শেষ কান্না পর্ব ৮

#শেষ_কান্না
#পর্ব_৮
#লেখা_Bobita_Ray

সকাল থেকেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে!প্রতীক জানালার কর্ণার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে অরুর ছবির দিকে অপলক তাকিয়ে আছে।ছবিটা অনেক আগের! অরু তখন ক্লাস সেভেন কি এইটে পড়ে!পড়নে সাদা সালোয়ার-কামিজ, দু’পাশে বেনুণি বাঁধা, কপালে একটা কালো টিপ আঁকা,হাসি হাসি মুখ করে তাকিয়ে আছে অরু।আহ্,কি কোমল মুখখানি।এই অবুঝ মেয়েটাকে পাগলের মত ভালোবাসে প্রতীক।কিন্তু ভালোবাসাটা ছিল একতরফা।অরুর বয়স কম দেখে কখনো মুখ ফুটে বলা হয়নি। হয়ত ভালোবাসাটা মনের গোপন কুঠুরিতে সযত্নে লুকিয়ে না রেখে বলে দিলেই ভালো হতো।তাহলে এভাবে মেয়েটাকে হারাতে হতো না।কথাগুলো ভাবতেই প্রতীকের দু’চোখ ছলছল করে উঠল।ছবিটা বুকের সাথে চেপে ধরে বার কয়েক ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলল।তারপর বিড়বিড় করে বলল,
-“কেন অরু কেন এভাবে ফাঁকি দিলে !আমার জন্য কি আর একটু সময় অপেক্ষা করা যেত না।আফসোস মূলহীণ ভালোবাসার পিছনে ছুটতে গিয়ে তুমি মূল্যবাণ ভালোবাসাকে হারালে।

***
অরুকে এখন ফুলমতি দু’চোখের বিষ মনে করে।উঠতে বসতে কথা শোনায়।একাজ-সেকাজে খুঁত ধরে।অরু পুরোটা সময় নির্লিপ্ত ভঙ্গীতে চুপ করে থাকে!কোনো প্রতিবাদ করে না।প্রতিনিয়ত শাশুড়ির কটু কথা শুনে অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।প্রথম প্রথম কথাগুলো গায়ে মাখলেও এখন এক কান দিয়ে শুনে আরেক কান দিয়ে বের করে দেয়।রায়হান যদি একটু বুঝতো,একটু সাপোর্ট করত অরুকে! তাহলে আজ হয়ত সমাজের কাছে,আপনজনদের কাছে এতটা অবহেলিত হতো না অরু।ফুলমতি মেয়ের শোক কাটিয়ে ওঠে এখন আবার নতুন গান ধরেছে। রায়হানের যেন একটা ছেলে হয়।যে করেই হোক অরুকে একটা ছেলে এনে দিতেই হবে।ফুলমতি একটু পর পরই অরুকে বলে,
-“হুন বৌ,তুই যতই ভালোমানুষির মুখোশ পইরা থাকোস না ক্যান এতে আমার কিচ্ছু যাইবো আইবো না। তবে তুই কিন্তু আমাগো নাতির মুখ দেহাবি।ম্যাইয়া হইলে তুর আর তুর ম্যাইয়ার এই বাড়িতে কুনু জায়গা নাই।তহন যতই কান্দুস! কুনু লাভ হইবো না।
ফুলমতির কথা শুনে অরু মনে মনে হাসে!ভাবে,-“বাচ্চা কি আমি একা পয়দা করেছি।স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছে না থাকলে কীভাবে ছেলে হবে।এরা আজও ভাবে কণ্যা সন্তান জন্মদানের পিছনে মায়ের হাত থাকে।

****
ইন্সপেক্টর জাহিদ সাহেব আজ রাকিবদের গ্রামে এসেছেন। রথীর সম্পর্কে কিছু তথ্য যোগার করতে!জাহিদ সাহেবকে দেখে ফুলমতির মুখে হাসি ফুটে উঠল।তাড়াহুড়ো করে একটা চেয়ার টেনে বসতে দিল। বলল,
-“বহেন পুলিশসাব!
জাহিদ সাহেব চেয়ারে আয়েশ করে বসল।বলল,
-“আপনার দু’ছেলে কোথায়?
-“ওরা তো গঞ্জে গেছে।
-“ও।আপনার মেয়ে কোন ঘরে থাকত?
-“ওই যে দক্ষিন দিকের ঘরটাতে।
জাহিদ সাহেব চেয়ার ছেড়ে ওঠে দাঁড়াল। তারপর গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গেল রথীর ঘরের দিকে।ফুলমতিও পিছুপিছু গেল।
জাহিদ সাহেব ঘরে ঢুকে দেখল একটা অল্প বয়সী মেয়ে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে। জাহিদ সাহেব নিজের উপস্থিতি জানান দেওয়ার জন্য হালকা কাঁশি দিল।অরু শোয়া থেকে ধড়ফড়িয়ে উঠল।ভর্য়াত চোখে তাকাল সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অপরিচিত লোকটির দিকে!জাহিদ সাহেবের সৃষ্টি স্থির।অরুকে ভরসা দিয়ে বলল,
-“ভয় পাবেন না। আমি থানা থেকে এসেছি।
অরু বিছানা থেকে ওঠে মাথা নিচু করে দরজার এক কোণে গিয়ে দাঁড়াল।জাহিদ সাহেব বলল,
-”আপনি রথীর কী হন?
অরু মাথা নিচু করে বলল,
-“আমি রথীর ভাবি।
জাহিদ সাহেব কোণা চোখে এক নজর আপাতমস্তক অরুকে ভালো করে দেখল।বলল,
-“ও গুড।রথীর বই খাতাগুলো কোথায়?
অরু আমতা আমতা করে বলল,
-“ওগুলো রাকিব ভাই বিক্রি করে দিয়েছে।জাহিদ সাহেব একটু অবাক হলেও তা প্রকাশ করল না।টেবিলে কিছু জমিয়ে রাখা খাতা নাড়াচাড়া করে দেখছে। বলল,
-“এগুলো কী রথীর স্কুলের খাতা?
-“হ্যাঁ
হঠাৎ জাহিদ সাহেবের একটা খাতায় চোখ আটকে গেল।সাদা খাতার কোণায় কালো কালি দিয়ে দু’লাইনের লেখা,
‘আপন ভেবে কাছে টেনে নেই যা’রে, সে তো আপন নয়’
‘পর ভেবে দূরে ঠেলে দেই যা’রে,সেই আপন হয়’

লেখাটা জাহিদ সাহেব মনে মনে বেশ কয়েকবার আওড়ালো।কিন্তু কথাটার সারর্মম বুঝতে পারল না।কিন্তু কথাটা মাথায় সেট হয়ে আছে।এই ছোট্ট কথার ভিত্তিতে অনেকদূর কেসটাকে এগিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু এই কথা দ্বারা কি বুঝিয়েছে রথী? তাই বুঝতে পারছে না জাহিদ সাহেব।অরুকে উদ্দেশ্যে করে বলল,
-“কিছু মনে না করলে কয়েকটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করি?
অরু মাথা ঝাঁকাল।জাহিদ সাহেব বলল,
-”বিয়ে হয়েছে কতদিন?
-“চার মাস!
-“মনে তো হচ্ছে প্রেগন্যান্ট কত মাস রানিং?
-“ছ’মাস।
জাহিদ সাহেব একটু অবাক হল।পরমুহূর্তেই ভাবল এ আর নতুন কী!বয়ফ্রেন্ডের প্রতারণার শিকার হয়ে কত মেয়েই তো প্রেগন্যান্ট অবস্থায় কেস নিয়ে আসে থানায়।জাহিদ সাহেব বলল,
-“রথীর সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিল?
অরু কাপড়ে মুখ গুঁজে নীরবে কেঁদে দিল।অস্ফুট স্বরে বলল,
-“রথীর মত ভালো মেয়ে হয় না।আমাকে খুবউ ভালোবাসত মেয়েটা।কিন্তু হঠাৎ কীভাবে কি হয়ে গেল…কথাটা আর শেষ করতে পারল না বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।জাহিদ সাহেব বলল,
-“আপনার কি কাউকে সন্দেহ হয়?
-“না”

****
দেখতে দেখতে কেটে গেল আরও তিনটি মাস।এখনো রথীর খুনিকে ধরতে পারেনি জাহিদ সাহেব।তবে প্রাণপনে চেষ্টা করছে।একটা সময় রাকিবকে সন্দেহ হতো! তবে এর ভিতর রাকিব জড়িত নেই।হয়ত রাকিবের চরিত্রে একটু সমস্যা আছে। কিন্তু নিজের মায়ের পেটের বোনকে এভাবে হত্যা করবে না।সেদিন থানায় ওর চমকে ওঠা,বা ঘেমে যাওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল। একে তো ও মেয়েবাজ,গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে মেয়েদের সাথে ইভটিজিং করত,দ্বিতীয়ত নিজের বোনের সাথে এত ভয়ংকর একটা ঘটনা ঘটেছে।দুইয়ে মিলে ও খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল।রাকিবের বার বার মনে হয়েছে ওর কৃতকর্মের জন্যই ওর বোনটা অকালে পরপারে পাড়ি জমাল।সেই থেকে রাকিব নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে।এখন মেয়েদের যথেষ্ট সম্মান করে।কারো দিকে কূ-সৃষ্টিতে তাকায় না।পারিবারিক ভাবে পাশের গ্রামের জমির আলীর মেয়ের সাথে রাকিবের বিয়েও ঠিক হয়েছে। মেয়েটি এবার ক্লাস টেনে পড়ে।দেখতে শুনতে ভালো।যৌতুক দিবে তিন ভরি স্বর্ণ,নগত পঞ্চাশ হাজার টাকা।ফুলমতি তো খুশিতে আত্মহারা।সুযোগ পেলেই অরুকে শুনিয়ে শুনিয়ে লোকের কাছে বলে,
-“আমার বড় পোলাডার কপাল খারাপ। বিয়ের সময় কানাকুড়িও যৌতুক দেয় নাই।অথচ আমার ছোডু পোলাডার ভাগ্য কত্ত ভালা। আত্মীয় হইসে মনের মতো।বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেইক্কা খালি আমাগো বাড়ি এতা ওতা পাঠানের তালেই আছে।
ফুলমতির কথার প্রতিউত্তরে পাশের বাড়ির মহিলারা বলে,
-“যাই কও নাই কও তোমাগো বড় বৌ’ডা কিন্তু একখান বৌ।যেমন চেহারা তেমন ব্যবহার।আজকাল কার ম্যাইয়ারা তো শাশুড়ি একখান কথা কইলে দশখান কথা শুনায় দেয়।অথচ তোমার বৌ’ডার সাথে তুমি সারাক্ষণ বকর বকর করার তালেই থাকো। কুনু সময় মুখ ফুটে একখান উত্তর দেয় না।তুমি তো মনে হয় বৌমা আসার পর থেইক্কা এক গ্লাস পানিও ভইরা খাও না।পোয়াতি ম্যাইয়াডা পেট নিয়া সারাক্ষণ কাম করার তালেই থাকে।আমার বেডার বৌ যদি এমন ভালা হইত আমি মাথায় কইরা রাখতাম।
ফুলমতি ভেংচি কেটে বলে,
-‘হুনলো তাহেরের মা সব শাশুড়ি গো মাইসের বাড়ির বৌ ভালা লাগে।নিজে যদি নিয়া খাতি তাইলে বুঝতি এই ম্যাইয়া কেমন সেয়ানা।
-“বু আমারে বুঝাইবার আইসো না।ম্যাইয়াডারে তো সাত’মাস ধইরা দেখতাছি।তুমি যে জ্বালান জ্বালাও অন্য কুনু ম্যাইয়া হইলে চুলে বালে তিনবেলা ঝগরা লাগত।এই না আনতেছাও রাকিবের বৌ। নিয়া খাওনা ছয় মাস।পরে তুমিই কইবা আমার বড় বৌ’ডায় ভালা আছিল।
ফুলমতি আর কথা বাড়াল না। বাংলার পাঁচের মত মুখ করে রইল।এই মুহূর্তে অরুর উপর খুব রাগ লাগছে।মেয়েটাকে কড়া শাষনে রাখে ফুলমতি। কারো বাড়ি যেতে দেয় না। তবুও লোকের মুখে মুখে মেয়েটার সুনাম।ফুলমতির গা জ্বলে অরুর নামে কেউ সুনাম করলে।রাস্তাঘাটে কারো সাথে দেখা হলেই ফুলমতিকে বলে,
-“রায়হানের মা শুনলাম বৌ পাইছেন লাখে একটা। যেমন রুপ,তেমন গুন।আপানারও কপাল আমাগোও কপাল বুঝলেন। তা মেয়ের কুনু বোন আছে না কী?থাকলে কইয়েন আমার পোলাডা বিয়ে করামু।আপনের বৌমার মত লক্ষ্ণীমন্ত্র মেয়ে খুঁজতেছি।
গুটা গ্রামে অরুর সুনাম ছড়িয়ে গেছে শুধু ফুলমতি অরুকে দু’চোখ পেতে দেখতে পারে না।

একদিন সকাল বেলা অরু বিছানা থেকে ওঠে দেখল পানি ভাঙছে।পেটের চার-পাশ দিয়ে চিনচিন করে ব্যথা অনুভব করছে।শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্যি আজ রাতেও রায়হান জোর করে অরুর সাথে সহবাস করেছে।অরু বার বার বাঁধা দেওয়ার পরও শুনেনি।এদিকে ন’মাসের পোয়াতি অবস্থায় রায়হানকে সঙ্গ দিতে খুব কষ্ট হয়। তবুও রায়হানের শক্তির সাথে না পেরে এক প্রকার বাধ্য হয়েই দাঁতে দাঁত চেপে বিছানা কামড়ে রায়হানের মনোরঞ্জন করে।অরুর কাছে গেলে রায়হানের তো কোন হুঁশই থাকে না।কি করে না করে ও নিজেই বুঝে না।অরুর চিনচিনে ব্যাথা এক সময় পুরো পেট বেয়ে কোমড়ে ছড়িয়ে গেল।সকাল হয়ে গেছে।উঠব উঠব করেও পুরো দু’ঘণ্টা অসহ্য পেট ব্যথায় বিছানায় ছটফট করছে অরু।শরীরে কোন শক্তি নেই।পেট ব্যাথা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।এদিকে ফুলমতি চিৎকার চেঁচামিচি শুরু করে দিয়েছে।বাড়ির বৌ এত বেলা করে ঘুম থেকে উঠলে কাজ কাম করব ক্যারা!অরু দু’হাতে পেট চেপে ধরে বিছানায় শোয়া থেকে ওঠে বসল।পানির সাথে হালকা ব্লাডও ভাঙছে।অরুর শরীরও আস্তে আস্তে অসার হয়ে আসছে।পেটে কিছু একটা খিচে ধরেছে।পায়খানা পাচ্ছে খুব।মুখটাও শুকিয়ে গেছে।অসহনীয় ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে দিল অরু।অরুর মনে হচ্ছে এর থেকে তো মরণ যন্ত্রনাও সহজ।ফুলমতি বকবক করতে করতে ঘরে এসে দেখে অরু প্রসব ব্যথায় কাতরাচ্ছে।ফুলমতি অরুর মাথায় হাত রেখে বলল,
-“কী গো বৌ ব্যাথা ওঠছে কোন সময়?
অরু ফুলমতির হাত চেপে ধরে বিড়বিড় করে বলল,
-“মা আমি মনে হয় আর বাঁচব না।আমার বাচ্চাটাকে দেখবেন প্লিজ।
ফুলমতি অরুর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
-“এই সময় একটু আধটু ব্যাথা হয়।আল্লাহ্ আল্লাহ্ কর।ফুলমতি পাশের বাড়ির দু’একজন মহিলাকে ডেকে আনল।সাথে দায়মা’কেও।দায়মা এসে অরুর পেট টিপে
টিপে দেখল। অরু ব্যাথায় চিৎকার চেঁচামিচি করছে।
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর অরুর বাচ্চা নরমালেই হল। তবে মেয়ে হয়েছে।অরুর মেয়ে হয়েছে দেখে ফুলমতির মুখটা কালো হয়ে গেল।মেয়েটা হওয়ার পরেই পায়খানা করে দিল। তারপর থেকেই মিহি শব্দে সমান তালে কাঁদছে।অরুর হুঁশ নেই।সদ্য জন্ম দেওয়া বাবুর কান্না কানে ভেঁসে আসলেও ওঠে কোলে দেওয়ার বিন্দু মাত্র শক্তি নেই।দায়মা বলল,
-“ফুলমতি শিগগিরি যা চুলায় গরম পানি বসা। বাচ্চাডারে গোসল করান লাগবো তো।
ফুলমতি মুখ ঝাঁমটা দিয়ে বলল,
-“ওর মাইরে কন আমি পারুম না।কত্ত বার কইরা কইলাম আমার একখান নাতি চাই।ছেড়ি তাও ম্যাইয়া জন্ম দিছে।ম্যাইয়া হইসে তো হইসে তাও গায়ের রঙ কালা।
তাহেরের মা বলল,
-“এলো বু তুমি মনে খুব ধলা।আয়নায় নিজের চেহারা দেখো গা।ভাতের হাঁড়ির মত কালা।তোমার পোলা ম্যাইয়াও তো কালা। খালি রায়হানই একটু ফর্সা হইসে।তোমাগো গোটা বংশ কালা। এহানে তোমার নাতনী কেমনে ভরসা হইবো?
ফুলমতি রাগে কটমট করে বলল,
-“ওই ছেড়ি আমরা কালা তাই কিলো। ওর মাই বাপ তো ধলা । তাইলে পেটের ডারে ধলা বানাইলো না ক্যাঁ?
-“হেইডা আমি কেমনে কমু বু। তুমি যাও তো গরম পানি কইরা আনো।
ফুলমতি থমথমে গলায় বলল,
-“আমি পারুম না।
তাহেরের মা রাগে গটগট করে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেল।দেখল রাকিব চুলায় চায়ের জন্য পানি বসিয়েছে।তাহেরের মা মৃদু হেসে বলল,
-“বাজান একটু বেশি কইরা পানি বসা তুর ভাস্তি হইছে।ওরে গোসল করান লাগব।
রাকিক মুচকি হেসে বলল,
-“একটু অপেক্ষা করেন চাচী।

তাহেরের মা কুসুম কুসুম গরম পানি দিয়ে বাচ্চাটার গা ভালো করে মুছিয়ে দিল।অরুকেও ধরে ওঠিয়ে কাপড় বদলে দিল।ঘরের মেঝে পরিষ্কার করে মুছে দিল।তারপর অরুকে বলল,
-“দেহি মা বাবুটার খিদে লাগছে!অরু সারা দিল না।তাহেরের মা অরুর ব্লাউজের হুক খুলে স্তন টিপে টিপে চামচে করে শাল দুধ বের করল। অরু ব্যাথায় কুঁকড়ে যাচ্ছে। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি ঝরছে।তাহেরের মা ভরসা দিয়ে বলল,
-“প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হইবো।বাবুটা এক নাগাড়ে কেঁদেই চলছে।এদিকে স্তনও চাপ ধরে আছে।কোন উপায় না পেয়ে তাহেরের মা বাবুটাকে অরুর পাশে শুইয়ে দিয়ে স্তনের বোটা মুখে পুরে দিতেই বাবুটার কান্না বন্ধ হয়ে গেল। ছোট ছোট ঠোঁট দিয়ে অমৃতের মত শুষে নিতে লাগল মায়ের বুকের দুধ।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here