মিশে_আছো_আমার_অস্তিত্বে❤️ পর্ব ২০+শেষ

#মিশে_আছো_আমার_অস্তিত্বে❤️
#মেঘ পরী🍀🍀
#Part-২০+শেষ পর্ব💞

তৃষা বারবার পিছনে থাকা ব্যক্তিকে দেখার চেষ্টা করছে কিন্তু তা কিছুতেই সম্ভব হচ্ছে না,,,পিছনের ব্যক্তিটি খুব শক্ত করে তৃষাকে নিজের সাথে চেপে রেখেছে।হঠাৎ উষ্ণ অশ্রুবিন্দুর স্পর্শ নিজের কাঁধে উপলব্ধি করলো সে।এবার নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে তার হাতজোড়া নিজের কোমর থেকে সরিয়ে,,সামনের দিকে তাকাতেই তৃষা অবাক হয়ে গেল।কারণ সেই ব্যাক্তি আর কেউ নয়,,আকাশ নিজে।এই মুহূর্তে আকাশকে নিজের রুমে কখন‌ই আশা করেনি তৃষা,,তাই বেশ কৌতূহলী দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল-;

-:আপনি এখানে কি করছেন??

তৃষার কথায় আকাশের কোনো ভাবান্তর হলো না,,উল্টে তৃষাকে নিজের কাছে এনে আবার জড়িয়ে ধরলো তাকে।আকাশের এমন কাজে তৃষার প্রচন্ড রাগ হলো,,একে তো এতদিন কোনো খোঁজখবর নেয়নি তার আবার আজ হঠাৎ করে এসে এমন আদিক্ষেতা করা তৃষার মোটেও পছন্দ নয়।তাই বেশ রেগে বলল-;

-:কি হচ্ছেটা কী??আপনি এখানে কি করছেন??আর আমাকে এইভাবে জড়িয়ে ধরেছেন কেন??

তৃষার কথায় আকাশ কিছুক্ষন চুপ থেকে মৃদু কন্ঠে বলে উঠলো-;

-:তৃষা তুমি আমার মোহ ন‌ও।

আকাশের কথা শুনে তৃষা চুপ হয়ে গেল।আকাশ আবার বলতে লাগলো-;

-:রিনা আমার মোহ ছিল তাইতো ওকে ছেড়ে থাকতে আমার কষ্ট হতো না।ও একদিন ফোন না করলে আমার দম বন্ধ হয়ে যেত না কিন্তু তুমি!! তুমি আমার মোহ হতেই পারো না।তোমাকে ছাড়া এই একমাস আমার জন্য মৃত্যু যন্ত্রনার সমান ছিল। বিশ্বাস করো দম বন্ধ হয়ে আসতো শুধু মাত্র একটিবার তোমার আওয়াজ শোনার জন্য।বারবার মনে হচ্ছিল তোমার কাছে এক ছুটে চলে আসতে কিন্তু আমার করা অন্যায়গুলোর কথা মনে হতেই আমি নিজেকে সামলিয়ে নিয়েছি ততবার।

আমি..আমি সত্যি বলছি তৃষা আই লাভ ইউ সো মাচ।আই কান্ট লিভ উইথ আউট ইউ।

আকাশের কথা শুনে তৃষার চোখে অজান্তেই পানিতে টলমল করছে। আকাশ যখন কথাগুলো বলছিল তখন তার গলা ধরে আসছিল।তৃষা কিছুটা অভিমানী সুরে বলে উঠলো-;

-;ওওও আমাকে এত ভালোবাসেন যে এই এক মাসে একবারের জন্যও আমার খোঁজ নিলেন না,,তাই না।

-:কে বলল তোমার খোঁজ নিই নি??প্রতিদিন তোমার খোঁজ নিয়েছি।তোমার খোঁজ না নিলে কার খোঁজ নেব??এ জীবনে তুমি ছাড়া কে আছে আমার??

-: মিথ্যা বলছেন।ক‌ই আপনি তো আমাকে একবারও ফোন করেন নি??

আকাশ মুচকি হেসে বলে উঠল-;

-:তোমাকে ফোন না করলে তোমার খোঁজ নেওয়া যাবে না বুঝি।বাবাকে প্রতিদিন ফোন করতাম,,,আর তার কাছেই তোমার খোঁজ নিতাম।আর যখন করে তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করতো তখন চুপিচুপি তোমার রুমে এসে তোমাকে দেখে যেতাম।অবশ্যই এর সম্পূর্ণ ক্রেডিট আমার শ্বশুর মশাইয়ের উনি না থাকলে এতকিছু কোনদিনই সম্ভব হতো না।

-:ওওও তার মানে বাবা সবকিছু জানতো।

-: তুমি ছাড়া সবাই জানতো।

-:আপনি তাহলে এত দেরি করে এলেন কেন??

-:আসলে নিজেকে কিছুটা সময় দিতে চেয়েছিলাম।বাবা-মায়ের কথা জানার পর নিজেকে খুব নিকৃষ্ট সন্তান মনে হচ্ছিল। তুমি ভেবেছিলে তোমার উপর রাগ করে আমি তোমাকে এখানে রেখে দিয়েছি। কিন্তু এটা সত্যি নয়।আসলে আমি নিজেকে কিছুটা স্পেস দিয়ে দেখলাম যে আমি সত্যি তোমাকে ভালোবাসি কি না!!কারণ সেদিনের বলা তোমার কথাগুলো সব সত্যি ছিল।আর তুমি যদি সত্যি আমার মোহ হতে তাহলে তোমার জীবন নষ্ট করার আমার কোনো অধিকার ছিল না।

আর এখন তোমাকে আপন করে নিতে আমার কোনো আপত্তি।

-:আমি যাবো না আপনার সাথে।

তৃষার কথা শুনে আকাশ কিছুটা রেগে তৃষা কে সামনের দিকে ঘুরিয়ে বলে উঠলো-;

-:চুপ একদম চুপ।যাবে না মানে!!! তুমি জানো এই একমাস শান্তিতে নিজের চোখের পাতা এক করতে পারিনি,,,আর তুমি বলছো যাবে না। তুমি যাবে না তোমার ঘাড় যাবে।

এই বলে তৃষাকে কোলে তুলে নিল।তৃষা চেঁচামেচি করে নিজেকে ছাড়ানোর অনেক চেষ্টা করলো কিন্তু আকাশের শক্তির পাশে পেরে উঠলো না।আকাশ তৃষাকে গাড়িতে তুলে গাড়ি স্টার্ট দিল।

-:কি ভেবেছিলে চিৎকার করলে তুমি বেঁচে যাবে। আকাশ খান এতটা কাঁচা কাজ করে না।আমি আগে থেকেই বাবাকে বলে রেখেছিলাম যে আমি তার মেয়েকে নিতে আসবো।আমার শ্বশুর মশাই অনেক স্মার্ট তিনি মনে হয় আগে থেকেই জানতে পেরেছিলেন যে তার মেয়ে নিজের পায়ে যাবে না আমার সাথে,,,তার জামাইকে ই নিয়ে যেতে হবে। তাই মনে হয় তিনি বাইরে বের হন নি।

তৃষা আকাশের দিকে কটমট চোখে তাকিয়ে রইল,,আর আকাশ মুচকি হেসে গাড়ি চালাতে মনোযগী হলো।বাসার সামনে এসে আকাশ তৃষাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে তৃষার চোখ সাদা কাপড় দিয়ে বেঁধে দিল।

-:আরে কি করছেন?

আকাশ তৃষার ঠোঁটে আঙুল দিয়ে,,কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে উঠলো-;

-: শশশশশ্ চুপ।আমার উপর বিশ্বাস আছে??

তৃষা কিছু না বলে মাথা নাড়ল যার অর্থ হল হ্যা সে বিশ্বাস করে আকাশকে‌।

আকাশ তৃষা কে নিয়ে রুমে এলো।তারপর তার চোখের বাঁধন খুলে দিল।তৃষা চোখ খুলে তাকাতেই আবাক হয়ে গেল।পুরো রুম ব্লু,,ওয়াইট রোস আর কেন্ডেল দিয়ে সাজানো।ওয়াইট বেড সিটের উপর ব্লু রোজ দিয়ে সাজানো হয়েছে।তৃষার ফেভারিট কালার এটা।পুরো রুমটা খুব সুন্দর লাগছে দেখতে।আকাশ তৃষা কে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো-;

-:ভালো লেগেছে??

-:হুম খুব সুন্দর লাগছে।

আকাশ তৃষা কে সামনে ঘুরিয়ে,,তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে,,তৃষার সামনে একগুচ্ছ গোলাপ ফুল ধরে বলে উঠলো-;

-:তৃষা আমি জানি তোমার সাথে আমি খুব বাজে ব্যবহার করেছি,,তোমাকে অনেক কষ্ট‌ও দিয়েছি।এসবের জন্য ক্ষমা চাইবো না কোনোদিন কারণ তোমার সাথে যে অন্যায় আমি করেছি তার কোনো ক্ষমা হয় না।তবুও তোমাকে বলবো এইসব কিছু ভুলে আমরা কি আবার নতুন করে নিজেদের জীবন শুরু করতে পারি না??তোমার অনুমতি নিয়ে আমি তোমার সাথে একটা নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাই। সমস্ত অতীত ভুলে তোমার সাথে সারাটা জীবন থাকতে চাই।আই লাভ ইউ তৃষা তুমি#মিশে_আছো_আমার_অস্তিত্বে।তোমাকে ছাড়া আমার জীবন অস্তিত্বহীন।প্লিজ এবারে আমাকে ফিরিয়ে দিও না।ডু ইউ লাভ মি???

আকাশের কথা শুনে তৃষা কেঁদে ফেলল,, কাঁপা কাঁপা হাতে আকাশের হাত থেকে গোলাপ ফুলটা নিয়ে বলে উঠল-;

-:হ্যা আ.. আকাশ আই..আই লাভ ইউ টু…টু…

তৃষার কথায় আকাশ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।উঠে দাঁড়িয়ে তৃষা কে শক্ত করে জড়িয়ে সে ও কেঁদে ফেলল।কিন্তু আজকের কান্না সুখের কান্না কোনো কষ্টের নয়।কিছুক্ষণ পর তৃষার কাছ থেকে সরে এসে তার দুই গালে নিজের দুহাত দিয়ে চেপে ধরে বলে উঠলো-;

-:তৃষা আজ তোমার কাছে একটা জিনিস চাইবো,,দেবে আমাকে??

-:কি??

-:একটা ছোট্ট তৃষা চাই,,দেবে আমাকে।প্লিজ বলো না দেবে আমায়।

তৃষা লজ্জায় আকাশের বুকে মুখ লুকিয়ে,,মাথা নাড়িয়ে হ্যা জানালো।আকাশ তৃষা কে আরও শক্ত করে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল।আজ তাদের ভালোবাসার রাত,,আজ দুটো দেহের সাথে দুটো মনের মিলন হবে।তাদের মাঝের সমস্ত দূরত্ব আজকের রাতে শেষ হয়ে যাবে।
.
.
.
চার বছর পর…

-:আআআআআ

-:কি হয়েছে আরু?? কাঁদছো কেন??

-:আব্বু আব্বু আম্মু না আমাকে মেলেছে।আআআআ

-:কি তোমার আম্মুর এতো বড়ো সাহস,,দাঁড়াও এক্ষুনি বকে দিচ্ছি।তৃষা,,তৃষা(চেঁচিয়ে)

-:কি হয়েছে।এত চিৎকার করছো কেন?

-: তুমি কোন সাহসে আমার মেয়ের গায়ে তুলেছ।

-:মানে!!ওওও আমার নামে আব্বুর কাছে নালিশ করা হচ্ছে।দাঁড়া তোকে তো আমি..

-:আব্বুউউউউ।

-:তৃষা।

-:ওওওও নিজের মেয়ে খাবে না তার বেলা কোনো দোষ নেই আর আমি বকলেই তখন দোষ হয়ে যায়।আমি আর থাকবো না এই বাসায়।

-:তা লে তলে দাও নানুল বাসায়।(তাহলে চলে যাও নানুর বাসায়)

-:হ্যাঁ ঠিক বলেছে আমার মেয়ে।আচ্ছা আরু তুমি একটু বাইরে যাও তো আমি তোমার আম্মুকে একটু বকে দেব।

-:ওকে আব্বু।

আরুশি চলে যেতেই আকাশ তৃষা কে জড়িয়ে ধরলো।

-:আর আদিক্ষেতা দেখাতে হবে না।আমাকে কেউ ভালোবাসে না।

-:তাই নাকি??তাহলে আসো তোমাকে ভালোবাসি।

-:না না,,, সারাক্ষণ শুধু অসভ্যতামি।

-:ওই দেখো ভালো না বাসলে বলবে কেউ তোমাকে ভালোবাসে না। আবার ভালোবাসলে বলবে আমি সারাদিন অসভ্যতামি করি।কি জ্বালাতন।

-:হুম অনেক হয়েছে,,এবার ছাড়ো।

-:ম্যাডাম এখন তো আপনাকে ছাড়া যাবে না।

-:মানে কি??আরু বাইরে আছে।

-:সেই জন্য তো আরু কে তার নানু বাড়ি দিয়ে আসবো,,যাতে সে তার ভাইয়ের আসায় কোনো বাধা না দেয়।

-:মানে কিছু না।এখন আমাকে একটা পাপ্পি দাও।

-:অসভ্য লোক।

-:উফ্ হাসবেন্ডরা অসভ্য না হলে হবে না সোনা।

-:আরু তুই।

আকাশ পিছনে তাকাতেই তৃষা ধাক্কা মেরে ছুটে দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো-;

-:বেশ হয়েছে,,এবার নিজের আঙ্গুল চোষো।

এই বলে ভেংচি দিয়ে চলে গেল। আর আকাশ তৃষার যাওয়ার পানে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে উঠলো-;

-:যাবে কত দূর তুমি তো আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে গেছো অনেকদিন আগে।
.
.
***সমাপ্ত***

“”স্যরি লেট করে দেওয়ার জন্য।ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন।এখন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here