#মাফিয়া_ক্রাশ_বর_২
#পর্বঃ ৩৯
#লেখিকাঃ_মার্জিয়া_রহমান_হিমা
অভিদ, রায়হান, তুষার, নিলয় চারজন নিলয়ের রুমে বসে গল্প করতে থাকে। অভিদের আর নিলয়ের রুম পাশাপাশি তাই অভিদ নিশ্চিন্তে বসে রয়েছে।
সকালে রুহির ঘুম ভাঙার পর চোখ খুলেই সামনে অভিদের মুখটা দেখতে পায়। রুহি উঠে বসতে চাইলে দেখে অভিদ তার হাত দিয়ে রুহির পেট জড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে। রুহি হাত সরাতে চাইলে অভিদ আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। রুহি মুখ ফুলিয়ে আবার শুয়ে পরে। অভিদ রুহিকে জড়িয়ে ধরে আরামে ঘুমিয়ে থাকে।
কিছুক্ষণ পর দরজায় নক হতেই রুহি আবারও উঠে বসে। অভিদকে ঠেলতে থাকে উঠানোর জন্য। কিছুক্ষণ ডাকা ডাকি করার পর অভিদ চোখ খুলে তাকায়। রুহি রেগে আগুন চোখে তাকিয়ে বলে
” এভাবে কেউ ঘুমায় ? আমাকে কোলবালিশের মতো জড়িয়ে ধরে রেখেছেন। উঠতেও পারছি না।”
অভিদ শব্দ করে হেসে উঠে। রুহির হাত জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে
” তুমি তো আমার কোলবালিশই। ঘুমাতে দাও আর একটু।”
রুহি অভিদের থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলে
” যতো ইচ্ছে ঘুমান তবে আমাকে ছাড়ুন। দরজায় নক করছে শুনছেন না ?”
অভিদ রেগে বলে
” এদের কোনো টাইম নেই। যখনই ঘুমাবো বা কোনো কাজে ব্যস্ত থাকবো তখনই এসে বিরক্ত করবে।”
রুহি দ্রুত বেড থেকে নেমে নিজেকে ঠিক করে দরজা খুলে দেয়। দরজা খুলেই দেখে একজন লেডিস সার্ভেন্ট দাঁড়িয়ে রয়েছে। রুহি কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই মেয়েটা মাথা নিচু করে বলে উঠে
” ম্যাম ! সোহাদ স্যার হসপিটাল থেকে চলে এসেছে। অভিদ স্যার উঠলে বলেছে নিচে যাওয়ার জন্য।”
রুহি সোহাদ রায়জাদার নাম শুনে কিছুটা ভয় পেয়ে যায় তবে হসপিটালের কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে বলে
” হসপিটাল থেকে মানে ? কি হয়েছিলো তার ?”
অভিদ সব শুনতে পেয়ে দ্রুত শোয়া থেকে উঠে আসে। রুহির কাছে এসে বলে
” চাচ্চুর প্রেশার ফল করেছিলো তাই হসপিটালে নিয়ে যেতে হয়েছিলো।” রুহি ভ্রু কুঁচকে বলে
” আমাকে তো কেউ কিছুই বললো না।”
অভিদ গম্ভীর গলায় সার্ভেন্টের উদ্দেশ্যে বলে
” তুমি নিচে যাও। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।” মেয়েটা মাথা নেড়ে চলে গেলো। অভিদ দরজা লক করতেই রুহি বলে উঠে
” আপনারা আমাকে কেউ চাচ্চুর কথা বলেননি কেনো ?”
অভিদ গম্ভীর গলায় বলে
” কেনো জানালে কি হতো ? ওই লোকটার কথা জানতে হবে না তোমাকে। তোমার সাথে কি করেছে ভুলে গিয়েছো নাকি ? ওই শকুনের সামনেও যাবে না তুমি।”
রুহি অবাক হয়ে বলে
” আপনি…”
অভিফ রুহিকে কথা বলার আগেই হাতের ইশারায় থামিয়ে দিয়ে গম্ভীর গলায় বললো
” আমি এমনি এমনি কাউকে শকুন বলছি না। উনি এমন কিছু করেছে যার কারণে তাকে শকুন বলছি।”
রুহি ধৈর্যহারা হয়ে বলে
” কিন্তু কি এমন করেছে ? আমি জানতে চাই সেটা। গতপরশু দিন আমার সাথে কেনো এমন করেছিলো ?”
অভিদ রেগে বলতে থাকে
“তুমি সত্যি কথা জানতে চাও ? তাহলে শোনো। আমি কালকের যেই বিশ মেশানো ছুরিটা এনেছিলাম সেটা দিয়ে সোহাদ রায়জাদার হাতেই আঘাত করেছিলাম। আরো সত্যি জানতে চাও ? তোমার কয়েক মাস আগে যেই এক্সিডেন্ট হয়েছিলো। যেই এক্সিডেন্টে তুমি আমাকে ভুলে গিয়েছো সেই এক্সিডেন্টও এই সোহাদ রায়জাদা করিয়েছিলো শুধুমাত্র আমার জীবন থেকে তোমাকে সরিয়ে আমাকে পাগল করে আমার সব প্রোপার্টি নিজের করে নেওয়ার জন্য।”
রুহি হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। অভিদ চুল টেনে টেনে নিজের রাগ কনট্রোল করতে থাকে। রুহি দুই পা পিছিয়ে যায় মাথায় হাত দিয়ে। অভিদ ছুটে রুহির দুই কাধ ধরে অস্থির হয়ে বলে
” ঠিকাছো তুমি ?”
রুহি মাথা নেড়ে হ্যা বলে। রুহি ছলছল করে অভিদের পানে তাকিয়ে জড়ানো গলায় বলে
” আমি উনার কি ক্ষতি করেছিলাম ?”
অভিদ রুহিকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত রেখে বলে
” তুমি কিছুই করোনি। নিজের স্বার্থের জন্য সোহাদ রায়জাদা সব কিছুই করতে পারে। আমার জীবন থেকে তোমাকে সরানোর জন্য এমন করেছে। আরো অনেক সত্যি জানো তুমি তবে স্মৃতি হারিয়ে যাওয়ায় কিছু মনে নেই তোমার। তুমি এটাও জানতে আমি একজন মাফিয়া।”
রুহি চমকে অভিদের দিকে তাকালো। অভিদ শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রুহি কাঁপা কাঁপা গলায় বলে
” আপনি মাফিয়া ?”
অভিদ রুহির সামনে হাটু গেড়ে বসে রুহির হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে অসহায় গলায় বলে
” আমাকে ভয় পেয়ো না প্লিজ ! তোমার সব কিছু যেদিন আবারও মনে পড়বে সেদিন বুঝতে পারবে আমি কেমন। আমি শুধুমাত্র সোহাদ রায়জাদাকে শেষ করার জন্য এই পথে নেমেছিলাম কিন্তু আজ অনেক কিছুর সাথেই জড়িয়ে গিয়েছি আমি। তবে আমার উপর বিশ্বাস রাখতে পারো। আমার মতে ভালো মানুষদের সাথে এখনও পর্যন্ত খারাপ কিছু করিনি।”
রুহি নিশ্চুপ ভাবে বসে আছে। অভিদ রুহির দুই গালে হাত রেখে অসহায় গলায় বলে
” প্লিজ রুহি ! আমার উপর এইটুকু বিশ্বাস রাখো ! তুমি যদি আমার থেকে দূড়ে সরে যাও তাহলে আমি আমার খেলার শেষ পর্যায়ে এসে না খেলেও হেরে যাবো।”
রুহি চোখ বন্ধ করে বড় একটা নিশ্বাস নিয়ে বলে
” বিশ্বাস করতে পারি যদি আপনি সব কিছু খুলে বলেন আবারও। আমার আগের কথা মনে পড়বে কিনা সেটা তো জানি না। তবে আপনাকে বিশ্বাস করার জন্য যতোটুকু সত্যি জানার দরকার তা কি জানতে পারি না ?”
অভিদ মুচকি হেসে বলে
” ঠিকাছে সব বলবো তবে আমাকে আর দুইদিন সময় দাও তারপর।”
রুহি আলতো হাসলো। অভিদ অন্যায় কাজ করবে না সেই বিশ্বাসটা অভিদের প্রতি রয়েছে।
অভিদ ফ্রেশ হয়ে রুহিকে ফ্রেশ হতে বলে নিচে চলে গেলো।
নিচে এসে দেখে সোহাদ রায়জাদা হেলান দিয়ে আরামে সোফায় বসে রয়েছে। আর তার ব্যান্ডেজ করা হাতটা গলা ঝুলছে। অভিদ বাকা হাসি দিয়ে সোহাদ রায়জাদার কাছে এগিয়ে আসে। সোহাদ রায়জাদার সামনে তব্দা মেরে বসে আছে রায়হান। সোহাদ রায়জাদার জন্য উঠে চলে যেতেও পারছে না। সকাল সকাল তার আরামের ঘুমের চব্বিশটা বাজিয়ে দিয়েছে। রায়হানের ইচ্ছে করছে সোহাদ রায়জাদার মাথা ফাটিয়ে দিতে কিন্তু সেটা চাইলেও পারবে না এখন।
অভিদ সোহাদ রায়জাদার সামনে বসে বলে
” চাচ্চু এতো সকাল সকাল চলে এলে কিভাবে তুমি ? আমি তো বলেছিলাম দুপুরের পর গিয়ে তোমাকে নিয়ে আসবো।”
সোহাদ রায়জাদা হা হা করে হেসে বলে
” আরে আমাকে আবার নিয়ে আসার কি আছে ? আমি কি বাচ্চা নাকি ? আমি একা একাই চলতে পারি। তাছাড়া আজকে আমার একটা কাজ রয়েছে।”
অভিদ ভ্রু কুঁচকে বলে
” এখন আবার কিসের কাজ ? এই শরীর নিয়ে কোথাও যাওয়ার দরকার নেই।”
সোহাদ রায়জাদা মাথা নেড়ে বলে
” না আমাকে আজকে যেতেই হবে। আমার জন্য অনেক বড় একটা কাজ। আসলে আমি নতুন করে আবারও আমার সেই অফিসটার কাজ শুরু করতে চাই।”
অভিদ জেদ ধরে বলে
” না চাচ্চু সে যাই বলো না কেনো। তুমি কোথাও যাবে না এই শরীর নিয়ে। আর আমার মনে হচ্ছে তোমার জন্য একজন assistan প্রয়োজন। আমি সে সবের ব্যবস্থা করছি তোমার জন্য।”
সোহাদ রায়জাদা আমতা আমতা করে বলে
” আমি নিজেই কাউকে খুঁজে নেবো তোমার আর ঝামেলা করতে হবে না। এমনি তোমার কতো কাজ অফিসের। একটা না দুটো না কতোগুলো অফিসের মালিক তুমি। আমিই কাউকে খুঁজে নেবো। আর আজ আর কালকে আমাকে একটু বের হতে হবে কাজের জন্য।”
অভিদ চিন্তিত ভাব নিয়ে বলে
” তাহলে আমিই তোমাকে নাহয় নিয়ে যাবো ! তাহলে তোমাকে নিয়ে আমার আর কোনো টেনশন থাকবে না।”
সোহাদ রায়জাদা ঢোক গিলে শক্ত গলায় বলে
” না অভিদ প্লিজ ! তুমি এভাবে আমার জন্য সনয় নষ্ট করো না। তাহলে আমার মনে কষ্ট হবে। আমার জন্য তোমার গুরুত্বপূর্ণ সময় গুলো নষ্ট হবে ভেবে। আমার কথাটা একটু ভেবে দেখো। তুমি নিশ্চই আমাকে নিজের কাছে ছোট দেখাতে চাইবে না।”
অভিদ নিশ্বাস ফেলে মলিন স্বরে বলে
” ঠিকাছে। তুমি যা বলবে তাই হবে। তবে তোমার কোনো রকম প্রবলেম হলে বা আমাকে দরকার হলে নিশ্চই আমাকে বলবে।”
সোহাদ রায়জাদা মাথা নেড়ে হ্যা বলে। সোহাদ রায়জাদাকে তার গার্ডরা উপরে নিয়ে যায়। রায়হান দাঁতেদাঁত চেপে বলে
” শালা যাবে ড্রাগস এর ব্যবসা করতে আর বলে কিনা অফিসের কাজে যাবে !”
অভিদ বিরক্তির সঙ্গে রায়হানের দিকে তাকায়।রায়হান রেগে বলে
” কি তুই আবার কি বলবি ?”
অভিদ রায়হানের মাথস্য গাট্টা মেরে বলে
” হাদারাম ! তোকে যদি বলেই দেয় কি কাজ করতে যাচ্ছে তাহলে আর একে ধরার জন্য আমরা এতো কিছু করতাম না। আমাদের কাছে বলতে পারলে পুলিশের কাছেও বলতে পারতো। আর পুলিশরা নিজ দায়িত্বে একে সরিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দিতো।”
রায়হান মাথা ঘষতে থাকে। মাঝে মাঝে বোকার মতো কথা বলে কেনো নিজেই বুঝতে পারে না। মিশু উপর থেকে দাঁড়িয়ে রায়হানকে দেখে হাসতে থাকে।
#মাফিয়া_ক্রাশ_বর_২
#পর্বঃ ৪০
#লেখিকাঃ_মার্জিয়া_রহমান_হিমা
রায়হান মাথা ঘষতে থাকে। মাঝে মাঝে বোকার মতো কথা বলে কেনো নিজেই বুঝতে পারে না। মিশু উপর থেকে দাঁড়িয়ে রায়হানকে দেখে হাসতে থাকে।
কিছুক্ষণ পর অভিদ রুহির জন্য ব্রেকফাস্ট নিয়ে নিজের রুমে আসে। এসে দেখে রুহি টিভির সামনে বসে আছে কিন্তু তার চোখ ব্যালকনিতে।
অভিদ হাতের জিনিস গুলো রেখে রুহির পাশে গিয়ে বসে। রুহির খেয়ালও নেই যে অভিদ তার পাশে এসে বসেছে। অভিদ দুইবার রুহিকে ডাকলো কিন্তু কোনো লাভ হলো না। রুহি এক ধ্যানে বসে রয়েছে। অভিদ এবার রুহির কাধ ঝাঁকিয়ে ডেকে উঠতেই রুহি চমকে উঠে। রুহি অভিদকে দেখে বলে
” কি হয়েছে ?” অভির রেগে বলে
” কি হয়েছে মানে ? এতোক্ষণ ধরে ডাকছি তোমাকে আর তুমি কোন ধ্যানে হারিয়েছিলে ?”
রুহি মাথা নেড়ে বলে
” নাহ কোনো ধ্যানে না। বলুন কি বলবেন।”
অভিদ খাবার গুলো এনে রুহির সামনের টি টেবিলে রেখে বলে
” নাও তোমার ব্রেকফাস্ট।”
রুহি আলতো হেসে বলে
” আপনি ব্রেকফাস্ট করেছেন ?” অভিদ তার অফিসের ড্রেস বের করছিলো রুহির প্রশ্ন শুনে বলে
” নাহ রেডি হয়ে খেয়ে চলে যাবো।”
রুহি অভিদের হাত ধরে আবদারের স্বরে বলে
” আজকে আমার সঙ্গে ব্রেকফাস্ট করবেন?”
অভিদ শান্ত দৃষ্টিতে রুহির দিকে তাকালো। রুহি আবদার ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। অভিদ তার হাতের কাপড়গুলো রেখে রুহির সামনে বসে রুহির হাতগুলো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলে
” তুমি কি ভয় পাচ্ছো? আমার সব কথা শোনার পর তুমি আমার থেকে দূড়ে চলে যাবে সেই কথা ভাবছো?”
রুহি মাথা নিচু করে বলে
” আপনার উপর আমার বিশ্বাস আছে। আমি সেসব মিন করে কিছু বলিনি। একা খাবো তাই এমনি বলছিলাম আর কি !”
অভিদ হালকা হেসে বলে
” ঠিকাছে মন খারাপ করতে হবে।” রুহি আলতো হাসলো। দুজনের ব্রেকফাস্ট শেষ হতেই অভিদ রেডি হয়ে রায়হানের সাথে অফিসে চলে যায়।
সন্ধ্যার পর….
সোহাদ রায়জাদা তার বডিগার্ড দের নিয়ে তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়ে।
এদিকে অভিদ, রায়হানরা নিজেদের তৈরি করতে থাকে ঠিক সময়ের জন্য।
সোহাদ রায়জাদা নিজের গন্তব্যে পৌঁছে নিজেদের কাজ শুরু করে দেয়। অনেক খাবারের মাঝে ড্রাগস ঢুকিয়ে দিচ্ছে। আবার অনেক মালামালের বক্সের নিচে নিচে বা মাঝে মাঝে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এভাবে প্রায় অগণিত প্রোডাক্টিস প্যাকিং করতে থাকে। যে গুলোর কাজ শেষ সেগুলোকে গাড়িতে উঠিয়ে রাখা হচ্ছে। হঠাৎই গোডাউনে একটা বোম ফাটার মতো আওয়াজ হয়। সবাই ভয়ে লাফিয়ে উঠে। গোডাউনে কাজ করা লোকদের মধ্যে একজন ভয়ে ভয়ে বলে
” স্যার আপনার যম এসে পড়েছে মনে হচ্ছে।”
সোহাদ রায়জাদা রেগে বলে
” মানে ? কিসের যম ?”
লোকটা ঢোক গিলে বলে
” স্যার সেই O.R.R. মাফিয়ার কথা বলছি আমি। লোকটা সব সময় আপনার কাজে ব্যাগড়া দেয় শুনেছি তাই বলছিলাম আর কি।”
সোহাদ রায়জাদা শয়তানি হাসি দিয়ে বলে
” আজকে ওকে আমার হাত থেকে কে বাঁচায় সেটাও আমি দেখছি। তোরা তোদের কাজ কর।”
সোহাদ রায়জাদা বড় বড় পা ফেলে বেড়িয়ে আসে গোডাউন থেকে। বের হতেই দেখলো ধোঁয়ায় চারপাশ অস্পষ্ট হয়ে রয়েছে। সোহাদ রায়জাদার পেছন পেছন তার সাঙ্গপাঙ্গরা এসে হাজির। সোহাদ রায়জাদা তার গার্ডদের ইশারায় চারপাশ দেখতে বলে। তারা চারপাশে খোঁজায় ব্যস্ত হয়ে পরে। ধোঁয়ার মাঝে খুঁজতে খুঁজতে তারা অনেক দূড় এগিয়ে যায় তখনই অভিদের লোকের এসে ওদের আঘাত করে একেক জনকে নিশ্চুপ ভাবে সরিয়ে নেয়।
সোহাদ রায়জাদা চেঁচিয়ে বলে উঠে
” খুঁজে পেয়েছিস কাউকে ?”
” আমি ধরা দিলে তো আমাকে খুঁজে পাবে !”
ভারী কন্ঠের আওয়াজ শুনে সোহাদ রায়জাসা সামনে তাকালো। অস্পষ্ট ভাবে একজনকে দেখতে পেলো। ধীরেধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠে সেই ব্যক্তি। শরীরে ব্ল্যাক লং কোট পড়া মুখে রুমাল মাস্ক হাতে গান। চোখ গুলো অগ্নির লাগাভার মতো লাল হয়ে রয়েছে। পেছন থেকে আরেকজন বেড়িয়ে আসে একই বেশে শুধুমাত্র তার ড্রেস কালা হোয়াইট। সোহাদ রায়জাদার কাছে মনে হলো দুজনই যুবক। সোহাদ রায়জাদা ভ্রু কুঁচকে বলে
” কে তোমরা ?”
ব্ল্যাক কোট পড়া অভিদ তার ভারী গলায় ঠাট্টার সঙ্গে বলে উঠে
” How strange ! এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে আমাদের ? তোমার অফিস পোড়ালাম, তোমার এতো কাজের বাধা হলাম, হাত অকেজো করে দিলাম আর তুমি বলছো কিনা আমাদের ভুলে গিয়েছো ?”
রায়হান তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে বলে
” কি যে বলছো ! সোহাদ রায়জাদা এতো সহজে O.R.R. মাফিয়া কিং কে ভুলতে পারে নাকি ? একমাত্র শত্রু বলে কথা !”
সোহাদ রায়জাদার মুখে বড় একটা হাসি দেখা গেলো। সোহাদ রায়জাদা অট্টহাসি দিয়ে বলে উঠে
” আমি তো ভেবেছিলাম O.R.R. মাফিয়া কিং শুধু পেছন থেকেই ছুরি মারে। আমার সামনে এসে দাঁড়ানোর ক্ষমতা বা সাহস কোনোটাই নেই। যাই হোক না কেনো তোমার এন্ট্রি আমি আশা করিনি।”
অভিদ তাচ্ছিল্য হেসে বলে
” আমি পেছন থেকেও ছুরি মারতে পারি আর সামনে থেকেও আরো ভালো করে ছুরি মারতে পারি। পেছন থেকে ছুরি মারার প্রমাণ তো পেলে এবার সামনে থেকে ছুরি মারার প্রমাণও পেয়ে যাবে।”
সোহাদ রায়জাদা অভিদ আর রায়হানের পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে বলে
” তাই বুঝি ? তা হলে এবার মুখের কাপড়টাও নাহয় সরিয়ে ফেলো ! সামনে যখন এসে পরেছো তাহলে দেখেই নেই তুমি আমার কোন শত্রুর, বাড়ির প্রতিভা। যে আমার এতো বছরের সব পরিশ্রম আমার অজান্তে এক নিমিষেই মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছে।”
অভিদ হাসতে হাসতে বলে
” আমাকে দেখার এতো ইচ্ছে ? আমাকে দেখে ধাক্কা সহ্য করতে পারবে তো ? এমনি তো নিজের দোষে নিজের এক হাত হারিয়ে বসে রয়েছো।”
সোহাদ রায়জাদা রাগে কিড়মিড় করতে করতে বলে
” আমি কারো কোনো ক্ষতি করিনি। তবে তুই আমার সব কিছু কেড়ে নিয়েছিস।তোকে আমি ছাড়বো না।”
সোহাদ রায়জাদা অভিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তেই অভিদ তার নাক বরাবর পাঞ্চ করে। সোহাদ রায়জাদা নাকে হাত দিয়ে পিছিয়ে যায়। হাত সামনে এনে দেখে রক্ত পড়ছে নাক থেকে। সোহাদ রায়জাদা চেঁচিয়ে তার গার্ডদের ডাকতে থাকে কিন্তু কেউ আসছে না। সোহাদ রায়জাদা রেগে অভিদ আর রায়হানের দিকে তাকায়। এবার রায়হান এগিয়ে সোহাদ রায়জাদাকে আঘাত করে। অভিদ সোহাদ রায়জাদার মাথায় পরপর কয়েকবার গান দিয়ে আঘাত করে। সোহাদ রায়জাদার এক হাত তার উপর মার খেয়ে আর কোনো প্রতিবাদ করতে পারলো না। মাথা ফেটে রক্ত পড়তে থাকে তার। তিনি অজ্ঞান হয়ে নিচে পরে যায়।
অভিদ রায়হান ভেতরে গিয়ে দেখে অভিদ দের লোকেরা প্রায় অনেক কেই আহত,নিহত করে ফেলেছে। অভিদ সবাইকে থামতে বলে পুলিশকে ফোন করে।
অভিদ আর রায়হান তাদের লোক দিয়ে সোহাদ রায়জাদাকে সরিয়ে ফেলে পুলিশ আসার আগে।
পুলিশ এসে সবাইকে নিয়ে গেলো আর সেই গোডাউনও ড্রাগস সহ বন্ধ করে দিলো।
অভিদ, রায়হান সোহাদ রায়জাদাকে বাড়িতে নিয়ে যায়।
সকালে সোহাদ রায়জাদার ঘুম ভাঙতেই রুমের চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে। নিজেকে বাড়িতে দেখে অবাক হয়ে গেলো।
সোহাদ রায়জাদা মাথা ধরে বুঝতে পারে তার মাথায় ব্যান্ডেজ। মাথা ধরে তার কেমন কেমন লাগলো তাই বিছানা থেকে নেমে আয়নায় সামনে গিয়ে দাঁড়াল।।মিররের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে তিনি নিজেকে চিনতে পারলো না। কিছুক্ষণ পর নিজের অবস্থা বুঝতে পেরে সোহাদ রায়জাদা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সোহাদ রায়জাদা ঘর কাঁপিয়ে হঠাৎ এক চিৎকার করে বসে।
তার চিৎকার নিচে কারোর কানে পৌঁছোলো না। কারণ তারা প্রত্যেকে কানে তুলো গুঁজে রেখেছে অনেক আগে থেকেই। যে যার যার কাজ করছে।অভিদ আর রায়হান স্টাডি রুমে বসে বসে সোহাদ রায়জাদাকে দেখে অট্টহাসি হাসছে।
সোহাদ রায়জাদা দৌড়ে নিচে নেমে আসে। চেঁচিয়ে সবাইকে ডাকতে থাকে। কিন্তু কেউ তো শুনতেই পাচ্ছে না তার কথা। শেষে রাইমা উপর থেকে চেঁচাতে চেঁচাতে বেড়িয়ে আসে
” সাত সকালে গণ্ডারের মতো চেঁচানো শুরু করেছে কে ? বলি এই প্যালেসের মতো বাড়িটাকে কি জঙ্গল বানিয়ে ফেলার প্ল্যান করছে নাকি এই বুড়ো গণ্ডার গুলো ? একটু ভালো করে ঘুমাতেও পারছি না।”
সোহাদ রায়জাদা রেগে আগুন হয়ে বলে
” কি বললে তুমি ? আমি বুড়ো গণ্ডার ? এতোবড় সাহস কি করে হয় তোমার ?” রাইমা ফ্যালফ্যাল করে কিছুক্ষণ সোহাদ রায়জাদার দিকে তাকিয়ে থেকে পরে ফিকফিক করে হেসে দেয়। সোহাদ রায়জাদা আরো রেগে যায়। রাইমা হাসতে হাসতে কৌশিকা রায়জাদা, তুষার, অনি, মিশু, রুহি সবার কানের তুলো খুলে দিলো। সোহাদ রায়জাদা দেখিয়ে দিতেই তারাও হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াগড়ি খেতে থাকে।
সোহাদ রায়জাদার এই বুড়ো বয়সেও ঘন কালো চুল ছিলো। কিন্তু সেগুলোর জায়গায় আজ কোনো কিছুই নেই। সেই ঘন কালো চুলের জায়গায় আজ তেলে চ্যাপচ্যাপে টাকদেখা যাচ্ছে।
#মাফিয়া_ক্রাশ_বর_২
#পর্বঃ ৪১
#লেখিকাঃ_মার্জিয়া_রহমান_হিমা
সেই ঘন কালো চুলের জায়গায় আজ তেলে চ্যাপচ্যাপে টাক দেখা যাচ্ছে। রুহিরা সবাই হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। সোহাদ রায়জাদার মাথায় প্রচণ্ড রাগ চড়া দিয়ে উঠে। সোহাদ রায়জাদা চেঁচিয়ে বলে উঠে
” অভিদ ! অভিদ ! কোথায় তুমি ? রায়হান !”
অভিদ রায়হানকে স্টাডি রুম লক করতে বলে ছুটে নিচে যায়। অভিদকে দেখেই সোহাদ রায়জাদা রেগে চেঁচিয়ে বলতে থাকে
” আমার অবস্থা কিভাবে হয়েছে ? আমি বাড়িতে কিভাবে ?”
অভিদ শান্ত গলায় বলে
” কালকে কয়েকজন লোক তোমাকে বাড়ির সামনে রেখে গিয়েছিলো। গার্ডরা দেখে আমাকে সব জানাতেই আমি হসপিটালে নিয়ে যেতে বলি। হসপিটালে যাওয়ার পর ডক্টর তোমাকে কেবিনে নিয়ে যাওয়ার পর আর কিছুই জানি না আমি। তারপর তোমার ট্রিটমেন্ট শেষ হতেই আমি গিয়ে দেখি ডক্টর তোমার এই অবস্থা করেছে।”
সোহাদ রায়জাদা রেগে চিৎকার দিয়ে উঠে। একটা কাচের সোপিছ নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়।
সবাই হাসাহাসি বন্ধ করে সোহাদ রায়জাদার দিকে তাকিয়ে থাকে।
সোহাদ রায়জাদা অগ্নিচোখে তাকিয়ে আছে সবার দিকে। অভিফ হতাশার স্বরে বললো
” কাল আমার কথা শুনলে হয়তো তোমার এই অবস্থা হতো না চাচ্চু। তোমার ভালোর জন্যই বলেছিলাম। বিডিতে আসার পর থেকে তোমার উপর একটার পর একটা ঝড় বয়ে যাচ্ছে। যাই হোক না কেনো আমি আর চাইছি না তুমি এখানে থাকো। তোমার new assistan এর জন্য appointment চলছে। আমি তোমার ফ্লাইটের টিকিটও বুক করে দেবো। তুমি কয়েকদিনের মাঝে চলে যাবে এখান থেকে। তোমার আর কোনো ক্ষতি হোক চাই না আমি।”
সোহাদ রায়জাদা অবাক হয়ে বলে
” কি বলছো এসব অভিদ ? তুমি এভাবে আমাকে না বলে এতোবড় ডিসিশন কিভাবে নিলে ? আর আমি কি করে এখান থেকে চলে যাবো ? এখনো অনেক কাজ বাকি আমার।”
অভিদ শক্ত গলায় বলে
” প্লিজ চাচ্চু ! এই কাজ কাজ করে তুমি নিজের অনেক ক্ষতি করেছো। আর কোনো কাজের দরকার নেই। হাতটা আজ অকেজো হয়ে রয়েছে, তোমার মাথায় আজ সেই তোমার শখের চুল নেই, মিনি হার্ট এট্যাক করেছো। ডক্টর বলে দিয়েছে তোমার অবস্থা বারবার এমন হতে থাকলে আর বেশি ভালো থাকার মতো নয়।”
সোহাদ রায়জাদা আরো কিছু বলার আগেই অভিদ রাগ দেখিয়ে উপরে চলে গেলো। সোহাদ রায়জাদা পাত্তা না দিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো। নিজের কাজ ছাড়া অন্যকিছুতেই মাথা ঘামাতে চান না তিনি।
সোহাদ রায়জাদা চলে যেতেই অভিদ, রায়হান আবারও নিচে নেমে আসে। অভিদ দের দেখে রাইমা খিলখিল করে হাসতে থাকে। রাইমাকে হাসতে দেখে রুহিও হেসে দিলো। রাইমা অভিদের কাছে এসে ফিসফিস গলায় বলে
” ভাইয়া তোমাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দেবো! বুঝতে পারছি না । তুমি না থাকলে কালকে কাজটা করতেই পারতাম না আমি।”
কৌশিকা রায়জাদা হাসতে হাসতে বলে
” একদম ঠিক করেছো ওর চুল গুলো কেটে। যাই হোক অভিদ তোর অভিনয় গুলোও দারুণ ছিলো। ভাইয়া নিশ্চই সত্যি মনে করেছে আর না করলেও কি তার তো নিজের টাকা আর কাজ ছাড়া, আর কোনো কিছুতেই এতো খেয়াল থাকে না।”
অভিদ মুচকি হাসি দিয়ে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে। সবার দিকে একপলক তাকিয়ে বলে উঠে
” আজকের জন্য দোয়া করো ফুপ্পি। আজকে সব ধৈর্যের অবসান ঘটাবো। সবার সামনে সোহাদ রায়জাদার মুখোশ খুলে আনবো। ওর প্রাপ্য শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। এতো বছরের সব খেলা যেনো আজই সমাপ্তি করতে পারি।”
কৌশিকা রায়জাদা জড়ানো গলায় বলে
” বাবা আমার দোয়া সব সময় তর সাথে রয়েছে। তবে একটা কথা মনে রাখিস আজ তোর পথ চেয়ে বসে থাকবে সবাই। রুহির কথা ভেবেই সব কিছু করবি।”
অভিদ মুচকি হেসে রুহির দিকে তাকালো। রুহি ছলছল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে অভিদের দিকে।
অভিদ রুহির কাছে এগিয়ে এসে রুহির চোখ মুছিয়ে গালে হাত রেখে বলে
” ধুর বোকা মেয়ে কেঁদো না। আমি সব কিছু সুক্ষ্ম ভাবে সাজিয়েছি। আল্লাহর উপর ভরসা রেখো। দেখবে আমার কিচ্ছু হবে না।”
রুহি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে অভিদের বুকে ঝাঁপিয়ে পরে। অভিদ শব্দ করে হেসে উঠে। অভিদ রুহিকে কোলে তুলে উপরে চলে যেতে থাকে। রুহির খেয়ালও নেই রুহি এক নাগাড়ে কেঁদেই যাচ্ছে।সবাই মুচকি হাসি দিলো দুজনকে দেখে।
অভিদ রুহিকে নিয়ে রুমে এসে রুহিকে বিছানায় বসিয়ে দরজা লক করে দিলো।
রুহির পাশে এসে বসতেই রুহি আবারও অভিদের বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে থাকে। অভিদ দুই হাতে রুহিকে জড়িয়ে নিয়ে বলে
” বাবুই পাখি ? এভাবে কাঁদছো কেনো ? তুমি কাঁদলে তো আমি তোমাকে ছেড়ে যেতেও পারবো না আর কিছুই করতে পারবো না। এভাবে কাঁদলে কি করে হবে ?”
রুহি কাঁদতে কাঁদতে বলে
” আমার ইচ্ছে করছে তাই আমি কাঁদছি। এতে আপনার কি ! আপনি চুপ করে বসে থাকুন।”
অভিদ রুহির কথা শুনে শব্দ করে হেসে দিলো।
রুহি কাঁদতে কাঁদতে বাচ্চাদের মতো মুখ তুলে অভিদের দিকে তাকালো। অভিদ রুহির দুই চোখের পাতায় চুমু দেয়। রুহি জড়ানো গলায় বলে
” আমাদের সন্তানকে আদর করে যাবেন না ?”
অভিদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে অসহায় গলায় বলে
” ছোট একটা কাজ করতে যাচ্ছি। তোমরা এভাবে আমাকে দুর্বল বানিয়ে দিচ্ছো কেনো ?”
রুহি কান্নার মাঝেই হেসে দিলো। রুহি অভিদের গলা জড়িয়ে ধরে অভিদের মাথা নিচু করে অভিদের পুরো মুখে ভালোবাসার ছোঁয়া দিয়ে ভরিয়ে দিলো। অভিদ মিষ্টি একটা হাসি দিলো। রুহি অভিদের কপালে কপাল ঠেকিয়ে নাক টেনে বলে
” সোহাদ রায়জাদাকে তার আসল জায়গা চিনিয়ে দিয়ে আসবেন।” অভিদ আদুরে গলায় বলে
” বাবুই পাখি ! আমি কখন ফিরবো তা তো জানি না। ততোক্ষণ নিজের খেয়াল রাখবে, ওকে ? ”
রুহি ভাঙ্গা গলায় বলে
” আপনি এভাবে বলছেন কেনো ? মনে হচ্ছে আমার থেকে দূড়ে চলে যাওয়ার প্ল্যান করছেন।”
অভিদ হেসে বলে
” আরে বোকা এসব কিছুই না। আমি তো এমনি বলছিলাম।” রুহি অভিদের কোলে উঠে অভিদকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকে। অভিদ মুচকি হেসে রুহির কপালে গভীর ভাবে ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে রুহির পেটে উপর হাত রাখে।
দুপরের দিকেই অভিদ,রায়হান চলে যায়।
সোহাদ রায়জাদা লাঞ্চ করার জন্য নিচে নামাতেই রাইমার সামনে পরে। রাইমা সোহাদ রায়জাদাকে দেখে মুখ চেপে ধরে হাসতে থাকে। সোহাদ রায়জাদা রেগে বলে
” এই মেয়ে হাসছো কেনো তুমি ?”
রাইমা হাসি থামিয়ে অবাক হওয়ার ভান করে বলে
” আপনি কি আমাকে বলছেন ? আমি কখন হেসেছি ?”
সোহাদ রায়জাদা রাগি গলায় বলে
” আমাকে অন্ধ পেয়েছো তুমি ? আমি কি চোখে দেখতে পাই না ? তুমি হাসছিলে কেনো ?”
রাইমা এবার জোড়ে জোড়ে হেসে উঠে। সোহাদ রায়জাদা ধমক দিয়ে চুপ করতে বলে কিন্তু কোনো কাজ হলো না। রাইমা চুপ না করে আরো জোড়ে জোড়ে হাসতে হাসতে বলে
” আপনার টাক দেখলে তো যে কেউই হাসবে। আমি চিন্তা করছিলাম আপনাকে যদি এই অবস্থায় মিডিয়ার সামনে যেতে হয় ! তাহলে আপনাকে দেখে সবার রিয়েকশন কেমন হবে!”
সোহাদ রায়জাদা চেঁচিয়ে ধমক দিয়ে বলে
” এও মেয়ে যাবে এখান থেকে নাকি এক থাপ্পড়ে সব দাঁত ফেলে দেবো !” রাইমা হাসতে হাসতে উপরে চলে যায়।
সোহাদ রায়জাদা আশেপাশে তাকিয়ে দেখে সার্ভেন্টরা উনার দিকেই তাকিয়ে হাসছে। সোহাদ রায়জাদা রেগে রুমে চলে আসে। লাগেজ থেকে খুঁজে একটা চাদর বের করে সেটা দিয়ে মাথাটা ভালো করে ঢেকে নেয়। নিচে আসলে তাকে এই অবস্থায় দেখেয়েও সবাই মিটমিট হাসতে থাকে।
সোহাদ রায়জাদা কোনো রকমে খেয়ে উঠে চলে গেলো।
রাত আটটায় সোহাদ রায়জাদা তার উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরে বাড়ি থেকে।
তার গন্তব্যে পৌঁছে একটা পুরোনো খালি বাড়ির ভেতরে ঢোকে। বাড়ির ভেতরে ঢুকে অনেকটা ভেতরে আসতেই কান্নার গুণগুণ আওয়াজ শোনা গেলো। অভিদ রায়জাদার মাথায় চাদর ঢাকা থাকায় কেউ তাকে চিনতে পারেনি। তাকে দেখে তার লোকেরা দৌড়ে এগিয়ে এসে মারতে নেয়। কিন্তু সোহাদ রায়জাদার গার্ড তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। সোহাদ রায়জাদা চাদর সরিয়ে তাদের দিকে অগ্নিচোখে তাকায়। সোহাদ রায়জাদাকে দেখে সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। সোহাদ রায়জাদা রেগে বলে
” তোরা আমার খাস আবার আমার ঘরের থালাই ফুটো করতে চাস ?”
একজন বলে
” স্যার ক্ষমা করবেন আমরা চিনতে পারিনি আপনাকে।”
সোহাদ রায়জাদা আরো কিছু বলতে চেয়েও বললো না। রেগে ভেতরে এক রুমের দিকে পা বাড়ায়। রুমের দরজা খুলতেই অনেক গুলো মেয়ের হাত, পা বাধা অবস্থায় দেখতে পেলো। সোহাদ রায়জাদা ভ্রু কুঁচকে বলে
” ওদের বেধে রাখা হয়েছে কেনো?” সোহাদ রায়জাদার লোকদের একজন বলে
” স্যার ওদের কয়েকজনকে কালকে আর আজকেই আনা হয়েছে। একেকজন লাফিয়ে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলো তাই বেধে রেখেছিলাম।”
সোহাদ রায়জাদা এবার অন্য একটা রুমে গেলো। সেখানেও অনেক মেয়ে রয়েছে। তবে তাদের কারো হাত, পায়ে বাধন নেই সবাই মরা মানুষের মতো চুপ করে বসে রয়েছে। সব কিছু চেক করে সোহাদ রায়জাদা তার লোকদের নিয়ে মিটিং করতে থাকে।
রাত ১০ টায়…..
সোহাদ রায়জাদার লোকেরা সব মেয়েদের হাত, পা বেধে দিচ্ছে। সবাই একটু পরই রওনা দেবে।
সোহাদ রায়জাদা সেই বাড়ির দরজা থেকে বের হতেই তার সামনে দুইজন এসে দাঁড়ায়। তাদের দেখে অভিদ রায়জাদার চিনতে বেশি সময় লাগলো না। O.R.R. মাফিয়া কিং এসেছে। সোহাদ রায়জাদা দুজনের দিকে রাগি ভাবে তাকিয়ে থেকে নিজের মাথায় হাত বুলাতে থাকে।
চলবে~ইনশাল্লাহ……..
চলবে~ইনশাল্লাহ……..
চলবে~ইনশাল্লাহ……..