বুকভরা ভালোবাসা পর্ব -এক্সট্রা পার্ট

#বুকভরা_ভালোবাসা
#Extra Part
#লেখিকাঃদিশা মনি
[যারা এন্ডিং নিয়ে খুশি নন তারা এই এক্সট্রা পর্বটি পড়ুন মন ভালো হয়ে যাবে।]

মুগ্ধ আর স্নিগ্ধ একসাথে বাইকে করে যাচ্ছিল। মুগ্ধ বাইক চালাচ্ছিল আর স্নিগ্ধ তার পেছনে বসেছিল। স্নিগ্ধ মুগ্ধকে বলতে থাকে,
‘আমরা কি এটা ঠিক করছি? মেহুল রাগ করবে না তো?’

মুগ্ধঃদেখি আমি কিভাবে রাগ করে। আমার শান্তশিষ্ট ভাই পেয়েছে জন্য যখন তখন রাগ করবে। আমি সেটা হতে দেবো না। আমি তোমাকে নিয়ে দুইদিনের জন্য চট্টগ্রামে চলে যাব ভাইয়া। দেখবে তোমাকে না দেখে সব রাগ ভুলে যাবে।

স্নিগ্ধঃতা হলে তো ভালোই হবে।

স্নিগ্ধর ফোন বেজে ওঠে। মুগ্ধ জিজ্ঞেস করে,
‘কে ফোন দিয়েছে রে ভাইয়া?’

স্নিগ্ধঃমেহুল।

মুগ্ধঃফোনটা একদম রিসিভ করবি না। ওকে বুঝতে দে তুইও রাগ করতে পারিস।

স্নিগ্ধঃওকে।

স্নিগ্ধ ফোনটা রিসিভ করছে না দেখে মেহুল ম্যাসেজ দেয়। স্নিগ্ধ ম্যাসেজ সিন করে দেখে সেখানে লেখা,
‘তুমি কোথায় স্নিগ্ধ? আমার তোমার কথা অনেক মনে পড়ছে। প্লিজ আমার কাছে ফিরে আসো।’

ম্যাসেজটা দেখে স্নিগ্ধ মুগ্ধকে বলে,
‘গাড়ি ঘুরিয়ে নে জলদি। মেহুল আমায় মিস করছে আমাকে ওর কাছে যেতে হবে।’

মুগ্ধঃভাইয়া এত সহজে গলে গেলে কিন্তু চলবে না। তাহলে মেহুল আরো মাথায় উঠে যাবে। তখন মাথা থেকে নামাতে পারবেই না।

স্নিগ্ধঃতাতে তোর কি? তুই তোর কাজ কর। আমাকে মেহুলের কাছে যেতেই হবে।

মুগ্ধঃতুমি চলো আমার সাথে চট্টগ্রাম। আমি তোমার কোন কথা শুনব না।

মুগ্ধ জোর করে স্নিগ্ধকে নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যায়।

এদিকে,
মেহুল ইতিকে বলছে,
‘স্নিগ্ধ তো কখনো আমার সাথে এমন করে না। আমার মনে হয় ঐ বেটা মুগ্ধ এসব করছে। ওর তো আবার গা’টে গা’টে শয়তানী।’

ইতিঃতাহলে তুই এখন কি করবি?

মেহুলঃপ্রথমে আমায় জানতে হবে মুগ্ধ আছে কোথায়। তারপর আমি দেখ কি করি।

ইতিঃকিভাবে জানবি।

মেহুলঃকেন আশা আছেনা?

ইতিঃকি আশা?

মেহুলঃআরে আশা। মুগ্ধর একতরফা প্রেমিকা।

ইতিঃআশা কি করবে?

মেহুলঃআমি কয়দিন থেকে খেয়াল করছি মুগ্ধ আর আগের মতো আশার উপর বিরক্ত হয়না। আমার মনে হয় মুগ্ধ একটু একটু করে আশাকে ভালোবাসতে শুরু করেছে।

ইতিঃতো?

মেহুলঃআশার মাধ্যমেই আমাকে জানতে হবে মুগ্ধ আমার স্নিগ্ধকে নিয়ে কোথায় গেছে।

ইতিঃঐতো আশা এইদিকেই আসছে। চল ওকে গিয়ে জিজ্ঞেস করি।

মেহুল আশাকে গিয়ে কিছু কথা বলে। সব শুনে আশা মৃদু হেসে বলে,
‘আচ্ছা এই ব্যাপার। দাড়াও আমি সব ঠিক করছি।’

আশা মুগ্ধকে ফোন দেয়।

মুগ্ধ সবেমাত্র চট্টগ্রামে পৌঁছে বুকিং করে রাখা হোটেলের রুমে ঢুকল তখনই আশার কল চলে এলো।

আগের মতো বিরক্ত হলো না মুগ্ধ। আশার কল দেখে তার মুখে একবিন্দু হাসি ধরা দিল।

ফোনটা রিসিভ করতেই আশা অভিনয় করে বলল,
‘কোথায় আপনি মুগ্ধ ভাইয়া আমার আপনার কথা খুব মনে পড়ছে।’

মুগ্ধ ভাব দেখিয়ে বলে,
‘আমি তোমার থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। আর চাইলেও তুমি আমার কাছে আসতে পারবে না।’

আশা কান্নার অভিনয় করে বলে,
‘আমার আপনাকে দেখার খুব ইচ্ছা করছে। বলুন না আপনি কোথায়।’

মুগ্ধঃবলবোনা পারলে আমাকে খুঁজে দেখাও।

আশাঃআমার আব্বু আমার বিয়ে ঠিক করেছে। জানেন?

মুগ্ধঃকি? কার সাথে?

আশাঃতার বন্ধুর নে’শাখোর ছেএর সাথে। আমার জীবন পুরো নষ্ট হয়ে যাবে মুগ্ধ ভাইয়া।

মুগ্ধঃতুমি কোন চিন্তা করোনা। আমি এখন কিছু কাজে চট্টগ্রামে আছি। এখান থেকে ফিরেই তোমার বিয়ে ভাঙার ব্যবস্থা করবো। তুমি কোনো চিন্তা কোরো না।

আশা বাকা হেসে, “আচ্ছা” বলে ফোনটা কে’টে দেয়।

তার সামনে দাড়িয়ে থাকা ইতি আর মেহুলও খুব খুশি হয়। মেহুল বলে,
‘এবার দেখো মুগ্ধ আর স্নিগ্ধ আমি কি করি।’

মুগ্ধ আর স্নিগ্ধ মিলে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে এসেছিল। মুগ্ধ খুব ভালোভাবে এনজয় করলেও স্নিগ্ধর মন পড়েছিল মেহুলের কাছে। স্নিগ্ধ অবচেতন মনে শুধু মেহুলের কথাই ভাবতে থাকে।

স্নিগ্ধকে অন্যমনস্ক দেখে মুগ্ধ বলে,
‘কি হয়েছে ভাইয়া? তোমাকে এত অন্যমনস্ক লাগছে কেন?’

স্নিগ্ধঃমেহুলের কথা খুব মনে পড়ছে। না জানি মেয়েটা আমাকে না পেয়ে এখন কি করছে।

মুগ্ধঃতুমি এখানে এসেও মেহুলের কথা ভাববে? লাইক সিরিয়াসলি প্রেমে এত পাগল হয়েছ তুমি?

স্নিগ্ধঃরোমিওর মতো পাগল হতে পারিনি।

মুগ্ধঃএই রোমিওটা কে?

স্নিগ্ধঃএক পাগল প্রেমিক। যাইহোক ওর কথা বাদ দে। তুই এখন আমায় বল যে আমার কি মেহুলের কাছে যাওয়া উচিৎ?

মুগ্ধঃআমার তো রোমিওর ব্যাপারে খুব জানতে ইচ্ছা করছে। তুমি আমায় বলোনা।

স্নিগ্ধর চোখ হঠাৎ সামনের দিকে যায়। সেদিকে চোখ যেতেই স্নিগ্ধ ভ্রু কুচকে বলে,
‘মেহুল!’

মুগ্ধঃএখানে মেহুল আসবে কোথা থেকে?

স্নিগ্ধঃতোর পেছনে দেখ।

মুগ্ধ পিছনে ঘুরে তাকাতেই মেহুলকে দেখতে পায়। ভুল ভেবে নিজের হাতে চিমটি কে’টেও সে মেহুলকে দেখতে পায়। মেহুল একা আসেনি সাথে আশা আর ইতিও এসেছে।

মেহুল এগিয়ে এসে মুগ্ধকে চোখ রাঙিয়ে বলে,
‘হ্যালো মিস্টার দেয়াল। আপনাকে এত কষ্ট করে ভাঙলাম আর এখন আপনি আবার গড়ে উঠতে চাইছেন।’

মুগ্ধ আমতা আমতা করে বলে,
‘তুমি আমার নিরিহ ভাইয়াটার উপর অত্যা’চার করবে আর আমি ভাই হয়ে সব মেনে নেব। কিভাবে ভাবলে তুমি?’

মেহুল মুগ্ধর কান টেনে বলে,
‘আমি কিন্তু তোমার ভাবি হতে চলেছি। তাই আমার সাথে বাড়াবাড়ি করতে এসোনা।’

মুগ্ধ নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলে,
‘এখনো কিন্তু ভাবি হওনি।’

মেহুলঃহইনি হয়ে যাব। তাইনা স্নিগ্ধ?

স্নিগ্ধ মাথা নাড়ায়। মেহুল একটা বাকা হাসি দিয়ে বলে,
‘চলো আমরা এনজয় করি। আশা তুমি এখানে থাকো। আর ইতি ধ্রুব ভাইয়া চলে এসেছে। তুই গিয়ে ওনার সাথে একান্তে সময়টা উপভোগ কর।’

মেহুল আর কোন কথা না বলে স্নিগ্ধর হাত ধরে দেয় একটা দৌড়। মুগ্ধ তাদের পেছনে যেতে যাবে তখন আশা তার হাত ধরে বলে,
‘সবসময় অন্যের প্রেমে নাক না গলালেই নয়? নিজে তো প্রেম করবেনই না। অন্যকেও করতে দেবে না।’

মুগ্ধকে আশাকে ধমকের সুরে বলে,
‘তুমি আমায় মিথ্যা বলেছ তাইনা? তোমায় কিন্তু আমি,,,’

মুগ্ধর কথা শেষ হওয়ার আগে আশা কাদতে থাকে। আশাকে কাদতে দেখে মুগ্ধ তাকে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরে তারপর বলে,
‘আমার সাথে আর কখনো এভাবে কাদবে না। আমি তোমার কান্না সহ্য করতে পারব না।’

আশাঃকেন? আমি কাদলে আপনার কি?

মুগ্ধঃআমার বুক যে ফে’টে যায় তোমাকে কাদতে দেখলে। আমি যে তোমায় ভালোবাসতে শুরু করেছি আশা। তোমার প্রতি আমার যে রয়েছে বুকভরা ভালোবাসা।

আশা কান্না থামিয়ে হেসে ফেলে। এতদিনের কাঙ্ক্ষিত সুখ যে সে পেয়ে গেছে।

স্নিগ্ধর হাত ধরে পতেঙ্গা সৈকত ঘুরে ঘুরে দেখছে মেহুল। আচমকা মেহুল স্নিগ্ধকে জড়িয়ে ধরে বলে,
‘আর কখনো আমায় ছেড়ে এভাবে কোথাও যাবে না তো?’

স্নিগ্ধ মৃদু হেসে বলে,
‘না।’

মেহুলঃআচ্ছা তুমি আমায় কতটা ভালোবাসো?

স্নিগ্ধঃঅনেকটা। যাকে বলে বুকভরা ভালোবাসা 💖
৷৷৷৷৷ সমাপ্ত
>>>

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here