পরিসংখ্যান পর্ব ২

#পরিসংখ্যান
পর্ব-২
#tani_tass_ritt

“জি আমি।”
“আপনি আমাকে এভাবে টান দিলেন কেনো আজব তো যদি পরে যেতাম!” বিরক্ত হয় বললো তাহিয়া।
সাহের মুচকি হেসে,
“তাই নাকি পিচ্চি!আমি থাকতে তুমি কিভাবে পরে যাবে বলো।”
“উফফ। আপনিও আমাকে পিচ্চি বলছেন।নাহ আর ভালো লাগে না থাকবই না আমি এখানে।” বলেই হন হন করে ছাদের দিকে পা বাড়ালো তাহিয়া।
সাহের কিছুক্ষণ তাহিয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে নিজেও তাহিয়ার পিছু পিছু যেতে লাগলো।

ছাদে গিয়ে দুজন ই দোলনায় বসলো।
“কি হয়েছে পিচ্চি তোমার মন টা খারাপ কেনো?
“আই আমাকে এতো পিচ্চি পিচ্চি করেন কেনো? জানেন না আর দুদিন বাদে আমি কলেজে উঠবো।হুহ।”
” তো পিচ্চি বলবোনা তো কি বলবো!তুমি আমার থেকে গুনে গুনে ছ বছরের ছোট।”
“তাহলে আপনি বুড়ো কিন্তু আমি পিচ্চি না।” বলেই কান্না করে দিলো তাহিয়া।

এটা দেখে তো সাহের পুরাই অবাক।তার মাথা ঘুরছে।এই মেয়ে কাঁদছে কেন।একটু মজাই তো করছিলো।
“আই তুমি কাঁদছো কেনো?”
“জানিনা” বলেই আরো কাঁদতে লাগলো।
বেচারা সাহের কি করবে বুঝতে না পেরে তাহিয়াকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো।
“প্লিজ কান্না করে না।আর তোমাকে পিচ্চি বলবোনা।এই দেখো কানে ধরেছি।” বলেই এক হাত দিয়ে কান ধরলো সাহের।এটা দেখে তাহিয়া হেসে দিলো।
তার পর তারা কিছুক্ষণ গল্প করে তাহিয়া বাসায় চলে গেলো।
“কি এমন আছে মেয়েটার মধ্যে জানিনা।এতো মেয়ে থাকতেও যে ওকেই কেন ভালোলাগে।আর এই ভাললাগা কবে যে ভালোবাসায় পরিণত হলো আমি নিজেও জানি না।কিছু একটা আছে এই মেয়ের মাঝে।কবে যে এই পিচ্চি বড় হবে আর আমি তাকে বউ করে নিয়ে আসবো।” ভেবেই আনমনে হেসে উঠলো সাহের।

এইদিকে রাহিয়া শাওয়ার নিয়ে বের হয়ে দেখলো তরির অসংখ্য কল এসেছে।অন্য সময় হলে হয়তোবা সাথে সাথেই ব্যাক করতো কিন্তু আজ কেনো যেনো ইচ্ছে করছেনা তার।ফোনটা রেখে সে রুম থেকে বেরুলো।

ড্রইং রুমেই রিমন বসে ছিলো। রাহিয়াকে দেখে রিমন হা করে তাকিয়ে আছে।
গোলাপি কালারের একটা সুতি থ্রিপিস পড়া।মাথায় টাওয়াল দিয়ে প্যাচানো।এতেই রাহিয়াকে যেনো অনেক সুন্দর আর স্নিগ্ধ লাগছে।রাহিয়ার গায়ের রং একটু চাপা হলেও দেখতে মাশাল্লাহ অনেক মায়াবী।আর ওর চুল আর চোখ দেখে যে কেউই পাগল হয়ে যাবে।

রিমনকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাহিয়ার মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো।সে কোনো রকম খাবারের প্লেট টা নিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।

এইদিকে শাফিনের মনটাও বেশ ভালো হয়ে গেলো।কাল সে মাহিদের সাথে চিটাগং যাবে মাহিদের দাদা বাড়ি।ছোট খাটো দুদিনের একটা টুর হয়ে যাবে।সে রিফ্রেশ ফিল করবে।এইসব ঝামেলা এগুলো তার আর ভালো লাগছে না।সে গোছগাছ শুরু করে দিলো।
ফোনটার দিকে তাকাতেই তার রাহিয়ার কথা মনে পরলো।কিন্তু কেন যেনো তার রাহিয়াকে কল দিতে মন চাচ্ছে না।সময়ের সাথে সাথে তাদের রিলেশনটা যেনো কেমন প্রাণহীন হয়ে যাচ্ছে।এইসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে সে রাহিয়াকে কল দিয়েই দিলো।
“হ্যালো”
“এতোক্ষনে সময় হলো তোমার কল দেয়ার।”
“কাল আমি মাহিদের সাথে চিটাগং যাবো।”
“মানে কি।এইদিকে এতো বড় ঝামেলা তুমি এখন যাবে ফুর্তি করতে।তুমি আমাকে কি পেয়েছো? তুমি আর তোমার মা মিলে আমার সাথে নাটক শুরু করে দিয়েছো তাইনা।তুমি….”
বাকিটুকু বলতে পারলো না রাহিয়া।শাফিন ফোনটা কেটে দিলো।সে ব্যাক করলো কিন্তু বন্ধ।রাহিয়া রাগে ফোনটা এক আছাড় মারলো।

এইদিকে শাফিন হতাশ হয়ে ফোনের সিম চেঞ্জ করলো।এই দুদিন সে রাহিয়ার সাথে কোনো যোগাযোগ করবেনা।তার কিছু টাইম দরকার।

পরের দিন খুব ভোরে শাফিন আর মাহিদ রওনা হলো মাহিদের দাদাবাড়ির উদ্দেশ্যে।ট্রেনের জার্নি বেশ ভালোই যাবে বলে মনে হচ্ছে দুজনের।

“তো এখন বল কি হয়েছে? তোর মন মেজাজ এতো খারাপ কেন।?”
“আর বলিস না মা রাহিয়ার জায়গায় তরিকে আমার জন্য পছন্দ করেছে।”
এটা শুনে মাহিদের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেলো।
“মানে তুই কি তরিকে বিয়ে করবি?”
“আজব তুইও রাহিয়ার মতো কথা বলছিস।আমি তরিকে বিয়ে করতে যাবো কেন।মা বললেই হলো নাকি। আর তরি আমার ছোট বোনের মতো।”
এটা শুনে মাহিদের প্রাণ ফিরে এলো।সে যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচলো।

“তো রাহিয়াকে নিয়ে কি ভেবেছিস?”
“কিছুই ভাবতে পারছিনারে।ওর সাথে সম্পর্কের শুরুটা যতটা সুন্দর হয়েছিলো দিন দিন তা কেমন যেনো হয়ে যাচ্ছে।আমাদের মধ্যে কোনো কিছুর ই মিল নেই।আর কথায় কথায় ওর সন্দেহ তো আছে।সব মিলিয়ে এই রিলেশন থেকে আমি হাপিয়ে উঠেছি।আমি নিজেও বুঝতে পারছিনা আমি কি করবো।”

মাহিদ শাফিনের কাধে হাত রেখে,
“সবটা ঠিক হয়ে যাবে তুই চিন্তা করিসনা।”

এইদিকে তরি রাহিয়াদের গেইটের সামনে দাড়িয়ে আছে।সেই কখন থেকে বেইল বাজাচ্চগে।৫ মিনিট হয়ে গেলো এবার তরির বেশ রাগ হচ্ছে।বিরক্ত হয়ে চলে যেতে নিবে তখনি তাহিয়া এসে দরজা খুলে দিলো।
“আরে তরি আপু যে! কেমন আছো?”

“এইতো ভালো।তুই কেমন আছিস রে?আর এতক্ষণ লাগে দরজা খুলতে?”

“আর বলোনা আমাদের বেইলের আওয়াজ কমে গেছে।ঠিক করবে বলে আর করা হয়নি।”

কথা বলতে বলতে তারা রাহিয়ার রুমের দিকে যেতে লাগলো।
“আরে তরি নাকি।কি অবস্থা? ”
“তুমি কবে এলে ভাইয়া? আমাকে তো বলোনি।”
“আরে তোকে সারপ্রাইজ দিতে। তুইতো আমার জানের জান। ”
এটা শুনে তরি হেসে দিলো।
“হয়েছে আর পামপট্টি দিতে হবে। আমার সব জানা আছে বলেই এক চোখ টিপ দিলো তরি।

” আচ্ছা আমি একটু বাহিরে যাচ্ছি।এসে কথা হবে। তুই আছিস তো নাকি?”
“হ্যা হ্যা আছি।তুমি ঘুরে এসো।”
রিমন ওদের থেলে বিদায় নিয়ে চলে গেলি।

তরি রাহিয়ার রুমে ঢুকে দেখলো।রাহিয়া বারান্দায় দাড়িয়ে আছে।তরি যেয়ে রাহিয়াকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো।
রাহিয়ার রাগ মুহুর্তে নাই হয়ে গেলো।
“আহা এভাবে তো আমাকে শাফিন ও ধরে না।”
“ঐ বজ্জাতের কথা বলবিনা।”

হয়েছে আমার হয়ে তোর আর রাগ করতে হবে না।
“তুই আমার ফোন কেন ধরছিলি না? ঐদিনের জন্য সরি আমি।”।
” আজব তুই সরি কেন বলছিস।তোর দোষ নাই কোনো। আমার ই মাথার ঠিক ছিলো না তাইতো আজাইরাই সবার সাথে এমন চিল্লাফাল্লা করেছি।’

“শাফিন ভাইয়ার সাথে কথা হয়েছে?”
“হ্যা হয়েছে।ও মাহিদ ভাইয়ার সাথে চিটাগং যাচ্ছে।”
“বলিস কি রে। এখন কেন যাবে?”
“আরে ভালো হয়েছে।ঘুরে আসুক।ওর ও মন ভালো হবে আর আমারো।”
“আচ্ছা তোরা যা ভালো বুঝিস। রিমন ভাই এসেছে দেখলাম।”
“প্লিজ ঐ বজ্জাতটার নাম নিবিনা।”
” উফ উনি একজন ভালো মানুষ। তোর যে এতো কি প্রবলেম বুঝিনা।যাইহোক ঝটপট রেডি হয়ে নে।আমরা একটু পর বেরুবো।”

“আজব এটা কখন প্ল্যান হলো?”
“এইতো মাত্রই।রিমন ভাইয়ার গাড়ি দিয়ে আমি তুই আর তাহিয়া ঘুরবো আজকে।”

” অসম্ভব ঐ ফাজিলটার সাথে আমি কোথাও যাবোনা।”
“আমি এতো কিছু বুঝিনা।তোর হাতে আর ৫ মিনিট সময় তুই জলদি কর।”

রাহিয়া খুব ভালো করে জানে তরির সাথে সে পেরে৷ উঠবেনা।তাই আর কথা না বাড়িয়ে সে রেডি হতে গেলো।
এইদিকে তরি তাহিয়ার রুমে গিয়ে তাহিয়াকে রেডি হতে বলো।
তাহিয়া খুশিতে পাগল হয়ে যাচ্ছে।সে রিমনের সাথে ঘুরতে যাবে। আলমারি থেকে সব থেকে সুন্দর জামাটা বের করলো।

তরি ফোনটা নিয়ে রিমনকে কল দিলো।
“কাজ হয়ে গিয়েছে। ”
“আহা আমার জানেমান।আমি আসছি।”

তরি হেসে ফোনটা কেটে দিলো।

কিছুক্ষণ পরই তারা বেড় হলো।রিমন নিচে গাড়ি নিয়ে ওয়েট করছে। যেই না গাড়িতে উঠতে যাবে তখনি সাহের এসে হাজির।সাহের কে দেখে তরি পারে না পারে উড়াল দেয়।
“এই মেয়ে এমন হা করে তাকিয়ে আছিস কেন? কি মনে করবে সাহের? ”
“আরে দোস্ত তোদের বাড়িওয়ালার ছেলেটা এতো কিউট কেন রে। আমার সাথে সেটিং করায় দে না।সেই কবের থেকে ক্রাশ খেয়ে বসে আছি।”

“তুই আর তোর ক্রাশ। এখন চুপ কর।”

“তোমরা কোথায় যাচ্ছো?”
“এইতো ঘুরতে। তুমিও আমাদের সাথে যেতে পারো।”রিমন বললো।
সাহের তো এক লাফে রাজি হয়ে গেলো।তাহিয়ার সাথে ঘুরার সুযোগ সে হাত ছাড়া করতে মোটেও রাজিনা।

অনেক ঘুরাঘুরি করলো সবাই।বেশ ভালোই মজা করলো তারা।

এইদিকে মাহিদ শাফিন গোছগাছ করছে।কেনোনা আর একটু পর ই নামতে হবে তাদের।শাফিন এই প্রথম মাহিদের দাদা বাড়ি যাচ্ছে।

ট্রেন স্টেওশনে পৌঁছালে তারা ট্রেন থেকে নামলো।
গ্রামের পরিবেশটা বেশ সুন্দর। যদিও রাত হয়ে যাওয়ার কারণে তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না।মাহিদের দাদাবাড়ির গেইটে ঢুকতেই শাফিন এক ধাক্কা খেলো।ধাক্কা লেগে তার হাত থেকে মিষ্টির হাড়ি টা পরে গেলো।এতে তার মেজাজ গরম হয়ে গেলো। যেইনা কিছু বলতে যাবে সামনের মানুষটাকে দেখে হা করে তাকিয়ে রইলো সে।

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here