সুপ্ত ভালোবাসা পর্ব ১৭+১৮

#সুপ্ত_ভালোবাসা

#পর্ব_১৭

#Tahmina_Akther

-অবশেষে আজ অনেক বছরের অপেক্ষার পর এই শাড়িটা তার আসল মালিককে খুজে পেলো।

-এই শাড়িটা তবে আমার জন্য কিনেছিলে তুমি তাই না?

-হুম কিনেছিলাম।তোমাকে সাথে করেই তো কিনলাম মনে আছে তোমার?

-হুম বেশ মনে আছে। যাবে না?

-তোমাকে এই রুপে দেখে সব ভুলে গিয়েছি দেখলে? বলেই মুচকি হেসে ফেললো।

হিয়া অভিকের হাসি দেখছিলো কি সুন্দর করে হাসে! হাসির কোনো শব্দ নেই কিন্তু সারা মুখে ও চোখগুলোতে হাসির রেশ থেকে যায়। অভিক হাসলে তার ডান গালে টোল পড়ে। এখন অবশ্য এই টোল ঢাকা পড়ে গেছে খোচা খোচা দাঁড়ির নিচে। আগে ও হাসলে বেশ দেবে যেত ওর ডান গাল।

-কি ম্যাডাম আজ এত আমাকে দেখছেন? প্রেমে পড়লেন নাকি?

-কেন তোমার প্রেমে পড়লে খুশি হবে না অভিক?

-আমার তো তোমার প্রেম চাই না ফুল তোমার ভালোবাসা চাই। প্রেম সে তো খানিক সময়ের ভালোলাগা আর ভালোবাসা সে তো একবার হৃদয়ে গেঁথে গেলে দাগ কেটে যায়। ভালোবাসার ঘা শুকিয়ে গেলোও দাগ রয়ে যায়। আমার প্রেম চাই না তোমার এক চিমটি ভালোবাসা চাই।

হিয়া অভিকের কথাগুলো মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় শ্রবণ করলো।কথাগুলো শুনেই হিয়ার হৃদয়ের স্পন্দনের গতি বেড়ে গেলো। বুকে হাত দিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করতে চাইলো হিয়া কিন্তু বাঁধ সাধলো অভিক।

– কি হয়েছে ফুল খারাপ লাগছে?

-না, আমি ঠিক আছি।এখন বের না হলে দেরি হয়ে যাবে চলো।আচ্ছা, কে কে যাবে আমাদের সঙ্গে?
বেশ জোরে শ্বাস ফেলে হিয়া বললো।

-আমি তুমি আর আবিররা যাবে। তুমি নিচে যাও আমি আসছি। কাপড়টা চেঞ্জ করে নেই। আর শুনো?

-হুম বলো?

-চোখে কাজল দাও নি কেন?

-কাজল নেই।

-ও, আচ্ছা তুমি নিচে যেয়ে আবিরদের বলো গাড়িতে গিয়ে বসতে আমি ড্রাইভার চাচাকে কল দিয়ে বলছি ।

হিয়া বের হয়ে আবিরদের বললো গাড়িতে গিয়ে বসতে। ড্রইংরুমের সোফায় বসে ছিলো হিয়া। এমন সময় ওর বাবা আর চাচা সিঁড়ি দিয়ে নামছিলো হিয়াকে এই বেশে দেখে তারাও যেন আজ বেশ অবাক হয়েছে সাথে খুশিও। হিয়ার কাছে এসে বললেন,

-কি রে মা শাড়ি পড়লি অথচ তোর বুড়ো ছেলেদের দেখালি না?
অভিযোগের সুরে বললেন হিয়ার বাবা।

এদিকে অভিকের বাবা মনে মনে বলছেন,

-আজ কতবছর পর আবার সেই হিয়াকে দেখতে পেলাম। হে আল্লাহ তুমি আমার এই মেয়েটিকে সুখে রেখো।

-আসলে, বাবা আমি গিয়েছিলাম তোমার রুমে কিন্তু তুমি ঘুমিয়ে ছিলে তাই আর ডাকিনি.

-আচ্ছা, বুঝতে পারলাম। তোর মা তোকে দেখেছে?

– না বাবা বেশ লজ্জা লাগছে তাই আম্মুর সামনে যাই নি।

-কিন্তু, আমি যে আমার পুতুল মেয়েকে দেখে ফেললাম।

হিয়া দেখলো ওর মা আর চাই হাসিমুখে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। হিয়া হেটে গিয়ে ওর মা’কে জড়িয়ে ধরলো। হিয়ার মা হেসে ফেললেন মেয়ের কাহিনি দেখে। অভিকের মা হিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,

-এই শাড়ি কি অভিক দিয়েছে হিয়া?

-হু ছোট আম্মু।
ওর মা’র কাঁধে মুখ গুজে বললো।এবার সবাই হেসে ফেললো হিয়াকে লজ্জা পেতে দেখে।

-মা, তোমরা আমার বৌকে এভাবে লজ্জা দিতে পারো না বুঝলে?
অভিক কখন এখানে এসেছে কেউ টের পায়নি.

-নে বাবা তোর বৌ তুই সামলা। আমরা তো শুধু দেখছিলাম আমাদের মেয়েকে কেমন লাগছে তোর দেয়া শাড়িতে আর কিছু না বুঝলি?

অভিকও বেশ লজ্জা পেলো।ইসস মা সবাই জেনে ফেললো।নিশ্চয় ফুল বলেছে আমি যে ওকে শাড়ি দিয়েছি।

-আচ্ছা, পরে কথা হবে এখন আমরা যাই। আবির
এই আবির কি রে যাবি না?

-এই তো চলে এসছি আমরা চল চল।

ওরা সবাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লো।গেটের কাছে একটি কার এবং বাইক রাখা। হিয়া ভ্রু কচুকে তাকিয়ে আছে বাইকের দিকে।কারণ, এর আগে এই বাইক দেখেছে বলে মনে হয় না। পরক্ষণে মনে পড়লো হয়তো আবির বা সাঈদের হবে।
আবির আর অভিক কি যেন বলাবলি করছে?
একটু পর এসে অভিক বললো,

-শুন আবির তোরা চারজন মিলে কারে করে চলে যা। আমি আর ফুল বাইকে করে আসছি।

-এই আমি কি বাইকে চড়তে পারি নাকি? আমি যাবো না বাইকে।
হিয়া বেশ ভয় পেয়ে কথাগুলো বললো।

অভিক চোখ রাঙিয়ে তাকালো হিয়ার দিকে,হিয়া কি যেন ভেবে চুপ হয়ে গেলো। আল্লাহ এই মেয়েটার কবে জ্ঞান বুদ্ধি হবে। শুধু আজই ওকে দেকতে পারবো তাই ওকে নিয়ে চাচ্ছিলাম বািকে যেতে আর ইনি ভ্যা ভ্যা শুরু করে দিয়েছে।

-আবির যা আমরা আসছি
বলেই গাড়ির চাবি আবিরের হাতে দিলো।আবিরসহ সবাই গাড়িতে উঠে স্টার্ট দিয়ে রওনা হলো।

অভিক এবার আমার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে গিয়েও বললো না। আমার হাত ধরে নিয়ে গেলো বাইকের সামনে। এরপর, একটি হেলমেট হিয়ার মাথায় পড়িয়ে দিলো এবং নিজেও পড়ে নিলো।
বাইকে বসে হিয়াকে ইশারা করলো, পিছে বসতে হিয়া মনে মনে সব দোয়া পড়তে পড়তে বাইকের পিছনে উঠে বসলো।ভয়ে অভিকের কোমড় জড়িয়ে ধরলো।মাথা এলিয়ে দিলো অভিকের পিঠে। অভিক হেসে ফেললো হিয়ার কান্ড কারখানা দেখে।এই মেয়ে এমনিতে কাছে এসে দাড়ায় না আর ভয়ে এখন জড়িয়ে ধরে বসে আছে।

—————-

বিশ মিনিটের মাঝে ওরা ওদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে গেলো।অভিক বাইক থামাতেই আবির এসে দাড়ালো। হিয়া আস্তে করে নেমে পড়লো বাইক থেকে।অভিক দেখলো হিয়ার শাড়ির কুচি হালকা কুচকে গেছে তাই ও হিয়ার পায়ের কাছে বসে কুচি ঠিক করে দিলো।হিয়া বেশ কয়েকবার না করেছে কিন্তু ফলাফল জিরো।
আবির হেসে বললো,

-ভাবি, সে আপনার সেবায় নিয়োজিত আপনি কি না মানা করছেন? এটা ঠিক না ওকে ইচ্ছেমতো খাটুনি করাবেন তাহলে ওর রাস্তাঘাটে কুচি ঠিক করার স্বাদ ঘুচে যাবে তাই না বন্ধু?

– হু তোরে কইছে? আমার বৌয়ের কুচি ঠিক করলে তোর সমস্যা কি? আর রাস্তাঘাটের কথা বলছিস ক’জন দেখেছে?

-আচ্ছা, বাদ দে কিছু কমু না তোর বৌ’রে. এখন ভিতরে চল।

হিয়ার হাত ধরে ভিতরে চললো অভিক।আর হিয়া মনে মনে ভাবছে অভিকের পাশে আমি বড্ড বেমানান আমাকে কত বড় দেখাচ্ছে ওর থেকে?

ওরা প্রথমে শাড়ির দোকানে ঢুকলো।অভিকের পরিচিত দোকানের মালিক। অভিককে দেখে হ্যান্ডশেক করে বললো,

– কি লাগবে স্যার, বলুন?

-বিয়ের শাড়ির যত নতুন কালেকশন আছে বের করে দেখান।

-বিয়ে নাকি স্যারের? তা আমাদের ভাবি কোনটা?

-এই হচ্ছে আমার হবু স্ত্রী।

-আসসালামু আলাইকুম ম্যাম। আপনারা বসুন আমি দেখাচ্ছি।
#সুপ্ত_ভালোবাসা
#পর্ব_১৮
#Tahmina_Akther

তিয়ানা, মিরা আবির সাঈদ ওরা ঘুরে ঘুরে ওদের জন্য পাঞ্জাবি, শাড়ী চয়েজ করছে। আর আমি বসে আছি অভিকের পাশে অভিক বিয়ের বেনারসি দেখছে আমার জন্য। কারণ, তার একটাই কথা ওর পছন্দের বেনারসি আমায় পড়তে হবে। এরইমাঝে অভিক আমাকে বললো,

-এই শাড়িটা বেশ সুন্দর তাই না ফুল। তোমাকে বেশ মানাবে।

-হিয়াকে আসলেই মানাবে এই শাড়িটাতে। পিছন থেকে মিরা বলে উঠলো।

শাড়িটি আসলেই সুন্দর। রক্ত লাল রঙা, সোনালী পাড়ের শাড়ী।মাঝে ছোট ছোট ফুল সোনালী রঙের।

-হুম, শাড়ীটা সুন্দর।

-মানতে হবে স্যারের চয়েজ আছে। ম্যাম আপনাকে পুরো প্রতিমার মতো দেখাবে এই শাড়িতে।

-প্রতিমা বলবেন না। আমরা মুসলিম আমাদের এই শব্দে শোভা পায় না। আচ্ছা, অভিক তোমার শেরওয়ানি নিবে না?

-হ্যা নিবো তবে আগামীকাল। বিল কত হলো বলুন পে করে দিচ্ছি?

বিল পরিশোধ করে ওরা চলে গেলো অর্নামেন্টস শোরুমে।আগেই থেকেই অর্ডার করে রেখেছিলো আজ দিয়ে দিবে।
নেকলস,কানের দুল, হাতের বালা,মাথার টায়রা, টিকলি অভিকের পছন্দ মতো ডিজাইন করা।হিয়া মনোযোগ দিয়ে দেখছে আর ভাবছে আসলেই মানুষটির রুচি বেশ ভালো।আনকমন ডিজাইনের তৈরি। এরই মাঝে কেউ হিয়াকে উদ্দেশ্য করে বললো,

-ম্যাম, আপনি নোজপিন নিবেন না? বিয়ের কনে নাকে ফুল দিবে না ব্যাপারটা বেশ উইয়ার্ড ?
শোরুমের নারী কর্মচারী বললো।

আসলেই তো হিয়া তো নোজপিন নেয় নি?আর নিয়ে বা কি করবে ও তো নাক ফুরায় নি। বেশ মন খারাপ হয়ে গেলো হিয়ার। কেন যে মা এতবার বলার পরও নাক ফুড়ায় নি এখন বেশ আফসোস হচ্ছে?

-কি হয়েছে মন খারাপ কেন? জুয়েলার্সের বক্সের প্যাকেটগুলো হাতে নিতে নিতে বললো অভিক।

-আসলে নাকের ফুল কেনা হয় নি।

-ও আমিও তো ভুলেই গেছি। তাহলে তুমি পছন্দ করে নিয়ে নাও।

-কিন্তু, আমি তো নাকই ফুড়াই নি।

-তাহলে বাদ দাও লাগবে না। এমনিতেই তুমি অপরুপা এইসব লাগবে না।

-কিন্তু,

-কোনো কিন্তু না। এখন চলো বাড়িতে ফিরতে হবে রাত হয়ে যাচ্ছে।
হিয়ার হাতে ধরে অভিক বেরিয়ে এলো।আর হিয়া মনে মনে কি যেন ভাবছে?

এবার আর বাইকে করে আসতে হয়নি। আবির আর তিয়ানা বাইকে করে এসেছে। হিয়া অভিক আর সাঈদ মিরা এসেছে কারে।

এরইমাঝে হিয়ার মোবাইলে টুং করে একটি মেসেজ এলো।হিয়ার হাতেই ছিলো মোবাইল তাই চেক করলো কে দিলো মেসেজ? মেসেজটি পড়তেই হিয়ার পুরো শরীর কাঁপছে। আজ এতবছর পর সেই নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে।
হিয়ার পাশেই অভিক বসা হিয়াকে হঠাৎ এভাবে নার্ভাস হতে দেখেই অবিক ব্যতিব্যস্ত হয়ে বললো,

-কি হয়েছে এভাবে কাপছো কেন? আরে বলবে তো চুপ করে আছো কেন?

-কি হয়েছে? সামনে থেকে সাঈদ প্রশ্ন করলো।

-বলছে না তো, আরে বলবে তো নাকি?

হিয়া কাপা হাতেই মোবাইল বাড়িয়ে দিলো অভিকের দিকে।অভিক মোবাইল হাতে নিলো।মেসেজ এসেছে একটি আননোন নাম্বার থেকে সেখানে লেখা,

“হিয়াপাখি, কেমন আছো? বেশ ভালোই আছো দেখলাম অভিকের সাথে বেনারসি কিনলে।এটা কি ঠিক বলো তুমি? আমি তোমায় ভালোবেসে পুরো দুনিয়াকে ধ্বংস করতে পারি আর তুমি আমার জন্য অপেক্ষা করতে পারো না?দিস ইজ নট ডান।
আমি তোমার পাশে কারো ছায়া সহ্য করতে পারি না আর তোমার সাথে কি না লেপ্টে থাকবে তোমার হবু স্বামী অভিক!আমি বেচে থাকতে কখনোই তা হতে দিবো না। যদি অভিকের কোনো ক্ষতি না চাও তবে এই বিয়ে ভেঙে দাও। আর যদি তুমি এই বিয়ে করো তাহলে অভিককে হারাবে এরপর সারাজীবনের জন্য তুমি শুধুই আমার। শীঘ্রই তোমার সাথে আমার দেখা হবে কারণ আজ বহুবছর ধরে তোমায় সামনাসামনি দেখিনা। কত লুকিয়ে চুরিয়ে দেখা যায় বলো?
আমার মায়ের জন্য পারি না বুঝলে নয়তো আজ চারবছর তোমায় হীন নিঃসঙ্গ থাকতে হতো না আমায় । আমি যা বললাম তাই করবে এই বিয়ে ভেঙে দিবে তুমি নয়তো অভিকের মৃত্যু অনিবার্য। ”

অভিক বেশ শান্ত সুরে হিয়াকে বললো,

-এইটা কি সেই মেসেজ দাতা যে আগেও তোমাকে মেসেজ দিয়েছিলো?

-হ্যা, এই সেই লোক।কিন্তু, কে সে আমি কিছুই জানি না,যদি সে স্যতিই তোমার ক্ষতি করে বলেই কাঁদতে লাগলো হিয়া।কারণ, সে জানে এই লোক কত ভয়ংকর ওই ছেলে দুটোকে কিভাবে মেরেছিলো ভাবলে এখনো গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়।

অভিক ভাবতে থাকলো কে হতে পারে এই অজানা ওর নাম পর্যন্ত জানে। আর এত বছর লাপাত্তা থাকার পর হঠাৎ উদয় হলো কোত্থেকে? না, বাবার সাথে এই ব্যাপারে আলাপ করতে হবে।

হিয়ার মুখের দিকে তাকালো বেশ আতংকিত হয়েছে। হিয়ার হাতে হাত রাখলো অভিক এরপর আস্বস্ত করে বলল,

-আমার কিছুই হবে না বোকা ফুল। শুধু শুধু ভয় পাচ্ছো বাবাকে এই নাম্বার দিলেই আসল কালপ্রিট কে ধরতে পারবে। তুমি নিশ্চিত থাকো। তোমার অভিককে কেউ একটা ফুলের টোকাও দিতে পারবে না।

হিয়া অভিকের কাঁধে মাথা রেখে কেঁদে কেঁদে বলছে,

-কেন আমায় যারা ভালোবেসে তারা চলে যায় আমাকে ছেড়ে অভিক?আহান চলে গেলো আমায় ছেড়ে যখন সব ভুলে তোমাকে আঁকড়ে ধরলাম। তখন কে এলো আমার জীবনটাকে বিষিয়ে তুলতে? অভিক তোমার কিছু হলে এবার আমি বাঁচবো না মরে যাবো। কারণ, হারিয়ে ফেলার শক্তি যে আমার আর নেই।

-আমি যদি মরে তাহলে তোমার কি ফুল? তুমি তো আর আমাকে ভালোবাসো না তাই না?

বলেই হিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে কি উত্তর
দেয়া জানার জন্য।

আর হিয়া অভিকের কাঁধ থেকে মাথা তুলে অভিকের দিকে তাকিয়ে রইলো।কি নিষ্ঠুরভাবে কথা বললো এই পাষানটা!

#চলবে
#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here