ভয়ংকর সে পর্ব -১৮+১৯+২০+২১

#ভয়ংকর_সে #পর্ব_১৮
#M_Sonali

জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে অন্ধকার রুমে আবিষ্কার করে চাঁদনী। শুয়ে থেকে এদিক ওদিক তাকিয়ে কিছুই বুঝতে পারে না। সে ঠিক কোথায় আছে। ধীরে ধীরে মনে করার চেষ্টা করে তার সাথে কি হয়েছিল। সবকিছু মনে পড়তেই ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে সে। সাথে সাথে রুমের মধ্যে লাইট জ্বলে ওঠে। চারিপাশে আলোকিত হয়ে যায়। চাঁদনী কিছুটা চোখ ডলে নিয়ে চারিদিকে তাকাতেই দেখে সে আগের সেই রুমে শুয়ে আছে। যে রুমে শ্রাবণ তাকে বিয়ে করার পর নিয়ে এসে রেখেছিল। ভয়ে সারা শরীর শিউরে ওঠে তার। শ্রাবণের সেই ভয়ংকর রূপ টা যেন কিছুতেই ভুলতে পারছে না সে। সামনে তাকিয়ে দেখে শ্রাবন মৃদু হেসে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। ওকে জ্ঞান ফিরতে দেখে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে সে। এবার গুটি গুটি পায়ে ওর পাশে এসে দাঁড়ায় সে।

ওকে কাছে আসতে দেখে বেশ কিছুটা ভড়কে যায় চাঁদনী। সে ভয়ে এক জায়গাতেই জড়োসড়ো হয়ে বসে থাকে। এই মুহূর্তে শ্রাবনকে বড্ড বেশি ভয় করছে তার। নিজের ভালবাসার মানুষকে যে কেউ এতটা ভয় পায় সেটা হয়তো চাঁদনীকে না দেখলে বোঝা যেত না। ওর এমন ভয়ার্ত চেহারা দেখে শ্রাবণের মনটা নিমিষেই খারাপ হয়ে যায়। সে ওর পাশে বসে শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করে,

“আমাকে দেখে এভাবে ভয় পাচ্ছ কেন চাঁদপাখি? প্লিজ এভাবে ভয় পেয়ে দূরে সরে যেও না।”

ওর কথার উত্তরে চাঁদনী আরো একটু জড়োসড়ো হয়ে বসে কাঁপা কাঁপা গলায় কান্না করতে করতে বললো,

“আপনি আমার থেকে দূরে সরে যান শ্রাবন। আপনাকে সত্যিই ভীষণ ভয় করছে আমার। আপনার ওই চেহারা আমি ভুলতে পারছিনা। আপনি কিভাবে পারলেন এতগুলো মানুষকে এক মুহূর্তের মাঝে রক্ত চুষে খুন করতে! আপনার কি একটুও খারাপ লাগলো না? এমন নিঃসংশ ঘটনা নিজের চোখের সামনে দেখার পরেও কিভাবে আপনাকে ভয় না পেয়ে থাকতে পারি বলুন। প্লিজ আপনি আমার থেকে দূরে সরে যান। আমার ভীষণ ভয় করছে আপনাকে দেখে।”

“চাঁদ পাখি এভাবে বলোনা প্লিজ। তুমি আমার রাগ সম্পর্কে জানো না। এমনিতেই ভ্যাম্পায়ারদে রাগ বড্ড বেশি হয়। সেখানে আমি হলাম ভ্যাম্পায়ার রাজ্যের সবচাইতে ভয়ংকর শক্তিশালী ও রাগি ভ্যাম্পায়ার। আমার রাগের উপর কারো জোর চলে না। আর তুমি হলে সেই রাগি ভ্যাম্পায়ার এর একমাত্র দুর্বলতা। যাকে নিজের জীবনের চাইতেও ভালোবাসি বেশি।তোমার দিকে কেউ চোখ তুলে তাকালে ও তাকে আমি মাটির সাথে মিশিয়ে দিব। আর ওরা তোমার দিকে হাত বাড়িয়েছিল। আমি কিভাবে তাদের না মেরে চুপ থাকতে পারতাম বল? সেই মুহূর্তে আমার ভিতরের ভয়ংকর রুপটা এতটাই জাগ্রত হয়ে গিয়েছিল যে, আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি। তাই ওদের ওভাবে শাস্তি দিয়েছি। এতে তোমার খুশি হওয়ার কথা। আমি কিছু কিটকে পৃথিবী থেকে চিরদিনের মত মুছে দিয়েছি।”

ওর কথার উত্তরে চাঁদনী কিছুই বলল না। সে আর একই ভাবে জড়োসড়ো হয়ে সেখানে বসে রইল। ওর এমন অবস্থা দেখে শ্রাবন বুঝতে পারল এই মুহূর্তে কোন কিছু বলেই কাজ হবে না। ওকে একটু একা থাকতে দেওয়া উচিত। নিজেকে একটু স্বাভাবিক করার জন্য সময় দেওয়া উচিত। শ্রাবণ নিজের জায়গা থেকে উঠে দাঁড়ালো। তারপর ওর দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,

“আমি অন্য রুমে চলে যাচ্ছি। তুমি কিছুক্ষণ একা থেকে মনে মনে ভাবো আমি ভুল করেছি নাকি ঠিক করেছি। আমি জানি তুমি বুদ্ধিমতি। আজ তোমার সাথে যেটা হতে যাচ্ছিল এটা অন্য কোন মেয়ের সাথে হলে কি হতো বলতো? এখন না হয় আমি তোমাকে বাঁচিয়ে নিয়েছি। যদি আমি কোন সাধারণ মানুষ হতাম। আর এতগুলো পুরুষের সাথে যদি আমি একা না পারতাম। তাহলে ওখানে কত বড় দুর্ঘটনা হতে পারত সেটা তোমার ধারণা করা উচিত চাঁদপাখি।”

কথাটি বলে অন্য রুমে চলে গেলো সে। ওর বলে যাওয়া শেষের কথাগুলো এইবার যেন মাথার মধ্যে ঢুকলো চাঁদনীর। সে এবার ভাবতে লাগল ও তো ঠিকই বলেছে। বাংলাদেশে প্রতিদিন কত শত নারী ধ-র্ষন হচ্ছে এইসব নেশা-খোর জানো-য়ারদের হাতে। আর যখন এই সংবাদগুলো সে পেতো। তখন তো সে নিজেই তাদের খুন করতে চাইতো। আজ যদি শ্রাবণ কোন ভ্যাম্পায়ার না হয়ে সাধারন কোন মানুষ হতো। তাহলে আজ তো তার সাথেও একি ঘটনা ঘটতে পারত। তবে শ্রাবণ কোনো ভুল করেনি। সে যেটা করেছে সেটা ঠিক করেছে।

কথাগুলো ভেবে নিজের উপর বেশ রাগ হলো চাঁদনীর। সেই সাথে শ্রাবণের উপরে ভালবাসাটা যেন আরেকটু বেড়ে গেলো তার। যদিও এখনো মন থেকে ভয়টা যায়নি। চোখের সামনে দেখা সেই নিঃসংশ ঘটনাকে মন থেকে মুছে ফেলা সত্যিই বড় কঠিন। তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বিছানা নিচে নেমে দাঁড়ালো সে। তারপর গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যেতে লাগল দরজার কাছে। দরজার সামনে গিয়ে সামনে তাকাতেই দেখলো শ্রাবন মাথা নিচু করে সোফার উপর বসে আছে। ওর উপস্থিতি টের পেতেই ওর দিকে মৃদু হেসে ফিরে তাকাল সে। ওকে হাসিমুখে দেখে যেন আরেকটু সাহস ফিরে পেল মনে। এবার সে কোন কথা না বলে দ্রুত এগিয়ে গেল তার কাছে। তার পাশে বসে শান্ত গলায় বললো,

“আই এম সরি শ্রাবণ। আমি আপনাকে ভুল বুঝেছি। আপনি যেটা করেছেন সেটা ঠিকই করেছেন।”

ওর কথার কোন উত্তর দিলানা শ্রাবণ। তাই ও ফিরে তাকাল তার দিকে। সাথে সাথে আচমকা ওর হাত ধরে হ্যাঁচকা টানে ওকে নিজের কোলে তুলে নিল শ্রাবণ। তারপর দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে আবেগি গলায় বলল,

“দেরি হলেও বুঝতে পেরেছো এটাই আমার জন্য অনেক। তুমি জানো এতক্ষণ সময় কতটা ভয়ে ছিলাম আমি। ভেবেছিলাম তুমি হয়তো আমাকে ভুল বুঝে আমার থেকে দূরে সরে যাবে। তোমাকে দূরে রেখে আমি ভালো থাকতে পারব না চাঁদপাখি।”

চাঁদনী লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। সে কি বলবে এই মুহূর্তে কিছুই মুখে আসছে না তার। আচমকা এভাবে বুকে জড়িয়ে নেওয়ায় বেশ লজ্জায় পড়ে গেছে সে। সে মাথা নিচু করে চুপ করে রইল। তার অবস্থা দেখে মৃদু হাসলো শ্রাবণ।তারপর দুষ্টুমি করে বললো,

“আমার বউটা যে দেখি বড্ড লজ্জাবতী। সেকি জানে তার এই লজ্জামাখা চেহারাটা দেখার জন্য তাকে আরো বেশি লজ্জা দিতে মন চায়। ইচ্ছে করে তাকে এতটা লজ্জায় ফেলি যেনো, লজ্জায় লাল টমেটু হয়ে যায়।”

ওর কথা শুনে চাঁদনী মুচকি হেসে ওর কোল থেকে উঠার চেষ্টা করলো। কিন্তু শ্রাবণ তাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কানের কাছে মুখ নিয়ে নাক ঘষে বললো,

“তুমি জানো তোমাকে এত কাছে পেয়ে কতটা শান্তি লাগছে আমার। এতোক্ষণ যেন বুকের মাঝে ঝড় তুফান চলছিল। কত রকমের চিন্তা ছিলো মাথায়। তোমার কোন ধারনা আছে? আমি তোমাকে বড্ড ভালোবাসি চাঁদপাখি। জানিনা একজন ভয়ংকর ভ্যাম্পায়ারের মনে এতটা ভালোবাসার সৃষ্টি কিভাবে হলো। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র তোমার জন্য। আজ আমি এত ভয়ানক এত শক্তিশালী হয়েও একটি সাধারণ মেয়ের কাছে যেন নিজেকে সমর্পণ করেছি।”

ওর মুখ থেকে শক্তির কথা শুনতেই চাঁদনীর মনে পড়ে গেল। সে দ্রুত শ্রাবণের চোখের দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠলো,

“কিন্তু আপনি এত শক্তি পেলেন কিভাবে শ্রাবণ? আমাকে কিন্তু সে কথা এখনো বলেননি। আমি জানতে চাই আপনার শক্তির উৎস কি। আপনি তো আমাকে বলেছিলেন আমার রক্ত না খেলে আমাকে না মারলে আপনি শক্তি পাবেন না! তাহলে এখন এতটা শক্তি কোথায় পেলেন?আর সেদিন রাতে’ই বা কারা গিয়েছিল আমাদের বাসায়। আমাদের মারার জন্য? যে কিনা আপনার কন্ঠ নকল করে বারবার আমাকে ডাকছিল দরজা খোলার জন্য?”

ওর এমন প্রশ্নে মুহূর্তেই মুখটা বিষন্নতায় ছেয়ে গেল শ্রাবণের। সে মাথা নিচু করে ফেলল। যেন ভীষণ রকম চিন্তায় পড়ে গেল সে। তাকে চুপচাপ থাকতে দেখে চাঁদনী এবার তার কোল থেকে নিচে নেমে গেল। পাশে বসে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে উত্তেজিত কণ্ঠে আবার বলে উঠলো,

“কী হলো আপনি কোন উত্তর দিচ্ছেন না কেন? আপনি তো আমাকে বলেছিলেন আমাকে সব বলবেন। তাহলে এখন কেন চুপ করে আছেন? আমি সব জানতে চাই। বলুন আমাকে, কি হয়েছিল সেদিন রাতে?”

শ্রাবণ একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। ওর দিকে ফিরে তাকিয়ে ওর দুই হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নিল। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে করুন গলায় বলতে শুরু করল,

“আমি তোমাকে হারাতে চাই না চাঁদপাখি। তোমাকে বড্ড বেশি ভালোবাসি। তাই তোমাকে সব সত্য কথা বলতে ভয় করছে। তুমি যদি আমাকে ভুল বুঝে আমার থেকে দূরে সরে যাও। তাহলে আমি সবকিছু ধ্বংস করে দেবো। আমি চাইনা আমার কারণে কারো কোন ক্ষতি হোক। কিন্তু আমি নিজের রাগের উপর কন্ট্রোল রাখতে পারি না। আর যখন রাগটা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তখন আমাকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা পৃথিবীর কারো থাকে না। তাই আমার রাগ কমানোর একমাত্র উৎস তুমি। তোমাকে আমি হারাতে চাই না। আমি তোমাকে সব বলবো। কিন্তু তার আগে তোমার আমাকে কথা দিতে হবে। সব শোনার পর তুমি আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না। আমায় ভুল বুঝবে না। আমায় ছুঁয়ে প্রমিস করো।”

এবার চাঁদনীর মনে বেশ ভয় বাসা বাঁধে। সে বুঝতে পারে না কি এমন কথা যার জন্য শ্রাবণ তাকে এভাবে বলছে। তবুও সবকিছু জানার কৌতূহলে সে রাজি হয়ে যায়। ওকে ছুঁয়ে প্রমিস করে,

“আমি আপনাকে ছুঁয়ে প্রমিস করছি শ্রাবণ। যা কিছু হয়ে যাক না কেন আমি কখনোই আপনাকে ছেড়ে যাবো না। আপনাকে ভুল বুঝবো না। আপনি সবকিছু নির্ভযে বলতে পারেন আমায়।”

ওর কাছ থেকে সম্মতি পেয়ে এবার যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে শ্রাবণ। ছোট্ট করে একটি শান্তির নিশ্বাস ফেলে বলতে শুরু করে,

“পৃথিবীর দক্ষিন সীমান্তের শেষপ্রান্তে একটি গভীর জঙ্গলের মাঝখানে আছে বিশাল এক ভ্যাম্পায়ার রাজ্য। যার আশেপাশে কোন বাড়িঘর তো দূর কোনো পশুপাখি বা মানুষের বিন্দুমাত্র চিহ্নটুকু নেই। সেই জঙ্গলের চারিপাশে বিশাল সমুদ্রে ঘেরা। আর সেখানে পৃথিবীর কারো যাওয়ার মত ক্ষমতা নেই। সেই ভ্যাম্পায়ার রাজ্যের রাজা ছিলেন আমার দাদু। আর তার একমাত্র ছেলে আমার বাবা এরিক। তিনি ছিলেন ভ্যাম্পায়ার রাজ্যের রাজকুমার। পাশাপাশি সবচাইতে শক্তিশালী একজন ভ্যাম্পায়ার।”

“এতটা শক্তিশালী হওয়া সত্বেও দাদুর শক্তির কাছে তার শক্তি ছিল তিল পরিমান। তাই নিজেকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে প্রত্যেক আমাবস্যার রাতে একটি করে কুমারী মেয়ের রক্ত পান করতে হতো তার। এভাবে ১০১ টি আমাবস্যার রাতে ১০১ জন কুমারী মেয়ের রক্ত পান করলে বাবা হয়ে উঠত দাদুর মত শক্তিশালী একজন ভ্যাম্পায়ার। কিন্তু ৪০ টি কুমারী নারীর রক্ত পান করার পর 41 জনের বেলায় বাবা একটি ভুল করে বসে। আর সেই ভুলটি ছিল একটি কুমারী নারীর প্রেমে পড়ে যাওয়া। সে একজন ভ্যাম্পায়ার হওয়া সত্ত্বেও আমার মায়ের প্রেমে পড়ে যায়। যে কি না একজন সাধারন মানুষ ছিলো।”
#ভয়ংকর_সে #পর্ব_১৯
#M_Sonali

“এতটা শক্তিশালী হওয়া সত্বেও দাদুর শক্তির কাছে তার শক্তি ছিল তিল পরিমান। তাই নিজেকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে প্রত্যেক আমাবস্যার রাতে একটি করে কুমারী মেয়ের রক্ত পান করতে হতো তার। এভাবে ১০১ টি আমাবস্যার রাতে ১০১ জন কুমারী মেয়ের রক্ত পান করলে বাবা হয়ে উঠত দাদুর মত শক্তিশালী একজন ভ্যাম্পায়ার। কিন্তু ৪০ টি কুমারী নারীর রক্ত পান করার পর ৪১ জনের বেলায় বাবা একটি ভুল করে বসে। আর সেই ভুলটি ছিল একটি কুমারী নারীর প্রেমে পড়ে যাওয়া। সে একজন ভ্যাম্পায়ার হওয়া সত্ত্বেও আমার মায়ের প্রেমে পড়ে যায়। যে কি না একজন সাধারন মানুষ ছিলো।”

একনাগাড়ে এতোটুকু বলে একটু দম নিল শ্রাবণ। ওকে থামাতে দেখে উত্তেজিত কণ্ঠে চাঁদনী বলে উঠলো,

“তারপর, তারপর কি হলো? আপনার বাবা কি নিজের শক্তি পেয়েছিল। নাকি আপনার মাকে ভালোবাসার কারণে তার কোন ক্ষতি হয়েছিল?”

প্রশ্নটা শুনেই একটি ছোট্ট করে নিঃশ্বাস ছাড়লো শ্রাবণ। তারপর আবার বলতে শুরু করল,

“মাকে ভালোবাসার পরেও বাবা সিদ্ধান্ত নেয়, সে তার শক্তি পাওয়ার জন্য প্রতি আমাবস্যা রাতে কুমারী মেয়েদের মেরে নিজের কাজ হাসিল করবে। সে অনুযায়ী সে একের পর এক কুমারী মেয়েকে মারতেই থাকে। আর সেই ফাঁকে মায়ের সাথে ও তার একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মা কখনোই বাবাকে সন্দেহ করেনি। সে অনেক সাদাসিধা মানুষ ছিলেন। বাবা তার সাথে এমন ভাবে কথা বলতো আর এমন এমন কাজ করতো যে মা সন্দেহ করতে পারেনি। মা ছিল এতিম। তার আপন বলতে কেউ ছিলনা। দূর সম্পর্কের এক মামার কাছে বাড়ির চাকরানি মত বড় হয়েছিলেন তিনি। আর তার এই কষ্ট দেখে এবং তার সাদাসিধে ভাবটা দেখে বাবা তার প্রেমে পড়ে। যদিও ভাম্পায়ার রাজ্যে অনুমতি ছিল না কোন মানুষের সাথে সম্পর্কে জড়ানোর। কারণ ভ্যাম্পায়ারেরা মানুষের রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে। কিন্তু বাবা সেই নিয়ম এর উল্টোটা করেন। যদিও এ ব্যাপারে ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে কেউই তখন জানত না। একসময় বাবা চুপ করে বিয়ে করে ফেলেন মাকে। কিন্তু বিয়ের পর মা ধীরে ধীরে সন্দেহ করতে থাকে বাবার কান্ড কালাপ দেখে। কারণ বাবা দিনের বেলা কখনোই বাইরে বের হতেন না। সারাক্ষণ ঘরে মধ্যে থাকতেন। শুধু রাত্রে বের হতেন। মা কখনো রান্না করলেও তিনি খেতেন না। এতে মার মনে সন্দেহ বাসা বাঁধে। কিন্তু সেই সন্দেহটা প্রকট হয় তখনই, যখন বাবা তার খুব কাছাকাছি চলে আসে। তখনই তার মাঝে একটা হিংস্রতা খেয়াল করতেন তিনি। চোখ দুটি মুহূর্তে লাল হয়ে যেত। মার গলার কাছে আসতেই তিনি ছিটকে দূরে সরে যেতেন। সেখানে থাকতেন না। তার এই আচরণে বেশ বিরক্ত হন মা। কারন বিয়ের পর তিন মাস কেটে যাবার পরেও তারা কখনও এক হননি। সব সময় বাবা এভাবে তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রচন্ড পরিমানে ভালোবাসেন মাকে। তাই একদিন রাগ করে মা তাকে প্রশ্ন করে বসে। কেন সে এমন করে। বাবা সেদিন তাকে কোনো উত্তর দেয়নি। তাকে ফেলে রেখে চলে যায় ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে। এর মাঝে দাদু সবকিছু জেনে যায়। বাবার উপর প্রচন্ড রেগে যান তিনি।

বাবাকে তিনি অনেকবার বোঝায় মাকে ছেড়ে দিয়ে তার রক্ত পান করে নিজের শক্তি হাসিল করতে। কিন্তু বাবা সেটা মানতে নারাজ। তাই বাধ্য হয়ে দাদু নিজের ভ্যাম্পায়ার পাঠাতে চান মাকে মেরে ফেলার জন্য। কিন্তু বাবা তাদের মাঝে বাধ সাধে। শেষে বাবার সাথে পেরে না উঠে অনেক চিন্তা ভাবনার পর দাদু একটি সিদ্ধান্ত নেন। বাবাকে নিয়ে আলাদা বসেন। আর বাবাকে একটি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করেন। যেটা করতে পারলেই একমাত্র আমার মাকে নিজের বৌমা হিসেবে মেনে নেবেন তিনি। আর মায়ের কোনো ক্ষতিও হতে দিবেন না। বাবা কোন কিছু না ভেবে তার কথায় রাজি হয়ে যায়। সেটাই ছিল বাবার সবচেয়ে বড় ভুল।

দাদু বাবাকে শর্ত দিয়েছিল মাকে সবকিছু জানিয়ে বুঝিয়ে-শুনিয়ে ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে নিয়ে আসতে। আর তাকে ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে থাকতে হবে। প্রতিদিন দাদু একটা জরিবুটি দিবে যেটা মায়ের খেতে হবে। এবং একটি মন্ত্র দিবে যেটা প্রতিদিন মায়ের পাঠ করতে হবে। সেই সাথে মায়ের প্রতিদিন এর খাদ্য তালিকায় থাকবে একগ্লাস টকবকে তাজা রক্ত। তাহলে মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেবে এমন শক্তিশালী সন্তান যে শক্তিশালী আজ পর্যন্ত ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে কেউ হয়নি। যার মাঝে থাকবে দুই সত্তার ভয়ংকর শক্তি।”

এতোটুকু বলে থামল শ্রাবন। ওকে থামতে দেখে চাঁদনী নড়েচড়ে বসল। বড় বড় চোখ করে ওর দিকে তাকিয়ে উত্তেজিত হয়ে বলল,

“থামলেন কেন বলুন। তারপর কি হল, আপনার মা কি সেই নিয়ম গুলি মেনে চলতে পেরেছিল? একজন মানুষ কিভাবে টগবগে তাজা রক্ত পান করতেন? আমার তো ভাবতেই গা ঘিনঘিন করছে। প্লিজ আপনি বলুন তারপর কি হয়েছিল?”

ওর কথার উত্তরে একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো শ্রাবণ। তারপর আবার বলতে শুরু করল,

“বাবা ভ্যাম্পায়ার রাজ্য থেকে ফিরে আসেন মায়ের কাছে। এসে দেখেন তিনি মন খারাপ করে বসে আছেন। বাবাকে দেখেই একনাগাড়ে হাজারটা প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি। বাবা তার কোন প্রশ্নের উত্তর দেয় না। তার সামনে দাঁড়িয়ে থেকেই নিজের আসল রূপ মানে ভ্যাম্পায়ার রূপ ধারণ করেন। মুহূর্তেই মা যেন থমকে যান। ভয়ে চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারান। উনি জ্ঞান হাড়াতেই বাবা ওনাকে তুলে নিয়ে সোজা ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে চলে আসেন। আর এমন একটি কক্ষে ওনাকে রাখেন যেখানে কোনো ভ্যাম্পায়ার যাওয়ার মত শক্তি পাবে না। উনি অজ্ঞান অবস্থায় থাকতেই দাদু চালাকি করে সবার আড়ালে তাকে কিছু একটা খাইয়ে দেয়। যেটা বাবা নিজেও জানতো না। যখন মায়ের জ্ঞান ফেরে তখন সে একদম স্বাভাবিক হয়ে যায়। মনেই হয় না যে উনি কোনো রকম ভয় পেয়েছে। ব্যাপারটা বাবা খেয়াল করে বেশ অবাক হন। তিনি মাকে জিজ্ঞেস করেন। মা তাকে কেন কোনো প্রশ্ন করছে না। কেন ভয় পাচ্ছে না। মা তাকে শান্ত ভাবে উত্তর দিয়েছিল যে তার ভয় করছে না। তার শুধু বাবাকে চাই।

তারপর থেকে বাবা ও মায়ের কাছে গেলে কখনও রক্তের পিপাসা উঠত না। সবকিছুই যেন স্বাভাবিক চলতে থাকে। এভাবে প্রায় ৩ মাস কেটে যাওয়ার পরেই মা বুঝতে পারেন তিনি গর্ভবতী হয়েছেন। তার পেটে সন্তান এসেছে। খবরটা শুনতেই সবচাইতে বেশি খুশি হন আমার দাদু। তার মাঝে যেন খুশির অন্ত থাকে না। খুশিতে আত্মহারা হয়ে তিনি সকল ভ্যাম্পায়ারদের অনুমতির দেন মানুষের পৃথিবীতে পৌঁছে সবাই একটা করে মানুষের রক্ত খেয়ে আনন্দ করতে।”

এতোটুকু বলতেই চাঁদনী ভয়ে শিউরে ওঠে। উত্তেজিত কণ্ঠে বলে ওঠে,

“আল্লাহ কি মারাত্মক ব্যাপার। তারপর, তারপর কি হয়েছিল? তাহলেতো পৃথিবীর অনেক মানুষ মারা গিয়েছিল সেদিন ভ্যাম্পায়ারদের হাতে, তাই না”

“হ্যাঁ ঠিক তাই হয়েছিল। দাদুর সেই অনুমতির কারণে ভ্যাম্পায়ারেরা ইচ্ছামত সেদিন মানুষ খুন করেছিল তাদের রক্ত পান করে। এক রাতে সেদিন অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছিল। সারা পৃথিবীতে যেটা ছিল একদিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

তারপর এভাবে মানুষ মারতে গিয়ে বেশ কয়েকটা ভ্যাম্পায়ারও মানুষের হাতে মারা যায়। কারণ তারা বাদুড়ের রুপে মানুষের ঘরে ঢুকে রক্ত পান করতে গিয়েছিলো। সেই ঘটনার পর ভ্যাম্পায়ারেরা আরো বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠে মানুষের জন্য। তারা নিজেদের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। মানুষ খুন করার জন্য পাগল হয়ে যায়। কিন্তু দাদু তাদের অনুমতি দেয়না বলে তারা সেটা করতে পারে না। সবাই ভ্যাম্পায়ার রাজ্যেই থেকে যায়।

মা প্রেগনেন্ট হওয়ার পর থেকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। প্রতিদিন এক গ্লাস রক্তের জায়গায় অনেক বেশি তাজা রক্ত পান করতে থাকে। যেটার কারণ বাবা বুঝতে পারেনা। দাদু প্রতিদিন মাকে কোন একটা জরিবুটি খাওয়া তো। যেটা বিনা সংকোচে মা খেয়ে নিতো। বাবা এতে বেশ অবাক হলেও মনে মনে খুশি হন। কারণ দাদু তার এত যত্ন নিচ্ছেন বলে। কিন্তু বাবা জানতেন না এটার পরিণতি কতটা ভয়ানক হতে পারে। ধীরে ধীরে যখন মায়ের সন্তান প্রসবের সময় হয়ে আসে। তখন’ই,,,,,!”
#ভয়ংকর_সে #পর্ব_২০
#M_Sonali

“ধীরে ধীরে যখন মায়ের সন্তান প্রসবের সময় হয়ে আসে। তখনই ঘটতে থাকে তার শারীরিক পরিবর্তন। দিন দিন তার শরীর শুকিয়ে একদম কঙ্কালের মত হয়ে যায়। চোখ দুটো চলে যায় গর্তে। দেখে যেন মানুষ মনে হতো না। পুরো একটা কঙ্কাল হয়ে যান তিনি। মাথার চুলগুলো সব পড়ে মাথা একদম টাক হয়ে যায়। এতে বাবা বেশ অবাক হন। তাকে হাজার রক্ত খাইয়েও শরীরে এক ফোঁটা রক্ত দেখা যায়না। সন্তান প্রসবের সময় মা মৃত্যুবরণ করেন। আর তখনই জন্ম হয় আমার। আমি যখন ওনার পেট থেকে ভূপৃষ্ঠ হই তখন মায়ের শরীরে এক ফোঁটা রক্ত ও অবশিষ্ট ছিল না। তার কারণ আমি পৃথিবীতে আসার আগে মায়ের শরীরের সমস্ত রক্ত চুষে নিয়েছিলাম।”

এতোটুকু বলে থামল শ্রাবণ। দু চোখ দিয়ে অঝোরে পানি গড়িয়ে পড়ছে তার। মুখটা বিষন্নতায় ছেয়ে আছে। তাকে এভাবে কাঁদতে দেখে চাঁদনীর বুকেও যেন কষ্টের পাহাড় গড়ে উঠলো। ভীষণ খারাপ লাগতে শুরু করলো তার। সে কি বলে সান্তনা দিবে ভেবে পাচ্ছেনা। এভাবে কেটে গেল বেশ কিছুটা সময়। শ্রাবণ আবারো বলতে শুরু করল,

“মায়ের মৃত্যুর পর বাবা অনেকটা ভেঙে পড়েন। তিনি দাদুর বিরুদ্ধে চলে যান। কারণ তিনি বুঝে গিয়েছিলেন মায়ের মৃত্যুর জন্য একমাত্র দাদু দায়ী। তিনি নিশ্চয়ই এমন কিছু করেছেন যার কারণে আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। আমাকেও তিনি একবারের জন্য মুখ ফিরে দেখেন নি। মাকে তিনি এতটাই ভালবাসতেন যে নিজের সন্তানের প্রতি এক ফোঁটা ভালোবাসাও কাজ করেনি তার মৃত্যুতে। বাবা যখন দাদুর কাছে রেগে যান। তার কাছে কৈফিয়ৎ চান। মায়ের সাথে এমন টা করার কারণ জানতে চান। তখন দাদু বিনা সংকোচে বলেন,

“হ্যাঁ আমি এটা ইচ্ছা করেই করেছি। কারণ আমি চেয়েছিলাম ভ্যাম্পায়ার রাজ্যের একজন উপযুক্ত রাজা ও উত্তরাধিকারী পেতে। আর যেটা জন্ম নিয়েছে তোমার ছেলে। তোমার ছেলে কোন সাধারন ভ্যাম্পায়ার নয়। তার মাঝে রয়েছে দুই সত্তার এক অপার ও ভয়ানক শক্তি। যে শক্তি আজ পর্যন্ত ভ্যাম্পায়ার রাজ্যের কারো মাঝে সৃষ্টি হয়নি। এমনকি আমার মাঝেও না। তুমি কি জানো প্রতিদিন তোমার বউকে আমি যে জরিবুটি খেতে দিতাম, সেটা কোন সাধারন জরিবুটি ছিল না। সেটা ছিল ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে সবচাইতে শক্তিশালী এবং ভয়ানক ভ্যাম্পায়ার হয়ে জন্ম নেওয়া মন্ত্রপূত জরিবুটি। যেটা তোমার বউ খাওয়ার কারণে প্রতিদিন তার পেটে তিল তিল করে বড় হয়ে উঠেছে ভ্যাম্পায়ার রাজ্যের উপযুক্ত উত্তরাধিকার। সে এতটাই শক্তিশালী হবে যে ভ্যাম্পায়ার রাজ্যের সকল ভ্যাম্পায়ার মিলে যদি তার উপর আক্রমন করে, তবুও তার একার শক্তি সকলের কাছে যথেষ্ট। কারো ক্ষমতা নেই তার ওপরে নিজের শক্তি প্রয়োগ করার। সে সকল ভ্যাম্পায়ারকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু তার এই শক্তির পরিপূর্ণতা পেতে তোমার সাহায্য প্রয়োজন। তোমার স্ত্রী তো মারা গেছে তাকে জন্ম দিতে গিয়ে। এখন তোমার তাকে সাহায্য করতে হবে।”

এতোটুকু বলে থামেন দাদু। কিন্তু উনার কথার কোন রকম উত্তর দেয় না বাবা। সে মাথা নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। তার মনের ভাব কোন কিছু বোঝা যাচ্ছিল না। দাদু আবারো বলতে শুরু করেন,

“আজ থেকে ২০ বছর অব্দি তোমার ছেলের দায়িত্ব আমার। তাকে দেখাশোনা তার যত্ন সবকিছু আমি করব। কিন্তু তার ২০ বছর বয়স হতে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি আমাবস্যা রাতে একটি করে কুমারী যুবতী মেয়ের রক্ত পান করতে হবে তাকে। তবে সেই মেয়েগুলোর বয়সও হতে হবে ২০ থেকে ২৫ এর মধ্যে। এভাবে ৫ আমাবস্যায় ৫ জন মেয়ের রক্ত পান করতে পারলেই সে পূর্ণ শক্তি ফিরে পাবে। বিশেষ করে মনুষ্য শক্তি পাবে। সে তখন মানুষের সাথে খুব সহজেই মিশে যেতে পারবে। মানুষের মত খেতে পারবে। মানুষের মত সূর্যের আলোতে বের হতে পারবে। এমন কি সে নিজ ইচ্ছায় সব করতে পারবে।”

এতোটুকু বলে থামল শ্রাবণ। চাঁদনী এতক্ষণ খুব মনোযোগ দিয়ে তার কথাগুলো শুনছিল। শেষ কথাগুলো শুনে সে বেশ ভালোই বুঝতে পারছে তাকে শ্রাবণ কেন তুলে নিয়ে এসেছিল। তার রক্ত খাওয়ার জন্য। কারণ তার বয়স এখন ২২ বছর। আর সে এখন কুমারী এবং যুবতী। তাই শ্রাবণের শক্তি লাভের জন্য সে একদম পার্ফেক্ট নারী ছিল। কিন্তু সেই সাথে আরো কিছু কথা ভেবে বেশ খটকা লাগে চাঁদনীর। এবার সে ভ্রু কুঁচকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে,

“তাহলে কি আপনি আপনার পূর্ণশক্তি পেতে ৫ আমাবস্যায় পাঁচজন কুমারি মেয়ের রক্ত খেয়েছেন? কিন্তু আমাকে তো এখনো কিছু করেননি। তাহলে আপনি এত শক্তিশালী কিভাবে হলেন শ্রাবণ?”

শ্রাবণ ওর প্রশ্নের কোন উত্তর দিল না। ওর দিকে একবার ফিরেও তাকাল না। সামনের দিকে দৃষ্টি রেখে আবার বলতে শুরু করল,

“দাদুর কথা সব কিছুই চুপচাপ শুনছিল বাবা। কোনরকম উত্তর দেয়নি সে। হঠাৎ দাদু দেখলো বাবা ছুটে যাচ্ছে আমার দিকে। দাদু তার ভাব বুঝতে পারে। তাই তার পিছনে ছুটে যায়। বাবা আমার গলা চেপে ধরে ঘাড়ে কামড় বসাতে চায় আমাকে হত্যা করার জন্য। কিন্তু তার আগেই দাদু তাকে আটকে ফেলে। দাদুর শক্তি বেশি হওয়ায় বাবা কিছুতেই তার সাথে পেরে ওঠে না। একসময় স্ত্রীর শোক এবং নিজের বাবার ওপর রাগে বাবা নিজেকেই নিজে শেষ করে দেওয়ার প্ল্যান করে। আর সে সেটাই করে। সে মায়ের মৃতদেহ কোলে নিয়ে ভ্যাম্পায়ার রাজ্য থেকে উড়ে কোথাও চলে যায়। দাদু তাকে অনেক খোঁজার চেষ্টা করেও খুঁজে পায়নি। তিনদিন পর তার মরদেহ নিয়ে ফিরে আসে ভ্যাম্পায়ারেরা। বাবা নিজেকে নিজে শেষ করে দিয়েছিল। সে দিনের বেলা সূর্যের তীব্র আলোতে বের হয়েছিল তাও আবার নগ্ন শরীরে। যার ফলস্বরূপ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কারণ ভ্যাম্পায়াররা কখনোই সূর্যের আলোতে বের হতে পারে না।”

এতোটুকু বলে কিছুক্ষণ দম নিল শ্রাবণ। তারপর আবারো বলতে শুরু করল,

“বাবার মৃত্যুর জন্য সারাক্ষণ নিজেকেই দায়ী মনে করি আমি। বাবা এবং মা দুজনের মৃত্যু হয়তো আমার কারনে হয়েছে। তারা যদি আমাকে পৃথিবীতে না আনতো তাহলে এমন হতো না। কিন্তু তবুও আমি আফসোস করি না। কারন দাদু যেটা করেছে সেটা ভ্যাম্পায়ার রাজ্য এবং মানুষের ভালোর জন্য করেছে। আজ আমার জন্ম যদি না হতো তাহলে কোন ভ্যাম্পায়ার দাদুর কন্ট্রোলে থাকত না। তারা ইচ্ছেমত পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে সকল মানুষের রক্ত চুষে তাদের মেরে ফেলতো। এতে অনেক ক্ষতি হতো সবার। তাইতো আমি সেই দায়িত্ব নিয়ে সবাইকে কন্ট্রোলে রেখেছি। কারণ আমার শক্তির কাছে সকল ভ্যাম্পায়ার এর শক্তি অচল।”

“সবই বুঝলাম শ্রাবন কিন্তু আপনি এখনো আমার প্রশ্নের উত্তর দেননি। আপনি এত শক্তি কি করে পেলেন? আমি সেটা জানতে চাই।”

বেশ গম্ভির গলায় কথাগুলা বলল চাঁদনী। ওর কথায় এবার অন্য দিক থেকে চোখ সরিয়ে ওর দিকে ফিরে তাকাল শ্রাবণ। ওর দিকে ঘুরে ওর ডান হাতটা নিজের দু হাতে বন্দী করল। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে করুন গলায় বলল,

“প্লিজ আমাকে ছেড়ে কখনো দূরে যেওনা চাঁদপাখি। ভুল বুঝে দূরে সরে থেকো না। আমি মানছি আমি তোমার মতই আরও পাঁচটি মেয়ের রক্ত চুষে তাদের হত্যা করেছে। কিন্তু এটা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না। পরিপূর্ণ শক্তিশালী হতে হলে সেটা করতেই হতো। জানিনা কিভাবে সেটা তোমার সাথে করতে পারিনি। তোমাকে এমন পাগলের মত ভালবেসে ফেলেছি যে তোমাকে ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেই পারি না। কিন্তু আমি তোমার বদলে অন্য একটি মেয়ের রক্তচুষে খেয়েছি। সে আর কেউ নয় তোমারি এক বান্ধবী। যে তোমার সাথে একই স্কুলে পড়তো। আমি জানি এটা জানার পর তুমি হয়তো আমাকে ভুল বুঝবে। রেগে যাবে। তাই তোমাকে বলতে চাইনি। কিন্তু তুমি জোর করে ধরলে তাই সকল সত্যি বলে দিলাম। এখন প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও। তুমি আমাকে ছেড়ে দূরে যেও না। আমি যতটা শক্তিশালী তার চাইতেও বেশি ভয়ংকর। আমি চাইনা নিজের ভয়ঙ্কর রূপ টা সামনে আনতে। তুমি যদি আমার থেকে দূরে যাও তাহলে আমি হিংস্র হয়ে উঠবো চাঁদ পাখি। যেটা হবে মানবজাতির জন্য অনেক ভয়ংকর ও আতঙ্কের।”
#ভয়ংকর_সে #পর্ব_২১
#M_Sonali

চাঁদনী ভয়ার্ত দৃষ্টিতে শ্রাবনের দিকে তাকাল। দুরু দুরু বুক নিয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে উঠল,

“আমার সে বান্ধবীর নাম কি শ্রাবণ? আপনি কি বলতে পারবেন?”

ওর কথার উত্তরে শ্রাবন একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। অন্যদিকে তাকিয়ে বলল,

“তার নাম শিউলি। তোমাদের পাশের এলাকার রহমত মিয়ার ছোট মেয়ে শিউলি।”

কথাটা শুনতেই যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল চাঁদনী। বুকের মধ্যে যেন ঝড় তুফান বয়ে যেতে লাগলো তার। নিজেকে পাগল পাগল মনে হতে লাগলো। সে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। দুচোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরলো। সে উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলল,

“এটা আপনি কি করেছেন শ্রাবণ? ওকে না মেরে আপনি যদি আমাকে মারতেন তবুও আমি এতটা কষ্ট পেতাম না। যতটা কষ্ট ওর মরে যাওয়া তে পেয়েছি। আপনি কিভাবে পারলে এমন নিষ্পাপ একটি মেয়ের জীবন এভাবে কেড়ে নিতে। আপনি জানেন ও শুধু আমার বান্ধবী নয় আমার বোনের মতো ছিল। যখন পুরো এলাকার সবাই আমাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করত, বারবার বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে। তখন ওই একমাত্র মেয়ে যে কিনা সারাক্ষণ আমায় সান্তনা দিতো। সেইসাথে আমাকে নিজের বোনের চাইতে বেশি ভালোবাসতো। আমি এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। ঘৃনা হচ্ছে আপনার উপর আমার। আপনি এটা কিভাবে করতে পারলেন।”

কথাগুলো বলতে বলতেই ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ল চাঁদনী। অঝোর ধারায় কান্না করতে লাগল সে। তার কথা শুনে এবং অবস্থা দেখে শ্রাবণ বেশ ঘাবড়ে গেল। সে উঠে দাড়িয়ে কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো,

“প্লিজ চাঁদনী আমার পুরো কথাটা তো শুনো। এভাবে ভেঙ্গে পড়না প্লিজ। আমাকে দোষারোপ করার আগে পুরো কথাটা তো শুনো।”

ওর কোনো কথায় কর্ণপাত করলো না চাঁদনী। শরীরের সমস্থ শক্তি দিয়ে ওকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে অঝোর ধারায় কান্না করতে করতে চিৎকার করে বলতে লাগল,

“আমাকে বাবার কাছে দিয়ে আসুন। আমি থাকতে চাই না আপনার মত একটি রাক্ষসের সাথে। আপনি তো মানুষ নন। আপনি একজন ভ্যাম্পায়ার। আপনার মনে দয়া মায়া ভালবাসা বলতে কিছু নেই। আপনি যদি ওমন মিষ্টি মেয়ে শিউলিকে মেরে ফেলতে পারেন, তাহলে আমাকে মেরে ফেলতেও আপনার হাত কাঁপবে না। আমি বুঝে গেছি আপনি আমার সাথে ভালোবাসার নাটক করছেন। আর নিশ্চয়ই অন্য কোন স্বার্থের জন্য আমাকে এখানে এভাবে নিয়ে এসেছেন। আমি আপনার সাথে থাকতে চাই না। আপনি যদি সত্যি আমাকে ভালোবেসে থাকেন তাহলে আমাকে মুক্তি দিন। ফিরিয়ে দিয়ে আসুন আমার বাবার কাছে। আর কখনো নিজের ঐ ধ্বংসকারী মুখটা আমার সামনে নিয়ে আসবেন না।”

কথাগুলো বলতে বলতেই হাতজোড় করে নিচে লুটিয়ে পরল চাঁদনী। ওর কথায় মুহূর্তে যেন ভয়ঙ্কর রূপ নিল শ্রাবণ। চোখ দুটো আগুনের মত জ্বলে উঠলো তার। হাতের মুঠো শক্ত করে উঠে দাঁড়ালো। দাঁত কিড়মিড় করে সেখান থেকে সরে একটু দুরে গিয়ে দাঁড়াল। কারণ সে জানে সে তার রাগকে কন্ট্রোল করতে পারে না। রাগ উঠে গেলে নিজের ভয়ংকর চেহারা টা সামনে চলে আসবে। যেটা চাঁদনীর জন্য মোটেও ভালো হবে না।

এভাবে কেটে গেল বেশ কিছুটা সময়। চাঁদনী অনেকক্ষণ কান্না করার পর নিজের চোখ মুছে নিলো। নিজেকে যতটা সম্ভব শান্ত করে ফ্লোর থেকে উঠে দাঁড়ালো। শ্রাবনের কাছে এগিয়ে এসে রাগী গলায় বলল,

“আপনি এখনো দাড়িয়ে আছেন কেন? আমাকে রেখে আসুন বাবার কাছে। আমি এখানে থাকতে চাইনা। দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার এখানে। আর যদি সেটা না করেন তাহলে আমাকেও শিউলির মত এক্ষুনি মেরে ফেলুন। আপনার রক্ত পিপাসা পূর্ণ করুন আমাকে মেরে ফেলে। তবুও আপনার সাথে থাকতে চাই না আমি।”

ওর কথার উত্তরে ভয়ংকর দৃষ্টিতে ওর দিকে ফিরে তাকালো শ্রাবণ। ওর এই দৃষ্টি দেখে যেন কেঁপে উঠল চাঁদনী। ভয়ে আনমনেই দুপা পিছিয়ে গেল সে। শ্রাবনের চোখ দুটো একদম রক্তের মতো লাল টকটকে হয়ে আছে। হাতের নখ গুলো লম্বা লম্বা হয়ে গেছে। সেই সাথে চেহারার রংটাও পাল্টে লাল বর্ণ ধারণ করেছে। তাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে অসম্ভব রকম রেগে আছে সে। এই মুহূর্তে যেন চোখ দিয়ে সবকিছু ভস্ম করে দিবে সে। চাঁদনী কে ভয় পেতে দেখে মুহূর্তেই নিজের স্বাভাবিক রূপে ফিরে এলো শ্রাবণ। আবারো চাঁদনীর ডান হাতটা নিজের দু হাতের মধ্যে চেপে ধরে আবেগি কন্ঠে বলল,

“দেখো চাঁদনী আমি তোমাকে বারবার বলেছি। আবারো বলছি। তুমি যদি আমার থেকে দূরে সরে যাও। তাহলে তোমাকে দূরে যাওয়ার বিরহ সইতে পারবো না আমি। আর সেটা হবে মানব জাতির জন্য ভীষণ ভয়ানক। কারণ আমি যদি একবার রেগে যাই তাহলে রাগের উপর নিজের কন্ট্রোল থাকবে না। তখন আমি কি করছি না করছি কোন হুশ থাকে না। যার কারণে সামনে যাকে পাব তাকে হ-ত্যা করতে এক মুহুর্ত ভাববো না আমি। পরিণাম হবে ভীষণ ভয়াবহ। পরিপূর্ণ শক্তি পেয়ে যাওয়ার পর আমি আরো বেশি হিংস্র হয়ে উঠেছি। সেই হিংস্রতা শুধুমাত্র তুমি সামনে থাকলে প্রকাশ পায় না। প্লিজ বোঝার চেষ্টা করো আমি তোমার বান্ধবীকে মারতাম না। কিন্তু আমাবস্যা রাতের জন্য আমার একটি কুমারী যুবতি ২০ থেকে ২৫ বছরের মেয়ের প্রয়োজন ছিল। যার রক্ত চুষে না মারলে আমি শক্তি পেতাম না। আর এখনকার যুগে ২২ বছরের কোন মেয়ে কুমারী থাকাটা অনেক দূষ্কর। এর মাঝে খুঁজে শুধু তুমি এবং তোমার সেই বান্ধবীকে পেয়েছি। তোমাকে আমি কিছুতেই মা-রতে পারবোনা বলেই তোমার বান্ধবীর রক্ত খেয়ে তাকে হ-ত্যা করতে হয়েছে আমার।”

চাঁদনী নিজের হাতটা ঝাড়ি মেরে ছাড়িয়ে নিল। কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে বললো,

“আপনি নিজেই বলছেন আপনি কতটা হিংস্র। কোন মানুষকে খুন করতে এক মুহূর্ত সময় লাগবে না আপনার। তারপরেও আপনি কীভাবে ভাবলেন আপনার সাথে আমি থাকবো? কিছুতেই না। আপনাকে আমি ঘৃণা করি। আই হেইট ইউ। কখনো যদি কাউকে ভালবাসতে হয় সেটা কোন মানুষকে বাসবো। আপনার মত কোন মানুষ রুপি ভয়ংকর ভ্যাম্পায়ারকে নয়। আমাকে ভালোভাবে বাবার কাছে রেখে আসুন। নইলে এখান থেকে বের হয়ে যাব। তাতে যদি আমার মৃত্যু হয় তাতেও কোন সমস্যা নেই।”

কথাটি বলেই নিজের চোখ মুছে নিয়ে দরজা খুলে বাইরে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলো চাঁদনী। সাথে সাথে তাকে গিয়ে আটকে দিল শ্রাবণ। রাগে তার চোখ জ্বলছে। তবুও কোনো কথা না বলে চাঁদনীকে কোলে তুলে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে উড়াল দিলো সে।
,
,
,
তিন দিন পর সকাল বেলা,
সকালে চারিদিকের চিৎকার চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙলো চাঁদনীর। সে ঢুলুঢুলু চোখে উঠে বসলো। চারিদিকে এত শোরগোল কিসের সেটা জানার জন্য বেশ কৌতূহল বাসা বাঁধলো তার মনে। তাই দ্রুত বিছানা থেকে উঠে ওড়নাটা গায়ে জড়িয়ে নিয়ে দরজা খুলে বাইরে বের হল। দেখল তাদের বাসার মেইন দরজা খোলা। বাসার মাঝে দাদি বা বাবা কেউই নেই। মনে এক অজানা আতঙ্ক বাসা বাঁধলো তার। সে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে গেল। বাইরে বেড়িয়ে দেখলো দুজন মহিলা মাটিতে বসে কান্না করছেন। তাদের ঘিরে দাড়িয়ে আছে অসংখ্য এলাকা বাসি। সেখানে এগিয়ে গেল সে। সেখানে তার বাবা আর দাদিও উপস্থিত আছেন।

চাঁদনী গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গিয়ে তার দাদির কাছে দাড়ালো। কিছুটা নিচু হয়ে দাদিকে জিজ্ঞেস করল,

“কি হয়েছে দাদি, ওনারা এভাবে কান্না করছেন কেন? আর আশেপাশে এত লোক জড়ো হয়েছে কেন?”

দাদি ফিসফিস করে তার কথার উত্তর দিয়ে বললো,

“গত দুদিনের মত আজকে রাতেও গৃহপালিত পশুর রক্তশূন্য লা-শ পাওয়া গেছে। যারা কাঁদছে তাদের একটি বড় খামার ছিল। যেখানে প্রায় ৩৫ টি গরু এবং দশটি ছাগল ছিল। সকালে উঠে সবগুলো গুরু এবং ছাগলের রক্তশূন্য লাশ পাওয়া গেছে। এত বড় শোক কি আর সামাল দেওয়া যায় বল। তাই এভাবে কান্না করছে তারা। আল্লাহই জানে এলাকাতে আবার কি শুরু হয়ে গেল এসব। কিছুদিন তো সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল।”

চাঁদনী কোন কথা বলল না। দাদির কাছ থেকে ধীরে ধীরে সরে এলো। তারপর সোজা নিজের রুমে চলে এলো। দরজা লাগিয়ে দিয়ে বিছানার উপর চুপচাপ বসলো। রাগে যেন তার শরীর ফেটে যাচ্ছে। কারণ সে বেশ ভালো করেই জানে এই সবকিছুর পেছনেই আছে শ্রাবণ। সে’ই একমাত্র লোক যে কিনা এসব ঘটাচ্ছে। এমনিতেই শ্রাবনের ওপর আর কোন মায়া মহাব্বত নেই তার। এসব করার কারণে আরো বেশি রাগ হচ্ছে তার উপর। এই মুহূর্তে শ্রাবণ কে সামনে পেলে হয়তো সে’ই শ্রাবণের রক্ত চুষে খেতো। রাগে সে কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। তখনই তার মনে পড়ে গেল শ্রাবণের দেওয়া সেই পালকটার কথা। যেটা সে অনেক আগেই নিজের হাত থেকে খুলে ড্রয়ারের মধ্যে রেখে দিয়েছে। সে দ্রুত উঠে ড্রয়ারের কাছে চলে গেল। ড্রয়ার খুলে পালক টা বের করে নিয়ে আবারো বিছানার ওপরে এসে বসলো সে। তারপর পালকটার ওপর হাত বুলিয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বললো,

“কোথায় আপনি শ্রাবণ। এই মুহূর্তে এখানে আসুন। আপনার সাথে কথা বলতে চাই আমি।”

চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here