হিয়ার মাঝে পর্ব ৮

#হিয়ার_মাঝে
৮.
#WriterঃMousumi_Akter

নিরব আমার জামার চেইন টেনে খোলার সাথে সাথে বুকের মাঝে কেমন যেনো একটা ভয় কাজ করে উঠলো।আমার মন এক মুহুর্তে অন্য কিছু ভেবে বসলো।ঘড়িতে টাইম রাত তিন টার বেশী।এমন গভীর রাতে একটা ছেলে একটা মেয়ের জামার চেইন টেনে খুললে স্বাভাবিক অন্য চিন্তা মাথায় চলে আসে।আমি নিরব কে ধাক্কা মেরে দূরে ঠেলে দিয়ে নিরব কে বললাম ছিঃআপনাকে আমি বিশ্বাস করেছিলাম আর আপনি আমার সরলতার সুযোগ নিচ্ছেন।আমার ইজ্জত নিতে চান।আপনাকে আমি আর পাঁচটা ছেলের থেকে আলাদা ভেবেছিলাম।কিন্তু আপনি ও অন্যদের মতো।আমার কথা গুলো যেনো নিরব পাত্তাই দিলো না।জামার হাতার গোটাতে গোটাতে আমার দিকে এগিয়ে এলো নিরব।আমি পেছতে পেছতে ওয়ালের সাথে গিয়ে ধক্কা খেলাম আর নিরব ওর দুই হাতের মাঝে আমাকে রেখে ঝুকে আমার মুখের কাছে এসে বলে কি বিড়বিড় করা হচ্ছে শুনি।আমি নিরব কে বললাম প্লিজ আমাকে কিছু করবেন না। আপনার দোহাই লাগে।আমাকে ছেড়ে দিন।নিরব ওয়াল থেকে হাত সরিয়ে বুকে হাত বেধে দাঁড়িয়ে বলে আমি কিভাবে ছাড়বো তোমাকে আমি কি জড়িয়ে ধরেছি তোমাকে।অবশ্য তোমার আপত্তি না থাকলে আমি জড়িয়ে ধরতেই পারি।বলেই আমাকে জড়িয়ে ধরতে গেলো নিরব।আমি ভয়ে কেঁদেই দিলাম।নিরব আমাকে বলে এই মেয়ে কাঁদছো কেনো?আমি তোমাকে কিছুই বলিনি কিছুই করিনি নিজেই আমাকে ইনডিরেক্ট ভাবে চরিত্রহীন বলে দিলে।ওহ গড এই মেয়ের মনে এত ভয় জমেছে কিভাবে একে সাহসী করি বলোতো।

আমি আমতা আমতা করে বললাম কি চাইছেন কি আপনি?আপনার মতলব কি সেটাই বুঝছি না আমি।

ম্যাডাল মৃথিলা আপনার পিঠে কত গুলো কালো কালো দাগ ফর্সা পিঠে চকচক করছে। আমি সেগুলা দেখার জন্যই জামার চেইন খুলেছি। আমাকে আপনি ধর্ষক ভাববেন না।নিজের জিনিস কেউ কখনো ধর্ষণ করে না।

আমি ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিয়ে নিরবের পায়ে পড়ে বললাম আমাকে আপনি ক্ষমা করে দিন প্লিজ।আপনি আমার জন্য এত কিছু করছেন অথচ আমি আপনাকেই ভুল বুঝছি।আমাকে আপনি ভুল বুঝে দূরে সরিয়ে দিবেন না প্লিজ।আমি ভয় পেয়ে গেছিলাম খুব।সবাই আমাকে কষ্ট দেই তো তাই খুব ভয় আমার মনে থেকে গিয়েছে।প্লিজ আমায় দূরে সরিয়ে দিবেন না।এই প্রথম কেউ আমার কষ্ট বুঝে সে আপনি।আর আমি অকৃতজ্ঞর মতো আপনাকে ভুল বুঝেছি।

নিরব আমার দুই হাত ধরে আমাকে উঠিয়ে বলে তুমি সত্যি খুব ভাল মেয়ে মৃথিলা।অন্তত নিজের ইজ্জতের ব্যাপারে অনেক বেশী কেয়ারিং। তুমি যে সত্যি একটা পবিত্র মেয়ে তা নিয়ে কোনো সংসয় নেই।তুমি আজ এমন ব্যবহার করে আমার মনে আরো বেশী জায়গা করে নিয়েছো।

আপনি আমায় ক্ষমা করে দিয়েছেন তো?

তোমার দিকে তাকালে তো রাগ নামক বস্তু আমার ভেতর থেকে উধাও হয়ে যায়।তুমি তো রাগ হরনকারীনী।

কিছু বললেন।

নিরব আমার চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বলে তোমার শরীরে এত আঘাতের দাগ।তুমি কেনো এই অত্যাচার সহ্য করলে। কেনো পালিয়ে গেলে না কোথাও।আমি নিরব কে বললাম, আমার মায়ের করা ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করছি আমি।জানেন মা কে খুব মিস করি।মা বেঁচে থাকলে আজ আমার জীবনে এত কষ্ট থাকতো না।আমি কখনো নব আপুর মা কে পর ভাবিনি।সব সময় ভেবেছি একদিন না একদিন আমাকে মেনে নিবে।কিন্তু আমাকে কখনোই মেনে নিলো না।

একদিন সবাই তোমার পরিচয় দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগবে।দেখে নিও তুমি।দিন বদলে যাবে মৃথিলা।
নবনিতা একটা জিনিস শুনে খুব ই খারাপ লেগেছে আমার।ভেবেছিলাম বিডি তে এসে রোজ তোমার হাতের রান্না খাবো।তুমি যা সুইট দেখতে না জানি তোমার হাতের রান্না কত সুইট।সিরিয়াসলি নবনিতা তোমার মাঝে একটা ব্যাপার আছে। যা অন্য মেয়েদের মাঝে নেই।মেয়ে হতে হলে তোমার মতো হতে হবে।কিন্তু আফসোস তোমার হাতের রান্না খাওয়ার স্বপ্ন আমার কোন দিন পূর্ণ হবে না।নবনিতা আপু নিরব কে বলে কেনো পূরণ হবে না নিরব ভাই।

হবে না কারণ শুনেছি যে,,তুমি মোটেও রান্না জানো না।সব রান্না নাকি মৃথিলা জানে।মৃথিলার মতো এত ভাল রান্না নাকি কেউ জানে না।তুমি নাকি ওর ধারে কাছেও যেতে পারবে শুনে খুব ই হতাস হলাম আমি নবনিতা।এই জীবনে আর তোমার মিষ্টি হাতের রান্না খাওয়া হবে না।

আপনাকে কে বলেছে আমি ভাল রান্না জানিনা।আমি এক্ষুণি রান্না করে দেখাচ্ছি আপনাকে।

নবনিতা আপু আচ্ছা মুশকিলে পড়ে গেলো।কারণ সে রান্না ই জানে না।মা এর হেল্প নিয়ে রান্না করে নিয়ে আসলো।খাবার টেবিলে আপুর ফ্রেন্ড রা আপু, মা নিরব সবাই বসেছে খেতে।

আমার রান্না মুখে দিয়েই নিরব ওয়াক থু করে উঠলো।বলে উঠলো এত বাজে লাগছে খাবার গুলো।এই খাবার মুখেও দেওয়া যাচ্ছে না।আন্টি এখানে এসে একটা বার ও খাবার খেয়ে শান্তি পাচ্ছি না।দেখি তো নবনিতার রান্না।আপুর খাবার মুখে দিয়েইএ নিরব বলে উঠলো আহা কি টেস্টি।বাংলাদেশে এসে এই প্রথম খাবার খেয়ে তৃপ্তি পেলাম।উফফ এই খাবারের স্বাদ বড় রেস্টুরেন্টের থেকেও সুন্দর।

নবনিতা আপু খুশিতে গদগদ হয়ে গেলো।আপুর মুখে কি হাসি।আমি তো অবাক আপু এত ভাল খাবার কিভাবে বানানো শিখলো।আপুর ফ্রেন্ড দের মুখেও কি চমৎকার হাসি।আমি সত্যি অবাক হয়ে গেলাম।এই মানুষ টার মাথা খারাপ হয়ে যায় নি তো।কি বলছে এসব।আমি কিছুই না বলে সবার খাওয়া হকে দ্রুত টেবিল গুছিয়ে নিলাম।

নিরব দেখি আমার রুমে গিয়ে বিছানায় টান টান হয়ে সুয়ে ওয়াক ওয়াক করছে।আমি নিরব কে শুনিয়ে শুনিয়ে বললাম বাবাহ আপুর হাতের টেস্টি খাবার খেয়ে দেখছি পেটের মেদ বেড়ে গিয়েছে আপনার।তা এমন ওয়াক ওয়াক করছেন কেনো?আমার কথা শুনে নিরব বলে উঠলো একজনের গাল ফুলে আছে ক্যানো তাই ভাবছি।আমি সন্দিহান ভাবে জানতে চাইলাম কার গাল ফুলে আছে। নিরব আমাকে ধরে আয়নার সামনে নিয়ে গিয়ে বলে এই যে উনার গাল ফুলে আছে।কারণ উনার রান্না খারাপ বলা হয়েছে তাই।আমি আরো গাল ফুলিয়ে বললাম খারাপ রান্না করলে তো বলবেন ই।যা সত্যি তাই বলেছেন।এতে রাগ করার কি আছে।নিরব আমার গাল টেনে ধরে বলে এই যে পিচ্চি রাগি বুড়ি শুনুন।নবনিতাকে এমন পাম মেরে দিয়েছি না এখন থেকে রোজ ও নিজে রান্না করতে চাইবে।দেখবে তোমাকে আর রান্না করতে দিতেই চাইবে না।তুমি কি পাগল ওর ওই অতিরিক্ত হলুদের গন্ধযুক্ত, লবনে পোড়া খাবার কে খাবে।ওগুলা কি হজম করা যায় নাকি।শুধু মাত্র একজনের জন্য ওই ভয়ানক বিশ্রি খাবার হজম করতে হলো।একজনের যে সুন্দর আগুনের মতো চেহারা পুড়ে পুড়ে কালো হয়ে যাচ্ছে সেটা আর সহ্য হচ্ছে না আমার।

আমি সত্যি অবাক হয়ে গেলাম।এত বুদ্ধি উনার মাথায় কিভাবে আসে।উনার ব্রেইন ঠিক যেনো আইন্সটাইনের মতো।এত্ত সহজে আমাকে সব ঝামেলা থেকে মুক্ত করে দিচ্ছে।আমি উনার দিকে অপলক তাকিয়ে রইলাম।মানুষ টা সত্যি অবাক করার মতো।

আপুর ফ্রেন্ড রা আপু কে বলছে নব ছেলেটাকে কিন্তু ওই মিথুর আশ পাশে বেশী ঘেষতে দিস না।যতই হোক চেহারা সুন্দর মিথুর।ছেলে মানুষ বলা তো আর যায় না।আরেক জন বলে আরে ধুর কি যে বলিস দেখলি না নবর রান্নার কি পরিমান প্রশংসা করলো।ছেলেটা নবর প্রতি ক্রাশড।

নবনিতা আপু কথাটা শুনে যেনো অন্যজগতে বিচরণ করলো,,,,

চলবে,,,

(আজকের পর্বে ভুল ত্রুটি থাকতে পারে দ্রুত লেখা হয়েছে)

গ্রুপে পর্ব না পেলে আইডি তে ফলো দিন।গ্রুপে সব পর্ব পেয়ে যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here