ভালোবাসায় পাগলামী পর্ব -১২+১৩

###__ভালোবাসায়_পাগলামি__###
part:12+13
#writer:Maliha Islam Tafsi.

আমার পাগলামি দেখে মার চোখের পানি সারাক্ষণ ঝরতেই থাকতো। একদিন মা আমার রুমে আসল এসে আমার পাশে বসে বলতে শুরু করল-
-কেন এইভাবে পাগলামি করছিস বাবা?আয়েশা আর কখনও ফিরে আসবে না আমাদের মাঝে। তোর এই অবস্থা যে আমি সহ্য করতে পারছি না। কি করেছিস নিজের অবস্থা আমি মা হয়ে নিজের ছেলেকে এইভাবে কষ্টে দেখতে পারছি না। আর আয়েশা তো তোকে বলেছিল তুই যেন ভালো ভাবে থাকস নিজের যেন কোনো ক্ষতি না করিস তাহলে এইভাবে নিজেকে কষ্ট দিচ্ছিস? আমি যে তোকে আর এইভাবে দেখতে পারছি না রে বাবা। প্লিজ আগের মতো হয়ে যা অফিসে যা একটু বাহিরে ঘুরে আয় আর এইভাবে পাগলামি করিস না বাবা।(কেঁদে কেঁদে কথা গুলো বলল মা)


মার কথায় আমি নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলাম। তারপর অফিসে যাওয়া শুরু করলাম আবার। কিন্তু আয়েশার ভালোবাসার প্রতি পাগলামি যে আমার কমছিল না বরং আরো বাড়ছিল। আয়েশা কে নিজের বুকে ফিরে পেতে খুব ইচ্ছে করতো।


একদিন অফিস থেকে বাসায় এসে আয়েশার ছবি সামনে নিয়ে কাঁদতে লাগলাম । খুব ইচ্ছে করছিল আয়েশার কাছে চলে যেতে। একটা ছুরি নিয়ে নিজের হাতে পর পর চার টা পুচ দিলাম। সাথে সাথে হাত থেকে রক্ত বের হতে লাগল আর আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসল। একসময় আমার দেহ ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ল।


পরেরদিন নিজেকে হসপিটালে আবিষ্কার করলাম। আমার পাশে বসে মা আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে কাঁদছে । আমি মার হাত টা আলতো করে ধরলাম
মা আমার দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করল-


-কেন এমন করলি আফরান? আয়েশার ভালোবাসা এতো বেশি হয়ে গেল যে মা কে একা করে দিয়ে চলে যেতে চাইলি? (বড্ড অভিমান নিয়ে কথাটা বলল মা)
-মা তেমন কিছুই না। আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল মা।
মা আমার বা হাত টা নিয়ে মায়ের মাথায় রেখে বলল আমার কসম কেটে বল এখন থেকে নিজের কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করবি না।
আমি মায়ের কসম কেটে বললাম যে নিজের আর কোনো ক্ষতি করব না।


সেই থেকে নিজেকে পাথর এর মতো বানিয়ে নিলাম। আর কোনো ক্ষতি করলাম না নিজের। মায়ের কথা মতো চলতে লাগলাম। এইভাবে এক বছর কেটে গেল।হঠাৎ একদিন মা খুব আবদার করতে লাগল মায়ের সাথে তার বান্ধবীর মেয়ের বিয়েতে যাওয়ার জন্য । মায়ের আবদার টা আমার রাখতেই হলো। সেখানে গিয়ে চোখ আটকে গেল আমার একটা হলুদ পরী কে দেখে যে হুবহু দেখতে আমার আয়েশার মতো। মাকে ইশারা করে বললাম মা মেয়ে টা আয়েশার মতো দেখতে তাই না? মাও দেখে বলল হুম তাই তো।দেখতে খুব মিষ্টি তো মেয়েটা।


বিয়ে বাড়ি তে সারাক্ষণ মেয়ে টার দিকে তাকিয়ে রইলাম। আমার চোখ দুটো শুধু আটকে রইল মেয়ে টা তে।
বাসায় এসে মা আমাকে বলল আফরান মেয়ে টা কে কি তোর পছন্দ হয়েছে?
-সত্যি বলতে মা মেয়ে টা কে দেখে মনে হলো যেন আমার আয়েশা।
-আমি মেয়ে টার সব খোঁজ নিয়ে এসেছি।
মা আমাকে খুলে বলল সেই থেকে জোর করে মেয়ে টা কে আমার করে নিলাম। আমি আয়েশা কে হারিয়ে ফেলেছি আর সেই মেয়ে টা কে হারাতে চাই না। তাই তো ওর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য পাগলামি করি.

আফরান এর কথা শুনে সাবিহার আর বুঝতে বাকি রইল না যে সেই হলুদ পরী টা হলো সাবিহা ।

চলবে,,,,,,,

#ভালোবাসায় পাগলামি
#part:13
#writer:Maliha Islam Tafsi

সাবিহা আর আফরান বেশ কিছুক্ষণ ঘুরে বাসায় ফিরে আসল। কেন যে আজ সাবিহার আফরান প্রতি ঘৃণা অনুভব হচ্ছে না বরং অন্যরকম টান অনুভব হচ্ছে ।

আমি মায়ের রুমে যাচ্ছি । তুমি ফ্রেশ হয়ে রেষ্ট নাও।(আফরান )
-হুম,,,ঠিক আছে।

আফরান যাওয়ার পর সাবিহা ফ্রেশ হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে মায়ের রুমের দিকে এগিয়ে গেলো। দরজার কাছাকাছি যেতে না যেতেই আফরান এর কান্নার আওয়াজ শুনতে পেল।

-আজ আয়েশার জন্মদিন তুই যে এইদিনে নিজেকে সামলে রাখতে পেরেছিস অনেক বেশি রে বাবা। তুই অনেক স্ট্রং।
-মা জানো আজ সাবিহা কে সবকিছু খুলে বলেছি।
-খুব ভালো করেছিস বাবা। আমি ও চাই ও জানুক আমার ছেলেটা রোবট নয় ওর একটা মন আছে। যেই মনে আয়েশার জন্য ছিল হাজারো পাগলামি আর সেই পাগলামি টা এখন আমি তোর চোখে সাবিহার জন্য দেখতে পাই।

সাবিহা আর এক মুহূর্ত সেইখানে না দাঁড়িয়ে রুমে চলে আসল। অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল তারপর নিচে গিয়ে একজন সার্ভেন্ট কে কি যেন বলল। রান্না ঘরে ঢুকে রাতের জন্য রান্না করতে লাগল। প্রায় তিন ঘন্টা পর রান্না শেষে ফ্রেশ হয়ে আবার মায়ের রুমের দিকে পা বাড়াল সাবিহা।

-মা আসবো?
-আয় মা।।
-মা ওনি,,,,
-থাকুক । ছেলেটা আমার মায়ের কোলে মাথা রাখে না অনেকদিন।
-আপনি খুব ভালোবাসেন ওনাকে তাই না মা?
-ও ছাড়া তো আমার কেউ নেই রে
এখন আরেকটা মানুষ আছে তাকে ও আমি খুব ভালোবাসি । আর সেই মানুষ টা হলো আমার লক্ষী বউ মা টা।

সাবিমা তার শাশুড়ির কথায় হাল্কা হেসে বলল- দশ মিনিটের মধ্যে নিচে নেমে আসুন।
-কেন রে?
-আজ কোনো প্রশ্ন করবেন না আপনাদের জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।
-ওকে আসছি।

-সোহরাব ভাইয়া আসবো?
-ওহ,,,সাবিহা এসো।
-দশ মিনিটের মধ্যে নিচে চলে আসুন।
-ওকে ম্যাম।

সবাইকে ডেকে সাবিহা নিচে ড্রইং রুমে চলে আসল। খাবার সব সাজানো হয়ে গেছে। সব আয়োজন পারফেক্ট ভাবে হয়েছে। এখন শুধু সবার নিচে আসার অপেক্ষা ।

কিছুক্ষণ পর আফরান,,সোহরাব,,মা নিচে নেমে এসে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। পুরো ড্রইং রুম খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। চারদিকে শুধু বেলুন আর বেলুন। আর বড় করে আয়েশার একটা ছবি টানানো। বেলুন গুলোর মাঝে একটা খুব সুন্দর চকলেট কেক রাখা।

সবাই সাবিহার কাছে এসে বলল এইসব??
-আমি তোমাদের কিছু বলতে চাই?
-বলো।।(আফরান)
-আপনি তো বলেন আমি দেখতে একদম আয়েশার মতো তাহলে আমি কি আজ আয়েশার হয়ে বার্থ ডে সেলিব্রেট করতে পারি না?
-কিন্তু তুমি কি করে জানলে?
-আপনি যখন মার সাথে কথা বলছিলেন তখন শুনেছি।খারাপ লাগলে আমায় ক্ষমা করে দিবেন।
আমি,,,,,,


সাবিহা কে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আফরান খুব শক্ত করে জরিয়ে ধরল ওকে।
-থেংকস ইউ সো মাচ (আফরান )
আয়েশার বার্থ ডে এইভাবে সেলিব্রেট করার জন্য ।
– সবাই দেখছে। রুমে গিয়ে জরিয়ে ধরবেন এখন ছাড়েন।(কথাটা বলে হি হি হি করে হেসে দিল সাবিহা)

আফরান মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে সাবিহার হাসির দিকে। তারপর বলল—
-আয়েশার ছবি টা কোথায় পেলে?
-আপনার গোপন ড্রয়ারে।
-গোপন ড্রয়ার মানে?
-কিছু না। এখন চলুন তাড়াতাড়ি কেক কাটি।


সাবিহা আর আফরান দুইজন মিলে কেক কাটল। ডিনার শেষে সাবিহার শাশুড়ি সাবিহা কে জরিয়ে ধরে বলল—-
-তুই আসলেই খুব রক্ষী রে মা। আর তোর মন টা ও খুব ভালো। তোর জায়গায় অন্য কেউ হলে আয়েশার স্মৃতি ও কাউকে মনে করতে দিতো না
তুই একদম আয়েশার মতো লক্ষী ।

সাবিহা ও তার শাশুড়ি কে জরিয়ে ধরে বলল—
-দোয়া করবেন মা ।যতদিন বাঁচি ততদিন যেনো আপনাদের সাথে ভালো সুখী থাকতে পারি।


সাবিহার শাশুড়ি সাবিহার কপালে চুমু এঁকে দিলেন তারপর একজোড়া হাতের বালা পড়িয়ে দিলেন সাবিহার হাতে। সবাই চলে যাওয়ার পর সাবিহা সার্ভেন্ট দের কে বলল সব গুছিয়ে ফেলতে তারপর রুমে চলে আসল।


রুমে এসে দেখল পুরো রুম অন্ধকার ।
কি হলো আফরান তো একটু আগে রুমে এসেছিল তাহলে কোথায় গেল?আর পুরো রুম অন্ধকার কেনো?

সাবিহা আফরান বলে ডাকতে যাবে তখনি কেউ ওকে পিছনে থেকে জরিয়ে ধরল। তারপর ওর ঘাড়ে নিজের মুখ ডুবাল।
স্পর্শ গুলো সাবিহার অচেনা নয়।
সাবিহা আমতা আমতা করে বলল–
-আফরান,,,,
-চুপ আজ কোনো কথা বলবে না,,,
-ছাড়ুন,,,,
-না তুমিই বলেছিলে রুমে এসে তোমাকে জরিয়ে ধরতে।

সাবিহা লজ্জায় সামনের দিকে ফিরে আফরান কে জরিয়ে ধরল।
তারপর আফরান এর দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করল—
-আফরান জানেন আমি আপনার ভালোবাসার পাগলামি তে পাগল হয়ে গেছি। আপনার ভালোবাসার পাগলামির ভালোবাসায় পড়ে গেছি। আমার আগের খারাপ ব্যাবহার এর জন্য ক্ষমা করে দিবেন আমায় আমি বুঝতে পারি নিয়ে আপনার ভালোবাসার পাগলামি।
– চুপ!!!!

সাবিহা কে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় শুয়ে দিল আফরান । তারপর দরজা লাগিয়ে এসে সাবিহার পাশাপাশি শুয়ে পড়ল।
-ভালোবাসি তোমাকে বউ।
-আমিও ভালোবাসি আপনাকে।
-আজ আমি তোমাকে আদরে ভরিয়ে দিতে চাই বউ।

সাবিহা লজ্জায় আর কিছু বলল না।
আফরান আবার বলতে লাগল—
-তুমি কি আদর নিতে রাজি আছো?
সাবিহা মাথা নেড়ে সায় দিল।

পুরো রাত টা ভরে গেল সাবিহা আর আফরান এর ভালোবাসায়। আজ ভালোবাসার সম্মতিতে এক হয়েছে দুটো হৃদয় । দুজন ডুবে গেছে দুজনের মাঝে। আজ কোনো বাধা নেই জোর নেই আছে শুধু দুজনের প্রতি দুজনের ভালোবাসার পাগলামি।।।

চলবে,,,,,,,

(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here