তোমাতেই খুজি আমার পূর্ণতা পর্ব -০৭

#তোমাতেই_খুজি_আমার_পূর্ণতা🤗 (৭)
#Maisha_Jannat_Nura (লেখিকা)

ফ্লাশব্যক…..
রাতের খাবার শে’ষ করে বিছানায় আধোশোয়া হয়ে ছিলাম, লোকটির (তীব্র) কথা কেনো যেনো নিজের না চাওয়াতেও বারবার মনে পড়ছে, আমার মস্তিষ্ক আমাকে বারংবার জানান দিচ্ছে তাকে (তীব্র) নিয়ে ভাবতে ভালো লাগছে ভাবতে দাও না৷ আমার মনকে আমি প্রশ্ন করি “”তোমারও কি মতিষ্কের মতো তাকে (তীব্র) নিয়ে ভাবতে ভালো লাগছে?””

আমার মন ও যেনো আমাকে জানান দিচ্ছে….
“”হুম মানুষটা (তীব্র) তো ততোটাও খা’রা’প না, সকলের সামনে নিজের খা’রা’প রূপ দেখালেও, তার একান্ত সময়ে যখন তুমি (তৃপ্তি) নামক মানুষটিকে স্মরণ করেছে তাহলে তাকে (তীব্র) নিয়ে একটু ভাবলে কি স’ম’স্যা? কোনো নি’ষে’ধা’জ্ঞা আছে নাকি?”” আমার মন আর মস্তিষ্কের চি’ন্তা’ধা’রা দেখে আমি ও বেশ অবাক না হয়ে পারছি না। নিজেকে আশ্বস্ত করি এটা বলে “”সত্যিই তো যেহেতু তাকে নিয়ে ভাবতে কারোর নি’ষে’ধা’জ্ঞা নেই তাই আমি ভাবতেই পারি””।

নানান ধরনের চি’ন্তা করতে করতেই হঠাৎ ফোনের শব্দে ধ্য’ন ভা’ঙে আমার। ফোনটা হাতে নিতেই আবারও ওনার (তীব্র) নাম্বার ফোন স্ক্রিনে ভাসতে দেখে আনমনেই মৃদুস্বরে হেসে ফেলি, দ্রুত ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে সেই চেনা মুগ্ধকর রা’শ’ভা’ড়ি কন্ঠ আমার কর্ণপাত হয়।

_____কি ব্যপার ভী’ত’পা’খি এখনও জে’গে আছো দেখছি!

_____এমনিই ঘুম আসছিলো না তাই জেগেছিলাম, আপনিও তো জেগে আছেন।

_____আমার রাত জাগার অনেক পুরোনো অভ্যাস রয়েছে, এটা নতুন কিছু না।

_____বেশি রাত জাগা শরীরের জন্য ক্ষ’তি’ক’র মি.মা’ফি’য়া কিং……

_____উফহহহ….তোমার কন্ঠে মি.মা’ফি’য়া কিং ডাকটা শুনে কেনো যেনো অনেক বেশিই ভালো লাগা কাজ করছে। মনে হচ্ছে তোমার কন্ঠে এই ডাকটা শোনার জন্যই হয়তো আমার মা’ফি’য়া কিং হয়ে উঠা।

ওনার এমন কথা শুনে আমি শব্দ করেই হেসে দেই। আমার হাসির শব্দ শুনে উনিও মৃদুস্বরে হাসেন তা বুঝতে পারি। পরমুহূর্তে আমি বলে উঠি….
_____কোনো ভাবে আপনি আমার সাথে ফ্লা’টিং করছেন নাতো?

_____এসব ফ্লা’টিং করা আমার দ্বারা হয় না গো ভী’ত’পা’খি। তবে একটা কথা আমি মানি ও কাজে করি।

_____যেমন….

_____আমার যে জিনিসটা বা যাকে মনে ধরে তাঁকে আমি কোনো ভাবে হাত ছাড়া হতে দেই না, যেকোনো মূল্যে তাকে বা সেই জিনিসটা আমি নিজের করে নেই এতে তার সম্মতি থাক বা না থাক তা আমি প’রো’য়া করি না।

_____মা’ফি’য়া’দের এমন স্বভাব থাকাটা তো অস্বাভাবিক না।

_____তুমি আমাকে নাম ধরে ডাকতে পারো!

_____ঠিক আছে এরপর থেকে ডাকবো না হয়!

এভাবেই আরো কিছুসময় কথা হয়, একপর্যায়ে আমার স্মরণ হয় আমার তার নিকট ক্ষ’মা চাওয়ার কথা ছিলো যা এখনও আমি চেয়ে উঠতে পারি নি এবার বরং চেয়েই নেই। আমি ক্ষ’মা চাওয়া নিয়ে কথা উঠাতেই যাবো সেইমূহূর্তে তীব্র আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে…..

_____আগামীকাল কি তোমার ফ্রী সময় হবে?

আমি আমার ভ্রু কিন্ঞ্চিত কুঁচকে নিয়ে বললাম…
_____কেনো?

উনার সাবলীল জবাব…
_____দেখা করতাম।

আমি কিছুসময় নিরব থেকে প্রতিত্তুর করলাম..
_____ঠিক আছে, কোথায় যেতে হবে বলে দিন।

_____ধরে নাও সেটা তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ।

_____সারপ্রাইজ?

_____হুম, কাল তুমি তোমার ভার্সিটির সামনে আমার জন্য অপেক্ষা করো আমি গিয়ে তোমাকে উঠিয়ে নিবো।

_____আচ্ছা।

_____তাহলে আজ রাখছি? ঘুমাও তুমি অনেক রাত হয়ে গিয়েছে।

_____আপনিও ঘুমান।

_____হুম, শুভ রাত্রী।

_____শুভ রাত্রী।

পরক্ষণেই ওপাশ থেকে কল কে’টে যায়। আমি মনঃস্থির করি যেহেতু আগামীকাল ওনার সাথে আমার সাক্ষাৎ হচ্ছে তাই ক্ষ’মা’টি সামনা-সামনিই চেয়ে নেওয়াটা শ্রেয় হবে। তারপর আমি বিছানায় আমার সম্পূর্ণ শরীর এলিয়ে দিয়ে ঘুমের রাজ্যে ডু’বে যাই।

পরদিন সকালে…
————–
প্রতিদিনের মতো ভোর সকালে ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ আদায় করে, রান্না ঘরে গিয়ে আদা দিয়ে রং চা বানিয়ে ছাদে চলে যাই। ভোরবেলার আকাশে সূর্য উদয়ের মূহূর্তটা উপভোগ করতে করতেই চা পান করা শে’ষ করে আবার নিজের রুমে চলে আসি। আজ যেহেতু ভার্সিটির পর ওনার সাথে দেখা করতে হবে তাই গোসলের পর্বটা এখনি সে’রে একেবারে বের হওয়া ভালো হবে।

তাই গোসল সে’রে গাঢ় মেরুন রংয়ের একটা থ্রি-পিচ পড়ে নেই। চুল গুলো একপাশ দিয়ে বিনুনি করে নেই, চোখে গাঢ় কাজল দেই আর ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপ’জে’ল লাগিয়ে নেই। নিজের ফাইনাল লু’ক’টি আরেকবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করে নিয়ে টেবিলের উপর থেকে প্রয়োজনীয় ২টো বই, একটা খাতা, কলম, রিকশা ভাড়া আর ফোনটা ব্যগে ঢুকিয়ে নিয়ে ঘর থেকে বের হই। ডাইনিং রুমে এসে হালকা নাস্তা করে নিয়ে মাকে উদ্দেশ্য করে বলি…

_____আজ ভার্সিটিতে ছোট্ট করে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন ভার্সিটি কতৃপক্ষ তাই আসতে কিছুটা দে’ড়ি হবে।

তারপর বাসা থেকে বেড়িয়ে একটা রিকশা ধরে ভার্সিটিতে চলে আসি। ক্লাসরুমে প্রবেশ করে লিনাকে চোখে পড়তেই ওর পাশে গিয়ে বসে পরি। আমার দিকে কেমন এক্সট্রা লু’ক নিয়ে তাকিয়ে আছে লিনা, তা দেখে আমি ভ্রু’কু’টি’য়ে নিয়ে বললাম…

_____কিরে! এভাবে ড্য’ব’ড্য’ব করে তাকিয়ে আছিস কেন?

_____দোস্ত আজ তোকে তো পুরো মাশাআল্লাহ পরীর মতো লাগছে। তো হঠাৎ এতো সাজগোজ করে আসার কারণ কি শুনি?

_____কোথায় সাজ-গো’জ? প্রতিদিনের মতো হালকাই তো আছে সব।

_____উহুহহহ…আজ তোকে কেমন কেমন যেন লাগছে সবমিলিয়ে। কি চলছে বলতো তোর পে’টে পে’টে?

_____সে’ট আ’প সিনার হা’ড্ডি। বাই দ্যা ও’য়ে তোকে তো একটা কথা বলাই হলো না।

_____হুম এবার লাইনে এসেছো তুমি বা’ছা’ধ’ন। চ’ট-জলদি বলে ফেলো তাহলে কি বলা হয় নি তোমার আমাকে!

আমি লিনাকে তীব্রের সাথে কাল থেকে বলা সব কথা শেয়ার করি, দেখা করার কথা ও সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছে সে বিষয়টাও বলি। লিনা আমার সম্পূর্ণ কথাগুলো শুয়ে কিছুসময় নিরব থাকে তারপর বলে…

_____ডাল মে জা’রু’র কু’ছ কা’লা নাজার আ রাহা হে।

_____মানে?

_____এতো বড় ব্যবসায়ী আবার মা’ফি’য়া কিং সে কিনা পারসোনালি তোর সাথে দেখা করে তোকে সারপ্রাইজ ও দিতে চেয়েছে তাহলে বিষয়টা তো বেশ সি’রি’য়া’স দোস্ত।

_____তুই কি খা’রা’প কিছুর ই’ঙ্গি’ত করছিস?

_____আরে না, খা’রা’প ই’ঙ্গি’ত করতে যাবো কেন? চা’প নিস না যা হবে ভালোটাই হবে। তুই নিশ্চিন্ত মনে ওনার সাথে সাক্ষাৎ পর্ব সে’ড়ে আয়, আর কি সারপ্রাইজ দেয় সেটাও দেখ।

আমি লিনার কথায় সম্মতি প্রদান করি। যথারিতীতে ক্লাস সব শেষ করে আমি আর লিনা ভার্সিটির বাহিরে তীব্রের আসার অপেক্ষা করছিলাম। কিছুসময় অপেক্ষা করার পর একটা ব্লাক কার আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়ে পরে। ভিতর থেকে গাড়িটির দরজা খু’লে দিতেই ড্রাইভিং সিটে তীব্রকে বসারত অবস্থায় দেখতে পাই আমি আর লিনা। তীব্র স্মিত হেসে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে….

_____উঠে আসুন মেডাম।

আমি একপলক লিনার দিকে তাকাই, লিনা হাসি হাসি মুখ নিয়ে আমাকে গাড়িতে উঠতে বলে আর পাশাপাশি বেস্ট অফ লা’ক জানায়। আমি লিনাকে সাবধানে বাসায় চলে যেতে বলে গাড়ির ভিতর তীব্রের পাশের সিটে বসে দরজাটা বন্ধ করে দেই। তীব্র শীতল কন্ঠে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে…

_____খুব বেশি সময় অপেক্ষা করিয়ে ফেললাম না তো?

আমি মাথা নাড়িয়ে না সম্মতি প্রদান করি। বুকের ভিতর ঢি’প’ঢি’প আওয়াজ হচ্ছে, কেমন যেনো অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছে। হাতের সাথে হাত ক’চ’লা’তে শুরু করি, তীব্র হয়তো আমার অ’স্থি’র’তা’র বিষয়টি লক্ষ্য করেছে, তাই আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো…

_____তুমি কি আমার সাথে একা যেতে ভ’য় পাচ্ছো?

আমি চ’ট করে তাকাই তীব্রের মুখশ্রী পানে, দৃষ্টি তার সামনের দিকে স্থির। এইমূহূর্তে আমার কি বলা উচিত বু’ঝে উঠতে পারছি না, পরমুহূর্তে দৃষ্টি সামনের দিকে নিক্ষেপ করে জোরে জোরে কয়েকবার নিঃশ্বাস নিয়ে বলি….

_____মা’ফি’য়া কিং এর সাথে এই প্রথম একান্তে কোথাও যাচ্ছি তাই নিজের মাঝে কিছুটা অ’স্থি’র’তা কাজ করতে পারে না কি?

আমার কথা শুনে তীব্র বললো…
_____হুম তা ঠিক বলেছো। তবে আমি তো ভাবছি তোমাকে খু’ন না করে বরং বি’ক্রি করে দিবো।

তীব্রের এমন কথায় আমি বারকয়েক শুকনো ঢো’ক গি’লে নেই, ওনার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলি….
_____দ’য়া’ক’রে এমন করবেন না। আমার সেদিন আপনার সাথে ওমন করাটা উচিত হয় নি, আমি তারজন্য আপনার কাছে ক্ষ’মা চেয়ে নিচ্ছি, কিন্তু সেদিনের বিষয়টা নিয়ে নিজের মধ্যে কোনো রা’গ পু’ষে রেখে আমাকে বি’ক্রি করে দিয়েন না। আমার মা-বাবা-ভাই আমার কথা চি’ন্তা করে অনেক ক’ষ্ট পাবে।

আমার এসব কথা শুনামাত্র তীব্র শব্দ করে হেসে দেয়, আমি চোখ বড় বড় ওনার হাসি দেখছি৷ আমার অনুরোধের কথা শুনে উনার হাসি পাচ্ছে আজব তো! পরক্ষণেই উনি হাসি থামিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন…

_____শুধু শুধুই তো তোমাকে ভী’ত’পা’খি বলে ডাকি না। দেখো শুধুমাত্র বললাম মজা করে যে তোমাকে আমি বি’ক্রি করে দিবো আর তুমি সেটা সরল মনে বিশ্বাস করে নিলে।

_____আপনি আমার সাথে মজা করলেন? (ভ্রু কু’টি’য়ে)

_____তো তুমি যদি বলো তাহলে বরং সত্যিই করে দেখাই!

_____উমমমম…নাআআআআ।

তীব্র আবারও মিটমিটিয়ে হাসতে শুরু করেন। আমি আমার দু-হাত বুকের সাথে গু’জে নিয়ে রাগে ফু’স’তে শুরু করি, আর ভাবি…
_____কি খা’রা’প আর চ’তু’র মানুষ একমুহূর্তের জন্য আমাকে বো’কা বানিয়ে ছাড়লো।

এরপর আরো বেশ কিছু সময় পেরিয়ে যায়, তীব্র আমার সাথে নানান ধরনের কথা বলে আমার মন ঠিক করার চেষ্টা করেন। প্রথম প্রথম আমি রেসপন্স না করলেও পরে ঠিকি রেসপন্স করি, আর মূহূর্তের মধ্যেই নিজের মধ্যে থাকা সব রাগ হাওয়ায় মিলিয়ে যায় আমার।

এতোসময় তীব্রের দিকে সেভাবে খেয়াল করি নি, মন ভালো হতেই আ’ড় দৃষ্টিতে তীব্রকে পর্যবেক্ষণ করি, আমার বে’হা’য়া মন আর চোখজোরা বারবার তীব্রকে দেখতে চাইছিলো। অদ্ভুত বিষয় তীব্রও গাঢ় মেরুন রংয়ের কোর্ট পড়েছে সাদা শার্টের উপর, ফর্সা মুখ ভর্তি চাপ দাঁড়ি, ঘন কালো চুল সবমিলিয়ে ভিষন সুন্দর লাগছে তীব্রকে। একটা সময় তীব্রের সাথে আমার চোখাচোখি হয়ে যায়, আমি কিছুটা লজ্জায় পড়ে যাই। তীব্র আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে…

_____দেখতে ইচ্ছে করলে সরাসরি আমার দিকে তাকিয়ে থাকবে, যতোক্ষণনা দেখার ইচ্ছে মি’ট’ছে ততোক্ষণ দেখে যাবে। কিন্তু এভাবে লু’কি’য়ে লু’কি’য়ে দেখার কি আছে মিস.ভী’ত’পা’খি?

তীব্রের এমন কথায় আমি যেনো লজ্জায় মাটির সাথে মি’শে যাওয়ার উপক্রম হই৷ মুখ ফুটে টু শব্দ টি করতে পারি না। বেশ কিছুটা পথ অতিক্রম করতেই তীব্র গাড়ির ব্রে’ক ক’ষে,আর বলে…

_____নামো এবার, আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে গেছি।

তীব্রের কথা কর্ণপাত হতেই আমি গাড়ির দরজা খুলে নেমে পড়ি। পরক্ষণেই সামনের দিকে লক্ষ্য করতেই আনন্দে আমার চোখ জ্বল জ্বল করে উঠে।

#চলবে…….

[বিঃদ্রঃ~ তৃপ্তির সাথে তীব্রের খা’রা’প ব্যবহার আপনাদের অনেকেরই ভালো লাগছে না জানি, কিন্তু সবকিছুর পিছনেই একটা যথাযথ কারণ থাকে তা নিশ্চয়ই মানেন আপনারা? তাই বলছি দয়াকরে অ’ধৈর্য হয়ে পড়বেন না, ধৈর্য নিয়ে পরের পর্বগুলো পড়ার অনুরোধ রইলো। একটু গুছিয়ে সব ধো’য়া”শা গুলো পরিষ্কার করতে চাচ্ছি তাই কিছুটা সময় লাগছে। খুব দ্রুতই তৃপ্তির সাথে তীব্রের এমন আচারন এর কারণ জানতে পারবেন। ভু’ল-ত্রু’টি ক্ষ’মা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here