প্রথম প্রেম পর্ব ১৫+১৬

#প্রথম_প্রেম
১৫তম পর্ব।

শাওন শেষ পর্যন্ত ভাইয়ের বাসায় যাবেনা বলেই ঠিক করলো, ঝামেলা যা হবার তা হবেই।

শাওন হাঁটছে অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্য, মাঝে মাঝে অজানা গন্তব্যে হাঁটতেই বেশ লাগে।

চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে, সামনে কি হবে কি জানে, ভাইবার পরীক্ষা এই নিয়ে দুই বার পিছিয়ে দিল। তার মতো ছাত্রদের জন্য একটা সার্টিফিকেট কত দরকারী, সেটা কি আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বুঝবে!

ছোট আপুর বয়স আগামী মাসে ২৯ হয়ে যাবে, ডিগ্রি পাশ করেছেন সেই চার/পাঁচ আগে। অথচ বিয়ে যে কেন হচ্ছেনা, সেটা শাওন জানে। যেসব ছেলেরা দেখতে আসে, দেনা-পাওনা নিয়ে আলাপ উঠলেই আর বিয়ে হয়না। বড় ভাই টাকা দিতে পারবেন না, জমি বিক্রিতে ও তিনি বাঁধা দেন। এক ভাইয়ের আয়ে কোন মতে টেনেটুনে সংসার চলছে, সামান্য কিছুটাকা শাওন বাড়ীতে দিতে গিয়ে সে, মাসের অর্ধেক দিন পকেটে কয়েন নিয়ে ঘুরতে হয়, সেটা শুধু শাওন জানে!

শাওন ভাবছে, এই সুন্দর নিষ্পাপ মেয়েটিকে যে কেন তার এই জঠিল জীবনে জড়িয়ে নিল। তাকে ছাড়া থাকাটা ও খুব কষ্টের। এই কষ্ট বুঝবে কে!

বিকাল বেলা শাওন যখন তার ছাত্র নির্ঝরের বাসায় পড়াচ্ছে, তখন বাড়ী থেকে দুইটা মিসড কল এলো। শাওন সাথে সাথে কল ব্যাক করলো।
হ্যালো,
– তুই কি আমাদের শান্তিতে থাকতে দিবি না বাপ।
– কি হইছে আম্মা।
– তুই নাকি সজিবের বাসার কাছে ঘুরে আসছিস, তার বাসায় যাস নি?
– মা, আমি এইখানে একটা জরুরি দরকারে গিয়েছিলাম।
– একনজর ভাই-ভাতিজার দেখতে যাবিনা! আমি বাবা এতো রাগ পছন্দ করিনা, সে তোর বড় ভাই।
আজকেই ফোন দিয়ে বলবি যে, সেদিন সময় ছিল না।
– তুমি বলে দিও।
– শাওন,
– মা।
– আজকেই ফোন দিবা, এখন রাখলাম।

শাওন জানে, ভাইজান নিশ্চয়ই ফোন করে মায়ের সাথে চিৎকার করেছেন, এজন্য মা জরুরি ভিত্তিতে ফোন দিয়েছেন। তবে, এটা ভালো যে, তিনি বুঝতে পারেন নি সে, উর্মি কে একনজর দেখতে গিয়েছিল।

শাওন ভাইয়ের মোবাইলে কল দিল, তিনি খুব বিরক্ত হয়ে ফোন ধরলেন।

হ্যালো।
আসসালামু আলাইকুম।
– ওয়ালাইকুম আসসালাম। কি রে লায়েক হয়ে গিয়েছিস?
– জি না ভাইজান।
– এখানে কোথায় এসেছিস আজ?
– ভাইজান, আমার এক বন্ধুর খালার বাসায়।
– এতো সাতসকালে?
– ও মেসে থাকে, রাত জ্বর ছিল, তাই সকালে এখানে এনে দিয়ে গিয়েছি।
– বাসায় আসতে পারতি! আমি এখানে ঝামেলায় থাকি, তোফায়েল সাহেবের হাত লম্বা, তাই ঝামেলা যাতে না হয়, তাই তোকে আলাদা থাকতে বলেছি। এজন্য বাসায় আসবিনা?
– জি, ভাইজান আসবো।
– আরেকটা কথা, আমার কলিগ সাফায়েত সাহেবের ছোট ভাই, হাইস্কুলের শিক্ষক, তার আমাদের শিরিনের ছবি দেখে পছন্দ হয়েছে। আম্মা কে বলেছি৷ কাল শিরিন কে নিয়ে আমার বাসায় আসবেন, যদি পছন্দ হয়, তারা, বিয়ে পড়িয়ে ফেলবে, ঝামেলা শেষ। অনুষ্ঠান করার পয়সা কে দিবে? কাল আসিস, এখন রাখি।
– জি।

শাওন ভাবছে, যাক ছোট আপুর একটা বিয়ে যদি একটা ভালো ছেলের সাথে হয়, তাহলেই ধান্তি। আর এক মুহূর্তে ছোট এক মিথ্যা ভাইয়া, বিশ্বাস করে ফেলবেন এটা বুঝতেই পারেনি শাওন।

উর্মি কলেজ থেকে বাসায় এসে দেখে, উদয় কে নিয়ে ডাক্তারে যাচ্ছেন বাবা-মা। তার দাঁতে প্রচন্ড ব্যাথা।

উর্মি বাসায় একা বসে আছে, ভাত খেয়ে টিভির রিমোর্ট হাতে নিতেই দেখে, বাবার মোবাইল রাখা, নিশ্চয়ই ভুলে রেখে গিয়েছেন। এ যেন মেঘ না চাইতে বৃষ্টি পেল। আহা! কি আনন্দ।

উর্মি সাথে সাথেই শাওনকে কল দিল, উর্মির খুশিতে হাত কাঁপছে।
– হ্যালো।
– কি করছেন জনাব?
– রুমে শুয়ে আছি,
– খেয়েছো?
– হ্যা। তুমি?
– হুম, আম্মু কালাভুনা করেছিল, সেটা দিয়েই খেলাম।
– গতকাল খুব সুন্দর লেগেছিল?
— তুমি কোথায় ছিলে?
– কোয়ার্টারের অপজিটে?
– ডাকলেনা? আর আগে বললেনা?
– বললে, তোমার অধিক খুশিতে সবাই ধরে ফেলতো। আমার দেখার ইচ্ছে হয়েছে দেখেছি।
– আমার কি দেখতে ইচ্ছে করেনা?

উর্নি অনেকক্ষণ কথা বলে, পরে ফোন রেখে দিল।
উর্মির সারাক্ষণ মনে হয়, যদি বিয়ে হয়, উর্মি সারাদিন শুধু শাওনের হাত ধরে গল্প করবে, সত্যি কি এমন দিন আসবে? জীবনে?

শিরিন কে দেখার পর পরই ছেলের বড় ভাই সজিব সাহেব কে বললেন, ভাইজান আমার ভাই আপনার বোন কে পছন্দ করেছে। আর, আমার বাবা বিয়েতে মেয়ের বাড়ীর ঘটা করে অনুষ্ঠান পছন্দ করেন না, তাই আমরা ঘরোয়া ভাবে, মেয়েকে নিতে চাই।আমাদের বাড়ীতে আমরা ওয়ালিমা করবো। শুধু আমরা ১৫ জন আসবো, তাদের ঠিকমতো খাইয়ে দিবেন।
– কিন্তুএতো ছো পরিসরে, আমার মা কি বলেন দেখি!
– খালাম্মা কে বলবেন, যেন কোন প্রকার ফার্ণিচার না দেন, শুধু আমরা আমাদের বোন টিকে নিব, আর এই কোয়ার্টারে যেহেতু দুই বাসা, তাই এখান থেকে বিয়ে হওয়াটাই সুবিধা।
– জি। জানাচ্ছি।

সজিব সাহেব এই প্রস্তাবে অনেক খুশি হয়ে গেলেন, মায়ের জমানো পঞ্চাশ হাজারে বিয়ে হয়ে যাবে।

শাওনের মা বললেন, ঠিক আছে এভাবেই কর, তবে,তাদের কে বলো, আরও কিছু মানুষ নিয়ে আসতে, আমি ও আমার আত্নীয় স্বজন ২০/২৫ জন বলি। আরেক্টু সময় নেয়।
– আর সময় নেওয়ার দরকার নাই, সামনের শুক্রবার ই ভালো। আমার কোয়ার্টারের ছাদেই কিংবা হলে বিয়ের অনুষ্ঠান করে নিব।
– আচ্ছা, আর তোমার বিল্ডিং এর সবাইকে দাওয়াত দিও।
-দেখি।

তখন মুন্নি বললো হ্যা, তা দিতেই হবে। আর আম্মা, আপনার ছোট ছেলের পছন্দের মেয়ে দেখবেন বিয়েতে!
– এসব ভুল সবার জীবনেই থাকে, এসব নিয়ে কথা না বলাই ভালো।

শাওনের আজ চার দিন ধরে সারাদিন বিয়ের কাজ নিয়ে এই কোয়ার্টারে আসা লাগছে। উর্মিদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। উর্মি কি আসবে বিয়েতে? সবাই উর্মি কে অন্য ভাবে দেখবে? এই ফ্লোরের সবাই জানে, উর্মি আর শাওনের সম্পর্কের কথা! কেমন যে অস্বস্থি লাগছে, আবার কেমন যেন ভালো ও লাগছে। তবে তোফায়েল সাহেব আর রুনা খানম কি মেয়ে নিয়ে এই অনুষ্ঠানে আসবেন! সেটাই ভাবছে শাওন….
#প্রথম_প্রেম
১৬ তম পর্ব।

রুনা খানম কিছুতেই ভেবে পাচ্ছেন না কি করবেন? সজিব সাহেবের বোনের বিয়েতে না গেলে কি হয়! একই ফ্লোরে থাকেন। কোয়ার্টারের সবাই ভাববে, হয়তো আগের বিষয়ের জন্য যাচ্ছেন না। যদিও তিনি মনে করেন এখন হয়তো তাদের মধ্যে কিছু নেই, তবুও এভাবে ঘন ঘন দেখা হলে, কিছু হতে আর দেরী হবে নাকি! তাই তিনি যাওয়ার জন্য তেমন আগ্রহ পাচ্ছেন না!

অনেক চিন্তা ভাবনা করে, তিনি তার মাকে কল দিলেন,
হ্যালো
– রুনা? কেমন আছিস?
– আম্মা, ভালো আছি। তুমি?
– আছি, ভালো আছি।
– আম্মা, চলো আগামী বৃহস্পতিবার বিকালে, বাড়ীতে যাই। অনেক দিন যাওয়া হয়না। শুক্রবার বিকেলে চলে আসবো।
– একা বাড়ীতে গিয়ে কি করবি?
– ভালো লাগছেনা, অনেক দিন কোথাও যাইনা। রুবা কেও নিলাম, যাবে নাকি?
– রুবার অফিস খোলা। আচ্ছা দেখ কি করবি, তাহলে আমি সুজাদ মিয়ারে দিয়ে সব ঠিকঠাক করে রাখবো।আজ ৩০ বছর বাড়ীতে নাই, বছরে একবার যাওয়ার জন্য তোর আব্বা এতো টাকা দিয়ে ডুপ্লেক্স বানিয়ে ছিল।
– এজন্যই বললাম, চলো যাই।
– দেখ রুবা যায় কিনা? আর বাকিরা সব বিদেশে যাবে কেমনে!
– রুবা না গেলেও আমরা যাবো। ঘুরে আসি।
– আচ্ছা আমি সুজাদ মিয়ারে বলছি….
– আম্মা!
– কি?
– আমি উর্মি কে বলবো তুমি বলেছো যেতে, নয়তো যেতে রাজী হবেনা। ওর গ্রাম ভালো লাগেনা।
– তোর যে আর কত কথা! আচ্ছা বলিস আমি বলেছি।

রুনা খানমের এই বুদ্ধি বের করে বেশ লাগছে, আজ সোমবার, এই দুই দিন চুপ করে থাকতে হবে, বুধবারে উর্মি কে বললে হবে। এখন বললে সে নানা অযুহাত রেডি রাখবে।

উর্মি কলেজ থেকে বাসায় এসে, আজ নতুন কেমেস্ট্রি স্যারের বাসায় যাবে, তাই বই খাতা গুছিয়ে স্যারের বাসায় রওনা হচ্ছে, একদম হেঁটে যাওয়া যায়।

উর্মি বললো আম্মু, আমি স্যারের বাসায় একা যাই, প্লিজ না করবেনা।
– না। আমি যাবো।
– এসব কিন্তু অতিরিক্ত। সবাই হাসাহাসি করে!
– করুক।

উর্মি মন খুব খারাপ করে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, শাওন ছাদ থেকে দেখছে তার প্রিয় বালিকা প্রেমিকার মন খারাপ হয়ে আছে। ইচ্ছে করছে উড়ে গিয়ে হাত ধরে বলতে চলো রিকশা দিয়ে ঘুরে আসি, হুড খোলা থাকবে, চুল গুলি বাতাসে উড়বে, আর দুজন হাতে হাত রেখে গল্প করলেই তোমার মন ভালো হবে, আমি জানি।
কিন্তু এমন দিন কখনো আসবে কি না, কে জানে! চাইলেই অনেক কিছু হয়না।

এসব ভাবতে ভাবতেই ফোন বাজছে, স্যাইয়ারার ফোন নম্বর থেকে কল। শাওন কেটে ব্যাক করলো।
– হ্যালো।
– মন খারাপ কেন?
– তোমার শ্বাশুড়ির জন্য। একা বের হতে দেয়না!
– তাই?
– এখানে এসে মন ভালো হয়ে গেল, স্যারের বাসায় ফোন এলাউ আছে। স্যার আর দশ মিনিট পর ক্লাসে আসবেন। এখন থেকে সাইয়ারার ফোনে থেকে কল দিব। তাই ভাবলাম এখন একটু কথা বলি।
– বলো।
– আমি কি বিয়েতে আসবো? আমার তো ইচ্ছে হচ্ছে আপুর হাজবেন্ড কে বলতে হ্যালো দুলাভাই আমি কিন্তু আপনার….
– কি?
– কিছুনা। আমার খুব আসতে ইচ্ছে করছে, তুমি কিন্তু আমার কাছাকাছি এসে দাঁড়াবেনা, আমার লজ্জা লাগবে। তবে, তুমি আমাকে দেখবে, পাশাপাশি থাকবে, এটা ভাবতেই বেশ রোমাঞ্চকর লাগবে!

পুরো এগারো মিনিট বিশ সেকেন্ড উর্মি শুধু বিয়ের প্ল্যানিং করছে, কি পরবে, তাকে কি তার হবু শ্বাশুড়ি পছন্দ করবে? কত কিছু…. শাওনের ও বেশ ভালো লাগছে এসব ভাবতে!

বৃহস্পতিবার কলেজ থেকে আসার পর উর্মি দেখে, রুনা খানম ব্যাগের মধ্যে কাপড় গুছিয়ে রাখছেন!
আম্মু?
– কি?
– তুমি কোথায় যাবে? এজন্য কি বাবা আনতে গিয়েছিল?
– তুই ও যাচ্ছিস!
– কোথায়?
– নানু বাড়ী।
– কবে?
– আজ।
– আজ গিয়ে কখন আসবো?
– থাকবো, কাল আসবো।
– আমাকে বাদ দাও, আমি যাবোনা।
– তোর রেজাল্ট ভালো হয়েছে, এজন্য আম্মা বার বি কিউ পার্টি এরেঞ্জ করেছেন। তোর ছোট আন্টিও যাচ্ছে।
– আমার যেতে ইচ্ছে করছেনা
– তোর জন্য পার্টি, আর তুই যাবিনা? যা, রেডি হ। পাঁচটায় রওনা হবো!
– আম্মু আমাকে কাল বললে না কেন?
– আরেহ, সারপ্রাইজ দিয়েছেন তোর নানু, আমি কি করবো? আর কেমিস্ট্রি স্যার কে বলেছি, তুই আজ যাবিনা। রেডি হ যা!

উর্মি বাথরুমে ঢুকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, মনে হচ্ছে সব ভেঙে ফেলতে, মাঝে মাঝে এমন সময় আসে, যখন এই পরিস্থিতির জন্য কিচ্ছু করার থাকেনা। একদিকে রাগ হচ্ছে, অন্যদিকে চোখ বেয়ে পানি পরছে, কত প্ল্যানিং হয়েছে এতো দিন। আর ইচ্ছে করেই যে রুনা খানম এই বুদ্ধি করেছেন, এটা উর্মি জানে। শাওনের কত মন খারাপ হবে, কে জানে!

শাওন কোয়ার্টারের গেইটে দাঁড়িয়ে ডেকোরেটার্সের লোকের অপেক্ষা করছে, তখন দেখলো, রুনা খানম উর্মি আর উদয় কে নিয়ে নামছেন সিঁড়ি দিয়ে হাতে বেশ বড় একটা ট্রলি ব্যাগ।

শাওন সুন্দর করে সালাম দিল।
কেমন আছ শাওন?
– জি ভালো আছি।
– কালই তো বিয়ে?
– জি।
– আমার আম্মা, গ্রামের বাড়ী নিয়ে যাওয়ার প্ল্যান করে ফেলেছেন, তাই চলে যাচ্ছি। কাল রাতে চলে আসবো। শুভ কামনা রইলো তোমার বোনের জন্য!
– জি।

শাওনের মন সাথে সাথেই খারাপ হয়ে গেল, উর্মি একবার ফিরে শাওনের দিকে অসহায় ভাবে তাকিয়ে রইলো, এতো খারাপ লাগছে মনে হচ্ছে সাদা ধবধবে কার তার প্রান টা নিয়ে দ্রুত বেগে চলে গেল!

আর যেন কোন কাজেই মন লাগছেনা, এতো মন খারাপ যেন গত কয়েক মাসেও যেন হয়নি! সব সময় আলাদা করতেই চান রুনা খানম, কিন্তু যদি আল্লাহ কপালে রাখেন উর্মিকে হয়তো একদিন তিনিই হাতে তুলে দিবেন।

উর্মি সারা রাস্তা চোখ বন্ধ করে থাকলো কারণ তার অতি বুদ্ধিমতি মা না হয় ধরেই ফেলবেন সে যে শাওনের জন্য মন খারাপ করছে। উর্মি বার বার বলছে আম্মু আমার আজ বমি বমি লাগছে আমি ঘুমিয়ে গেলে ডাকবেনা। কিন্তু আসলে এরকম কিছুই না, প্রচন্ড মন খারাপে কথা বলতেই ইচ্ছে করছেনা।

শাওনের বোনের বিয়ের পর, ওই রাতেই শাওন তার মেসে চলে গেল। বাড়ীর সবাই বাড়ীর উদ্দেশ্য রওনা হয়ে গেল। সবকিছু সুন্দর মতো হয়েছে তাতেই বাড়ীর সবাই খুশি।

উর্মি এভাবেই স্যারের বাসায় গিয়ে প্রতিদিন তিন/চার মিনিট করে কথা বলে, দেখা সাক্ষাৎ ছাড়াই বেশ আনন্দের দিন যাচ্ছে দুজনের।

আজ সকালে শাওনের অনার্সের রেজাল্ট হয়েছে, এবং সে তার বিভাগে ২য় হয়েছে, প্রচন্ড খুশি আজ শাওন। কিন্তু মাকে জানানোর পর তার প্রিয় মানুষটিকে জানানোর তার কোন অপশন নাই। তার অপেক্ষা করতে হবে সেই মানুষটার ফোনের অপেক্ষায়। কি অদ্ভুত প্রেম, তবুও কত মায়া জড়িয়ে আছে এই মানুষ টি।

উর্মি সাইয়ারার ফোন থেকে দুই মিনিটে রেজাল্ট জেনে প্রচন্ড খুশিতে সে শুধু হাসতে লাগলো, আর বললো আমি আজ খুব খুব খুশি শাওন সাহেব। তুমি গ্রেজুয়েট, আহা! আর বেশি দিন নয়, আমাদের এক হওয়ার। একটা এস.এম.এস দিচ্ছি পড়, আর যা বলছি, করবে, এখন রাখি।

উর্মি লিখলো,
কাল দুপুর-বিকাল শুধুই তোমার আরআমার। এবং
সাথে আছে একটা প্রচন্ড আনন্দের খবর। কাল তুমি কোথায় থাকবে জানাচ্ছি, তবে কাল খুব আনন্দের খবর দিব, কালকের জন্য প্রস্তুত নাও, শাওন সাহেব।

উর্মি আর কি আনন্দের খবর দিবে, তাই ভেবে পাচ্ছে না শাওন, কালকের দিনে সে সারাদিন থাকবে, এরচেয়ে আনন্দের আর কি আছে, আজকের দিনের এমন চমৎকার রেজাল্ট, আরও আনন্দের ও কিছু! অধির আগ্রহ অপেক্ষা করছে শাওন, আগামীকালের সেই সুখবরের জন্য…..

চলবে….
আন্নামা চৌধুরী।
১৬.০৮.২০২১
চলবে…

আন্নামা চৌধুরী
১৩.০৮.২০২১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here