ভালোবাসার পরিনতি শেষ পর্ব

#ভালোবাসার_পরিনতি
#লেখা_ইভানা
#পার্ট_১৭(শেষপর্ব)

তিহান চিঠিটা হাতে নিয়ে পড়া শুরু করলো,
“আমি তোমাদের না জানিয়ে দেশে চলে যাচ্ছি । ওখানে আমার অনেক জরুরি কাজ আছে। আমার উপর রাগ করো না। তোমার সবাই এক সপ্তাহের মধ্যে দেশে চলে এসে আর হ্যাঁ আমার বিয়ে দেশে থেকে হবে প্লিজ আমার এই ইচ্ছেটা পূরণ করো। নিজেদের খেয়াল রেখে আর আমার জন্য দোয়া করো আমি যেনো আমার কাজে সাফল্য অর্জন করতে পারি।”
চিঠিটা পরে তিহান ইভাকে ডাক দিলো,
-ইভা তাড়াতাড়ি ড্রয়িং রুমে এসো।
-হ্যাঁ আসছি
-রাফিসা দেশে চলে গেছে, দেখো এই চিঠি।
-মেয়েটার বড্ড বেশি সাহস হয়ে গেছে সবসময় তোমার আদরে লাই পেয়ে গেছে।
-শান্ত হও রাগ করো না। হয়তো কোনো পেসেন্টের জন্য যেতে হয়েছে
-তাই বলে আমাদের জানিয়ে যাবে না?
-এখন আর রাগ করো না, চলো আমাদের অনেক কাজ আছে প্যাক করতে হবে তো।
-আমি কিছু করতে পারবো না
-আচ্ছা তোমার কিছু করতে হবে না আমি করবো
-হুহহ্
-তুমি সেই আগের মতো রয়ে গেলে, এখন বুঝতে হবে আমাদের ছেলে-মেয়েরা বড় হয়েছে ওদের লাইফের ডিসিশন ওরা নিতে জানে।
-ওরা ভুল ডিসিশন নিলো নাকি সঠিক ডিসিশন সেটা আমাদের দেখতে হবে তো।
-আমরা ওদের সেভাবে মানুষ করি নি যে ওরা আমাদের কাজ থেকে কিছু লুকাবে। আমরা তো ওদের বন্ধুর মতো তাই রাফিসা যে কাজটা করতে গিয়েছে সেটা ভালোর জন্য করবে পরে দেখবে তোমাকে এসে সব বলবে।
-তুমি আছো বলে আমাকে সবকিছু সহজ করে দেও ।
-খুব ভালোবাসি তো,
-বুড়া বয়সে এতো প্রেম দেখাতে হবে না, ঘরে ছেলেরা আছে।
-তো কি আমি আমার বউয়ের সাথে প্রেম করি ওরা ও ওদের বউয়ের সাথে প্রেম করবে।
-ধ্যাত বুড়ো বয়সে ভীমরতিতে পেয়েছে
-আহহা্ শুনো, একটু গল্প করি।
-নাহ্ আপনার মেয়ে অনেক কাজ রেখে গেছে সেগুলো করতে হবে
-ওহ্ হ্যাঁ তাই তো চলো।

রোহানের অপারেশন ভালো ভাবে হয়েছে। রোহান সুস্থ হয়ে একজন নার্সকে বললো,
-আমার অপারেশন যে ডক্টর করেছে তার সাথে দেখা করবো।
-স্যরি উনি আজকে হসপিটাল থেকে চলে গিয়েছে
-প্লিজ আপনি একটু ব্যবস্হা করুন ওনার সাথে আমি দেখা করবো।
-আচ্ছা আমি দেখছি৷
কিছুক্ষন পরে নার্স এসে জানিয়ে দিলো যে, “সুলতানা রহমান সন্ধ্যায় দেখা করতে আসবে”।

নিশিতা সারাক্ষণ হসপিটালে রোহানের সাথে থাকে কিন্তু তার ছেলে একটা বারের জন্যও বাবাকে দেখতে আসে নি। রোহান বিশ বছর আগে যেমন সারাক্ষণ টাকা, লোভ নিয়ে পরে থাকতো ঠিক তেমন নাহিয়ান টাকা ছাড়া কিছু বুঝে না।
সন্ধ্যা সাতটা সময় রোহানের কেবিনে সুলতানা রহমান এসে বলে,
-আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন?
-ওয়ালাইকুম সালাম, আপনার জন্য আমি আজ অনেক ভালো আছি।
-সব আল্লাহর ইচ্ছে, উনি সব কিছুর মালিক।
-আপনার মা -বাবা অনেক ভাগ্য করে আপনার মতো একজন মেয়ে পেয়েছে।
-হাসালেন কথাটা বলে, জানতে চান আমার বাবা -মা কে?
-হ্যাঁ তাদের সাথে দেখা করতে চাই, আপনার মতো মেয়ের মা-বাবা নিশ্চয়ই অনেক ভালো।
-যদি বলি আপনি আমার বাবা
-আমি আপনার বাবা হবো কি করে?
-হ্যাঁ আপনি আমার জন্মদাতা পিতা। মনে আছে ইভা ইসলামের কথা যাকে আপনি প্রেগনেন্ট অবস্থায় ডিভোর্স দিয়েছিলেন। স্ত্রী, সন্তানকে কাজের লোক পরিচয় দিয়েছিলেন আবার অনাগত সন্তানকে নিজের সন্তান বলে অস্বীকার করেছিলেন। আমি আপনার মেয়ে সুলতানা রহমান রাফিসা যাকে আপনি অন্য একটা মহিলার জন্য নিজের মেয়ের গায়ে হাত তুলেছেন। জানেন আমার মা আজও আপনার স্মৃতি আগলে রেখেছে, দেখেন আমার পড়নের এই শাড়িটা আপনি আমার মাকে দিয়েছিলেন সেটা এখনও অনেক সুন্দর করে যত্ন করে রেখে দিয়েছে। আমি শাড়িটা পড়লে নষ্ট হয়ে যেতে পারে সেজন্য পড়তে দিতে চায় নি। ভালোবাসার পরিনতি কি পেয়েছিলো আপনার থেকে? কষ্ট ছাড়া কিছু দিতে পারেন নি তবে হ্যাঁ আমি, আমার মা খুব ভালো আছি। আমার মা তার পারফেক্ট লাইফ পার্টনার পেয়েছে। সে আমার মাকে এক সেকেন্ডের জন্য চোখের পানি ফেলতে দেয় নি এমন কি আমি বাবার অভাব বুঝতে পারি নি। আমার কোনো ইচ্ছে সে অপূর্ণ রাখে নি। দোয়া করবেন আমরা ভালো থাকি যেনো। আর আপনিও ঠিক মতো ওষুধ খাবেন।
-রাফিসা মা আমার,,,
-না না সুলতানা রহমান বলবেন।
-আমাকে কি ক্ষমা যায় না?
-যদি ক্ষমা করি তাহলে কি আমার মায়ের অপমানগুলো ফিরিয়ে দিতে পারবেন?
নিশিতা দরজা পাশে দাঁড়িয়ে ওদের কথা শুনছিলো এখন কেবিন ঢুকে বললো,
-আমি আমার পাপের ফল পেয়েছি আমাকে ক্ষমা করে দেও।
-এটা একটা হসপিটাল আপনাদের নাটকের জায়গা না তাই এমন কিছু করবেন না যাতে আমার মায়ের চরিত্র নিয়ে কথা হয় তাই আগে যা ঘটেছে তা নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথা নেই।ডক্টর হিসেবে পেসেন্টের প্রতি যে দায়িত্ব আমি শুধু মাত্র সেটা পালন করেছি আর কিছু না। আপনারা ভালো থাকবেন এখন আসি।

রাফিসার চলে যাওয়া নিশিতা রোহান দেখছে তাদের কিছু বলার অধিকার নেই। রোহান নিজেই নিজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নিশিতা অন্যের সন্তানের অধিকার কেড়ে নিয়ে নিজের সন্তানকে কাছে পায় না। আল্লাহ সবার পাপের শাস্তি ঠিক সময় দিয়ে থাকেন।

নিশিতা হসপিটালের বিল পরিশোধ করতে গিয়ে দেখে বিল পরিশোধ করা হয়েছে এবং আগে যা টাকা দিয়েছে সেগুলো ফেরত দিয়েছে। সব টাকা রাফিসা দিয়েছে। রোহান অনেক খুঁজেছে ইভার বাসার ঠিকানা কিন্তু পায় নি। হসপিটাল থেকে বারন করে দেওয়া হয়েছে যেনো কাউকে রাফিসার ঠিকানা না দেয়।

তিহান, ইভা ও তাদের দুই ছেলেকে নিয়ে দেশে এসেছে আর রাফিসার হবু শ্বশুর বাড়ির লোকজন দেশে এসেছে। রাফিসার বিয়ে অনেক ধুমধাম করে হয়েছে। রাফিসা শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার সময় ইভা খুব কেঁদেছে তার থেকে বেশি তিহান কেঁদেছে । তিহানের সাথে ইভার বিয়ের পর এক দিনের জন্য ইভার চোখে পানি আসতে দেয় নি কিন্তু মেয়ে বিদায়ে চোখের পানি কন্ট্রোল করতে পারে নি। রাতে ইভা অন্ধকার করে রুমে বসে আছে তখন তিহান রুমের লাইট অন করে বললো,
-এখানে বসে আছো আর তোমাকে আমি খুঁজে বেড়াচ্ছি
-কেনো খুঁজতে আছো?
-খেতে চলো
-খাবো না
-খাবে না বললেই তো হবে না খেতেই হবে
-আজকে জোর করো না
-ভালোবাসি বলে জোর করি
-উফফ তুমি না,,
-আমি কি বলো বলো
-কিছু না
-তাহলে চলো
ইশান, ইয়ান এসে বললো,
-আম্মু, আব্বু
তিহান ইশান, ইয়ানকে কাছে নিয়ে জড়িয়ে ধরে বলে,
-সবার মধ্যে রাফিসাকে মিস করবো
-আব্বু তুমি মন খারাপ করো না তাহলে তো আপু কষ্ট হয়
-দেখেছো ছেলেরা বড় হয়ে গেছে
-হ্যাঁ আমার দিকে তো তোমাদের কোনো খেয়াল নেই(ইভা)
তিহান ইভার কাছে গিয়ে কপালে চুমু এঁকে দিয়ে বললো,
-তোমাকে ভালোবাসার পরিনতি আমাকে জীবনের সব সুখ দিয়েছে।
ইশান,ইয়ান এক সাথে বললো,
-তোমাদের মতো বাবা মা যেনো সবার হয়।

সমাপ্ত।

[পুরো গল্পটা কেমন হয়েছে তা নাইস, নেক্সট বলে বলেন না গঠন মূলক কমেন্ট করে বলবেন। আপনাদের একটা গঠন মূলক কমেন্ট গল্প লিখতে আগ্রহ পাই। ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here