নেশা পর্ব ১০+১১

পর্ব ১০+১১
নেশা Returns💞
Ayusha Akter Usha
“”10″”
নেশা কাঁদতে কাঁদতে নিজের রুমে চলে গেল।আলমারি থেকে ব্যাগ বের করে কাপড় প্যাক করতে লাগল।সে আর এক মূহুর্ত ও এখানে থাকবে না।সে ভেবেছিল সাফার হয়তো তাঁকে ভালোবাসে আর সে জন্যই সে তাকে এখানে আটকে রেখেছে।কিন্তু সে সম্পূর্ণ ভুল।যদি সাফার তাঁকে ভালোবাসতো তাহলে আজ এইভাবে অধিকারের কথা বলতে পারতো না।সাফারের ওপর যে তার কোনো অধিকার নেই তা খুব ভালো করে বুঝিয়ে দিল।সে একটা আশা নিয়েই এখানে ছিল যে হয়তো সাফার তাঁকে ভালোবাসে কিন্তু আজ সেটাও প্রমান হয়ে গেল।সাফার তাঁকে ভালোবাসে না।তাহলে সে এখানে কিসের জন্য থাকবে।একমূহুর্ত ও সে এখানে থাকবে না।এক্ষুনি চলে যাবে।কিন্তু ও ব্যাগ গোছাচ্ছে কেন।ও কি শশুর বাড়ি থেকে বাপের বাড়ি চলে যাচ্ছে যে ও ব্যাগ গোছানো শুরু করেছে।সে তো কিডন্যাপ হয়েছে আর এখন সে এখান থেকে চলে যাচ্ছে তা ব্যাগ গুছিয়ে কি করবে ও।ধুর ব্যাগ বেড এর ওপর ছুড়ে ফেলে রুম থেকে বেরোনোর জন্য দরজা খুলতে যাবে তার আগেই সাফার রুমে এসে দরজা লাগিয়ে নেশা দরজার সাথেই শক্ত করে চেপে ধরল।
-কোথায় যাচ্ছো।
দাঁতে দাঁত চেপে বলল সাফার।নেশা মুখ ঘুরিয়ে শক্ত মুখে বলল
-আমি বাড়ি যাবো।
-এখানে তোমাকে সুবিধে দিয়ে রেখেছি বলে ভেবোনা যে যা খুশি তাই করতে পারবে।এখানে আমার ইচ্ছে ছাড়া তুমি এক পা ও বাইরে বেরোতে পারবে না।
-আমি কিছু শুনতে চাইনা আমি বাড়ি যাবো মানে যাবো।আমি আর এখানে থাকবো না।
-বললাম তো তুমি যেতে পারবে না আমি যেতে দেব না।
-কেন কেন আমাকে আটকে রেখেছেন বলবেন প্লিজ।আমি জানতে চাই আমাকে এখানে কেন আটকে রাখা হয়েছে।কি করেছি আমি।কেন আমি এখানে বন্দি হয়ে আছি।কিছুক্ষণ আগেও ভেবেছিল হয়তো আপনার মনে আমার জন্য একটু হলেও ফিলিংস আছে।সেই ফিলিংস টার লোভেই তো এখানে ছিলাম।আপনার প্রতি সফ্ট কর্নার ছিল বলেই কিডন্যাপ হওয়ার পরেও এখানে কত সহজ ভাবে থেকেছি আমি। কিন্তু এখন সবটা ক্লিয়ার হয়ে গেল আমার অনুভূতি টাই তুচ্ছ ছিল।আমার আপনার কোনো অনুভূতি নেই।আমি ই খামোখা এতদূর ভেবেছিলাম।আপনার ওপর আমার কোনো অধিকার নেই।তাই এখানে থাকার ও কোনো মানে হয় না।এখন যদি মেরেও ফেলেন তাও আমি এখানে থাকবো না।আমি বাড়ি যাবো।আর এক্ষুনি যাবো।
নেশা কথা বলেই যাচ্ছে আর সাফার একদৃষ্টিতে নেশার দিকে তাকিয়ে আছে।নেশার কথা গুলো সাফারের বুকের বাম পাশে গিয়ে বিধেছে।সাফার কিছু না বলে নেশা কে তার বুকে জড়িয়ে নিল।নেশা স্তব্ধ হয়ে গেল।
-ইডিয়ট এতদিনে এটাও বোঝোনি হাউ মাচ আই লাভ ইউ।ভালোবাসি তোমাকে বোঝনা তুমি।তোমার এতো কাছে এসে তোমাকে বুঝিয়ে দিলাম আমার ওপর তোমার অধিকার কি ।তাও বুঝলে না ইডিয়ট।ভালোবাসি নেশা খুব ভালোবাসি তোমাকে।
সাফারের কথা শুনে নেশা নাক টেনে কাঁদতে লাগল।নেশাকে কাঁদতে দেখে সাফার তাঁকে ছেড়ে দু হাতে বাহু ধরে বলল
-কি হলো কাদছো কেন।
-আপনি আমাকে ভালোবাসেননা একদম এ ভালোবাসেননা।
-বললাম তো ভালোবাসি।
-ভালোবাসলে আমাকে সবসময় এইভাবে ইডিয়ট বলতেন না।ইডিয়টদের কেউ ভালোবাসে না।আপনিও ভালোবাসেননা।
বলেই হাত দিয়ে নাক ঘষলো নেশা।নেশার কথা শুনে সাফার বাঁকা হেসে তাঁকে আবার জড়িয়ে ধরে বলল
-হুম তুমি ইডিয়ট।অনেক বড় ইডিয়ট।কিন্তু ইডিয়ট হলেও তুমি শুধুই আমার।আমি আমার এই ইডিয়ট কেই ভালোবাসি।আমার এই ইডিয়ট কেই চাই।বুঝেছ।
সাফারের কথা শুনে নেশা ফিক করে হেসে সাফার পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল।সাফার আরো শক্ত করে নেশাকে জড়িয়ে ধরল।কতদিন ধরে এইদিন অপেক্ষায় ছিল সাফার।নেশা কে বুকে নেওয়ার লোভ টা সেই প্রথম রাতেই হয়েছিল যেদিন সে গাড়িতে তার বুকের মাঝে ঘুমিয়েছিল।সেই থেকে সাফার বারবার তার বুকে শুধু নেশা কে চেয়েছে।আজ তাকে নিজের বুকে পেয়ে যেন সাফারের বুকের শান্তির হিমেল বাতাস বয়ে গেল।কখনো সে নেশাকে তার থেকে দূরে যেতে দেবে না।কখনো না।এইভাবেই বুকে জড়িয়ে ধরে রাখবে।।।।

“”11″”
পরেরদিন সাফার আর নেশা দুজনে একসাথে খুনসুটিতে কাটিয়ে দিল।নেশা আজ সাফারকে বাইরে যেতে দেয়নি।সারাদিন বকবক করে সাফারের কান পাকিয়ে ফেলেছে।মাঝে মাঝে সাফার ধমক দিয়ে তাকে থামিয়ে দিলেও তা শুধু ক্ষণিকের জন্যই কিছুক্ষণ পর আবার শুরু হয়ে যায়।রাতে সাফার খাবার আনতে বাইরে যায়।খাবার নিয়ে রুমে আসতে সাফার থ হয়ে দাঁড়িয়ে পরে।নেশা একটা লাল ব্লাউজ আর পেটিকোট পরে সেই লাল শাড়ি টা নিজের শরীরে শুধু পেচাচ্ছে।সাফারকে দেখেই নেশা শাড়ি নিজের শরীর ঢেকে নিল।
-এই আপনাকে কতবার বলেছি আমার রুমে নক করে আসবেন।
নেশার কথা শুনে সাফারের রাগ মাথায় চড়ল
-আমি আমার বাড়িতে কোথায় নক করে যাবো কোথায় না তা তোমাকে বলতে হবে না।আর তুমি এখন শাড়ি পরছ কেন।
-বাইরে যাবো তাই।
-বাইরে যাবে মানে।
-ওতো কথা বাদ দিন আর আপনি বাইরে যান আমি শাড়ি পরব।
সাফার কিছু না বলে হাত থেকে ট্রে টা টেবিলে রেখে নেশার দিকে এগিয়ে গেল।
-কি হলো আপনাকে বাইরে যেতে বললাম আর আপনি এগিয়ে আসছেন কেন।
-শসসসস
নেশার ঠোঁটে আঙুল রেখে তাঁকে চুপ করিয়ে দিয়ে তার হাত থেকে আঁচল আঁচল টেনে নিল।নেশা দু হাতে নিজেকে ঢাকার চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পরল।সাফার সেদিকে কোনো খেয়াল না করে নেশাকে শাড়ি পরাতে লাগল।শাড়ি পড়ানোর সময় আনেক বার সাফারে হাত নেশা শরীর ছুয়ে যাচ্ছে যাতে নেশা বারবার কেঁপে উঠছে।সাফার কুচি করে নেশার কোমরে খুসে দিল।নেশার সাদা পেটের মাঝখানে থাকা নাভী টা সাফার কে খুব বেশিই টানছে।নিজেকে আটকে রাখতে না পেরে সাফার নেশার নাভীর ওপর ঠোট বসালো।নেশার দম বন্ধ হয়ে এলো। প্রায় অনেকক্ষণ পর সাফার নেশাকে শাড়িটা পরিয়ে দূরে গিয়ে নেশাকে দেখতে লাগল।নেশা কোমরে হাত দিয়ে ছোট ছোট চোখে সাফারকে দেখতে লাগল।সাফার নেশার এই দৃষ্টি দেখে বলল
-কি হলো এই ভাবে কি দেখছ।
নেশা সাফারের কথা শুনে তার দিকে তেড়ে গেল
-এই সত্যি করে বলুন এর আগে কয়টা মেয়েকে আপনি শাড়ি পরিয়েছেন।
-মানে কি?
-মানে কি মানে আপনি এত সুন্দর করে শাড়ি পরানো কোথা থেকে শিখলেন।নিশ্চয়ই এর আগে কোনো মেয়েকে এই ভাবে শাড়ি পরিয়েছেন।
-আমি কোনো মেয়েকে কেন শাড়ি পরাতে যাবো।
-যেই কারনে আমাকে পরালেন।
-তোমার সাথে অন্য কারো তুলনা তুমি কেন করছ।
-করতে হচ্ছে।আপনি বলুন আপনি সুন্দর করে শাড়ি পরানো কোথায় শিখলেন।
-আমি জানতাম তুমি শাড়ি পরতে পারো না।তাই শাড়ি টা যখন তুমি পরবে তখন যে তোমাকে হেল্প করতে হবে তা আমি খুব ভালো করেই জানতাম তাই ইন্টারনেটে আগে থেকেই শিখে রেখেছি।
-সত্যি
-তো।।।।
-ওহহ সরি।
সাফার এবার রাগী চোখে নেশার দিকে তাকালো।এই প্রথম ও কাউকে কৈফিয়ত দিল।আর প্রথম বার কাউকে ভয়ও পেল।

সাফার নেশা রাস্তার ধার ঘেষে হাটছে।সাফার বারন করার পর ও নেশা কোনো বাধা মানেনি।তার নাকি ঘরের মধ্যে বসে থাকতে থাকতে দম বন্ধ হয়ে আসছে।সে আজ বাইরে পরিবেশ অনুভব করবে।তাই না চাওয়া সত্তেও সাফারকে নেশাকে সাথে নিয়ে বেরোতে হলো।নেশা আইস্ক্রিম খাচ্ছে আর বকবক করছে।সাফার চুপচাপ তার কথা শুনছে।হুম নেশার বকবকানি গুলোর ও নেশায় পরে গেছে সাফার।সে খুব ভালো করে বুঝে গেছে নেশা ছাড়া সে আর কিচ্ছু নয়।নেশাই তার সবকিছু।নেশাকে ছাড়া সে একমূহুর্ত ও থাকতে পারবে না।নেশার নিশ্বাসের শব্দ না শুনতে তার শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পরে।মারাত্মক ভাবে নেশায় পরে গেছে।এই নেশা থেকে বেরোনো সাফারের সাধ্য নেই
আর সে কখনো এই নেশা থেকে বেরোতেও চায় না।সাফার নেশার দিকে তাকিয়ে এসব ই ভাবছিল তখনই কিছু গার্ড এসে তাঁদের দুজন কে ঘিরে ধরল।সাফার নেশা অবাক হয়ে সেই গার্ডসদের দিকে তাকিয়ে আছে।সাফার তাঁদের দেখেই দাঁতএ দাঁত চেপে এক হাতে শক্ত করে নেশার হাত ধরল।যেন ছেড়ে দিলেই নেশা তার থেকে হারিয়ে যাবে।তখনি তাঁদের সামনে এসে দাঁড়ালো সম্রাট।সম্রাটকে দেখে নেশার চোখ জল জল করে উঠল।সাফারের থেকে হাত ছাড়িয়ে দৌড়ে সে সম্রাটের বুকে হুমড়ি খেয়ে পরল।
-পাপা।।।।।পাপা কেমন আছো তুমি।
সম্রাট নেশার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল
-ভালো মা তুই ভালো আছিস তো।তোর কোনো ক্ষতি হয়নি তো।
-নো পাপা আমি ঠিক আছি আমার কিচ্ছুটি হয়নি।
সাফার ফ্যালফ্যাল চোখে নেশার দিকে তাকিয়ে আছে।তার মনে কেউ তার বুক থেকে কলিজা ছিঁড়ে নিয়ে চলে গেল।নেশার হারানোর ভয় টা তার সত্যি হতে চলেছে।এমন সময় হঠাৎই পেছন থেকে একটা গার্ডস এসে গান দিয়ে সাফারের মাথায় আঘাত করল।সাফার মাথায় আঘাত পেয়ে হাঁটু গেড়ে রাস্তায় বসে পরল।সাফারকে আঘাত করতে দেখে নেশা বিচলিত হয়ে উঠল।
-পাপা পাপা উনাকে মারছে ওরা।ওনাকে মারতে বারন করো।উনি কিছু করেনি।বিশ্বাস করো উনি কিছু করেনি।
বলেই নেশা দৌড়ে সাফারের কাছে আসতে চাইলে তার আগেই সম্রাট তার হাত ধরে ফেলে
-অনেক কিছু করেছে ও।ও তোকে ইউস করে আমাকে ব্লাকমেইল করতে চেয়েছিল।কিন্তু ও জানে না এই সম্রাট নিজের পরিবারের জন্য কি কি করতে পারে।
সম্রাটের কথা শুনে নেশা স্তব্ধ হয়ে গেল।কি বলছে সম্রাট সাফার তাঁকে ইউজ করেছে।
-নো পাপা তোমার কোথাও ভুল।
-তুই ওকে চিনিস না ও পারে না এমন কোনো কাজ নেই।তুই চল আমার সাথে।
নেশা টানতে টানতে নিয়ে গেল সম্রাট।নেশা প্রাণহীন দৃষ্টিতে সাফারের দিকে তাকিয়ে আছে।সাফার তাঁকে ইউজ করেছে এই কথাটা যেন সে মানতে পারছে না।অন্যদিকে গার্ড সাফারকে একেরপর এক আঘাত করেই যাচ্ছে।কিন্তু সাফারের দৃষ্টি নেশার দিকে।আজ তার ভয় সত্যি হলো।নেশাকে সে হারিয়ে ফেলল।এই হারিয়ে ফেলার ভয়েই তো কাল সম্রাটের গোপন দূত কে মেরেছিল কিন্তু তবুও সে নেশাকে আটকে রাখতে পারলো না।নেশা চলে গেলে সাফার দাঁত মুখ শক্ত করে গ ার্ডসদের দিকে তাকায়।গার্ডসরা ভয়ে একটু পিছিয়ে যায়।।।।
to be continue….
আপনারা সবসময় সম্রাট আর সাফার কে একসাথে কেন তুলনা করছেন।কেন ভুলে যাচ্ছেন।সাফার আর সম্রাট দুজনে আলাদা আলাদা।দুজনের ভালোবাসার নীতিও আলাদা।দুজনের দুজনের মতো করে ভালোবাসে।একজন কে যে আর এক জনের মতোই হতে হবে তা নয় তাহলে কেন বারবার বলছেন সম্রাটের মতো সাফার হতে পারবে না সম্রাটের মতো সাফার হতে পারবে না।সম্রাট সম্রাটের মতো আর সাফার সাফারের মতো সাফার কি প্রয়োজন সম্রাটের মতো হওয়ার।।।তাই বলছি এই ভুল ধারনা টা ভাঙুন আর সাফারের সাথে থাকুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here