ভালোবাসি প্রিয় পর্ব -১০

#ভালোবাসি_প্রিয়

পর্ব:১০
#অপরাজিতা_রহমান (লেখনীতে)

সুন্নত শুধু তুমি একা আদায় করবে কেন? আমি ও একটু করি ।এ কথা বলেই রাজ আমাকে আবার ও ঝর্নার নিচে দাড় করিয়ে দিয়ে ফট করে কপালে একটা চু*মু দিয়ে বলল #ভালোবাসি_প্রিয়।

আমি যেন পাথরের ন্যায় শক্ত হয়ে গেছি।রাজ যে এমন একটা কাজ করবে আমি কখনো ভাবতে ও পারিনি। ইচ্ছে করছে কয়েক টা কঠিন কথা শুনিয়ে দিতে। কিন্তু আমার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না।প্রায় দশ মিনিট ধরে দুইজনে ভিজছি কারো মুখে কোন কথা নেই। নিরবতা ভে*ঙ্গে রাজ বলে উঠলো, অনেক হয়েছে সুন্নত আদায় করা। এখন তাড়াতাড়ি চেন্জ করে নাও।না হলে ঠান্ডা লেগে যাবে।

আমি কোন নড়াচড়া না করে ঠাঁই সেইখানে দাঁড়িয়ে রইলাম। আমার কোন প্রতিক্রিয়া না দেখে রাজ নিজেই টাওয়াল দিয়ে আমার মাথা মুছে দিতে শুরু করলো।
একি! কুয়াশা তোমার চুল এতো ছোট কেন?

আমার বড় চুল ভালো লাগে না।তাই চুল একটু বড় হলেই পার্লার থেকে কে*টে ছোট ছোট করে আসি।

মেয়েদের বড় চুলেই বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া মেয়েদের চুল মুন্ডন করা বা কে*টে ছেলেদের মতো করে ফেলা নিষেধ। আবার এতো বড় রাখা উচিত নয় যে, গোছলের সময় পানি পৌঁছানো কষ্টকর হয়। বরং পিঠ বা কোমর পর্যন্ত রাখা ভালো।সেমতে কোমরের নিচের অংশ কে*টে ফেলা জায়েজ আছে।অবশ্য না কা*ট*লে ও কোনো সমস্যা নেই‌।[তিরমিজি শরিফ ১/১৮২, মুসলিম শরিফ ১/১৪৮]

সময় বহমান।সময় তার আপন গতিতে ব‌ইতে থাকে। হাসি ঠাট্টা মজা খু*নসুটিতে কে*টে গেল তিন দিন। ফুরিয়ে গেল সময়। ঘনিয়ে এলো বিদায় বেলা। মেয়ে জামাইয়ের বিদায় উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের রান্না করা হয়েছে যার ঘ্রাণে রুমে থাকা দুঃষ্কর হয়ে পড়েছে। “শ্বশুর বাড়ি মধুর হাড়ি” এই কথাটা এতো দিন যাবৎ শুনে আসছি কিন্তু বিয়ের পরে রাজকে শ্বশুর বাড়িতে আদর আপ্যায়ন করা দেখে বুঝতে পারলাম “শ্বশুর বাড়ি মধুর হাড়ি” কথাটার মানে। খাবার টেবিলে বেচারা রাজের মুখ টা দেখার মতো হয়েছে ।প্লেটে মাছ ,মাংস চিংড়ি, ডিম দিয়ে ভর্তি রয়েছে,যা বেচারা সারাদিন খেয়ে ও শেষ করতে পারবে না।এর‌ই মধ্যে বাবা আবার বলে উঠলো রেহেনা, জামাইকে আর একটু গরুর গোশত দাও।জামাই আদরে যেন কোন ত্রুটি না থাকে।

না!না! বাবা‌। আমার আর কিছুই লাগবে না। আমি তো এগুলো খেয়েই শেষ করতে পারছি না।

লাগবে না বললে তো হবে না বাবা‌।

রাজ কোনো উপায় না পেয়ে আমাকে ইশারা দিল কিছু বলার জন্য। আমি ও সুযোগ টা কাজে লাগালাম। আসলে বাবা উনার খুব পাঙ্গাশ মাছ পছন্দ , তুমি বরং পাঙ্গাশ মাছের মাথাটা উনাকে দাও। বলার সাথে সাথেই বাবা রাজের প্লেটে পাঙ্গাশ মাছের মাথা টা দিয়ে দিল। আমি ও রাজকে ইশারা করে বোঝালাম এবার দেখ কেমন লাগে এই কুয়াশার সাথে পাঙ্গা নেওয়া?

রাজ আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল,দেখ কুয়াশা আমর জন্য তোমার মনে ভালোবাসার অভাব রয়েছে। আমার দাদি বলত , স্বামীর খাওয়া প্লেটে খেলে নাকি স্বামীর প্রতি ভালোবাসা বাড়ে। আমার দাদু আর দাদি কে দেখতাম সবসময় এক প্লেটে খেতে।তাই এখন তোমার‌ ও উচিত আমার প্রতি ভালোবাসা বাড়াতে এই খাবার টুকু খাওয়া। রাজের সাথে বাবা ও তাল মিলিয়ে বললো হ্যাঁ রে মা রাজ ঠিকই বলেছে, আমি আর তোর আম্মা ও এক প্লেটে খেতাম। অতঃপর ব্যাটা রাজ আমাকেই আমার জালে ফাঁসিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে দাড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে রুমে চলে গেল।

খাবার শেষ করে রুমে এসে দেখি রাজের ব্যাগপত্র গোছানো হয়ে গিয়েছে। আমি ও তাড়াতাড়ি করে রেডি হয়ে নিলাম।সাথে করে ব‌ই , সাজেশন নিয়ে নিলাম। বিদায় বেলা আম্মা ,বাবা শীতল কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।সবার থেকে বিদায় নিয়ে রওনা দিলাম আমার আপন ঠিকানায়। বাসায় ফিরে কলিং বেল দিতেই আম্মা দরজা খুলে দিল।

কেমন আছেন আম্মা?

বাড়ির লক্ষী ছাড়া ভালো থাকি কি করে? এতো দিন বাড়িটা একদম ফাঁকা ফাঁকা ছিল, এখন তুমি চলে এসেছ, আবার আমার বাড়িটা পরিপূর্ণ হবে।

কে*টে গেছে এক সপ্তাহ।এই এক সপ্তাহে রাজের সাথে আমার সম্পর্কের কোন উন্নতি হয়নি।তবে আমি বেশ বুঝতে পারছি আমি রাজের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছি।
রাতে ডিনার শেষ করে ব‌ইখাতা নিয়ে পড়তে বসেছি। পরীক্ষার বেশি দেরি নেই। হুট করেই পরীক্ষার রুটিন প্রকাশিত হয়ে যেতে পারে। এইবার ফেল নিশ্চিত।আর বিয়ের পরে ফেল করা মানে খুব‌ই লজ্জাজনক ব্যাপার।
প্রায় এক ঘন্টা ধরে” নগদ প্রবাহ বিবরণী প্রস্তুতকরণ অধ্যায়ের ম্যাথ করার চেষ্টা করছি, কিন্তু কোন মতেই সলভ করতে পারছি না।অন্য অধ্যায়ের ম্যাথ মোটামুটি পারলেও এই নগদ প্রবাহ বিবরণী আমার মাথায় কিছুতেই নিতে পারে না। অথচ আমার ফ্রেন্ড সার্কেলের কাছে নাকি এই অধ্যায় টা পানির মতো সহজ।তারা ১০০% নিশ্চিত পরীক্ষায় নগদ প্রবাহ বিবরণী আসলে চোখ বুজে ১০ শে ১০ পেয়ে যাবে। অথচ এই ম্যাথের আগা মাথা কিছুই বুঝি না আমি। ইউটিউব এ সার্চ দিয়ে অনেক ভিডিও দেখলাম। কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলাম না। ইশ্ এখন যদি শায়ান ভাইয়ার ফোন নাম্বার টা থাকত,তাহলে ভাইয়ার থেকে বুঝে নিতে পারতাম ম্যাথ টা। তড়িঘড়ি করে জামিয়াকে কল দিলাম, কিন্তু রিসিভ হলো না।আসলে যখন বেশি প্রয়োজন থাকে তখন‌ই ফোনের অপর পাশের ব্যক্তি টা কল রিসিভ করে না।৩য় বারে জামিয়া কল রিসিভ করল, হ্যাঁ কুয়াশা বল।

দোস্ত শায়ান ভাইয়ার নাম্বার টা একটু দিবি?আসলে আমি নগদ প্রবাহ বিবরণী বুঝতে পারছি না।আমরা যেহেতু ভাইয়ার কাছে প্রাইভেট পড়ব , তাহলে এখন নিশ্চয়ই ভাইয়ার কাছে এই টপিক টা জানতে চাইলে বুঝিয়ে দিবে।

সরি দোস্ত!শায়ান ভাইয়া কোন মেয়েকেই তার নাম্বার দেয় না। এমনকি আপুর কাছে ও শায়ান ভাইয়ার নাম্বার নেয়।

আচ্ছা রাখছি তাহলে বাই।

এই শায়ান ভাইয়া টা কে কুয়াশা?

সেইটা আপনার না জানলেও চলবে।

দেখ কুয়াশা! তুমি আমার স্ত্রী। তাই আমার সামনে তুমি অন্য পুরুষের গুনগান গাইবে এইটা তো আমি মানতে পারব না।

শায়ান ভাইয়া একজন প্রাইভেট টিউটর। অনেক ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট। বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির নিচ্ছে।

তো পেলে শায়ান ভাইয়ার ফোন নাম্বার?

না।এতো ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট নিশ্চয় ১০_১২ টা গার্লফ্রেন্ড তার জন্য বরাদ্দ রয়েছে।তাই তো গার্লফ্রেন্ড ছাড়া অন্য কোন মেয়েকে তার ফোন নাম্বার দেয় না।

সব পুরুষ কিন্তু ১০_১২ টা নারী তে আসক্ত থাকে না কুয়াশা। কিছু পুরুষ এক নারীতেই আসক্ত থাকে। তুমি রুমের একি অবস্থা করেছ কুয়াশা? পুরো রুম সাদা কাগজের টুকরো ছিঁ*ড়ে ভর্তি করে ফেলেছ?

আপনি মাদ্রাসার ছাত্র হয়ে কিভাবে বুঝবেন ম্যাথ বুঝতে না পারার কষ্ট?ম্যাথ করতে গেছিলাম কিন্তু পারি নি ,তাই পেজগুলো ছিঁ*ড়ে ফেলে দিয়েছি।

“ক‌ই ম্যাথ টা আমাকে দেখাও দেখি, আমি সলভ করে দিচ্ছি” । দেখি পারি কি না?

সিরিয়াসলি! আপনি মজা করছেন আমার সাথে? আমি সেই মাধ্যমিক থেকে কমার্সের ছাত্রী। জন্ম থেকে কমার্সের ছাত্রী হয়ে আমি পারছি না সলভ করতে আর আপনি কি না মাদ্রাসার ছাত্র হয়ে আমার ম্যাথ সলভ করে দিবেন।হাও ফানি!

কিন্তু রাজ আমাকে অবাক করে দিয়ে…

চলবে ইনশাআল্লাহ….

ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here