ভালোবাসার নেশা তুই পর্ব শেষ

#ভালোবাসার নেশা তুই
পর্ব:৪ (শেষ পর্ব)
লেখিকা:মিহিয়া মিহি

নিলাশা সিলিং ফানের সাথে ওরনাটা শক্ত করে বেঁধে, গলার সাথে পেঁচিয়ে নিল।
উদ্দেশ্য একটাই,সে আজ নিজের জীবন শেষ করে দিব,কিন্তু তবুও ওই বদমেজাজি ক্যারেক্টার লেস বেয়াদব ছেলেটাকে কিছুতেই বিয়ে করব না।
তাই বিছানার উপর চেয়ার উঠিয়ে অনেক কষ্ট করে ওর়নাটা বেঁধেছি।
কি মনে করেছে কি আমাকে,আমি কি হাতের পুতুল, যার যখন আমাকে ভালো লাগবে তখন সোজা বিয়ে করতে আসবে।
আর যখন আমাকে ভাল লাগবে না, তখন দুশ্চরিত্রা নাম দিতেও তার মন কাঁপে না।
মরে যাবো,তবু এ রকম ছেলেকে বিয়ে করবো না।আব্বু আম্মু যখন আমার কথা শুনল না,তাই নিজেকে শেষ করে দেবো।


আজকে আমার বিয়ে,তাও আবার নিশানের সাথে, এভাবে বলা নেই কওয়া নেই, হুট করে বিয়ে দেবে। আজ আমার বিয়ে,অথচ আমি কিছইু জানিনা, আমার তো নিজের ইচ্ছা বলে কিছু আছে। সবারই তো আপন আপন ইচ্ছা প্রকাশ করার অধিকার আছে। কিন্তু এখানে আমার বিয়ে বলে কথা,একটা বারও আমাকে এই বিষয়ে জানানোর প্রয়োজন বোধটুকু মনে করল না।
আমি কিছুতেই নিশানের মত ছেলেকে বিয়ে করব না, যে ছেলে মেয়েদের সম্মান দিতে পারেনা,তাকে বিয়ে করে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার কোন শখ বা মন মানসিকতা অন্তত আমার নেই।
আজকে কলেজ থেকে ফেরার পর থেকে,আম্মু আব্বু অস্বাভাবিক আচরণ করেছিল। আমি সব চোখে চোখে রেখেছিলাম,কিন্তু সন্ধ্যার দিকে হুট করে দশ-বারোজন মেয়ে আমার রুমে এসে আগন্তুক এর মত আমাকে বেনারসি পড়িয়ে দিলো।
আর পুতুলের মত সাজাতে লাগলো সাজাতে লাগলো। তারপর তারা নিজের নিজের মতো করেই চলে গেল। আর আমি অবাক চোখের তাদের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
মাথার মধ্যে সবকিছু কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে,চোখ থেকে কয়েক ফোঁটা জল বেয়ে ফ্লোরে পড়লো।
আব্বু আম্মু এত বড় একটা সিদ্ধান্ত আমাকে না জানিয়ে নিয়ে নিল। বিছানায় চুপটি করে বসে আছি আমি কিছুক্ষণ পরে আব্বু আম্মু আমার রুমে প্রবেশ করলো।


তারা এসে আমার পাশে বসলো,
~আব্বু-আমি জানি তোর মনে এখন কি চলছে,কিন্তু আমরা যা করছি তোর ভালোর জন্যই করছি।
আমার পুরা বিশ্বাস আছে যে তুইও একদিন আমার সিদ্ধান্তকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলবি।আর তোর আর নিশাম এর উপর আমার বিশ্বাস আছে যে, তোরা সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবি।
মাথায় হাত বুলিয়ে কথাগুলো বলল জহির রায়হান,,,, আমি নিশানের সাথে আমার নামটা শুনে চমকে উঠলাম,তার মানে আমার সাথে হুট করে নিশানের বিয়ে হচ্ছে।
এটা শুনে মাথাটা বন বন করে উঠলো, তবুও চুপ করে রইলাম মাথারর মধ্যে শুধু নিশানের অপমান করার মুহূর্তগুলো চোখের সামনে ভাসতে লাগলো।
প্রায় 10 মিনিট পর আব্বু আম্মু আমার রুম থেকে চলে গেল।
ঠিক তখনই আমি ভেবে নিলাম,আমি মরে যাব, তবুও আমি নিশানকে কিছুতেই বিয়ে করবো না।
রুমের দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে,চেয়ারটা বিছানার উপর রেখে ফ্যানের সাথে ওর়না বেঁধে দিলাম।
পরের গুলো তো আপনারা জানেন,,,,তারপর নিজের গলায় ওডরনা পেচিয়ে নিলাম, চেয়ারটা সরিয়ে নিজেকে শেষ করে দেব। এমন সময কেউ একজন দরজায় জোরে জোরে ধাক্কা দেয়।
এতটাই জোরে ধাক্কা দিচ্ছে,যে দরজা ভাঙ্গার উপক্রম। আর ঠিক তাই হলো, মুহুর্তের মধ্যে রুমের দরজা টা ভেঙে গেল।


সামনে থেকে নিশান দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল,আর ঠিক তার পেছনেই মামা মামি।
আমার আব্বু আম্মু চলে এলো, আম্মু জোরে জোরে কান্না করছে।
নিশান আমার গলা থেকে এক ঝটকায় ওরনাটা ফেলে দিল।আমি তবুও নাছোড়বান্দার মতো ছোটাছুটি করতে লাগলাম।
~আমি-ছাড়ুন আমাকে,একদম আমার কাছে আসার চেষ্টা করবেন না।আমি কিছুতেই আপনাকে বিয়ে করতে পারব না।আমাকে ছাড়ুন আমি নিজেকে শেষ করে দেবো।
ক্রমাগত আমার পাগলামি বাড়তে থাকলো,তাই নিশান কোন উপায় না পেয়ে, সবার সামনে আমাকে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরলো।
আমি তার বুকে অসংখ্য কিল ঘুষি মারতে লাগলাম, এভাবে অনেকক্ষণ চলার পর আমি ক্লান্ত হয়ে তার বুকের সাথে মিশে গেলাম।
আর নিশান আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো,আর চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়তে লাগল।
আমি বিয়ের স্টেজ বসে আছি আর আমার পাশে বসে আছে নিশান।
কাজী নিজের মত করে বিয়ে পড়াচ্ছে, আমি শুধু পাথরের মত বসে আছি কারণ আমার বাবা আমাকে তার মাথা ছুঁয়ে দিব্যি দিয়েছেন যদি আমি নিশানকে বিয়ে না করি তাহলে আমি তার এই মুহূর্তে মরা মুখ দেখব।
নিজের আব্বুর মৃত্যুর কথা শুনে, আমি বাধ্য হয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসলাম।


আমি কাজির কোথায় বাস্তবে ফিরলাম,
~কাজি-কবুল বলো মা,,আমি একটা দির্ঘশ্বাস নিয়ে বললাম,
~আমি-কবুল,কবুল কবুল,আমার পরেই নিশন ও তিন বার কবুল বললো।
নিশানের ইচ্ছা করছে আমাকে সবার সামনে কোলে তুলে ঘুরতে,কারন আজ সে আমাকে একদম নিজের করে পেয়েছে।
নিশান আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো,,
বিদায় এর সময় নিজের রুমের প্রতিটা জিনিস
খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে লাগলাম।
চোখ দিয়ে পানির বাধ যেন ভেঙ্গে পড়তে চাচ্ছে, তবুও আমি কাঁদতে পারছিনা।
মনের এক কোনায় হয়তো গভির অভিমান আর অভিযোগেরা বাসা বেধেছে।যাওয়ার সময় পুরো বাড়িটাকে একবার চোখ বুলিয়ে নিলাম, তারপর সোজা গাড়িতে উঠে বসলাম।
আমার এরকম ব্যবহারে আব্বু আম্মু প্রচন্ড আঘাত
আঘাত পেয়েছে তবুও আমি একটিবার ও তাদের দিকে তাকালাম না।
গারি চলতে থাকলো নিজের গতিতে,ঠিক আমার জিবনের গাড়িটা আজ অজানা উদ্দ্যেশে পাড়ি দিচ্ছে। জানিনা আমি এই রাস্তায় কতটা সফল হতে পারি, বতমার্নে বাসর ঘরে বসে আছি।
তবে অন্ন দশ জনের মতো করে লজ্জা পেয়ে মাথায় 1হাত ঘোমটা টেনে কাঙ্খিত মানুষটির জন্য অপেক্ষা করা না।
বরং একটা গেন্জি আর একটা প্লাজু পরে সারা বিছানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে শুয়ে আছি।
শরিরে নতুন বউয়ের যেগুলা পরার কথা সব বিপরীত পরে আছি।
প্রায় 1ঘন্টা পর রুমে দরজা খোলার শব্দ শুনেও ঠিক সেইভাবে শুয়ে রইলাম।


নিশান হয়তো আগে থেকে ভেবে রেখেছিল এসব
কিছু হতে পারে।তাই আমাকে এইভাবে দেখে কোনোরকম রিয়েক্ট না করে চুপচাপ রুমের দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে ধির পায়ে বিছানার অন্ন ফাকা পাশটাতে শুইতে এলো।
একবার আমার দিকে তাকিয়ে বিছানায় শুতে যাবে, এমন সময় আমি তার বালিসটা ফ্লোরে ফেলে দিয়ে বলতে লাগলাম,,,,
~আমি-আজ থেকে আপনার জায়গা মাটিতে, আর আপনি কখনো আমার কাছে আসার চেষ্টা করবেন না।কারন আপনার মতো নিচ আর ছোট মনের মানুষকে আমি কিছুতেই আমি নিজের স্বামি হিসেবে মানবোনা,,চিৎকার দিয়ে কথাগুলো বললাম,,,,
আমার কথাশুনে নিশান বালিসটা বিছানা থেকে উঠিয়ে নিয়ে ছোফায় শুয়ে পড়লো।
আমার তার উপর মায়া হলেও আমি এসব কথা তাকে বলে রুমের লাইট জ্বালিয়ে নিভিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম
নিশান রাতের অন্ধকারে নিজের চোখের জল মুছে নিলো।
সকাল 8 টায় আমার ঘুম ভেঙ্গে গেছে তাই বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমে ফ্রেস হয়ে এসে দেখলাম, নিশান এখনো পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে।
এটা দেখে আমার গায়ে আগুন জ্বলে উঠলো,বেটা গন্ডার আমার রাতের ঘুম ভেঙ্গে দিয়ে নিজে ঘুমাচ্ছিস।
তোকে ভালোভাবে ঘুমাতে দিচ্ছি,বলে ওয়াশরুম থেকে একবালতি পানি এনে তার গায়ে ঢেলে দিলাম। বেচারা হয়তো এমনকিছু কখোনো আশা করেনি,তাই একলাফে সোফা থেকে উঠে বসলো।
আমি তার এরকম ব্যবহার দেখে খিল খিলিয়ে হাসতে লাগলাম।তারপর সেখানে থেকে চলে গেলাম।আর নিশান অবাক চোখে আমার দিকে চেয়ে সবকিছু বোঝার চেষ্টা করতে লাগলো।এভাবে দিন কাটতে থাকলো।


যতোদিন যেতে লাগলো,আমার অত্যাচার আরো বাড়তে লাগল।এই যে মন খাবারে বেশি ঝাল দেওয়া, তার সাওয়ার নেওয়ার সময় পানি বন্ধ করে দেওয়া।কিন্তু তবুও সে আমাকে একটা গালিও দেইনি। দিনশেষে রাতে যখন ঘুমের ভান করে শুয়ে থাকতাম, তখন সে কাছে এসে আমার কপালে ঠোট ছুইয়ে চলে যেত।
কোনদিন আমার উপর নিজের অধিকার চাপাতে আসেনি,ধিরে ধিরে তার এসব ভালোলাগতে লাগলো, তার একসময় বুঝতে পারলাম আমি ও তাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
তাই আজ তাকে নিজের করে নেব,বলে তার থেকে লুকিয়ে সারাটা রুম সেই প্রথমরাতের মতো সাজিয়েছি।
লাল টকটকে শাড়ি পড়েছি,অনেক সুন্দর করে নিজেকে সাজিয়েছি।
রাত 10টায় নিশান রুমে ঢুকলো, সারাটা রুম অন্ধকার দেখে দ্রুত রুমে লাইট জালিয়ে যা দেখলো তাতে তার হার্টবিট শতগুন বেড়ে গেল।
তার সামনে আমি আবেদনময়ি হয়ে দাড়িয়ে আছি। ~আমি-আজ থেকে আমি নিজেকে আপনার ছন্দে সাজাতে চাই,আপনি কি আমাকে কাছে টেনে নেবেন,,,ঘোরচোখে,,,,,
নিশান আমাকে কোলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে, কপালে আলতো করে একটা চুমু একে তার দুইহাত দিয়ে আমার গাল আলতো করে ধরে বলতে লাগলো,,,,
~নিশান-তুই আমার এমন একটা নেশা, যেটা থেকে আমাকে কেউ সারাজীবনেও ছাড়াতে পারবেনা। ভালোবাসি তোকে, তাইতো আমার সবসময় এটাই মনে হয় “ভালোবাসার নেশা তুই”বলে নিশান আমাকে জড়িয়ে নিলো।তারপর দুজনে ভালোবাসার গভীরে হারিয়ে গেলাম।
আপনার পছন্দের গল্প পড়তে এবং গল্পের লিংক পেতে গল্পের লিংক story link( ভালোবাসার রোমান্টিক গল্প) গ্রুপে জয়েন করে সাথেই থাকুন।।
……………….সমাপ্ত………………

কেউ মন খারাপ করবেন না,আমি কিছুদিন যাবত একটু অসুস্থ,তারপর ও আবার একসাথে দুইটা গল্প।
যার কারণে এই গল্পটা শেষ করে দেওয়া হল।কাল থেকে একটা গল্পই দেওয়া হবে।
গল্পটা কেমন লাগছে অবশ্যই জানাবেন,
আর ভুল ত্রুটি গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here