প্রেয়সীর শব্দপ্রেম পর্ব -১৪

#প্রেয়সীর_শব্দপ্রেম
#ফারজানা_মুমু
[১৪]

আষাঢ়ের মন ভালো নেই। এমপি আসাদুল্লাহ জেওয়াদ চৌধুরীর ফোন এসেছিল খানিক পূর্বে। তিনমাসের জন্য আষাঢ়কে দেশ ছেড়ে ইতালি থাকতে হবে। বিজনেস পার্টনার মিস্টার জেনের সাথে ইম্পর্টেন্ট মিটিং আছে। নতুন কোম্পানি খুলা হবে। কাজটি শেষ করতে তিনমাস সময় লাগবে। আষাঢ় যদি তিনমাসের পূর্বেই শেষ করতে পারে তাহলে তিনমাস থাকতে হবে না ওর। এতগুলো দিন ঝুমঝুমিকে না দেখে থাকতে হবে বলেই আষাঢ়ের বুক ব্যাথা শুরু হয়েছে। নানানভাবে অজুহাত সৃষ্টি করেছে কিন্তু এমপি সাহেব এক কথার মানুষ। কথার নড়চড় করবেন না। বাধ্য হয়েই আষাঢ় যেতে রাজি হলো।

বন্ধু এতগুলো দিনের জন্য চলে যাবে শুনে মন খারাপ নাজিম,মিরাজ ও হিরণের। ঠিক করা হলো জমজমাট আড্ডা দিবে আজ। ছেলেদের পার্টি যেমন হয় তেমনই আয়োজন করা হলো। খাওয়া-দাওয়া,গান-বাজনা, আ্য’ল’কো’হ’ল না হলে পার্টি জমে না। হিরণ সব ব্যাবস্থা করেছে। আষাঢ় সবসময় আ্য’ল’কো’হ’ল, হু’ই’স্কি এসব থেকে দূরে থেকেছে। আজও ব্যাতিক্রম নয়। টালমাটাল অবস্থা বাকি তিনজনের। নিজেদের মধ্যে ধিরো শব্দে গান বাজিয়ে ড্যান্স করে সোফায় এলোমেলো করে ঘুমিয়ে পড়েছে তিনজন। আষাঢ়ের চোখে ঘুম নেই। মনের ভিতরে অশান্তি। হঠাৎ অদ্ভুদ ভয় তাকে ঘিরে ধরল। ভয়ে জর্জরিত হয়ে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালো। অদ্ভুদ ব্যাথায় বুক ধড়ফড় করে উঠল। চোখের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ফোনটা বের করে ঝুমঝুমির ছবিতে চোখ বুলালো। বেঞ্চে বিরক্তি নিয়ে বসা ঝুমঝুমি। ছবিতে চোখ সরিয়ে ঠোঁট ডুবালো। দীর্ঘ সময় ঠোঁট চেপে ধরল স্ক্রীনে। হৃদয়ের ব্যাথাটা কমেছে কিঞ্চিৎ। বুক ভরে নিঃশ্বাস ছেড়ে ব্যালকনি থেকে দ্বিতীয় তলার ব্যালকনিতে দৃষ্টি বুলালো। ঝুমঝুমিকে সশরীরে দেখার সাধ জাগল। ইচ্ছেটা ধামাচাপা দিল। রাত-বেড়াতে প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের রুমে যেতে নেই বলে মনকে শাশালো। তবুও বেয়াড়া মন মানতে নারাজ। কিছু সময় ওভাবেই ঠাঁই মেরে দাঁড়িয়ে থেকে ব্যালকনির রেলিং এ দুহাত চেপে ঝুঁকে পড়ল নিচ দিকে এই আশায় যদি দেখা পায় প্রাণ প্রিয় মানুষটির।

চোখের পাতায় ঘুম নেই ঝুমঝুমির। অবাস্তব স্বপ্নচারী স্বপ্নে দেখা দিচ্ছে। এতগুলো দিনের গড়ে উঠা পাষাণ হৃদয় প্রেমের পরশে শীতল হচ্ছে। বিরহের উপন্যাসের বইটি কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে টেবিলের উপরে রেখে ব্যালকনিতে দাঁড়াল। চন্দ্রহীন আঁধার রাতের আকাশে আজ তারার মেলা বসেনি। শীতল হাওয়া গরমের দাপট কমাতে উঠেপড়ে লেগেছে। ওড়না ভালো করে মাথায় দিয়ে চোখজোড়া বন্ধ করে বাতাসে নিঃশ্বাস নিলো। ফোঁটা-ফোঁটা বৃষ্টি মুখে এসে ঠেকছে। মেঘের দলেরা কেঁপে-কেঁপে জানান দিচ্ছে আজকের রাত বৃষ্টিময় রাত। গরমের অতিষ্ট করা ধরণীকে সতেজ করতে আগমন ঘটেছে তাদের।

আষাঢ়, ঝুমঝুমির ওড়না দেখতে পেয়ে প্রসারিত হাসলো। রুম থেকে কয়েকটি ছোট-ছোট মারবল এনে ঝুমঝুমির গায়ে ছুঁড়ে দিলো। আচমকা গায়ে কিছু পড়তে ভয় পেল ঝুমঝুমি। কিঞ্চিৎ ব্যাথাও পেল। রাগী দৃষ্টিতে মাথা সামনে ঝুঁকে উপরে তাকিয়ে আষাঢ়কে দেখতে পেয়ে চোখ রাঙালো। আষাঢ় হেসে দিল। বৃষ্টির পানিতে দুজনের ভিজে যাচ্ছে তবুও তাদের মধ্য চলে যাওয়ার তাড়া নেই। আষাঢ় চিল্লিয়ে বলল,
-” ঘুমাওনি? আমাকে নিয়ে ভাবছিলে বুঝি?
-” আপনাকে নিয়ে ভাববো কেন? আমার সময়ের দাম আছে।
-” তুমি অদ্ভুদ তেজপাতা। আমাকে কষ্ট দিতে বড্ড ভালোবাসো তাই না? খুব খারাপ তুমি।

মাথা নিচু করে হাসলো ঝুমঝুমি। আষাঢ়ের শেষ বাক্য বাচ্চাদের মত শুনতে লাগলো। ঝুমঝুমি চলে যেতে চাইলে ডাকলো আষাঢ়। মোহনীয় কণ্ঠে বলল,
-” তোমাকে দেখার তৃষ্ণা আমার বুকে আজীবন থাকবে তেজপাতা। তোমাকে জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা ঠেকিয়ে যদি আমার বুকের তৃষ্ণা মিটে। চোখের তৃষ্ণা তো আজীবন থাকবে প্রেয়সী। কানের তৃষ্ণা মিটবে তোমার কণ্ঠ থেকে প্রেমের শব্দযোগ শুনলে। তুমি নামক মানুষটি আমার আজীবনের তৃষ্ণা ঝুমঝুমি।

ঝুমঝুমি সরে আসলো। অনুভূতির জানালা আপনাআপনি খুলে গেল। সৃষ্টির মাঝে সৃষ্টি হলো একঝাঁক অনুভুতি। আষাঢ়কে না পারছে কাছে টানতে আবার না পারছে দূরে ঠেলতে। এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে, অশান্ত হচ্ছে মন। ব্যালকনির দরজা আটকে দিয়ে বিছানায় টানটান হয়ে শুয়ে চোখ বুজলো। কানে ফিসফিস করে শুনতে পেল আষাঢ়ের প্রতিটি বক্তব্য। ‘তুমি নামক মানুষটি আমার আজীবনের তৃষ্ণা ঝুমঝুমি।’

আষাঢ় সোজা হয়ে দাঁড়াল অনুভব করল ব্যাথাটা আর নেই। শান্তি পাচ্ছে খুব। গটগট পা ফেলে রুমের ভিতরে প্রবেশ করল। তখনই মনে পড়ল ঝুমঝুমিকে বলা হয়নি ইতালি চলে যাওয়ার কথা। আচ্ছা সে যদি চলে যায় তাহলে কি ঝুমঝুমি খুব কষ্ট পাবে? আটকানোর চেষ্টা করবে? কাঁদবে? না অনুভূতিহীন হয়েই থাকবে। উত্তর আসলো না। ব্যাথাটা আবারও থরথর করে বেড়ে উঠল। বালিশ মাথায় চেপে ধরে নাজিমকে জড়িয়ে ধরতেই ঘুমঘুম কণ্ঠে নাজিম বলে উঠল,
-” আমি এখনও পিউর ভার্জিন,আমাকে জড়িয়ে ধরে করো না তো শার্লিন।”

হেসে দিল আষাঢ়। শার্লিন নাজিমের নতুন গার্লফ্রেন্ড। স্বপ্নের ঘোরে কবিতা তবুও থামেনা। ভুঁড়ি যুক্ত পেটে মাথা রেখে বালিশ চেপে কিছুক্ষণ চুপ রইল শুনতে পেল নাজিমের পেট থেকে ঘড়ঘড় শব্দ। সোজা হয়ে বসে সন্দিহান নজরে নাজিমকে দেখে ঠিকমতো শুয়ে কপালে হাত রেখে চোখ বুজলো। ঘুম কখন চোখে হানা দিয়েছে টের পেলো না। ঘুমের রাজ্যয় নিজেকে হারিয়ে শান্তিতে নিঃশ্বাস ছাড়লো আষাঢ়।

____________________________

অনেকগুলো দিন পর গতকাল রাতে মুষল ধারে বৃষ্টি হয়েছে। ভ্যাপসা গরমের মুচণ ঘটিয়ে শীতল স্পর্শে ছুঁয়ে আছে ধরণী। সূর্যের দাপট হার মেনেছে বৃষ্টির সাথে। আষাঢ় ছাদে ব্যায়াম করতে ব্যাস্ত। অনেকদিন হলো শরীরের যত্ন নেওয়া হচ্ছে না। পেটের ভুঁড়ি এক দেড় ইঞ্চি বেড়েছে। শরীরের বেহাল অবস্থা। সবসময় ফিটনেস নিয়ে কেয়ারিং থাকা ছেলেটা একজনের মাঝে ডুবে থেকে সব ভুলে বসেছে। নাদুস-নুদুস নাজিম তখন কবিতার বই নিয়ে নাড়াচাড়া করছে। হিরণ ও মিরাজ আষাঢ়ের সাথে তাল মিলিয়েছে। চ্যালেঞ্জ চলছে পুশআপ কে কতবার করতে পারে।

মিরাজ ষাট বারেই ক্লান্ত হয়ে হার মানলো। হিরণ ও আষাঢ়ের আরো কয়েকদফা শেষ করে হিরণও হার স্বীকার করে নিল। আষাঢ়ের ঠোঁটে জয়ীর হাসি লেপ্টে আছে।

হিরণ, নাজিমের দিকে তাকিয়ে পেটে গুতো দিয়ে বলল,
-” মালটাকে কমা ভাই। প্রেগনেন্ট লাগে তোরে।
-” তোর সমস্যা? প্রেগনেন্ট লাগলে লাগুক।
-” মেয়ে পাবি না। তোরে দেখলেই ভয়ে দৌড় লাগাবে।
-” মেয়ে পাব না ক্যান? যে ভালোবাসবে সে এমনিই বাসবে। মোটা-চিকনের তফাৎ খুঁজবে না।
-” তোর পেটের ভারেই বাসর রাতে বউ চ্যাটকা হয়ে যাবে। ( হাসতে হাসতে মিরাজ বলল)

নাজিম রেগে গেল। ভারী হাতের খিল বসালো মিরাজের পিঠে। মিরাজ ব্যাথায় কঁকিয়ে উঠে নাজিমের পেটে চিমটি কাটলো। ঠেস মেরে বলল, টুইনস বেবির আব্বা। আপনার কি বারো মাসের পেট? সেই কখন থেকে দেখছি এখনো বাচ্চা পয়দা হচ্ছে না। হয় বাচ্চা পয়দা করুন নয় পেট কমান।

নাজিম হেসে দিল। তলতলে পেটের দিকে তাকিয়ে হাত বুলিয়ে বলল, আমার দ্বারা ব্যায়াম-ট্যায়াম হবে না রে। চিকন হওয়ার মেডিসিন যেদিন বের হবে সেদিন থেকেই আমি চিকন হবো ।

নাজিমের কথায় আষাঢ় ঠোঁট চুকা করে বলল, তোর আর চিকন হওয়া হলো না। আচ্ছা বাদ দে চল রেস্টুরেন্ট যাই। আজকের ট্রিট আমার পক্ষ থেকে। অনেকদিন একসাথে থাকা-খাওয়া হবে না।

আষাঢ় চলে যাবে শুনে বন্ধুদের মন আবারও খারাপ হলো। তবে ট্রিটের কথা শুনে হুলস্থূল শুরু করল। আষাঢ়ের ট্রিট মানে অনেককিছু। সেই সাথে ইংলিশ পানি। লাজাবাব অবস্থা তিনজনের। আষাঢ় মুচকি হাসলো বন্ধুদের চকচক চোখ দেখে। ঠোঁটের কোণায় মৃদু হাসি চেপে রেখেই বলল, পানির কথা ভুলেও মাথায় আনবি না। গতরাত খেয়েছিস অনেক। তোদের জ্বালায় ঘুমাতে পারিনি।

বন্ধুরা পাত্তা না দিয়ে ছাদ থেকে নামার জন্য অগ্রসর হলো। দরজার কাছে আসতেই দেখল তিন-তিনজন রমণী কথার ছন্দে ব্যাস্ত পায়ে উপরে উঠছে। হিরণ দু-পা পিছিয়ে আষাঢ়কে ডাকলো। বিড়বিড় করে বলল,
-” ওরা এসেছে।

আষাঢ় তখন গায়ে শার্ট জড়িয়েছে। পুরো শরীর ঘেমে টুইটুম্বর। তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে দরজার পানে তাকাতেই চোখ জোড়া চমকে উঠল। খলখল হাসির শব্দ কানে বাজলো। ঝুমঝুমি আজ হাসছে। শব্দ করে হাসছে।

ঝুমঝুমির হঠাৎ মনে পড়ল পুরনো কুসংস্কারের কথা, বেশি হাসলে কাঁদতে হয়। কিন্তু নীরার আলোভুলো কথা শুনে হাসি কন্ট্রোল করতে পারলো না।

হাসতে-হাসতে ছাদে পা দিয়েছে ঝুমঝুমি এখনো খেয়াল করেনি আষাঢ় তাকিয়ে আছে ওর পানে। হাতে ঝুড়ি। সবজি তুলতে এসেছে।

প্রথমেই তৃষ্ণার খেয়াল হলো ছেলেদের দেখে। বুড়ো আঙুল দিয়ে নীরাকে খোঁচা মেরে বলল, তোর প্রেমিক মশাই দাঁড়িয়ে আছে। ফাটা বাঁশের গলা বন্ধ কর।

নীরা, হিরণকে দেখে লজ্জায় চুপ মারলো। হিরণ ঠোঁটের কোণায় হাসি ফুটিয়ে ইশারায় নীরাকে সাইডে আসতে বলল। নীরা তখন বান্ধবীদের দিকে তাকালো। ঝুমঝুমি ইশারায় বলল যেতে। ছেলে হিসেবে হিরণ মন্দ নয়। নীরার জন্য পারফেক্ট। আষাঢ়ের কাছ থেকে শুনেছে নির্বাচনের পর হিরণের বাবা বিয়ের সম্বন্ধ পাঠাবে নীরার বাসায়। বিয়ের আলাপ-আলোচনার আগে দুজনের মধ্যে সমবোঝতা থাকলে মন্দ হয় না। একজন আরেকজনের সাথে থাকতে পারবে কিনা সেটাও বুঝতে হবে। ঝুমঝুমির সম্মতি পেয়ে নীরা সাইডে চলে গেল পিছন-পিছন হিরণও।

নাজিমকে দেখেই ঝুমঝুমির হাসি পেল। হাসি চেপে তৃষ্ণার হাত চেপে মরিচ গাছের সামনে দাঁড়ালো। গাছ থেকে মরিচ তুলার সময় আষাঢ় পিছন দাঁড়িয়ে নিজের উপস্থিতি বুঝানোর জন্য গলা ঝেড়ে বলল,
-” আমার ঝুমঝুমির সাথে ব্যাক্তিগত কথা আছে।

তৃষ্ণা ভ্রু কুচকালো। ঝুমঝুমির দিকে তাকালো। ঝুমঝুমি তখন চোখের ইশারায় না করল। ঠাঁই মেরে দাঁড়াল তৃষ্ণা। আষাঢ়ের চেহারায় কপট রাগ ফুটে উঠল। তৃষ্ণাকে ধমক দিতে গিয়েও দিল না। মিষ্টি হেসে বলল, তৃষ্ণা তুমি যদি একটু ওদিকে যাও ভালো হতো।
-” কেন? আমার যেতে হবে কেন? আপনি যা বলবেন আমার সামনেই বলবেন। আমরা বান্ধবীরা হলাম একজন আরেকজনের কলিজা,ফুসফুস, কিডনি,মন,হৃদয়,আত্মা।
-” তাহলে একজনের সাথে বিয়ে হলে বাকি দুজন বউ ফ্রী পাব, বুঝাতে চাইছ?

আষাঢ়ের কথাখানি অন্য রকম শুনালো। তৃষ্ণা মুখ বাকালো। ঝুমঝুমিকে বলল, আমি আসছি।

ঝুমঝুমি আটকাল না। তৃষ্ণা সরে যেতেই আষাঢ় পাশে দাঁড়ালো। অভিমানী কণ্ঠে বলল, রাতে এমন করলে কেন ?
-” এমনি।
-” তুমি সত্যিই কি আমায় ভালোবাসো না?

ঝুমঝুমির শরীর কেঁপে উঠল। ইচ্ছে করল বলতে, আমি আপনাকে পছন্দ করি, ভালোবাসতে ইচ্ছে করে কিন্তু বলল না।
শুধু বলল, জানি না। বলেছি সময় চাই।
-” একমাস হয়ে গেল ঝুমি। আর কত সময় চাও তুমি?
-” ধৈর্য্য ধারণ করতে না পারলে ভুলে যান। ঝুমঝুমি ধ’র্ষি’তা হতে পারে কিন্তু সস্তা নয়।

ঝুমঝুমির রাগ বুঝতে পারলো আষাঢ়। এক মিনিট নীরবতা পালনের করে বলল, আজ রাতে আমায় ইতালি যেতে হবে ঝুমঝুমি তিনমাসের জন্য। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে আমাদের আর দেখা হবে না। তুমি হারিয়ে যাবে। আমার কাছ থেকে তুমি অনেক দূরে হারিয়ে যাবে। ঝুমঝুমি চলো না আজ আমরা বিয়ে করে ফেলি। হৃদয়ের বিশাল ঢেউ আমার সহ্য হচ্ছে না। ঢেউ থামাতে হলে তোমাকে আমার হতে হবে। আমার মন কু ডাকছে ঝুমঝুমি। আচ্ছা বিয়ে করতে হবে না শুধু কথা দাও তুমি আমার হয়ে থাকবে?

ঝুমঝুমির ইচ্ছে হলো কথা দিতে কিন্তু বিবেকের কাছে হেরে গিয়ে চুপ রইল। ঝুমঝুমির চুপ থাকা সহ্য হলো না আষাঢ়ের। চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই জড়িয়ে ধরল। বুকের সাথে একদম চেপে রাখল ঝুমঝুমির মাথা। মিরাজ,হিরণ,নাজিম, তৃষ্ণা ও নীরা সকলে অবাক হলো। মিরাজ,হিরণ ও নাজিম এই প্রথম দেখল প্রিয় বন্ধুর পাগলামি। গতরাত থেকেই বন্ধুর চেহারায় কষ্টের দহন ছিল কিন্তু প্রকাশ করেনি।

তৃষ্ণা-নীরা আসতে চাইলে হিরণ ও মিরাজ ওদের হাত ধরে রাখে। ঝুমঝুমি ছটফট করছে ছুটে আসার জন্য কিন্তু আষাঢ় শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে চেপে ধরেছে। ঘনঘন নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে উঠল,
-” আমাকে কাঁদিও না তেজপাতা। আমি কাঁদলে তুমি জীবনে কোনোদিন হাসতে পারবে না। তুমি আমার ছিলে, আছো, থাকবে। তিনমাস পর আমি তোমাকে আমার হয়েই দেখতে চাই। আমার মনে তোমার জন্য তৈরি ভালোবাসাকে ঘৃণায় পরিণীত করো না। তোমার যদি কোনো অসুবিধে থাকে বলতে পারো আমায়। সকল সমস্যার সমাধান করে তারপর যাব তবুও তোমাকে অন্যকারো দেখতে পারব না।
-” আমাকে ছাড়ুন। অস্বস্তি হচ্ছে।

আষাঢ় ছেড়ে দিল। ঝুমঝুমি এক মুহুর্ত দেরি না করে নেমে পড়ল। তৃষ্ণা-নীরা ছুটল ওর পিছু। আষাঢ় দেখল ঝুমঝুমির চলে যাওয়া। খাঁচা থেকে ছাড়া পেয়ে পাখি যেমন আনন্দে ছুটে বেড়ায় তেমনি ঝুমঝুমি ছাড়া পেয়ে পালিয়েছে। হৃদ মাঝারে আ’ঘা’ত হানলো।

##চলবে,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here