের পর তুমি ভাবলেও কি করে যে আমি আমার মেয়ের হাত তোমায় দিব?

সায়রাঃ বাবা যা ছিল তা অনাচ্ছিকৃত। এর জন্য কেউ দায়ী নয়। আর সেটা একটা এক্সিডেন্ট ছিল।

আমিনুল সাহেবঃ এক্সিডেন্ট কেন হয়েছিল? শুধু মাত্র এই ছেলের কথা রাখতে গিয়ে। তাই না!! তাহলে দোষ কার??

সায়রাঃ বাবা আমার কথাটা শুনো!!

আমিনুল সাহেবঃ আমি কোন কথা শুনতে চাই না ব্যাস৷ আমি তোমার বিয়ে কোন মতেই এই ছেলের সাথে দিব না। তোমার বিয়ে রিসাবের সাথেই হবে।

ইমা বেগমঃ তোমার বাবা ঠিকই বলছে। তোমার বিয়ে শুধু রিসাবের সাথে হবে।

সায়রাঃ মায়ায়া।।

আমিনুল সাহেবঃ কোন কথা না সায়রা। তুমি রুমে যাও। তোমার এইখানে থাকার কোন প্রয়োজন নেই। জান্নাত ওকে রুমে নিয়ে যাও।

সায়রা কিছু বলতে যাবে তখন আরুশ চোখের ইশারায় চুপ থাকতে বলে আর এইখান থেকে চলে যেতে বলে। তাই সায়রা চুপ হয়ে যায় আর জান্নাত সায়রাকে নিয়ে রুমে চলে যায়। ইমা বেগমও কিছু কাজে চলে যায় রান্নাঘরে। রয়ে যায় আরুশ আর আমিনুল সাহেব। তাদের মধ্যে পরবর্তীতে কি কথা চললো তা আর কেউ জানলো না।



🍁🍁🍁


বেশ অনেকক্ষণ ধরেই রুমের মধ্যে পায়চারি করছে সায়রা আর জান্নাত। বাইরে কি হচ্ছে তাদের কাউরো জানা নেই। সায়রা তহ টেনশনে মরে যাচ্ছে। কিভাবে তার বাবাকে রাজি করাবে সে বুঝে উঠতে পারছে না।
হঠাৎ বাইরে থেকে ইমা বেগমের চিৎকার কানে ভেসে আসে। সায়রা আর জান্নাত দুইজনের মুখ চাওয়া চাওয়ি শুরু করে দেয়। দুইজন কিছু না ভেবে হন্তদন্ত হয়ে বেড়িয়ে আসে রুম থেকে।
এসে যা দেখে তাতে সায়রার মাথা বাজ ভেঙ্গে পড়ে।
আমিনুল সাহেব নিচে পড়ে আছে। মাথার পাশ নিয়ে গড়িয়ে চলেছে রক্তের বন্যা। তার সামনেই আরুশ দাড়িয়ে আছে ডান হাতে তার এলিমুনিয়ামের ফ্লাওয়ার ভ্যাস। যার কোনে লেগে আছে রক্ত।
সায়রা ” বাবা ” বলে চিৎকার করে উঠে দৌড়ে যায় তার কাছে। ইমা বেগমও দৌড়ে আসে। দুইজনেই আমিনুল সাহেবকে ডাকতে থাকে।
আরুশ সামনে আসতে নিয়ে সায়রা তাকে বাধা দেয়। তাকে নিষেধ করে সামনে আসতে।
এমন সময় দরজার কলিং বেল বেজে উঠে। জান্নাত গিয়ে দরজা খুলতেই দেখে রিসাব। [[ রিসাব এতক্ষন বাসায় ছিল না। সকাল সকাল একটা কাজে বেড়িয়ে গিয়েছিল।। ]]
রিসাব এসে বলতে থাকে এইসব কিভাবে হলো কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারছে না।

রিসাবঃ আগে তার মাথা রক্ত বন্ধ করতে হবে। আন্টি আপনি যান গিয়ে একটা সুতি কাপড় নিয়ে আসেন। মাথাটা বাদতে হবে। আর আমি এখনই এম্বুল্যান্সকে ফোন দিচ্ছি।

রিসাব দেরি না করে একটু দূরে গিয়ে ফোনটা বের করে এম্বুল্যান্সকে ফোন দিতে থাকে। ইমা বেগমও রুমে চলে যায় কাপড় আনতে। সায়রা কেদেই চলেছে আর বাবাকে ডেকেই চলেছে। আরুশ নিরবাকের মত দাড়িয়ে আছে। সে কি করবে বুঝতে পারছে না।
হঠাৎ আমিনুল সাহেব চোখ খুলে আর বড় বড় শ্বাস নিতে থাকে। তা দেখে সায়রা চিল্লিয়ে উঠে।

সায়রাঃ বাবা!! দেখ এইযে আমি। কথা বল। আমায় বল এইসব কে করেছে??

আমিনুল সাহেব কিছু একটা বলার চেষ্টা করছেন কিন্তু বার বারই ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি আস্তে আস্তে তার বা হাত উঠিয়ে সামনের দিকে ইশারা করে কিন্তু তা বেশি রাখতে পারেন না। জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। সায়রা তার হাতের ইশারার দিকে তাকিয়ে দেখে আরুশ। আরুশ এইবার হতবম্ব হয়ে যায়। সে সামনে আসতে নিলেই সায়রা চিৎকার করে উঠে।

সায়রাঃ বেড়িয়ে যান এইখান থেকে। তা না হলে আমি কি করবো তা আমিও জানি না। আপনার চেহারাও আমি দেখতে চাই না।

আরুশঃ সায়ুপাখি আমার কথাটা শুনো। আমি,,,

সায়রাঃ আপনি কি হ্যাঁ আপনি কি?? আপনার সাহস কিভাবে হলো আমার বাবাকে মারার?? বলুন!!!

আরুশঃ আমি,,

সায়রাঃ কিছু শুনতে চাই না আমি৷ চলে যান এইখান থেকে। আপনাকে আমার এইখানে জাস্ট সহ্য হচ্ছে না। বেড়িয়ে যান।

আরুশ কিছু বলতে যাবে এর আগেই ইমা বেগম আর রিসাব চলে আসে। তারা আমিনুল সাহেবকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরে।
প্রায় কিছুক্ষণের মধ্যেই এম্বুল্যান্স চলে আসে আর আমিনুল সাহেবকে নিয়ে যায়। রিসাব আর ইমা বেগম আমিনুল সাহেবের সাথে বেড়িয়ে যায়। সায়রা যেতে নিলে আরুশ ওর হাত ধরে টান দেয়।
সায়রা হাতে টান অনুভব করে পিছে ঘুরে দেখে আরুশ। সায়রা এইবার রেগে গিয়ে এক ঝটকায় নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয় আর আরুশের গালে কষে এক থাপ্পড় বসিয়ে দেয়।

সায়রাঃ Don’t you dare to touch me. আমাকে স্পর্শ করার অধিকার আপনি হারিয়ে ফেলেছেন। তাই পরবর্তীতে আমারকে স্পর্শ তহ দূরের কথা কাছেও আসার চেষ্টা করবেন না।

এই বলে সায়রা চলে যায় আর আরুশ মূর্তির ন্যায় দাড়িয়ে থাকে। জান্নাত এতক্ষন সবই দেখছিল। তার আরুশের জন্য সামান্য খারাপ লাগলে সায়রার জন্য প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছিল। কেন না জান্নাত ভালো করেই জানে সায়রার কাছে ওর বাবা কি!! আর কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
জান্নাত কিছু না বলে আরুশের পাশ কাটিয়ে চলে যায়। কেন না সায়রাকে যে এখন তার প্রয়োজন।


🍁
🏥 In Hospital 🏥


#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here