প্রেমের হাতেখড়ি পর্ব -২৪+২৫+২৬

#প্রেমের_হাতেখড়ি
#পর্ব:২৪
#ফাতেমা_জান্নাত (লেখনীতে)

রাফসান মির্জা নিজের অফিসে বসে আছে।রা’গে তার মাথা ফে’টে যাচ্ছে।এত কষ্ট করলো এই নির্বাচনে জিতার জন্য।সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য।কিন্তু দিন শেষে তার ফলাফল শূণ্যের কোটায়। তার কর্মরত সব গুলো লোক গুলো কে ইচ্ছা মতো অশ্রাব্য ভাষায় গা’লি দিয়েছে রা’গ কমানোর জন্য।দুটো গার্ড এর মাথায় শ্যুট করে মে’রে ও ফেলেছে।কারণ গতকাল সকালে তাদের দায়িত্ব দিয়েছিলো প্রণয় কে মা’রার জন্য।সব গুলো অকর্মণ্য।

আপাতত রাফসান মির্জার আশেপাশে কেউ নেই।সবাই ভ’য়ে বাইরে আছে।রাফসান মির্জা নিজের কেবিনে ভাঙচুর করেছে।কিছুক্ষণ পরেই দরজায় কেউ নক দেয়।রাফসান মাথা তুলে সেই দিকে তাকিয়ে অশ্রাব্য গা’লি দিয়ে বলে,

—কোন কু…বাচ্চা এখন ডিস্টার্ব করতে এসেছিস আমাকে?খোদার কসম একেবারে গু’লি করে ঠুলি উড়িয়ে দিবো আমাকে ডিস্টার্ব করলে।

রাফসান মির্জার গা’লি শুনে ভ’য়ে গুটিয়ে দরজার বাইরে -ই দাঁড়িয়ে থাকে প্রদীপ আর মেহেদি। প্রদীপ তবুও একটু সাহস করে দরজা হালকা খুলে শুধু মাথাটা ঢুকিয়ে রাফসান মির্জা কে বলে,

—স্যার এমপি শাহরিয়ার প্রণয় এসেছে।আপনার সাথে দেখা করতে চেয়েছে।

“এমপি শাহরিয়ার প্রণয় ” কথা টা যেন রাফসান মির্জার রা’গে ঘি ঢাললো। টেবিলের উপর হাতের কাছে একটা গ্লাস ছিলো। গ্লাস টা নিয়েই দরজার দিকে তাকিয়ে প্রদীপ এর দিকে ছুঁয়ে মা’রলো।প্রদীপ এর মাথায় পড়ার আগেই প্রদীপ মাথা বের করে আনে।

রাফসান মির্জা মেহেদি কে ডাকতে -ই মেহদি ভ’য়ে ভ’য়ে ভিতরে যায়।রাফসান মির্জা মেহেদির দিকে একবার তাকিয়ে বলে,

—শাহরিয়ার প্রণয় কে আসতে বল।আর প্রদীপ কে বল এগুলো পরিষ্কার করার জন্য লোক পাঠাতে।

—জি স্যার।

বলেই মেহেদি বেরিয়ে যায়।কিছুক্ষণ পরেই প্রণয় ঢুকে রাফসান মির্জার কেবিনে। প্রণয় এর পরে প্রদীপ দুই জন লোক কে নিয়ে কেবিনে ঢুকে সব পরিষ্কার করতে। কেবিনে ঢুকে প্রণয় চার দিকে একবার তাকায়।কেবিন এর চারপাশে ফুলের টব কাচঁ, গ্লাস ভে’ঙে পড়ে আছে।চেয়ার গুলো ও উলটা পালটা হয়ে পড়ে আছে।প্রণয় সব কিছু নজরে নিয়ে একটা চেয়ার ঠিক করে রাফসান মির্জার সামনে বরাবর বসে।প্রদীপ পুরো কেবিনে চোখ ভুলিয়ে এই অবস্থা দেখে রাফসান মির্জার দিকে তাকিয়ে বলে,

—স্যার এখানে কি হয়েছে?এই অবস্থা কেন সব কিছুর?

রাফসান মির্জা বিরক্ত হয় প্রদীপ এর কথায়।ছেলেটা প্রয়োজন এর তুলনায় বেশি কথা বলে।ইচ্ছে করে একে মে’রে ফেলতে। নেহাত সব গুলো কাজ ঠিক মতো করে আর শাহরিয়ার প্রণয় এর ইনফরমেশন যোগাড় করে দেয় দ্রুত। তাই একে নিজের কাজে এখনো ধরে রাখছে।নয়তো মে’রেই ফেলতো।

রাফসান মির্জা বিরক্ত নিয়ে চোখ মুখ কুঁচকে প্রদীপ এর দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,

—কেন তুই দেখছিস না?ভূমিকম্প হয়ছে।যা এবার এখান থেকে।

রাফসান মির্জার কথায় প্রদীপ তো পুরো অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।চোখ বড় বড় করে রাফসান মির্জার দিকে তাকিয়ে আছে।যেন পৃথিবীর সব থেকে আশ্চর্য মানুষ তার সামনে বসে আছে আর অষ্টম আশ্চর্য এর কথা শুনিয়েছে তাকে।

প্রদীপ নিজের আশ্চর্যদায়ক অবস্থা থেকে বের হয়ে রাফসান মির্জা কে সুধায়,

—স্যার ভূমিকম্প হয়ছে আপনি বেচেঁ আছেন কেমনে? আপনি ম’রেন নাই?আমি মনে করছি ভূমিকম্প হইলে আপনার মাথায় ছাদ ভে’ঙে আপনি এতক্ষণে ম’রে গেছেন।

—তুই কি আমার ম’রার আশা করছিস নাকি?

—হ্যাঁ না স্যার তা…

—বের হ যা এখান থেকে।একমিনিট ও তোকে দেখতে চাই না।

প্রদীপ কথা শেষ করার আগেই রাফসান মির্জা ধ’মক দিয়ে থামিয়ে দেয়।প্রদীপ লোক দুটো কে নিয়ে বেরিয়ে যায়।এতক্ষণে রুম পরিষ্কার হয়ে গেছে।

প্রণয় এতক্ষণ চুপ করে প্রদীপ আর রাফসান মির্জার কথা শুনছিলো। প্রণয় বুঝে গেছে প্রদীপ যে রাফসান মির্জা কে বেশি বিরক্ত করে কথা বলে।একে বারে রিফাত,সজীব,সুজন এর কার্বন কপি যেন।প্রণয় সুক্ষ্ম হাসে ঠোঁটের কোণে রেখা ফুটিয়ে।

রাফসান মির্জা গলা খাকাড়ি দিয়ে প্রণয় কে বলে,

—তা শাহরিয়ার প্রণয় আমার অফিসে কেন??

প্রণয় হেসে উত্তর দিলো.,

—তেমন কিছু না।দেখতে আসলাম আপনার কি হাল চাল।এখন এসে দেখি আপনি ঠিক থাকলে ও আপনার চার পাশের অবস্থানরত পরিবেশ ঠিক নেই।

—কি বলতে এসেছেন সোজা সাপটা বলুন।মাথা গরম করবেন না।

—আহা রে’গে যাচ্ছেন কেন?অতি রা’গ ভালো না।

বলেই প্রণয় ফোনে কিছু একটা করে।কিছুক্ষণ পরেই রাফসান মির্জার কেবিন এর নক পড়ে।রাফসান মির্জা কিছু বলার আগেই প্রণয় অনুমতি দেয় অনুমতি দেয় ভিতরে আসার।অনুমতি পেয়ে কেবিনে একে একে রিফাত, সজীব, সুজন ঢুকে। তিন জনের হাতে তিনটা মিষ্টির প্যাকেট। তিন জনে রাফসান মির্জার দিকে তাকিয়েই বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে হেসে দেয়।

—এসব কি?মিষ্টি কেন এখানে?

রাফসান মির্জার প্রশ্নে প্রণয় হেসে বলে,

—এতক্ষণ ওরা তিন জন আর আমার গার্ড রা মিলে আপনার অফিসের সকল কে মিষ্টি বিতরণ করেছে। আপনি বাকি ছিলেন তাই আপনার জন্য ও নিয়ে আসলাম। আর যাই হোক এমপি হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। এই খুশি টা তো আমি একা ভোগ করতে পারি না।আমার প্রতিনিধি কে এই আনন্দে অংশীদার করার ভাবনায় আপনার জন্য মিষ্টি নিয়ে চলে আসলাম।

বলেই প্রণয় প্রশস্ত হাসি দেয়।রাফসান মির্জা তেলে বেগুনে চেতে উঠে বলে,

—আপনি বেশি করছেন।এর ফল ভালো হবে না।আ…

আর কিছু বলতে পারিনি।এর আগেই প্রণয় রাফসান মির্জার মুখে একটা মিষ্টি পুরে দেয়।রাফসান মির্জা চোখ বড় বড় করে প্রণয় এর দিকে তাকিয়ে আছে।প্রণয় হেসে বলে,

—অতিরিক্ত রা’গ ভালো না।তাই মিষ্টি খেয়ে রা’গ কমান।আসি আবার দেখা হবে ইনশাল্লাহ। আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে মানুষের সেবা করতে পারি।

বলেই প্রণয় বেরিয়ে যায়।প্রণয় এর পিছন পিছন রিফাত, সজীব, সুজন বেরিয়ে যায়।রিফাত বের হওয়ার আগে তার হাতের মিষ্টির প্যাকেট রাফসান মির্জার টেবিলে রেখে বলে,

—মিষ্টির দাম কিন্তু বেশি তবুও বিনা পয়সায় দিয়ে গেলাম আপনাকে।এমপি হতে পারেন নি দুঃখ লাগছে?নো সমস্যা। মিষ্টি দিয়ে গেলাম। মিষ্টি খেয়ে দুঃখ কমান আর বেশি বেশি প্রণয় ভাইকে মনে করে দোয়া করেন উনার জন্য।আসি ক্যান? মিষ্টি লাগলে বলবেন। লজ্জা পাবেন না।আমরা আমরা -ই তো।

বলেই রিফাত ভেটকি মাছের মতো রাফসান মির্জা কে একটা ভেটকি মে’রে বেরিয়ে যায়।রাফসান মির্জা রা’গে মিষ্টার প্যাকেট টা ফেলে দিয়ে বলে,

—তোকে আমি দেখে নিবো শাহরিয়ার প্রণয়। এমপি হয়ে খুব সুখে আছিস তাই না?খুব আনন্দ লাগছে?তোর আনন্দ অতি তাড়াতাড়ি আমি শেষ করবো দেখিছ।

🌸🌸

রাহেলা জোর করে জান্নাত কে একটা মেরুন কালারের শাড়ি পড়িয়েছে।জান্নাত এতে প্রচণ্ড বিরক্ত। মূলত আজকে তাকে দেখতে আসবে।এখন দুপুর দুইটা পঁয়তাল্লিশ বাজে।পাত্র পক্ষ এখনো আসেনি।এসে যাবে যে কোনো সময়।জান্নাত নিজের বেলকনিতে বসে আছে দোলনায়। গায়ে মেরুন রঙ এর শাড়ি জড়ানো। মাথায় হিজাব বাধা।আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে সে।বর্ষার আগমন এর আর মাত্র আনুমানিক সাত দিন আছে।কিন্তু আকাশে এখন থেকেই মেঘ এসে হানা দিচ্ছে।জান্নাত এর কাছে মনে হচ্ছে ওগুলো বিষন্ন তার মেঘ।ঠিক যেমন তার মনে বিষন্ন তার মেঘ এসে জমাট বাধছে,ঠিক তেমন।এই মেঘ কি কখনো মুছে গিয়ে নীলাভ আকাশ টা পরিচ্ছন্ন করবে?প্রকাশ করবে কি তার মনে মিঃ ভালোবাসা কে নিয়ে জন্ম নেওয়া অনুভূতি গুলো?হবে কি মিঃ ভালোবাসা জান্নাত এর একান্ত একজন ভালোবাসার মানুষে রূপান্তরিত?
জানা নেই এই প্রশ্নের উত্তর জান্নাত এর অজানা। মনে এসে বিঁধেছে সুক্ষ্ম ভ’য়।আজকে যে পাত্র পক্ষ দেখতে আসবে কি হবে? তা তার ভাবনাতীত।

পার্শিয়া আর জেনিথ জান্নাত এর বেলকনিতে খেলছে একপাশে বসে।জান্নাত তাদের দুই জনের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে।হঠাৎ নিচ থেকে রাহেলা ডাকতেই দোলনা থেকে উঠে চলে যায় রুমে।রাহেলা জান্নাত এর শাড়ির আচঁল টাকে পিছন থেকে টেনে সামনে এনে জান্নাত এর হাতে ধরিয়া দেয়।তাকে নিয়ে নিচে পাত্র পক্ষের সামনে চলে আসে।পাত্র পক্ষ থেকে ছেলের বোন আর ছেলের খালামণি এসেছে।আর ছেলের ক্লাস নাইনে পড়ুয়া ভাই।

জান্নাত তাদের কে সালাম দিয়ে তাদের সামনের সোফায় বসে।কিছুক্ষণ কথা বলে।তারা যা যা জিজ্ঞেস করার করে।জান্নাত অনিচ্ছা সত্ত্বেও সাবলীল ভাবে উত্তর দেয়।

আছরের আজান এর কিছু পরেই মানুষ গুলো চলে যায়।জান্নাত নিজের ঘরে ফিরে আসে।শাড়ি চেঞ্জ করে নামাজ পড়ে নেয়।বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,

—🌸‘‘বিষাদের ছায়া যখন পড়ে মনে,
অনুভূতি গুলো থেকে যায় তখন গোপনে’’।🍁
এইযে আমার মনে ও বিষাদের ছায়া পড়েছে মিঃ ভালোবাসা।আপনার প্রতি জন্ম নিয়েছে মন কুঠিরে এক অন্য রকম অনুভূতি। কিন্তু সব টুকুই রয়ে আছে আপনার গোপনে। আচ্ছা আপনি কখনো জানতে পারবেন তা?হয়তো জানবেন, হয়তো না।

🌸🌸

টিক টিক শব্দ করে ঘণ্টার কাঁ’টা এসে থেমেছে বারো টার ঘরে।জান্নাত কফি হাতে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে।নয়টা থেকে দশটা পর্যন্ত এক ঘন্টা ঘুমিয়েছে বিধায় এখন ঘুম আসছে না চোখের পাতায়। তাই কফি হাতে বেলকনিতে চলে এসেছে রাতের মনোমুগ্ধকর নির্জন পরিবেশ উপভোগ করতে।

—এত রাতে বেলকনিতে? ঘুমান নি কেন জান্নাত?

হঠাৎ কারো কণ্ঠ স্বর পেতেই কিছুটা চমকে উঠে জান্নাত। পর মুহূর্তে নিজেকে ধাতস্থ করে প্রণয় এর বেলকনিতে তাকিয়ে দেখে প্রণয় দাঁড়িয়ে আছে।জান্নাত ফিচেল হাসে।স্বগতোক্তি করে বলে,

—নয়টায় ঘুমিয়ে ছিলাম কিছুক্ষণ তাই ঘুমা আসছে না।

প্রণয় জান্নাত এর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে কিছু একটা বুঝে নিয়ে কথার প্রত্যুত্তর দেয়,

—আপনার কি মন খারাপ জান্নাত?

জান্নাত তাকায় প্রণয় এর দিকে।লোকটা উৎসুক প্রশ্নাতীত চাহনি নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে তার উত্তর এর আশায়।জান্নাত বলে,

—মন খারাপ কিনা নিজের ও বোধগম্য হচ্ছে না।

—কোনো সমস্যা? কিছু নিয়ে কি চিন্তিত আপনি?

—নাহ। তেমন কিছু না।আজকে দেখতে আসছিলো পাত্র পক্ষ বুঝলেন? হয়তো অতি শীঘ্রই বিয়ে টা হয়ে যাবে।

জান্নাত এর মুখে “বিয়ের” কথা শুনে প্রণয় এর মুখ টা ফ্যাকাসে রূপ ধারণ করে।মুহূর্তে -ই মাথায় এসে হানা দেয় একটি কথা “জান্নাত কে হারিয়ে ফেলবে না তো”?মনের তোলপাড় শুরু হয়।তবুও সেটা প্রকাশ করে না জান্নাত এর সামনে। মুখশ্রী তে হাসির চাপ ফুটিয়ে তুলে জান্নাত কে বলে,

—জান্নাত একটা ওয়ে বলবেন ?

জান্নাত তাকায় প্রণয় এর দিকে।সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকায়। প্রশ্ন করে,

—কিসের ভিত্তিতে?

—কি করলে আমাকে ও পাত্রী পক্ষ দেখতে আসবে?

—মানে?

—আপনি মাত্র অনার্স ফাস্ট ইয়ারে পড়ছেন। কিছুদিন পর পর – ই আপনাকে পাত্র পক্ষ দেখতে আসে।অথচ দেখেন আমার বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে।রাজনীতি করি।এমপি হয়েছি। বাবার অফিস ও চালায়।তারপর ও পাত্রী পক্ষ আমাকে দেখতে আসে না কেন? আজব! কিছুর অভাব নাই শুধু একটা বউ ছাড়া।

বলেই প্রণয় আফসোস এর নিশ্বাস ফেলে।জান্নাত প্রণয় এর কথা শুনে হাসবে না কাঁদবে সেটা ভুলে গেছে।
হঠাৎ জান্নাত প্রণয় এর পিছনে প্রান্তিক কে দেখে অন্য পাশে চলে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

প্রণয় ঘুমে ঢুলতে ঢুলতে জেনিথ কে কোলে নিয়ে এসে প্রণয় এর পাশে দাঁড়ায়। প্রণয় প্রান্তিক কে দেখে বলে,

—কিরে সাড়ে বারোটা বাজে ঘুমাস নি?আমার ঘরে কেন তুই?

প্রান্তিক জেনিথ কে প্রণয় এর কোলে দিয়ে বলে,

—ঘুমে ছিলাম। জেনিথ আমার রুমে গিয়ে লাফালাফি করে ঘুমের ডিস্টার্ব করছে তাই দিয়ে গেলাম।

—দরজা লাগিয়ে ঘুমাস নি কেন?

—ভুলে গেছিলাম।

—আচ্ছা যা।যাওয়ার সময় আমার রুমের দরজা টা ভিড়িয়ে দিয়ে যাস।তাহলে আর জেনিথ বের হতে পারবে না।

প্রান্তিক যাওয়ার জন্য ঘুরতেই হঠাৎ চোখ পড়ে পাশের বেলকনিতে এক কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা জান্নাত এর দিকে।কফির কাপ হাতে দাড়িঁয়ে আছে।প্রান্তিক একবার প্রণয় এর দিকে তাকায় আবার জান্নাত এর দিকে।দুই জনের দিকে তাকিয়ে চোখ মুখ কুঁচকে হুট করে চিল্লিয়ে বলে উঠে,

—“আল্লাহ এই দুই জনকে হয় বিয়া করাই দাও, নয়তো এই দুই টা বেলকনি ভে’ঙে ফেলো।এদের রাত দিন চব্বিশ ঘন্টার অত্যা’চারে বেলকনি দুইটা ও অতিষ্ঠ। আল্লাহ আমার কথা রেখো “.।

প্রান্তিক এর কথা শুনে জান্নাত সেই দিকে তাকায় ততক্ষণে প্রান্তিক সেখান থেকে ছুটে পালিয়ে গেছে।প্রণয় জান্নাত এর দিকে তাকিয়ে আছে।জান্নাত কিছু না বলে নিজের ঘরে চলে যায়।প্রণয় এবার হাসি দিয়ে বলে,

—আমিন।আল্লাহ বেলকনি ভা’ঙার দরকার নেই।বিয়ে হলেই হবে।ওটা কবুল করিয়ে দিও।

চলবে ইনশাল্লাহ✨🖤#প্রেমের_হাতেখড়ি
#পর্ব:২৫
#ফাতেমা_জান্নাত (লেখনীতে)

জাতীয় সংসদ ভবন।প্রণয় এর অনেক স্বপ্নের। রাজনীতি তে যখন প্রথম নিজেকে জড়িয়ে ছিলো। তখন থেকে -ই সংসদ ভবনের একজন সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখতো। নিজের জন্য না হলেও দুস্থ মানুষ এর জন্য তার প্রয়োজন ছিলো সংসদ সদস্য হওয়ার। নিজের শহরের মানুষ গুলোর পাশে থাকার। সরকার পক্ষ থেকে ও যাতে মানুষ গুলো কিছু পেতে পারে সেই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।সবার সামনে উঁচু একটা স্থানে চেয়ারে বসে আছে মাননীয় স্পিকার। প্রণয় কে মাননীয় স্পিকার বললো কিছু বলার জন্য।প্রণয় মুচকি হেসে সালাম দিয়ে সাবলীল ভাষায় সুন্দর করে নিজের বক্তব্য আরোপ করে মাননীয় স্পিকার এবং চারিপার্স্বস্থ উপস্থিত সব মানুষের নিকট। কথার মাঝেই আস্তে আস্তে প্রণয় এর মুখ কঠিন হয়।হৃদয় কাঁপানো একের পর এক বক্তব্য দিতে থাকে সে সুনিপুণ ভাবে।

দুপুর একটা বাজে প্রণয় জাতীয় সংসদ ভবন থেকে বের হয়েই গিয়ে গাড়িতে বসে।ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা। সাদা পাঞ্জাবী টা ও লেপ্টে আছে শরীরে।সজীব প্রণয় এর দিকে তাকিয়ে এই অবস্থা দেখে এসির পাওয়ার বাড়িয়ে দেয়।প্রণয় চোখ বন্ধ করে সিটে মাথা হেলিয়ে রেখেছে।রিফাত তাকিয়ে বলে,

—প্রণয় ভাই বেশি খারাপ লাগছে?

প্রণয় চোখ খুলে রিফাত এর কথায়।মুচকি হেসে বলে,

—না ঠিক আছে।শুধু মাথাটা ব্য’থা করছে।সমস্যা না ঠিক হয়ে যাবে।

বলেই প্রণয় সজীব এর দিকে তাকিয়ে এবার বলে,

—সজীব সোজা বাসায় চল।মাথা ব্য’থা টা যেনো বাড়ছে।

প্রণয় এর কথায় সজীব গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চালানো শুরু করে।প্রণয় আবার চোখ বন্ধ করতে যাবে এর আগেই সুজন বলে উঠে,

—প্রণয় ভাই!একটা কথা বলার ছিলো।

প্রণয় এবার সোজা হয়ে বসে।সুজন এর দিকে তাকিয়ে বলে,

—হুম বল এবার।

—ভাই,লাবণ্য কে চিকিৎসার জন্য বাইরের দেশে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সুজন এর কথা শুনে প্রণয় সাথে সাথে কিছু বলে না।চুপ করে কিছু একটা ভেবে তারপর বলে,

—লাবণ্য কে বাইরে নেওয়ার দরকার নেই যেই ডাক্তারের আন্ডারে লাবণ্য কে রেখেছি তাকে বল বাইরের দেশের ডাক্তার কে জরুরি ভিত্তিতে এখানে নিয়ে আসতে। বাকিটা আমি ম্যানেজ করে নিবো। লাবণ্য কে এখন বাইরে পাঠালে যদি হিতে বিপরীত হয়?

—আচ্ছা ভাই।

বলেই সুজন ফোনে কারো সাথে কথা বলতে থাকলো। প্রণয় আবার সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করলো। চোখের সামনে ভেসে উঠলো জান্নাত এর নাকের লালছে কালো তিলটা,নেত্র যুগোল এর নিষ্প্রভ চাহনি আর হাসিটা।প্রণয় চট করে করে চোখ খুললো। কিছু একটা মনে করতেই রিফাত এর দিকে তাকায়।রিফাত কে বলে উঠে,

—রিফাত আগামীকাল কের সব কিছু এরেঞ্জ করেছিস তো.?যা যা বলেছি?

রিফাত প্রণয় এর দিকে তাকিয়ে হেসে বলে,

—জি ভাই।অর্ধেক হয়ে গেছে।বাকি কাজ ও কালকের মধ্যে হয়ে যাবে।আমি সব বলে রাখছি লোকদের।

—দেখিছ। সব যেন ঠিক ঠাক থাকে।কিছু যাতে এলোমেলো না হয়।

—ভাই হঠাৎ এসব এর আয়োজন কেন করছেন? কার জন্য?

—সারপ্রাইজ দিবো একজন কে।

—কে ভাই?রাফসান মির্জা?

রিফাত এর কথার প্রত্যুত্তরে প্রণয় কিছু বলে না।শুধু নির্লিপ্ত হাসে।

🌸🌸

পার্শিয়া কে কোলে নিয়ে নিজের রুমে বসে আছে জান্নাত।ইশি কে কল দিয়ে বলেছে আসার জন্য।আজকে জান্নাত ভার্সিটি তে যায়নি। তাই দেখাও হয় নি ইশির সাথে।ইশিকে সেই জন্য বাড়িতে আসতে বলেছে।দুপুর এখন দুই টা বাজে।বাইরে নীলাভ আকাশে মেঘের আলাপন চলছে।

ইশি এসেই জান্নাত এর রুমে ঢুকে ব্যাগ টা এক পাশে রেখেই বিছানায় শুয়ে পড়ে।পা দুটো হাটুর পর থেকে বাইরে রেখেছে বিছানার।শরীর টা বিছানায় হেলিয়ে দিয়ে জান্নাত এর দিকে তাকিয়ে বলে,

—জানু দোস্ত, এক গ্লাস পানি খাওয়াবি?

জান্নাত উঠতে যাবে এমন সময় আহ্লাদী আসে রুমে।হাতে দুটো লেবুর শরবতের গ্লাস।একটা জান্নাত এর হাতে দেয়।আরেকটা ইশির হাতে দিয়ে বলে,

—খালাম্মা পাঠাইছে আপামণি। আর খালাম্মা কইছে ইশি আপারে দুপুরে খাই যাইতো।

বলেই আহ্লাদী চলে যায়।ইশি শরবত টুকু খেয়ে গ্লাস টা পাশে রেখেই জান্নাত এর দিকে তাকিয়ে বলে,

— দোস্ত! জানু,তোর কি মন খারাপ কিছু নিয়ে?

জান্নাত ইশির দিকে তাকায় ভালো করে।মাথা সহ চোখ দুটো যেন তার ব্য’থায় ছিঁড়ে যাচ্ছে এমন।ইশিকে বলে উঠে,

—দোস্ত আমি মি. ভালোবাসা কে ভালোবেসে ফেলছি হয়তো।

জান্নাত এর কথায় ইশি কিছুটা না অনেক টা ভড়কে যায়।মি. ভালোবাসা টা কে আবার?তার এটাই তো বুঝে আসছে না।কৌতুহল চেপে না রেখে জান্নাত কে বলে,

—মি. ভালোবাসা টা কে?

—প্রান্তিক এর ভাইয়া প্রণয় উনাকে আমি মি. ভালোবাসা বলি।

—প্রণয় ভাইয়া কে মি. ভালোবাসা বলিস?বাহ্ কি ভালোবাসারে।

—দোস্ত আব্বু আম্মু আমার অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক করছে।প্রণয় ও অন্য একজন কে ভালোবাসে।কিন্তু আমিও যে উনাকে ভালোবেসে ফেলছি।কি করবো এখন আমি?

বলেই জান্নাত ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে।ইশি উঠে এসে জান্নাত এর মাথায় হাত ভুলিয়ে বলে,

—দোস্ত চিন্তা করিস না।আমি আংকেল আন্টির সাথে কথা বলবো।

হঠাৎ জান্নাত এর কপালে হাত রাখতেই ইশি কিছুটা চমকে উঠে।জান্নাত কে ছেড়ে ওর কপালে গালে, গলায় হাত দিয়ে দেখে শরীর থেকে যেন তাপ বের হচ্ছে।চোখ দুটো ও লাল হয়ে আছে জান্নাত এর।ইশি জান্নাত এর দিকে তাকিয়ে বলে,

—এই জানু,তোর তো জ্বর এসেছে।কখন আসলো?কি ভাবে আসলো?

জান্নাত চোখ টেনে তাকায় ইশির দিকে।ইশির ব্যতিব্যস্ত মুখশ্রী দেখে পিক করে হেসে দেয় জান্নাত।ইশি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে জান্নাত এর দিকে।এই মেয়ে পা’গল নাকি?হাসছে কেন আমনে আমনে?ইশির এই সব ভাবনার মাঝেই জান্নাত কথা বলে উঠে,

—চিন্তা করিস না ইশি।কিছু হয়নি।ওই সামান্য জ্বর।

—এটা সামন্য জ্বর?জ্বর আস্তে আস্তে বাড়ছে।আর তুই বলছিস এটা সামান্য জ্বর।

বলেই ইশি আহ্লাদী আর রাহেলা কে ডাকে।রাহেলা আসতেই ইশি বলে,

—আন্টি তোমার মেয়ের শরীর জ্বরে পু’ড়ে যাচ্ছে সেই টা খেয়াল করেছো একবার.?

রাহেলা ইশির কথা শুনে বিস্ময়ে চোখ দুটো বড় করে ফেলে।জান্নাত এর কাছে গিয়ে কপালে হাত দিয়ে তাপ পেতেই আহ্লাদী এর দিকে তাকায়।আহ্লাদী কে বলে,

—তাড়াতাড়ি ভাত নিয়ে আয়।এখনি খাবার খাইয়ে ওষুধ খাওয়ায় দিতে হবে।

রাহেলার কথায় আহ্লাদী চলে যায় খাবার আনতে।রাহেলা জান্নাত কে বিছানার পাশে হেলান দিয়ে বসিয়ে দেয়।জান্নাত চোখ বন্ধ করে বসে আছে।গরম নিশ্বাস ত্যাগ করছে।যা জ্বরের ফলে হচ্ছে।ইশি ওয়াশরুম থেকে মগে করে নরমাল পানি নিয়ে আসে।রুমাল ভিজিয়ে জান্নাত কপালে পট্টি দিতে থাকে।জ্বর তো কমছেই না।উল্টা আরো বাড়ছে যেন।আহ্লাদী খাবার নিয়ে আসতেই রাহেলা হাত ধুয়ে নিজ হাতে জান্নাত কে জোর করে খাইয়ে দিতে থাকে।জ্বরের মুখে কিছু খাওয়ার ইচ্ছে নেই জান্নাত এর।

খাবার খাওয়ার পরেই রাহেল ওষুধ খাইয়ে দেয় জান্নাত কে।ইশি এখনো জান্নাত এর পাশে বসে আছে।ইশির বাসা থেকে ফোন আসছে। আজকে ওর খালামণিরা বাসায় আসছে।হয়তো এসে গেছে সেই জন্য বার বার ফোন দিচ্ছে সবাই।জান্নাত চোখ খুলে ইশির দিকে তাকায় ইশির হাত ধরে বলে,

—দোস্ত তুই যা।তোর দেরি হয়ে যাবে পরে বাসায় যেতে।

—তোকে এভাবে রেখে যাওয়া টা কি ঠিক?

—মা আর আহ্লাদী তো আছেই।তুই যা নিশ্চিন্ত ভাবে।তাছাড়া ওষুধ তো খেয়েছি – ই।আল্লাহ ভরসা জ্বর চলে যাবে।তুই বাসায় যা।

—আচ্ছা ঠিক আছে।আর তুই চিন্তা করিস না।ওই দিক নিয়ে আমি কথা বলবো।

বলেই ইশি দাঁড়ায় বিছানা ছেড়ে। রাহেল কে বলে বেরিয়ে যায় বাসার উদ্দেশ্যে। জান্নাত এর বাসার সামনে থেকে রিক্সায় উঠে বলে,

—সরি জানু।প্রণয় ভাইয়ার সাথে এই ব্যাপারে আমি কোনো কথায় বলতে পারবো না।সময় হলে তুই সব বুঝবি।

🌸🌸

প্রণয় নিজের কেবিনে বসে আছে।আর দুই হাতে ল্যাপটপ কি- বোর্ডে টাইপিং করে চলছে। সব কিছুর হিসাব মিলাচ্ছে সে।ফাস্ট- জামিলের মৃ’ত্যু,সেকেন্ড- লাবণ্য কে রেপ,লাবণ্য এর মুখে অস্পষ্ট শব্দ ‘বি’ অর “ভি” দুইটার একটা।থার্ড- লামিয়া সুলতানা এর মার্ডার, ফোর্থ -সবুজ পাঞ্জাবী পরা একটা লোক।

এসব কিছুই প্রণয় ল্যাপটপ এ লেখে চলছে।সব কিছু এক সাথ করে মূল রহস্য বের করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পুরো হিসেবে মিলিয়ে আসলে ও শেষে এসে গরমিল হয়ে যাচ্ছে। প্রণয় ল্যাপটপ বন্ধ করে মাথাটা চেয়ারে রেখে ভাবতে থাকে।

দরজায় কেউ নক করতেই প্রণয় অনুমতি দেয় ভিতরে আসতে।সাথে সাথে কেবিনে ঢুকে রিফাত। প্রণয় রিফাত এর দিকে তাকিয়ে বলে,

—কিছু বলবি?

—প্রণয় ভাই আমাদের গুপ্তচর দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে,রাফসান মির্জার লোকেরা ড্রা’গ সাপ্লাই করার সময় জামিল দেখেছিলো।আর তারাও জামিল কে দেখে ফেলে।তাই সেই রাতেই তারা জামিল কে ধরে বেধে মে’রে ফেলে।

প্রণয় তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলে,

—রাফসান মির্জার বিরুদ্ধে এখন এই কথা গুলো বলতে হলে প্রমাণ লাগবে।

—আমরা তো জানি এগুলো রাফসান মির্জাই করেছে।প্রমাণ লাগবে না।ওই রাফসান মির্জার কোনো ব্যবস্থা করুন।

—আমাদের মুখের কথা পুলিশ বিশ্বাস করবে না।আর আমি একজন এমপি হয়ে যদি প্রমাণ ছাড়া পুলিশ কে এই কথা গুলোর ভিত্তিতে রাফসান মির্জাকে এরেস্ট করতে বলি তাহলে সেটা আমার বো’কা মির প্রকাশ পায়।এতে রাফসান মির্জা টাকা দিয়ে হলেও জামিন পেয়ে বের হয়ে যেতে পারবে। তাই সব প্রমাণ জোগাড় করে আমাদের স্টেপ নিতে হবে।

—আচ্ছা ভাই।

বলেই রিফাত বেরিয়ে যায় প্রণয় এর কেবিন থেকে।প্রণয় আবার সব কিছু ভাবতে বসে।ভাবতে ভাবতেই এক মুহূর্তে হেসে দেয়।

🌸🌸

রাত অনেকটা হয়েছে।ঠিক কয়টা বাজে জানা নেই।শোয়া থেকে উঠে বসে জান্নাত।সন্ধ্যায় শরীর কাঁপিয়ে জ্বর এসেছিলো। এখন অবশ্য নেই।তাই সারা শরীর ঘামে ভিজে আছে।একটু আগেই জ্বর ছেড়েছে।রাহেল কে জোর করে ঘুমাতে পাঠিয়ে ছিলো সে।আহ্লাদী শুয়ে আছে জান্নাত এর পাশেই।

জান্নাত বিছানা ছেড়ে নামে।জান্নাত বিছানা থেকে নামেতেই পার্শিয়া ও আড়মোড়া ভে’ঙে ঘুম থেকে উঠে বিছানা থেকে নেমে জান্নাত এর দিকে তাকিয়ে থাকে।জান্নাত পার্শিয়ার দিকে তাকিয়ে হেসে দেয়।বেলকনির দরজা খুলে সেই দিকে যায়।

প্রণয় এর বেলকনির দিকে তাকাতেই দেখে লাইট জ্বালানো।তার মানে মানুষ টা ঘুমে হয়তো। জান্নাত উষ্ণ শ্বাস ফেলে দোলনায় গিয়ে বসে পার্শিয়া ও লাফ দিয়ে দোলনায় উঠে জান্নাত এর কোলে বসে।কিছুক্ষণ পরেই পাশের বেলকনি থেকে খট করে শব্দ হতেই জান্নাত তাকায় সেই দিকে। কিন্তু কিছু দেখতে পায় তাই আবার সেই দিক থেকে নজর ঘুরিয়ে আকাশের দিকে তাকায়।

—কি এতো ভাবেন সারা দিন আপনি জান্নাত?

প্রণয় এর কথা শুনতেই জান্নাত তাকায় সেই দিকে।গায়ে পাঞ্জাবী জড়ানো এখনো প্রণয় এর।জান্নাত ভ্রু কুচকে বলে,

—পাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে ঘুমান?

—নাহ।মাত্র আসলাম বাইরে থেকে।চেঞ্জ করিনি এখনো।

জান্নাত আর কিছু না বলে আবার অন্য দিকে নজর ঘুরায়। প্রণয় আবার বলে উঠে,

—কি ভাবছিলেন?

—কিছু ভাব ছিলাম না।

—কেন কিছু ভাবেন নি?

প্রণয় এর এমন কথায় জান্নাত প্রণয় এর দিকে তাকায়। মি. ভালোবাসা হঠাৎ এমন কথা বলছে কেনো? জান্নাত স্বগতোক্তি করে বলে,

—কি ভাববো?

—ভাবার মত কিছু নেই??

—নাহ।

—আপনার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে জান্নাত?

জান্নাত বিস্ময় নিয়ে তাকায় প্রণয় এর দিকে। এবার বলে,

—কি সারপ্রাইজ মি. ভালোবাসা?

জান্নাত এর কথায় প্রণয় হেসে বলে,

—এবার এটাই ভাবতে থাকুন কি সারপ্রাইজ দিবে মি. ভালোবাসা আপনাকে।

কথাটা বলেই প্রণয় হেসে দিয়ে রুমে চলে।রেখে যায় তার কথায় আশ্চর্যান্বিত হয়ে যাওয়া জান্নাত কে।জান্নাত প্রণয় এর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলো। লোকটা এটা কি বলে গেলো?আসলেই কি সারপ্রাইজ দিবে মি. ভালোবাসা? এখন তো শুধুই এটাই ঘুরছে জান্নাত এর মাথায়। মি. ভালোবাসা এমন কথা বলেছে যা এখন না ভেবেই পাচ্ছে না।ভাবনার কিছু নেই বলে এমন একটা জিনিস ভাবতে দিবে?এটা যতক্ষণ না জানতে পারছে। শান্তি নেই।

চলবে ইনশাল্লাহ✨🖤

আসসালামু আলাইকুম!কেমন আছেন? ছোট পর্ব দিয়েছি বলে কেউ লজ্জা দিবেন না।আজকের পর্বে ১৬০০+ শব্দ।তবুও আমার আরো লেখার ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু বাসায় মেহমান আসছে তাই লেখার সময় হয়নি।গল্পটা কেমন হচ্ছে জানাবেন। আগামী পর্বে ইনশাল্লাহ একটা সারপ্রাইজ থাকবে হয়তো।#প্রেমের_হাতেখড়ি
#পর্বঃ ২৬
#ফাতেমা_জান্নাত(লেখনীতে)

ঘড়ির কাঁ’টা নয়টার ঘরে।জান্নাত এখনো ঘুমাচ্ছে। অবশ্য ভোর বেলা ফজর নামাজ পড়েই আবার শুইছে জান্নাত। গতকাল রাতে আরো একবার জ্বর এসেছিলো। তবে তা সীমিত ছিলো। সকাল থেকেই গায়ে জ্বর নেই।আল্লাহর রহমতে এখন সুস্থ – ই আছে। রাহেলা জান্নাত এর ঘরে আসে জান্নাত কে ডাকতে।ঘুমান্ত জান্নাত এর কপালে হাত দিয়ে দেখে জ্বর আছে কিনা?নাহ! এখন জ্বর নেই।জান্নাত কে মিহি স্বরে ডাকতে থাকে।

—জান্নাত, মা!উঠ।নাস্তা করতে হবে তো।আর কত ঘুমাবি?

জান্নাত একটু নড়েচড়ে শুয়ে আবার ঘুমায়।ঘুমু ঘুমু কণ্ঠে সুধায়,

—আম্মু আরেকটু ঘুমাতে দাও।

—আর ঘুমানো যাবে না।উঠ, আজকে তোর বিয়ে.।

ব্যস!এই কথা শুনার পর কি আর শুয়ে থাকা যায়?জান্নাত লাফ মে’রে শোয়া থেকে উঠে বসে মৃদু চেঁচিয়ে বলে,

—হোয়াট? আমার বিয়ে?কার সাথে?কখন?কিভাবে?আমাকে কিছু জানাওনি কেন?

জান্নাত এর এত প্রশ্নের ঝুলি তে রাহেল চটে গেলো মেয়ের উপর।বিরক্ত নিয়ে বলে,

—চুপ করবি?তাড়াতাড়ি উঠ।উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নে তাড়াতাড়ি। এত কথা বলছিস কেন?

—তো তুমি যে বললে আজকে আমার বিয়ে?

—তোকে ঘুম থেকে তোলার জন্য বলেছি।

রাহেলা সহজেই কথাটা চেপে গিয়েছে জান্নাত এর থেকে।জান্নাত কে আবার তাড়া দিয়ে তিনি চলে যান রুম থেকে।জান্নাত বিয়ের কথা ভাবতে ভাবতে বিছানা থেকে নেমে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে ড্রয়িংরুমে চলে গেলো।

ডাইনিং টেবিলে জুরাইন বিরসবদন হয়ে বসে আছে।জান্নাত ভ্রুকুটি কুঁচকে জুরাইন এর পাশে চেয়ার টেনে বসে।আহ্লাদী জান্নাত কে নাস্তা এনে দিয়ে আবার কিচেনে চলে যায়।জান্নাত জুরাইন এর কাঁধে হাত দিয়ে বলে,

—কিরে ভাই, আজ স্কুল যাসনি যে?

জুরাইন জান্নাত এর দিকে তাকিয়ে বলে,

—আপু আজ শুক্রবার। কোন দুনিয়া তে থাকো তুমি?

জুরাইন এর কথায় জান্নাত অবাক হয়।সে তো জানতো আজ বৃহস্পতিবার। তাহলে আজকে শুক্রবার হলো কেমনে? জান্নাত মোবাইল এর পাওয়ার অন করে স্কিনে তাকিয়ে দেখে নাহ! তার টাই ঠিক আজ বৃহস্পতিবার। জান্নাত জুরাইন এর সামনে মোবাইল ধরে বলে,

—হাদারা’ম আজকে বৃহস্পতিবার। তোর মন, তুই কোন দুনিয়া তে থাকছ যে বললি আজ শুক্রবার?

জান্নাত এর কথায় জুরাইন তপ্ত শ্বাস ছাড়ে। কিচেন এর দিকে একবার চোখ ভুলিয়ে রাহেলা কে দেখে নেয়।নাহ!তিনি রান্নায় ব্যস্ত। তাই জুরাইন এবার জান্নাত এর দিকে তাকিয়ে কণ্ঠ খাদে নামিয়ে বলে,

—আপু প্রেমে পড়লে কি এমন হয়?নিজে থাকি এক দুনিয়ায়, মন থাকে অন্য দুনিয়ায়?

জান্নাত নাস্তা খাওয়া শেষ করে দ্রুত জুরাইন কে নিয়ে নিজের ঘরে চলে আসে।ঘরে এসেই দরজা বন্ধ করে জুরাইন এর দিকে তাকিয়ে বলে,

—এবার বল কিসের প্রেম এর কথা বলছিস তুই?

জুরাইন জান্নাত এর দিকে তাকিয়ে গিয়ে বিছানায় বসে বলে,

—আগে বল আপু তুই কাউকে বলবি না কথা গুলো। আম্মু আব্বু কে ও বলবি না?

—আচ্ছা ঠিক আছে বলবো না।বল।

জুরাইন খুশি হয় জান্নাত এর কথায়।জান্নাত কে একটু বেশিই ভালোবাসে সে।বোনের কথায় অভ’য় পেয়ে জুরাইন বলে,

—আপু আমাদের পাশের বাসার পাখিকে আমি ভালোবাসি আপু।জানি না কেমনে কি হলো?কিন্তু ওকে আমি ভালোবাসি।

জুরাইন এর মুখে এই কথা শুনে বিস্ময়ে জান্নাতের চোখ যেন কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। এই দশ বছর এর বাচ্চা ছেলে এসব কি বলছে? জান্নাত তবুও রা’গ না দেখিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলে,

—পাখিকে যে তুই ভালোবাসিস বুঝলি কি ভাবে?

—আপু রাস্তায় যখন পাখির সাথে আমার দেখা হয়।পাখি আমার সাথে কথা বলে।আমিও যখন পাখির সাথে যেই কথা বলি পাখি বলে আমার সাথে কথা।জানো আপু পাখি আমাকে জুরু বলে ডাকে।আর পাখির কথাগুলো আমার খুব ভালোলাগে।ওকে আমার খুব ভালোলাগে। তাই বুঝেছি আমি পাখিকে ভালোবাসি।

—তোকে বললো কে ভালোলাগলে ভালোবাসা বলে তাকে?

—আপু আমার ফ্রেন্ডরা বলেছে।ওরাই আমাকে এসব বলতো।

—আপু তোকে কিছু কথা বলবো। মনোযোগ শুনবি।কথা গুলো রাখবি তো?

—হ্যাঁ আপু রাখবো।

—তুই তোর এসব বন্ধু দের থেকে আলাদা হয়ে নতুন ভালো বন্ধু খুঁজ নে। যে পড়াশুনা তে ভালো তার সাথে বন্ধুত্ব করবি।পাখি কে দেখলে উল্টা পাল্টা চিন্তা মাথায় আনবি না।পাখিকে এবার থেকে আপু বলে ডাকবি। পাখি তো তোকে ছোট ভাইয়ের মতো জানে।আর তুই কিনা এসব বলছিস? এখন তুই আমাকে কথা দে।তুই আর এসব নিয়ে ভাববি না।তোর বন্ধু পরিবর্তন করবি।বাজে কথায় কান দিবি না।দেখ ভাই তুই মাত্র ক্লাস ফোরে পড়িস।তুই যতই বলিস তুই এই সব বুঝিস কিন্তু তুই আসলেই কিছু বুঝিস না।ততটুকু বুঝিস যতটুকু তোর বন্ধু গুলো বলে।তাই ওই সব বন্ধু গুলোর সাথে আর চলা যাবে। পাখিকে আপু বলে ডাকবি। ঠিক আছে?

জান্নাত এর কথায় জুরাইন কিছুক্ষণ নিরব থাকে।কিছু বলেনা। নিরবতা শেষ করে জান্নাত এর দিকে তাকিয়ে হেসে বলে,

—আচ্ছা আপু।আমি চেষ্টা করবো এই সব কিছু এড়িয়ে চলার জন্য।তুই প্লিজ আব্বু, আম্মু কে কিছু বলিস না।

—আচ্ছা ঠিক আছে বলবো না।

—থ্যাংক ইউ আপু।

বলেই জুরাইন জান্নাত কে জড়িয়ে ধরে।জান্নাত ও আদর করে ভাইকে জড়িয়ে ধরে।ছোট বাচ্চা বন্ধু দের পাল্লায় পড়ে যা বুঝেছে তাই বলছে।

🌸🌸

দুপুর দুইটা বেজে পনেরো মিনিট। প্রণয় নিজের ঘরে রেডি হচ্ছে।এমন সময় তার ফোনে একটা ম্যাসেজ আসে।প্রণয় ফোন টা হাতে তুলে নিয়ে দেখে জান্নাত এর নাম্বার থেকে একটা ম্যাসেজ এসেছে।প্রণয় কিছুটা অবাক হয়।এই প্রথম জান্নাত তাকে ম্যাসেজ দিলো।প্রণয় ম্যাসেজ টা ওপেন করে।সেখানে লেখা,

‘‘মি. ভালোবাসা পার্শিয়া আছে জেনিথ এর সাথে?আমার পার্শিয়া কে খুঁজে পাচ্ছি না।’’

ম্যাসেজ টা পড়ে প্রণয় কিছুটা ভ্রু কুঁচকে ফেলে।বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখে নাহ!জেনিথ একাই বসে আছে।প্রণয় জান্নাত কে বেলকনিতে আসতে বলে নিজেও বেলকনিতে চলে যায়।বেলকনিতে এসেই দেখে জান্নাত বিষন্ন চেহারা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।প্রণয় জান্নাত কে বলে,

—পার্শিয়া কে কখন থেকে পাচ্ছেন না?

—এক ঘন্টার মতো হবে।আমি একটু নিচে গিয়েছিলাম। এসে দেখি পার্শিয়া নেই ঘরে।ভেবেছিলাম অন্য কোনো রুমে আছে।কিন্তু এক ঘন্টা হয়ে এলো ও আসছে না দেখে প্রতিটা রুমে খুঁজেছি ওকে।কিন্তু পাইনি।কোথায় চলে গেছে ও?

—আচ্ছা ভাব্বেন না।পেয়ে যাবেন। অপেক্ষা করুণ, এমনি চলে আসবে।

—আচ্ছা।ও একটা কথা, বললেন না কি সারপ্রাইজ দিবেন আমাকে?

—ভাবতে থাকুন সেটা।

বলেই প্রণয় হেসে চলে যায় রুমে।এক দিকে প্রণয় এর সারপ্রাইজ, পার্শিয়া কে হারিয়ে ফেলেছে এই নিয়ে চিন্তায় জান্নাত এর মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।কই গেলো পার্শিয়া।
প্রণয় রুমে এসেই প্রান্তিক কে ডাক দেয়।প্রান্তিক ঘরে আসতেই প্রণয় কার্বাড থেকে একটা ব্যাগ প্রান্তিক এর হাতে তুলে দিয়ে বলে,

—এটা জান্নাত এর জন্য।আন্টির হাতে দিস।আর বলতে বারণ করে দিস আমি যে দিয়েছি।

—আচ্ছা ভাইয়া।

—সন্ধ্যায় সবাইকে নিয়ে পৌঁছে যাবি ঠিক মতো।দরকার হলে আমি সুজন বা সজীব কে ও পাঠিয়ে দিবো। আর একটা বিষয় খেয়াল রাখবি জান্নাত যাতে আগেই কিছু জানতে বা বুঝতে না পারে।

—আচ্ছা ভাইয়া

বলেই প্রান্তিক ব্যাগ টা নিয়ে বেরিয়ে যায়।প্রণয় সম্পূর্ণ রেডি হয়ে বেরিয়ে আসে।জেনিথ কে ও সাথে নিয়ে বের হয়।হাঁটতে হাঁটতে রিফাত কে ফোন করে,

—রিফাত সব কিছু কমপ্লিট হয়েছে?

—হ্যাঁ। সব ঠিকঠাক। এখন শুধু রাফসান মির্জা আসার অপেক্ষা। কিন্তু ভাই এভাবে সাজিয়ে রাফসান মির্জা কে কি সারপ্রাইজ দিবেন?

—সেটা সময় হলেই দেখবি।

বলে প্রণয় ফোন কে’টে দেয়।গাড়িতে গিয়ে বসে সজীব কে বলে তাদের বাগান বাড়িতে যেতে।প্রণয় আজকে যা হবে তা ভেবেই আনমনে মুচকি হাসে।তার এক পাশে পার্শিয়া আরেক পাশে জেনিথ বসে আছে।পার্শিয়া তার রুমের বাইরে খেলছিলো।প্রণয় রুম থেকে বের হয়েই পার্শিয়া কে দেখে।জান্নাত কে আর দেয় না। ভেবেছে এভাবে ও হয়ে যাক আরেকটা সারপ্রাইজ।

🌸🌸

রাফসান মির্জা নিজের কেবিনে বসে ছক আঁকছে। গুটি সাজাচ্ছে কিভাবে প্রণয় কে মে’রে ফেলা যায়।এমন সময় দরজায় নক পড়ে।রাফসান মির্জা অনুমতি দেয় ভিতরে আসতে।প্রদীপ এসে দাঁড়ায় রাফসান মির্জার সামনে। রাফসান মির্জা প্রদীপ এর দিকে তাকিয়ে বলে,

—কি খবর এনেছিস?

প্রদীপ সরাসরি কিছু না বলে রাফসান মির্জার কাছে ঘেঁষে কানে কানে হিসহিসিয়ে কিছু একটা বলে।প্রদীপ এর কথা শুনে রাফসান মির্জার মুখে মুহূর্তেই হাসি ফুটে উঠে।প্রদীপ এর দিকে তাকিয়ে কাধঁ চাপড়ে বলে,

—দারুণ খবর এনেছিস। সেই জন্যই তোকে এত পছন্দ আমার।আজকে শাহরিয়ার প্রণয় এর সাবজেক্ট ক্লোজ করবো। যা এবার যেটা করতে হবে কর।

রাফসান মির্জার কথা মতো প্রদীপ বের হয়ে যায়। রাফসান মির্জা হেসে উঠে বলে,

—শাহরিয়ার প্রণয় তোকে তো আমি সরাবো -ই।বাই হুক অর বাই কুক।

বলেই রাফসান মির্জা হু হা করে হেসে উঠে।যেন আজ তার মহা আনন্দ এর দিন।

🌸🌸

বিকেল সাড়ে চারটা বাজে।ইশি আর রাহেলা জান্নাত কে জোর করে সাজিয়ে দিচ্ছে।জান্নাত এর একটু ইচ্ছে নেই সাজার। এই পর্যন্ত রাহেলা কে অনেকবার জিজ্ঞেস করা শেষ, “শাড়িটা কবে কিনেছে,আর তাকে সাজাচ্ছে ও বা কেন?” কিন্তু জান্নাত এর এই প্রশ্নের প্রতি উত্তরে রাহেলা বা ইশি কেউই কিছু বলছে না।জান্নাত এর গায়ে কালো অত্যন্ত সুন্দর একটা শাড়ি জড়ানো। পুরোটা শাড়ির উপর স্টোন এর ছোট ছোট পাথর বসানো। শাড়ির পাড়ে ও খুব সুন্দর কাজ করা।

জান্নাত কে সাজিয়ে রাহেলা একবার জান্নাত এর দিকে তাকিয়ে বলে,

—মাশাল্লা! কি সুন্দর লাগছে আমার মেয়েটা কে।

—হ্যাঁ আন্টি।ভাইয়া চোখ ফেরাতে পারবে না।

ইশির কথা শুনে জান্নাত এর চোখ বড় বড় হয়ে যায়।কিছু একটা বলতে যায় ইশি কে।কিন্তু ইশি বলতে দেয়।রাহেলা ছলছল চোখে মেয়ের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে বেরিয়ে আসে রুম থেকে। জান্নাত এবার ইশির দিকে তাকিয়ে বলে,

—কি শুরু করেছিস তোরা সবাই?একদিকে মি. ভালোবাসার সারপ্রাইজ, অন্যদিকে পার্শিয়া কে পাচ্ছি না।এখন আবার তোরা এসব করছিস। কি চাইছিস টা কি তোরা?ভালো লাগছে না আমার এইসব।

—আরে জানু কুল।এত হাইফার হচ্ছিস কেন?সময় হলে সব দেখতে এবং বুঝতে পারবি।

জান্নাত কিছু বলতে যাবে এর আগেই ওর রুমে এসে ঢুকে প্রান্তিক আর জুরাইন। দুই জনেই রেডি হয়ে এসেছে।প্রান্তিক ইশিকে তাড়া দিয়ে বলে,

—তাড়াতাড়ি কর ইশি।দেরি হয়ে যাচ্ছে তো।

—এই তো শেষ।তুই যা।আমি জান্নাত কে নিয়ে আসছি।

প্রান্তিক চলে যায়।জান্নাত এর মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে সব।এসব কি?সবাই এমন অদ্ভুত আচরণ, কাজ করছে কেন?এসবের পিছনে কি উদ্দেশ্য? ইশি জান্নাত কে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে আসে। জান্নাত ইশি কে কিছু জিজ্ঞাসা করতে গেলেই ইশি চুপ করিয়ে দেয়।তাই জান্নাত আপাতত চুপ করে আছে।কিছুই বলছে না।
বাড়ির গেইটের সামনে দুইটা গাড়ি দাঁড়ানো। একটাতে বড়রা সবাই মিলে উঠে কই চলে গেলো। আরেকটা তে জান্নাত, ইশি,প্রান্তিক, জুরাইন, আহ্লাদী উঠেছে।প্রান্তিক ড্রাইভ করছে।জান্নাত এখনো সবার উপর রাগ করে চুপ করে বসে আছে।প্রান্তিক আর ইশি জান্নাত কে দেখে হেসে দেয়।গাড়ি চলতে শুরু করে।কিন্তু কোথায় যাচ্ছে তা জান্নাতের অজানা।কিছুদূর যাওয়ার পর তাদের দুইটা গাড়ির সামনে এবং পিছনে আরো দুইটা গাড়ি যোগ হয়।জান্নাত কিছুটা ভ’য় পায়।এগুলো রাফসান মির্জার লোক নই তো?

🌸🌸

চারটা গাড়ি এসে থেমেছে একটা বাড়ির সামনে।বাড়ি টার বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। মাগরিবের নামাজ আজান দিয়েছে অনেকক্ষণ আগেই।প্রান্তিক এসে জান্নাত এর পাশে দাঁড়ায়। জান্নাত বলে,

—প্রান্তিক, এটা কাদের বাসা?

—এটা আমাদের বাগান বাড়ি।

—তো এখানে আনলি কেন?আর অন্ধকার কেমন এখনে।ভ’য়ে তো গা ছমছম করছে।

—আচ্ছা চল ভিতরে যাই।

বলেই প্রান্তিক সহ সবাই ভিতরে যায়।ভিতরে আরো অন্ধকার।নিজের হাতটা ও যেন দেখা যাচ্ছে না।জান্নাত প্রান্তিক কে ডেকে বলে,

—দোস্ত ভিতরে এত অন্ধকার কেন?কিছুই তো দেখতে পাচ্ছি না।তুই কই?সবাই কই?

কিন্তু কারো কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়না।জান্নাত কিছুটা ভ’য় পেয়ে যায়।এই অন্ধকার এর মাঝে সবাই ওকে রেখে গেলো কই?হুট করে অন্ধকার এর মাঝেই একটা জায়গায় একটা ফেইরি লাইট জ্বলে উঠে।আর সেখানে একটা গিটার। কিছুক্ষণ পরেই একটা অবয়ব এসে গিটার টা হাতে নেয়।একটা চেয়ারে বসে উল্টা ঘুরে।গিটারে টুংটাং আওয়াজ তুলছে।ফেইরি লাইট এর আলো এখন ছেলে টার উপর।হঠাৎ করেই ছেলেটা সামনে ঘুরে।জান্নাত সেই দিকে তাকিয়ে অবাক নেত্রে আনমনে বলে উঠে,

—🌸মি. ভালোবাসা?❤️

প্রণয় জান্নাত এর দিকে তাকিয়ে হেসে দেয়।তাদের প্রথম যেই দিন দেখা হয়েছিলো,প্রণয় কে চো’র বলে ধরে রাখা,জান্নাত এসে সরি বলা,বেলকনিতে দাঁড়িয়ে জান্নাত তাকে প্রথম মি. ভালোবাসা নাম দেওয়া সব কিছু ভাবতে থাকে প্রণয়। ভাবতে ভাবতেই গিটার বাঝিয়ে গেয়ে উঠে,

🎸🎶তোকে দেখে হয়েছে মনের প্রেমের
হাতেখড়ি….
তুই যে আমার খুব আদরের ডানাকাটা পরী।
তোকে দেখে হয়েছে মনের প্রেমের হাতেখড়ি…
পৃথিবীতে তুই আমার আর আমি শুধু তোর-ই।

কোথায় তোকে লুকোয় আমি এই ভাবনায় মরি,
তুই যে আমার খুব আদরের ডানাকাটা পরী।
তোকে দেখে হয়েছে মনে প্রেমের হাতেখড়ি..
পৃথিবীতে তুই আমার আর আমি শুধু তোর-ই।

চলতে চলতে হঠাৎ করে,সেদিন এসে প্রথম দেখায়..
হু!মনটা যেন হারিয়ে গেল,খুঁজে পাওয়া ছিলো দায়।

ওওওওওওওও….
আজকে তবে একটা কথা বলছি সরাসরি,
তুই যে আমার খুব আদরের ডানাকাটা পরী।
তোকে দেখে হয়েছে মনে,প্রেমের হাতের খড়ি..
পৃথিবীতে তুই আমার আর আমি শুধু তোর-ই।

হু..!চোখ দুটো মায়ায় ভরা,হাসিটা এ হৃদয় কাড়ে,
একটা মানুষ এত সুন্দর কেমন করে হতে পারে।
হু..!এই হৃদয়ে ছিল যত আশার ছড়াছড়ি,
আজকে যে তা পূরণ হল সেই খুশিতে ম’রি।

তোকে দেখে হয়েছে মনে,প্রেমের হাতেখড়ি..
তুই যে আমার খুব আদরের ডানাকাটা পরী।
যে স্বপ্ন এঁকেছি চোখে,আমি বরাবরই,
আজকে যে তা পূরণ হলো,সেই খুশিতে ম’রি।

তোকে দেখে হয়েছে মনে,প্রেমের হাতেখড়ি…
পৃথিবীতে তুই আমার আর আমি শুধু তোর-ই।
তুই যে আমার খুব আদরের ডানাকাটা পরী
পৃথিবীতে তুই আমার আর আমি শুধু তোর-ই।
তুই যে আমার খুব আমার খুব আদরের ডানাকাটা পরী।🎵🎸

জান্নাত কি বলবে? সে নিজেও বুঝতে পারছে না।সে এখনো কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।এবার পুরো ঘরেই লাইট জ্বলে উঠে।চারদিকে ফেইরি লাইট এর আলো।জান্নাত চারদিকে চোখ ভুলিয়ে দেখে একপাশে তার আর প্রণয় এর পরিবারের সবাই হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছে তার দিকে তাকিয়ে। তারমানে সবাই তার আড়ালে এই প্ল্যান করেছে জান্নাত বুঝতে পেরে গেছে এখন।প্রণয় কি তাহলে তাকে এই সারপ্রাইজ দেওয়ার কথা বলেছে?

প্রণয় এসে জান্নাত এর সামনে দাঁড়ায়। জান্নাত নির্নিমেষ চাহনি নিয়ে তাকিয়ে আছে প্রণয় এর দিকে। প্রণয় জান্নাত কে হাত দিয়ে সামনের দিকে ইশারা করে।জান্নাত তাকায় সেই দিকে।সোফার উপরে একটা বক্স রাখা।জান্নাত জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে প্রণয় এর দিকে তাকালে প্রণয় ইশারায় যেতে বলে বক্সের কাছে।জান্নাত গিয়ে সোফার উপর বসে।বক্সটা হাতে নিয়ে ফিতায় বাধা বক্সটা খুলতেই বিস্ময়ে তার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।প্রণয় এর দিকে তাকাতেই প্রণয় সেই অমায়িক হাসিটা দেয়।জান্নাত আবার বক্সের দিকে তাকায়।বক্সের ভিতরে তার পার্শিয়া। জান্নাত পার্শিয়া কে কোলে নিয়ে আদর করে দেয়।

পার্শিয়া কে কোলে নিয়েই জান্নাত এসে প্রণয় এর সামনে দাঁড়ায়। প্রণয় তার ব্লেজার এর ভিতর থেকে জেনিথ বের করে এনে জান্নাত কে বলে,

—আজকে থেকে জেনিথ এবং আরো একজন এর দায়িত্ব আপনাকে নিতে হবে জান্নাত। কি পারবেন.না??

—আরো একজন কে?

প্রণয় জান্নাত এর কথার প্রত্যুত্তরে হেসে দেয়।জান্নাত এর কোলে জেনিথ কে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।পিছন থেকে প্রান্তিক বলে,

—ভাইয়া শুরু করো।

প্রণয় হেসে দেয়।সমস্ত লাইট বন্ধ হয়ে যায় আবার।একটা ফেইরি লাইট জ্বলে উঠে।যা শুধু প্রণয় আর জান্নাত এর গায়ে আলো দিচ্ছে।প্রণয় মুচকি হেসে জান্নাত কে আবেগীয় কণ্ঠে ভাবে বলে,

—‘‘জান্নাত আমি জানি না কথা গুলো ঠিক কিভাবে বলা উচিত। এবং এটা ও জানিনা আমার প্রতি আপনার কোনো অনুভূতি আছে কিনা।তবে আমি আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় করণ ভাবে বুঝে নিয়েছি আমার জন্য ও আপনার মনে অনুভূতি আছে।তবে গতকাল আমি এটা পুরোপুরি শিউর হয়েছিলাম ইশির কথা শুনে।ইশি আমাকে বলেছিলো আপনি আমাকে ভালোবাসেন। আমিও আপনাকে ভালোবাসি জান্নাত। কিন্তু আমি বিয়ের আগে প্রেম করতে চাই না।আগে বিয়ে করে নিই তারপর ছুটিয়ে প্রেম করবো নাহয়। এমনিতেও বয়স পার হয়ে যাচ্ছে বিয়ে করতে পারিনি। প্রেম করে আর সময় নষ্ট করতে চাইছি না।তাই ভাবছি একেবারে বিয়ে করবো। জান্নাত আপনি জানেন আমি রাজনীতি করি।আপনি এটা ও জানেন প্রয়োজনে আমাকে মানুষ ও মা’রতে হয়।তবে আপনি এটা বিশ্বাস রাখতে পারেন আমি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত আপনাকে হেফাজতে রাখবো। আপনার কিছু হতে দিবো না।আমার সকল কাজ, আমি মানুষ টাকে চিনেন আপনি জান্নাত।সকল কিছু জেনে হবেন কি আমার?হবেন কি আমার সেই একজন, যার কাঁধে মাথা রেখে আমি আমার সমস্ত ভাবনা প্রকাশ করবো?
একলা চলা পথের হবে কি অবসান?আমাদের দুই জীবনের বাজবে কি একসাথে গান?উইল ইউ ম্যারি মি জান্নাত??

জান্নাত এখনো কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।বলে না মানুষ যখন অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে নিজের পছন্দের জিনিসটা পেয়ে যায়।তখন মানুষ খুশিতে ও কেঁদে দেয়।জান্নাত এর অবস্থা ও ঠিক তেমনি।চোখ ছলছল করছে।ঠোঁটের কোলে হাসি।প্রণয় জান্নাত এর দিকে একটা হাত বাড়িয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তাকিয়ে আছে জান্নাত এর দিকে।জান্নাত মুখের ভাষা হারিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।পিছন থেকে দুই পরিবার এর সবাই জান্নাত কে বলছে ‘হ্যাঁ ‘ বলে দিতে।কিন্তু জান্নাত আজ বাকহারা হয়ে গেছে।কি বলবে বুঝতে পারছে না।

প্রণয় বিরসবদন চেহারা করে যখনি হাতটা নামিয়ে নিবে ঠিক সেই সময় জান্নাত প্রণয় এর হাতের উপরে হাত রেখে বলে,

—ইয়েস,আই উইল❤️

প্রণয় মুচকি হাসি দিয়ে সাথে সাথে পকেট থেকে আংটি বের করে জান্নাত এর অনামিকা আঙ্গুলে পরিয়ে দিয়ে জান্নাত এর সাথে ছোট্ট সংসার গড়ে তোলার প্রথম ধাপ পার করে।।ইশি এসে জান্নাত এর সামনে একটা আংটি দিতেই। জান্নাত কোল থেকে পার্শিয়া, জেনিথ কে নামিয়ে দেয়।প্রণয় এর অনামিকা আঙ্গুলে ও আংটি পরিয়ে দেয়।চোখ থেকে পড়ছে খুশির অশ্রুকণা। বাগদান হয়ে গিয়েছে তাদের দুই জনের।দুটো মানুষ এর মন এক হওয়ার দলিল লিখেছে।একলা জীবন এর অবসান ঘটিয়ে ছে।দুই জনের মাথার উপরে পড়ছে গোলাপ, গাঁদা ফুলের পাপড়ি।দুই পরিবার খুশিতে করতালি দিচ্ছে।খুশিতে পরিবেশ হয়েছে করতালিমুখর। রিফাত, সজীব, সুজন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।তাদের প্রণয় ভাই এটা কি কাম ঘটাইলো আচানক ভাবে।রিফাত তো বেশি অবাক।সে ভাবছে রাফসান মির্জা কে ধরার জন্য প্রণয় ভাই এসব সারপ্রাইজ প্ল্যান করছে।অবশ্য সে বেআক্কেল রাফসান মির্জা কে কেন এত ভালোবাসার সারপ্রাইজ দিবে এটা মাথায় আনার দরকার ছিলো। তবে তারা ভেজায় খুশি।সবার সুখি সুখি ফিলিংস।

কিন্তু সুখ কি চিরস্থায়ী হয়?কথায় বলে সুখের সময় অতি ক্ষীণ। এই সুখ এলো তো এই সুখ গেলো এমন।এত খুশির মাঝেও ঘটলো দুঃখের আগমন।

বাইরে থেকে একজন গার্ড প্রণয় কে ফোন করে বলেছে,”একটা বড় কালো কোর্ট পরা মুখ ঢাকা ব্যক্তি তাদের অগোচরে কি ভাবে যেন বাড়ির ভিতরে ঢুকে বাগানে একটা ছোট্ট বক্স রেখে গেছে।প্রণয় এটা শুনার পর সাথে সাথে-ই বেরিয়ে আসে বাসার ভিতর থেকে।চলে যায় বাগানে। প্রণয় এর পিছন পিছন সবাই আসে। বাগানে একটা বেঞ্চি তে ছোট্ট একটা বক্স রাখা।বক্স টার ভিতর থেকে টিক টিক শব্দ করছে।কেউ কিছু বুঝতে পারছে না এটা কিসের শব্দ।হঠাৎ জুরাইন চেঁচিয়ে বলে উঠে,

—প্রণয় ভাইয়া!এটাতো টাইম বো’ম এর শব্দ।

সাথে সাথে সবাই চমকে উঠে।প্রণয় এর মাথা হ্যাং হয়ে গিয়েছে।দুই পরিবার এর সবাই এখানে উপস্থিত। কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।

🌸🌸

—শাহরিয়ার প্রণয় তোর খেলা ফিনিশ। টিকটিক এক,টিকটিক দুই,টিকটিক তিন
..বো’ম।

বলেই রাফসান মির্জা ঘর কাপিয়ে হেসে উঠে।যেটাকে বিশ্রী হাসি বলে আখ্যায়িত করেছে জান্নাত। রাফসান মির্জা আবার ও বলে উঠে,

—খুব শখ না? গার্লফ্রেন্ড নিয়ে যাস বাগান বাড়ি।বিয়ে করবি?আর এখন আজকে দুই পরিবার সহ ম’রবি। তোর চ্যাপ্টার আজ থেকে ক্লোজ শাহরিয়ার প্রণয়।

বলেই আবার হেসে উঠে রাফসান মির্জা।

🌸🌸

প্রণয় এর ফোনে একটা ফোন আসে মাত্র।তার পর থেকেই প্রণয় বিন্দু মাত্র নড়চড় করে না।কাউকে বো’ম এর কাছে যেতে ও দিচ্ছে না।ফায়ার ব্রিগেড কে ফোন দিতে বারণ করছে।কি করতে চাইছে প্রণয়। জান্নাত প্রণয় এর এক হাত জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে।তাদের দুই জনার পথচলা কি এখানেই শেষ?

হঠাৎ বিকট শব্দ হয়ে টাইম বো’ম এর বক্স টা ফে’টে যায়।উল্কাপিণ্ড এর ন্যায় ভেসে উঠে কিছু।প্রণয় বাদে ভ’য়ে সবাই চোখ বন্ধ করে রেখেছে। প্রণয় নির্নিমেষ দৃষ্টিতে পরিশিষ্ট অংশ দেখার অপেক্ষায়।

অন্যদিকে রাফসান মির্জা হাসছে।তার সামনে ল্যাপটপে দেখা যাচ্ছে দাউ দাউ করে আ’গুন জ্ব’লছে বাগান বাড়িতে।রাফসান মির্জা হাসছে।শেষ।শাহরিয়ার প্রণয় এর পরিবার সহ সবাই শেষ।

চলবে ইনশাল্লাহ✨🖤

আজকের পর্ব কেমন হয়েছে অবশ্য বড় কমেন্ট করে জানাবেন। আর সারপ্রাইজ টা কেমন হলো সেটাও বলবেন।কি হতে চলছে আগামী তে সেটা নিয়েও একটু ভাববেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here