নক্ষত্র বন্দনা পর্ব ২০

#নক্ষত্র_বন্দনা

#পর্ব_২০

#লেখায়_জারিন

১১২.

‘এসব পাগলামি ছাড়ো ইরিন…হা করো…খাও। ‘ স্যুপের বাটিটা হাতে নিয়ে একদম কড়া গলায় বললো নক্ষত্র।

আজ তিনদিন পর ইরিনকে স্যালাইন বাদ দিয়ে মুখে হালকা পাতলা খাবার খাওয়ানো শুরু করতে বলেছে ডাক্তার। কিন্তু, ইরিন খেতে চাইছে না। নার্স অনেক চেষ্টা করেও যখন ব্যর্থ হয়েছে তখন বাধ্য হয়ে নক্ষত্রকে ডেকে এনেছে। কিন্তু, ইরিন নক্ষত্রকে তার আশেপাশেও ঘেঁষতে দিচ্ছে না। নক্ষত্রও যে কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছে এমনও না। দুজনেই দুজনের তরফ থেকে দূরত্ব রেখে চলেছে। নার্সের সামনে বলার পরেও যখন ইরিন নক্ষত্রের কথা শুনছিল না রাগে অপমানে নক্ষত্র আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি।

নার্সকে চলে যেতে বলে। নার্স যাওয়ার পরেই সজোরে ধমকে উঠে ইরিনকে। তাতে ইরিন কেবল আরেকটু জড়সড় হয়ে বিছানার সাথে সিটিয়ে যায়। তাও মুখ খুলে না। নক্ষত্র আর সহ্য করতে পারলো না। তেড়ে এসে একহাতে ইরিনের দু গাল চেপে ধরলো। ব্যাথায় কুঁকিয়ে উঠলো ইরিন। চোখ মুখ খিঁচে দ্রুত নক্ষত্রের হাত চেপে ধরে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু ব্যার্থ হলো। কোনমতে অস্পষ্ট স্বরে বললো,

‘ছাড়ুন। আপনি ছোঁবেন না আমাকে।’

ইরিনের এমন কথায় নক্ষত্র প্রচন্ড অপমানবোধ করলো।ইরিন যে সত্যিই তাকে পছন্দ করে বিয়ে করেনি এটা আগে ধারণা করলেও পরে ইরিনের ব্যবহারে তা মনের ভুল বলে ধরে নিয়েছিল। ইরিন তাকে ভালোবেসে গ্রহণ করেছে বলে বিশ্বাস করেছিল।।অথচ, গতকাল ইরিনের যে সত্যি সামনে এসেছে তারপর ইরিনের মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছেটাই মরে গেছে ওর। প্রচন্ড কষ্ট পেয়েছে নক্ষত্র।

সেই সাথে রাগটাও তার মাত্রা অতিক্রম করলো। আরও জোরে চেপে ধরে বললো, ‘আমি ছোঁবো না তোকে?! এই কথা বলার সাহস কি করে হয় তোর, হু? তোকে ছোঁয়ার সবচেয়ে বেশি অধিকার আমার। আর তুই আমাকে বলিস আমি ছোঁবো না তোকে? কি করবি কি তুই আমি ছুঁলে…কর! যা করার কর! আমিও দেখি তুই কি করতে পারিস।’

ইরিন পুরোদস্তর হতম্ভব হয়ে গেল নক্ষত্রের এমন ভাষা আর কথার ধরণে। রাগে তুই তোকারি করে সম্বোধন করছে নক্ষত্র তাকে! এতটাই নিম্নমানের হয়ে গেছে সে এখন? প্রচন্ড কষ্টে বুক ভার হয়ে এলো ইরিনের। অনেক কষ্টে থেমে থেমে বললো,

‘একটা অপবিত্র শরীর ছুঁয়ে কেন নিজের হাত নোংরা করছেন আপনি? ছাড়ুন আমাকে। দূরে যান।’

এ কথার পরে নক্ষত্রের আর বুঝতে বাকি রইলো না কেন জ্ঞান ফেরার পর থেকে ইরিন একবারও তার সাথে দেখা করতে চায়নি। কেন সে জেগে থাকা অবস্থায় নক্ষত্র কেবিনে এলে চাদর দিয়ে নিজেকে আষ্টেপৃষ্ঠে ঢাকার চেষ্টা করে।মুখ ফিরিয়ে নেয় অন্যদিকে।

এই যে…এখনো তো চোখ বন্ধ করে আছে। নক্ষত্রের চোখে চোখ রাখা তো দূর মুখের দিকে তাকাচ্ছে না পর্যন্ত। কারণ, সে নিজেকে অপবিত্র মনে করছে। নোংরা ভাবছে। নক্ষত্রের থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখছে।

ব্যাপারটা বুঝতে পেরে নক্ষত্রের হাত নরম হয়ে এলো। কিন্তু, সরলো না ইরিনের গাল থেকে। বরং আগের চাইতেও রাগমিশ্রিত গলায় বললো, ‘তুই অপবিত্র? কে করলো? যার তার ছোঁয়ায় অপবিত্র হয়ে যাবি তুই? এতই সস্তা! এই তুই না সেদিন বললি ওয়াসিফ ভাই তোকে টাচ করলে তোর ভাল্লাগতো না? তাহলে সে টাচ করায় তুই অপবিত্র ক্যাম্নে হইলি, হ্যাঁ? ইচ্ছা করে শরীর দিয়েছিলি ওকে? দিস নাই তো! তাহলে তোর সাহস কিভাবে হইলো এই শরীর অপবিত্র বলার? ‘

ইরিন এবার কেঁদে ফেললো নক্ষত্রের এমন কড়া ধমকে এবং কথায়। একই সাথে চরম মাত্রায় অবাক হয়েছে সে। এত কিছুর পরেও নক্ষত্র তাকে স্পর্শ করবে এটা সে কল্পনাও করেনি। সেখানে এভাবে বলা সত্যিই অবাক করার মত। কাঁদতে কাঁদতেই প্রশ্ন করলো ইরিন।

‘আপনি আমাকে এখনো বিশ্বাস করেন? আমি যা বলেছি সেসব বিশ্বাস করেছেন আপনি?’

নক্ষত্র এবার একপ্রকার ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেওয়ার মতই ইরিনের গাল থেকে হাত সরিয়ে নিল। পিছিয়ে এলো দু কদম। আচমকা এমন আচরণে ইরিন এবার চোখ তুলে তাকালো নক্ষত্রের দিকে। বিস্ময় বিভ্রান্তিভরা চোখে দেখলো নক্ষত্রের ঠোঁটের কোণে জেগে উঠা বাঁকা হাসিটা। মূহুর্তেই সেটার অর্থ প্রকাশ পেল নক্ষত্রের গলার স্বর আর কথায়।

‘বিশ্বাস! হাহ! তাও তোমাকে? অসম্ভব ইরিন। এতসব কিছুর পরেও? উহু…জাস্ট ইম্পসিবল। আমাকে যদি খুন করেও ফেলা হয় তাও আমি সজ্ঞানে তোমাকে বিশ্বাস করার ভুল আর কখনোই করবো না। আরেএএ….তুমি তো বিয়েটাই করেছো মিথ্যা বলে। তুমি রাজি ছিলে না তাও মিথ্যা বলেছিলে স্বেচ্ছায় বিয়েতে রাজি হয়েছো। সম্পর্কের ভিত্তিটাই ছিল মিথ্যার উপর। আবার হাস্যকর হলেও সত্যি বাসর রাতেও তুমি আমাকে মিথ্যা বলেছিলে। কেন বলেছিলে হু? আমার সাথে এক বিছানায় শুতে ঘেন্না লাগছিল তোমার তাই না? এই জন্যই মিথ্যা বলেছিলে!

কথাগুলো বলতে বলতেই এ ক’দিনের জমানো চাপা ক্ষোভটাও উগড়ে দিল নক্ষত্র।আরও জোরে চেঁচিয়ে বললো,

‘তাহলে এতদিন এই নাটক করার কি দরকার ছিল? তোকে বলি নাই আমি..ছেড়ে গেলে যাবি, আটকাবো না।বলি নাই? তাও কেন চোরের মত পালানোর ধান্দা করেছিলি হ্যাঁ? আর আমার মেয়েটার কি দোষ ছিল? কেন করলি ওর সাথে এমন? শুধুমাত্র ও আমার মেয়ে ছিল বলে? এত অবহেলায় মেরে ফেললি ওরে?

‘আপনি আমাকে বিশ্বাস করবেন এটা আমার জন্য কল্পনাতীত। তাহলে আমাকে বাঁচিয়ে রাখছেন কেন? আপনার মেয়ের খুনি তো আমি। মরে গেলেই তো আপনার শান্তি লাগার কথা। তাহলে এসব কেন করছেন?’ একদম জল থৈ থৈ চোখে শান্ত গলায় বললো ইরিন।

‘তোকে শেষটা দেখানোর জন্য।এতসব করে এত সহজে পার পেয়ে যাবি ভাবছিস? তুইআমার ভাই আর ফুপুর নামে অভিযোগ তুলছিস, না?!তোর অভিযোগ সত্যি না মিথ্যা এটা প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত তোকে বাঁচতে হবে। তোর সাথে যে অন্যায় করেছে তার শাস্তি তোকে নিজ চোখে দেখতে হবে। তুই সব দেখবি তার পর তুই মর, বাঁচ…জাহান্নামে যা তাতে আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু যতদিন না তোর উপর জুলুমকারী শাস্তি না পাবে তোরে বাঁচতে হবে। তুই একা তো না… আমার মেয়ের খুনি আরও একজন। সেটা কে আগে প্রমাণ দিবি তারপর মরলে মরবি। আমি কিছুই করবো না। কিন্তু এখন তোকে বাঁচতে হবে। তুই না চাইলেও আল্লাহর দেওয়া হায়াত পর্যন্ত তোরে বাঁচায় রাখবো আমি। বোঝা গেল? – প্রচন্ড ধমকে বললো নক্ষত্র। ইরিনের অন্তরআত্মা পর্যন্ত কেঁপে উঠলো এমন ধমকের আওয়াজে।

‘নার্স পাঠায় দিচ্ছি। চুপচাপ খেয়ে নিবা। কোন পাগলামি করলে আগে তোর খুন হবে তারপর আমিও মরবো। তোরও শান্তি আর আমারও। ‘

কথা শেষ করে আর এক মূহুর্ত দেরি করলো না নক্ষত্র। দরজা খুলে হনহন করে বেরিয়ে গেল কেবিন থেকে। ইরিন অবাকের চূড়ায় পৌঁছে চুপচাপ বসে রইলো বিছানায়। নামারও তো উপায় নেই। এখন তো সে অপরাগ। বিকলঙ্গ!

১১৩.

‘আপনি শিওর…আপনি কেসটা এভাবে ফাইল করতে চাইছেন?’

‘জ্বী অফিসার। ‘

‘কিন্তু, কেন?’

‘ইরিনের দোষ নেই এমনটা বলবো না। তবে ওর সাথে যেটা হয়েছে সেটা অন্যায় হয়েছে। তাছাড়া ইরিন সুইসাইড এটেম করেনি। কেসটাকে সুইসাইডের কেস বলে দেখানোর জন্য জোর করে নার্ভ কাটানো হয়েছিল তাকে দিয়ে। ফরেন্সিক রিপোর্ট এটাই প্রমাণ করে। তাই আপনি কেসটা মার্ডার, রেপ এন্ড এটেম টু মার্ডার চার্জেসে ফাইল করুন। ‘

‘এটা কিন্তু আপনাদের পারিবারিক ব্যাপারের মধ্যেও পড়ে। মামলা করার আগে বুঝে করবেন কিন্তু। পরে দেখা যায় মামলা হওয়ার পর তা কোর্টের সিঁড়িতেই ডিসমিস হয়ে যায়। মধ্যে থেকে ইনভেস্টিগেশন করা, মামলা সাজানোর কষ্টটা আমাদের করতে হয়। তাছাড়া আপনার ওয়াইফের কথার সাথে হোটেলের রেজিস্টারের কথায় কোন মিল নেই। সে কি করেছে সব জেনেও তাকে বিশ্বাস করে নিজের পরিবারের মানুষদের নামে মামলা করাটা কি উচিৎ হবে আপনার?’

‘আপনি নুপুর রায়হান চৌধুরীর নামে খুন, এবং ওয়াসিফ রায়হান চৌধুরীর নামে জিম্মিকরণ, ধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগে মামলা লিখুন। তদন্ত করুন। আমি কেস হারলে হারবো তবুও কেস এটাই ফাইল হবে। তারপর যা সত্যি তা এমনিতেই সামনে আসবে। ‘

‘নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছুড়াছুঁড়ি করে কি লাভ মি. আদৃত। তাও আবার এমন একটা মেয়ের জন্য…’

‘শী ইজ মাই ওয়াইফ অফিসার। ওর দোষ দেখার জন্য আমি আছি এখনো। অপরাধ ওর একার নয়। কিন্তু একজন প্রস্টিটিউটও রেপ হওয়া ডিজার্ভ করে না। আই থিংক ইউ ক্যান আন্ডারস্যান্ড দ্যা ফ্যাক্ট। ‘

নক্ষত্রের এমন জবাব শুনে এবার আর ইরিনকে নিয়ে কিছু বলার মত সাহস করলো না অফিসার। জীবনে পরকীয়া, ধর্ষণ, খুন এসব কেস অনেক দেখেছেন তিনি এই চাকরিসূত্রে। কিন্তু, নক্ষত্রের মত স্বামী এই প্রথম দেখলেন তিনি।

অন্যসব স্বামীরা যেখানে রেপ হওয়ার পর বউকেই গ্রহন করতে চায় না, সেখানে পরকীয়া করে রেপ হলে তো মুখ দেখাও অনেক বেশি। ধর্ষক পরিবারের মধ্যে কেউ হলে তো ব্যাপারটা ধামাচাপা দিতেই মেয়েটার মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয় আগে। থানায় মামলা করা তো অনেক পরের কথা। ধনী ব্যক্তিরা অর্থ ক্ষমতা থাকলেও নিজেদের মান সম্মান বাঁচাতে থানা পুলিশ করেনা পাছে লোক জানাজানি হয়ে যাবে। মধ্যবিত্তরাও অনেকটাই তাই। সেখানে নক্ষত্র এত ধনী হয়েও, বউ পরকীয়া করে রেপ হয়েছে জেনেও সব কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে বউয়ের পক্ষ নিয়েই মামলা করছে। সেটাও নিজের আপন ফুপু আর ফুপাতো ভাইয়ের নামে!

শেখ ভিলার সদস্যদের সাথে প্রাথমিক আলাপে জেনেছিলেন তিনি, দুই পরিবারে অনেক ভালো সম্পর্ক। বাড়ির মেজ মেয়ের বিয়ে ওয়াসিফের সাথে। এদের কোন কিছুর অভাব নেই। তবুও কি এক পুরোনো পারিবারিক হিংসা, ক্ষোভ থেকে কি কান্ডটাই না ঘটেছে। নাটক সিনেমার কাহিনীর মত প্রতিশোধ নিতে গিয়ে কতগুলো জীবন নষ্ট হয়েছে। তবে ইরিনের কেস পাওয়ার পর এস. আই খালিদ সত্যিই ভেবেছেন অনেক। মানুষের জীবন সত্যিই অদ্ভুত।সুন্দর সুখী জীবন থাকতেও লোভ, ক্ষোভ কিংবা নিজের হিংসাত্বক মনের বর্শবর্তী হয়ে মানুষ খুনের মত জঘন্য কাজও করতে ছাড়ে না। নিজের প্রতিশোধের আগুনে নিজের সন্তানকেও পোড়ায় এরা। এই যে ওয়াসিফ! এত ধনী বাবার সন্তান। বিদেশে থাকে। তবুও মায়ের শিক্ষায় কেমন অমানুষ তৈরী হয়েছে।

মেয়েরা সত্যিই অঅদ্ভুত ক্ষমতাধর। তারা চাইলে মানুষরূপী অমূল্য রত্ন তৈরী করতে পারে। আবার তাদের হাতেই জানোয়ারের জন্ম হয়। মাতৃশিক্ষা সত্যিই অনেক বড় একটা ব্যাপার!

এস.আই খালিদ এই নিয়ে আর কথা বাড়ালেন না। কন্সটেবলকে ডাক দিয়ে নক্ষত্রের অভিযোগে মামলা লিখতে বললেন।

নক্ষত্র উনার থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল মামলা লিখতে। এস. আই খালিদ ইরিনের ভাগ্যের ফের চিন্তা করে মুচকি হাসলেন খানিক। নক্ষত্র পেয়েও অন্ধকার পথে হেঁটেছিল সে। হোচট খেয়ে তাই ক্ষত বিক্ষত তো হওয়ারই ছিল!

১১৪.

সারাদিন হাসপাতাল, থানা পুলিশ করে রাত ৮ টায় বাড়ি ফিরে গোসল সেরেছে নক্ষত্র । আম্বিয়াকে রেখে এসেছে হাসপাতালে। খাওয়া দাওয়া করে সেও যাবে আবার। তাই শায়লা ঘরেই খাবার নিয়ে এসেছেন।

নক্ষত্র এশার নামায পড়ছিল। মোনাজাত করতে দেখে শায়লা খাবার সেন্টার টেবিলের উপর রেখে সোফায় বসলেন। অপেক্ষা করতে লাগলেন ছেলের জন্য। হঠাৎ নক্ষত্র ডুকরে কেঁদে উঠলো মোনাজাতে বসে। শায়লার মাতৃমন ছ্যাঁত করে উঠলো এতেই। কিন্তু, তিনি নক্ষত্রের কাছে গেলেন না। নামায শেষ করার অপেক্ষা করলেন। ছেলে তার রবের কাছে নিজের দুঃখ মেলে দিচ্ছে…দিক।একমাত্র এখানেই দুঃখ কষ্ট সবচেয়ে নিরাপদে ও ভরসার সাথে মেলে ধরা যায়। এখানে কেউ দূর্বলতার সুযোগ নেয় না, দুঃসময়ের সদ্ব্যবহার করে না স্বার্থপরের মত।

নক্ষত্র নামায শেষ করে জায়নামাজ ভাঁজ করছিল। পেছন ফিরে শায়লাকে দেখেই অপ্রস্তুত হয়ে গেল। আড়ষ্টভাবে হেসে জিজ্ঞেস করলো, ‘কখন এসেছেন আম্মু?’

শায়লাও মলিন হাসলেন। ছেলেকে অপ্রস্তুত অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে বললেন, ‘এই তো একটু আগেই। খাবার নিয়ে এসেছিলাম তোমার জন্য। আসো আমি খাইয়ে দেই আজকে।’

নক্ষত্র আপত্তি করলো না। জায়নামাজ রেখে এসে মেঝেতে শায়লার কাছে এসে বসলো। মায়ের কোলে মাথা রাখলো আলতো করে। শায়লা পরম মমতায় হাত বুলিয়ে দিলেন ছেলের মাথায়। আল্লাহ তার এক ছেলেকে পৃথিবীতে আসার আগেই নিজের কাছে ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। আর যে ছেলেটাকে নিজের সন্তানের মতই ভালোবেসে বড় করেছেন সেও পৃথিবীতে জন্মেছেই যেন ধৈর্য্য আর কষ্ট সহ্য করার পরীক্ষা দিতে। বারবার জীবন তাকে কষ্ট দেয়। সে তার রবকে ভরসা করে সহ্য করে নেয়। কিন্তু, এবার যেন অনেক বেশিই হয়ে গেছে। অনেক বড় পরীক্ষায় ফেলেছেন আল্লাহ নক্ষত্রকে। একদিকে এতকালের চেনা পরিচিত মানুষগুলো অন্যদিকে নিজের স্ত্রী! কষ্ট দু’দিক থেকেই পেয়েছে সে। তবে পক্ষ একজনেরই নিতে হচ্ছে তাকে। এবং সে ইরিনকে বেছে নিয়েছে। নিজের প্রতি হওয়া অন্যায়কে ছাপিয়ে ইরিনের প্রতি হওয়া অন্যায়ের জন্য লড়ছে।

নাফিজ শেখের সাথেও এটা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে তার। নিজের বোনকে অবিশ্বাস করতে তিনি নারাজ। ওয়াসিফের সাথে অদ্রিজার ভবিষ্যৎ জড়িয়ে অথচ নক্ষত্র তাকে নিয়েই টানা হ্যাচড়া করছে বলেও অনেক কহল হয়েছে বাড়িতে। অদ্রিজা এসব জানার পর অনেক কান্নাকাটি করেছে। ওয়াসিফকে সে কিছুতেই অবিশ্বাস করবে না। প্রাণপ্রিয় ভাইয়ের সাথে এতকাল পরে এই প্রথম তার বিরোধ বিবাদ হয়েছে। ইরিনকে সে যা নয় তাই বলেছে। নক্ষত্র এটা নিয়ে কিছুই বলেনি। এতকালের স্বপ্নভঙ্গের পর এমন আচরণ অস্বাভাবিক নয়। সময়ের অপেক্ষা করা প্রয়োজন এখন। ভালোবাসার ভুল ঠিক চেনা কেবল সময়েরই হাতে।

কিন্তু, শায়লা তো জানেন সত্যি কি! ইরিন কি জানে আর না জানে..তিনি খুব ভালোই জানেন সেটা। এত গুছিয়ে অজানা সত্যিকে ব্যবহার করে মিথ্যা বলা যায় না। ওয়াসিফ না বললেন মিসক্যারেজের কথা বা নুপুরের এ বাড়িতে কি অবস্থান ছিল তা জানার কথা নয়। আর তিনি নক্ষত্রকে এই সত্যের পক্ষে সায় দিয়েছিলেন বলেই নক্ষত্র ওয়াসিফের বিপক্ষে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে। মা নামক মানুষটা সত্যিই এক অনবদ্য হাতিয়ার।যার ভরসায়, সাহসে, প্রেরণায় সন্তান যে কোন কঠিন কিছু সহজ করে নিতে পারে। মা সত্যিই রবের অতুলনীয় দান!

নক্ষত্রের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতেই শায়লা প্রশ্ন করলেন, ‘ইরিন কেমন আছে, আব্বু?’

‘ভালো।’ শায়লার কোলে মুঁখ গুঁজে জবাব দেয় নক্ষত্র। এই মানুষটা আর নিজের মায়ের মধ্যে বিন্দুমাত্র তফাৎ অনুভব করে না সে। নিজের মায়ের স্পর্শে যেমন শান্তি পেত, তার আগলে রাখায় যেমন ভরসায় বাঁচতো শায়লাও তার জন্য হুবুহু তেমনই। ঠিক কতটা সৌভাগ্য নিয়ে জন্মালে সৃষ্টি কর্তা এমন মা দেয়,জানে না নক্ষত্র। কেবল দোয়া আর শুকরিয়ায় কৃতজ্ঞা জানায় সে তার মায়ের ও সৃষ্টিকর্তার।

‘ওয়াসিফের ব্যাপারটা কি হলো?’

‘কেস ফাইল করেছি আজ। তারা ইনভেস্টিগেশন করছে। দেখি কি হয়। ‘এটুকু বলে মাথা তুলে চাইলো নক্ষত্র। শায়লার দিকে তাকিয়ে চিন্তিত স্বরে প্রশ্ন করলো, ‘অদ্রি কেমন আছে আম্মু?’

‘বিভ্রান্ত হয়ে আছে সে এখন। ভালোবাসার মানুষগুলোকে নিয়ে পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে। এ অবস্থায় ভালো থাকে কি করে বলো? সময় দাও ওকে, ঠিক হয়ে যাবে।’

‘আপনি একটু বুঝিয়ে বইলেন অদ্রিকে। আল্লাহ সর্বনাশ হওয়ার আগেই সাবধান করেছেন। পরীক্ষা নিচ্ছেন তিনি। ও যেন ধৈর্য্য নিয়ে সহ্য করে নেয়। ‘

‘আচ্ছা, বলবো। এখন আসো খেয়ে নাও। হাসপাতালে যাবে আবার?’

‘হু, যাবো। ইরিনের মানসিক অবস্থা ভালো না আম্মু। খায় না ঠিক করে। নিজেকে খুব খারাপভাবে ও। আল্লাহ ওকে এতটা শাস্তি না দিলেও পারতেন আম্মু।’ কথা বলতে বলতেই গলা ভার হয়ে আসে নক্ষত্রের।

শায়লা ওর মনের অবস্থা বুঝতে পেরে বলেন, ‘মানুষ যখন নিজের চাওয়ার থেকে সবচেয়ে উত্তম জিনিসটা পেয়েও নিজের মনোবাসনার বিরুদ্ধে গিয়ে তা অবমূল্যায়ন করে, তখন তাকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য আল্লাহ অনেক বেশি কঠিন পরীক্ষায় ফেলেন। ইরিনের শাস্তিটা এমন না হলেও পারতো। এতটা সে প্রাপ্য নয়। কিন্তু, আমরা তো আল্লাহর পরিকল্পনা জানি না।বুঝি না আগে থেকেই। দেখবা হয় তো এরপরেই সে পরিশুদ্ধ হয়ে অনেক ভালো কিছুর প্রাপ্য হবে। হয় তো ওর জীবন বদলাবে। তোমাকে মন থেকে গ্রহণ করবে। সুখের সংসার হবে তোমাদের। ‘

‘ইরিনকে আগের মত গ্রহণ করা আমার পক্ষে আর সম্ভব না আম্মু। ‘ নির্লিপ্ত কন্ঠে বলা নক্ষত্রের এ কথায় শায়লা চমকালেন। বিভ্রান্ত গলায় প্রশ্ন করলেন, ‘মানে? তুমি কি ইরিনকে ডিভোর্স দিতে চাচ্ছো?’

‘না। সামান্য বিষয়ে এভাবে ডিভোর্স হয় না আম্মু। আল্লাহর নামে জড়ানো সম্পর্ক ভাঙা এত সস্তা নয়। ইরিন আমার স্ত্রী হলেও ওকে আগের মত আপন করে নিতে পারবো না আমি। জানেন আম্মু, যতবারই আমি ওকে দেখি ততোবারই কেবল মনে হয় আমার ভালোবাসাটুকু মূল্যহীন, অকেজো। ইরিনকে সে আমার করতে পারেনি মন থেকে। তাকে আমি আর কিভাবে ভালোবাসবো আম্মু?’

‘সেটা সময় বলে দেবে। এখন এসব নিয়ে ভেবো না। ইরিন অন্যায় করেছে। তার ভয়ানক শাস্তিও সে পেয়েছে। তবে ইরিন কিন্তু নওরিনকে রেখে যেতে চেয়েছিল শুধুমাত্র তোমার জন্যই। চাইলেই সে তাকে নিজের সাথে নিয়ে যেতে পারতো।মা হয়ে সন্তান ছেড়ে যাওয়া এত সহজ নয়।কিন্তু, ইরিন সেটা চেয়েছিল। হয় তো নওরিন জন্মালে ইরিনের মনের বিভ্রান্তি কেটে যেত। তোমাকে ছেড়ে যেতে চাই তো না।

এই ভয়েই ওয়াসিফ ওকে তোমার কাছে ফিরতে দেয়নি। এতে ইরিনের কোন দোষ নেই কিন্তু। প্রতারণার শিকার সে নিজেও। আর আমি যতদূর বুঝি, ইরিন তোমাকেই ভালোবাসে। এটা স্বামী হিসেবে তোমার আরও ভালো বোঝার কথা। কেবল সময়ের দেওয়া ভুল করার সুযোগের ফাঁদে পড়ে বিভ্রান্ত হয়ে গেছিল মেয়েটা। পরিণতি কি হয়েছে জানোই তো! তাই জন্য বলছি এত দ্রুত কোন সিদ্ধান্তে এসো না। ইরিনের এখন তোমাকেই সব থেকে বেশি প্রয়োজন। আরও অনেক বাজে সময় ওর জন্য অপেক্ষায় আছে সামনে। তোমাকেই ওর সাপোর্ট হয়ে সেগুলো সামলে নেওয়ার সাহস যোগাতে হবে। মেয়ে মানুষ হওয়া অনেক কঠিন রে আব্বু! একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন শায়লা।

‘আপনি এত ভালো কেন আম্মু?’ আহ্লাদের স্বরে প্রশ্ন করে নক্ষত্র।

নক্ষত্রের এমন প্রশ্নের কোন জবাব দেয় না শায়লা। মিষ্টি হেসে খাবার তুলে দেয় নক্ষত্রের মুখে।নক্ষত্রও আর কথা বাড়ায় না। চুপচাপ খাবার খায়। কিছু প্রশ্নের উত্তর অজানা থাকাই ভালো।

১১৫.

‘এই আপনি যান। একাই পারবো আমি।’ জেদি গলায় আড়ষ্টভাবে বললো ইরিন।

‘একা পারলে আমি আসতামও না। দেখি আসো…ধরো আমাকে।’ বিরক্ত গলায় বললো নক্ষত্র।

‘আপনি যান। নার্স আছে। নিয়ে যাবে আমাকে। ‘

‘নার্স পারবে না, ইরিন। ওই জন্যই আমাকে বলছে।’

‘ওও…ওয়ার্ডবয়রা আছে তো। ওদের ডেকে দিন।’

‘ঠাটায় এক চড় মারবো এখন। ওয়ার্ডবয়রা ছুঁবে তোকে? বেশি বাড় বাড়ছে তোর, না?’ রাগী গলায় বললো নক্ষত্র।

‘এএএইই…আপনি আবার আমাকে তুই তোকারি করে কথা বলতেছেন।’ঈষৎ অভিমানে ঠোঁট ফুলিয়ে বলে ইরিন।

‘হ্যা,বলতেছি। আমার যা ইচ্ছা তাই বলবো তোমাকে। এখন আসোতো জলদি।’ রাগ বিরক্তি মিশেল গলায় বললো নক্ষত্র।

‘এই যে আবার তুমি করে বলতেছেন। সমস্যা কি আপনার?’

‘আমার কোন সমস্যা নাই। কিন্তু, তোর কি সমস্যা,হ্যাঁ ? এত নাটক ক্যান করতেছিস। আয় এদিকে।’ ধমকে বললো নক্ষত্র।

‘না। আপনি যান। নার্সকে ডেকে দিন। ওরা নিয়ে যাবে। ‘ ভয় পাওয়া গলায় জেদ দেখিয়ে ছাড়া ছাড়াভাবে বললো ইরিন।

‘আমি নিয়ে গেলে সমস্যা কি ইরিন? কেন এমন করতেছো?’ হতাশ হয়ে ক্লান্ত স্বরে প্রশ্ন করে নক্ষত্র।

‘আ…আমার লজ্জা লাগবে আপনি নিলে। ‘ লজুক গলায় কাচুমাচু করে বললো ইরিন।

নক্ষত্রের এবার সত্যি সত্যি অনেক বেশি রাগ উঠে গেল ইরিনের এমন অহেতুক কারণ শুনে। ধমকের স্বরে চেঁচালো সে।

‘আমার বাচ্চা পেটে নিয়া প্রেগন্যান্ট হওয়ার সময় লজ্জা লাগে নাই তোর এখন এই সামান্য বিষয়ে লজ্জায় মরে যাইতেছিস একেবারে। শ্লার দুনিয়ার সব লজ্জা যেন খাইয়া ফেলতেছে তোরে। ফালতু মেয়ে কোথাকার!’

‘এই এগুলা কি ভাষা আপনার! আপনি তো এমনভাবে কথা বলেন না।’ হতবাক হয়ে বললো ইরিন।

‘খাঁটি বাংলা ভাষা। একদম গোড়ার ধূলাবালি মাখা। ‘দাঁতে দাঁত চেপে বললো নক্ষত্র।

‘মানে?’ অবাক হয়ে কিছুটা টেনেই বললো ইরিন।

‘আপনি বোধয় ভুলে গেছেন ম্যাডাম, আপনার হাজবেন্ড জন্ম থেকে বস্তিতেই বড় হয়েছে একটা সময়। ওখানকার হাওয়া গায়ে লাগায় মানুষ হয়েছে সে। এখন হুট করে একদিন নর্দমার জিনিস সুইমিংপুলে এনে ছেড়ে দিলেই যে তা থেকে নর্দমার গন্ধ একেবারে ধুয়ে মুছে যাবে তা তো না। আসেন এখন।’

‘এ..ই দেখো আবার আপনি করে বলতেছে!’

‘বলবো। সংসার যখন আমারই করবা তখন আমার যা ইচ্ছা তাই বলেই ডাকবো।’ এ কথা বলে নক্ষত্র হাত বাড়ালো ইরিনকে পাঁজাকোলা করে নেওয়ার জন্য।

‘এত কিছুর পরেও আপনি আমার সাথে সংসার করবেন? হাস্যকর… ‘ নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে ছলছল চোখে মলিন হেসে বললো ইরিন।

এ কথা শুনে নক্ষত্র একপলক দেখলো ইরিনকে। কিন্তু কিছু বললো না। বিছানার সাথে সিটিয়ে থাকা ইরিনকে টেনে কোলে তুলে নিল। ইরিন ওর গলা জড়িয়ে ধরতেই তাকে নিয়ে ওয়াসরুমের দিকে পা বাড়ালো নক্ষত্র।

১১৬.

আজ ৯ দিন পর ইরিনকে ডিসচার্জ করেছে হাসপাতাল থেকে। এ ক’দিন হাসপাতালে অক্লান্তভাবে সেবা করেছে নক্ষত্র ইরিনের। সি- সেকশনের ক্ষত মোটামোটা সেরে উঠলেও ইরিন আগের মতই প্যারালাইজড। ডাক্তার বলেছেন সময় লাগবে ঠিক হতে। বাড়িতে রেখে ট্রিটমেন্ট করলেই চলবে এখন।তাই নক্ষত্র বাকি সব চিকিৎসার ব্যবস্থা বাড়িতেই করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় এবং ইরিনকে নিয়ে ফিরে আসে।

সিঁড়ি ভেঙে নিজেদের ঘরে যেতে হবে বলে নক্ষত্র আর হুইলচেয়ারটা বের করেনি। সরাসরি ইরিনকে কোলে তুলে নিয়ে বাড়িতে ঢুকেছে। বাড়িতে ঢুকা মাত্রই নাফিজ শেখের মুখোমুখি হয় তারা। মামলা করার ব্যাপারটা নিয়ে ঝামেলা হওয়ার পর থেকে নক্ষত্র পুরোপুরি এড়িয়ে চলে নাফিজ শেখকে। আজও তাই তাকে এড়িয়ে দরজা থেকে ঘরে পা বাড়াতেই নাফিজ শেখ বললেন,

‘ওকে আবার এই বাড়িতে কেন নিয়ে এসেছো আদৃত?’

নক্ষত্র কোন জবাব দিল না। ইরিনের লজ্জায় মরে যাওয়ার অবস্থা। নক্ষত্র তাকে নিয়ে সিঁড়িতে পা রাখতেই নাফিজ শেখ চেঁচালেন।

‘শেষমেশ একটা বেঈমান প্রতারককে নিয়ে সংসার করবে তুমি?’

এবার নক্ষত্র সিঁড়িতেই দাঁড়িয়ে গেল। পেছন না ফিরেই বললো, ‘অন্যের দোষ ধরার আগে মানুষের উচিৎ নিজের স্বরূপটা দেখা। তাছাড়া কথায় আছে না? অনেকসময় একজনের ভাগ্য নিয়ে অন্যজনে জন্মায়, আবার একজনের পাপের ফল অন্যজনে বয় (বহন করে)! ঠিক তেমনি আমি আমার মায়ের ভাগ্য নিয়ে জন্মেছি, পিতার পাপের ফল ভোগ করছি। ‘

কথা শেষ করে চুপচাপ ইরিনকে নিয়ে উপরে উঠে গেল নক্ষত্র। নাফিজ শেখের অপমানটা বুঝতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হলো না। ছেলের এমন উদ্ধাত আচরণে রাগ হলো তার। যত যাই হোক, পিতা হিসেবে পুত্রের কাছ থেকে এমন আচরণ সে কিছুতেই প্রাপ্য নয়। কিছুতেই নয়!

উপরে যেতে যেতেই নক্ষত্র টের পেল একটা সূক্ষ উষ্ণতম অনুভূতির। সে বুঝলো বুকে লুকানো মুখটা নিরবে তার শার্ট ভিজিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু, কিসের জলে? অপমান, অবহেলা নাকি অনুশোচনার?

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here