তোর চোখে আমার সর্বনাশ পর্ব – ৩

তোর চোখে আমার সর্বনাশ

৩.

পুরো বাড়ি গমগমে বিয়ে বাড়ি বলে কথা যো। এক বিন্দু জায়গা ও ফাঁকা নেই চিকন শরীর টা এলিয়ে দেওয়ার মতো। মায়ের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ শেষ করে এলো ফারাহ্। ইতিমধ্যে সবাই শুয়ে ও পড়েছে ওর রুমের বেড ও ব্লক। কাবার্ড থেকে এক্সট্রা কাঁথা বালিশ নিয়ে বের হয়ে এলো। এই বিশাল বাড়িতে বর্তমানে দু’টো রুম ফাঁকা আছে। নাহিয়ের রুম আর ওর ভাইয়ের রুম। ভাইয়ের রুমে উঁকি দিয়ে দেখল আরেক টা ছেলে তার ভাইয়ের পাশে শুয়ে আছে। নিশ্চয়ই রিশাব। কেনো জানি ইচ্ছে করল না ওই রুমে ডুকতে। সব রুমের ঠেসা ঠেসা অবস্থা। নাহিয়ানের রুমে টায়তো নাহিয়ান ছাড়া আর কেউ নেই। ওই রুমেই যাওয়া ভালো। সে ছোট থেকে দেখছে এ একটা মানুষের রুমে কেউ কে ডুকতে দে না। দরজা হালকা ফাঁকা করে দেখতে ফেল নাহিয়ান ফর্সা পিঠ খানা। উপর হয়ে শুয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। কোমড় পর্যন্ত ব্ল্যাঙ্কেটা ডাকা। বড় একটা শ্বাস নিয়ে রুমে প্রবেশ করল ফারাহ্। নাহিয়ানের কক্ষ সবার কক্ষ থেকে আলাদা। বিলাসবহুল। রুমের ডিভান টা অনেক বড়। ওর পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি ছয়চল্লিশ কেজি শরীর খানা অনায়াসে খাপ খাবে। কিছু না ভেবে চুপিসারে বালিশ রেখে শুয়ে পড়ল। এক পলক নাহিয়ানের দিকে চেয়ে কাঁথা মুড়িয়ে নিল। জারা আড়াল থেকে বের হয়ে এসে শক্ত মুখে বলল ,
‘ খুব শখ না ছেলেদের রুমে ঘুমানো সকালে দেখবি মজা ফারাহ্। ‘
আস্তে করে বাহির থেকে নাহিয়ানের রুমের ডোর লকড করে দিল। মুখে বিদৎগুটে হাসি।

রাত পেরিয়ে সকাল হল। বারান্দায় সাইডে স্বচ্ছ কাচের গ্লাস দিয়ে ঘেরা। যেহেতু এর পর বারান্দায় তাই ওই দিকের দেওয়াল টা কাচের গ্লাস দিয়ে দেওয়া হয়েছে। নাহিয়ানের রুমের সব রুম থেকে কাচের গ্লাস বেশি যে দিকে তাকায় সে দিকে গ্লাস আর গ্লাস। কাচের গ্লাসের সামনে আবৃত্ত মোটা ব্ল্যাক পর্দা ফাঁকে দিয়ে সূর্য আলোক রশ্মি উঁকি ঝুঁকি মেরে নাহিয়ানের চোখে পড়ল। চোখ মুখ কুচকে তাকালো নাহিয়ান। হাতরিয়ে সেলফোন খুঁজে নিল। সকাল নয় টা দেখে অবাক হল সে। ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে। আজকে ফজরের নামাজ কাযা হয়ে গেছে। আফসোস হচ্ছে খুব। রাতে তাড়াহুড়ো করে ঘুমাতে এসে এলার্ম দিতে ভুলে গেল। দুই হাত উপরের দিকে তুলে হাই দিতে গিয়ে ও দিল না। ডিভানে শুয়ে থাকা ফারাহ্ কে দেখে। ও রাতে দরজা লক করে নি?মেয়েটা ওর রুমে কেনো? সকাল সকাল মেজাজ বিগড়ে গেল। বেডে ছেড়ে নেমে হ্যাঁচকা টেনে ফারাহ্ দাঁড় করিয়ে দিল। ফারাহ্ ঘুম ঘুম কন্ঠে শুধালো ,

” কে রে ভাই আমার সাদের ঘুম্ ন্ ষ্ঠ্ __”

টেনেটুনে ও আর কথা বের করতে পারলো না বেচারি। একটা ফাঁকা ঢোক গিলল। নাহিয়ান চোয়ালে শক্ত করে জিজ্ঞেস করল ,

” তুই আমার রুমে কি করসি? ”

ফারাহ্ সাহস জুগিয়ে জবাব দিল ,

” দেখ ছিলেন তো কি করছিলাম আবার জিজ্ঞেস __”

” স্যাটাপ। বের হয় রুম থেকে। ”

নাহিয়ানের কর্কশ গলায় শুনে ভ’য়ে কুকড়ে উঠল ফারাহ্। লোক টা রাগ ভ’য়ং’ক’র। পা দরজার দিকে বাড়াতে গেলই। নাহিয়ান বলল ,

” সবাই ঘুম থেকে উঠে গেছে তুই এখন আমার রুম থেকে বের হলে কেল্লাফতে। বারান্দায় দিয়ে যা। ”

” হোয়াট! ”

” তোর রুম আমার পাশের রুম না এতো চেচাচ্ছিস কেনো?”

” আপনি পাগল হয়ে গেছেন নাহিয়ান ভাই আমি এই বারান্দায় পেরিয়ে এই বারান্দায় যাবো কি করে? আর সব চেয়ে বড় কথা বারান্দায় গ্লাস ধারা আবৃত। ”

নাহিয়ান কিছু না বলে ফারাহ্ হাত ধরে টেনে বারান্দায় নিয়ে এলো। নিজে এই বারান্দায় থেকে টপকে ওই বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। এক হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল ,

” আয়। ”

ফারাহ্ হতো ভরসা খুঁজে পেলো। কাঁপা কাঁপা হাতে নাহিয়ানের হাত ধরে রেলিঙের উপর উঠে দাঁড়ালো। ওর রুমের বারান্দার রেলিঙের উপর এক পা রেখে অন্য পা রাখতে যাবে তখনই পুরো শরীর নড়ে উঠল। সাথে সাথে নাহিয়ান ফারাহ্ কোমড় জড়িয়ে ধরে উঁচু থেকে নামিয়ে মেঝেতে দাঁড় করিয়ে দিল। সেকেন্ডের মাঝে ফের টপকে নিজের বারান্দায় চলে যায়। ফারাহ্ বুকে হাত দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস টানছে। বুকের ভিতর ধড়ফড় করছে। নাহিয়ান কাঁথা বালিশ এনে ছুড়ে মারলো ফারাহ্ পায়ের কাছে। ফারাহ্ চোখ বন্ধ থাকা আচমকা কয়েক পা পিছিয়ে গেল। নাহিয়ানের দিকে বোকা চোখে তাকিয়ে আছে৷ লোক টা কি? মিনিট খানিক পর সুফিয়া হানজালা ফারাহ্ খোঁজে বারান্দায় এলেন। সকাল থেকে মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছেন না। ফারাহ্ কে বারান্দায় কাঁথা বালিশ সহ বসে থাকতে দেখে বললেন ,

” তুই রাতে বারান্দায় ছিলি? ”

জোরপূর্বক হাসল ফারাহ্। প্রতুত্তরে কিছুই বলল না। সুফিয়া হানজালা ফের বললেন ,

” আমার রুমে গিয়ে থাকতে পারতি তোর আব্বু না হয় নিচে থাকতো। ”

” সমস্যা নেই আম্মু ঘুম হয়ে গেছে তো। ”

উনি মেয়ের মাথা আলতো হাত বুলিয়ে বললেন ,

” ফ্রেশ হয়ে আয় মা আমি তোর নাস্তা দিচ্ছি। ”

” জ্বি আম্মু। ”

..′সেদিনের কথা ডাক্তার কথা গুলো বলে অর্ধেক চলে গিয়ে ছিলেন। আবার ফিরে এসে বললেন ,

“ আপনি কি নাম বললেন? ”

মিরাজ ওর মাকে জড়িয়ে রেখে কাঁপা কাঁপা গলায় কান্নামাখা সুরে বলল ,

“ ফা্ ফারাহ্.. ”

“ আমি যার কথা বলেছি ও ফারাহ্ নয় তারা৷ ফারাহ্ আউট অফ ডেঞ্জার। কারণ ও মাথায় চট পেয়েছে ঠিকিই বদ র’ক্ত বের হয়ে যাওয়ার জন্য সমস্যা হয়নি। কিন্তু তারা _ওর আ’ঘাত টা অনেক বেশিই ছিল। বুকের সব হাড্ডি ভে’ঙে গেয়ে ছিল যার জন্য আমরা কিছু করতে পারি নি। আ’ম সরি। ”

আরেক টা ধমক্কা হওয়া। নাহিয়ান ওই দিন পাথরের ন্যায় হয়ে গিয়ে ছিল। দেশে আসা তারা দাফন কাফন শেষ করা। একটা টুঁশব্দ ও করে নি। প্রায় বারো দিন কেউর সাথে কোন কথা বলে নি। তার পর আস্তে আস্তে চলতে শুরু করে প্রয়োজন ছাড়া কিছু করতো না। দীর্ঘ ছয় মাসে মথায় কিছু টা স্বাভাবিক হয়ে ছিল সে। ‚..

____

নিজেকে বকতে বকতে হাঁটছে জারা। কেনো আরো আগে ঘুম থেকে উঠল না৷ একটু আগে ঘুম ভাঙতেই দৌড়ে নাহিয়ানের রুমের কাছে এলো। এসে দেখে যে মাথা সে কোল্লা। রুমে কেউ নেই। না আছে নাহিয়ান না আছে ফারাহ্। ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে আসতেই শুনতে ফেলো। সুফিয়া হানজালার কথার আওয়াজ ,

” মেয়েটা আমার সারা রাত বারান্দায় ছিলি মশা কামড়ায় নি? ”

ফারাহ্ হেসে অপ্রস্তুত অপজিটে বসা নাহিয়ানের দিকে তাকালো। এক মনে নাস্তা ঠুসে যাচ্ছে। জারা বড় বড় চোখে তাকালো। তার মানে কি ফারাহ্ নাহিয়ানের রুমে যায় নি। আরেহ ও তো দেখে ছিল। পরক্ষণে মনে মনে শুধায় ,
‘ রাতে বোধ হয় বেশি গিলে ফেলেছি। ‘
তারা মারা যাওয়ার পর নাহিয়ানের রুমে কেউ ওর অনুমতি ছাড়া ডুকতে পারে না। শুধু স্টাফ ছাড়া যারা নাহিয়ানের রুম ক্লিন করে। আর ফারাহ্ যদি সারা রাত ওই রুমে কাটাতো নাহিয়ান দেখলে এতক্ষণে পুরো বাড়ি হাংঙামা হয়ে যেত। এক বছর তিন মাস তারা নেই। এই পনেরো মাসে নাহিয়ের রুমে কোন মেয়ে অনুমতি ছাড়া পা বাড়ায় নি ভুলে ও। খাওয়া শেষ করে উঠে চলে গেল নাহিয়ান। নাহিয়ান কে যেতে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল ফারাহ্। এতক্ষণ মনে হচ্ছিল দম বন্ধ হয়ে আসছে। জারা বড় বড় পা ফেলে ফারাহ্ পাশে বসে প্রশ্ন ছুড়ে মারে ,

” তুই সারা রাত বারান্দায় ছিলি? ”

ফারাহ্ আড়চোখে চেয়ে মৃদু স্বরে ছোট করে জবাবে বলল ,

” হু। ”

না চাইতে ও মিথ্যা বলতে হচ্ছে সবাই কে৷ কেউ যদি এক বার টের পায় একটা অবিহিত মেয়ে অবিহিত ছেলের রুমে ছিল কাহিনি অন্য দিকে চলে যাবে। রাতে ভেবে ছিল ফজরের সময় উঠলে চলে আসবে ওই রুম থেকে। দূরভাগ্য বশত ফজরের সময় টের পায় নি। সানজিদা এসে ফারাহ্ কে উদ্দেশ্য করে বলল ,

” ফারাহ্ শুন সানা রিশাবের কাছে। ”

ফারাহ্ দিকে মাল্টার রস ভর্তি পিটার টা এগিয়ে দিয়ে ফের বলল ,

” রিশাব কে বলিস খাইয়ে দিতে। ”

” আচ্ছা আপু। ”

” রিশাব বাহিরে আছে। ”

ফারাহ্ মিষ্টি হেসে রিশাবের খোঁজে বের হয়ে পড়ল। এদিকে জারা হতবাক। ভুলে জন্য বারবার নিজেকে বকছে। ফারাহ্ গার্ডেনে এসে রিশাব কে দেখতে ফেলো। কয়েক পা এগিয়ে রিশাবের পাশের চেয়ারে বসে পড়ে। রিশাব স্নান হেসে বলল ,

” ঘুম থেকে উঠলে কখন? ”

ফারাহ্ হতাশা মুখে তাকালো রিশাবের দিকে মনে মনে আওড়ায় ,
‘ আজকে সবাই আমার ঘুম , উঠার পিছনে পড়ে আছে কেনোরে ভাই। ‘

কিন্তু মুখে বলল ,

” নয়টার দিকে। ”

” ওহ। ”

” নাও সানা কে খাইয়ে দিতে বলেছে আপু। ”

” ভালো করেছে দিয়েছে মেয়েটার ক্ষিধে পেয়েছে মনে হয় কিছু ক্ষণ পর পর কেঁদে উঠে। ”

” আমার কাছে দাও। ”

রিশাব স্বযত্নে সানা কে ফারাহ্ কোলে বসিয়ে দিল। ফারাহ্ কোলে বসে দু’বছরে সানা কি বুঝেছে জানে না ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে দিলি। ফারাহ্ মুখ ফুলিয়ে তাকালো রিশাবের দিকে। রিশাব সানা কে কোলে নিতে শান্ত হয়ে যায় সানা। তা দেখে শব্দ করে হেসে দিল রিশাব। ফারাহ্ বিরল গলায় বলল ,

” হাসবে না বলে দিলাম। যেমন চাচা তেমন ভাতিজি। ”

” তুমি এক বাচ্চা অন্য বাচ্চা কে কোলে নিলে তো কাঁদবেই , যে বাচ্চা তোমার কোলে যাবে সে ভয়ে থাকবে এই বুঝি পড়ে গেলাম। ”

বলেই অট্রহাতিতে ফেটে উঠল রিশাব। ফারাহ্ আলতো হাসল। দু’জনে আরো কিছু কথা বলে বাড়ির ভিতরে চলে আসে।

” ফাতেহ আমার নাম ফাতেহ আমি থাকতে সবজি তুমি কাটবে সে টা হবে না। ”

ফারাহ্ , রিশাব হল রুমে আসতেই এমন কান্ড দেখবে হতো ভাবতে পারে নি। একটা স্টাফ আর ফাতেহ মিষ্টি কুমড়া নিয়া টানাটানি করছে। স্টাফ বলে ও কাটবে ফাতেহ বলে ও কাটবে। স্টাফ টা কে আগে দেখে ফারাহ্। হয়তো বিয়ে উপলক্ষে এসেছে কাজ করতে। হুট করে সুফিয়ান কুমড়ো টা কেড়ে নিল। স্টাফ আর ফাতেহ অবাক হয়ে তাকালো সুফিয়ানের দিকে। সুফিয়ান বলল ,

” শুনন স্টাফ জি এনি হলে ফাতেহ মামা দীর্ঘ ওয়ান বছর যাবত আমাদের বাড়িতে কাজ করেন। উনি বিদায় কেউ সবজি কাটেন না। অতএব , এই মিঠা কুমড়া আজকে স্টাফ কাটবে। ”

স্টাফের হাতে কুমড়ো দিয়ে কিচেনে যেতে বলল ,

” আপনি কিচেনে চলে যান। ”

ফাতেহ কান্না মাখা মুখ বানিয়ে বলল ,

” সুফিয়ান এটা তুমি কি করলা? ”

” মামা এটা বিয়ে বাড়ি , আপনারা থাকতে ও আরো স্টাফ এনেছে কেনো বুঝছেন না? ”

ফাতেহ মাথা নাড়িয়ে বুঝালো , না। সুফিয়ান ফাতেহর কাঁধে এক হাত রেখে বলল ,

” যাতে আপনারা বিয়েতে ইনজয় করতে পারেন। বিয়ে শেষ হওয়া পর্যন্ত আমাদের বাড়ির কেউই কাজ করবে না। ফাতেহ মামা বুঝেছে আইছে? ”

” হো সুফি বুঝে আইলো আমি যাই তোমার বলা ইনজয় করি। ”

ফাতেহ যেতে ফারাহ্ হেসে দিল। ফাতেহ অনেক রসিক। সুফিয়ান বলল ,

” ম্যাডাম আপনাকে আপনার মা জননি খুঁজছেন। ”

” হুয়াই? ”

” কালকে সারা রাত নাকি বারান্দায় ছিলেন ভালো মতো ঘুমাতে পেরেছেন না কি না এখন আবার ঘুমাতে ডাকছে। ”

ফারাহ্ বিরবিরিয়ে বলল ,
‘ কেনো যে বললাম বারান্দায় ঘুমিয়েছি। ‘

অতঃপর সুফিয়ান কে বলল ,

” আরেহ দূর বাদ এসব চল ভাইয়া কে দেখি একটু পর বর সাজবেন উনি। ”

” চল আমি ও ওই দিকে যাচ্ছিলাম মাঝে ফাতেহ মামার কান্ড। ”

” যাই বলিস ফাতেহ মামা আসায় আমাদের ঘর মাতিয়ে রেখেছে। ”

” এত বছর কাজের লোক দেখিছি ফাতেহ মামার মতো একটা ও দেখি নি। ”

” ফাতেহ মামা ওয়ান পিস। ”

_____

সুফিয়া হানজালা , মিরাজ কে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। সবাই হা করে তাকিয়ে আছে। এখানে কাঁদার কি হল? এটা কি মেয়ে বরের বাড়ি চলে যাচ্ছে তাই কাদছে। মিরাজ বিস্ময় কাটিয়ে বলল ,

” মাম তুমি কাঁদছো কেনো? ”

” তুই বিয়ে করে মাকে ভুলে যাবি না তো? ”

মিরাজ ওর বাবা এহসান সাফাতের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল ,

” বাবা তুমি বিয়ে করে তোমার মা মানে আমার দাদি কে ভুলে গিয়ে ছিলে? ”

সুফিয়া হানজালা ছেলেকে ছেড়ে স্বামীর দিকে তাকালেন। এহসান সারাফাত , সুফিয়া হানজালাকে পিঞ্চ মেরে বললেন ,

” মা বাপ দূর থাক আমি তো এহসান সারাফাত কেই ভুলে গিয়ে ছিলাম। ”

মুহূর্তে পুরো বাড়ি সবাই হাসিতে মেতে উঠল। সুফিয়া হানজালা কোমড়ে হাত গুজে কড়া গলায় বলল ,

” কি বলে তুমি? ”

” কই কিছু না তো এখন ছেলে বিয়ে করতে যাচ্ছে বাড়িতে নতুন , প্রথম বউ আসতে যাচ্ছে আর তুমি কুচ বি কান্না লাগিয়ে দিলে! ”

সুফিয়া হানজালা মুখ মুছে বললেন ,

” চল সবাই। ”

ফারাহ্ টকটকে লাল গাউন টা দুই হাত দিয়ে ধরে উঁচু করে হাঁটছে। রিশাব ফারাহ্ র পাশে হাঁটতে হাঁটতে বলল ,

” আমি গাড়ি নিয়ে যাচ্ছি আমার সাথে যাবে? ”

” হ্যাঁ ভাই , যেতে সমস্যা নেই। এমনি তে অন্য গাড়িতে এই ড্রেস নিয়ে গি’ঞ্জাগি’ঞ্জি করে যেতে ইচ্ছে করছে না। ”

” চল। ”

মিরাজ গাড়ি থেকে নেমে কেউ কে খুঁজছে। রিয়ান , সানা কে কোলে করে অন্য গাড়িতে উঠছিল তখন মিরাজ কে দেখে জানা জিজ্ঞেস করল ,

” নামলে কেনো শালা সাহেব? ”

” ফারাহ্ কই? ”

” আমি খুঁজে দিচ্ছি। ”

খুঁজতে খুঁজতে রিশাবের গাড়ির কাছে গিয়ে ফেল ফারাহ্ কে। বলল ,

” ফারাহ্ তুমি মিরাজের সাথে যাও। মিরাজ খুঁজছে তোমায়। ”

ফারাহ্ রিশাবের দিকে তাকিয়ে দেখল ছেলেটা মুখ একটু খানি হয়ে গেল। ফারাহ্ কিছু টা ইতস্তবোধ করে বলল ,

” আসার সময় তোমার গাড়ি করে আসবো হ্যাঁ তখন তো ভাবি থাকবে। ”

বিনিময়ে হালকা হাসলো রিশাব। ফারাহ্ , মিরাজের সাথে বসল। রিয়ান তাদের জন্য বরাদ্দ করা গাড়িতে। ফারাহ্ মিরাজ পিছনে বসেছে। সুফিয়ান ড্রাইভারের সাথে। গাড়ি চলল সব গাড়ির শেষে। হুট করে মিরাজ বলল ,

” রিশাব কে তোর কেমন লাগে? ”

ফারাহ্ চেঁচিয়ে বলল ,

” কিহ? ”

” যেটা জিজ্ঞেস করেছি ওটা বল। ”

” মানুষ হিসেবে ভালো। ”

” আচ্ছা। ”

সুফিয়ান ফোনে গেম খেলতে খেলতে বলল ,

” বিয়ে আরেক টা খাবো তাহলে।”

ফারাহ্ মজা করে বলল ,

” এর পর কি তুই বিয়ে করবি?”

” না , তুই করবি। ”

” আমার এতো শখ নেই হুহ!”

” ভেংচি কাটছিস কেনো , রিশাব মানুষ হিসেবে ভালো। ”

” সুফিয়ান কি বলছিস তুই? মাথা ঠিক আছে? রিশাব সানজিদা আপুর দেবর স্প্রে আর কিছু না। ”

” আর কিছু না? ”

এবার রে’গে গেল ফারাহ্ , মিরাজের দিকে চেয়ে অভিযোগ ঠেলে বলল ,

” ভাইয়া এটা কে চুপ করতে বল না হলে আমি অন্য গাড়িতে চলে যাবো। ”

সুফিয়ান সহ্যসে বলল ,

” সব গাড়ি আগে চলে গেছে। পিছে শুধু নাহিয়ান ভাই’র গাড়ি আছে। ”

” ভাইয়াআয়ায়ায়া। ”

” সুফু চুপ যা ভাই, আমার কানের পোকা মরে যাচ্ছে । ”

সুফিয়ান নিঃশব্দে হাসতে লাগলো। মিরাজ ও হাসছে। ফারাহ্ বুকে হাত গুজে গাল ফুলিয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে। এরা দু’ভাই একই জলের কুমির। ওদের গাড়ির মিররে দেখছে পিছনে Bugatti Veryron Viver By Mansory car. ব্ল্যাক , হোয়াইট কনভিশনের গাড়ি টা। বড় লোকি কাজ কারবার এত দামী গাড়ি নিয়েছে। এই জন্যই ছেলেদের উইকে তে পাঠানো উচিৎ নয়। নাহিয়ান মাত্রা অতিরিক্ত স্মার্ট।

বর যাত্রী এসেছে পুরো বাড়ি হৈ-হুল্লোড়। শলিকা-শালক’রা গেইট ধরে দাড়িয়ে রইলো। টাকা চাই টাকা দাও। যব করেই যাচ্ছে শেষ মেষ ওদের দাবি করা টাকা দিয়ে মেটালো গেটের ঝামেলা। আরেক ঝামেলা শুরু। এক ঝামেলা শেষ করে শ্বাস নিয়েছে কিনা তা সন্দেহ। স্টিজে উঠার আগে ফিতা কাটা। ওখানে ও টাকা হাতিয়েছে শালকের দল। বিয়ে পড়ানোর আগে খাওয়া দাওর পর্ব শেষ করতে বলল মুরুব্বি’রা। তাই হল সবার খাওয়া শেষ। বেচারা মিরাজ টাকার ভয়ে হাত ধুচ্ছে না। এখানে ও লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে শালিকারা গরম পানি নিয়ে। আগে জানলে বিয়ে করতে আসতো না ভাই। কোনো রকম কিছু টাকা দিয়ে বুঝি স্টিজে আসল। এখন বিয়ে পড়ানো শুরু হল। যথা সময়ে বিয়ের পর বউ কে স্টিজে এনে মিরাজের পাশে বসাল। অনেক ধরে মিষ্টি মুখ করালো , উপহার দিল , ফোটগ্রাফি সব মিলিয়ে কনে বিদায়ের সময় গিয়ে ঠেকল বিকালের শেষ দিকে। কিছু ক্ষনের মধ্যেই সন্ধ্যা হবে। মেয়ের বাড়ি শোকের ছায়া এত বছর লালন পালন করা মেয়েটা অন্যের বাড়িতে চলে যাচ্ছে। আর ছেলে বাড়িতে হৈহল্লা নতুন বউ আসছে।

#চলবে

®️আহমেদ মুনিয়া
••••×কার্টেসী ছাড়া কপি করা নিষেধ×

(কেমন হচ্ছে জানাবেন।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here