ভ্যাম্পায়ার_বর পর্ব ১৯+২০

#ভ্যাম্পায়ার_বর (সিজন ২)
#পার্ট_১৯
#M_Sonali

মাথায় তীব্র ব্যথা নিয়ে জ্ঞান ফিরল চাঁদনীর। মাথায় হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরে ধীরে ধীরে পিটপিট করে চোখ মেলে তাকাল সে। আর তাকাতেই দেখতে পেল সে একটি অচেনা রুমের মাঝে বিছানার ওপর শুয়ে আছে। রুম টা ঠিক কোথায় সে কিছুতেই বুঝতে পারছ না। মাথায় দুই হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরে ধীরে ধীরে উঠে বসল চাঁদনী। তারপর মাথাটা সেভাবেই ধরে রেখে কিছুক্ষণ নিচের দিকে মুখ করে চোখ বন্ধ করে চুপ করে বসে রইল। এভাবে বেশ কিছুটা সময় পার হওয়ার পর, মাথা যন্ত্রণা যখন একটু কমে এলো। তখন মাথা ছেড়ে দিয়ে চারিদিকে চোখ মেলে তাকাতে লাগল চাঁদনী। চারিদিকে তাকিয়ে যেন অবাক এর শীর্ষে পৌঁছে গেল সে। এমন রুম এর আগে কখনো দেখেছে বা শুনেছে বলে একদম’ই মনে হচ্ছে না। এ যেন এক বন্দিশালার চাইতে কম কিছু নয়। বিশাল বড় একটা রুম এটা। রুমটায় একদম সাদা ধবধবে করে রং করা। এমনভাবে রং করা যেন চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে চাঁদনীর। রংটা যেন ভীষন ভাবে চোখে লাগছে তার। রুমের মাঝে মোট তিনটা লাইট জালানো। সেই লাইট এর কারনে যেন রুমের রংয়ের আলো টা আরো বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। আর সেটা এতটাই চোখে লাগছে যে ঠিক করে চারি দিকে তাকাতেও পারছেনা চাঁদনী। তাই চারিদিক থেকে চোখ সরিয়ে এবার নিজের দিকে তাকাল সে।তাকাতেই যেন বেশ অবাক হয়ে গেলো সে। কারন সে যে ড্রেসটা পড়া ছিল এখন তার গায়ে সেটা নেই। এখন সিম্পল একটা সালোয়ার কামিজ পড়া আছে কালো রঙের। এটা দেখতেই যেন ভীষণ অবাক হয়ে গেল সে। কে ওকে এটা পরিয়ে দিয়েছে সেটা ভাবতেই যেন মাথার মধ্যে চক্কর দিয়ে উঠল। ও ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে নিচে নেমে দাঁড়ালো। তারপর পুরো রুমটায় চোখ বুলিয়ে দেখতে লাগলো। এত বড় একটা রুম অথচ কোথাও কোন জানালা নাই। এমনকি কোনো দরজাও চোখে পরলো না কোথাও। এবার যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছে না সে। ভীষন ভাবে অবাক হয়ে গেছে। কারন দরজা জানালা না থাকলে সে এই রুমে এলো কিভাবে!

বেশ অবাক হয়ে পাগলের মত এদিক সেদিক ছুটতে লাগল চাঁদনী। আর দরজা-জানলা খুঁজতে লাগল। যেভাবেই হোক তাকে এখান থেকে বের হতে হবে। তার যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে এখানে। এভাবে চারিদিকে দরজা-জানলা খুঁজতে খুঁজতে দরজা-জানলা না পেলেও, তার চোখ আটকে গেল কিছু পেইন্টিং দেখে। এতক্ষণ পেইন্টিং গুলো দেখলেও সেভাবে খেয়াল করা হয়নি। তবে এখন খেয়াল করতেই যেন আরো বেশি অবাক হয়ে গেল চাঁদনী। পুরো রুমটাতে অনেকগুলো পেন্টিং লাগানো রয়েছে। আর প্রতিটা পেন্টিং এই একটা সুন্দরী মেয়ে রয়েছে। যে মেয়েটার সাথে নিজের অনেক মিল খুঁজে পাচ্ছে চাঁদনী।

পেন্টিংয়ের মেয়েটাকে ভাল করে দেখার জন্য আর একটু কাছে এগিয়ে গেল চাঁদনী। তারপর একটি পেন্টিং দেওয়ার থেকে নামানোর অনেক চেষ্টা করল। কিন্ত সেটা আর নামানো সম্ভব হলো না। এমনভাবে দেয়ালের সাথে লাগানো যেন দেওয়ালের সাথেই ওটা পেইন্ট করা হয়েছে। শেষে ব্যর্থ হয়ে এদিক সেদিক কিছু একটা খুঁজতে লাগল। কিন্তু পুরো রুমের মাঝে শুধু খাট ছাড়া কোন আসবাব পত্র বা কোন কিছুই নেই। অবাক লাগছে চাঁদনীর। এমন রুমও হতে পারে, এত বড় একটা রুম হওয়া সত্যেও এতে খাট ছাড়া অন্য কিছুই নেই। আর এই পেন্টিং গুলো ছাড়া। শেষে কোনো উপায় না পেয়ে নিজের পা সামান্য উঁচু করে দেখার চেষ্টা করল পেইন্টিং গুলো। কাছ থেকে বেশ অনেকক্ষণ ধরে সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করল সে। পেন্টিং এ থাকা মেয়েটি একটি কালো রঙের গাউন জামা পড়ে আছে। জামাটা কে দেখে এমন মনে হচ্ছে যেনো সে জামাটার সাথে নানা রকম সোনাদানা দিয়ে কাজ করা রয়েছে। মেয়েটির মাথায় রয়েছে কালো রঙের একটি মুকুট। মুকুট টাকে দেখতে অসম্ভব সুন্দর এবং দামি। যার সাথে শুধু হিরে মানিক জরানো। জ্বলজ্বল করে জ্বলছে সেটা। মেয়েটির চেহারা যেন অনেক বেশি ফুটে উঠেছে কালো রঙে আবৃত থাকায়। সে এমন একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে যার চারিপাশে নানান রঙের ফুল গাছ এবং নানা রকমের ফল গাছে ঘিরে রয়েছে। কিন্তু কেন জানি না সব কিছুকেই কেমন মৃত মৃত লাগছে। এত চাকচিক্য থাকার পরেও কোন কিছুতেই যেন প্রাণ নেই। যদিও এটা পেন্টিং কিন্তু তারপরেও যেন পেন্টিং টা দেখে চাঁদনীর মনের মাঝে ধক করে উঠল। কিছু একটা ভেবে দ্রুত পেন্টিং থেকে কয়েক পা পিছিয়ে গেলো সে।

তারপর বেশ জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগল সে। কারণ তার ছোটবেলার স্মৃতি মনে পড়ে গেল। যে স্মৃতি সে অনেক আগেই ভুলতে বসেছিল। কিন্তু আজকে যেন সেই স্মৃতিটা তার সামনে দৃশ্যমান হলো নতুন করে। স্মৃতিটা এমন যে, সে যখন অনেক ছোট ছিল তখন ঘুমের মধ্যে প্রায়ই স্বপ্ন দেখতো, এই পেন্টিং এ থাকা সুন্দরী মেয়েরি, একটি বাগানের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাগানের চারিপাশে ফুলেফলে ভরা। কিন্তু সেগুলো না যাচ্ছে ছোয়া আর না যাচ্ছে খাওয়া। সবকিছুই যেন মৃত। মেয়েটি শুধু এদিক-ওদিক হেটে বেড়াচ্ছে ঠিকই কিন্তু মেয়েটির মন ভীষণ খারাপ। মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছে যেন তার মনে নানারকম চিন্তায় ঘিরে আছে। মুখটা খুব বিষন্ন তার।

মেয়েটি মন খারাপ করে থাকতে থাকতে হঠাৎ করেই চাঁদনীর দিকে তাকিয়ে ওকে হাত বাড়িয়ে করুন সুরে ডাকতো। সেই মুহূর্তে ঘুম ভেঙে যেত চাঁদনীর। সারা শরীর ঘেমে একাকার হয়ে যেত তার। সে চিৎকার করে কান্না করতে শুরু করত। আর তার আব্বু গিয়ে তাকে সান্তনা দিতো।

সেই স্মৃতিটা যেন চোখের সামনে ভেসে উঠলো চাঁদনীর। ও আবারও সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে পেন্টিং এর দিকে তাকিয়ে রইল। ওর সারা শরীর কাঁপতে শুরু করেছে। কেন যেন মনে হচ্ছে ওর স্বপ্নে দেখা সেই মেয়েটি যেন এই পেন্টিং এর মেয়েটি। কিন্তু মেয়েটির চেহারা ওর নিজের মতই। শুধু কোথাও একটা অমিল আছে হয়তো। তবে পেন্টিং এর মেয়েটির সাথে ওর পরিবর্তন করা যাবে চোখ বন্ধ করে।

চাঁদনী আর কিছু ভাবতে পারল না। ওর মাথা যেন ঘুরতে শুরু করেছে। কোন কিছুতেই কোন কিছু মেলাতে পারছে না ও। দ্রুত পেন্টিং থেকে চোখ সরিয়ে অন্য দিকে ঘুরে নিজের চোখটাকে নিজের হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরে কান্না করতে শুরু করল। কিন্তু ওর কান্নার আওয়াজ রুমের বাইরে প্রবেশ করলো না। বরং রুমের মধ্যেই বারে বারে বারি খেয়ে ওর কাছে ফিরে আসতে লাগল। এভাবে বেশ কিছুটা সময় কেটে যাওয়ার পর, চাঁদনী আবারো চোখ পিটপিট করে সামনের দিকে তাকাল। সামনের দিকে তাকাতেই আরো বেশি অবাক হয়ে গেল চাঁদনী। কারণ সামনে যে পেন্টিং টা রয়েছে,এটাও ওই মেয়েটির মতই একই রকম ড্রেস পরা। একই রকম দেখতেও একে। তবে এর সাথে যেন হুবহু মিল রয়েছে চাঁদনীর। যেন দেখে মনে হচ্ছে এটা চাঁদনীর’ই পেন্টিং করা। কিন্তু চাঁদনী তো কখনো এরকম কোন ড্রেস পড়ে নি! আর এরকম কোন জায়গায়ও কখনো যায়নি সে।

চাঁদনী পেইন্টিং টাকে বোঝার জন্য আর একটু কাছে এগিয়ে গেল। তারপর আগের মতোই পা উচু করে পেইন্টিংটা সূক্ষ্মভাবে দেখতে লাগল। বেশ কিছুক্ষন দেখার পর চাঁদনী লক্ষ করল আগের পেন্টিংটার মতো পেন্টিং নয় এটা। সবকিছু একরকম হলেও এই পেন্টিং টাকে দেখে যেন মনে হচ্ছে এই মেয়েটির মন হাসিখুশি। এবং সবকিছুই জীবিত এখানে। কোন কিছুকেই যেনো মৃত মৃত লাগছে না। সব কিছুতেই যেন প্রাণ রয়েছে। চাঁদনী বেশ অবাক হলো। আবারও কয়েকটা পিছিয়ে এল। তারপর পেন্টিং দুটির মাঝখানে দাড়িয়ে আগের পেন্টিং টার দিকে তাকালো। আগের পেন্টিং টা দেখে কেন জানিনা কোন কিছুই মিলাতে পারছেনা চাঁদনী। দুটি পেন্টিং এর সবকিছু একইরকম হলেও যেন অনেক বড় একটা পার্থক্য আছে এগুলোর মধ্যে। যেটা চাঁদনী কিছুতেই ধরতে পারছে না।

এবার ভয় না পেয়ে চাঁদনী মনে মনে ঠিক করল রুমের মাঝে যতগুলো পেন্টিং আছে সবগুলো সূক্ষ্মভাবে লক্ষ্য করবে সে। আর খুঁজে বের করবে এগুলোর মধ্যে পার্থক্য কিসের। কথাগুলো ভেবে চাঁদনী একপা দুপা করে সামনে এগিয়ে যেতে লাগলো। আরেকটা পেন্টিং দেখার জন্য। তখনই কিছু একটা পায়ের মধ্যে ফুটে গেল তার। সে একটা চিৎকার দিয়ে পায়ের দিকে ফিরে তাকাতেই দেখল একটি কাঁচের টুকরো পরে আছে নিচে। আর সেটাই ওর পায়ের মাঝে ঢুকে পরেছে। চাঁদনী চিৎকার করতে করতে কাঁচের টুকরাটা বের করতে যাবে তার আগেই ওর মাথাটা ভীষন ভারি হয়ে এসে ও সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেল।
#ভ্যাম্পায়ার_বর (সিজন ২)
#পার্ট_২০
#M_Sonali

ঠোঁটের সাথে গরম তরল কিছু একটার স্পর্শ পেতেই জ্ঞান ফিরে এলো চাঁদনীর।

মিটিমিটি চোখে চোখ মেলে তাকাল সে। সামনে তাকাতেই দেখতে পেল শ্রাবণের হাসি মাখা মুখটা ওর সামনে দৃশ্যমান। এবার অবাক হয়ে নিজের ঠোঁটের দিকে তাকালো সে। আর দেখল চামচে করে এক চামচ গরম দুধ ওর মুখের সামনে ধরে আছে শ্রাবণ।ওর জ্ঞান ফিরতে দেখেই মুখের কাছ থেকে চামচটা সরিয়ে নিয়ে শ্রাবণ মৃদু গলায় বললো,

–এখন কেমন লাগছে চাঁদনী?

ওর প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে উঠে বসার জন্য ওঠার চেষ্টা করতে লাগল চাঁদনী। কিন্তু ওর শরীর এতটাই দুর্বল যে উঠে বসতে সক্ষম হলো না। শ্রাবণ ওকে ধরে বসিয়ে দিল। উঠে বসতেই জ্ঞান হারানোর আগের সব স্মৃতি মনে পড়ে গেল চাঁদনীর। ও দ্রুত আশেপাশে ফিরে তাকালো। ও কোন রুমে আছে সেটা জানার জন্য। কিন্তু চারিদিকে তাকিয়ে ভীষণ অবাক হয়ে গেলো সে। কারন ও এখন যে রুমটাতে শুয়ে আছে এটা অত্যন্ত সুন্দর সাজানো গোছানো এবং পরিপাটি একটি রুম। আর রুমটা অনেক বড় এবং ভীষন আভিজাত্যপূর্ণও।

ওকে এভাবে আশেপাশে অবাক চোখে দেখতে দেখে শ্রাবণ ওর দু গালে হাত রেখে মৃদু কণ্ঠে বলল,

— কি হয়েছে চাঁদনী, এভাবে চারিদিকে কি দেখছ তুমি? এদিকে তাকাও বল আমায়, এখন কেমন লাগছে তোমার? শরীর ঠিক আছে তো? হঠাৎ এভাবে গাড়ি মাঝে অজ্ঞান হয়ে গেলে কেনো তুমি?

শ্রাবণের মুখে এমন প্রশ্ন শুনে যেন আরেক দফা অবাক হলো চাঁদনী। কারণ ওর স্পষ্ট মনে আছে গাড়িতে শ্রাবণ ওকে জড়িয়ে ধরার পর ওর গলায় কিছু একটা ফুটে ছিল। যেটার কারনেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল সে। কথাটা সরণে আসতেই সাথে সাথে নিজের গলায় ঘারে হাত দিয়ে ক্ষতটা খুঁজতে লাগলো চাঁদনী। কিন্তু না, ওর গলা বা ঘাড় আগে যেমন ছিল এখনো ঠিক একই রকম আছে। তাহলে গাড়ির মাঝে যেটা হয়েছিল সেটা কি ওর মনের ভুল? কিন্তু এটা কিভাবে হতে পারে! চাঁদনী শ্রাবণের হাতটা নিজের গাল থেকে সরিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে পিছনদিকে একটুখানি সরে গিয়ে বলল,

— গাড়ি মধ্যে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি নি। বরং আপনি আমাকে জ্ঞান হারাতে বাধ্য করেছেন। সত্যি করে বলুন তখন আমার গলায় কি ফুটিয়ে ছিলেন আপনি? যেটার কারনে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম! আর এখন এত নাটক’ই বা করছেন কেন?

কথাগুলো বলেই ভ্রু কুঁচকে প্রশ্নবিদ্ধ চোখে তাঁকিয়ে রইলো চাঁদনী শ্রাবণের দিকে। ওর কথার উত্তরে শ্রাবণ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর কিছু একটা ভেবে বলে উঠল,

— তুমি কিছু একটা ভুল ভাবছো চাঁদ। আমি এমন কোনো কিছুই করিনি যে তুমি অজ্ঞান হয়ে যাবে। আসলে তখন বাইরে থেকে অনেক বেশি বাতাস আসছিল গাড়ির জানালা দিয়ে। তাই তোমার পাশের গাড়ির জানালাটা আটকে দিতে আমি তোমার কাছে গিয়েছিলাম। আর তখনই তুমি অজ্ঞান হয়ে যাও। আমি তো তোমাকে জড়িয়েও ধরি নি।

কথাগুলো একনাগাড়ে বলে চাঁদনীর দিকে তাকিয়ে শ্রাবণ দেখতে পেলো, ও এখনো আগের মতো করে প্রশ্নবিদ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে শ্রাবণের দিকে। ওর চোখের মধ্যে রয়েছে অবিশ্বাসের ছাপ। ও যে শ্রাবণের একটা কথাও বিশ্বাস করছ না। এটা বুঝতে আর একটুও বাকি রইল না শ্রাবণের। তাই আবারও ও বলে উঠলো,

— দেখো চাঁদ, আমি যদি তোমাকে মিথ্যে’ই বলবো। আর আমিই যদি সত্যি তোমার গলায় কোনো কিছু ফুটিয়ে অজ্ঞান করে থাকি তাহলে তো অবশ্যই সেটার কারণে তোমার গলায় বা ঘাড়ে কোনো ক্ষত বা দাগ থাকতো তাই না? তুমি চেক করে দেখো তো সেরকম কোন কিছু আছে কিনা?

শ্রাবণের কথা শুনে চাঁদনী আবারো নিজের গলায় এবং ঘাড়ে দুহাত দিয়ে স্পর্শ করতে লাগল। সত্যিই তো, শ্রাবণ যদি মিথ্যে বলে থাকবে তাহলে ওর গলায় ঘাড়ে অবশ্যই কোন দাগ বা কোন ক্ষতস্থান থাকতো। কিন্তু সেখানে তেমন কিছুই নেই। এমনকি কোথাও কোনো ব্যথা ও নেই। মনে হচ্ছে কখনো ওর গলায় বা ঘাড়ে কোন কিছু হয়নি। চাঁদনী এবার বিশ্বাস না করলেও শ্রাবণের দিকে তাকালো না। ওকে কোনো প্রশ্নও করল না। চুপ করে বসে রইল নিচের দিকে তাকিয়ে।
ওকে শান্ত থাকতে দেখে শ্রাবণ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দুধের গ্লাসটা ওর সামনে নিয়ে বলল,

— নাও দুধটুকু চুমুক দিয়ে খেয়ে নাও। তোমার বেটার ফিল হবে।

শ্রাবণ গ্লাসটা চাঁদনীর সামনে এগিয়ে দিতেই গ্লাসটা দেখে ওর মনে পড়ে গেল গত রাতে দেখা সেই অদ্ভত রুমটার কথা। আর সেই রুমের মাঝে একটি কাঁচের উপর পা রাখার পরেই ওর জ্ঞান হারিয়ে ছিল সেই কথা। সাথে সাথে চাঁদনী উত্তেজিত হয়ে পড়ল। তারপর ক্রুদ্ধ গলায় বললো,

— আমি এখানে এলাম কিভাবে? আমিতো একটি রুমের মাঝে ছিলাম। সেখানে না ছিল কোন দরজা, আর না ছিল কোনে জানালা। তাহলে আমি সেখান থেকে এখানে এলাম কিভাবে?

ওর প্রশ্নে এবার ভীষন বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠলো শ্রাবণের মুখে। ও ভীষণ বিরক্ত হয়ে গম্ভীর গলায় বলল,

— দেখ চাঁদ, এবার কিন্তু আমার ভীষণ রাগ হচ্ছে। তুমি কি এসব আবোল-তাবোল বলে যাচ্ছ তখন থেকে? জ্ঞান ফিরেছে নাকি ভাঙ খেয়ে মাতাল হয়েছো বুঝতে পারছি না আমি। মুখে যা নয় তাই বলছ। তুমি আবার কখন কোন রুমে গেলে? অজ্ঞান হওয়ার পর আমি তোমাকে নিয়ে সোজা এখানে এসেছি। আর সেই থেকে তুমি এখানে শুয়ে শুয়ে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিলে।

— এ হতে পারে না! আপনি আবারো মিথ্যা কথা বলছেন। আমি একটা অদ্ভুত রুমে ছিলাম। যে রুমে কোন জানালা দরজা ছিল না। আর সেই রুমের মাঝে অনেকগুলো পেন্টিং ছিল। আর সবগুলো পেন্টিং এই আমার চেহারার মত একটি মেয়ে ছিল। কিন্তু কিছু কিছু পেন্টিং এর মেয়ের সাথে আমার কোন মিল ছিল না। চেহারা প্রায় অনেকটা মিল হলেও সেটা আমার পেন্টিং ছিলো না। আর সেখানেই একটা কাঁচের উপর পাড়া লেগে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।

কথাটা বলেই নিজের পা সামনে এনে দেখার জন্যে টান দিলো চাঁদনী। আর সাথে সাথে ভীষণ ব্যথা অনুভব করল সে। পায়ের দিকে তাকাতেই খেয়াল করল ওর পায়ে ব্যান্ডেজ করা। এবার চাঁদনী আরো উত্তেজিত হয়ে বলে উঠল,

— এই দেখুন আমি মিথ্যা কথা বলছি না। সত্যিই আমি অদ্ভুত একটা রুমে ছিলাম। সেখানে আমার পা কেটে গিয়েছিল। এই দেখুন আমার পায়ে ব্যান্ডেজ করা। আপনি আমার পায়ে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছেন তাই না! কিন্তু ঐ রুমে তো কোন জানালা দরজা ছিল না! তাহলে আপনি আমাকে ওখান থেকে নিয়ে এলেন কিভাবে? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। আর আমি ওখানে গেলাম’ই বা কিভাবে?ঐ রকমন একটা অদ্ভুত রুমের মাঝে?

— চাঁদনী এবার কিন্তু আমি ভীষণভাবে বিরক্ত হচ্ছি। এভাবে বিরক্ত করতে থাকলে কিন্তু আমি তোমার সাথে রুডবিহেভ করতে বাধ্য হবো। আর না হয় সত্যি সত্যি একটি ইনজেকশন নিয়ে এসে তোমার গায়ে পুশ করে তোমায় অজ্ঞান করে ফেলব। তোমাকে যখন আমি গাড়ি থেকে নিয়ে আসছিলাম তখন বাসার সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হঠাৎ পা স্লীপ করে আমি তোমাকে নিয়ে পড়ে যাই। আর তখন সেখানে একটা কাঁচ ছিল, সেই কাঁচের সাথে তোমার পা লেগে পা কেটে যায়। তাই তোমার পায়ে আমি ব্যান্ডেজ করে দিয়েছি। এ ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু তুমি তখন থেকে কি সব হাবিজাবি বলে যাচ্ছ। যার কোন কিছুই আমার মাথায় ঢুকছেনা। প্লিজ এবার চুপ করো!

শ্রাবণের ধমকে বেশ ভয় পেয়ে যায় চাঁদনী। আর কিছু বলার সাহস পায় না সে। কিন্তু শ্রাবনের একটা কথাও ওর বিশ্বাস হচ্ছে না। ওর বারবার মনে হচ্ছে ওর সাথে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সব সত্যি ছিল। কোন কিছুই ওর কল্পনা বা মন এর ভুল ছিল না। শ্রাবণ হয়তো ওকে মিথ্যে কথা বলছে। কিন্তু এটা কিভাবে হতে পারে? ওরকম একটা রুমে ও গেলো কিভাবে, আর ওখান থেকে বের’ই বা হলো কিভাবে। আর গলার দাগটাই বা কোথায় গেল? এমন নানা রকম চিন্তা করতে করতে যেন মাথা ব্যথা ধরে যাচ্ছে চাঁদনীর।

চলবে,,,,,,,,,,,,,

দুঃখিত গল্পটা এর চাইতে বড় করে লিখতে পারলাম না। কারন আমার ফোনের এমবি শেষ। যখন তখন নেট বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আর গল্পটা পোস্ট করতে পারব না। কালকে এমবি কিনলে 2 পর্ব একসাথে দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। কেমন হয়েছে জানাবেন সবাই। আর রহস্যের অতল সাগরে চাঁদনীর মত আপনারাও ডুবে যান। 😁😁 ধন্যবাদ
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

আজকে বাসায় মেহমান এসেছে। গল্প লেখার একদমই সময় ছিল না। তবুও কিছুক্ষণ সময় পেতেই গল্পটা লিখে ফেললাম। পর্ব ছোট হয়েছে বলে কেউ বকা দিবেন না প্লিজ। এখন সবাই চাঁদনীর মত রহস্যের মায়া জালে বন্দি থাকেন। ধন্যবাদ সবাইকে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here