ভালোবাসার রং মিছিল পর্ব -০২

#ভালোবাসার_রং_মিছিল💚
#লেখিকা:ইশা_আহমেদ
#পর্ব_২

৩.
—“মিস অর্ষা ইউ আর অলরেডি ওয়ান মিনিট টেন সেকেন্ড লেট।”

অর্ষা মাথা নিচু করে নেয়।সে জানে এখন ইরহাম কালকের অপমানের প্রতিশোধ নেবে।ইরহাম ছেড়ে দেওয়ার লোক নয় তা অর্ষা ভালো করেই জানতো তবুও কীভাবে যে দেড়ি করে উঠলো ঘুম থেকে।ভীষণ আফসোস হচ্ছে অর্ষার।

—“আই সে সামথিং মিস অর্ষা”

অর্ষা কেঁপে উঠলো ইরহামের ধমকে।সে ধীর গলায় বললো,,

—“আব্্্ স্যার আসলে জ্যাম থাকার জন্য একটু লেট হয়েছে।আম সরি স্যার আর কখনো হবে না।”

—“এটা ভার্সিটি মিস অর্ষা আপনার বাসা না যে আপনি এক মিনিট লেট করলে সমস্যা হবে না।আপনি খুব ভালো করেই জানেন আমি টাইম মেইনটেইন করা পছন্দ করি। আমি আসার আগেই সবাইকে ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হয়।আপনি যখন থাকতে পারেননি,সো আপনার শাস্তি তো আছেই। ভার্সিটি শেষ করে দেখা করবেন এন্ড আউট।”

শেষের কথাটা বেশ জোড়েই বলে ইরহাম।অর্ষা কেঁপে ওঠে,ক্লাসের সবাই ইরহামের ভয়ে মুখ টিপে হাসছে।বের হয়ে যায় ক্লাস রুম থেকে।অর্ষার রাগ হয় ভীষন মাত্র এক মিনিট লেট করেছে তাতেই এতো কথা শুনতে হয়েছে তার।অর্ষা ক্যান্টিনের যাওয়ার উদ্দেশ্য পা বাড়ায়।অর্ষা বিড়বিড় করে বকতে থাকে ইরহামকে,,

—“সালা বান্দর,হনুমানের নানা তোর কপালে বউ জুটবে না।আমার মতো কিউট মেয়েকে সবার সামনে অপমান করা,ব্যাডা তোরে আমি এর উচিত জবাব দেবোই না হলে আমার নাম ও অর্ষা না হুহ”

কথাগুলো বলতে বলতে আনমনে হেঁটে ক্যান্টিনের দিকে যাচ্ছিল অর্ষা।তার ভেতরেই কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে পরে যেতে নেয়।পরে যাওয়ার আগেই কেউ ধরে ফেলে অর্ষাকে।অর্ষা চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে ভয়ে চিল্লিয়ে বলে,,,

—“কোন সয়তানের নানা রে আমারে ধাক্কা মারলো।না না আপনি অনেক ভালো প্লিজ আমায় ছেড়ে দিবেন না।পরলে আমার কোমড় ভেঙে যাবে আমার নাতি নাতনীরা আমাকে ভাঙা কোমড় ওয়ালা নানিমা বলে ডাকবে।”

অর্ষার উদ্ভট কথা শুনে হা হা করে হেসে দেয় রুশান।অর্ষা চোখ খুলে নিজের বেস্টফ্রেন্ড রুশানকে হাসতে দেখে।মেজাজ বিগড়ে যায় অর্ষার রুশানকে দাঁত কেলাতে দেখে।রুশানকে ধাক্কা মেরে সোজা হয়ে দাঁড়ায়।রুশান দু কদম পিছিয়ে যায়।নিজেকে স্বাভাবিক করে বলে,,

—“ওই শেওড়া গাছের পেত্নী তোরে ধরে বাঁচাইলাম আমি আর তুই আমাকে ধাক্কা মারিস বেয়াদব মাইয়া।মানুষের সাহায্য করতে নেই হুহ”

—“তুই থামবি রুশাইন্না মেজাজ এমনিতেও কালকে থেকে বিগড়ে আছে এখন তুই আর বিগড়াস না”

রুশান কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করে,,,

—“কেনো দোস্ত তোর আবার হইলো কি!কালকে তো নাচতে নাচতে পাত্রপক্ষের সামনে গেলি,আমারে ভুইলে গেছিলি মনে আছে আমার।ফোন দিছিলাম ধরিসনি।”

শেষের কথাটা বেশ অভিমান নিয়েই বললো রুশান।কিন্তু অর্ষা সেসবে পাত্তা না দিয়ে বলল,,,

—“আজকেও আমারে ওই ইরহাম অসভ্য অপমান করছে।সমস্যা টা কি ভাই ওর।ও কি জীবনেও আমারে অপমান করা ছাড়বে না!”

অর্ষার কথা শুনে রুশানের ভ্রু কুচকে গেলো।ইরহাম স্যারকে তারও বেশ অপছন্দ কেনো যেনো।কারণটা রুশানের অজানা অবশ্য।রুশান আগ্রহ নিয়ে বলল,,

—“কেনো আজকেও তোকে অপমান করছে ইরহাম স্যার”[লেখিকা ইশা আহমেদ]

—“হয় কালকের প্রতিশোধ নিচ্ছে ব্যাডা।ওই যে অপমান করছিলাম না কালকে এখনো ভোলেনি”

—“কালকে!গতকালকে তুই কিভাবে স্যারকে অপমান করলি স্যারের সাথে তো তোর দেখাই হয়নি”

অর্ষা রুশানের মাথায় থাপ্পড় মেরে বলে,,,
—“গরু কোথাকার কালকে পাত্র স্যারই ছিলো।আর আমি উনাকে সবার সামনে অপমান করে ফেলেছি”

রুশান অবাক হয়ে যায়।ও তো কখনো ভাবতে পারেনি ইরহাম স্যার অর্ষাকে দেখতে যাবে।ও সব কিছু জানতে চাইলে অর্ষা গড়গড় করে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলতে থাকে।রুশান তো সব কাহিনী জেনে হাসতে হাসতে চেয়ার থেকে পরে যায়।ক্যান্টিনের সবাই রুশানের দিকে তাকিয়ে পরে।রুশান বেচারা ভীষণ লজ্জা পায়।তাড়াতাড়ি উঠে বসে।অর্ষা রুশানের কাহিনী দেখে ফিক করে হেসে ফেলে।

কফি খেয়ে দু’জন ক্লাসের উদ্দেশ্য পা বাড়ায়।রুশান কখনো ফার্স্ট ক্লাস করতেই পারে না।সব সময় ভার্সিটিতে আসতে লেট করে।আজকেও একই অবস্হা।এর জন্য কতো যে বকা খেয়ে স্যার আর অর্ষার কাছে।তারপরও রুশান কোনো মতেই আসতে পারে না তাড়াতাড়ি।রুশান অর্ষাকে বলে,,,

—“তুই আজকে ফার্স্ট ক্লাস না করে ক্যান্টিনে কেনো এলি বলতো।তুই তো ক্লাস মিস করা মানুষ না।আবার ইরহাম স্যারের ক্লাস,একদিন না করলে পরেরদিন আর ক্লাসেই ঢুকতে দেয় না।”

—“আর বলিস না,এক মিনিট লেট করেছি বলে ক্লাসে ঢুকতে দেয়নি ইরহামের বাচ্চা।কতগুলো ভাষন দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে।”

—“আচ্ছা অর্ষা তোর সাথে এই ইরহাম স্যারের কিসের শত্রুতা বল তো! তোরা দু’জন দু’জনকে দেখতেই পারিস না কেনো?”

—“জানি না রে কিন্তু স্যারকে আমার পছন্দ হয় না।বিরক্তিকর একটা লোক।কিন্তু কেনো অপছন্দ তা জানি না।আর শুরু থেকেই স্যার আমার পেছনে লেগে থাকে।”

ঠিক আছে চল এখন ক্লাস শুরু হবে।দুজন ক্লাসে এসে ধপ করে বসে পরে অথৈ,মুহিব,নাইম,উশার পাশে। ওরা চমকে পাশ ফিরে দুজনকে দেখে স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে।অথৈ,রুশান অর্ষা,মিহান,উশা,নাহিন ছয়জনের একটা গ্রুপ।জানে জিগার দোস্ত বলতে গেলে।ক্লাস শেষে বের হতেই একটা মেয়ে এসে অর্ষাকে বলল,,,

—“আপু আপনাকে ইরহাম স্যার এখনই যেতে বলেছেন।”

মেয়েটা কথাটা বলেই চলে গেলো।অর্ষা রুশান অথৈসহ বাকি সবার থেকে বিদয় দিয়ে পা বাড়ায় ইরহামের কেভিনের দিকে।দরজা নক করে অর্ষা বলল,,,

—“মে আই কাম ইন স্যার!”

ইরহাম ল্যাপটপে কাজ করছিলো।অর্ষাকে আসতে দেখে বাঁকা হাসে।কালকের ঘটনাটা এখনো সে ভুলতে পারেনি।সকালে বকা দেওয়ার পরও শান্তি পাচ্ছে না ইরহাম মোটেও।ইরহাম ল্যাপটপ রেখে হেসে বলল,,,

—“ইয়েস কাম ইন মিস অর্ষা।”

অর্ষা ভেতরে পড়বেশ করে।ইরহামের সামনে এসে মিষ্টি হেসে বলে,,,”আমাকে ডেকেছিলেন স্যার”

—“হ্যা মিস অর্ষা।আপনি কি আপনার শাস্তির কথা ভুলে গিয়েছেন।ডোন্ট ওয়ারি আমি থাকতে ভুলতে পারবেন না।”

—“না না স্যার আমি তো ভুলিনি।আপনার যা ইচ্ছে হয় সেই শাস্তি দিতে পারেন।আই হ্যাভ নো প্রবলেম।”

ইরহাম কিছুটা অবাক হলেও বাঁকা হেসে বলল,,,”ওকে তাহলে আমার জন্য এক কাপ কফি বানিয়ে আনুন।”

অর্ষা মনে মনে ইরহামকে বকতে বকতে কফি বানাতে যায়।কফি বানানোর সময় অর্ষার মাথায় তো সেই লেভেলের একটা বুদ্ধি আসে ইরহামকে জব্দ করার।কফি বানিয়ে রহস্যময় হাসি দিয়ে ইরহামকে কফিটা দেয়।ইরহাম একবার কফির দিকে তাকিয়ে অর্ষাকে বলে,,,

—“মিস অর্ষা কফিটা এবার আপনি খেয়ে নিন”

অর্ষা চমকে ওঠে।ও কেনো খেতে যাবে এই কফি।কফিতে যে ও শুকনো ঝালের গুড়ি মিশিয়েছে।এটা খেলে তো ও শেষ!ঝাল মোটেও খেতে পারে না অর্ষা।অর্ষা আমতা আমতা করে বলে,,,

—“স্যার আমি কেনো কফি খাবো?আর আমি তো কফি খাই না”

ইরহাম উঠে অর্ষার দিকে এগোতে এগোতে থাকে।অর্ষা আগের যায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে আছে ভাবলেশহীন হয়ে।ইরহামের ভীষণ রাগ হয়।সবাই তাকে ভয় পায় এই মেয়ে কেনো পায় না।ইরহাম অর্ষার বেশ কিছুটা কাছে এসে সন্দিহান গলায় বলে,,,

—“আপনি কফিতে কিছু মেশাননি তো মিস অর্ষা”

অর্ষা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে,,,
—“আমি!আমি কেনো কিছু মেশাতে যাবো কফিতে।”
—“তার মানে আপনি বলতে চাইছেন কফিতে কিছু মেশাননি আপনি।ওকে প্রুভ করুন।”

অর্ষা প্রুভের কথা শুনে কিছুটা ভয় পেলেও নিজেকে ইরহামের সামনে স্বাভাবিক রেখে বলে,,,”আশ্চর্য প্রুভ কীভাবে করবো আমি এখন”

—“উমমম এটা আপনি খেয়ে প্রুভ করে দিন যে এটাতে কিছু নেই।তাহলেই হবে মিস অর্ষা”

চলবে~

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here