বসন্তের ছোঁয়া পর্ব ৪

❤ বসন্তের ছোঁয়া ❤
লিখাঃ Ayesha Ariya Afiya
পর্বঃ ৪
,
,

” আর দেখা হবে না”
এমন কথা আর কখনো বলনি হিরনবালা।
হসপিটাল রোড ধরে হাটতে গিয়ে,
যে হাত ছাড়নি তুমি
পুবের জানালা সারাক্ষণ রেখেছো খোলা,
সারা মনি –
আমার আসার প্রতিজ্ঞায় থেকে থেকে
দুচোখ ঝুলিয়ে রেখেছিলে
বারান্দার ডেপটিজমের বাগানে।
আমাকে না পেয়ে তোমার
জন্মদিন ছিল অর্থহীন উৎসব।
হে সারা মনি-
তোমার নির্মাণ শহরের মূল প্রাচীরে
লিখে রেখ” এই ছেলেটির দুঃখ ছিল” ।
,
রাজ পেছন পেছন হাটছে আর কবিতা আবৃতি করছে! সারা শুনেও কিছু বলছে না! শুধু মুখটা কে কঠিন করে হেটে হেটে ভার্সিটির ভিতর ঢুকতেই এনামুল এসে হাজির, সারা খুব হেসে হেসে রাজকে দেখিয়ে দেখিয়ে কথা বলছিল! রাজ কিছু না বলে শুধু রাগে গজগজ করছিল! আর সহ্য করতে না পেরে সারার সামনে এসে হা ধরে টেনে দেওয়ালে চেপে ধরে।
,
সারাঃ আপনার সাহস কি করে হয় আমার শরীরে টাচ করার! ছাড়ুন বলছি।
,
রাজঃ ( দাঁতে দাঁত চেপে) আমমি পাগলা কুকুরের মতো পেছন পেছন ঘুরি তুমি পাত্তা দেওনা ঠিকই কিন্তু অন্য ছেলেদের সাথে গা ঢলাঢলি করতে লজ্জা লাগে না? হ্যা তুমি চিন না আমায় আর এসব টাইট ফিটিং জামা কাপড় পড়বে না! বলে দিলাম তোমায় যদি কাল থেকে দেখি তাহলে খবর আছে।
,
সারা কিছু বলার আগেই রাজ ধাক্কা দিয়ে সরে গেল! সারা হ্যাবলার মতো তাকিয়ে আছে! কিছু বুঝতে পারছে না! কি করবে বা কিই বা করা উচিত শয়তানি হাসি দিয়ে শুধু একটা কথাই বলেছিল।
,
সারাঃ রাজ চৌধুরী আমি ও দেখতে চাই আপনি কতদূর যেতে পারেন! অসভ্য লোকটা আমার গায়ে হাত দিয়েছে! মন চাইছে এই টুকু গোশত শরীর থেকে কেটে ফেলতে।
,
রাজঃ( হঠাৎ করে ফিরে এসে) আর যদি কোনো দিন কোনো ছেলের সাথে এই ভাবে কথা বলবে তাহলে তোমার এই সৌন্দর্য আমি দুমড়ে দিব বলে দিলাম! মনে রাখা ভালো রাজ চৌধুরী যা চাই তা না পেলে কেড়ে নেই mind it.
,
সারাঃ এই লোকের সাহস কি করে হয় আমায় ব্লেকমেল করার মন চাইছে ব্যাটার মাথা ফাটিয়ে দিতে! আচ্ছা সত্যিই কি লোকটা আমায় ভালোবাসে নাকি সব নাটক উফফ আর ভাবতে পারছি না কি করবো আমি।
,
এনামুলঃ( পেছন থেকে) ওরে বাবা এত্ত ভালোবাসা আমি সিওর সারা রাজ ভাইয়া তোকে ভালোবাসে না হলে এমন ভাবে রিয়েক্ট করতো না।
,
সারাঃ তুই সত্যি বলছিস?
,
এনামুলঃ মনে হয়( বলে এক দৌড়)
,
সারাও তাড়া করলো এনামুল কে পুরো ভার্সিটি দৌড়িয়েছে এনামুল কে সারা হাঁপাচ্ছে আর বলছিল” কুত্তা বিলাই ”

পরের দিন
সারা ইচ্ছে করে একটা প্যান্ট, কামিজ, একটা ওড়না কোনো রকম গলায় ঝুলিয়ে চুলগুলো নাড়াতে নাড়াতে ভার্সিটি তে ঢুকলো এনামুলের সাথে কথা বলতে ক্লাস রুমের দিকে যেতেই মনে হলো কেউ পেছন থেকে টেনে কোথাও নিয়ে যাচ্ছে ভয়ে হাত পা কাঁপছে সারার এটা যে রাজ বুঝতে একটু ও সমস্যা হয়নি।
,
রাজঃ খুব শখ না তোমার টাইট ফিটিং জামা কাপড় পড়ার, বলে ছিলাম না এটা না পড়ে আসতে শোনার প্রয়োজন পড়েনি না( দেওয়ালে চেপে ধরে)
,
একটান দিয়ে জামা ছিঁড়ে ফেলে সারা হ্যাবলার মতো দাড়িয়ে আছে মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না।
রাজঃ( একটা থ্রি পিছ এগিয়ে দিয়ে) দ্রুত এটা পড়ে বেরিয়ে আসো কেমন।
,
সারাঃ,,,,,,,,।
,
রাজঃ কথা কানে যাচ্ছে না! কানের নিচে একটা পড়লে ঠিকই আমার কথা শুনবে।
,
সারাঃ আপনি আমার সাথে এমন করছেন কেন? কে হোন আপনি আমার?
,
রাজঃ আমি তোমার,,,( থেমে যেয়ে)
,
সারাঃ আমি আপনার প্রপোজাল একসেপ্ট করিনি।
,
রাজঃ,,,,,,,।
,
সারাঃ Do you know, Who I am.দাঁত কিরমির করে যদিও রাজের সামনে সারা কিছু ই না)
,
রাজঃ You know, Who I am, I am your dangerous lover.
,
সারাঃ বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্ত আমি কি পড়বো না পড়বো সেটা আমার বিষয় আপনার না।
,
রাজঃ( সারা যেতে নিলে টান দিয়ে ওড়না সরিয়ে ফেলে) তোমার হাত কেটে গেছে বলবে তো আমি তো আছি তোমার সেবা করার জন্য! ড্রেসটা আমি পড়িয়ে দেয় কেমন( মৃদু হেসে)
,
সারাঃ না( চিৎকার দিয়ে)
,
রাজঃ না কেন? তোমার না হাত কাটা যাও টেনশন নিও না কিচ্ছু দেখবো না! ওড়না দিয়ে চোখ বেঁধে পড়িয়ে দিব।
,
সারাঃ আমি পড়বো আপনি বাহিরে যান।
,
রাজঃ ওকে জান( থেরাপি টা কাজে দিয়েছে এখন থেকে মাঝে মাঝে দিতে হবে)
রাজ বাহিরে দাড়িয়ে আছে সারা বের হলো জামা টা পড়ে এত সুন্দর লাগছে চোখ ফেরাতে পারছে না রাজ আকাশী জামা, প্লাজো সাদা সেলোয়ার, সাদা ওড়না, গোলাপি কালার স্কার্ফ সব মিলিয়ে পুরো অস্থির সারার ওড়না রাজের গলায় পেঁচিয়ে রেখেছে।
,
সারাঃ আমার ওড়না দিন প্লিজ।
,
রাজঃ,,,,,,,।
,
সারাঃ ( তুড়ি বাজিয়ে) ও হ্যালো মিস্টার কোথায় হারিয়ে গেলেন! আমার ওড়না আপনার গলা থেকে দিন আমায়?
,
রাজঃ( এতক্ষণে হুস ফিরেছে) শোন সারা আজকের পর থেকে যদি কোনো দিন তোমায় টাইট ফিটিং জামা কাপড় পড়তে দেখেছি তাহলে আমি নিজে তোমার ড্রেস পাল্টে দিবো হুম বাই দ্যা ওয়ে ম্যাম আপনাকে কিন্ত হেব্বি লাগছে।
,
সারাঃ আমার ওড়না?
,
রাজঃ এটা আমার আর কখনো পাবে না! গেলাম আমি বাই( ফ্লায়িং কিস ছুড়ে দিয়ে)
,
সারাঃ( অসহায় হয়ে) পাগল।
,
রাজঃ শুধুমাত্র তোমার জন্য।
রাজ চলে গেছে কারে চড়ে সারা দূরে দাড়িয়ে থেকে মুচকি হাসলো রাজের পাগলামো দেখে।
,
,
বেলকনিতে দাড়িয়ে দাড়িয়ে ডায়েরি টা পড়ছিল সারা হাসতে হাসতে কুটিকুটি প্রচুর হাসি পাচ্ছে! ডায়রিটা রেখে চায়ের কাপে চুমুক দিল! নেক্সট প্লান নিয়ে ভাবছে প্রচুর কি করা যায় কিভাবে রাজকে শিক্ষা দিবে এটা ভেবে।
,
মাত্রই ওয়াশরুম থেকে বের হলো রাজ! চুল থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে! খালি গায়ে টাওয়েল পড়ে বেরিয়েছে মেহেরিমার সাথে কথা বলতে হবে সারাকে কি ভাবে ডিভোর্স দিয়ে এই বাড়ি থেকে বের করা যায়।
,
সারাঃ রাজ আজকে কি? তোমার মিটিং আছে?
,
রাজঃ,,,,,,,৷
,
সারাঃ আমি কিছু জিজ্ঞেস করেছি তোমায়?( জোরে এক চিৎকার দিয়ে)
,
রাজঃ এভাবে চেচাঁমেচি করার কি আছে? হ্যা অফিসে যাবো ( বিরক্ত হয়ে)
,
সারাঃ আমায় একটু ভার্সিটিতে নামিয়ে দিবে প্লিজ?
,
রাজঃ পারবো না।
,
সারাঃ কি বললে তুমি পারবে না! এত বড় সাহস আমার টা খেয়ে আমারটা পড়ে আবার আমার সাথেই চালাকি।
,
রাজঃ বললাম তো আমি পারবো না! বার বার এক কথা বলতে আমার ভালো লাগে না! টাই টা বেঁধে দাও তো।
,
সারাঃ ( অবাক হয়ে) আ,,,মি?
,
রাজঃ তো কি অন্য কাউকে বলেছি? তাড়াতাড়ি বেঁধে দাও তো আমার অফিসের টাইম হয়ে গেছে।
,
সারা খুশি হয়ে রাজের সামনে যায় বাট রাজ তো অনেক লম্বা তাই টুল আনতে গেলে রাজ একটান দিয়ে কোমর চেপে ধরে উপরে তুলে, সারা টাই বেধে দিচ্ছে কিন্ত ওর মনে হচ্ছে কোমরের গোশতটা কেউ কেটে লবণ লাগিয়ে দিয়েছে, বুঝতে বাকি রইল না রাজের কাজ এই টা সেজন্য চিৎকার দিতে নিলেই।
,
রাজঃ আমাদের বিয়ে হয়েছে অথচ তোমার শরীরে কোনো লাভ বাইট নেই বিষয় টা খারাপ লাগে না! তাই লাভ বাইট একে দিলাম ভালো করিনি বলো( মৃদু হেসে)
,
সারা কিছু না বলে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করলো রাজের হার্ট দ্রুত চলছে সারার কাছে আসলেই এমনটা হয় গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখছে মায়াবী চেহারা টা কেন যেন নিজেকে খুব বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে বাট রাজ সেটা বুঝাল না! সারা টাই বাঁধা শেষে গলায় দিয়েছে এক কামড়।
,
রাজঃ আহহহ এটা কি করলে সারা? ( কুকিয়ে উঠে)
,
সারাঃ( মৃদু হেসে) আমার শরীরে যদি লাভ বাইট থাকে তোমার তাহলে তোমার শরীরে ও তো আমার লাভ বাইট থাকা উচিত সেটাই করলাম জান তুমিও না বুঝনা কিছু।
,
,
রাজ না খেয়ে যেতে নিলেই ওর ফুপি বাধা দেয়
রাজের ফুপিঃ না খেয়ে কোথাও যেতে পারবি না বলে দিলাম।
,
সারাঃ ফুপি তুমিও না! রাজ ক্ষিদে একদম সহ্য করতে পারে না! কি ঠিক বলিনি আমি।
,
রাজঃ খেতে বসে এত কথা বলতে নেই সারা( ভদ্র ভাবে)
,
সারাঃ ( এটা কি হলো ও বুঝেছি পাল্টা ধাওয়া ব্যাটা মন চাইছে তোর মাথা ফাটিয়ে দিতে হুম কিন্ত এখন না পরেও দেখা যাবে আগে খেয়ে নেই)( মনে মনে)
,
রেহেনাঃ কি ভাবছো সারা তাড়াতাড়ি করো তোমার না ভার্সিটি তে যেতে হবে।
,
সারাঃ হুম আপু রান্না টা অনেক ভালো হয়েছে ফুপি তোমার হাতে কি জাদু আছে গো মন চাই হাতটাই চেটে খেয়ে ফেলি।
,
রাজঃ তুমি তো আস্ত রাক্ষস দেখো আবার কবে ফুপির হাত কামড়ে দেও তাহলে কিন্ত আমি তোমায় ছাড়বো না বলে দিলাম।
,
সারাঃ( মজা নিচ্ছ তাই না খেয়ে নেয় তারপর তোমায় দেখা যাবে)
,
রাজঃ পরিবেশ এত শান্ত শিষ্ট বিষয় টা ভাবাচ্ছে আমায়( খোঁচা মেরে)
,
রাজের ফুপিঃ কেন? মেয়েটাকে শুধু শুধু রাগাচ্ছিস রাজ চুপচাপ খেয়ে সারা কে ভার্সিটি নামিয়ে দিয়ে অফিসে যাবি কেমন।
,
রাজঃ পারবো না( দাঁত কিরমির করে)
,
সারাঃ( কলিজা তোমায় দেখে নিবো আমি শান্তি তে খেতে ও দিচ্ছে না পা দিয়ে গুতো দিচ্ছে কত বড় শয়তান)
,
রাজঃ ( সারা মনি তোমার যে কি হাল করবো এবার ভাবতে ও পারবে না! শুধু একটা চান্স তোমার সব জারিজুরি শেষ করবো আমি নয়তো আমিও রাজ চৌধুরী না)
,
খাওয়া শেষ হলে রাজ হাত মুছতে মুছতে বের হতে নিলেই সারা কোথা থেকে এসে দুই হাতে ইচ্ছা মতো আছড়ে দেয়! রাজ ধরতে গিয়ে ও ধরতে পারলো না।
রাগে গজ গজ করতে করতে কারে গিয়ে বসতেই সারাও কারের দরজা খুলে হুরমুড় করে বসে দরজাটা ঠাস করে লাগিয়ে দিল।
,
রাজঃ এই মেয়ে করছো টা কি? আমি তো তোমায় নিয়ে যেতে পারো না? বের হও বলছি?
,
সারাঃ তুমি কার স্টার্ট করবে নাকি? আমি তোমার বার টা বাজাবো কোন টা Choice as yours.
,
রাজ সারাকে বাধ্য হয়ে ভার্সিটি নামিয়ে দিয়ে দ্রুত অফিসে চলে আসলো।

” ক্ষমাই যদি কাউকে করতে না পারো,
তবে তাকে ভালোবাসো কেন?
( রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

কথাটা সব সময় সারা অনুসরণ করে সে রাজকে মাফ করে দিয়েছে কারণ ভালোবাসলে ভালোবাসর মানুষকে ক্ষমা করতেই হয়।
সারাঃ তোমায় আমি ভালোবাসি তাই আমার সাথে হওয়া অন্যায়ের ক্ষমা আমি করে দিলাম তোমায়! তুমি হয়তো ভালোবাসোনি তাতে কি আমি তো বেসেছি! আমি তোমায় নতুন জীবন দান করবো খুব শিঘ্রী, তা না হলে আমার নামও সারাও না হুম।
কথাটা বলেই ভার্সিটির ভিতরে ঢুকে পড়ে সারা।

চলবে………. ❤❤❤❤❤

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here